প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৩
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না
জিয়ান রিত্তিকাকে বাড়ির সামনে ড্রপ করে দিয়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে চলে গেল।
গাড়ি থেকে নেমে রিত্তিকার মনে হলো—উফ, সে যেন এবার সত্যি বাঁচলো! জিয়ানের ওই তীক্ষ্ণ চাহনি সামনে বেশিক্ষণ থাকা কঠিন। রিত্তিকা বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখলো রিহানা কায়সার আর রেনিয়া কায়সার টিভিতে পছন্দের কোনো ড্রামা দেখছেন।
__”চলে এসেছিস মা? জিয়ান আসেনি?”—রিহানা কায়সার টিভির পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
__”না আম্মা, উনি জরুরি কিছু কাজে আবার অফিসে গিয়েছেন।”—রিত্তিকা মৃদু হেসে জবাব দিল।
__”আচ্ছা, তুই তাহলে হাত-মুখ ধুয়ে আয়, টেবিলে খাবার দিচ্ছি, খেয়ে নে।”
_”না আম্মা, এখন একদম খেতে ইচ্ছে করছে না। প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে একবারে খেয়ে নেব, কেমন?”
_”আচ্ছা যা, একটু জিরিয়ে নে।”
রিত্তিকা রুমে এসে টেবিলের ওপর ব্যাগটা রাখল। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে ধপ করে বিছানায় পড়ে চোখ দুটো বুজলো। ক্লান্ত শরীরে ঘুম নামতে বেশি সময় লাগলো না।
রাত তখন প্রায় দশটা ছুঁই ছুঁই। আজকের রাতের চাঁদের আলো অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই উজ্জ্বল। জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে রুপালি আলো এসে পড়েছে রিত্তিকার বিছানায়। আর পেছনের বাগানের ছাতিম ফুলের তীব্র সুবাস হাওয়ায় ভেসে এসে ঘরটা সুবাসিত করে তুলেছে।
রিত্তিকা ঘুমের ঘোরে এপাশ-ওপাশ করছিল। ঠিক তখনই তার মোবাইলটা উচ্চশব্দে বেজে উঠলো। নিবিড় ঘুমটা ভেঙে যাওয়ায় চরম বিরক্ত হলো সে। চোখ বন্ধ রেখেই বিছানার ওপর হাতড়ে হাতড়ে ফোনটা খুঁজে বের করে রিসিভ করল। ঘুমঘুম কণ্ঠে বলে উঠলো:
__”কে রে ভাই! এত রাতে মানুষের ঘুম নষ্ট করিস? তোকে এমন বদদোয়া দেব না… দেখিস জীবনেও বাসর করতে পারবি না!”
ওপাশ থেকে এক গম্ভীর কিন্তু চেনা কণ্ঠ ভেসে এলো,
__”বাড়ি এসে দেখাচ্ছি বাসর কিভাবে করতে হয়!”
জিয়ানের গলা শুনে রিত্তিকা এক লাফে বিছানায় সোজা হয়ে বসে পড়লো। ধড়ফড় করে উঠে বলল,
__”আ… আপনি?!”
__”জ্বী ম্যাডাম, আমি। চিনতে পেরেছেন তাহলে?” জিয়ানের কণ্ঠে হালকা হাসির আভাস।
__”কী… কী করছেন আপনি..!”
__”এইতো, পার্কিং লটে যাচ্ছি। ভাবলাম ম্যাডাম পড়তে বসেছেন নাকি, তাই একটু খোঁজ নিতে কল দিলাম। তা তুমি কী করছ?”
রিত্তিকা একটু দুষ্টুমি করে ও গুছিয়ে বানিয়ে উত্তর দিল,
___ “আমি এখন চ্যানেল (L) এ নিউজ দেখছিলাম। এরপরে (Love) Express মুভিটা দেখার ইচ্ছে আছে, আর একটু পরে (You) Tube এ পছন্দের গান শুনবো।”
কথাটার আসল অর্থ বুঝতে জিয়ানের এক মুহূর্ত সময় লাগলো না। ওপাশ থেকে হালকা হেসে জিয়ান বলল,
__ “বাহ্! প্রপোজ করা বেশ সুন্দর ছিল তো!”
রিত্তিকা কিছুক্ষণ একদম চুপ হয়ে গেল। নিজের চালাকি এভাবে ধরা পড়ে যাবে ভাবেনি! আমতা আমতা করে বলল,
__”আমি কোথায় আপনাকে প্রপোজ করলাম? যা সত্যি আমি তো সেটাই বললাম!”
__”ওহ তাই? তা একটু আগে ঘুমানোর কথা কে বললো..?”
রিত্তিকা ফিসফিস করে হেসে উঠে বলল,
__”ওটা… ওটা তো আমি বলিনি! জিনের আছর হয়েছিল হয়তো। আচ্ছা, আপনি কখন আসছেন বাড়ি?”
”এই মাত্র গাড়িতে উঠলাম। আধঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব।”
”আচ্ছা ঠিক আছে, সাবধানে আসুন। বাই!”
