বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৯
Muntaha jahan
“হসপিটালের করিডোরে বসে আছে নিল কেনায়া ঈশান,সকলে এতোক্ষণ ভয়ের মধ্যে থাকলেও এখন সস্তিতে আছে,এতোক্ষন যেনো সবারই শ্বাস আটকে ছিলো,এ্যাশ ফাহাদের উপর লাফ দেওয়ায় ফাহাদ একটু বেশিই আহত হয়েছে মাথা ফেটে গেছে পা,হাতের কনুই পিঠ ছিলে গেছে রাস্তার গষায় অনেক,রক্ত গেছে ফাহাদের,তারজন্য আলাদা করে রক্ত দিতে হয়েছে তাকে, সেই রক্ত দিয়েছে নিল,নিল আর ফাহাদের রক্তের গ্রুপ এক!
এ্যাশের বেশি কিছু হয় নি,মাথায় একটু আঘাত পেয়েছে আর হাত একটু ছিলে গেছে!
তবুও সবাই অনেক বেশি চিন্তিত ছিলো,এদের মধ্যে সম্পর্কই এমন কারো হালকা কিছু হলেই একেকজন পাগল হয়ে যায়,বিশেষ করে ফাহাদের কিছু হলে!
এ্যাশের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই দেখছে ফাহাদের প্রতি এ্যাশের টান অনররকম,মুখে কখনো প্রকাশ না করলে সবাই জানে এ্যাশ ফাহাদকে ঠিক কতোটা পরিমাণ ভালো বাসে,ফাহাদ ও তেমন এ্যাশের জন্য নিজের জান দিয়ে দিতেও দুইবার ভাববে না সে,এই যে আহত হলো এতো গুরুতর ভাবে,তবুও তার নিজের প্রতি কোনো টান নেই জ্ঞান ফিরতেই প্রথম জিজ্ঞেস করছে এ্যাশ কেমন আছে,অথচ এ্যাশের থেকে বেশি অসুস্থ সে!
ক্লান্তিতে যখন একে অপরের কাঁদে মাথা রেখে একটু বিশ্রাম নিতে ব্যাস্ত তখনই কেনায়ার চোখ গেলো সামনের দিকে,সামনে থাকা মানুষকে দেখে এক মূহুর্তের জন্য থমকে গেলো সে,কেনায়া নিলের দিকে তাকিয়ে কনুই দিয়ে গুঁতা দিয়ে ওকে জাগালো,নিল জাগতেই সামনের দিকে ইশারা করলো সে!
নিল দেখলো পূজা হন্তদন্ত হয়ে এদিকেই আসছে চোখে মুখের অবস্থা করুন,দেখেই বুঝা যাচ্ছে কেঁদেছে অনেক!
নিল পায়ের দিয়ে লক্ষ করতেই দেখলো পা দিয়ে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে! সাদা পা এখন রক্তে রঞ্জিত!
নিল উঠে দাঁড়াতেই পূজা এসে দাঁড়ালো ওর সামনে,কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করলো
-“এ্যাশ,,,এ্যাশ কোথায়? কেমন আছে ও? ঠিক আছে? বেশি গুরুতর কিছু হয়েছে? বলোনা নিল চুপ করে আছো কেনো?
একসাথে এতো প্রশ্নে খানিক বিরক্ত হলো নিল,এতো প্রশ্ন করে তাকে উওর দেওয়ায় সময় দিচ্ছে না,আবার জিজ্ঞেস করছে “চুপ করে আছো কেনো?
নিল মুখ বাঁকালো,তারপর বিরক্ত নিয়ে দপ করে আবার ও চেয়ারে বসতে বসতে বললো
-” ঠিক আছে,সুস্থ আছে,সবল আছে,চাইলে এখনই দোড়াতে পারে,কিন্তু ওই যে রেস্ট নেওয়ার বিষয় আছে না তাই কেবিনে শুয়ে আছে,নয়তো তুমি আসার খুশিতে এখানে এসে নাগীন ডান্স দিতো!
-“কোন কেবিনে?
