Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

​আকাশের রঙ বদলে আসছিল। বিকেলের নরম সোনাঝরা আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গোধূলির রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ছিল চারপাশে। উদ্যানের বিশাল একটা পুরোনো কৃষ্ষ্ণচূড়া গাছের নিচে বেঞ্চে একাকী বসে আছে রিত্তিকা। গাছের পাতা বেয়ে নামা হালকা বাতাস তার খোলা চুল উড়িয়ে দিচ্ছিল বারবার। চারপাশটা যেন এক অদ্ভুত, থমথমে স্তব্ধতায় ডুবে গেছে। এই গার্ডেনটায় বিকেলের আলো নিভে এলেই আর সাধারণ মানুষ থাকে না, অথচ আজ রিত্তিকা জিয়ানের অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায় নি।
​হঠাৎ শুকনো পাতার ওপর মচমচ শব্দ! নীরবতা ভেঙে কারো পদশব্দ রিত্তিকার কানে এলো। রিত্তিকা চোখ তুলে সামনের দিকে তাকাল।অন্ধকারের আড়ালে একটা ছায়ামূর্তি ধীরপায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। প্রথমটায় অন্ধকারের জন্য অবয়বটা স্পষ্ট বোঝা না গেলেও, ব্যক্তিটি যতই কাছে আসতে লাগল, তার চেহারাটা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠল। মেয়েটির পরনে লাল কালারের গাউন আর মুখে মানানসই মেকআপ।
​রিত্তিকা সোজা হয়ে বসে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল,

__”কে আপনি?”
​মেয়েটি ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল,
__ “আমাকে তুমি চিনবে না, কিন্তু আমি তোমাকে খুব ভালো করেই চিনি।”
​রিত্তিকা ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
__”আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আপনি কে আর আমাকেই বা কীভাবে চেনেন?”
​মেয়েটি একপা এগিয়ে এসে বুকে হাত বেঁধে বলল,
__”যাইহোক, সংক্ষেপে আমার পরিচয় হলো—আমি জিয়ানের সব।”
__​”মানে? স্পষ্ট করে বলুন।” রিত্তিকার গলার স্বর কিছুটা কঠোর হলো।
​মেয়েটি এবার সরাসরি রিত্তিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বিষাক্ত হাসিতে বলল,
__ “মানে একদম সোজা। আমি জিয়ানের গার্লফ্রেন্ড, মাই নেম ইজ এনি।”
​কথাটা শোনামাত্রই রিত্তিকার বুকের ভেতরটা যেন ধক করে উঠল! নিমিষেই বুকের রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হলো তার। তবে পরক্ষণেই নিজের আত্মসংবরণ করল সে। ধীরে ধীরে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল এনির মুখোমুখি।
​এনি এক পা এগিয়ে এসে আদেশের সুরে বলল,

__ “জিয়ানের লাইফ থেকে চলে যাও তুমি। যত দ্রুত পারো ওকে ছেড়ে দাও।”
​রিত্তিকা ঠান্ডা চোখে তাকাল,
__”চলে যাবো মানে? কি বলতে চাচ্ছেন আপনি?”
​এনি তাচ্ছিল্যের সাথে হাত নেড়ে বলল,
__”ইটস ভেরি সিম্পল! জিয়ানের অতীত, বর্তমান
সব আমি। আমি ফিরে এসেছি, এখন তুমি জিয়ানকে ডিভোর্স দিয়ে ওর লাইফ থেকে চিরতরে চলে যাবে।”
​রিত্তিকা এনির কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু স্তব্ধ হয়ে মেয়েটার হিংসাত্মক চাহনি দেখছিল।
​রিত্তিকাকে নীরব দেখে এনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বিষ ঢালতে লাগল,
__ “ইউ নো… জিয়ান আমার সাথে কত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটিয়েছে? কতটা ভালো ও আমাকে বাসে, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।”
​এনির মুখ থেকে কথাটা শেষ হতে না হতেই রিত্তিকা হঠাৎ উচ্চস্বরে হেসে উঠল! সেই হাসিতে কোনো কান্না বা ভেঙে পড়ার শব্দ ছিল না, ছিল প্রচণ্ড অপমান আর তাচ্ছিল্যের সুর।
​রিত্তিকাকে এভাবে হাসতে দেখে এনি চিড়বিড়িয়ে উঠে বলল,

