Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১১
Muntaha jahan

মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ঐশী,পাশেই তাহাকে জাপটে ধরে দাঁড়িয়ে আফরিন,চোখ মুখে তার উপচে পড়া খুশি,অথচ ভয়ে কাঁপছে ঐশী,ঐশী উঠে দাড়িয়ে আফরিনকে ছাড়ালো তাহার থেকে,তারপর টানতে টানতে নিয়ে গেলো ক্লাস রুমে,পিছন পিছন তাহা ও গেলো,তাহার হাতে চিপসের প্যাকেট তাহা সেটা খেতে খেতে আরাম করে বেঞ্চে বসলো,তারপর তাকালো তার রাগে টমেটো হয়ে যাওয়া বান্ধবীর দিকে,শিষ বাজিয়ে ঐশীর দৃষ্টি তার দিকে ঘুরালো,ঐশী তাকাতেই ভয় পাওয়ার নাটক করলো তাহা,বিরক্ত চোখ তাহার দিকে তাকিয়ে আবার ও আফরিনের দিকে তাকালো ঐশী,গম্ভীর ভর্য়াত কন্ঠে বললো

-“এটা তুই কি করেছিস? কাকাই তোকে খোঁজে পেলে তোর কি অবস্থা করবে জানিস? তুই কোন সাহসে তোর জল্লাদ বাপকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এলি?
একমাস ধরে এই ভয়েই আছে আফরিন,তার বাপ যে তাকে পেলে জ্যান্ত খবর দিবে এটা সে জানে,তবুও একটু সাহস রাখলো,স্বপ্ন পূরণ করতে হবে,যেটা বিয়ে করে নিলে কখনোই সম্ভব না,মনে ভয় অথচ মুখে সাহস দেখিয়ে আফরিন বললো
-“আব,,আমাকে পেলে তো? আমি কখনো ধরাই দিবো না বাবাইকে। চিন্তা করো না তুমি জাস্ট চিল,চলো অনুষ্ঠান ইনজয় করি,চলো চলো।
অনুষ্ঠানের ওখানে আসতেই দেখলো নাচ শুরু হয়েছে,তাই তিনজন চেয়ার টেনে বসলো,ঐশী ফোন দিয়ে ভিডিও করছে,তাহা মনোযোগ দিয়ে চিপস খাচ্ছে আর আফরিন স্টেজের দিকে তাকিয়ে আছে তারকিছু করার নেই বসে থাকা ছাড়া।
কয়েকটা নাচের পর স্টেজে উঠলো আরাবী,আরাবীকে দেখে একটু চমকালো তাহা,যতদূর জানে আরাবী নাচে নাম দেয় নি,তাই একটু চমকালো সে। ৪ জন মেয়ে আর ৪ জন ছেলে সুন্দর মতো নাচছে কাপল ডান্সের মতো,তারমধ্যে আরাবীকে সে চিনে শুধু বাকিদের চিনলো না,চেনার চেষ্টা ও করলো না। নাচ শেষ হতেই নেমে আসলো আরাবী,ঘেমে মুখ পুরো লাল হয়ে গেছে,আরাবী উঠে অফিস থেকে পানি নিয়ে ওকে দিলো,সেটা খেয়ে সস্তি পেলো আরাবী,তাহার গাল টেনে আবার ও চলে গেলো বান্ধবীরদের কাছে,আর তাহা এসে ঐশীদের পাশে বসলো।

দরজার সম্মুখে ইহানের মাকে দেখে চমকালো নূর,মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে সালাম দিলো,আয়েশা বেগম এক পলক নূরের দিকে তাকিয়ে গাল টেনে বললেন
-“আপা কবে তোমার মতো রসগোল্লা পালতে শুরু করলো? ইশ কি মিষ্টি। নাম কি তোমার?
-“নূর,নূরাইফা আফরিন।
নূরাইফা আফরিন নাম শুনতেই চমকালেন তিনি,অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে বললেন
-“তুমি ইহানের বউ?
মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো নূর,আয়েশা বেগম বাসায় ঢুকে গেলেন মাথা তার মুহুর্তেই গরম হয়ে গেছে,এরকম বাচ্চাকে বিয়ে করেছে ইহান? এরকম মিষ্টি একটা বাচ্চার কি এখন বিয়ের বয়স? ছেলের উপর চটলেন তিনি,সোফায় বসে নূরকে কাছে টেনে ইহান নাম নিয়ে চিৎকার করে ডাকলেন,নূর ছোট করে বললো

-“সে বাড়িতে নেই।
আয়েশা বেগম তাকিয়ে আছে নূরে দিকে মেয়েটার গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা,চুল গুলো হালকা সোনালী রঙের,চোখের মনি গাড় নিল,চেহেরায় উপচে পড়া মায়া,নূরকে বেশ মনে ধরলো তার,কন্ঠটাও মিষ্টি তার কাছে নূরকে পুরোই রসগোল্লা লাগলো,মেয়েটাকে ভালো লাগলেও ছেলের উপর অসন্তুষ্ট তিনি,ছেলে আসলে আজ আচ্ছা মতো ঝাড়বে মনে মনে সেই পরিকল্পনা করে নূরের হাত ধরে বললেন
-“আমি তোমাকে মিষ্টি বলে ডাকবো? তুমি পুরোই রসগোল্লা তোমার সাথে এই নামটা মানায়,তাই আমি তোমাকে মিষ্টি ডাকবো কেমন?
-“আপনার যা ভালো লাগে তাই ডাকবেন আন্টি।
-“তুমি না ইহানের বউ? তাহলে আমি আন্টি কি করে হলাম? মা বলো মা।
চোখের কোনায় জল জমলো নূরের,এখানে এসে যতো ভালোবাসা পেয়েছে,জীবনে এতো ভালোবাসা পেয়েছে কি না মনে পড়ে না,লোক মুখে শুনতো শাশুড়ীরা নাকি খারাপ হয় অথচ তার শাশুড়ী তো দেখছো মাটির মানুষ,এরকম করে বিয়ে হওয়ার পরও তাকে আপন করে নিলো। সাইফা বেগমকে দেখেই আয়েশা বেগম নূরকে সেখানে বসিয়ে তাকে নিয়ে রুমে চলে গেলেন,নূর সেখানে বসেই আবারো অপেক্ষা করা শুরু করলো ইহানের জন্য।

