Home শুকনো পাতার নূপুর পায়ে শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩২

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩২

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩২
আয়েশা শেখ

ফ্লাটের দরজা খুলে ভেতরে এক পা বাড়াতেই হোঁচট খেল ইরান। আঁতকে উঠে সামলে নিয়ে নিচে তাকাতেই সমস্ত অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেল। দরজার মুখেই নিথর হয়ে পড়ে আছেন তার বাবা। স্বভাবসুলভ মাতাল অবস্থায়ই। আজ আর লোকটাকে ধরে সোফায় পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছে নেই ইরানের। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মানুষটাকে এড়িয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল। ​পর্দা সরিয়ে রুমে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল ছোট্ট মশারির ভেতর। তুলতুলে ছোট্ট হাত-পাগুলো শূন্যে ছুড়ে ছাদের দিকে চেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বাচ্চাটা। অবুঝ মমতা দিয়ে ডেকে চলেছে, “মা… মা…”
​ফোনটা রেখে গিয়েছিল ইরান। হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকাতেই বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। বেবি সিটারের মিসড কলের লাইন লেগে আছে। নিশ্চয়ই আজ আসতে পারবে না জানানোর জন্যই ফোন করেছিল। না চাইতেও ইরানের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। আহারে! কতখানি খিদে লেগেছে আর কতটা ভয় পেয়েছে অবুঝ প্রাণটা! সে তড়িঘড়ি এগিয়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে সোজা কোলে তুলে বুক জড়িয়ে নিল।
​— মা চলে এসেছি তো, সোনা! কাঁদে না, লক্ষ্মী সোনা আমার…
​তবু কান্নার তোড় কমল না। সেই কখন থেকে একা একটা ঘরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছে! ইরান বাচ্চাটাকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল, যেন নিজের বুকের ওম দিয়ে তার সব ভয় মুছে দেবে। তাকে কোলেই চেপে ধরে রান্নাঘরে গিয়ে দুপুরের বানানো তরল খাবারটা গরম করল, তারপর ফিডারে ঢেলে ফিডারের নিপলটা মুখে দিতেই শান্ত হয়ে এল ছটফট করতে থাকা ছোট্ট প্রাণটা।
———
— তুমিই বলো। আমার সঙ্গে যেতে চাও, নাকি নিজের বাবার কাছেই থাকতে চাও?
হাসপাতালের করিডোরে সকলের সামনে দাড়িয়ে ঝিলমিলের দিকে স্থির, ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল।
— আমার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে। ঝিলমিল, তুমি অসুস্থ; কেবিনে যাও!
আলতাফ সাহেব উচ্চস্বরে বললেন। বারিশ একবিন্দুও বিচলিত হলো না, কোনো উত্তরও দিল না আলতাফ সাহেবকে। নিঃশব্দে শুধু ঝিলমিলের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে লাগল। ঝিলমিল বাবার দিকে তাকাল। শক্ত গলায় বলল,
— সরি আব্বু! আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না।
ফাহিমের মুখটা পাংশু হয়ে গেল। কোনো কথা না বলে সে নিঃশব্দে দাড়িয়ে রইল। বারিশের তীক্ষ্ণ চাহনি ঝিলমিলের মুখে গেঁথে আছে।
— ভেবে বলো, আর কখনো চাইলেও তুমি ফিরে আসতে পারবে না।
— আমি আপনার সঙ্গেই যেতে চাই। আপনাকে হারাতে পারব না।
বারিশের কঠিন মুখে বিজয়ের আভাস ফুটল। হ্যাঁচকা টানে ঝিলমিলের কবজিটা নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিল সে। তারপর আলতাফ সাহেবের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা গলায় বলল,
— আমি আপনার মেয়েকে নিয়ে এসেছিলাম, স্যার! ও যদি নিজে থেকে ফিরে যেতে চাইত, আমি ফিরিয়ে দিতাম। কিন্তু ও যাবে না। নিয়ে যাচ্ছি আমি আমার স্ত্রীকে! ভবিষ্যতে কোনোদিন ওর আশেপাশেও যেন না দেখি আপনাকে!
কথা শেষ করেই একবার শেষবারের মতো ফাহিমের থমকে যাওয়া চেহারার দিকে তাচ্ছিল্যের নজর বুলিয়ে নিল বারিশ। তারপর ঝিলমিলের হাত শক্ত করে চেপে ধরে তাকে এক প্রকার টেনেই করিডোর পেরিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলল। যেতে যেতে নিজের বড় ভাইকে কল করে নিজের অক্ষত থাকার কথা জানিয়ে দিল।
ঝিলমিল ভেবেছিল গাড়িটা শেহরিয়ার ভিলার দিকেই এগোচ্ছে। কিন্তু শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গাড়ি যখন এক নির্জন, শান্ত এলাকার দিকে মোড় নিল, তখন ওর ভুল ভাঙল। লোকালয় থেকে বেশ খানিকটা দূরে, কোলাহলমুক্ত পরিবেশের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আধুনিক ট্রিপ্লেক্স বাড়ির পোর্চে গাড়িটা থামতেই ঝিলমিল চারপাশটায় এক নজর বুলিয়ে বারিশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ভরা গলায় প্রশ্ন করল,
— এটা কোথায় নিয়ে এলেন? কার বাসা এটা?
বারিশ কোনো উত্তর দিল না। গাড়ির দরজা খুলে নামল, তারপর কোনো কথা না বলে সোজা সামনের দিকে হেঁটে যেতে যেতে এক শব্দে জবাব দিল,
— আমারই।
