Home বিষাদ ও বসন্ত বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬৪
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

পরদিন ভোরের সূচনাই ঘটল বৃষ্টিময়।বাইরে তখনো ভালোভাবে আলো ফুটেনি। শীতল একটা হাওয়া বইছে আশপাশ জুড়েই। বাতাসে বইছে একটা স্যাঁতস্যাঁত বৃষ্টিময় ঘ্রাণ। মিথি সে বৃষ্টিময় ভোরেই জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল মুঁছল।অতঃপর মেয়ের কাছে এসে কিছুটা সময় মেয়েকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে চুমু দিল। ওভাবেই কিয়ৎক্ষন চোখ বুঝে থেকে মনে হলো হিমেল ভাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে সকাল হলেই৷ অথচ মুখোমুখি হতে হবে ভাবলেই কিশোরীদের মতো আকাশসম লজ্জা ঘিরে ধরছে যেন মেয়েটাকে। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। ওভাবেই উঠে বসে বিড়বিড় করল কিছু যেন। অতঃপর রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল৷ যেতে যেতে একবার হিমেলের ঘরেও উঁকি দিয়ে দেখল। ঘুমোচ্ছে এখনো। মিথি পা বাড়িয়ে রান্নাঘরে গেল, নাস্তা বানাল, বাকি রান্নাও বসাল। অতঃপর সকালের মধ্যেই সব শেষ করে ভেবেছিল টিউশনিতে চলে যাবে। হিমেলের মুখোমুখি আর হতেই হবে। অথচ কপাল খারাপ! আজ শুক্রবার। মিথির আর টিউশনিতে যাওয়া হবে না। মিথি এইটুকু ভেবেই যখন আফসোস করছিল ঠিক তখনই কেউ একজন এসে দাঁড়াল তারই পিছনে। দূরত্ব বেশ খানিকটা নেই। ওভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে ফিসফিস স্বরে বলে উঠল,

“ ঠিক আছিস মিথি? ”
মৃদু পুরুষালি স্বরটা এবং প্রশ্নটা শুনে মিথির কেমন যেন অনুভব হলো বোধহয়৷ কিছু না করে ও, তেমন কিছু না বলেও এই মুহুর্তে ঐ প্রশ্নটা শুনেই কেমন নাজুক হয়ে গেল যেন৷একটা অদ্ভুত শিহরন ও বয়ে গেল শরীর জুড়ে। ঠিক আছে নাকি বলে কি মনে করাতে চাচ্ছে? হিমেল ফের আবারও বলল,
“ রেস্ট কর গিয়ে মিথি। ঘুমিয়ে নে কিছুক্ষন। ঘুম না হলে শরীর সুস্থ থাকে না, জানিস না? আমি নাস্তা বানানোর ট্রাই করছি। তুই যা। ”
মিথি একইভাবেই দাঁড়ানো তখনও। গলা স্পষ্ট করে এবারে উত্তর করল,
“ হয়ে এসেছে নাস্তা বানানো প্রায়, আপনি ঘুমান। নাস্তা তৈরি করে ডাক দিব। ”
হিমেল কিঞ্চিৎ হাসল এবারে। চুল গুলো ভেজা তারও। বোধহয় মাত্রই গোসল করেছে। পরনে টিশার্ট আর টাউজার। হিমেল চাপা হেসে মাথাটা নাড়াতেই ভেজা চুল থেকে জলের ছিটকে গিয়ে পড়ল মিথির ঘাড়েই। চুলগুলো একপাশে সরিয়ে রাখার দরুণ ঘাড়ে পড়া ঐ পানির বিন্দুগুলো স্পষ্টই চোখে পড়ল। মিথিও সোজা হয়ে দাঁড়াল কেমন। ঘাড়ে হাতে বুঝল পানি। পরপরই ফিরে চেয়ে দেখল হিমেলের চোখমুখ ও চুল ভেজা। বুঝল উঠেই গোসল করেছে আর তারপরই বোধহয় তার কাছে এসেছে। ভেজা চুল থেকেই বোধহয় পানির ছিটকে পড়েছে মিথি ছোটশ্বাস ফেলল। হিমেল আবারও বলল,