আজকে ৮ দিন পর অফিসে আসলো এ্যাশ,তাও জুরুরি ভিওিওে,আজকে একজন ক্লাইনটের সাথে জরুরি মিটিং আছে যেটা সে ছাড়া আর কারো পক্ষে হেন্টেল করা সম্ভব না। অফিসে আসতেই সবাই একে একে গুড মনিং বললো তাকে,অথচ সে নিশ্চুপ,বোবা হয়ে সোজা এসে নিজের কেবিনে বসে এসি অন করলো,ঘেমে গেছে একদম,অফিসে আসার আগে কপালের ব্যান্ডেজ টেনে খুলে এসেছে,এসব তার কোনো কালেই প্রয়োজন পড়ে না,শুধু সে ব্যান্ডেজ না রাখলে ফাহাদ ও রাখবে না তাই ৪ দিন এসব প্যারা নিয়ে বসেছিলো,আজকে ভালো লাগছে।
আধাঘন্টা পর একজন সুন্দরী মেয়ে আসলো এ্যাশের কেবিনে,অবশ্য আসার আগে নক করে এসেছে,মেয়েটার জানা আছে নক না করলে তার কপালে শনি নাচছে।
এ্যাশ তাকালো না মেয়েটার প্রানে মেয়েটা একটা ফাইল এগিয়ে দিতেই সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে সাইন করে দিলে মেয়েটা চুপচাপ সেটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে।
বাংলাদেশের কোম্পানিতে এই কোম্পানির জিনিস যাবে,কালো টাকার আড়ালে হালাল ব্যাবসা ও আছে এ্যাশের সেটা হলো কাপড়ের। তার একটা সাইনের জন্য আজকে ৮ দিন ধরে এই ডিলটা আঁটকে ছিলো যেটা আজকে মুক্তি পেলো।
এ্যাশের ফোন দেখার মধ্যে দিয়েই কেবিনে নক করলো কেউ এ্যাশ না তাকিয়েই আসতে বললো,এ্যাশের সামনে এসে দাঁড়াতেই এবার তাকালো এ্যাশ,লোকটাকে বসতে বললে লোকটা কাচুমাচু করে বসলে সেখানে।
এ্যায় খেয়াল করলো লোকটা চোখে মুখে ভয়,কেমন কাঁপছে থেকে থেকে। এ্যাশ বাঁকা হাসলো,তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বললো

-“কুল! এরকম কাপছো কেনো? আমি কিছু করেছি? আমার কথা না শুনলেই না করবো কিছু আমি।
চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো এ্যাশ,লোকটা আরো ঘেমে গেলো এখন,তারজন্য এসির পাওয়ার বাড়ালো এ্যাশ,টেবিলের উপরে রাখা ফাইল লোকটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো
-“ডিলে রাজি থাকলে সাইন করুন,না থাকলে ও সাইন করুন, ডিলটা আপনাকেই নিতে হবে মিস্টার তালুকদার!
তালুকদার সাহেব কপালে ঘাম মুছে বললেন
-“কাজ,জটা করে দিবো কিন্তু ধরা পড়লে কিন্তু আমার কিছু করার নেই এতে।
-“তোমার একটা ছেলে আছে না? কি জেনো নাম……? ও হ্যা তিহান রাইট? তিহান।
মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে তিহান নামটা বিরবির করলো এ্যাশ,
-“আমার ছেলেকে কিছু করবেন না স্যার দয়া করুন,আপনার কাজ আমি করে দিবো ধরা পড়বো না।
লোকটার এবারের কথায় সন্তুষ্ট হলো এ্যাশ,হাসিমুখে লোকটাকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে গেলো অফিস থেকে।

ভার্সিটির সিসিটিভি ক্যামেরার পাসওয়ার্ড বাইরের লোককে দেওয়া নিষেধ তবুও ফাহাদকে সেটা দিয়েছে আয়ান খুব গোপনে,সেই সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ই বারবার করে দেখছে ফাহাদ,একটা জিনিস বার বার টেনে দেখছে,ইতিমধ্যে হাত মুঠো হয়ে গেছে কপালের রগ গুলো ফুলে উটেছে,নিজেকে শান্ত করলো চাইলো ফাহাদ কিন্তু পারলো না বরাবরই এই জিনিসে ব্যার্থ সে,ল্যাপটপ বন্ধ করে ফোন হাতে নিলো কল দিলো কাউকে,রিসিভ হতেই গম্ভীর কন্ঠে বললো

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১০

-“২৪ ঘন্টার ভিতরে এর লাশ দেখতে চাই সেটা যে করেই হোক,আর লাশটা পার্সেল করে মিনাল খানের মেয়ের নামে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিব।
বলেই কল কেটে আবারীকে কেটে শুধু ছেলেটার ছবি পাঠালো ফাহাদ,বাঁকা হেসে তাকালো আরাবীর ভিডিও এর দিকে,বিড়বিড় করে বললো
-“আমি ব্যাতিত তোমাকে যারা স্পর্শ করবে তাদের সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করাবো আমি,তোমার দেখার স্পর্শ করার অধিকার শুধু এই আবরার ফাহাদের।

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১২