ঝিলমিলকে পেছনে ফেলেই ভেতরে হেঁটে গেল লোকটা। ঝিলমিল কয়েক মুহূর্ত সেখানে থমকে দাঁড়িয়ে রইল। অন্ধকার আর গাছপালায় ঘেরা নির্জন চারপাশটায় একবার চোখ বুলিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে সে-ও বারিশের পেছনে ভেতরে ঢুকল। নিচতলার বিশাল লিভিং এরিয়াটা একদম অন্ধকার। কোথাও কোনো আলো জ্বলছে না। বারিশকে সেখানে না পেয়ে ওপরের দিকে তাকাতেই ঝিলমিলের নজরে পড়ল ওপরের তলার একটা রুমের তালা খুলছে সে। ঝিলমিল দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে হেঁটে যেতে যেতেই শুধাল,
— এখানে কেন আসলাম বলুন না! আর এই বাড়িটাই বা আপনি কবে বানালেন? আমরা তো আগের বাড়িতেই থাকতে পারতাম।
বারিশ চোখ দুটো বুজে চুপচাপ রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল। জারিফ আর আলতাফ সাহেব পরপর এত বড় একটা খেলা খেলে ফেলার পরও কি সে ঝিলমিলকে নিয়ে ওই শেহরিয়ার ভিলাতেই গিয়ে উঠবে? এটা হয়? এতটাও পাগল হয়নি বারিশ শেহরিয়ার। উত্তর না পেয়ে ঝিলমিল আরও প্রশ্ন করতে করতে রুমে ঢুকল ঝিলমিল।
— শাড়ি কার জন্য পরেছিলে সিয়েনা?
বারিশের শীতল কণ্ঠে থমকাল রমণী। ঝিলমিলের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। এই শাড়ি যে ফাহিমের পরিবারের জন্য পরেছে সেটা কীভাবে বলবে সে?
— কী হলো, চুপ করে আছ কেন? আমি চলে গিয়েছিলাম বলে কী শাড়ি পড়ে উদযাপন করছিলে?
কথাগুলো ধীরলয়ে উচ্চারণ করলেও তার সেই নিস্পৃহ নিস্তরঙ্গ স্বরের আড়ালে লুকানো অদৃশ্য ধার ঝিলমিলের ভেতরটা কাঁপিয়ে দিল। বাড়িটায় এখন তারা দুজন ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। সত্য বললে যদি লোকটা তাকে এখানেই মে রে ফেলে?
— এ-এমনি… এমনি পরেছিলাম।
বারিশকে এক পা এক পা করে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে তোতলে উঠল ঝিলমিল।
— নো! নো, নো, নো! তুমি এমনি পরোনি সিয়েনা! মিথ্যা বোলো না আমার সাথে। কেন পরেছিলে, বলো!
হঠাৎ বদলে গেল লোকটার গলার আওয়াজ। শান্ত স্বর থরথর করে কেঁপে উঠে রূপ নিল গর্জনে। ঝিলমিল ভয়ে কুঁকড়ে একদম ছোট হয়ে গেল। পেছাতে পেছাতে সে গিয়ে স্থান নিল বিশাল বিছানাটার ওপর। ব্যাকফুটে যেতে যেতে শেষমেশ ওর পিঠ ঠেকে গেল খাটের হেডবোর্ডে।
দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভেজায় মেয়েটার তন্বী, ক্ষীন দেহটা ভিজে যাওয়া শাড়ির সাথে লেপ্টে আরও প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। একদিকে শীত, অন্যদিকে বারিশের এই হিংস্র রূপ—দুটোর যৌথ থাবায় ঝিলমিলের শরীরে দ্বিগুন কম্পন চেপে বসল।
বারিশ এক হাঁটু বিছানায় গেড়ে ঝিলমিলের একদম মুখোমুখি ঝুঁকে এলো। তার তীক্ষ্ণ দুটি চোখ ঝিলমিলের সিক্ত শরীরের প্রতিটি ভাঁজে আগুনের মতো বিঁধছে।
ঝটকা মেরে ঝিলমিলের ভিজে যাওয়া শাড়ির আঁচলটা গা থেকে টেনে ফেলে দিল বারিশ। আঁচলটা সরতেই উন্মুক্ত হলো ভিজে শরীরের ওপর লেপ্টে থাকা ব্লাউজ আর ঝিলমিলের সুগঠিত বুকের গভীর ভাঁজ।
বারিশ স্ত্রীর সেই অনাবৃত কায়াসৌন্দর্যের দিকে নিস্পৃহ দৃষ্টি রেখে শান্ত ও শীতল স্বরে বলে উঠল,
— কী হলো, বলো? শাড়ি পরে ফাহিমের বাগদত্তা হতে গিয়েছিলে? এনগেজমেন্ট?
হঠাৎ শরীর এমন অনাবৃত হয়ে পড়ায় লজ্জায়, আতঙ্কে সে দ্রুত নিজের দুটো হাত আড়াআড়িভাবে বুকের ওপর চেপে ধরল। বড় বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
— আপনাকে… আপনাকে কে বলল এসব?
— তুমি বলছ।
— আমি তো কিছুই বলিনি!
— তোমার চোখ বলছে, তোমার চেহারা বলছে।
ঝিলমিল নিথর হয়ে তাকিয়ে রইল লোকটার অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্বলে ওঠা চোখের দিকে। বারিশের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি এবার নেমে এলো ঝিলমিলের হাতের দিকে—যে দুটো হাত দিয়ে সে নিজের বুক
আগলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।
আচমকা নিজের হাতের থাবায় ঝিলমিলের দুটি নরম হাত একসাথে মুঠোবন্দি করে ঝিলমিলের মাথার ওপর তুলে হেডবোর্ডের সাথে চেপে ধরল। আতঙ্কে চোখের পাতা দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল ঝিলমিল।
— ওদের সামনে কেন গিয়েছিলে? আমি তোমাকে বারণ করিনি, সিয়েনা?
— আমি… আমি চাইনি যেতে! আব্বুর জন্য… আব্বুর চাপে পড়ে…
— ​ফা”ক ইউর এক্সকিউজ! হোয়াট দ্য ফা”ক উইয়ার ইউ থিংকিং, সিয়েনা? ইউ আর মাই ফা”কিং ওয়াইফ! অতো বড় স্পর্ধা কীভাবে হয় তোর, সেজেগুজে ওই জা”র”জগুলোর সামনে এনগেজমেন্টের জন্য গিয়ে বসার?
রাতের গভীর অন্ধকারে বারিশের হুংকার বিস্ফোরণের মতো শোনালো। তার ওপর ছিলে যাওয়া হাতে বারিশের হাতের চাপ সহ্য করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যথায় কেঁদে উঠে আকুতি করল ঝিলমিল,
— হাতে ভীষণ ব্যথা পাচ্ছি… প্লিজ ছাড়ুন!
ঝিলমিলের আকুতি বারিশের কানে পৌঁছাল কি না বোঝা গেল না। তার দৃষ্টি তখন স্থির হয়ে গেছে পাশের সাইড টেবিলে রাখা চা”কুর ওপর। এক হাত দিয়ে ঝিলমিলের দুটো হাত হেডবোর্ডে বন্দি রেখেই, অন্য হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে সেই তীক্ষ্ণ চা”কুটা তুলে নিল বারিশ।
আবছা আলোয় ফলার ধাতব চকমকানি চোখে পড়তেই আতঙ্কে শিউরে উঠল ঝিলমিলের সমস্ত কায়াসত্তা। সেদিকে তাকিয়ে অতি কষ্টে উচ্চারণ করল,
— আপ… আপনি… আপনি কী করতে চাচ্ছেন?