“ আমার নির্ঘুম ঘুমানোর অভ্যাস আছে ম্যাম। আপনি যান, ঘুমান গিয়ে। সকাল সকাল উঠে কাজ করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। ”
“ এইতো নাস্তা বানানো শেষ করেই ঘুমাব৷ আপনি যান। ”
হিমেল গেল না। ওভাবেই পিছন থেকে পাশে এসে দাঁড়িয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়াল। চাহনি মিথির দিকেই তখনো। মেয়েটা বুঝানোর চেষ্টা করছে যে সে খুব মনোযোগ সহকারেই কাজ করছে অথচ মুখে ফুটে উঠছে মনোযোগ দিতে না পারার আফসোস। মিথি ফিরে চাইল। বলল
“ চা করব আপনার জন্য? ”
হিমেল একইভাবে চেয়েই বলল,
“ আপাতত না। ”
“ দাঁড়িয়ে আছেন যে? ”
“ ইচ্ছে হচ্ছে। ”
মিথি নজর ফেরাল এক মুহুর্তের জন্য। হিমেলের চাহনি তখনও তার দিকেই নিবদ্ধ। কেমন উশখুশ লাগছে মেয়েটার। এবারে আবারও ফিরে বলল,

“ এভাবে তাকিয়ে কি দেখছেন? ”
হিমেল ঠোঁট এলিয়ে চাপা হাসল এবারে। নিজের ভেজা চুল গুলো হাত দিয়ে ঝেড়ে দিয়ে মিথির উপরেই ফেলল পানির ছিটকে। অতঃপর ঝুঁকে মিথির কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
“ আমার ব্যাক্তিগত মিথিফুলকে। ”
তিনটা শব্দ, একটা বাক্য! অথচ মিথিকে এমনভাবেই ছুঁয়ে গেল মিথি সত্যিই চোখ তুলে চাইতে পারল না। হিমেল শুধু নিঃশব্দে হাসল। কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে শুধাল,
“ আপনি জানেন? আমার জীবনের ব্যাক্তিগত মিথিফুলে আমি এতোটাই আকৃষ্ট যে জীবনের সবটুকু সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও আমার মুগ্ধতা কমবে না কখনো। এবং এবং এবং, আমি আজীবনই এই মিথিফুলের মুগ্ধতায় মুগ্ধ হতে চাই বুঝলেন? ”
মিথির মুখে ফুটল এবার বোধহয় মৃদু এক লাজুক হাসি। অন্যপাশে ফিরতে ফিরতেই বলল,
“ বুঝলাম। ”

হিমের নিঃশব্দেই হাসল। বুকে হাত গুঁজেই ওখানে দাঁড়াল কিয়ৎক্ষন। অতঃপর ফুরফুরে মন নিয়ে এল মিষ্টির কাছে। ঘুমন্ত মিষ্টিকে পুতুলের মতোই মুখে হাত দিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে হিমেল হাসল এবারে। নিজেও হাতের উপর মুখের ভর দিয়ে অনেকটা সময় চেয়ে থাকল মিষ্টির দিকে। যেন জীবন্ত এক পুতুল। মিষ্টি! হিমেল তাকিয়েই থাকে। অতঃপর কপালে চুমু দিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“ দুই দুইজন মিষ্টি। দুইজনের দিকে তাকিয়ে থেকেই মুগ্ধতা কাটে না। এত মিষ্টি কেন এই দুই মিথিফুল? এত মুগ্ধতা রাখব কোথায়? ”
এইটুকু বলেই হিমেল সোজা হয়ে বসল। মিষ্টির দিকে আরো দুয়েক পলক চেয়ে থেকে উঠল। মিথিকে বলে নিজের ঘরে যেতেই চোখে পড়ল টেবিলের উপর রাখা একটা চিরকুট। গুঁটিগুঁটি অক্ষরে লেখা,
“ জন্মদিন মিষ্টি শুভেচ্ছা সেই পুরুষটিকে যে আমার জীবনে এসে প্রতি মুহূর্তে যত্ন, ভালোবাসা এবং সম্মান দিয়ে একটু একটু করে জায়গা করে নিয়েছে আমার জীবনটায়। জন্মদিন শুভ হোক সেই পুরুষটির, আব্বুর পর যে দ্বিতীয় পুরুষটি আমায় আগলে নিয়েছে খুব যত্ন সহকারে। শুনুন? ভালোবাসি। হয়তো আপনি যতটুকু বাসেন ততটুকু নয় তবে আপনাকে মনের মধ্যে বন্দি রাখার মতোই ভালোবাসি। ”
হিমেলের মুখে আচমকায় হাসি ফুটল। ঠোঁট এলিয়ে হাসল সে চোখ বুঝেই। আওড়াল,
“ খাঁচাটা যদি আপনার মন হয়, তো আমি ইহকাল-পরকাল সবসময়ই বন্দি থাকতে রাজি মিথিফুল। ”

