শেহেজাদার আদর পর্ব ২৮
সুমাইয়া ইসলাম নূর
সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললো। এইদিকে চৌধুরী বাড়ির দুই জানোয়ার ইনায়া আর পিয়াসা বাইক নিয়ে গিয়ে হাজির তুবাদের বাড়ির সামনে।
ব্যাস! গেটের সামনে দাঁড়িয়েই শুরু করে দিল— পিপ পিপ পিপপিপপিপপিপ!
পিয়াসা আবার হর্ন চেপে চিল্লিয়ে বলল— “তুবাআআ! তাড়াতাড়ি আয়! আমরা respectable মেয়েরা রোদে পুড়তেছি!
পাশের বাসার আন্টিরা জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া শুরু করলো। এক আন্টি তো বলেই ফেললো— “এই দুইটা আবার কে।
ইনায়া সানগ্লাস নামিয়ে গম্ভীর গলায় বলল বেবি আমাদের popularity দিন দিন বাড়তেছে।
কি দেখেন আন্টি সেলফি তুলবেন নাকি আমাদের সাথে।
ঠিক তখনই— তুবা দৌড়াতে দৌড়াতে বের হলো। বের হয়েই বলল তোরা মানুষ না বাল তাই বল তো।
পিয়াসা হেসে বললো তুই যা বললি না ওইটাই চল এখন।
ব্যাস! তিনজন একসাথে হাই-ফাইভ দিল।
তুবা পিছোনে উঠতে যাবে ঠিক তখনই ইনায়া হিরোইনের মতো বাইক টান দিল।
ফলাফল পিয়াসা গিয়ে ধপাস করে পড়লো ইনায়ার পিঠের উপর। আর তুবা গিয়ে পড়লো পিয়াসার উপর। পুরো অবস্থা স্যান্ডউইচ!”
তুবা চিল্লিয়ে বলল বেবি আস্তে চালা! আমার এখনো প্রেম-ভালোবাসা কিছুই হয় নাই! আমি এভাবে চাপা পড়ে মরতে চাই না!
পিয়াসা পেছন থেকে কাতর গলায় বলল আমার ফুসফুস বাইর হইয়া যাইতেছে!
ইনায়া হাসতে হাসতে বলল ধইরা বস! আজকে ইনায়া নূর চৌধুরী মাঠে নামছে!
তুবা এবার পিয়াসার কাঁধ আঁকড়ে ধরে বলল দেখ! আমি পড়ে গেলে আমার future জামাই কাঁদবে!
পিয়াসা নাটকীয়ভাবে বলল— “আগে জামাই জোগার কর তার পর বলিস।
ব্যাস! তিনজন এমন হেসে উঠলো যে বাইকই কাঁপতে লাগলো।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়— ইনায়া স্টাইল মেরে চুল উড়াচ্ছে, পিয়াসা পেছন থেকে গান ধরছে— এই পথ যদি না শেষ হয়।
আর তুবা ভয় পেয়ে বলছে এই পথ শেষ না হয় না হোক, কিন্তু আমার জীবন যেন শেষ না হয়!
কিছুক্ষণ পর— তিনজন হাসতে হাসতে, চিল্লাচিল্লি করতে করতে গিয়ে থামলো মন্টুর দোকানের সামনে।
মন্টু দূর থেকে তিনজনকে দেখেই মাথায় হাত দিয়ে বলল ইন্নালিল্লাহ… আজকে ও ভর দুপুরে আসছে এখন চা পাই কোই মন্টুর দোকানের সামনে বাইক থামাতেই— ইনায়া নাটকীয় ভঙ্গিতে চুল ঝাঁকিয়ে বলল—
মন্টু চা তারপর হঠাৎ থেমে বলল থুক্কি… মন্টু চাচা এক কাপ চা আর আইসক্রিম দেন যে গরম পড়ছে!
মন্টু চাচা হা করে তাকিয়ে আছে চা আর আইসক্রিম এক সাথে । ইনায়া আবার বলল সরি চাচা… তুমি কাজ করো।
মন্টু চাচা মাথা নেড়ে ভিতরে চলে গেল।
এইদিকে পিয়াসা বেঞ্চে বসতেই ইনায়া মুখ বাঁকিয়ে বলল— বুঝি না… আমরা আসলেই মন্টু চাচা এমন ভাবভঙ্গি করে কেন মনে হয় আমরা ভিআইপি কেও?