বারিশের চেহারায় অনুভূতির লেশমাত্র নেই, অবয়ব যেন পাথরে ক্ষোদাই করা নিস্পৃহ মূর্তি।
​— ‘আমি কী বলেছিলাম তোমায়, সিয়েনা? বলেছিলাম না… ওদের সামনে গেলে তোমার চারপাশ জ্বালিয়ে দেব, নয়তো তোমার জীবন থেকে আমার অস্তিত্ব মুছে দেব? আমার অস্তিত্ব তো মুছতে পারিনি… এবার…’
বলতে বলতে আরও একটু ঝুঁকে এসে চা”কুর ধাতব ফলাটা আলতো করে ছুঁইয়ে দিল ঝিলমিলের উন্মুক্ত গ্রীবায়। রেশমি ত্বকে ঠান্ডা স্পর্শ লাগতেই শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত চুইয়ে নামল মেয়েটার। অজানা আশঙ্কার চরম শিখরে পৌঁছে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে নিল ঝিলমিল। দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল তার বক্ষ। বুজে আসা আঁখিপল্লবের আড়াল থেকেই সে কাঁপা, অস্ফুট স্বরে শুধাল,
​— এ-এবার কী?
​বারিশ কিশোরীর সিক্ত ঠোঁটের অতীব নিকটে নিশ্বাস ফেলে নিচু, নিগূঢ় স্বরে প্রতিধ্বনি করল,
​— এবার… দেখো কী করি…
সহসা চা”কুর তীক্ষ্ণ ফলা পুরোপুরি গেঁ”থে দিল ঝিলমিলের কোমল গ্রীবায়!
​— আ”আআআহ!
নারকীয় য”ন্ত্রণায় পুরো ঘর চিরে আর্তনাদ করে উঠল ঝিলমিল। গলার মাংসপেশি চিরে তাজা, তপ্ত র”ক্তের ফোয়ারা ছিটকে এসে লাগল বারিশের ক্রুদ্ধ অবয়বে। উষ্ণ র”ক্ত মেয়েটার গ্রীবা বেয়ে নেমে এসে চারপাশ রাঙিয়ে তুলতে লাগল। গলার ভেতরের রুদ্ধ ঘড়ঘড় শব্দে দম আটকে আসতে লাগল তার, চেতনার চারপাশে কালচে অন্ধকার নেমে এলো মুহূর্তেই…। হাত দুটো ছাড়ানোর আকুল চেষ্টা করেও কোনো লাভ হলো না।
​হঠাৎ ধাতব ফলার সেই তপ্ত য”ন্ত্রণার বদলে গলায় আবার ফিরে এলো চা”কুর সেই শীতল ছোঁয়া। ​তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে চোখ দুটো ঝট করে মেলে তাকাল ঝিলমিল। না, কোথাও কোনো র”ক্তের উত্তপ্ত প্রবাহ নেই; গলার ত্বকও নিখুঁত, অক্ষত। কেবল চাকুর শাণিত ফলাটি ওর গ্রীবাদেশে সূক্ষ্মভাবে চেপে ধরে নিস্পৃহ ভঙ্গিতে চেয়ে রয়েছে বারিশ।
লোকটার মাথার মাঝারি লম্বা, সিল্কি এলোমেলো চুলগুলো কপালে নেমে এসে ঢেকে দিয়েছে মুখের উপরিভাগ। শুধু চুলের ফাঁক গলে হিং”স্রভাবে ঠিকরে বেরোচ্ছে দুটি র”ক্তবর্ণ চোখ। নাহ! এটা শুধুই ঝিলমিলের বিভ্রম! তবে এটা বুঝতে পেরেও মেয়েটার ভয় কাটল না। বিভ্রম হলেও, লোকটার এমন করতে কতক্ষণ? বিশ্বাস নেই। অদৃশ্য ভয়াল চাবুকের প্রহারে থরথর করে কাঁপছে ঝিলমিল। মৃত্যুর সেই ক্ষণিক বিভ্রম কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঝিলমিল আ”তঙ্কে শক্ত এক ঢোক গিলল। বেঁচে থাকার তাড়নায় নিজের সমস্ত শক্তি এক করে হাঁটু দিয়ে সজোরে ধা”ক্কা মারল বারিশের কায়ায়।
আকস্মিক ধা”ক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে হেলে পড়ল বারিশ। সেই ক্ষণিক সুযোগেই ঝিলমিল বিছানা থেকে ছিটকে উঠল। দেহের উপরিভাগে কেবল ভেজা ব্লাউজ আর নিম্নাংশে পেটিকোটের স্বল্প আবরণটুকু আগলেই উন্মাদের মতো দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।
কিন্তু পিছু ছাড়ল না আতঙ্ক। পেছনে তাকাতেই ঝিলমিলের চোখ আটকে গেল হাতে শাণিত চাকু নিয়ে ধীর, অবিচল পায়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে বারিশ। হিংস্র সেই কায়ামূর্তিকে চাকু সমেত ধেয়ে আসতে দেখে ভয়ে হাড় হিম হয়ে এলো ঝিলমিলের। দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে সে সোজা গিয়ে আশ্রয় নিল পাশের আরেকটা রুমে। দরজা আটকে দেওয়ার আগেই বারিশ খপ করে ঝিলমিলকে ধরে দরজা লাগিয়ে দেয়। মেয়েটাকে এক সেকেন্ড সময় না দিয়ে তার বাম হাত পেছনের দিকে মুচড়ে ধরে চাকুটা এক টানে নামিয়ে আনল তার মেদহীন পিঠের ওপর। নিখুঁত ধাতব ছোঁয়ায় যেন ত্বকের উপরিভাগে বি”ষাক্ত চির কে”টে গেল।
​— আআ”আআহ!
​ঝিলমিল এবার সত্যি সত্যিই চিৎকার করে উঠল। ভয়ে আর যন্ত্রণার আশঙ্কায় বন্ধ করে ফেলল নেত্রকপাট। কিন্তু র”ক্তক্ষরণ বা মাংস কা”টার কোনো য”ন্ত্রণাদায়ক প্রহার সে অনুভব করল না। থমথমে ঘরটিতে দুটো শুধু মানবদেহের অবরুদ্ধ শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ, আর পর পর মেঝেতে কোনো ক্ষুদ্র বস্তু খসে পড়ার শুকনো শব্দ।
​এগুলো নিশ্চয়ই চা”কুর আঁচড়ে কেটে যাওয়া তার ব্লাউজের বোতামগুলো একে একে খুলে ঝরে পড়ছে নিচে! ​বারিশ কিশোরীর তপ্ত ঘাড়ের কাছে নিজের মুখমণ্ডল এনে করে হিমশীতল স্বরে উচ্চারণ করল,
​— ভয় পাচ্ছ কেন, সিয়েনা? আঘাত তো করিনি তোমায়।
​কাতর হয়ে নিজের অবশ হয়ে আসা হাত ছাড়ানোর শেষ চেষ্টা করে ফুঁপিয়ে উঠল ঝিলমিল,
​— বাহুতে ভীষণ য”ন্ত্রণা হচ্ছে, এবার ছাড়ুন আমায়! আগে আমার কথা শুনুন!
​এই আকুতিতে কান না দিয়ে বারিশ উন্মাদের মতো ঝিলমিলের গলার মসৃণ বাঁকে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল। চামড়ায় ঠোঁট চেপে ধরে হিং”স্র দন্তক্ষ”ত বসাল সে। একটার পর একটা উগ্র চু”ম্বন আর নির্দয় দাঁতের আ ঘা তে সে যেন নিজের বুকের সমস্ত ঈর্ষা ঢেলে দিতে লাগল স্ত্রীর ওপর। ক্রমাগত সেই আগ্রাসনে য”ন্ত্রণায় ঝিলমিল সামান্য আকুপাকু করতেই পিঠের খাঁজে ধরে রাখা ধারালো বস্তুটি আরো একটু গভীরে চেপে ধরে বলল,

