শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩০
আয়েশা শেখ
চৌধুরী ভিলা থেকে শেহরিয়ার ভিলাতে ঢুকে সোজা নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল বারিশ। বসার ঘরে তখন চঞ্চল সাহেব আর ঝর্ণা বেগম বসে চা খাচ্ছিল। বারিশকে এভাবে হুট করে ভেতরে ঢুকতে দেখে দুজনেই অবাক হলেন। ছেলের চেহারার বিষাদগ্রস্ত আর বিধ্বস্ত রূপ, তার ওপর শরীরের এমন ছন্নছাড়া অবস্থা চোখে পড়তেই চঞ্চল সাহেব উদ্বেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ঝর্ণা বেগমও স্থির থাকতে পারলেন না। দুজনই ছেলের পেছন পেছন তার কক্ষের দিকে গেলেন।
রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলেন ছেলে তাদের আলমারি খুলে তড়িঘড়ি করে নিজের কাপড়-চোপড় ব্যাগে পুরছে।চঞ্চল সাহেব ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এসে শুধালেন,
— কী করছ তুমি? এগুলো নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?
কোনো জবাব দিল না বারিশ। তার হাত দুটো সমান গতিতে ব্যাগের চেন টানায় ব্যস্ত রইল। ছেলের এমন অস্বাভাবিক নীরবতা দেখে ঝর্ণা অধৈর্য গলায় বলে উঠলেন,
— কথা বলো তরঙ্গ! তুমি হঠাৎ এভাবে ব্যাগ গোছাচ্ছ কেন?
এবারেও নিরুত্তর তাদের ছেলে। চঞ্চল সাহেব বারিশের হাতটা চেপে ধরলেন। শক্ত গলায় প্রশ্ন করলেন,
— আমার প্রশ্নের উত্তর দাও, তুমি আসলে কী করতে চাচ্ছ?
নিজের কাজ চলমান রেখেই সংক্ষিপ্ত ও শীতল কণ্ঠে জবাব দিল বারিশ,
—ফিরে যাব।
—ফিরে যাবে মানে? কোথায় ফিরে যাবে?
—যেখান থেকে এসেছি, সেখানে।
— ‘মানে? তুমি কানাডায় চলে যাবে?’ ঝর্ণা বেগম যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারলেন না।
বারিশ কোনো উত্তর দিল না। হাত চালিয়ে ব্যাগের জিপার আটকে দিল। চঞ্চল সাহেব রুমের চারপাশটায় একবার চোখ বোলালেন। পুরো ঘরের মেঝেতে এখনো ঝিলমিলের জামাকাপড় আর জিনিসপত্র ছড়াছড়ি হয়ে পড়ে আছে।
তাদের আর কিছু ভাবার বা বলার সুযোগ না দিয়েই বারিশ বলল,
—রুম থেকে বের হও, আমি দরজা লক করব।
— মাথা ঠান্ডা করো তরঙ্গ! আমাকে বলো কী হয়েছে? ঝিলমিলকে লাগবে তোমার? বলো, আমি এখনই এনে দেব তোমার বউকে!
শেষমেশ কথাটা মুখে বলেই ফেললেন চঞ্চল সাহেব। ঝিলমিল বাপের বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই ছোট ছেলেটার কী বেহাল দশা! রাতে কোথায় থাকে তার ঠিক নেই, দিনে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কাটায়, ভালো কথা বলতে গেলেও মেজাজ দেখায়। কলেজে এত বড় কাণ্ড ঘটে গেল, অথচ সে বিষয়েও ছেলেকে একটা শব্দ বলার সাহস পাননি কেউ। যাবতীয় যা বিতর্ক আর ঝামেলা, সব চঞ্চল সাহেব আর তাঁর বড় ছেলেই সামলেছেন। ওদিকে বড় ছেলেও নিজের সন্তানকে নিয়ে কী এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে!
— বলো তরঙ্গ, বউকে লাগবে তোমার? মুখে শুধু একটা বার বলো, আমি এক্ষুনি গিয়ে তাকে এই ঘরে নিয়ে আসছি! তবু কানাডায় ফিরে যেও না।
গর্জন করে উঠল এবার ছেলেটা।
— Never ever! কাউকে টেনে-হেঁচড়ে কাছে এনে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বারিশ শেহরিয়ারের স্বভাব না। আমি যেটা চাই, সেটা এমনভাবে আদায় করব–যে নিজেই আমার দরজায় এসে দাঁড়াবে!