তারপর গম্ভীর হয়ে বলল সালা টাকা ও নেয় না আমাদের থেকে! বলে কে নাকি দিয়ে দিছে সারাবছরের টাকা। বল তো কে দিছে?
পিয়াসা হাসতে হাসতে বলল কে আবার? আমি তো অনেক আগেই বলছি… এই টা আমার ভাইয়া ছাড়া আর কেউ না।
তারপর চোখ টিপে বলল দেখছিস বেবি ভাইয়া তোকে কত ভালোবাসে!
ইনায়া সাথে সাথে বলল কেন? আমার ভাই কি তোকে কম ভালোবাসে? তারপর হঠাৎ মুখ টিপে হাসতে হাসতে বলল মাঝরাতে কেমনে পায়েস খেতে আসছিল ধুরর আমি তোদের পায়েসের মধ্যে এলাচ হয়ে গেছিলাম! ইশশশশ আমার ভাইয়া ওদিন কিসটা মিস করলো পিয়াসা রাগী চোখে তাকাতেই—ইনায়া আমতা আমতা করে বললো
“মানে কিসমিস! কিসমিসের কথা বলছিলাম!
তারপর নাটকীয়ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল সবসময় শুধু negative চিন্তা ভাবনা! লেখিকা কি শুধু শুধু যাওরা নাম দিছে তোকে তোর গুণের জন্য দিছে ?
পিয়াসা এবার হাত তুলে বলল হে আল্লাহ এই মেয়েরে তুমি উঠাইয়া নাও!
ঠিক তখনই তুবা দুই কাপ চা এনে বলল এই নে চা।
পিয়াসা কাপ হাতে নিয়েই বলল— “এই থাডা পড়া গরমে চা খাচ্ছি ভাবা যায়!
ইনায়া সাথে সাথে চিল্লিয়ে উঠল ওইইই মন্টু চা সরি চাচা আমার চা কই?মন্টু চাচা দৌড়ে এসে বলল এই নাও মা।
তারপর মাথা চুলকে বলল তোমরা এখন চা খাবা জানতাম না। এই ভরদুপুরে চা কম বিক্রি হয় তো… তাই বানাই নাই। মাত্র বানাইলাম। এই জন্য দেরি হইছে।ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল আজও কি টাকা নিবা না?
মন্টু চাচা সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে বলল না মা। তোমাদের সারাবছরের টাকা দিয়ে দিছে একজন।
ইনায়া সাথে সাথে পকেট থেকে ফোন বের করে ইউভির ছবি দেখিয়ে বলল এই মাল টা বলে গেছে তাই না?মন্টু মাথা নাড়িয়ে বলল— না মা।
এইবার ইনায়া রেদোয়ানের ছবি দেখিয়ে বলল
তাহলে কি এই?
মন্টু চাচা সাথে সাথে বলে উঠল হ হ! এইজনই! তবে গাড়ির মধ্যে ওই লোকটাও বসে ছিল।
ইনায়া বলল— ওহ আচ্ছা।
তারপর গম্ভীর মুখে বলল মন্টু চা সরি চাচা… আমাদের আইসক্রিমটা নিয়ে আসো। চায়ের সাথে ভিজিয়ে খাবো।
মন্টু চাচা থমকে গেল। কিহহহ?!
পিয়াসা সাথে সাথে ইনায়ার মুখ চেপে ধরে বলল— ও কিছু না চাচা! আপনি যান। আমরা পরে আইসক্রিম নিবো।
তারপর দাঁত কেলিয়ে বলল।এইটা ফাজিল। ওর কথা শুনতে হয় না।
মন্টু চাচা দোকানের ভিতরে যেতে যেতে মনে মনে বলল— এই জন্যই বারবার কইছিল… এই তিনটা কোনো সাধারণ মেয়ে না। সামলাইয়া রাখেন।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল তবে অনেকে ভালা মানুষ… না হইলে এতগুলা টেহা দেয় আমারে।
এইদিকে— ইনায়া চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে বলল— বেবি একটা কথা বলি?
পিয়াসা সন্দেহের চোখে তাকাল কি?
ইনায়া গম্ভীর মুখে বলল আজকে যদি আইসক্রিম চায়ের মধ্যে ডুবাই তাহলে কি এটারে চা-ক্রিম বলা যাবে?