​— আমার কাজে বাঁধা দিলে, মে”রে ফেলব!
লোকটার হিসহিসে সতর্কবাণীতে মুহূর্তেই কাঠ হয়ে গেল কিশোরী। নড়ল না, শব্দ করল না। শ্বাসটাও যেন নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। কেবল দাঁত চেপে চুপচাপ সহ্য করে নিচ্ছে স্বামীর দেওয়া মোহাবিষ্ট য”ন্ত্রণা।
কয়েক মুহূর্ত যেতেই ঝিলমিলের কান্নার ক্ষীণ শব্দ কানে আসতেই বারিশ নিজেকে সামান্য সংবরণ করে নিল। নিজের উ”গ্র আগ্রাসন থামিয়ে মুখ তুলে এনে ঝিলমিলের বাম হাতটা ছেড়ে দিয়ে আঙুলের আলতো স্পর্শে তার গাল বেয়ে নামা অশ্রুবিন্দু ছুঁয়ে শান্ত কণ্ঠে শুধাল,
— আজ কত ফোঁটা চোখের জল ফেলেছ আমার জন্য? পঁচিশ বারের বেশি?
ঝিলমিল স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। উত্তর দিল না।
— কী হলো, বলো? পঁচিশ ফোঁটার বেশি হবে না?
আবারও প্রশ্নটি ছুড়ে দিল বারিশ। ঝিলমিল এবারও নিশ্চুপ। এমন অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর সে দেবে কীভাবে? পৃথিবীর কোন মানুষ নিজের চোখের জল গুনে গুনে কাঁদে?
— সেদিন ক্লাসে বসে জারিফের জন্য তোমার দু’চোখ গড়িয়ে ঠিক পঁচিশ ফোঁটা জল পড়েছিল। আমার জন্য কি তার চেয়ে বেশি ঝরেনি?

