Home শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯১

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯১

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯১
নূরজাহান আক্তার আলো

ধীরে ধীরে সময় গড়াতে লাগল। ড্রয়িরুম থেকে কান্নার শব্দ ক্ষীণ হতে হতে একেবারে মিলিয়ে গেল। শারাফাত চৌধুরী দেওয়ালে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছেন। উনার কোলের উপর ইয়াসিরের মাথা। উনি আলতো করে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। রক্তে ভিজে আছে ইয়াসিরের মাথার চুল। কপালের একপাশ দিয়ে বুলেট ফুঁড়ে আরেকপাশ দিয়ে বেরিয়েও গেছে। ক্ষতস্থান থেকে এখনো চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে। সেই রক্ত জমা হচ্ছে ঘাড়ের কাছে। ভিজে আছে সাদা কালারের টি-শার্ট। সাদাতে লাল রক্ত ফুটে উঠেছে। শারাফাত চৌধুরী নির্লিপ্ত চাহনিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আল্লাহর সৃষ্টি কতই না সুন্দর, কত যত্ন করে বানিয়েছে
উনার ছেলেটাকে। নীল চমৎকার দুটো চোখ, কত সুন্দর মুখের গড়ন।
ওর মা শখ করে নাম রেখেছিল ইয়াসির খান। চেয়েছিল মানুষের মতো মানুষ করতে। কিন্তু রাগ-জেদ ওকে পথভ্রষ্ট করল। বিপথে নিয়ে গেল। টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করল। তবুও উনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন ফিরিয়ে আনার কিন্তু সে তার জেদে অটল।

জেদ দেখাতে দেখাতে আজকের এই পরিণতি। সে যদি নিজেকে একটু শুধরাতে পারত তাহলে শেষটা এমন না হতেও পারত। উনার দুই হাতের উপর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে ইয়াসির। অথচ এই হাতটা উনার শক্তি হতো। বেঁচে থাকার আরেকটি অবলম্বন হতে পারত। কিন্তু হয় নি কারণ সে চায় নি! সে চেয়েছিল যত রকমের বাজে কাজ আছে নিজের মধ্যে আয়ত্ত করতে। করেছেও, তবে আগের তুলনায় অনেকটা শুধরে গেছে।
অনেক পরিবর্তন এনেছে নিজের মধ্যে। টাকার জন্য তৈরি করা সাম্রাজ্য নিজেই ধ্বংস করেছে। কিন্তু পারে নি শীতলের মায়া ত্যাগ করতে। আগে সে বিদেশী ব্র্যান্ডের মদ পান করলেও অন্য নেশাভান করত না। করলেও সীমিত! কিন্তু ইদানিং সেটার মাত্রা চারগুন বাড়িয়েছে। যেমন এখন তার
হাতে অসংখ্য সূচ ফুটানোর দাগ ফুটে উঠেছে। সেই দাগে একটি লেখাও ফুটে উঠেছে, ‘কেউ আমারে চাইল না।’ এটা কিছু দিয়ে পুড়িয়ে লিখেছে। পোড়ার দাগটা আরো দগদগে হয়ে উঠেছে৷ এটা যে ইচ্ছে করেই করেছে বুঝতে বাকি রইল না। ছেলেটা আজকাল নিজেকে কষ্ট দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। এতে কি শান্তি পায় কে জানে। এটা বোধহয় উনার উপরে রাগ করেছে। কারণ উনি জানেন, ইয়াসির উনার ওপর বড্ড বেশি অভিমান করেছে। মেরেছেন বিধায় অভিমানের মাত্রা বোধহয় একটু বেশিই ছিল। কিন্তু কি করবেন উনি? কি করার আছে? একবার শুদ্ধর বিরুদ্ধে গিয়ে শীতলের সঙ্গে দেখা করিয়েছিলেন। যার কারণে শুদ্ধর সঙ্গে মনমানিল্য হয়েছে। এখনো শুদ্ধ উনার সাথে ঠিকভাবে কথা বলে না। ডাকেও না। অথচ ইয়াসিরের কথা সে আবারও শীতলের সঙ্গে দেখা করবে। যদি না নিয়ে যান তবে পুলিশের কাছে ধরা দেবে। একদিকে শুদ্ধ আরেক দিকে ইয়াসির। কোন যাবেন উনি? যেদিকেই যান ছেলেরা উনাকে ভুল বুঝে।

