Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ২৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৭
সুমাইয়া ইসলাম নূর

রাতটা আজ কেমন অদ্ভুত শান্ত।
বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ শব্দ তুলছে। দূরের আকাশে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চিকচিক করছে, আবার সব নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে।
চৌধুরী বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে ডুবে… শুধু ইনায়ার চোখে ঘুম নেই।
বালিশে মুখ গুঁজে ফোনটা বুকের কাছে ধরে অপেক্ষা করছে সে তার শেহেজাদার জন্য।
হঠাৎ স্ক্রিনে ইউভির মুখ ভেসে উঠতেই ইনায়ার ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।
ইউভি কিছু না বলে রান্নাঘরের একপাশ থেকে গিটারটা হাতে তুলে নিল।
হালকা এলোমেলো চুলে কালো টি-শার্ট এ বড্ড মায়াবী লাগছে ইউভি কে মন ভরে দেখছে ইনায়া।
এই দিকে ইউভি চোখভরা শান্তি নিয়ে শুধু তাকিয়ে আছে তার আদরের দিকে।
এইদিকে ইনায়া চুপচাপ বালিশ জড়িয়ে শুয়ে ভাবছে আজ আমি তোমাকে দিয়ে। ভালোবাসি বলিয়েই ছাড়বো।আমার অসভ্য শেহেজাদা।

ইউভি গিটারের তারে আলতো টুংটাং শব্দ তুলে বলল তুইও আমার সাথে গান বলবি… আমিও মনটাকে একটু শান্তি দেই। তোর ওই মিষ্টি কণ্ঠটা কতদিন শুনি না আদর।
ইনায়া যেন এই কথাটার অপেক্ষাতেই ছিল।
সাথে সাথে হালকা হেসে বলল—
গান তো ছোটবেলায় আপনি শিখাতেন।
ইউভি কিছুক্ষণ চুপ করে ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল তোর ছোটবেলার কথা সব মনে আছে আদর ইনায়া মলিন হেসে বলল—
সব না… একটু একটু মনে আছে।
ইউভি হঠাৎ বলল আমরা গ্রামে গেছিলাম একটা বিয়ের প্রোগ্রামে ওইটা মনে আছে তোর?”
ইনায়া মাথা নেড়ে বলল না তো ইউভি ভাইয়া।
ইউভি দাঁত কিরমির করে বলল—
তোর মনে রাখা লাগবে না। যা! সর… গানের mood টাই দুচে দিলো সালি বিয়াদোপ বউ।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল কিছু বললেন?”

“না।
বল কোন গান শুনবি?”
ইনায়া বালিশ জড়িয়ে মিষ্টি হেসে বলল—
আপনি ভালোবেসে যেইটা গাইবেন… ওইটাই ললোশুনবো।”
ইউভি সাথে সাথে বলল তোকে কে ভালোবাসে? আমি কাউকে ভালোবাসি না। চাচির বেটি হয়ে একটা আবদার করছিস তাই পূরণ করতে আসলাম। তুই শুরু কর।
ইউভি গিটারে টুংটাং শব্দ তুলতেই ইনায়া ধীরে ধীরে গান শুরু করল—
“এতো দিনে পেয়েছি যে আমি সেই তোমারি দেখা…”
ইউভি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে গেয়ে উঠল—
“হারাতে দেবো না তোমায় আসুক যত বাধা…”
ইনায়া চোখ বন্ধ করে গাইতে লাগল—
“যতনে রেখেছি তোমায় মনেরই মণিকোঠায় কখনো ভুলো না আমায়…”
ইউভি নিচু গলায়—