কিশোরীর ভীত-সন্ত্রস্ত মুখশ্রীর ওপর এবার গাঢ় বিস্ময় ফুটে উঠল। বারিশের এই মাত্রাতিরিক্ত, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভের পেছনের আসল উৎসটা এবার কিছুটা অনুধাবন করতে পারছে সে। একে তো ফাহিম স্যার তার ওপর জারিফ! জারিফের কথা এই লোকটা তবে আগে থেকেই জানত? জানত বলেই তো সেদিন ক্লাসে জারিফের জন্য তার কান্নার প্রতিটা ফোঁটার হিসেব সে কড়ায়-গণ্ডায় তুলে রেখেছে!
সেদিন রেগে গিয়ে বারিশকে চ”ড় মেরে ঝিলমিল বলেছিল, জারিফের জন্যই সে বারিশকে বিয়ে করেছে। পুরোনো স্মৃতিগুলো এবার পাক খেতে লাগল তার বিভ্রান্ত মস্তিষ্কে।
— তুমি জারিফকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছ যে, ওর জন্য তুমি নিজের ইচ্ছায় আমায় বিয়ে করেছ। আমার সমস্ত হুকুম মেনে নিয়েছ! শুধু ওই ছেলের জন্য? যেখানে ফাহিমের একটা ক্লাসেও আমি তোমাকে বসতে দিতাম না, সেখানে তুমি ওর আঙুলে আংটি পরা বাগদত্তা হতে চলেছিলে! ইচ্ছে করছে আমার…