এক সেকেন্ড চুপ করে থেকে
তারপর তুবা, পিয়াসা, এমনকি পাশের টেবিলের লোকটাও হাসতে হাসতে কাশি শুরু করে দিল!এরপর তিনটা আইসক্রিম হাতে নিয়ে ইনায়া নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
মন্টু চা… আমরা আবার আসবো। আবার আপনারে বিরক্ত করবো। আপনার দোকানের সবকিছু না খাইলে আমাদের চলেই না।
তারপর আইসক্রিম চেটে চোখ ছোট করে বলল— মালগুলা অনেক সুন্দর মানে আপনার দোকানের মালামাল।
এই কথা শুনে তুবা আর পিয়াসা একসাথে হেহেহেহে করে হাসতে লাগল। মন্টু চাচা মাথায় হাত দিয়ে বলল আল্লাহ এই মাইয়াগুলারে যে বিয়া করবো তার জীবন আমার নাহাল হইবো !
তিনজন হাসতে হাসতেই আইসক্রিম খেতে খেতে বাইকে উঠে পড়ল।
ঠিক তখনই পাশের টেবিল থেকে একজন বলল— কে রে মন্টু? এই মাইয়াগুলা কারা?
মন্টু চাচা গর্ব করে বলল এরা চৌধুরী বাড়ির মেয়ে। অনেক বড়লোক অনেক টেহা । কিন্তু দেখলে কেউ বুঝবো না। তারপর মুচকি হেসে বলল মাইয়াগুলা অনেক ভালা। ওরা যেদিন থেইকা আমার দোকানে আসা শুরু করছে… ওইদিন থেইকাই আমার কপাল খুলছে।
এইদিকে ইনায়া বাইকের আয়নায় নিজের চুল ঠিক করতে করতে বলল চল কিছু কেনাকাটা করতে হবে। গ্রামে কি এই টি-শার্ট পরে ঘুরবো নাকি?
পিয়াসা সাথে সাথে বলল Exactly baby।থ্রি-পিস কিনতে হবে। যেখানে যেটা মানায় সেখানে সেইটাই পরতে হয়।
ব্যাস! তিনজন আবার মিরাক্কেল হাসি দিয়ে শপিং মলের দিকে রওনা দিল।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইনায়ার ফোনে টুন করে শব্দ হলো। ব্যাংক মেসেজ। অ্যাকাউন্টে অনেকগুলো টাকা ঢুকেছে।
সাথে ছোট্ট একটা মেসেজ—
“যা ভালো লাগে কিনে নিস চাচির বেটি।”
ইনায়া চোখ বড় বড় করে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সাথে সাথে মেসেজ দিল আপনি জানলেন কী করে? কিছু সেকেন্ড পর রিপ্লাই আসল একটু আগে তুই চায়ে কতটুকু চিনি খাইছিস সেইটাও আমি জানি। ব্যাস!
এরপর আর কোনো মেসেজ আসলো না।
ইনায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে পুরো থ হয়ে বসে রইল। মনে মনে বলল—
“ও কি মানুষ নাকি জ্বিন আল্লাহ ভালো জানে
পিয়াসা পাশে এসে ফোনটা উঁকি দিয়ে দেখে বলল কি রে? কি হলো
ইনায়া ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়ে বলল বেবি আমি একদিন হার্ট অ্যাটাক করবো এই মানুষটার জন্য।
তুবা সাথে সাথে বলল আগে শপিং কর। হার্ট অ্যাটাক পরে করিস।”
ব্যাস! তিনজন আবার হেসে উঠলো।
তারপর— এক দোকান থেকে আরেক দোকান… কোথাও থ্রি-পিস… কোথাও চুড়ি। আবার কোথাও দাঁড়িয়ে শুধু আয়নায় নিজেদের দেখে পোজ দেওয়া।
পুরো শপিং মল মাথায় তুলে ফেলল তিন জানোয়ার!
শপিং শেষ করে তিনজন ব্যাগ হাতে বের হতেই— পিয়াসা বলল।শোন! আজই তুবাকে নিয়ে যাবো। কাল ভোরে উঠতে হবে… এখন গেলে ভালো হবে।
ইনায়া সাথে সাথে বলল হ বেবি তোরে আজকে নিয়ে যাবো। চৌধুরী বাড়িতে।
তুবা দুইজনের দিকে তাকিয়ে বলল আগে আমার মা রিনা খান কে রাজি করা। ইনায়া বললো রিনা খান তুবা বললো হুম বেবি।
ব্যাস! তিনজন আবার হেহেহেহেহে।করে হাসতে হাসতে তুবাদের বাসায় ঢুকলো।
ঘরে ঢুকতেই— নাতাশা আহসান দুই হাত ছড়িয়ে বললেন বাবারে! আইছে আমার মা দুইটা!