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলেই রিত্তিকা দ্রুত কলটা কেটে দিল। তারপর কমফোর্টারটা ভালো করে গায়ে মুড়ি দিয়ে মুচকি হাসতে হাসতে শুয়ে পড়লো।
ওদিকে কল কেটে যাওয়ার পর জিয়ান ফোনটা পাশের সিটে রাখলো। স্টিয়ারিংয়ে শক্ত করে হাত রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের মনেই হেসে বলে উঠলো,
___ “মেয়েটা পারেও বটে! ভালোই তো ছিলাম এতদিন… কিন্তু এই মেয়েটা জীবনে আসার পর থেকে আর আমায় শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।”
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর জিয়ান বাড়ি ফিরলো। নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে দেখলো রিত্তিকা কমফোর্টার পেঁচিয়ে ঘুমিয়ে আছে। জিয়ান আর তাকে ডাকলো না। দ্রুত একটা শাওয়ার নিয়ে এসে রিত্তিকাকে আলতো করে নিজের বুকের মধ্যে টেনে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লো।
পরদিন সকালে রিত্তিকা আর জিয়া বাড়ির গাড়িতে করেই ভার্সিটিতে এলো। আজ জিয়ানের ভার্সিটিতে কোনো ক্লাস ছিল না, তাই সে আসেনি।
প্রথম পিরিয়ড শেষ হতেই রিত্তিকা, জিয়া, আনুশা আর নিহারিকা মিলে ক্যাম্পাসের বিশালাকার বটগাছের নিচে গিয়ে বসলো। বেশ আড্ডা জমছিল, কিন্তু রিত্তিকার চোখ এড়ায়নি জিয়ার একটু অন্যরকম আচরণ। হঠাৎ সে জিয়ার দিকে তাকিয়ে সুক্ষ্ম চোখে বলল,
__”জিয়া, তুই কি আমাদের থেকে কিছু লুকাচ্ছিস?”
জিয়া কিছুটা চমকে উঠে আমতা আমতা করে বলল,
__”কই… না তো! কী… কী লুকাবো তোদের থেকে?”
নিহারিকাও রিত্তিকার কথায় সায় দিয়ে বলল,
__ “হ্যাঁ রে রিত্তি, আমারও কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে জিয়া আমাদের কাছে কিছু একটা গোপন করছে।”
আনুশা জিয়ার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
__”সত্যি করে বল তো, কী লুকাচ্ছিস? বন্ধুদের কাছে আবার লুকোচুরি কিসের?”
__”আরে সত্যি বলছি, তোদের থেকে কিছু লুকাইনি আমি!”—জিয়া নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করল।
রিত্তিকা একগাল হেসে বলল,
___”হ্যাঁ, কত সত্যি বলছিস তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি! এই যে তুই ইদানীং একা একা ফোন দেখে হাসিস, আবার হঠাৎ একদম চুপচাপ হয়ে যাস… এসবের রহস্য কী?”
__”ধুর, তেমন কিছুই না রে!”
”না হলেই ভালো! কিন্তু পরে যদি জানতে পারি তুই আমাদের কাছে এত বড় কথা লুকিয়েছিলি, তখন দেখিস তোর কী অবস্থা করি!”—হুমকির সুরে বলল রিত্তিকা। তারপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
__ “আচ্ছা তোরা বস, আমি একটু আসছি।”
জিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
__”কই যাবি তুই এত তাড়াহুড়ো করে?”
__”আজ প্রফেসর সাহেবের অফিসে যাব।”
__”কেন রে হঠাৎ?”
__”কাল রাতে বাড়ি ফেরার পর প্রফেসর সাহেবকে ভালো করে দেখাই হয়নি, তার আগেই তো আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! তাই ভাবলাম একটু ওনার অফিসে গিয়ে সারপ্রাইজ দিয়ে দেখে আসি।”—রিত্তিকা একটু লজ্জা পেয়ে বলল।