ঝিলমিল বারিশকে আবারও ধা”ক্কা মেরে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিল। কান্নায় চি”ৎকার করে বলে উঠল,
— এবার তো আপনার জন্যই আপনার কাছে ফিরে এসেছি! সবাইকে অমান্য করে, সব সম্পর্ক পেছনে ফেলে শুধু আপনার জন্য চলে এসেছি! তবুও কেন আমার সঙ্গে এমন করছেন? আর ফাহিম স্যারের কাছে তো আমি নিজ ইচ্ছায় যাইনি! সেদিন আমার আর কী-ই বা করার ছিল? এতই যখন রাগ হচ্ছিল আপনার, তবে সেদিনই ভয় দেখিয়ে টেনে নিয়ে আসতেন আমায়! আজ এভাবে কেন ভয় দেখাচ্ছেন? এখন তো আমার মনে হচ্ছে… আপনার সঙ্গে আসাই আমার ভুল…
বাক্যটি শেষ করতে পারল না ঝিলমিল। শেষ শব্দগুলো উচ্চারণ হতেই অন্ধকারের আলোছায়ায় লোকটার মুখের অবয়ব এক লহমায় বদলে গেল। চুপ হয়ে যাওয়ায় বারিশও কেমন এখন শান্ত হয়ে গেল। দুজনেই চুপচাপ দাড়িয়ে রইল।

বোতামগুলো কেটে নিচে পড়ে যাওয়ায় ব্লাউজের কাপড়টি একপাশে ঢিলে হয়ে নেমে আসতে শুরু করল। কাপড়ের একপাশে উন্মুক্ত হয়ে পড়ার অনুভূতি টের পেতেই তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি করে নিজেকে ঢেকে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করল কিশোরী। অভিমানে কেঁপে ওঠা গলায় বলে উঠল,
​— বোতামগুলোও খুলে দিয়েছেন! এখন আমি এটা গায়ে রাখব কীভাবে?
​বারিশ সরু চোখে থমকে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল মেয়েটাকে। ঝিলমিল যে লজ্জায় এভাবে নিজেকে জড়সড় হয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছে, সেই রূপের দর্শন তো বারিশ বহু আগেই লাভ করেছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে হাতের চা”কুটা মেঝেতে ফেলে এগিয়ে গিয়ে ঝিলমিলের পিঠে লেপ্টে থাকা চুলগুলো একপাশে সরিয়ে দিয়ে সেই উন্মুক্ত স্থানে ছোট ছোট চুমু বসিয়ে দিতে দিতে নিচু স্বরে বলল,

