Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৭
সুমাইয়া ইসলাম নূর

ধীরে ধীরে রাত অনেক গভীর হয়ে উঠছে
চৌধুরী ভিলার করিডোরজুড়ে নীরবতা নেমে এসেছে। বিশাল বাড়িটার প্রতিটি কোণ যেন দিনের কোলাহল শেষে শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
জানালার কাঁচে মাঝে মাঝে রাতের বাতাস এসে ধাক্কা দিচ্ছে।নিজের স্টাডি রুমে বসে এখনও কিছু অফিসিয়াল ফাইল দেখছে ইউভি
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে সই করে অবশেষে ফাইলগুলো বন্ধ করল সে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল অনেক রাত হয়ে গেছে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল।রুমে ঢুকেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল বিছানার উপর।ইনায়া ঘুমিয়ে আছে।
তবে আজ আগের মতো ইউভির বালিশে ঘুমোই নি যে বিছানায় এতোদিন এক টা বালিশ ছিলো আজ সেখানে দুই টা বালিশ ইউভির বুঝতে বাকি রইলো না তার অভিমানী বউ টা ইচ্ছে করেই দূরে সরে শুয়ে আছে।মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে রেখেছে।
ইউভির ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

— বেয়াদব মেয়ের আবার অভিমানও হয়েছে…
ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে সে আলতো করে কমফোর্টারটা টেনে ইনায়ার গায়ে ভালোভাবে জড়িয়ে দিল।তারপর নিচু হয়ে কপালে খুব আস্তে করে ঠোঁয় ছুঁইয়ে দিল।মৃদু স্বরে বললো
— আমার চাচির বেটি
এর পর ধিরে ধিরে বের হয়ে গেল রুম থেকে
করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তার চোখ গেল রেদোয়ানের রুমের দিকে।দরজাটা আধখোলা।
ইউভি ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে গেল।তারপর ভেতরে উঁকি দিতেই যা দেখল তাতে মুখটা বিরক্তিতে ভরে গেল।
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রেদোয়ান দিব্যি আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানছে।মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ সে।ইউভি কপালে হাত ঠেকাল এর পর ফিসফিস করে বললো । ইডিয়ট… যেমন বোন তার তেমন ভাই। একজন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধায়, আরেকজন মাঝরাতে দাঁড়িয়ে ফুসফুস পোড়ায়।
কিছু না বলে আবার সেখান থেকে চলে গেল।

এরপর ধীরে ধীরে গিয়ে থামল পিয়াসার রুমের সামনে।দরজা হালকা খোলা।ভেতরে শুধু নাইট ল্যাম্পের মৃদু আলো জ্বলছে।ঘরের পরিবেশটা শান্ত।পিয়াসা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।বিছানার পাশে রাখা অ্যারোমা ডিফিউজার থেকে হালকা সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।ইউভি ভেতরে ঢুকে প্রথমে কমফোর্টারটা ভালোভাবে গায়ে টেনে দিল।
তারপর বিছানার পাশের আরামকেদারাটা টেনে বসে পড়ল।কিছুক্ষণ শুধু চুপচাপ নিজের ছোট বোনটার দিকে তাকিয়ে রইল।তার চোখে তখন অদ্ভুত এক মমতা।ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে পিয়াসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।এরপর কপালে খুব আলতো করে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো
আমার পিচ্চি বোনটা… তুই ভাবলি কী করে যে তোর ভাইয়া তোকে ছাড়া থাকতে পারবে?
আমি তো তোকে সারাজীবন আগলে রাখবো।
কথাগুলো বলেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর মাথা উঁচু করে উপরের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল— আল্লাহ…আমার ভাগ্যের সুখটুকু আমার বোনের ভাগ্যে লিখে দিও। রেদোয়ান এর সাথে ও যেন সুখে শান্তিতে থাকে কিছুক্ষণ পর ইউভি উঠে দাঁড়াল।লাইটটা আরেকটু কমিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের রুমে ফিরে এল।
রুমে ঢুকেই দেখল ইনায়া এখনও আগের মতোই মুখ ফিরিয়ে শুয়ে আছে।অভিমান যে এখনও যায়নি, সেটা স্পষ্ট।ইউভির ঠোঁটে আবারও মৃদু হাসি ফুটে উঠল।ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে এসে মেয়েটাকে নিজের দিকে টেনে নিল।ঘুমন্ত অবস্থাতেই ইনায়া অবচেতনভাবে তার বুকের কাছে সরে এল।ইউভি আলতো করে তাকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু দিল।তারপর মুচকি হেসে ফিসফিস করে বললো আমার বেয়ান… রেডি থেকো বেয়ান তোমাকে খুব যত্ন সহকারে বোঝাবো
বেয়ান আর বেয়াই কাকে বলে।

