বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১০
Muntaha jahan
এ্যাশের আগে আমেরিকার একজন ভয়ংকর মাফিয়া হিসেবে পরিচিত ছিলো ঋত্বিকের,আর ঋত্বিকের বোনই পূজা,এ্যাশ আর ঋত্বিক আগে ছিলো পরস্পর খুব ভালো বন্ধু,ঋত্বিকের সাথে থাকতে থাকতেই আস্তে আস্তে মাফিয়া জগতে পা বাড়িয়েছে এ্যাশ,কালো টা*কা দেশে লুকিয়ে অ*স্ত্র আরো নানার রকম পাপ কাজ করতো দুজন,প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা দু’জনের এক প্রকার নেশা ছিলো,কিন্তু এ্যাশের আড়ালে ঋত্বিক নারী পাচারে ও যুক্ত হয়ে যায়,যেটা এ্যাশ কখনোই সমর্থন করে না,নারীদের সম্মান করে এ্যাশ এটা ঋত্বিক জানতো,কিন্তু এ্যাশের থেকে বেশিদিন লুকাতে পারে নি,বাংলাদেশে যাওয়া পর যখন ঋত্বিক নারীদের অজ্ঞান করে অন্য দেশে পাচার করায় ব্যাস্ত ছিলো তখনই এ্যাশের কাছে ধরা পড়ে সে,তারপর থেকেই তার সাথে এ্যাশের সম্পর্কে ফাটল ধরে,ঋত্বিককে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয় এ্যাশ,১ বছর থাকার পর অসুস্থ হওয়ার ভান করে হসপিটাল থেকে পালিয়ে যায় ঋত্বিক,হয়ে উঠে এ্যাশের সবচেয়ে বড় শএু!
এ্যাশকে শেষ করাই এখন একমাত্র লক্ষ ঋত্বিকের।
এ্যাশ ঋত্বিকের বন্ধু হওয়ার সুবাদে পূজার সাথে তার প্রতিদিন দেখা হতো,সেই থেকেই এ্যাশকে ভালো বাসতে শুরু করলো পূজা,এ্যাশের সাথে টুকটাক কথা বলতো,এ্যাশকে অনেকবার চেষ্টা করেছে নিজের মনের কথা বলার,কিন্তু এ্যাশের রাগের কারণে পারে নি,
সাহস করে এ্যাশের ২৭ বছরের জন্মদিনের দিন পূজা সাহস করে বলে দেয় তার মনের কথা,সেটাই কাল হয় তার জীবনে তারপর থেকে এ্যাশ কখনো তাদের বাসায় আসতো না,আগে টুকটাক কথা বললেও তারপর থেকেই একেবারে বন্ধ করে দেয়।
তাকে গ্রহণ না করার কারণ বারবার জিজ্ঞেস করলো এ্যাশ তাদের ধর্মের কথা বলে। এ্যাশের পাগল পূজা ভেবেছিলো ধর্ম পরিবতন হলে এ্যাশ থাকে ভালো বাসবে,কিন্তু সেটা হয় না,উল্টো তার ভাইয়ের সাথে এ্যাশের সম্পর্ক খারাপ তাদের থেকে দূরে সরে যায় এ্যাশ,কিন্তু পূজা হাল ছাড়তো না প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম্বারে এ্যাশে ফোন দিতো ওর অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়াতো। তবুও এ্যাশ তার দিকে ফিরে ও কোনোদিন তাকাতো না।
আজকে এ্যাশকে এক্সিডেন করতে দেখে ছুটে এসেছিলো কিন্তু প্রতিবারের মতো এবার ও ব্যার্থ হলো,উল্টো আরো একবুক যাতনা বেশি মিললো আজ।
এ্যাশ বিয়ে করে নিয়েছে তাহলে এখন আর কি করবে সে? এখনো নিল্জের মতো ভালবাসি ভালোবাসি বললে? নাকি দূরে সরে যাবে?
-“এই মেয়ে দাঁড়াও!
পিছন থেকে গম্ভীর পুরুষালি স্বর কানে আসতেই ভাবনার সুতা ছিড়লো মোহনার(পূজা) কন্ঠটা চেনা তার তাই সে দাঁড়িয়ে গেলো। পিছনে ফিরতেই নিলের ঘামান্ত মুখ চোখ পড়লো,নিল এগিয়ে আসলো মোহনার দিকে কপট রাগ দেখিয়ে পায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
-” এই কাটা পা নিয়ে ডেঙ ডেঙ করতে করতে কোথায় যাচ্ছো তুমি? পা দিয়ে যে রক্ত পড়ছে দেখতে পাচ্ছো না?