__ “হাসছ? লজ্জা করে না? তখন তো অফিসে মাত্র আমাদের দুজনকে একসাথে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখে কান্না করতে করতে বের হয়ে চলে আসলে! কি ভাবো কিছু জানি না আমি।
এনি রুম থেকে বের হওয়ার পর বয়স্কলোকটা যখন এসেছিল তখন সে দাড়িয়ে তাদের সব কথা শুনেছে।আর পরে একটা লোকের থেকে রিত্তিকা কোথায় আছে জেনে তার কাছে এসেছে।
__ তাহলে ভাবো, যদি আমাদের একসাথে কাটানো সেই একান্ত মুহূর্তগুলো দেখতে, তবে তোমার কি অবস্থা হতো? ভাবলেই আমার কষ্ট লাগছে তোমার জন্য!”
​এনি কিছুক্ষণ থেমে, রিত্তিকার প্রতিক্রিয়া দেখার চেষ্টা করে পুনরায় বিষাক্ত গলায় বলল,
__ “তাই বলছি, নিজের মান-সম্মান থাকতে থাকতে জিয়ানের লাইফ থেকে চলে যাও। জিয়ান তোমাকে কোনোদিন ভালোবাসেনি, বাসেও না, ভালোবাসবেও না! কারণ জিয়ান শুধু আমার। জিয়ানের লাইফে শুরু থেকে শুধু আমারই অধিকার আছে, আর কারো না।”
​রিত্তিকার হাসির তীব্রতা আরও বেড়ে গেল। হাসি থামিয়ে সে এনির চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকাল। তার গলায় ঝরে পড়ল অগাধ বিশ্বাস আর অহংকার। রিত্তিকা জবাব দিল,

___ “প্রফেসর জিয়ান কায়সারের জীবনে যদি কোনো নারীর অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে সেটা শুধু রিত্তিকার। তার জীবনের শুরুতে আমি যেমন ছিলাম, তার জীবনের শেষেও আমিই থাকবো। খোদা ছাড়া কারোর ক্ষমতা নেই আমাদের আলাদা করার। আর শোনো এনি, আমার বিশ্বাস এতটাও ঠুনকো নয় যে, তোমার মতো একটা পরনারীর কথা শুনে নিজের স্বামীকে আমি অবিশ্বাস করব!”
​কথাটা শেষ করেই রিত্তিকা এনির পাশ কেটে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। যাওয়ার সময় ইচ্ছে করেই বেশ জোর একটা ধাক্কা দিল এনির কাঁধে। রিত্তিকার ধাক্কায় ভারসাম্য রাখতে না পেরে এনি ঘাসের ওপর সশব্দে পড়ে গেল!
__​”উফস! পড়ে গেলে নাকি সোনা? খুব ব্যথা পেলে বুঝি?” রিত্তিকা পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে ভেংচি কেটে বলল, “ইশ! সো স্যাড। তা একটু সাবধানে চলাফেরা করতে পারো না? আচ্ছা, তুমি এই কাদামাটিতেই বসে থাকো, আমি যাই… বাই, টা টা!”
​এনি আক্রোশে মাটির ওপরে বসে রইল, আর রিত্তিকা সেখান থেকে হেঁটে বেরিয়ে গেল।