নিল সামনের দিকে ঈশারা করে ১২০ নাম্বার কেবিন দেখিয়ে দিতেই পূজা আর দাঁড়ালো না,ছুটলো এ্যাশের কেবিনের দিকে।
সাইফা বেগমের বাসায় এসে উঠেছে ইহান নূরকে নিয়ে,আয়ুশ ও এখানেই আছে,ওই বাসা থেকে বেরিয়েই আয়ুশকে ফোন করে জানিয়েছিলো স কথা,ফুফুর বাসায় আসতে প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও নূরের কথা চিন্তা করে এসে উঠেছে,এতো রাতে মেয়েটাকে কোথায় রাখবে,বাসা তো এতো তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব না,কম হলেও ২-৩ দিন সময় লাগবে,সে একটা হলে কোনো বন্ধুর বাসায় চলে যেতো কিন্তু নূর?সে কথা ভেবেই আয়ুশের সঙ্গে এসে উঠেছে এখানে!
আয়ুশ একমনে তাকিয়ে আছে ইহানের দিকে,ইহান চোখ বন্ধ করে বিছানার বোডে মাথা ঠেকিয়ে একহাত চোখের উপর দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে আছে! আয়ুশ গলা খাঁকারি দিয়ে ইহান বলে ডাকি দিলো,ইহান তাকাতেই ইতস্তত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো
-“হঠাৎ বিয়ে করলি যে? ওর সাথে কি তোর সম্পর্ক ছিলো? আমি তো ভেবেছিলাম তাহাকে তুই ভা…
আয়ুশের কথা শেষ হওয়ার আগেই রুমে প্রবেশ করলো কেউ,আয়ুশ ইহান দুজনেই তাকালো,নূর দাঁড়িয়ে,ইহান সাভাবিক ভাবে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেও আয়ুশ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,বাচ্চা একটা মেয়ে,ইহানের অনেক ছোট হবে,তখন নূর বোরকা পড়ে থাকায় হয়তো বুঝতে পারে নি,এখন থ্রি পিস পড়ায় দেখে বুঝতে পারলো,আয়ুশ ইহানের দিকে তাকাতেই দেখলো ইহান আবার ও চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে!
নূর আস্তে করে বললো
-“ফুফু খেতে ডাকছে আপনাদের,তাড়াতাড়ি আসতে বললো,আসুন আপনারা!
আর কিছু বললো না নূর চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো,ইহান চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে নূরের দিকে তাকিয়ে বললো
-“তুমি যাও আমরা আসছি!
মাথা নাড়িয়ে নূর চলে গেলো,আয়ুশ এবার ইহানের দিকে তাকিয়ে অবাক স্বরে প্রশ্ন করলো
-“তুই এই বাচ্চা মেয়েটাকে কেনো বিয়ে করেছিস ইহান?
-“পরিস্থিতির চাপে!
-“মানে?
-“সিলেট গিয়েছিলাম একটা গ্রামে অসুস্থ মানুষের সেবা করতে,সেই গ্রামের একজনের চিকিৎসা করে বাসায় ফিরছিলাম তখন একটা ঘর থেকে কান্নার শব্দ কানে আসলো,সেটা রেশ ধরে এগিয়ে যেতেই দেখি নূর একজন মহিলাকে জাপ্টে ধরে কাঁদছে,আমি এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই মেয়েটা কিছুটা ভয় পেলো,হঠাৎই একটা পুরুষকে নিজদের বাড়িতে দেখলে অবাক হওয়া সাভাবিক,আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে,মেয়েটা ফুপাতে ফুপাতে বললো তার মা গেছে,মহিলাটা নূরের মা ছিলেন,মহিলার শরীলে অসংখ্য মারের দাগ স্পর্শ সেই সাথে নূরকে অসুস্থ লাগছিলো আমি এগিয়ে গিয়ে ওকে ধরতেই গ্রাম বাসী সকলে হাজির,সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই কাজী ডেকে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে,এতটুকু একটা মেয়ের প্রতি ও কোনো মায়া কাজ করলো না ওদের,নিকৃষ্ট সমাজ! ওর শরীলের জামা কাপড় অনেক নোংরা ছিলো তাই ওই বাড়ির যাওয়ার আগে বোরকা কিনে দিয়েছিলাম!