ঝর্ণা বেগম বললেন,
— কোনো দরকার নেই এনে দাঁড় করানোর। ওখান থেকে ডিভোর্স পেপার পাঠালে তুমিও চুপচাপ সাইন করে দেবে।
বারিশ ঝট করে মায়ের দিকে তাকাল। তার লাল হয়ে থাকা চোখে আগুনের লেলিহান শিখা, দৃষ্টি সামান্য ছোট করে অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে বলল,
— তার মানে ডিভোর্সের এই কারসাজি তুমিও করছ?
— হ্যাঁ, করছি! তুমি খুব ভালো করেই জানো ওই মেয়েকে আমার পছন্দ না। ওর চেয়ে পরিণীতা হাজার গুণ ভালো। পরিণীতার সাথে আমার কথা হয়েছে। আর তুমিও তো মেয়েটাকে চেনো, তাই না? এই
অযোগ্য, অপদার্থ, টিনএজার মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে তুমি পরিণীতাকেই বিয়ে করবে। ও অন্তত তোমাকে বুঝবে, তোমার যত্ন নেবে।
— বাহ! তুমি হঠাৎ আমার যত্ন নিয়েও ভাবছ?
ঝর্ণা বেগম কিছুটা নরম হয়ে এগিয়ে আসতে চাইলেন,
— তুমি আমার ছেলে বারিশ, তোমাকে নিয়ে আমি ভাবব না তো…
— স্টপ! তোমার মতো নোংরা মহিলার মুখে এসব ভালোবাসা মানায় না!
বারিশ বাক্য শেষ করার আগেই চঞ্চল সাহেব বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠলেন।
— বারিশ, থামো! মায়ের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় সেই ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও কি জানো না?
— নো নো! জানি না! আর জানতেও চাই না! তার মতো মহিলাকে সম্মান দেখানোর মতো অত উদার আমি নই!
কথা শেষ করেই বারিশ হনহন করে হাঁটা দিল দরজার দিকে। চঞ্চল সাহেব দ্রুত সামনে এসে পথ আগলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন,
— শোনো তরঙ্গ! এভাবে কোনে কিছুর সমাধান হয় না, থামো বলছি!
কিচ্ছু শুনলো না যুবক। নিজের বাবাকে পাশে ধা’’ক্কা মেরে ঝড়ের গতিতে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। সোজা গিয়ে বসল নিজের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে। বিকট শব্দে ইঞ্জিন স্টার্ট নিয়ে টায়ারের কানফাটা ঘর্ষণের শব্দ তুলে চলে গেল।
— আমি উনাকে বিয়ে করতে পারব না আব্বু! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? তুমি প্লিজ ওদের আসতে মানা করো!
বিকালে আলতাফ চৌধুরী ঝিলমিলের ঘরে ঢুকে তাকে তৈরি হতে বললে ঝিলমিল চটে উঠে কথাটা বলল। আলতাফ চৌধুরী শান্ত কিন্তু কঠোর গলায় বললেন,
— এখন আর মানা করা সম্ভব না। ওরা পথেই আছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে। তুমি দ্রুত তৈরি হয়ে নাও।
— আব্বু! এটা তুমি বাড়াবাড়ি করছ! তুমি উনাকে পছন্দ করো না বলে আমার সংসার ভেঙে, জোর করে আমাকে অন্য একজনের সাথে বিয়ে দিতে পারো না! আর তা-ও কিনা আমারই কলেজের আরেকজন টিচারের সাথে!
— আর কলেজে যাওয়া লাগবে না তোমার! বিয়ের পরপরই তোমাদের দুজনকে আমি লন্ডনে পাঠাব। সব ব্যবস্থা করা শেষ।
এবারে আকাশ ভেঙে পড়ল ঝিলমিলের মাথায়! তার বাবা যে এভাবে হাত ধুয়ে তার পেছনে লাগবেন, তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।
— দাদীমা জানে এসব?
— কেন? সে জানার কে? আমার মেয়েকে নিয়ে আমি যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব! বেশি কথা না বাড়িয়ে দ্রুত তৈরি হও… নাহলে আমি কিন্তু গায়ে হাত তুলতেও পিছপা হব না!