আয়মানের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আয়োজনটা করা হয়েছে আয়মানদের গ্রামের বাড়িটায়। বেশ বড়সড়ো বাড়িটা।সামনেই প্রশস্ত উঠোন। বাড়ির পাশেই আছে আবার বেশ বড়সড়ো এক পুকুর। আশপাশে গাছগাছালি, সবুজ ভাব সবই মন কাড়ার মতো। মিথি, হিমেল, হিয়ারা এসেছে বিকালের দিকেই। সবাই একসাথেই এসেছিল। দাওয়াত দুই পক্ষ থেকে পাওয়া হলেও হিয়ার ইচ্ছে ছিল ফিজার বাড়িতে যাবে। যতহোক, ফিজা আপুর সাথেই তাদের প্রথম পরিচয়। অথচ মিথির কথাতে এখানে এল। কারণ আয়মান ভাই নাকি কষ্ট পাবে, সাথে বিয়েতে তো ফিজাদের বাড়িতে যাবেই। সে অনুযায়ীই এল আয়মানদের বাড়িতে। হিয়া আশপাশ দেখছিল। মিষ্টি তখন হিয়ার কোলেই। চোখজোড়া মেলে এপাশ ওপাশ দেখছে মিটমিট করে। এই প্রথম সে এতদূর ঘুরতে এসেছে। প্রথমবারের মতো গ্রামীণ পরিবেশ দেখে বোধহয় উচ্ছ্বাস লাগছে ওর। মিথি চেয়ে চেয়ে দেখছে। হেসে এর পরমুহুর্তেই মিষ্টিকে কোলে নিল। হাত বাড়িয়ে ডালে বসা একটা পাখি দেখিয়ে শুধাল,

“ আম্মু দেখো, একটা পাখি। ”
মিষ্টি উচ্ছ্বাস নিয়েই চাইল। বোধহয় ধরতেও চাইল। তাই তো হাত বাড়াল দ্রুতই। তারপর হাত মুঠো করে নিয়ে বলল,
“ একতা পাকি। ”
“ উহু, পাখি আম্মু। বলো পাখি.. ”
মিষ্টি আবারও বলল,
“ পাকি। ”
“ পাখি..”
ফের আবারও বলল,
“ পাকি…”
মিথি এই পর্যায়ে হার মানল। মেয়েকে ওভাবে কোলে নিয়েই দেখাল একে একে গ্রামীণ পরিবেশের সবকিছু। আর দূর থেকে তা স্থির চাহনি ফেলে দেখে যাচ্ছিল হিমেল নামক পুরুষটা। চাহনিটা শান্ত, স্থির। যেন একটা সুন্দর দৃশ্য!

আয়মানের হলুদ অনুষ্ঠানের জন্য সাঁজানো হলো সারা বাড়ি। মিটমিট করা আলোতে সাঁজানো হয়েছে প্রায় পুরোবাড়ি। ছাদটাও সাঁজানো হয়েছে বেশ সুন্দরভাবেই। আর সে ছাদেই আড্ডা বসল আয়মানদের বন্ধুদের। এদের মধ্যে সাবিহাকেও দেখা গেল একপলক। সম্ভবত কয়েদিন আগেই সাবিহার আকদ হয়েছে। আর যে মানুষটার সাথে আকদ হয়েছে সে মানুষটাও হিমেল আর আয়মানের একসময়ের বন্ধু। মিথি একপলক দেখেছে অবশ্য। হলুদ শাড়ি পরেছে, চোখে দিয়ে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে লাল রঙা লিপস্টিক। কানে গুঁজেছে একটা গোলপও। মোটামুটি হলুদে সবারই একই সাঁজ বলা চলে। হলুদ শাড়ি, সাদা ব্লাউজ। মিথিও একই ভাবেই হলুদ আর সাদার মিশ্রণে একটা শাড়ি পরেছে।চোখে দিয়েছে অল্প কাজল। হিয়ার বাড়াবাড়িতে চুলে গুঁজেছে একটা বেলিফুলের মালা। এখানকার গাছে ফোটা ফুল দিয়েই বানিয়েছে মেয়েটা৷ ঠিক একইভাবে সেঁজেছে হিয়া আর মিষ্টিও। তারপর মিথিকে কোলে নিয়ে প্রায় বিশ ত্রিশটা ছবিটা তুলে নিয়েছে হিয়া। এবং প্রতিবারই ছবি দেখছে আর বলছে,