নিয়ে যেতে রাজি না হওয়াতে সে কী রাগ! পরে দিশেহারা হয়ে শুদ্ধকে বলেছিলেন যেন শেষবার মতো অনুমতি দেয় কিন্তু শুদ্ধ তাও দেয় নি।
বরং স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল ধরেবেঁধে ইয়াসিরের বিয়ে করিয়ে দেন। দায়িত্ব ঘাড়ে পড়লে শুধরে যেতে পারে। নতুবা এভাবে চলতে থাকলে না নিজে ভালো থাকবে আর না তাদেরকে ভালো থাকতে দেবে। এছাড়াও যা করে বেড়ায় তাতে তাদের বিপদ বাড়ে বৈ কমে না। চৌধুরী বাড়ির যে ক্ষতি করেছে ভাই ডেকে বুকে টানাও সম্ভব নয়। না কখনো একাজ কেউ করবে। শুদ্ধ আগেই বলেছে উনি নাকি ইয়াসিরকে নিজের কাছে রাখতে পারেন। এতে তার আপত্তি নেই তবে সে আর শীতল একবাড়িতে থাকবে না। থাকা সম্ভব না। প্রয়োজন হলে শীতলের জামিনের পরপরই বাইরের দেশে চলে যাবে। ওখানে ছোট্ট একটি সংসার গড়বে। দুটিতে দিব্যি দিন কেটে যাবে। কিন্তু এখন যা হচ্ছে সেটা আর চলতে দেওয়া যাবে না। না মানে না! ইদানিং তার ধৈর্যও কমে এসেছে, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কে কার সেটা দেখবে না। মানবে না সম্পর্কের ধার। ঠিক এভাবেই শেষবার ওয়ার্নিং ও দিয়েছিল। উনিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইয়াসিরকে জোর করে হলেও বিয়ে করাবেন। শেষ চেষ্টা করবেন। দু’একটা মেয়েও দেখেছেন।
কিন্তু ইয়াসিরের একই কথা বিয়ে করবে না। আর না শীতলকে ভাইয়ের বউ হিসেবে কখনো মানতে পারবে। কতবার বুঝানোর পরও শোনে নি,
বরং পুনরায় আবদার রাখে পুনরায় শীতলের সাথে দেখা করতে যাবে। তার এই জেদের কারণে উনি সেদিন ইয়াসিরকে থাপ্পড়ও মেরেছিলেন। চিৎকার করে বলেছিলেন,

_’তোমার জন্য আমাকে আর কত হেনস্তা হতে হবে? আর কত জ্বালাবে আমায়? তোমার কারণে আমার ছেলেটাও আমার সাথে কথা বলে না, সিতারা মুখ ফিরিয়ে রাখে। কবে নিজের ভালোটা বুঝবে ইয়াসির? কবে একটু শান্তি দিবে আমায়? দোহায় লাগে এবার মুক্তি দাও,,বিয়েটা করে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নাও। এভাবে বাঁচা যায় না। এটাকে বাঁচা বলে না।’
থাপ্পড় খেয়ে একটা কথাও বলে নি সেদিন। তারপর ফোন করলে ধরে না। কথা বলে না। নিজেকে একেবারে রুমবন্দী করে ফেলেছিল। পুলিশ কিভাবে যেন তার এই ঠিকানা পেয়েছিল পরে কত কদরত করে পালিয়ে বেঁচেছিল। সেই সঙ্গে আরেকদফা ভেঙে চুরে গিয়েছিল। বাঁচার আশাও ছেড়ে দিয়েছিল। কয়েকদিন যাবৎ একটানা নেশা করেছে, কোনোভাবে তাকে থামানো যাচ্ছিল না। সহকারী থামাতে গেলে তাকেও মেরে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল। নেশার চটে নাম মুখ দিয়ে গলগলিয়ে রক্ত আসত। বিগত দিনগুলো এভাবে কাটলেও আজ সারাদিন নাকি শান্ত ছিল। শীতলের রায় শোনার পরেই উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। রুমে যা ছিল ভেঙে চুরমার করেছে। শক্ত দেওয়ালে মাথা বারি দেওয়ায় মাথা ফেটে একাকার অবস্থা। পরে সহকারী ছেলেটা সামলাতে না পেরে উনাকে কল করেছিল। উনি এসে দেখেন নেশা করে মেঝেতে পড়ে আছে। দেহে যেন প্রাণ নেই। মেঝেতে অসংখ্য নেশাদ্রব্য। অসংখ্য সিরিঞ্জ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রুমে তাজা রক্তের গন্ধ। কিন্তু রক্ত এলো কোথা থেকে? রক্তের উৎস খুঁজতেই দেখতে পেলেন ইয়াসিরের হাতের মাংস থেতলে বুলেট গেঁথে আছে। উনি ধরতে গেলে ছিঁটকে সরে গেল ছেলেটা। উনার থেকে দুহাত দূরে সরে বসল। শারাফাত চৌধুরী টলতে ঢুলতে থাকা ইয়াসিরকে বললেন,