অবিশ্বাস্য চোখে বাবার দিকে তাকাল ঝিলমিল। মেয়ের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে আলতাফ চৌধুরীর গলা সামান্য নরম হলো, তবে শক্ত ভাব বজায় রেখে বললেন,
— তুমি বাধ্য করলে আমাকে কঠোর হতেই হবে। সকাল থেকে না খেয়ে মুখটা কেমন শুকিয়ে ফেলেছ, দেখেছ? আর দেরি কোরো না, তৈরি হও।
নিজের আদরের মেয়ের গায়ে তিনি কখনোই হাত তুলবেন না, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কিছুটা ভয় দেখানোর জন্যই কথাগুলো বলা। আলতাফ চৌধুরী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
ঝিলমিল শূন্য দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ বসেই রইল, নড়ল না পর্যন্ত। কিছুক্ষণ পর দরজায় হাত রেখে ঘরে ঢুকল ইরান।
— তুই এখনো তৈরি হসনি ঝিলমিল? ওরা তো একদম চলে এসেছে! আঙ্কেল আমাকে পাঠাল তোকে নিয়ে যেতে।
ঝিলমিল ছুটে গিয়ে ইরানের হাত চেপে ধরল।
— আমি নিচে যাব না ইরান! আমাকে বাঁচা, প্লিজ… অন্তত তুই কিছু কর!
— আমি কী করব? আর বিয়ে তো হয়ে যাচ্ছে না। তুই এখন অন্তত ওদের সামনে যা… আর সুযোগ বুঝে ফাহিম স্যারকে একা পেলে একটু বুঝিয়ে বলিস।
— আমি এভাবে অন্য কারো সামনে গিয়ে বসতে পারব না! আমার উনার কথা খুব মনে পড়ছে…
— কার কথা?
ইরানের প্রশ্নে ঝিলমিল চুপ করে রইল। চোখের পাতা ফেললেই অশ্রু গড়িয়ে পড়বে, তাই অপলক তাকিয়ে রইল মেঝেতে। ইরান আর কথা বাড়াল না। ঝিলমিলকে দাঁড় করিয়ে যত্ন করে পরাতে শুরু করল একটি হালকা গোলাপী রঙের শিফনের জর্জেট শাড়ি।
ঝিলমিলকে সাজানো শেষ হতে না হতেই রুমে ঢুকলো মেহরাজ। দুপুর থেকেই সে বাসায় ছিল না। এখন পুরো যন্ত্রের ন্যায় আড়ষ্ট পায়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বিষণ্ণ গলায় বলল,
— সব শেষ! ও চলে গেল… তোদের এই অহেতুক নাটকের জন্য আজ আমি আমার বন্ধুটাকেও হারালাম! আমি ওকে চিনি, ও আর কোনোদিন আমার সাথে যোগাযোগ রাখবে না।
ইরান আর ঝিলমিল দুজনই অবাক হয়ে মেহরাজের দিকে তাকাল। ইরান ইতস্তত করে শুধাল,
— কার কথা বলছেন? কে চলে গেছে?
— বারিশ!
নামটা শুনতেই ঝিলমিলের বুকের ভেতরটা ভীষণ জোরে ধক করে উঠল! রক্ত হিম হয়ে আসার জোগাড়। সে দ্রুত চাচ্চুর কাছে এগিয়ে গিয়ে কাঁপা গলায় বলল,
— চলে গেছে মানে? কোথায় গেছে?
— কানাডায়… আমি এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর আগেই দুপুর দুটোর ফ্লাইটে ও দেশ ছেড়ে চলে গেছে।
স্তব্ধ হয়ে গেল ঝিলমিল। বুকের ভেতরের প্রাণপাখিটা যেন এইমাত্র ফাঁকি দিয়ে উড়াল দিল দূর অজানায়! কিন্তু উনার জন্য তার এমন লাগার কথা না? তবু কেন বুকের ভেতরটা এভাবে হাহাকার করে উঠছে?