বাইরে রাতের ঠান্ডা বাতাস বইছে।আর চৌধুরী ভিলার ভেতর ধীরে ধীরে নেমে এলো প্রশান্ত এক নীরবতা।সকালের নরম রোদ জানালা ভেদ করে ঢুকে পড়েছে বিশাল চৌধুরী ভিলার ডাইনিং হলে। চারপাশে এক অদ্ভুত ব্যস্ততা। আজ রাতেই সেই বহুল আলোচিত কর্পোরেট গালা পার্টি।ডাইনিং টেবিলে প্রায় সবাই উপস্থিত।
লিখন চৌধুরী, রেশমা চৌধুরী, রায়হান চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী,রবিউল চৌধুরী, সাবিহা চৌধুরী, রাইহান চৌধুরী, ইউভি, রেদোয়ান, ইনায়া, পিয়াসা, তিয়া, আয়াত, আতিকা রিদ সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে আছে।
কফির কাপ নামিয়ে লিখন চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বললেন আজ রাতের পার্টিতে পরিবারের সবাই উপস্থিত থাকবে। এটা শুধু একটা পার্টি না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজনেস টাইকুন, ইনভেস্টর, কর্পোরেট চেয়ারম্যান, মিডিয়া প্রতিনিধি সবাই থাকবে। নতুন প্রজেক্ট, নতুন ইনভেস্টমেন্ট, পার্টনারশিপ, বিজনেস এক্সপানশন— সবকিছুর ভিত্তি তৈরি হয় এই ধরনের অনুষ্ঠানে।তিনি ইনায়ার দিকে তাকালেন। নূর এটা তোমার জন্যও বড় সুযোগ। আজ তুমি IVA Group-কে রিপ্রেজেন্ট করবে।ইনায়া মাথা নেড়ে বললো জি বড় আব্বু।
এরপর লিখন চৌধুরী তিয়ার দিকে তাকালেন।

তিয়া, LLB Company-র দায়িত্বও এখন থেকে তোমাকেই সামলাতে হবে কারণ যেহেতু রাইহান তোমার নামে সবকিছু লিখে দিয়েছে সেহেতু তুমি সব সামলাবে।
তিয়া মুখে হাসি এনে বললো অবশ্যই ।
ঠিক তখনই ইউভি খুব সূক্ষ্মভাবে রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে একটা ইশারা করল।রেদোয়ান কোনো কথা না বলে পাশের ফাইল থেকে একটা ডকুমেন্ট বের করে রায়হান চৌধুরীর সামনে রাখল।চাচ্চু, এখানে সাইন করে দিন।রায়হান অবাক হয়ে বললেন—
এটা কী?রেদোয়ান শান্ত কণ্ঠে বললো ASU আর LLB Company-র মধ্যে নতুন বিজনেস ডিল।
রায়হান দ্বিতীয়বারও না পড়ে সোজা সাইন করে দিলেন। ইউভি আছে যখন, চোখ বন্ধ করেই সাইন করা যায়।কথাটা শুনে সবাই সবাই হালকা হেসে উঠল।আর ওদিকে তিয়ার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।মুখে কিছু না বললেও মনে মনে বললো