তারপর ইনায়া আর পিয়াসাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন কেমন আছিস আমার কথা তো ভুলেই গেছিস ? দুজন একসাথে দাঁত বের করে বলল— আলহামদুলিল্লাহ ভালো আন্টি!
নাতাশা এহসান বললেন চলো চলো আগে নাস্তা করো। ইনায়া সাথে সাথে হাত নেড়ে বলল না আন্টি আজ থাক। বাড়ি গিয়ে প্যাকিং করতে হবে। কাল সকাল সকাল যেতে হবে তো।
নাতাশা এহসান আগ্রহ নিয়ে বললেন।কখন যাবি তোরা ? পিয়াসা বলল এই তো ৬টায়।
ইনায়া একই সাথে বলল ৫টায়।
দুইজন দুই সময় বলতেই— নাতাশা আহসান ভ্রু তুলে তাকালেন। ওহহ… তোরা মনে হয় সঠিক সময়টাই জানোস না। আমি পরে নুসরাতের কাছে শুনে নিবো।
ব্যাস! পিয়াসা সাথে সাথে কনুই দিয়ে ইনায়াকে গুতা দিল বল!
ইনায়া ফিসফিস করে বলল তুই বল! ল্যাওরা
দুজনের ধাক্কাধাক্কি দেখে নাতাশা আহসান বললেন কিছু বলবি তোরা?
এইবার পিয়াসা গলা খাঁকারি দিয়ে ভদ্র মেয়ের মতো দাঁড়িয়ে বলল হ্যঁ বলবো ল্যাওরা ইনায়া চিমটি কাটতেই পিয়াসার ধ্যান ফিরলো সরি সরি আন্টি — আন্টি… তুবাকে আজ আমরা নিয়ে যাই?
তারপর এক নিঃশ্বাসে বলে গেল অনেক ভোরে বের হতে হবে তো আজ এখন গেলেই ভালো হবে।
নাতাশা এহসান কিন্তু বলতেই পিয়াসা আবার বলা শুরু করল চিন্তা করেন না আন্টি! আমরা ভালো হয়ে থাকবো!
একটুও যাওরামি করবো না!
নাতাশা আহসান চোখ ছোট করে বললেন— কি বললি?
পিয়াসা সাথে সাথে থতমত খেয়ে বলল ওহ sorry আন্টি! বলতে চাচ্ছি একটুও বদরামি করবো না!
ইনায়া পাশে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়িয়ে যোগ করল— ভালো মেয়ে হয়ে থাকবো।
তারপর হাত তুলে বলল আর ইচ্ছা করে বৃষ্টিতে ভিজবো না। Promise!
এক সেকেন্ড চুপ থেকে।তারপর নাতাশা এহসান ধীরে ধীরে বললেন তোরা তাহলে কাল ইচ্ছা করে ভিজছিস?
ব্যাস! ইনায়া আর পিয়াসার মুখ একসাথে হাঁ হয়ে গেল। নাতাশা আবার বললেন আর বাসায় এসে পরিস্থিতির দোহাই দিয়া নাটক হইতেছিল?
পিয়াসা ধীরে ধীরে ইনায়ার দিকে তাকাল। ইনায়া আবার ধীরে ধীরে পিয়াসার দিকে আর একবার তুবার দিকে তাকাল।
দুইজনের এমন অবস্থাই আছে যেন মাটির নিচে ঢুকতে পারলে ভালো হতো।
মনে মনে পিয়াসা বলল হায় কি বাল বললাম!
এইদিকে নাতাশা এহসান হাসি চেপে তুবার কান ধরে বললেন তুই বাসায় আয় জানোয়ার! তোকে কি করতে হয় আমি দেখতেছি।
তুবা সাথে সাথে চিল্লিয়ে উঠল মাআআ! আমি তো কিছু করি নাই! এই দুইটা শয়তান!
নাতাশা এহসান এবার বললেন আজকের মতো বেঁচে গেলি। যা রেডি হয়ে ওদের সাথে যা। ব্যাস!