“ভালোবাসি তোমায়… ভালোবেসে যাবো
জনমে ও জনম তোমার সাথী হবো…”
ইনায়াও হেসে হেসে গাইল—
“ভালোবাসি তোমায়… ভালোবেসে যাবো
জনমে ও জনম তোমার সাথী হবো…”
গান শেষ হতেই ইনায়া খিলখিল করে হেসে উঠল।
হাসতে হাসতে বালিশে মুখ গুঁজে ফেলল সে।
আর ইউভি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
কী মায়াবী হাসি…
ইনায়া হাসতে হাসতেই বলল—
“কি মিস্টার চৌধুরী… last এর লাইনটা আরেকবার বলবেন?
ইউভি কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে রইল ইনায়ার দিকে।
তারপর ছোট্ট করে হেসে দিল।
ইনায়া মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। মনে মনে বলল—
একটা মানুষ হাসলে এত সুন্দর লাগে আগে জানতাম না ইসস ভাবতেই কেমন লাগে এই মানুষটা শুধু আমার হাই আল্লাহ একটা মানুষ সবদিক দিয়ে এত perfect হয় কেমনে।
ইউভি হালকা গলায় বলল—

“Sweetheart… just একটা গানের line ছিল বুঝছো? আমি কাও কে ভালোবাসি না
ইনায়া সাথে সাথে বলল আমি তো অন্য কারো কথা বলি নাই চাচির ছেলে… আমি তো আমার কথাই বলছি।
ইউভি হেসে মাথা নাড়ল পাকনামি কম কর।”
এরপর ইনায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলল—
Do you love me ইউভি ভাইয়া?
ইউভি ঠোঁট কামড়ে বলল—
“No.”
ইনায়া মলিন হেসে বলল—
“জানেন… আপনার মুখ থেকে একবার ভালোবাসি শুনার অনেক ইচ্ছা আমার বলেন না।
তারপর আস্তে বলল আপনি তো আমার সব ইচ্ছাই পূরণ করেন এইটাও করেন না? বড্ড শুনতে ইচ্ছা করছে যে আমি আপনার।
ইউভি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ওইসব আমি পারবো না। তবে তোকে কথা দিচ্ছি… দেশে এসেই আগে তোকে ১০০ kiss দিবো যা ডিল final।
ইনায়া সাথে সাথে বলল—
ওই শেহেজাদা…
হুম বল।

Oh shit আদর! পরে কথা বলবো। ঘুমা অসভ্য। আমাকে packing করতে হবে।
ইনায়া অবাক হয়ে বলল—
কেন?
ইউভি রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল—
সব কিছু এলোমেলো হয়ে আছে এই জন্য।
ok sweetheart… ready থাকিস। heart attack করার জন্য।
কিহহ? কেন? আমি heart attack করবো কেন? কী বাল বলেন! ইউভি ফোনের খুব কাছে এসে নিচু গলায় বলল।
“আমার ছোঁয়া তুই সহ্য করতে পারবি না। তোকে ছোয়ার সময় যে পরিমাণ যন্ত্রণা দিবো তোকে… তুই সহ্য করতে পারবি না এই জন্য করতে ও পারিস হার্ট অ্যাটাক। এই বলে ইউভি সাথে সাথে ফোন কেটে দিল।
আর এই দিকে ইউভি কে হাজার টা গালি দিল লুচ্চা সালা জুটছে একটা কপাল এ বালের কপাল হলে যা হয় আর কি।

সকালের প্রকৃতিটা আজ ভীষণ শান্ত আর মায়াময়।
সারারাতের বৃষ্টির পর পুরো চারপাশ যেন ধুয়ে-মুছে একদম সতেজ হয়ে উঠেছে।
চৌধুরী বাড়ির বাগানের ঘাসে ছোট ছোট শিশিরবিন্দু জমে আছে।
হালকা রোদ মেঘের ফাঁক দিয়ে এসে সেই পানির ফোঁটাগুলোতে পড়তেই চিকচিক করে উঠছে চারপাশ।
দূরে কোথাও কোকিলের ডাক ভেসে আসছে…
বাগানের আমগাছগুলো হালকা বাতাসে দুলছে ধীরে ধীরে।ভেজা মাটির গন্ধে পুরো পরিবেশটা কেমন নরম আর শান্ত লাগছে।
বারান্দার রেলিংয়ে এখনও বৃষ্টির পানি জমে আছে।
মাঝে মাঝে ফোঁটা ফোঁটা পানি নিচে পড়ে “টুপ… টুপ…” শব্দ তুলছে।
রান্নাঘরের দিক থেকে ভেসে আসছে গরম পরোটার ঘ্রাণ… সাথে চায়ের মিষ্টি গন্ধ।
পুরো বাড়িটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে নতুন দিনের কোলাহলে।
সকালের চৌধুরী বাড়িটা আজ একদম জমজমাট।