“ কি চমৎকার! কি চমৎকার! আমার মিষ্টুটাকে কোলে নিয়ে আমাকেও মিষ্টু লাগছে রে মিথি।”
মিথি হাসল। হিয়া তখনও মিষ্টিকে কোলে নিয়েই বসা। মিষ্টির সাথে তোলা গুলোর দুয়েকটা ছবি স্টোরিতে দিয়েই ফের আবারও ফুরফুরে মনে ঘুরল, ফিরল, অনুষ্ঠান উপভোগ করল।সাথে অবশ্য মিথি ও আছে।
হিমেল দূর থেকেই মিথিকে দেখছিল। পরনে হলদে সাদার মিশ্রনে একটা শাড়ি। চোখে অল্প কাজল। খোলা চুলে বেলিফুলের মালা জড়ানো আর হাতে সেদিনের কাঁচের চুড়ি গুলোই। ঠিক একইভাবে সেঁজেছে মিষ্টিও। একটা আদুরে পুতুল যেন। মা মেয়ে দুইজনকেই দূর হতেই বারবার পরখ করছিল হিমেল। বিয়েবাড়ির এত ভীড়েও কেন জানি না বারবার চোখ তার ঐদিকেই যাচ্ছিল। হিমেলের একবন্ধু তা দেখে বলেও ফেলল দাঁত কেলিয়ে,
“ কি দোস্ত? বারবার ওদিকে কি দেখিস? ম্যাজিক চলছে নাকি ওদিকটায়?”
আয়মানও সাঁই দিল। বলল,
“ কিরে? মেয়েদের দিকে না তাকানো হিমেল হঠাৎ ওদিকে কোন এক মেয়ের দিকেই তাকাচ্ছে কেন বারবার? ”
হিমেল ভ্রু বাঁকাল। গম্ভীর গলায় উত্তর করল,

“ কেন তাকাচ্ছি তা সিক্রেট বিষয়। তোদের বলতে বাধ্য নই। ”
আয়মানও ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,
“ কাকে বলতে বাধ্য তাহলে? ”
“ এটাও বলতে বাধ্য নই। ”
এইটুকু বলেই হিমেল সরে দাঁড়াল অন্যত্র। এমন গম্ভীর মুখ করে সরে গেল যেন সিরিয়াস কিছু। অথচ হিমেলের নিজেরও আফসোস হচ্ছে। একই সাথে হাসিও পাচ্ছে। আশপাশে এতকিছু থাকতে চোখ ঘুরিফিরেই ওদিকেই কেন যাচ্ছে? কি মুশকিল!
একপর্যায়ে নিজের চোখের প্রতিই বিরক্ত হলো হিমেল। কেমন বেহায়ার মতো বারবার তাকাচ্ছে। কই, মিথি তো তার দিকে একবারও তাকাল না। হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে। মনে মনে মিথির দিকে আর তাকাবে না প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিড়বিড় করল,
“ মিষ্টির মতো করে মিষ্টির আম্মুরও শাড়ি পড়া কি খুব জরুরী ছিল? এখন যে বুকের বা পাশে চিনচিনে এক ব্যাথা আমায় অসম্ভব জ্বালাচ্ছে। চোখ জোড়াও বেঈমানী করছে। ঘুরেফিরে ওর দিকেই নজর যাচ্ছে বেহায়ার মতো।কি আশ্চর্য! এত যন্ত্রণায় কবে না আমি মরে যাই খোদা! ”

হিয়ার ফোনে প্রায় ঘন্টাখানেক পর একটা ম্যাসেজ এল। ম্যাসেজটা দীপ্ররই। কথাবার্তা খুব স্বাভাবিক। বন্ধুর মতো করেই লিখেছে ম্যাসেজে,
“ এক পুতুলের সাথে অন্য একটা পুতুল। আমি তো চিন্তায় আছি। তোকে কেউ তুলে নিয়ে গেলে ওখান থেকে? একটাই বেস্টফ্রেন্ড আমার। ”
হিয়া দেখল ম্যাসেজটা। মুখে ফুটল মলিন এক হাসি। বেস্টফ্রেন্ড হারিয়ে গেলে কিচ্ছু এসে যায় নাকি? হিয়ার তো ইচ্ছে হয় হারিয়ে যেতে। অনেক দূরেএএ! যেখানে দীপ্র থাকবে না। দীপ্রর ছায়া অব্দি থাকবে না। এইটুকু ভেবেই রিপ্লাই করল,
“ তোর বেস্টফ্রেন্ডকে অলরেডি কেউ চুরি করে নিয়েছে। তবে চোরটা সম্ভবত কোন ক্ষতি করবে না। নো চিন্তা! ”
প্রায় সাথে সাথেই সিন হলো ম্যাসেজটা। রিপ্লাই এল,