মেহরাজ গলার স্বর নিচু করে আফসোসের সুরে বলল,
— ও একটু জেদি, একটু বেশিই রাগী… তুই তো একটু মানিয়ে নিলেও পারতি ঝিলমিল! ধীরে ধীরে হয়তো সব ঠিক হয়ে যেত। অনেক বছর ধরে ও নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে রেখেছিল বলেই এমন হয়ে গেছে। তোর ছোঁয়া পেলে হয়তো ও আবার আগের মতো স্বাভাবিক মানুষ হয়ে উঠত…
ঝিলমিল চোখের জ্বলন্ত দৃষ্টি মেহরাজের দিকে তুলে ধরে শুধাল,
— উনি আগে কেমন ছিলেন, চাচ্চু?
— বর্তমানের একদম বিপরীত।
ঝিলমিল আরও কিছু জানতে চাওয়ার আগেই রুমের দরজায় কাজের মহিলা এসে দাঁড়ালেন।
— আপামণি, স্যার আপনাদের দ্রুত নিচে যাইতে বলছেন। আর দেরি হইলে আলতাফ সাহেব খুব রেগে যাবেন।
— চাচ্চু, প্লিজ! আমি নিচে যাব না…
ধরা গলায় মিনতি করল ঝিলমিল।
— এখন আর এসব বলে লাভ নেই, ঝিলমিল। চল, বাকিটা পরে আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলব। অতিথিদের যখন দাওয়াত দিয়ে ফেলাই হয়েছে, এখন নিচে না গেলে বড় ধরনের ঝামেলা হবে।
ইরান আর মেহরাজ দুজনে মিলে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ঝিলমিলকে নিচে নিয়ে এলো। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে ফাহিম, তার বাবা, মা এবং ছোট বোন। ঝিলমিলকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে দেখেই ফাহিমের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে কিছুটা নড়েচড়ে বসল। কলেজের সাধারণ ঝিলমিল আর এখনকার এই সাজের ঝিলমিল সম্পূর্ণ আলাদা! হালকা গোলাপী জর্জেট শাড়ির কোমলতায় তার ফর্সা ত্বক মোড়ানো, খোলা চুলে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি এক সৌরভ। বিষাদে নীল হয়ে থাকা রূপটা তাকে যেন আরও বেশি অপার্থিব আর কাম্য করে তুলেছে।
ফাহিমের পরিবারের সামনে এসে বসতেই ঝিলমিলের বুকের তোলপাড় শতগুণ বেড়ে গেল। লোকটা চলে গেছে! সে আর এ দেশে নেই, মেঘের ওপর দিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে দূর দেশে। আর ঝিলমিল, যে কিনা কাগজ-কলমে এখনো তারই স্ত্রী, অথচ সে সেজেগুজে বসে আছে অন্য এক পরপুরুষের সামনে! কী জঘন্য, কী বি”ষাক্ত এক অনুভুতি!
— মাশাআল্লাহ! ফাহিম যেমনটা বলেছিল, তুমি তো তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি মিষ্টি, মা!
ফাহিমের মা ফাতেমা বেগম অত্যন্ত আদরের সাথে ঝিলমিলের গালে হাত রেখে কথাটি বললেন। ঝিলমিল সৌজন্যের খাতিরে একটু হাসার চেষ্টা করল, কিন্তু ঠোঁট দুটো শক্ত হয়ে রইল।
— ‘আমার ছেলের পছন্দ কোনোদিন খারাপ হতেই পারে না। কত জায়গায় মেয়ে দেখা হলো, কারো সাথেই মন মিলল না! অথচ কলেজে জয়েন করার পরই আপনার মেয়েকে দেখে এক দেখাতেই ওর পছন্দ হয়ে যায়, আর বাসায় এসে আমাদের জানায়।’
ফাহিমের বাবা ফাহাদ সাহেব আলতাফ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে সহাস্যে বললেন।
— শুধু ভাবিই নয়, ভাবির বড় ভাইও তো অনেক সুন্দর! তাই না আম্মু?
কথাগুলোর মাঝে ফাহিমের চৌদ্দ বছরের ছোট বোন ফাইজা হঠাৎ মেহরাজের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল। ফাতেমা বেগম চমকে উঠে সাথে সাথে মেজাজ দেখিয়ে মেয়েকে থামিয়ে দিলেন। মেহরাজ চোখ পাকিয়ে মেয়েটার দিকে তাকাল— এইটুকু মেয়ের কত বড় সাহস!