​— এদিকে ঘোরো।
​— না!
​​— বলো, আজ সারাদিন কতটুকু কেঁদেছ আমার জন্য?
​— এসব কি কেউ গুনে গুনে কাঁদে?
— না গুনে থাকলে আজ রাতভর বসে সেই হিসাবটাই মেলাতে হবে তোমাকে!
কথাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বারিশ এক টানে ঝিলমিলকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলগা হয়ে থাকা বস্ত্রটি পুরোপুরি শরীর থেকে সরিয়ে নিচে ফেলে দিল যুবক। আকস্মিক অনাবৃত হওয়ার আতঙ্কে শিউরে উঠে মুহূর্তের মধ্যে বারিশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মেয়েটা। আড়াল খুঁজতে নিজের শরীরটা লুকিয়ে ফেলতে চাইল লোকটার চওড়া বুকের গভীরে।
বারিশ নিচু হয়ে ঝিলমিলের ভিজে চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,
— লজ্জা পেও না, এ তো আমি আগেই দেখে ফেলেছি।
ঝিলমিল লোকটার বুকের ভেতর মুখ রেখেই বলল,

— মানে?
মেয়েটার হৃদপিণ্ডের দ্রুত দড়ফড়ানি লোকটার চওড়া বুকটাও কাঁপাচ্ছিল। যেন বাঁধভাঙা কোনো এক ঝড়ের কম্পন সংক্রামিত হচ্ছে বারিশের শরীরেও। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, ঝিলমিলের উন্মুক্ত পিঠে হাত রেখে গভীর কণ্ঠে বলল বারিশ,
— তুমি অনেক বড় অন্যায় করেছ, জাহান। হয় এবার জীবন দাও, নয়তো যৌবন দাও।
— একা পেয়ে ভয় দেখাচ্ছেন, তাই না?
ঝিলমিল বারিশের বুকের খাঁজে মুখ লুকিয়ে রেখেই অভিমানে ভিজে থাকা কণ্ঠে বলল। এ অভ্যাস তো বারিশের বেশ পুরোনো। মেয়েটা কী জানে কতগুলো রাত এমন মিথ্যা ভয় দেখিয়ে বারিশ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছে? বারিশ ঠোঁটের কোণে কুটিল হাসি ফুটিয়ে একদম কানের কাছে মুখ এনে নিচু স্বরে বলল,
— হ্যাঁ… আর চা”কুটাও আমার হাতের নাগালেই রাখা আছে।
ঝিলমিল চুপ হয়ে গেল। লোকটার চওড়া বুকের সাথে লেপ্টে থাকা তার ছোট্ট শরীরটা তখন থরথর করে কাঁপছে। বারিশ দু’হাতে তাকে শক্ত করে আগলে ধরে নিচু স্বরে বলল,
— কেন বড় হলে? আগের মতো ছোট থাকলে তো তোমার দিকে ফিরেও তাকাতাম না।
এবারও কোনো উত্তর দিল না ঝিলমিল। বারিশ ওর অনাবৃত ঘাড়ে ঠোঁট ঠেকিয়ে ফিসফিস করে উঠল,
— আজ দেখব কী এমন আছে তোমার মাঝে, যা আমার এত বছরের সিদ্ধান্তকে বদলে দিল।
— কীসের সিদ্ধান্ত?

ক্ষীণ স্বরে শুধাল ঝিলমিল। কিন্তু তার সেই প্রশ্নকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে এক ঝটকায় মেয়েটাকে বিশাল লাউঞ্জ সোফার ওপর ফেলে দিল বারিশ। পিঠ সোফায় ঠেকতেই ঝিলমিল আতঙ্কিত চোখে রুমটার চারপাশে নজর বোলাল। দেয়ালে জ্বলতে থাকা ডিম-লাইটের আবছা আলোয় যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, এটা একটা হোম থিয়েটার। ঘরের মাঝখানে বিশাল প্রজেক্টর স্ক্রিন ছাড়া আর কিছুই স্পষ্ট নয় আপাতত।
হঠাৎই প্রজেক্টরটা অন হয়ে গেল। ঝিলমিল অবাক চোখে তাকিয়ে দেখল, প্রজেক্টরের পর্দার মৃদু আলোয় বারিশ ধীরে ধীরে নিজের গায়ের শার্টের বোতামগুলো খুলছে আর মৃদু স্বরে গুনগুন করে গাইছে,
— তোমার মাঝে নামব আমি,
তোমার ভেতর ডুব।
তোমার মাঝে কাটব সাঁতার,
ভাসব আমি খুব।