বাড়িতে নতুন জামাই এসেছে— তাই বাড়ির গিন্নিদের যেন দম ফেলারও সময় নেই।
রান্নাঘরে রেসমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী,সবাই রান্না নিয়ে ব্যস্ত।
আজকে বাড়ির হেল্পিং হ্যান্ড দের অবস্থাও খারাপ।
কেউ সবজি কাটছে… কেউ টেবিল সাজাচ্ছে… কেউ আবার বারবার চা নিয়ে দৌড়াচ্ছে। এইদিকে—
লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী আর রেদোয়ান নাস্তার টেবিলে বসে খাচ্ছে।
মোস্তাক চৌধুরীও নাস্তা করছেন। খেতে খেতেই বললেন—
“শোন লিখন… আমি এখন চলে যাবো। তোরা কাল সকাল সকাল চলে আসিস কেমন? বাড়ি গিয়ে লোক দিয়ে সব পরিষ্কার করতে হবে। আমার বাড়িটা আবার আগের মতো পরিপূর্ণ হয়ে যাবে…লিখন চৌধুরী মুচকি হেসে বললেন—
ঠিক আছে চাচা। তারপর বললেন আপনি গাড়ি নিয়ে আসছেন তো? মোস্তাক চৌধুরী মাথা নেড়ে বললেন—

“হ্যাঁ নিয়ে আসছি। আর তুমি চিন্তা করো না আমি সাবধানে চলে যাবো।
ঠিক তখনই—
ইনায়া আর পিয়াসা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল
কে কোথায় যাবে বাবা?
রাতিব চৌধুরী হেসে বললেন—
তোমাদের ছোট দাদু এখন চলে যাবে। আর আমরা কাল সকালে রওনা হবো।
ইনায়া আর পিয়াসা একসাথে চিৎকার করে উঠল—
Like seriously? আমরা যাচ্ছি?
সাথে সাথে রিদ, আয়াত, আতিকা দৌড়ে এসে চিৎকার দিল আমরা দাদুবাড়ি যাবোওও! কত মজা হবে!
ঠিক তখনই—
রিমঝিম আর রাশেদ মির্জাও নিচে নামল।
রিমঝিম একটা সাদা থ্রি-পিস পরে আছে। মাথায় এমনভাবে ঘোমটা দিয়েছে যেন নতুন নতুন শ্বশুরবাড়ি আসা বউ।
যে মেয়ে সবসময় western dress পরে… CID join করার পর যাকে কেউ ঠিকমতো থ্রি-পিস পরতেই দেখে নাই— আজ সে পুরো লাজুক বউ সাজ ঘুরছে।

রাশেদ মির্জা গিয়ে লিখন চৌধুরীর পাশে বসল।
চারজনে মিলে business নিয়ে কথা বলছে।
লিখন চৌধুরী বললেন—
শোন রেদোয়ান… আজকের মধ্যেই কাজ complete করে ফেলো। আগামী তিন দিনের জন্য আমরা সবাই ছুটিতে থাকবো। বাচ্চাদেরও শুক্র-শনি দুইদিন স্কুল বন্ধ। আর দুইটা দিন extra ছুটি নিবো। মোট চারদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি যাবো।
রেদোয়ান মাথা নেড়ে বলল Okay বড় আব্বু। কথা বলতে বলতেও আড়চোখে বারবার পিয়াসার দিকে তাকাচ্ছে রেদোয়ান পিয়াসাও তাকিয়েছিল।
হঠাৎ দুজনের চোখে চোখ পড়তেই—
লজ্জায় পিয়াসা মাথা নিচু করে ফেলল।
এইদিকে—
ইনায়া দুজনের অবস্থা দেখে মনে মনে হাসছে।