​সেখান থেকে বের হয়ে রিত্তিকা সোজা চলে আসলো ‘ইসলাম মনজিল’-এর সামনে। রাতের ঠান্ডা হাওয়া বইছিল তখন। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত ভাবল সে, তারপর কলিং বেল বাজাল।
​দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়ানো শানজাদা ইসলাম মেয়েকে দেখে চমকে উঠলেন। চোখ দুটো বড় বড় করে তিনি নিজের মেয়েকে দেখতে লাগলেন। বিয়ের পর এই প্রথম রিত্তিকা নিজের বাপের বাড়িতে পা রেখেছে, তাও আবার এই অসময়ে একা একা! মনে ভয় হানা দিলো কিছু হয়নি তো।
​শানজাদা ইসলাম অবাক কণ্ঠে বললেন,
__ “রিত্তিকা! তুই… তুই এই অসময়ে একাই এসেছিস?”
​রিত্তিকা ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানের সুরে বলল,
__”কেন মা? আমি কি নিজের বাড়িতে একা আসতে পারি না?”
​মা তড়িঘড়ি করে বললেন,
__”এমা! তা কেন হবে? তোর নিজের বাড়ি, তুই তো আসবিই। কিন্তু জামাই আসে নি?
​রিত্তিকা স্বাভাবিক ভাবে বলল,
__”নাহ, উনি আসেন নি। অফিসে অনেক কাজের চাপ ছিল তো, তাই আসতে পারেন নি। তোমাদের কথা খুব মনে পড়ছিল মা, থাকতে না পেরে নিজেই চলে এলাম।”

__​”আচ্ছা । ”
​রিত্তিকা এবার হালকা হেসে বলল,
___”তা আমাকে কি বাইরেই দাঁড় করিয়ে সব জিজ্ঞেস করবে নাকি মা? ভেতরে তো ডাকবে!”
__​”ইশ! দেখ আমার কাণ্ড! আয়, ভেতরে আয় মা।”
​রিত্তিকা ঘরে ঢুকতেই দেখলো ড্রয়িং রুমের সোফায় তার বাবা আরিশান ইসলাম বসে আছেন। মেয়েকে ভেতরে আসতে দেখে তিনি বসা থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন। বাবার চোখে জল থৈ থৈ করছে।
​রিত্তিকা একমুহূর্ত দেরি না করে গিয়ে বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
__”কেমন আছো আব্বু?”
​আরিশান ইসলাম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
__ “তোকে ছাড়া যেভাবে থাকার কথা, ঠিক তেমনই আছি রে মা…” বলতে বলতেই তার চোখ বেয়ে দু-ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ল।
​রিত্তিকা বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে বলল,

__”এমনভাবে বলো না তো আব্বু! মনে যদি এতই পড়তো, তবে আমাকে একবার দেখতে যেতে পারতে!”
​আরিশান ইসলাম মৃদু হেসে মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
__ “মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেশি ঘনঘন যেতে নেই রে মা। এতে জামাইবাড়ির মানুষের কাছে মেয়ের মর্যাদা কমে।”
​রিত্তিকা মুখ বেঁকিয়ে বলল,
__ “ধুর! যতসব আজাব আর পুরোনো দিনের ফালতু কথা!”
​ঠিক তখনই দোতলা থেকে নামার সিঁড়িতে পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। ওপর থেকে রিদিতা আর রিহান দৌড়ে নেমে এলো। বোনকে দেখে দুজনের মুখেই আনন্দের হাসি। তারা এসে রিত্তিকাকে দুপাশ থেকে জড়িয়ে ধরল।
​ রিত্তিকার একটা হালকা টুকা দিয়ে বলল, “কিরে ছাগল-পাগল! আছিস কেমন?”
​রিদিতাও হেসে উঠল, “হ্যাঁ রে আপু, এতদিন পর মনে পড়ল আমাদের?”
​রিত্তিকা কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলল,
“তোরা দুজন এখনো বদলাসনি, তাই না?”