_’ কেন নিজের জীবনটা ধ্বংস করছো? কি মজা পাচ্ছো এতে, হুম? আর কত নিজের ক্ষতি করবে? আমার কথা শোনো, জীবনকে একটা সুযোগ দাও। আমি কথা দিচ্ছি, শীতলের থেকে ভালো মেয়ে এনে দেব, আরো সুন্দরী, সংসারী মেয়ে এনে দেব।’
_’লাগবে না। ওই নাকবোচা, চঞ্চল মেয়েটা আমার মনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। এখন বিশ্ব সুন্দরীকেও আর মনে ধরবে না। তাছাড়া যে সুখ নিজের হাতে নষ্ট করেছি সেই সুখের আফসোস করে লাভ নেই।’
একথা বলে মৃদ হেসে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তার নীল চোখের কোণা বেয়ে ঝরে যাচ্ছে নোনানজল। আচ্ছা সে কি আফসোস করছে?
অনুতাপে ডুবছে? নতুবা তার চোখে জল কেন? হাত থেকে তখনো রক্ত ঝরছে। উনি আবারও ধরতে গেলে হাত সরিয়ে নিলেন। নেশার চোটে খুব একটা ব্যথা উপলব্ধি করতে পারছে না। বুলেট বের করা দরকার? থাকুক না, বের করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। শারাফাত চৌধুরী তার কান্ডে বাকহারা হয়ে তাকিয়ে আছেন। তখন উনাকে আরেকদফা অবাক করে দিয়ে ইয়াসির হাতের কাছে তার পিস্তল তুলে কপালের বাম
দিকে ঠেকাল। শারাফাত চৌধুরী টু শব্দ করার আগে তার কপাল ফুঁড়ে একটা বুলেট গেঁথে গেল। বুকে জমা কথাটুকু বুকেই রইল আর উচ্চারণ করা হলো না। বলা হলো না,

_’আমি আমার মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি, বাবা। আমার দুঃখ ফুরানোর আগে আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি। জানো বাবা? আমার মৃত্যুর সংবাদে কেউ হাসবে। কেউ খুশি হবে। কেউ হাসিমুখে বলবে, ‘আপদ বিদায়।’ অথচ আমি খুব করে চাই কেউ আমার মৃত্যুর সংবাদে কেউ কাঁদুক। আমার চাওয়াটুকু কি অনেক বেশি দুর্লভ বাবা? আমার জন্য একটু কাঁদা যায় না?’
পুরো ঘটনা এত দ্রুত ঘটল উনি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। বাধা দেওয়া, বারণ করার আগেই ভয়ংকর কিছু ঘটে গেছে। যখন বুঝলেন
দ্রুত ইয়াসিরকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। বিলাপ করতে লাগলেন। ইয়াসির ততক্ষণে একেবারে থমকে গেছে। নিভু নিভু চোখে দেখছে বাবা না ডাকা মানুষটার আর্তনাদ। মানুষটা তার জন্য ভালো থাকতে পারছে না। শুধু তার কারণেই এত ঝামেলা। না ছাড়তে পারে, না দায়িত্ব এড়াতে পারে।

অবশেষে মুক্তি! চিরমুক্তি! এই মুক্তিতে এবার অন্তত ভালো থাক, সুখে থাক। ইয়াসির যখন থমকে গেল তখন শারাফাত চৌধুরী চিৎকার করে সহকারীকে ডাকল। সে ছুটে আসতেই দুজনে মিলে কোনোমতে গাড়িতে উঠাল। বাইরে তখনো ঝড়-বৃষ্টি। তবুও তোয়াক্কা না করে ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে গিয়ে আরেকটা গাড়ির মুখোমুখি হয়ে গেল। সেই গাড়ির পেছনেই ছিল অর্কদের গাড়ি। পরিচিত গাড়ি দেখে রুবাব খেয়াল করে দেখে এটা শারাফাত চৌধুরীর গাড়ি। এরপর ইয়াসিরের নার্ভ চেক করে না বোধক মাথা নাড়ায় শখ। শারাফাত চৌধুরী বারবার দেখতে বলেন কিন্তু বারবার দেখলে কি আর মৃত মানুষ জীবিত হয়? হয় না! অতঃপর তাকে আনা হয় চৌধুরী নিবাসে। এর পরের ঘটনাটুকু তো সবারই জানা।