নিহারিকা অমনি টিপ্পনী কেটে উঠলো,
__ “বাহ বাহ ম্যাডাম! স্যারের জন্য তো দেখছি আপনার ভেতরে ভালোবাসা উপচে পড়ছে একেবারে!”
জিয়া হেসে বলল, “আচ্ছা তুই যা। আমি আরেকটা ক্লাস শেষ করে বাড়ি চলে যাব নে।”
বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রিত্তিকা সোজা জিয়ানের অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। অফিসে পৌঁছে ভেতরে ঢুকেই রিত্তিকা বললো,
—অফিসটা কী চমৎকার আর রুচিশীলভাবে সাজানো! কর্মীদের বসার জায়গাগুলোও বেশ সুবিন্যস্ত।
সামনে একজন বয়স্ক রিসেপশনিস্ট বা এটেনডেন্ট আঙ্কেলকে দেখে রিত্তিকা এগিয়ে গিয়ে বিনীতভাবে বলল,
___ “আঙ্কেল, প্রফেসর সাহেবের কেবিনটা কোনদিকে বলতে পারেন?”
বয়স্ক লোকটা একটু অবাক হয়ে তাকালেন, “প্রফেসর সাহেব? ইনি কে মা?”
__”ওহ সরি সরি! আমি জিয়ান কায়সারের কেবিনের কথা বলছিলাম।”—রিত্তিকা জিভ কেটে বলল।
__”ওহ, জিয়ান স্যারের কেবিন! সোজা গিয়ে করিডোরের একেবারে বামের কেবিনটা ওনার।” লোকটা একটু উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তা তুমি কে হও মা?”
__”ধন্যবাদ আঙ্কেল। আমি ওনার ওয়াইফ।”—মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে রিত্তিকা জিয়ানের কেবিনের দিকে পা বাড়ালো।
রিত্তিকা ভেবেছিল চুপিচুপি গিয়ে জিয়ানকে চমকে দেবে। কেবিনের সামনে গিয়ে কোনো শব্দ না করে দরজার হ্যান্ডেলটা আলতো করে ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেল।
কিন্তু দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকাতেই রিত্তিকার পুরো জগত যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল!
ভেতরে একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে জিয়ানকে। দৃশ্যটা দেখে রিত্তিকার বুকটা এক নিমেষে খালি হয়ে গেল। মাথার ভেতরটা ভোঁ ভোঁ করে উঠলো। চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়লো তার গালে। রিত্তিকা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি পেল না। কান্নায় ভেঙে পড়ে দৌড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল সে।
কিন্তু জিয়ান এসবের কিছুই টের পায়নি।
কিছুক্ষণ আগেই মিটিং শেষ করে কেবিনে এসে চেয়ারয়ে বসে ক্লান্তিতে চোখ বুজেছিল জিয়ান। ঠিক তখনই এনি—যে জিয়ানের পিছু ছাড়ছিল না কিছুদিন ধরে—অনুমতি ছাড়াই কেবিনে ঢুকে পড়ে এবং জিয়ানকে আচমকা জড়িয়ে ধরে।
জিয়ান তাৎক্ষণিক ধাক্কা দিয়ে মেয়েটিকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিল। শক্ত হাতে তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে কষে একটা চড় বসিয়ে দিল এনির গালে!
___”তোর সাহস হয় কী করে আমাকে ছোঁয়ার?!”—জিয়ানের গলার আওয়াজ পুরো কেবিনে প্রতিধ্বনি হলো।
এনি গাল চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি জিয়ান! খুব ভালোবাসি!”
__”রাখ তোর ভালোবাসা!”—জিয়ান গর্জে উঠলো।
এনি দমার পাত্রী নয়, সে আবার জিয়ানের দিকে এগিয়ে আসতে চাইল। জিয়ান এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, আবার একটা তীব্র চড় মারল তাকে।
__”আরেকবার যদি আমার কাছে আসার চেষ্টা করছিস, তোকে আমি এখানেই পুঁতে ফেলবো বলে রাখলাম!”আমার ঘরে মিষ্টি একটা বউ আছে।
__”কেন এমন করছ জিয়ান? আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি! তুমি ওই সামান্য মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও না! ডিভোর্স দিয়ে আমার কাছে চলে এসো, প্লিজ!”
কথাটা শোনা মাত্রই জিয়ানের চোখ দুটো হিংস্র বাঘের মতো লাল হয়ে উঠলো। কপালের রগগুলো ফুলে উঠলো রগে রগে। সে আরেকটা চড় মারলো এনিকে।
__”আরেকবার… আর একটা বার যদি তোর এই নোংরা জবান দিয়ে ডিভোর্সের কথা বের হয়, কসম খোদার—তোর ওই জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলতে জিয়ান কায়সার দুইবার ভাববে না!”
”বেরিয়ে যা আমার কেবিন থেকে! জাস্ট লিভ মাই অফিস রাইট নাও!”