​রিত্তিকা চারপাশটা একটু দেখে নিয়ে বলল, “ভাইয়া কোথায় রে? তাকে তো দেখছি না।”
​রিদিতা উত্তর দিল, “ভাইয়া তো এখনো অফিস থেকে ফেরেনি আপু। কাজের অনেক চাপ চলছে।”
__​”ও আচ্ছা…” রিত্তিকা ক্লান্ত একটা শ্বাস ফেলে বলল, “তোরা থাক, আমি ওপরে যাই। সারাদিন অনেক ধকল গেছে, প্রচুর টায়ার্ড লাগছে।”
​এমন সময় রান্নাঘর থেকে রিত্তিকার চাচি রিতু ইসলাম বের হয়ে এলেন। হাতে প্লেট নিয়ে তিনি আদুরে গলায় বললেন, __”রিত্তি সোনা! তুই একটু হাতমুখ ধুয়ে আই, গরম গরম
খাবার বেড়ে দিচ্ছি। খেয়ে নাও।”
​রিত্তিকা মিষ্টি হেসে বলল,
__”আচ্ছা চাচি, আমি আসছি।”

​রাত প্রায় বারোটা বেজে গেছে। রিত্তিকা পরিপাটি করে খেয়েদেয়ে পরিবারের সবার সাথে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দিল। কিন্তু সারাদিনের মানসিকভাবে ঝড় বয়ে যাওয়ার কারণে তার ক্লান্ত শরীরটা আর সইছিল না। অবশেষে সে নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিল। সারাদিনের ধকল আর ভাবনার বোঝা পেছনে ফেলে চোখ বোজার সাথে সাথেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল সে।

​অন্যদিকে, জিয়ান তাদের নিজেদের ঘরে পা রাখার পর থেকেই অস্থির হয়ে উঠেছে। সারাটা ঘর খাঁ খাঁ করছে। রিত্তিকা ঘরে থাকলে এতক্ষণে অন্তত দশবার কারণে-অকারণে ঝগড়া হয়ে যেত! রিত্তিকার সেই চিল চিৎকার, অভিমান আর রাগ ছাড়া পুরো ঘরটা যেন একটা শ্মশানপুরী। মন স্থির করতে না পেরে জিয়ান ট্রাউজারের পকেটে হাত দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। রাতের শীতল হাওয়াও তার মনের ব্যাকুলতা কমাতে পারছিল না।
​ঠিক তখনই রিত্তিকার প্রিয় সাদা তুলতুলে বিড়ালটা মিউ মিউ করতে করতে জিয়ানের পায়ের কাছে এসে হাজির হলো। ঘষা দিতে লাগল তার পায়ে।
​জিয়ান নিচে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলল,

__ “কিরে? তুই এখানে কেন এসেছিস? দেখতে পাচ্ছিস না তোর মা ঘরে নেই বলে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে? কষ্ট পাচ্ছি আমি! আর তুই এখানে এসে মিউ মিউ করে মাথা খাচ্ছিস?”
​বিড়ালটা জিয়ানের কথার যেন উত্তর দিল, আবার তার গা ঘেঁষে করুণ সুরে ডেকে উঠল—’মিউউউ’।
​জিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। যে জিয়ান বিড়াল সহ্যই করতে পারতো না, শুধুমাত্র রিত্তিকার হাসিমুখ দেখার জন্য এই বিড়ালটাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, সেই জিয়ানই এখন পরম যত্নে হাত বাড়িয়ে বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিল। আশ্চর্যের বিষয়, জিয়ানের কোলে উঠতেই বিড়ালটা আর কোনো শব্দ করল না, শান্ত হয়ে গেল।
​জিয়ান বিড়ালটাকে কোলে নিয়ে ঘরে ফিরে এলো। সোফায় বসে বিড়ালটাকে নিজের কোলের ওপর শুইয়ে দিয়ে ম্যাকবুক খুলে অফিসের কাজ করতে লাগল। বিড়ালটা জিয়ানের গায়ের ওম পেয়ে শান্তিতে চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়ল।
​কাজ করতে করতে জিয়ান ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত একটা বেজে পার হয়ে গেছে। সে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। ম্যাকবুকটা একপাশে সরিয়ে রেখে বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