কিন্তু কেউ এটা জানল না ইয়াসির আসলে কেন এটা করল? কেন ভুল সিদ্ধান্ত নিলো? আসলে সে আজ এটাও জেনেছে শীতলের এক বছরের সাজার পেছনে সেও সূক্ষ্মভাবে দায়ী। যেটা তার পক্ষে মানা সম্ভব ছিল না।
রাত বাড়ছে নিজ নিয়মে। বৃষ্টিও থেমেছে। এর কিছুক্ষণ পর ভিজেপুরে শুদ্ধ, সায়ন একসাথে বাড়িতে ফিরল। এতক্ষণ কোথায় ছিল? কেনই বা ছিল জিজ্ঞাসা করার মতো অবস্থায় নেই কেউ। তাদের দৃষ্টি বাবার দিকে নিবদ্ধ। ওই ভঙ্গুর মানুষটা যেন অচেনা। দেখে নিও কখনো। ছেলেহারা বাবাদের অবস্থা বুঝি এমনই হয়। পরিস্থিতি এমন এতদিন পর ছেলেকে দেখেও সিতারা বুকে জড়াতে পারলেন না। বাবা আরেক ছেলেকে বুকে টানতে পারলেন না, চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষায় থাকা স্ত্রীকে দেখেও নীরব থাকতে হলো। সায়ন দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না বসে পড়ল। শুদ্ধ সোফার কুশন ঠিকঠাক করে তাকে আরাম করে শোয়ার ব্যবস্থা করল।
যদিও এখনো ঠিকঠাকভাবে হাঁটতে পারে না, সময় লাগবে পাজোড়া ঠিক হতে। এছাড়াও তার কাঁধে, পিঠে, বাহুতে এখনো ক্ষত যা সারে নি।
আরো রেস্ট প্রয়োজন। রাত বাড়ছে। ছেলেরাও এসে গেছে দেখে এবার শারাফাত চৌধুরী মুখ তুলে তাকালেন। একটু ঝিম মেরে থেকে নিশ্চুপ থেকে সিতারাকে বললেন,

_’তোমাকে একদিন বলেছিলাম, ‘চৌধুরী নিবাস’ হচ্ছে ফুলের বাগান। আর বাড়ির প্রতিটা সদস্য হচ্ছে সেই বাগানের প্রিয়ফুল। তুমি এতদিন
নিজের মতো করে বাগানের যত্ন করে করেছো, ফুল ফুটিয়েছো, এটা তোমার সংসার, তোমার পরিবার, আমি তোমার মতো সংসার বুঝি না। তবে আজকে তোমার ফুলের বাগানের একটু অংশ আমাকে দাও, ধরে নাও একটি বিষকাঁটা পুতব। এটা নামেই বিষকাঁটা, বিষ ছড়ানোর শক্তি নেই তার। দাও না সিতারা। কথা দিচ্ছি, আর কখনো এমন দাবি রাখব না। আসলে ওর এনকাউন্টান জারি করা। পুলিশ যেখানেই দেখবে গুলি করবে। দেহটাকে কাঁটাছেড়া করবে কিংবা দুবাই পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আমি চাচ্ছি আমার কাছেই ওকে লুকিয়ে রাখতে। এখন দেহে প্রাণ নেই আর চাইলেও কারো ক্ষতি করতে পারবে না।’
স্বামীর কথা শুনে সিতারা ঝরঝর করে কাঁদলেও শুদ্ধ, রুবাবসহ আরো বাকি ছেলেদের উদ্দেশ্যে আদেশ দিলেন শারাফাত চৌধুরীকে সাহায্য করার জন্য। অতঃপর বাগানে বরই পাতা আর গরম জলে ইয়াসিরকে গোসল করানো হলো। পরিচিত ইমাম এনে সাদা কাফনে মুড়ানো হলো।
তারপর বাগানের এক কোণে উপস্থিত কয়েকজনের মাধ্যমে ইয়াসিরের দাফন সম্পূর্ন হলো। সমাপ্ত হলো এক পাপিষ্ঠ পুরুষের জীবন কাহিনি।
বাগানের এককোণে দাফন করে সবাই একে একে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। সায়ন একা উঠতে, হাঁটতে পারে না দেখে জানাযাতে শরীক হতে পারে নি। শুদ্ধ ফিরে আসার জন্য পিছু ঘুরবে তখনই শারাফাত চৌধুরী বললেন,

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯০

_’ মৃত মানুষের উপর রাগ পুষে রাখতে নেই। পারলে মাফ করে দাও।’
_’আমার সন্তানের পাশে তোমার সন্তানকে ঠাঁই দিয়েছে আর কি চাও?’
একথা বলে শুদ্ধও আর দাঁড়াল না। শারাফাত চৌধুরী এতক্ষণে খেয়াল করলেন শুদ্ধ-শীতলের মৃত সন্তানের পাশে ইয়াসিরের কবর। অবাকও হলেন আবার খুশিও হলেন। যাক অভাগার একদিকে তো ঠাঁই মিলল।

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯২

9 COMMENTS

  1. Apu apnar ei uponnash ta sotti osadharon …sotti eta charte pari na tai deri holeo.. Pori.. Pls next taratari deben ☺️

Comments are closed.