মেহরাজ ধমক দিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে, তার আগেই ইরান বেশ শক্ত আর গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
— উনি তোমার ভাবির ভাই নন, চাচা হন। সেই হিসেবে তোমারও চাচা!
ইরানের এই ‘ভাবি’ সম্বোধনে এবার ঝিলমিলেরও মেজাজ গরম গেল। ইচ্ছে করছে মেয়েটার নাক এক ঘুষিতে ফাটিয়ে দিতে! কিসের ভাবি? বিয়ে হয়ে গেছে নাকি?
মেহরাজ ইরানের ঠিক পাশে এসে দাঁড়াল। মুখ টিপে বিড়বিড় করে বলল,
— সেই হিসেবে তো আমি তোমারও চাচা হই! ‘ভাই’ ডেকে ডেকে মাথা আর কত নষ্ট করবে, বলো তো?
ইরান চোখের কোণ দিয়ে মেহরাজের দিকে একবার তাকিয়ে কঠিন গলায় বলল,
— একদম না! আপনি সম্পর্কে আমার ভাই-ই হন।
— কীভাবে?
— যেভাবেই হোক, হন!
উভয়ের মধ্যকার কথার মাঝেই ফাহাদ সাহেব আলতাফ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বেশ তৃপ্তির হাসি হেসে বললেন,
— ঝিলমিলকে আমাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে, আলতাফ সাহেব। আপনার এই মিষ্টি মেয়েকে হাতছাড়া করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর কোনো কথা না বাড়াই, চলুন বাগদানটা আজই কমপ্লিট করে ফেলা যাক!
ঠিক তখনই সদর দরজা পেরিয়ে অন্দরমহলে পা রাখলেন নূরজাহান চৌধুরী এবং তাহসিন। বাসায় ঢুকতে ঢুকতেই নাতনির হয়ে নূরজাহান চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,
— আমরা এর জন্য কতটুকু প্রস্তুত আছি, সেটাও তো আগে জানা উচিত আপনাদের!
থমথমে হয়ে উঠল পরিবেশ। আলতাফ চৌধুরী তড়িঘড়ি করে মায়ের কথা কেটে দিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন,
— আমরা একদম প্রস্তুত আছি। আম্মা তুমি অনেক জার্নি করেছ, গিয়ে আগে ফ্রেশ হয়ে নাও।
ছেলের দিকে একরাশ অসন্তোষ নিয়ে তাকিয়ে নূরজাহান চৌধুরী দোতলার দিকে চলে গেলেন। তাহসিন এসে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসল। পকেট থেকে ফোন বের করে সেদিকে মনোযোগ দিল, যেন ঘরের এসব নাটকে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।
ঝিলমিলের বুকের ভেতর অসহায়তার ঝড় বইছে তখন। আঙুলগুলো দিয়ে শাড়ির আঁচল শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে মেয়েটা। উপায়ান্তর না দেখে সে ফাহিম স্যারের দিকে তাকাল। গলায় জমে থাকা জটলা ঠেলে অত্যন্ত মৃদু আওয়াজে বলল,
— স্যার… আমি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাই।
ফাহিম সামান্য চমকে উঠে বলল,
— হ্যাঁ, বলো।
— এখানে না, আলাদা।
কথাটা শুনে ফাহিম কিছুটা বিব্রত বোধ করল। ঘরের উপস্থিত গুরুজনদের সামনে হুট করে এমন প্রস্তাবে সে ইতস্তত করলেও মৃদু হেসে রাজি হতে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে সুযোগ দিলেন না আলতাফ চৌধুরী।
— এখন এসব আলাদা কথার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। এঙ্গেজমেন্টের আনুষ্ঠানিকতাটা শেষ হয়ে যাক, তারপর সারাজীবন যত ইচ্ছা কথা বোলো।
রাশভারী কণ্ঠে বলে উঠলেন তিনি। বাবার এমন স্পষ্ট নির্দয় ঘোষণায় আরও ফ্যাকাশে হয়ে গেল ঝিলমিলের মুখটা। যন্ত্রনায় দুমড়ে-মুচড়ে উঠল বুকের ভেতরটা। সে কি সত্যি তবে এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে না? কানাডার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো সেই মানুষটার রাগী, জেদি চেহারাটা এক পলকের জন্য চোখের সামনে ভেসে উঠতেই ঝিলমিলের মনে হলো—নিজের অজান্তেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়টুকু আজ স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে।
কোনো উপায় না পেয়ে ঝিলমিল সামান্য সামনে ঝুঁকে ফিসফিস করে ফাহিমের উদ্দেশ্যে বলল,
— আমি বিবাহিত, স্যার! সবকিছু জেনেও কেন এসব করছেন আপনি?