__”নাহ! অনেক হয়েছে। তোর মাকে না দেখলে আমার কোনোভাবেই শান্তি লাগছে না! তুই এখানে চুপচাপ থাক, আমি তোর মায়ের কাছে যাচ্ছি।”
​কথাটা বলেই জিয়ান বিড়ালটার দিকে আঙুল উঁচিয়ে সতর্ক করার মতো করে বলল,
__ “আর শোন! একটা কথা কানে ভালো করে ঢুকিয়ে নে—খবরদার, আমার বউয়ের গায়ের কাছে ঘেঁষবি না বলে দিচ্ছি! রিত্তিকার ওপর শুধু আমার অধিকার।”
​জিয়ানের ধমক খেয়ে বিড়ালটা সাথে সাথে জিয়ানের কোল থেকে লাফিয়ে নিচে নামল এবং জোরে জোরে মিউ মিউ করতে লাগল!
​জিয়ান চোখ ছোট ছোট করে বলল,
__ “ওরে বেয়াদব বিড়াল! এতক্ষণ আমার কোলে বসে আদর খেলি, আর এখন বউয়ের কাছে যেতে নিষেধ করলাম বলে আমার ওপর চিল্লাচ্ছিস? যাহ এখান থেকে! তোকে বলে দিচ্ছি, আমার বউ শুধু আমার!”
​বিড়ালটা যেন অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে মিউ মিউ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেল। জিয়ান আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ড্রয়ার থেকে গাড়ির চাবিটা পকেটে পুরে তরতর করে নিচে নেমে এলো।

​রাত আনুমানিক দেড়টা বাজে। নিঝুম রাতের নীরবতা চিরে ইসলাম মনজিলের সামনে এসে থামল জিয়ানের কালো রঙের গাড়িটা। গাড়ি থেকে নেমে চারপাশটা একবার পরখ করে নিল সে। পকেট থেকে চাবি বের করে গেট খুলে সোজা ভেতরের উঠানে ঢুকে গেল।
​কিন্তু মূল দরজায় নক করলে সবাই জেগে যাবে, শশুর-শাশুড়ির সামনে এই মাঝরাতে কী জবাব দেবে? আর রিত্তিকার কাছেই বা কীভাবে পৌঁছাবে? তা ভেবে জিয়ান একটু বিপাকে পড়ে গেল।
​হঠাৎই তার মাথায় বুদ্ধি এলো। সে চুপিচুপি রিত্তিকার ঘরের বারান্দার দিকে এগিয়ে গেল। রাতের আবছা আলোয় দেখল বারান্দার কোল ঘেঁষে ওপরের দিকে একটা পাইপ উঠে গেছে।
​জিয়ান নিজের শার্টের হাতা দুটো কিছুটা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে নিল। নিজের এই অবস্থা দেখে নিজেই মনে মনে হেসে ফেলল।

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৩

__​”ইয়া খোদা! এখন নিজের বউকে একনজর দেখার জন্য চোরের মতো পাইপ বেয়ে ওপরে উঠছে! কি দিন এলো”
​পাইপটা শক্ত করে ধরে এক পা এক পা করে ওপরে উঠতে উঠতে জিয়ান মনে মনে নিজের বউকে উদ্দেশ্যে করে গজগজ করতে লাগল, “বউ… ও আমার মিষ্টি বউ! তোমার এই গুণধর বর তোমাকে শুধু এক পলক দেখার জন্য দেখো আজ কী যুদ্ধটা করছে! মাঝরাতে যদি পাইপ ফসকে হাত-পা ভেঙে নিচে পড়ে যাই না, তবে কিন্তু তোমার ভবিষ্যৎ একদম এতিম হয়ে যাবে বলে দিচ্ছি!”

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৪ (২)