একই গানটা প্রজেক্টর স্ক্রিনের স্পিকারেও গুঞ্জরিত হয়ে উঠল। বারিশ নিজের গায়ে থাকা শার্টটা ছুড়ে ফেলে দিল সোফার পাশে, তারপর ঝিলমিলের অনাবৃত শরীরের ওপর ঝুঁকিয়ে আনল নিজেকে। তপ্ত ঠোঁট দুটো ডুবিয়ে দিতে চাইল মেয়েটার ঠোঁটের গভীরে। কিন্তু নিজের মুখটা চকিতে অন্য পাশে সরিয়ে নিল ঝিলমিল।
তৎক্ষণাৎ এক হাত দিয়ে ঝিলমিলের চিবুকটা শক্ত করে নিজের দিকে ফিরিয়ে এনে ওর চোখে চোখ রেখে হিসহিসিয়ে উঠে বলল বারিশ,
— মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এই দুঃসাহস যেন আজ শেষবারের মতো হয়, সিয়েনা! আমার স্পর্শ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তোমার আর নেই!
ঝিলমিল অসহায়, জলভরা চোখে তাকিয়ে রইল বারিশের পানে। মেয়েটার চোখের সেই নিঃস্ব চাহনি দেখে মুহূর্তের জন্য বারিশের কণ্ঠস্বর খানিকটা নরম হয়ে এলো। ওর কপালে লেপ্টে থাকা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে নিচু ও কোমল স্বরে বলল,

— তোমাকে স্পর্শ করা আমার অধিকার, জাহান!
ঝিলমিল স্তব্ধ হয়ে বারিশের সেই বিশাল, সুগঠিত উন্মুক্ত শরীরের দিকে এক পলক তাকাল। তারপর ক্ষীণে কেঁপে ওঠা গলায় ফিসফিস করে বলল,
— আমি জানি, কিন্তু…
কথাটা শেষ করার অবকাশ দিল না বারিশ। একমুহূর্তেই বুনো এক উন্মাদনায় ঝাঁপিয়ে পড়ল ঝিলমিলের ওপর। ওর উত্তপ্ত, তৃষ্ণার্ত ঠোঁট জোড়া ক্ষিপ্র গতিতে মেতে উঠল মেয়েটার সর্বাঙ্গে। গলার গভীর খাঁজে, বুক আর পেটের উন্মুক্ত চামড়ায়, আর কাঁপতে থাকা ঠোঁটে। বারিশের উত্তপ্ত শ্বাসের তোড়ে ধসে পড়ল সপ্তদশীর সবটুকু প্রতিরোধ।
কিছুক্ষণ পর নিজের উন্মত্ততা সামান্য সামলে মুখ তুলে তাকাল বারিশ। দেখল, ঝিলমিল চোখ দুটো শক্ত করে বুজে রুদ্ধশ্বাসে জমে আছে। মেয়েটার সেই থরথর কম্পন দেখে বারিশ আবার স্ত্রীর ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে অতল স্পর্শে ফিসফিস করে উঠল,

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩১

— রিল্যাক্স, সিয়েনা… আই’ল বি সফট উইথ ইউ… একটুও কষ্ট হবে না। জাস্ট ব্রিথ, ওকে?
ঝিলমিল অস্ফুট এক কান্নার ভেজা জবাবে ধীরে ধীরে মাথা নাড়াল, ভরসায় দু’হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে নিল তার স্বামীকে।
ঘরের আবছা আঁধারে ব্যাকগ্রাউন্ডে তখনও সেই আবেশ জড়ানো গানটা একভাবে বেজে চলেছে। সেই মাতাল করা সুরের সাথে মিলিয়ে ধীরে ধীরে আরও গভীর থেকে গভীরে হারিয়ে গেল দুটো ক্ষুব্ধ, আকুল প্রাণ…মেয়েটার শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠল স্বামীর প্রতিটি রুক্ষ, তোলপাড় করা আছাড়ে। সব ভুলে সপ্তদশী ঝিলমিল আজ বারিশ নামক সর্বগ্রাসী ঝড়ের মাঝে নিজেকে একটু একটু করে বিলীন করে দিলো।

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here