-“এগুলো কবের ঘটনা?
-“কালকে রাতের!
-“তুই আমাকে তখনই কেন জানাস নি? তাহলে আমি ম্যানেজ করতাম ব্যাপার টাহ!
ইহান চুপ করে গেলো,যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন আর এসব বিষয়ে কথা বলে লাভ নেই,আয়ুশ ইহানের নিরবতা দেখে বললো
-“আচ্ছা চল,ফুপ্পি হয়তো অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য!
এ্যাশের কেবিনে আসতেই দেখলো এ্যাশ চোখের উপর হাত দিয়ে শুয়ে আছে মাথায় আর হাতে বেন্ডেজ করা!
পূজা ভিতরে প্রবেশ করা আগেই শুনা গেলো এ্যাশের গম্ভীর স্বর
-“ওখানেই দাঁড়াও পূজা! ভিতরে আসার দুঃসাহস ও করবে না!
দাঁড়িয়ে গেলো পূজা,আকুতি ভরা চোখে তাকালো এ্যাশের দিকে,নরম মিহি স্বরে বললো
-“আমাকে পু্ূজা ডাকবে না এ্যাশ,আমি তোমার জন্য নিজের ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়েছি জানো তুমি,তাহলে কেনো পূজা ডাকছো? মোহনা আমার নাম! এখন বলো কেমন আছো তুমি? আমি ভিতরে আসি একটু?
এ্যাশের কোনো ভাবান্তর নেই,নিরন্তর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিলিংয়ের দিকে! পূজার কথা কোনো উওর দিলো না,চুপ করে রইলো,পূজা আবার ভিতরে আসতে নিতেই এ্যাশ কন্ঠে রাগ ঢেলে বললো
-“কথা কানে যায় না? কি বলেছি শুনো নি? ভিতরে আসবে না তুমি!
তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো
-“আমি বিয়ে করেছি,তাই এখন থেকে আমার থেকে দূরে দূরে থাকবে,এখন যাও এখান থেকে!
এ্যাশের কথায় বুকে ভিতর তিব্র ব্যাথা অনুভব করলো পূজা,কিন্তু পরক্ষণেই এ্যাশের কথা বিশ্বাস করলো না মোহনা,এক কান ঢুকিয়ে আবার আরেক কান বের করে দিলো,এ্যাশ মজা করছে ভেবে সেটা হাওয়ায় উরিয়ে দিলো,ঠোঁটে হাসি নিয়ে আবার ও ডুকতে যেতেই এ্যাশ নিজের হাতের স্যালাইন টান দিয়ে ফেলে দিলো,চিৎকার দিয়ে বললো
-“তুমি একদমই তোমার ভাইয়ের মতো শয়তান,আমাকে শান্তি দিতে ইচ্ছে করে না তোমাদের,কখনো থেকে বারণ করছি শুনছো তুমি! এতো বেহায়া কেনো তুমি? আত্মসম্মান নেই?
এ্যাশের ব্যাবহারে খানিক খারাপ লাগলে পাওা দিলো না মোহনা,আর না এ্যাশ যে মোহনাকে কেবিনের ভিতরে
ডুকতে দিলো না তাতে অভিযোগ করলো,
না সে রাগ করে সেখান থেকে চলে গেলো
দরজার বাহিরে থেকেই মোহনা কান্নাভেজা স্বরে আবার জিজ্ঞেস করলো
-“এখন কেমন আছো এ্যাশ? এমনটা কেনো করলে?
কতো আঘাত পেয়েছো দেখেছো? বাইক থেকে কেনো
ওভাবে লাফ দিলে?
এতক্ষণ এতো কথা শুনালো এ্যাশ পূজাকে তাও তার
কোনো হেলদোল নেই কিরকম নির্লজ্জের মতো আবার তার অবস্থা জিজ্ঞেস করছে,আরো রাগ উঠলো এ্যাশের,প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে এবার তাকালো পুজার দিকে,মাথা ঠান্ডা করে গম্ভীর রাশভারি স্বরে বললো
-“-“দেখো পূজা আমার কথা তোমার ভাবতে হবে না,
আমার কথা ভাবার জন্য আমার বউ আছে,তুমি যাও এখান
থেকে তোমাকে সহ্য হচ্ছে না আমার!