“ইসস… কী সুন্দর মুহূর্ত। আর আমার বালের শেহেজাদা বিদেশে বসে আছে।আনরোমান্টিক নিরামিষ একটা।
হঠাৎই ইউভির রাতের কথা মনে পড়ে গেল—
আমার ছোঁয়া তুই সহ্য করতে পারবি না।
ব্যাস!
ইনায়ার গা শিউরে উঠল।
না না আমার শেহেজাদা বড্ড রোমান্টিক নিরামিষ বলবো না শালা জিনিস একটা
তারপর নিজেই মনে মনে বলল।
তওবা তওবা
কিন্তু পরের সেকেন্ডেই আবার কল্পনায় হারিয়ে গেল। ইসস… কত রোমান্টিক জামাই আমার।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই অফিসে চলে গেল।
রিদ, আয়াত, আতিকা স্কুলে গেলেও আজ ছুটি নিয়ে আসবে। আগামী চারদিন তারা স্কুলে যাবে না— এই খুশিতে তিনজন লাফাতে লাফাতে বের হলো।
আর এইদিকে—

চৌধুরী বাড়ির দুই জাওয়া ইনায়া আর পিয়াসা কলেজে যাবে না। কারণ তাদের বই-খাতা এখনো ভেজা।ড্রইংরুমের বড় সোফায় গোল হয়ে বসে আছে বাড়ির গিন্নিরা।
রিমঝিম এখনো মাথার ঘোমটা খুলছে না।
পিয়াসা চোখ ছোট করে বলল—
ফুপি মনি এত লজ্জা কিসের বলো তো শ্বশুরবাড়ি না তুমি তো বাবার বাড়ি।
রিমঝিম সঙ্গে সঙ্গে ঘোমটা আরও টেনে দিল।
ইনায়া সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলল।না না… ঘটনা অন্য কিছু।
এই বলে হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে রিমঝিমের ঘোমটা টান দিয়ে সরিয়ে দিল।
ব্যাস! গলার একপাশে বড়সড় love bite দেখে পুরো রুম এর সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠল
রিমঝিম লজ্জায় সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে গলা ঢেকে ফেলল।
পিয়াসা সোফা থেকে পড়ে যেতে যেতে বলল—
ইয়া আল্লাহ! রাশেদ মির্জা তো CID না vampire!
নুসরাত চৌধুরী মুখ চেপে হাসছেন।
রেসমা চৌধুরী বললেন—
এই বয়সে আমরা এত বেয়াদব ছিলাম না রে!
ইনায়া নাটকীয়ভাবে বুক চাপড়ে বলল—
বেবিরা আমরা আজ অনেক কিছু শিখলাম।
রিমঝিম লজ্জায় বালিশ ছুড়ে মারল—
চুপ হারামির দল! আর এইদিকে—

পিয়াসা, ইনায়া, রেসমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী সবাই হাসতে হাসতে একেবারে লুটোপুটি খাচ্ছে।
রেসমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী, সাবিহা চৌধুরী আর রিমঝিম মিলে ড্রইংরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এইদিকে ইনায়া আর পিয়াসা পাশের সোফায় বসে নিজেদের মধ্যেই গল্প করছে।
ঠিক তখনই— তুবার মা নাতাশা এহসানের ফোন আসলো। রেসমা চৌধুরী কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নাতাশা এহসান বলে উঠলেন।
আপা! আমার শয়তানের মতো কি আপনাদের দুইটাও কাল বৃষ্টিতে ভিজে বইখাতা হালুয়া বানাইছে?
নুসরাত চৌধুরী যেন কথা বলার সুযোগই খুঁজছিলেন। সাথে সাথে বলে উঠলেন— “কি আর বলবো নাতাশা! ওই জানোয়ার দুইটার জন্য পাগল হয়ে গেলাম। বাড়ির বাচ্চারা আর কী জ্বালাই আমাদের… এই দুইটা দিন দিন মাথা খারাপ করে দিচ্ছে।
নাতাশা আহসান হেসে বললেন— “তাহলে বুঝেন অবস্থা! তুবা তো বাসায় এসে কাঁদো কাঁদো গলায় বলতেছে— বইগুলা শহীদ হইয়া গেছে!