এনি আর এক মুহূর্ত দাঁড়ানোর সাহস পেল না। জিয়ানের রক্তচক্ষু দেখে সে বুঝে গেছে, এখন আর একটা কথা বললে লোকটা সত্যি তাকে খুন করে ফেলবে। সে কেবিন ছেড়ে পালিয়ে বাঁচল।
এনি চলে যাওয়ার পর, সেই বয়স্ক লোকটা দরজায় নক করলেন। জিয়ান তখনও রাগে হাঁপাচ্ছিল।
__”স্যার, আসবো?”
__”আসুন।”—জিয়ান মেজাজ সামলানোর চেষ্টা করল।
লোকটা দ্বিধা নিয়ে ভেতরে এসে বললেন,
__”স্যার… আপনার সাথে কি ম্যাডামের কোনো ঝামেলা হয়েছে?”
জিয়ান কপাল কুঁচকে তাকালো,
__”কোন ম্যাডাম?”
__”আপনার ওয়াইফ স্যার, রিত্তিকা। উনি একটু আগে এসে আমাকে আপনার কেবিন কোনটা জিজ্ঞেস করলেন। আমি দেখিয়ে দিলাম। কিন্তু উনি কেবিনের সামনে আসার দুই মিনিট পরেই কানতে কানতে বেরিয়ে গেলেন… খুব কাঁদছিলেন উনি।”
কথাটা শুনেই জিয়ানের বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো। সে ভাবলো রিত্তিকা নাকি।
“কী বলছেন আপনি?!”
”হ্যাঁ স্যার, আমি নিজের চোখে দেখলাম।”
”ঠিক আছে, আপনি যান।”
লোকটা চলে যেতেই জিয়ান এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে কেবিনের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করল।
ফুটেজে রিত্তিকাকে কেবিনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিয়ান নিজের চুল খামচে ধরলো।
__”ড্যাম ইট! রিত্তিকা এসেছিল! ওহ গড, ও নিশ্চই ভুল বুঝেছে!
জিয়ান আর এক মুহূর্তও অফিসে দাঁড়ালো না। গাড়ির চাবিটা নিয়ে পাগলের মতো বাড়ির দিকে ছুটলো।
বাড়িতে পৌঁছে জিয়ান কারোর সাথে কোনো কথা না বলে সোজা নিজের রুমে ছুটে গেল। কিন্তু রুম খালি! রিত্তিকা কোথাও নেই। জিয়ান উন্মাদের মতো জিয়ার ঘরে গেল। সেখানে গিয়ে দেখলো জিয়া একা বসে বই পড়ছে।
__”জিয়া! রিত্তিকা কোথায়?!”—জিয়ানের গলায় স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
জিয়া অবাক হয়ে তাকালো, “ও তো ওর বাপের বাড়ি গিয়েছে ভাইয়া।”
__”কেন?!”
__”প্রথমে তো তোমার অফিসে গিয়েছিল। তারপর ওখান থেকে মাকে ফোন করে জানালো, ওর নাকি হঠাৎ বাড়ির লোকজনের কথা খুব মনে পড়ছে… অনেক দিন দেখা হয়নি তো, তাই কিছুদিন ওখানে গিয়ে থাকবে।”
__”শিট! “—জিয়ান নিজের কপালে হাত দিলো।
__”কী হয়েছে ভাইয়া? কোনো সমস্যা?”—জিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল।
__”নাথিং!”—সংক্ষেপে বলেই জিয়ান নিজের রুমে ফিরে এলো।
নিজের রুমে এসে আলমারি থেকে একটা নীল রঙের টি-শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল জিয়ান।
জিয়ান বাথরুমের ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে রইল টানা পাঁচ ঘণ্টা! ঠান্ডা পানি অনবরত মাথার ওপর পড়তে থাকলেও তার ভেতরের গুমোট রাগ আর আফসোস কমছিল না। রাত নয়টা নাগাদ যখন সে বাথরুম থেকে বের হলো, তখন তার চোখ-মুখ একদম লাল হয়ে গেছে। টানা পানিতে ভিজে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে জমে যাওয়ার মতো অবস্থা, শরীরের চামড়া অনেক জায়গায় ছিলে লাল হয়ে গেছে।
তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে নিজের ওপরই চরম বিরক্তিতে জিয়ান বিড়বিড় করে বলে উঠলো:
প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩২
”ওই বাজে মেয়ের বিশ্রী ছোঁয়া জন্য আমাকে এতক্ষণ ধরে শাওয়ার নিতে হলো! তাও মনে হচ্ছে ওর গায়ের পঁচা গন্ধটা এখনো আমার গায়ে লেগে আছে… ধুর! আর ওদিকে আমার পাগল বউটাও না বুঝে রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেল! ভেবেছিলাম আজ রাতেও ওকে নিজের বুকের ভেতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো… যত সব বাজে ঝামেলা! ধুর বালের জিন্দেগী!”