ফাহিম ইতস্তত না করে অত্যন্ত নিচু গলায় পাল্টা উত্তর দিল,
— তোমাদের তো ডিভোর্স হয়ে গেছে, ঝিলমিল। আর তুমি নিজেও তো সেই সম্পর্কটা কোনোদিন মন থেকে মেনে নাওনি।
— আমি? আমি কি কখনো আপনাকে এমন কিছু বলেছি?
তাদের ফিসফিসানি চোখ এড়াল না আলতাফ চৌধুরীর। তিনি আর কোনো কথা বাড়ানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে হুকুম দিলেন,
— আর দেরি নয়, আংটি পরাও ফাহিম। ঝিলমিল, হাত তোলো!
হাত তুলল না ঝিলমিল। অসহায়তা চোখে বাবার দিকে তাকাল। কিন্তু আলতাফ চৌধুরী যেন আজ স্বেচ্ছায় অন্ধ হয়ে গেছেন। মেয়ের আকুলতা তাঁর কঠোর মনে রেখাপাত করল না। ঝিলমিল এবার অসহায় চোখে তাকাল মেহরাজের দিকে, তারপর তাহসিনের দিকে। তাহসিন সম্পূর্ণ নির্বাক হয়ে সোফায় বসে আছে। দীঘি আজ বাসায় নেই—সে থাকলে নিশ্চিত একটা রণক্ষেত্র তৈরি করত, তাই আলতাফ চৌধুরী চতুরতার সাথে তাকে আগেই সরিয়ে দিয়েছেন।
— কী হলো, ঝিলমিল? হাত তোলো বলছি!
বাবার কণ্ঠ এবার আরও কঠোর শোনাল। ঝিলমিল তাও নিশ্চল হয়ে বসে রইল। ফাহিম আর অপেক্ষা না করে নিজেই ঝিলমিলের কোমল হাতটা ধরে সামান্য ওপরের দিকে ওঠাল। কিশোরীর হাতটা থরথর করে কাঁপছে। ঝিলমিলের খালি হাত—বারিশ তাকে আজ অবধি একটা ফোন আর কিছু জামাকাপড় ছাড়া কিছুই দেয়নি, আঙুলে পরিয়ে দেয়নি কোনো ভালোবাসার স্মারকও।
ফাহিম বাম হাতে ঝিলমিলের বরফের মতো ঠান্ডা আঙুলগুলো শক্ত করে ধরে ডান হাতে আংটিটা পরানোর জন্য উদ্যত হলো। ধাতব বস্তুটির স্পর্শ ঝিলমিলের ত্বকে লাগার ঠিক আগের মুহূর্তে তাহসিন ঝটকা দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
পকেটের ফোনটার দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে সে হন্তদন্ত হয়ে মেহরাজের দিকে এগিয়ে গেল। তাহসিনের ফ্যাকাশে মুখে স্পষ্ট চরম আতঙ্ক। সে ফোনটা মেহরাজের দিকে বাড়িয়ে ধরে থরথরে গলায় বলল,
— দেখো!
মেহরাজ স্ক্রিনের দিকে তাকাল। দেখতে দেখতে এক অদ্ভুত ভয়াবহতায় বদলে যেতে লাগল তার মুখের ভঙ্গি। বুক দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল, হাঁপাতে শুরু করল সে। আতঙ্কে তার কণ্ঠ ভীষণ ভাবে কেঁপে উঠল,
— আমার… আমার বন্ধু! আমার বন্ধু…
কথাটা সম্পূর্ণ শেষ করার আগেই মেহরাজ নিজের বুকে হাত দিয়ে ঠাস করে মেঝের ওপর ঢলে পড়ল। উপস্থিত সবাই হইচই করে এগিয়ে এসে তাকে ধরল। মেহরাজ ততক্ষণে পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। ঝিলমিল ফাহিমের হাত থেকে নিজের হাতটা একঝটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ধেয়ে এলো তাহসিনের কাছে,
— আঙ্কেল, কী হয়েছে? কী দেখে চাচ্চু জ্ঞান হারাল? আমাকে বলুন!