“ কে সে? ”
“ যার সাথে বিয়ের কথা ঠিক হলো। ”
দীপ্র এরপর আর রিপ্লাই করল না। তবে সেকেন্ড দুই পার হতেই কল এল। হিয়া প্রথমেই রিসিভড করল না। ঠিক একই সময়েই কল এল ফিজারও। হিয়া ফিজার কলটা তুলেই কথা বলল ঘন্টাখানেক। আয়মানের কথা, কি কি করছে সবই বলা হলো। অতঃপর ঘন্টাখানেক পর হিয়া কল রাখল যখন তখন ফের আবারও দীপ্রর কল এল। হিয়া এবার ছোটশ্বাস ফেলে রিসিভড করতেই ওপাশ থেকে শোনা গেল,
“ এতক্ষন লাগে? কার সাথে এত কথা বলছিল তুই? ”
হিয়া শুনল। ছোটশ্বাস ফেলে একপ্রকার মজা করেই বলল,
“ হবু বরের সাথে। ”
দীপ্র তখন কন্ঠে বিস্ময় নিয়েই বলল,
“ রিয়েলি? তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আসলেই? বললি না কেন আমাকে? ”
হিয়ার মজা মজা কন্ঠটা কেমন নেমে এল এবারে। দীপ্রও তো তাকে বলে নি। বেস্টফ্রেন্ডের গুরুত্বটা দেয়নি তো তাকে। জানায়নি। হিয়া জেনেছিল দীপ্রর আম্মুর থেকে। তাহলে? দীপ্র আসলেই বন্ধু ভাবত তাকে? হিয়া নরম গলায় আক্ষেপ নিয়ে বলল,

“ তুইও তো বলিসনি আমাকে তোর বউয়ের কথা। ”
ওপাশ থেকে একরোখা স্বর এল,
“ এরজন্য বলবি না আমাকে? আশ্চর্য!ফোনও তুলছিলি না এতক্ষন। মনে হচ্ছে এমনি এমনি কল দিয়েছি। কোন দরকার থাকতে পারে না? তোর প্রেমালাপের থেকে তো দরকারি কিছুও থাকতে পারে তাই না? ”
হিয়া এই পর্যায়ে আরো একটা কথা জানাল শান্ত, নরম গলাতেই,
“ দীপ্র, আমার আকদও হয়ে গেছে। তোকে জানানো হয়নি ব্যস্ততায়। তো এই পর্যায়ে আমার কাছে প্রেমালাপ ব্যাতীত অন্যকিছু গুরুত্বপূর্ন হওয়ার কথাও নয়। তাই না? আমার হবু বর চায় না আমি কোন ছেলের সাথে যোগাযোগ রাখি। ”

ওপাশের দীপ্র তখন থম মেরে গেল বোধহয়। মনে হলো যেন ভুল শুনছে সে। হিয়া বলল কি? আকদ হয়ে গিয়েছে? ব্যস্ততা? ব্যস্ততার জন্য জানানো হয়নি? অথচ দীপ্রর সাথে হিয়ার কথা হতো প্রায়ই। হ্যাঁ, যোগাযোগটা আগের থেকে কমে আসছিল। কিন্তু হতো তো কথা মাঝেমাঝেই। তখন ও কি জানানো যেত না?এতোটাই ব্যস্ততা? একবারও বলল না? একবারও না? হিয়া ততক্ষনে কল রেখেছে। আকাশের পানে চেয়ে বিড়বিড় করে বলল,

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬৩

“ আমরা যাদের মন থেকে চাই তারা সবসময়ই থাকে অন্য কারোর ভাগ্যে, অন্য কারোর ঘরে।আর আমাদের ভালোবাসাটা থেকে যায় ঐ না পাওয়াতেই। যাদের পাওয়ার জন্য আমাদের এত আকুতি, মিনতি, প্রার্থনা তাদের বিনা চাওয়াতেই কেউ না কেউ পেয়ে যায়। অদ্ভুত না? ”

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৬৫