ব্যাস! পুরো রুমে হাসির রোল পড়ে গেল।
আর এইদিকে। পিয়াসা আর ইনায়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো এই তো সুযোগ বেবি এই বলে উঠে এসে রেসমা চৌধুরীর পা জড়িয়ে ধরল।
ও বড় মা আর একবার ফোন দাও না প্লিজ!” কাল তুবাকে আমাদের সাথে যেতে দিতে বলো না…” “তুমি বললে আন্টি না করবে না।
পিয়াসা আবার নুসরাত চৌধুরীর এক পা ধরে নাটকীয় গলায় বলল ও মা… বলো না প্লিজ! আমরা খুব ভালো মেয়ে হয়ে থাকবো।
নুসরাত চৌধুরী চোখ বড় বড় করে বললেন— “হারা**মির বাচ্চা! তোরা ভালো হয়ে থাকলে আমি ভয় পাই।
রেসমা চৌধুরী দুই জানোয়ারের নাটক দেখে শেষমেশ আবার ফোন করলেন নাতাশা এহসানকে। অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে অবশেষে রাজি করালেন।
ফোন কাটতেই ইনায়া আর পিয়াসা চোখ মুছার ভান করে বলল থ্যাংক ইউ মম।
রেসমা চৌধুরী মাথায় হাত দিয়ে বললেন দেখ রিমঝিম… তোদের আসকারায় এরা কত বড় নাটকবাজ হইছে। শুধু দেখ একবার!”

রিমঝিম হাসতে হাসতে বলল এরা জন্মগত অভিনেত্রী ভাবি।
ব্যাস! এরপরই দুই জানোয়ার ফোন নিয়ে তুবার সাথে planning শুরু করে দিল।
কোন dress নিবে ছবি তুলবো হাজারটা! আর গ্রামের পুকুরপাড়ে reel বানাবো!
এইসব প্ল্যান করতে করতে দুজন শেষে একসাথে বড় করে নিঃশ্বাস ফেলল—
যাক বাবা… সব কিছু সামলাইতে পারছি।
ইনায়া সোফায় হেলান দিয়ে বলল এখন একটা কফি হলে ভালো হতো।
পিয়াসা চোখ টিপে বলল চল বেবি মার মাথা গরম আছে। আমরা cappuccino বানাইয়া একটু ঠান্ডা করি। সবার জন্য বানাবো… নিজের হাতে।
ইনায়া সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে বলল।আজ চৌধুরী বাড়ির দুই বউ রান্নাঘরে নামবে!
তারপর দুজন হিহিহি।করতে করতে চুপি চুপি কিচেনের দিকে দৌড় দিল।
ব্যাস! চৌধুরী বাড়ির দুই জানোয়ার কিচেনে ঢুকেই ক্যাপুচিনো মিশন শুরু করে দিল।
ইনায়া হাতা গুটিয়ে বলল বেবি আজ এমন কফি বানাবো না বড় মা খাইয়া বলবে স্টারবাকস ফেল!
পিয়াসা নাটকীয়ভাবে চুল ঝাঁকিয়ে বলল।আজ থেকে আমরা চৌধুরী ক্যাফের মালিক।
দুজন মিলে দুধ, কফি, মাগ সব বের করল। হঠাৎ—