-“হৃদয়ের রক্ত করণের কাছে এটা সামান্য। আমি ঠিক আছি আপনি আমার জন্য চিন্তা করবেন না,দোয়া করবেন আমি যাতে মারা যাই তাতে আপনার বন্ধু এবং আপনারা ভালো থাকবেন।
নিল খোয়াল করলো মোহনা কাঁপছে,চোখ মুখ কেমন শুকনো অসুস্থ দেখাচ্ছে মোহনাকে,মোহনার কথা কানে না তুলে ওর দিকে আরেক পা এগিয়ে গিয়ে বললো
-“তোমাকে কেমন জেনো লাগছে ঠিক আছো তুমি? কি হয়েছে তোমার?
মোহনা কিছু না বলে উল্টো ফিরে আসতে নিতেই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যেতে নিলো,নিল ধরে ফেললো মোহনাকে,বাহুডোরে আবদ্ধ রেখে নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলো
-” কি হয়েছে তোমার? ঠিক আছোতো?
মোহনা কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো
-“আমাকে একটু বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবেন নিল?
নিল মোহনার কথার উওর দিবে তার আগেই মোহনা জ্ঞান হারালো ঢলে পড়লো নিলের বুকে,নিল মোহনার গালো আলতো হাতে চাপড় মেরে কয়েকবারে ডাকলো কিন্তু সারা মিললো না,অগত্যা মোহনাকে কোলে তুলে নিলো নিল,মোহনার বাসায় না নিয়ে ওকে নিয়ে হসপিটালে আসলো।
সকাল ৮ টা
মোহনা দাঁড়িয়ে আছে হসপিটালের রিসেশনের সামনে,মুখটা থমথমে,হসপিটাল থেকে বের হতে চাইছে কিন্তু এরা বের হতে দিচ্ছে না বারবার আঁটকে দিচ্ছে,বারবার কাকে না কাকে ফোন করে এখানে আসতে বলছে। কে আসবে? কাকে আসতে বলছে এরা? তার কে আছে যে আসবে? কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হলো নিল কেনায়া,নিলের মুখে রাগ আর কেনায়ার মুখে বিরক্ত ঘুম দুটোই,মোহনা ওদের এখনো খেয়াল করে নি,নিল এসে মোহনার সামনে দাঁড়িয়ে ধমক দিতেই ভয় পেয়ে কেঁপে উঠলো মোহনা।
-“এই মেয়ে আমার ভালো রুপ সহ্য হচ্ছে না তোমার? খারাপ রুপ দেখতে চাও? হসপিটাল থেকে বের হচ্ছিলো কেনো?
মোহনা আস্তে করে উওর দিলো
-” আমি বাসায় যাবো,ঠিক আছি আমি।
-“কালকে রাতে জ্বরে কোনো হুশ ছিলো না আর সকাল হতে না হতেই বলে ঠিক আছে।
-“এখন তো জ্বর নেই,বাসায় যাবো আমি।
-“তুমি কোথাও যাবে না,,,নার্স ওকে ওর কেবিনে নিয়ে যান।
মোহনা বিরক্ত চোখে তাকালো নিলের দিকে,বললো
-“আপনি কে যে আমার উপর এতো অধিকার দেখাচ্ছেন? আমার ইচ্ছে হচ্ছে না আমি থাকবো না এখানে,আপনি আটকানোর কে?