এতক্ষণ পূজা ভেবেছিলো এ্যাশ হয়তো তাকে তাড়ানোর
জন্য এসব বলছে,কিন্তু এখন কেন জানি এটা বিশ্বাস করতে মন চাইলো ওর,গলা কেমন ধরে আসছে,তবুও কোনো রকমে গলা ভিজিয়ে বললো
-“ভাগ্যবতী দেখতে কেমন হয় একটু দেখাবে এ্যাশ? আমি নিজের ধর্ম ত্যাগ করেও তোমাকে পেলাম না,অথচ কেউ তোমাকে কোনো কিছু না করেই পেয়ে গেলো,তাকে একটু দেখাও না? বড্ড লোভ জাগছে তাকে দেখার!
-“যাকে তাকে আমার বউকে আমি দেখাই না নজর লাগতে পারে!
এ্যাশের কেবিনের সামনে আসলো কেনায়া নিল,কেবিনের বাইরে মোহনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একে অপরের মুখ চাওয়া করলো,তারপর এগিয়ে গেলো এ্যাশের দিকে!
মোহনা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এ্যাশের দিকে,অথচ এ্যাশের কোনো হেলদোল নেই,মোহনা নিজের চোখের জল মুছে ঘুরে দাঁড়াতেই নিলদের দেখতো পেলো,কোনো কিছু না বলেই তাদের পাশ কেটে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো!
নিল কেনায়া এ্যাশে পাশে এসে দাঁড়ালো,নিল জিজ্ঞেস করলো
-“আবার মেয়েটার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছিস?ভালো তো বাসবি না,একটু ভালো ব্যাবহার অন্তত করতে পারিস!
-“এসব ড্রামা আমার সামনে করবি না,এমনিতেই মাথা গরম সর এখান থেকে!
এ্যাশকে চেকাপ করতে ডাক্তার আসতেই কোনো কিছু না বলে নিল একপাশে গিয়ে দাঁড়ালো চুপচাপ!
রাত ১২ টা
একটা রুম দেওয়া হয়েছে ইহান নূরকে,খাওয়া দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ কথা বলে রুমে আসলো দুজন,ইহান গিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো,আকাশে আজ চাঁদের দেখা নেই,পুরো অন্ধকার,আবহাওয়া ও কেমন ঠান্ডা,ঝড় আসবে মনে হয় রাতে!
ইহান কিছুক্ষণ থেকে রুমে আসলো বাইরের ঠান্ডায় শরীলে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। রুমে আসতেই দেখলো নূর দাঁড়িয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে,মুখটা কেমন শুকনো,মেয়েটা দেখতে পুরোই বাচ্চা,আচ্ছা এই মেয়ের বয়স কতো হবে?
-“তোমার বয়স কত নূর?
-“১৫!
-“এতো কম?
-“হুম!
-“আমার বয়স জানো?
মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো নূর,ইহান বললো
-“২৮!
-“ওহ!
কিছুক্ষন চুপ থাকলো ইহান,একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ধীর কন্ঠে বললো
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৮
-“ভবিষ্যতে কখনো তোমার মনে হবে নাতো আমি তোমার পাশে বেমানান? এক জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে আমার সাথে?
নূর সাথে সাথেই উওর দিলো না,চুপ করে থাকলো কিছু সময়,একবার ইহানের দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে বললো
-“আমরা মেয়েরা যত্ন,ভালোবাসার,পূজারী,আমরা যত্ন ভালোবাসা পেলে এক জীবন কেনো বাকী সাত জনম ও একসাথে কাটিয়ে দিতে পারি!
নোট:-গল্পটা ভালো না লাগলে বলবেন,আমি দেওয়া বন্ধ করে দিবো,পরে আমার গল্পের খারাপ রিভিউ দিবেন না,একটা গল্পের কাহিনি সাজিয়ে লিখতে কিন্তু অনেক কষ্ট করতে হয়!