তুবা দৌড় দিয়ে রুমে চলে গেল। আর এইদিকে— ইনায়া আর পিয়াসা একসাথে বুকের উপর হাত দিয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে লাগল।
ইনায়া ফিসফিস করে বলল শালি তোর জন্য একটু আগে মনে হইছিল জান কবজ হইয়া যাবে।
পিয়াসা গম্ভীর মুখে বলল আমার তো রুহ বের হয়ে আবার শরিলে ঢুকছে।
রাত যত গভীর হচ্ছে, চৌধুরী বাড়িটা যেন তত বেশি জীবন্ত হয়ে উঠছে।
বাইরে হালকা বাতাসে গাছের পাতা দুলছে দূরে কোথাও ব্যাঙের ডাক শোনা যাচ্ছে মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ও শোনা যাচ্ছে।
বারান্দার হলুদ আলোয় পুরো বাড়িটা কেমন শান্ত অথচ মায়াময় লাগছে।
কাল ভোরেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবে সবাই তাই উত্তেজনায় আজ কারো চোখেই ঘুম নেই।
রাতের খাবার খাওয়া শেষ হলেও কেউ এখনো ঘুমাতে যায়নি। ড্রইংরুমের একপাশে বসে লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী আর রবিউল চৌধুরী ব্যবসার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।
কখনো হিসাব করছেন তো কখনো নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছেন আবার মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যেই হাসাহাসি করছেন।
আর পাশের বড় সোফাটায়—
ইনায়া, পিয়াসা আর তুবা গোল হয়ে বসে গল্প করছে। আয়াত আর আতিকা কখন যে গল্প শুনতে শুনতে ওদের কোলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে কেউ বুঝতেই পারে নি।
তুবা আয়াতের চুলে হাত বুলিয়ে বলল আহারে… বাচ্চাগুলা ঘুমাইছে দেখ।
এইদিকে পিয়াসা ফোনে লুকিয়ে লুকিয়ে রেদোয়ানের মেসেজ দেখছে। রেদোয়ানের একের পর এক মেসেজ দিচ্ছে পিহু তাকা না…”
“একটু সামনে আই…”
“তোর পাশেই তো বসে আছি তবুও miss করছি…”
দুজনের দূরত্ব মাত্র দুইটা সোফা—
তবুও মনে হচ্ছে যেন দুই দেশ দূরে বসে প্রেম করছে।
রেদোয়ান আড়চোখে পিয়াসার দিকে তাকাতেই পিয়াসা মুখ ঘুরিয়ে ফেলল।
কিন্তু নিচে নিচে ঠোঁট কামড়ে হাসছে।
ইনায়া সব দেখেও না দেখার ভান করে তুবার কানে কানে বলল দেখছিস? এদের প্রেম দেখলে আমার ডায়াবেটিস উঠে যায়। তুবা মুখ চেপে হাসতে লাগল।
ঠিক তখনই নুসরাত চৌধুরী এসে তিনজনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন।
কাল থেকে তো পড়ালেখা আকাশে উঠবে। আজ তো একটু পড়তে বসতে পারতি তোরা। পড়ালেখা করে একটু আমাদের মুখটা উজ্জ্বল কর।
ইনায়া এক সেকেন্ডও দেরি না করে গম্ভীর মুখে বলল ঠিক আছে মা… তবে একটা কথা।
নুসরাত চৌধুরী সন্দেহের চোখে তাকালেন—
কি কথা?
ইনায়া নাটকীয়ভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বলল—
তোমরা যে এত দামি দামি facewash use করো এগুলা বাদ দাও। সবাই একসাথে তাকাল ওর দিকে। ইনায়া এবার বুক ফুলিয়ে বলল—
পড়ালেখা করেই যদি মুখ উজ্জ্বল করা যাইতো… তাইলে মানুষ facewash use করতো না।
এক সেকেন্ড নীরবতা পালন করলো নুসরাত চৌধুরী
তারপর—
“ইইইইনাআআয়া!”
নুসরাত চৌধুরী তেড়ে আসতেই—
ইনায়া “আল্লাহু আকবার বলে এক দৌড়ে সিঁড়ির দিকে ছুট দিল। দৌড়াতে দৌড়াতেই চিল্লাচ্ছে—
তোরাও আয়ইই!
পিয়াসা আর তুবাও হাসতে হাসতে পিছনে দৌড় দিল। নুসরাত চৌধুরী এবার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রাতিব চৌধুরীর সামনে গিয়ে বললেন—
তোমার মেয়েকে কাল থেকে অফিসে নিয়ে যাবা। আমি আর পারছি না সামলাতে!