মোহনার এমন কথায় আঁটকে গেলো নিল,কোনো কথা বেরোলো না আর মুখ দিয়ে,আসলেই তো সে কে মোহনার? যে ওর উপর এতো অধিকার দেখাবে? তাচ্ছিল্য হাসলো নিল,তারপর রিসিপশনের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো
-“ওকে যেতে দিন।
আর কোনো কথা বললো না নিল,যেদিক থেকে আসছিলো সেদিকেই পা বাড়ালো,কেনায়া একবার মোহনার দিকে বিরক্ত চোখে তাকিয়ে নিলের পিছন পিছম গোলো।
মোহনা ও আর দাড়ালো না,বেরিয়ে আসলো হসপিটাল থেকে।
রিসিপশনে শুনেছে তার টাকা দেওয়া হয়ে গেছে,তাই আর সেগুলোর ঝামেলায় তাকে পড়তে হয় নি,তবে ধার রাখবে না সে নিলের টাকা ফিরিয়ে দিবে সে।
প্রতিদিন ভোর এ টায় উঠার অভ্যাস নূরের আজকে ও উঠে পড়লো সে,নামাজ আদায় করে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো,ভোরের আলো ফুটতে শুরু করছে,হালকা হালকা বাতাস দিচ্ছে,যেটা শরীলে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে তার। তবু্ও নড়লো না সেখান থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো,কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর ইহানের ঘুমন্ত স্বর শুনা গেলো
-“মা পর্দাটা দাও রোদ মুখে এসে পড়ছে ঘুমাবো একটু আমি।
নূর পর্দা দিয়ে রুমে আসলো,ইহানের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো
-“নামাজ পড়বেন না?
গায়ের কাঁথা সরিয়ে মাথা বের করে নূরের দিকে তাকালো ইহান,কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কিছু মনে পড়তেই লাফিয়ে উঠে বসলো,কপাল চুলকে নূরের দিকে তাকিয়ে বললো
-“এতো সকাল কেনো উঠেছো? আরেকটু ঘুমাতে পারতে!
-“আমি সকালই উঠি আমার এতো ঘুমানোর অভ্যাস নেই।
-“ঘুৃমাতে হবে না আসো এসো শুয়ে থাকো।
-” আপনি ঘুমান,আমি একটু বাসাটা ঘুরে দেখি?
ইহান একবার সময় দেখলো, ৬ টা ১০,এতো সকাল দেখে ভাবলো না করবে,কিন্তু নূরের ওই আকুতি ভরা চেহেরা দেখে আর পারলো না,অনুমতি দিলো বের হওয়ার,অনুমতি পেয়েই লাফিয়ে বের হয়ে গেলো নূর,আর ইহান কাথাটা টেনে আবার ও ঘুমের দেশে পাড়ি দিলো।
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেলো ৪ দিন,খান বাড়ি থমথমে মরা বাড়ির হয়ে থাকে এখন,কারো মুখেই হাসি নেই,ইহানের এমন কান্ডের পর এ্যাশের খবর পেয়েছে সবাই এতেই সবার মনে অবস্থা করুন। শুধু চিল মুডে আছে তাহা,এ্যাশ ইহান এদের কোনোকিছুতেই তার কোনো আগ্রহ নেই।
ডাইনিং টেবিলে বসে আপন মনে খাচ্ছে সে,পাশেই আরাবী বসে, এক হাতে খাচ্ছে তো আরেক হাতে ফোন ধরে আছে,আজকে ভার্সিটিতে নবীর বরণ অনুষ্ঠান,সব আয়োজন শেষ এখন শুধু তার যাওয়ার পালা,তারজন্যই বার বার করে ফোন দিচ্ছে তার বান্ধবীরা।
কোনো রকমে খেয়ে তাহাকে টেনে নিয়ে উপরে চলে গোলো আরাবী।
৩০ মিনিট পর দুজন নেমে এলো নিচে দুজনেই সেম রকম ভাবে সেজেগুজে নেমেছে,নীল শাড়ী একহাতে এক মুঠো নিল কাঁচের চুড়ি কপালে নিল টিপ,চুল গুলো ছেড়ে সুন্দর ডিজাইনে বাঁধা।
তাহার চাইতে আরাবীর গায়ের রঙ ফর্সা,ফর্সা আরাবীর শরীলে নিল রঙের শাড়িটা জেনো একটু বেশিই নজরকাড়া। দুজন বড়দেরকে বলে বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে।গাড়ি করে যাবে না তাই একটা রিষ্কা ঢেকে চটপট উঠে গেলো দুজন।।