তাহসিন চোখ তুলে ঝিলমিলের দিকে তাকাতে পারল না। সে নিচু গলায় বলল,
— কিছু হয়নি ঝিলমিল, তুমি শান্ত হও। আমি দেখছি…
তাহসিন বাসা থেকে বের হয়ে যেতে চাইল। ঝিলমিল তার পথ আটকে দাঁড়িয়ে বলল,
— না! আপনি বলুন আমাকে! কী হয়েছে বলুন? বন্ধুর নাম শুনে চাচ্চু এভাবে জ্ঞান হারাবে কেন?
তাহসিন কিছুই বলতে পারল না, কথাগুলো যেন তার গলায় আটকে গেছে। ঝিলমিল আর সহ্য করতে না পেরে তাহসিনের হাত থেকে ছোঁ মেরে ফোনটা কেড়ে নিল।
স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে ব্রেকিং নিউজ—
—টরন্টো অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝআকাশে ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। অফিশিয়াল খবরে স্পষ্টভাবে লেখা—‘প্লেন ক্র্যাশ, অল প্যাসেঞ্জার্স প্রসিউমড ডেড। কোনো আরোহী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।’—
খবরের বিস্তারিত অংশ জুড়ে ফুটে উঠেছে পুরো ভয়াল বিয়োগান্তক চিত্রটি। ‘কানাডাগামী বিআর-৪০২ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটি উড্ডয়নের ঘণ্টাখানেকের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ইঞ্জিনে আ”গুন ধরে যায় এবং সুউচ্চ আকাশেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে এটি আছড়ে পড়ে এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আ”গুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হয়ে গেছে পুরো এয়ারক্রাফট। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে—ক্রুসহ বিমানের ৩১২ জন আরোহীর সকলেই নি”হত হয়েছেন। অলৌকিকভাবেও কারো বেঁচে ফেরার সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।’
খবরের নিচের দিকে স্ক্রোল করতেই ঝিলমিলের চোখ আটকে গেল যাত্রী তালিকার এক জায়গায়। পরিষ্কার হরফে লেখা ‘ফাইজান বারিশ শেহরিয়ার, আসন নম্বর ১২-বি’।
এক লহমায় ধসে গেল ঝিলমিলের পায়ের তলার সমস্ত মাটি। মাথার ভেতরের পৃথিবীর সমস্ত আলো নিভে অন্ধকার হয়ে গেছে। হাতের বাঁধন শিথিল হয়ে ফোনটা সশব্দে মেঝেতে পড়ে গেল। সে কয়েকবার শক্ত করে ঢোক গিলল, শুষ্ক ঠোঁট দুটো জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে এলোমেলো চোখে চারপাশ দেখতে লাগল। বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
— উনি… উনি নিশ্চয়ই এই প্লেনে ছিলেন না! আর থাকলেও এটা কোনো ফেক নিউজ! আজকাল কত ফেক নিউজ ছড়ায় না বাজারে? এটাও তেমনই একটা!
তাহসিন একদম নিশ্চুপ, পাথরের মতো স্থির। ঝিলমিল তার জামার হাতা ধরে ঝাঁকিয়ে বলল,
— বলুন না আঙ্কেল, এটা ফেক না? আপনি চুপ করে আছেন কেন? বলুন এটা মিথ্যে!
তাহসিন অত্যন্ত নিস্পৃহ গলায় উচ্চারণ করল,
— প্রাণে বেঁচে নেই কেউ… বারিশ ওই প্লেনেই ছিল।
— চুপ করুন! একদম বাজে কথা বলবেন না আপনি!
তাহসিন ফোনটা মেঝে থেকে তুলে নিয়ে আবার বাসার বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ঝিলমিল ছিটকে গিয়ে তার হাত টেনে ধরল,
— কোথায় যাচ্ছেন? আমাকে সাথে নিয়ে চলুন! আমি আপনার সাথে যাব!