এইইই চিনির কৌটা কই?
দুজন একসাথে পুরো কিচেন ওলটপালট শুরু করে দিল।
একটা ড্রয়ার খুলে পেলো।না।”
আরেকটা খুলে এইখানেও পেলো না
এরপর পিয়াসা কিচেন থেকেই চিল্লিয়ে উঠল— মাআআ! ও মা! চিনির কৌটা কই?
ড্রইংরুম থেকে রেসমা চৌধুরীর বিরক্ত গলা ভেসে আসল দেখ মেজো! এখন রান্নাঘর নিয়াও পড়ছে!
সাবিহা চৌধুরী হেসে বললেন হয়তো রূপচর্চা করবে তাই চিনি লাগবে।
ব্যাস! রেসমা চৌধুরী এবার চিল্লিয়ে বললেন— ইয়ের উপর ইয়ে রাখা আছে!
কিচেনে দাঁড়িয়ে দুই জানোয়ার ফ্রিজ হয়ে গেল।
ইনায়া চিল্লিয়ে বলল কিসের উপর?
রেসমা চৌধুরী আবারও বললেন ইয়ের উপর!
এবার পিয়াসা আর ইনায়া একসাথে চিৎকার দিল— আবে সেই ইয়ে টা কীইই?
পুরো ড্রইংরুমের সবাই হাসতে হাসতে শেষ।

রেসমা চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে বললেন আমি যদি কিচেনে আসি না তোদের দুইটারে আমি আস্ত রাখবো না জানোয়ার! গরুর মতো দুইটা চোখ দিছে আল্লাহ… শুধু ফোন দেখার জন্য!
পিয়াসা সাথে সাথে কপাল চাপড়ে বলল।বেবি তুই বল… আমার দোষটা কোথায়?
এই বলে আবার ড্রয়ার খুলতে লাগল।
হঠাৎ রেসমা চৌধুরী ঝড়ের বেগে কিচেনে ঢুকে এক সেকেন্ডে একটা ড্রয়ার খুলে চিনির কৌটা বের করে বললেন
এই আমি পেলাম কীভাবে বল কীভাবে পেলাম?
পিয়াসা হা করে তাকিয়ে বলল।তুমি কী বলছো! এখানে ছিল?। তুমি তো বললে ইয়ের ভিতর!
একটা কথা কি জানো তোমাদের সবার এই একটাই মা-গতো সমস্যা! ইয়ের উপর ইয়ে আছে খুঁজে দেখ!
এইবার— ইনায়া হাসতে হাসতে লিটারেলি মেঝেতে বসে পড়ল।
হাসতে হাসতে রিমঝিমের কাছে গিয়ে বলল—ফুপিমণি তোমরাই বলো এখানে আমাদের দুইজনের দোষটা কোথায়?
পুরো বাড়ির সবাই আবার হাহাহাহা করে হেসে উঠল।

পিয়াসা এবার নাটকীয়ভাবে ইনায়ার হাত ধরল— চল বেবি… এইসব ভালো মানুষদের সাথে আমাদের যায় না।
তারপর কানে কানে ফিসফিস করে বলল চল আজ তোর বাইক নিয়ে ঘুরে আসি। তুবাকেও নিয়ে আসবো।
ইনায়া চোখ বড় বড় করে বলল কলেজ মিস করা যায়… কিন্তু ভন্ডামি না!
পিয়াসা এবার হাত তুলে বক্তৃতা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল আর মন্টুর দোকানের আইসক্রিম আমাদের ডাকছে বেবি না গেলে কাঁদতে কাঁদতে গলে যাবে।

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৬

ইনায়া বললো ঘরের এতো আইসক্রিম থাকতে
ভাই মন্টুর দোকানের আইসক্রিম বুঝতে পারছিস
ব্যাস! দুজন একসাথে মিরাক্কেল হাসি দিল।
রেসমা চৌধুরী দূর থেকে চিল্লিয়ে বললেন— “এই হাসি বন্ধ কর! জিন-ভূতে ধরছে নাকি
ইনায়া তাড়াতাড়ি নুসরাত চৌধুরীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল মা আসছি আমরা। তোমরা আড্ডা দাও।
এই বলে দুই যাওরা এমন দৌড় দিল— পিছন থেকে শুধু রেসমা চৌধুরীর চিৎকার শোনা গেল—
এইইই কফির মগ কে ভাঙলো হারামজাদি দুইটা?

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৮