ভার্সিটিতে ঢুকতেই ফুল দিয়ে বরণ করলো তাদের,যদিও ফুল শুধু নতুনদের দেওয়া হবে কিন্তু আরাবীর যেহেতু কাজের দায়িত্বে ছিলো তাই তাকে বরণ করলো তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবীরা,বান্ধবী পেয়ে তাহাকে বেমালুম ভুলে গেলো আরাবী,তাহা একবার আরাবীর দিকে তাকিয়ে খুঁজতে চলে গেলো তার বেস্টুকে
পুরো ভার্সিটি চক্কর দিলো,পেলো না বুঝলে আসে নি এখনো,রেগে গেলো তাহা ঐশীকে খুন করার ইচ্ছে জাগলো,মনে মনে কয়েকশ গালি দিলো ঐশীকে,তারপর আরাবীর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো মঞ্চে স্যারদের ভাষন দিতে দেখে বিরক্ত হলো তাহা,বিরবির করলো “এরা এখন এক ঘন্টা ধরে ভাষনই দিবে যতসব” বিরক্ত নিয়েই সেখানে বসে থাকলো তাহা,কিন্তু যখন দেখলো আয়ান উঠেছে তখনই আর সেখানে বসলো না সে উঠে চলে আসলো সেখান থেকে।
পাক্কা ২০ মিনিট ভাষন দিলো আয়ান,শেষ পর্যায়ে এসে মাঠে চেয়ারে বসে থাকা নতজানু এক মেয়ে উপর চোখ আটকে গেলো তার,মেয়েটা কেমন ভীত হয়ে আছে,হাত থেকে আচমকাই মাইকটা নিচে পড়ে গেলো,সবাই তাকিয়ে আছে আয়ানের দিকে,আয়ান এক দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আয়ানের দৃষ্টিতে অনুসরণ করে সবাই তাদের পিছনে তাকালো।
নতজানু হয়ে হাতের দিকে তাকিয়ে ভাষন শুনছিলো আফরিন,হঠাৎই সবকিছু শান্ত হয়ে যেতে দেখে সামনে তাকালো,তাতেই ভড়কে গেলো সে,সবার দৃষ্টি তার দিকে।
সবাই এমন করে কেনো তাকিয়ে আছে? সে কি করেছে? তাকে কি খারাপ দেখতে লাগছে? নাকি অন্যকিছু? উল্টো পাল্টা কথা ভাবতেই কান্না পেলো আফরিনের,কান্না করার আগেই কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে শান্ত হয়ে গেলো।
মেয়েটার চোখে পানি দেখতেই ধ্যান ভাঙে আয়ানের,পরপরই সে কোথায় দাঁড়িয়ে বুঝতে পেরেই একটু অসস্তিতে পড়লো,কোনোকিছু না বলেই নেমে গেলো স্টেজ থেকে।
হাতের মালিকের দিকে তাকাতেই ঐশীকে দেখতে পেলো আফরিন,কোনোদিন না তাকিয়েই লাফিয়ে উঠে ঝাপটে ধরলো ওকে।
-“কেমন আছো আপায়? কতোদিন দিন পর দেখা।
-“এই তো ভালো তুই এখানে?
আফরিন একটু ভাব নিয়ে বললো
-“বলেছিলাম না ভার্সিটিতে পড়বো? দেখো পড়ে ছাড়তেছি।
-“কাকা মেনে নিলো এতো সহজে?
কথাটায় একটু মলিন হয়ে গেলো আফরিনের মুখ,চুপসানো মুখ নিয়ে বললো
-“বাসায় তো বিয়ের ব্যাবস্হা করছিলো সেখান থেকেই পালিয়ে এসেছি একমাস আগে!
-“কিহহ্?
ড্রয়িং রুমের সোফায় গালে হাত দিয়ে বসে আছে নূর,এতোক্ষণ ফুপু বসে তার সাথে গল্প করছিলো কিন্তু এখন সে ও গোসলে চলে গেছে,তিশা ইহান কেউ নেই বাসায়,৪ দিনে তিশার সাথে তার মেলা ভাব হয়ে গিয়েছে,কওো আদর করে তাকে,অফিস থেকে ফেরার পথে অনেক কিছু নিয়ে আসে তারজন্য।
এখনো ইহানের ফুফুর বাসায় তারা,ইহান নতুন বাসায় পেয়েছে কিন্তু এখনো সেখানে নিয়ে যায় নি নূরকে,বাসা নাকি একেবারে সাজিয়ে তারপর নিয়ে যাবে।
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৯
দুপুর হয়ে এলো অথচ ইহানের কোনো খোঁজ নেই,এখনো আসছে না প্রতিদিন দুপুরে বাসায় আসতো ইহান,আজকে কেনো আসছে না? ফুফুর ফোন নিয়ে ফোন দিতে গেলেই কলিং বেলের আওয়াজ কানে আসে নূরের,ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটে উঠলো,দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই মুখটা থমথমে হয়ে গেলো।
-“আপনি?