— তুমি থাকো, আমি গিয়ে দেখছি…
ঝিলমিলের পা দুটো অবশ হয়ে এসেছে অনেক আগেই। এতক্ষণ কেবল অদম্য জেদে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু এবার আর পারল না। হাঁটুর জোর হারিয়ে সে ধপ করে মেঝেতেই বসে পড়ল। দু’চোখ বেয়ে অবিরল ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে। কান্নাজড়িত গলায় মিনতি ঝরে পড়ল তার,
— উনি ওই প্লেনে ছিলেন না… বলুন না আঙ্কেল! একবার শুধু বলুন উনি ওখানে ছিলেন না! কিংবা… কিংবা বলুন একজন অন্তত বেঁচে আছে, আর সেই মানুষটা উনি! প্লিজ আঙ্কেল, একটা বার বলুন উনি ভালো আছেন!
পরিস্থিতি সামাল দিতে আলতাফ চৌধুরী আর নাজমা বেগম দ্রুত এগিয়ে এসে ঝিলমিলের দু’হাত ধরে তোলার চেষ্টা করলেন। আলতাফ চৌধুরী বিরক্ত ও অস্বস্তি নিয়ে বললেন,
— মা! তুই এমন করছিস কেন? বাসায় মেহমান বসে আছে দেখছিস না? আর তুই কাঁন্দছিসই বা কেন? অহেতুক নাটকের কী হলো?
বাবার অযৌক্তিক প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না ঝিলমিল। মেঝের দিকে ঝঁকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল সে,
— আমি মানি না… কিচ্ছু হয়নি! আল্লাহ, তুমি উনাকে ফিরিয়ে দাও…একবার আমার সামনে এনে দাও…! তার অহংকার ভেঙে গুঁড়ো করার জন্য হলেও উনাকে আমার কাছে এনে দাও! এভাবে শেষ করে দিও না… প্লিজ, উনাকে একটা বার ফিরিয়ে দাও…’
পা জোড়া সীসার মতো ভারী তার। তবু শরীরটাকে ঠেলে কোনোমতে দাঁড়িয়ে উন্মাদের মতো পা ফেলে তাহসিনের পেছন পেছন ছুটল।
আলতাফ চৌধুরী দ্রুত এগিয়ে এসে মেয়ের হাত শক্ত করে চেপে ধরলেন,
— কোথায় যাচ্ছিস তুই? শান্ত হয়ে ভেতরে আয়!
আলতাফ চৌধুরীর হাত ছিটকে সরিয়ে দিল ঝিলমিল। হিংস্র আর অবাধ্য চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে ঝটকা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দরজার দিকে দৌড় দিল।
— ঝিলমিল, শোন! থাম তুই!
কিচ্ছু পৌঁছাল না কিশোরীর কানে। গায়ে জড়ানো ভারী গোলাপী জর্জেট শাড়ির দীর্ঘ আঁচল আর কুঁচি তার চলার পথে বাধা হচ্ছে। সদর দরজার মার্বেল পাথরের থ্রেশহোল্ডে শাড়ির কুঁচি পেঁচিয়ে হোঁচট খেল সে। হাঁটুতে চোট পেয়ে ব্যথায় কুকড়ে উঠলেও থামল না সে; এতটুকু চিৎকার না করে, কনুই ও হাঁটুর ক্ষতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ঝড়ের বেগে বাসা থেকে বেরিয়ে এলো।
চোখের সামনে ভেসে উঠল একের পর এক রোমহর্ষক দৃশ্যকল্প। মাঝআকাশে বিকট শব্দে ফেটে যাওয়া সেই দৈত্যাকৃতির লোহার বিমান… চারপাশের লেলিহান আগুনের বিভীষিকা… আর তার ঠিক মাঝখানে আটকা পড়ে যাওয়া একটা মানুষ!
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২৯
বিমানের সেই বি”ষাক্ত ধোঁয়া আর দাউদাউ করে জ্বলা আ”গুনে যখন চারদিক ভস্ম হয়ে যাচ্ছিল, তখন মানুষটার কেমন লেগেছিল? আগুনে চামড়া পুড়ে ছাই হওয়ার সময় ওই কঠোর, কঠিন মানুষটা কতটা য”ন্ত্রণা সহ্য করেছিল? শেষ মুহূর্তে যখন বাতাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল, মানুষটা কি তাকে মনে করেছিল? কতটা কুরে কুরে খেয়েছে সেই যাতনা?