রাতিব চৌধুরি শান্ত গলায় বললেন কেন আবার কী করছে? নুসরাত চৌধুরী রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন—
ও বলে পড়ালেখা করলে যদি মুখ উজ্জ্বল হতো। তাহলে মানুষ facewash ইউজ করতো না।
এক সেকেন্ড চুপ থেকে—
রবিউল চৌধুরী ফুসস করে হেসে ফেললেন।
লিখন চৌধুরী মুখ ঘুরিয়ে হাসি চাপার চেষ্টা করছেন। আর এইদিকে সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে ইনায়া চিল্লিয়ে বলল—
“বাবা! তুমি হাসতেছো কেন? আমি scientific কথা বলছি! ব্যাস!
পুরো বাড়ির সবাই আবার হাসিতে ফেটে পড়ল।
রাত আরও গভীর হয়ে এসেছে।
চৌধুরী বাড়ির এক এক করে সব রুমের আলো নিভে যাচ্ছে। বাইরে হালকা বাতাসে বারান্দার পর্দাগুলো দুলছে… দূরে কোথাও কুকুরের ডাক ভেসে আসছে। ঘুমোতে যাবে চেঞ্জ করবে বলে ইনায়া নিজের রুমে এসে আলমারি খুলল।
পিয়াসা আগেই নিজের রুমে চলে গেছে চেঞ্জ করতে ।আর তুবা ওয়াশরুমে কাপড় চেঞ্জ করছে।
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ কী যেন ভেবে ধীরে ধীরে বের হয়ে গেল রুম থেকে। ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বলল—
“আমার শেহেজাদার টি-শার্ট ছাড়া আমি রাতে ঘুমাবো কী করে হুম?
চুপিচুপি হেঁটে ইউভির রুমের সামনে এসে দাঁড়াল ইনায়া দরজাটা আধখোলা।
রুমে ঢুকতেই ইউভির গন্ধটা যেন পুরো বুক ভরে গেল ইনায়ার।
wooden wardrobe টার দরজা খুলতেই—
সারি সারি করে ইউভির শার্ট, টি-শার্ট, hoodie ঝুলছে।
সবকিছু এত সুন্দর করে গুছানো যেন দোকানের display।
ইনায়া মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে একটা সাদা টি-শার্ট নামাল।
টি-শার্টটা বুকের সাথে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করতেই—
মনে হলো ইউভির গন্ধটা এখনও লেগে আছে।
এইদিকে ইউভি coffee হাতে laptop এর সামনে বসে আছে।।স্ক্রিনে ভেসে উঠছে তার। চাচির বেটি।
ইউভি আসলে shower নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু ইনায়াকে ইউভির রুমে ঢুকতে দেখে থেমে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে একটা চিয়ার টেনে এনে বসল।
পায়ের উপর পা তুলে কফি তে চুমুক দিতে দিতে পুরো মনোযোগ দিয়ে ইনায়াকে দেখতে লাগল।
ইনায়া কিছুই জানে না।
সে ধীরে ধীরে নিজের করে ইউভির সাদা টি-শার্টটা পরে নিল।
টি-শার্টটা ইনায়ার হাঁটুর একটু উপর পর্যন্ত এসেছে।
চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে আছে।
আর ঠিক তখনই ইনায়ার ফোনে একটা মেসেজ আসলো
তুই এতো হট কেন রে সুইটহার্ট আ* গুন কেও হার মানাবি তুই। উফফফফস আমাই জাস্ট মেরে ফেলছিস। তুই এতো দূরে থেকে চেঞ্জ করছিস আর আমি এখানে থেকেই নিজেকে সামলাতে পারছি না। মাঝে মাঝে তুই খুব কঠিন শাস্তি দিস আমাকে বিয়াদোপ বউ।
তোর থেকে চোখ সরানো উচিত বাট পারছি না আদর।
শেহেজাদার আদর পর্ব ২৭
তুই ভুল করেছিস অনেক বড়ো ভুল শাস্তি তোকে।পেতেই হবে কাছে পাই শুধু চাচির বেটি।
তোর শারীরিক ক্লাস রোজি নিব জাস্ট সিলেবাস পালটাবে পজিশনে। মানুষ চিনতে পারিস নি সালি
উফফ আজ মনে হয় না সারারাত সাওয়ার নিলে ও গা ঠান্ডা হবে।
আল্লাহ তুমি বিচার করো এই বিয়াদোপ টার আমার মতো একজন নিরদোয ইনোসেন্ট বয় কে খারাপ বানিয়ে দিলো ছি কি যঘন্য মেয়ে।