আমি নিজেই জানি না কোম্পানির সব ফাইল কোথায় আছে।কার কাছে আছে আজ যদি কিছু সামনে চলে আসে…না, যেভাবেই হোক সামলাতে হবে।ঠিক তখন ইউভি কফির কাপ নামিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল সবাই প্রস্তুত থাকবে।রাত ঠিক আটটায় আমরা রওনা দেব। আর একটা কথা। এটা কোনো সাধারণ পার্টি না। সেখানে মিডিয়া থাকবে, আন্তর্জাতিক অতিথি থাকবে, বিজনেস প্রেজেন্টেশন হবে, নতুন ডিল সাইন হবে, নতুন পার্টনারশিপ ঘোষণা হবে। তাই সবাই নিজের বেস্ট ভার্সনটা নিয়ে যাবে।সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
এদিকে তিয়া উঠে দাঁড়াল। বাপি, আমি একটু শপিংয়ে যাব। তারপর সরাসরি অফিসে যাবো
রায়হান চৌধুরী স্নেহভরে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ঠিক আছে মা। সাবধানে যেও।
তিয়া ঝুঁকে বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
ঠিক তখনই রেদোয়ান ফিসফিস করে বললো বড্ড ঢেমনা ছেমরি তো নাটকবাজ ধূর আর সহ্য হয় না আর কতো কি দেখবো

ঠিক তখনই পুরো এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিজের মাথায় ঢেলে দিল রেদোয়ান।পুরো ডাইনিং টেবিল এর সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।আয়াত চোখ বড় বড় করে বললো।হায় আল্লাহ!ভাইয়া, তোমার কি এত গরম লাগছে?আতিকা খিলখিল করে হেসে উঠল।
ভাইয়া, চুল কেটে ফেলো।একদম টাক্কু হয়ে যাও।
তাহলে আর গরম লাগবে না।চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেল।লিখন চৌধুরীও হাসি চাপতে চাপতে বললেন কী হয়েছে তোমার, রেদোয়ান?
রেদোয়ান ভেজা মাথা মুছতে মুছতে বললো কী আর হবে? যা হচ্ছে, তা আর হজম করতে পারছি না। নিচে নামার বদলে সব উপরে উঠছে।কথাটা শুনে সবাই মুখ টিপে হাসল।
পিয়াসা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো উঠবে না কেন?

—ওই মাথায় কিছু আছে নাকি? একদম ফাঁকা
খালি জায়গা পূরণ করার জন্যই সব উপরে উঠছে।
রেদোয়ানও মুচকি হেসে বললো এই মাথার ভেতর কী আছে সেটা পৃথিবীর সবাই না জানলেও… তুই খুব ভালো করেই জানিস, পিহু।পিয়াসার মুখের হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
ঠিক তখনই ইউভি গম্ভীর স্বরে বললো।বাবা আগামীকাল থেকে বিয়ের সব আয়োজন শুরু হয়ে যাবে। আত্মীয়স্বজনদের ইনভাইট করা থেকে শুরু করে.. বোনুকে বিদায় দেওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব আমি আর রেদোয়ান দুই ভাই মিলে সামলাবো।
তারপর রেদোয়ানের দিকে তাকাল।

— কী বলিস, ব্রো?
রেদোয়ানের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বললো
“বিয়ে হবে ঠিকই, ভাইয়া…”
“তবে পিয়াসা জন্নাত চৌধুরীর বিয়ে হবে মাহতিব রেদোয়ান চৌধুরীর সাথেই।”আমার পিহু শুধু আমার।”মুখে হাসি রেখেই বলল—
অবশ্যই ভাইয়া।করতেই হবে।কেন করব না?
কথাটা শুনেই পিয়াসা চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল।
রাগে তার চোখ লাল হয়ে গেছে। হ্যাঁ! তুমি তাই করো। তোমার আর কোনো কাজ নেই তো।?
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না।
দ্রুত পায়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
পিয়াসা চলে যেতেই ইনায়াও রেগে গিয়ে ইউভির দিকে তাকাল। আর শুনে রাখুন।আমার থেকে আমার বেবিকে আলাদা করলে। আমিও আপনার থেকে অনেক দূরে চলে যাব। বলে দিলাম।ইউভি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।কিন্তু ইনায়া আর দাঁড়াল না।

সে-ও দৌড়ে পিয়াসার পেছনে চলে গেল।
ডাইনিং হলে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এলো।
রেশমা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
রায়হান চৌধুরী চিন্তিত মুখে মেয়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।আর ইউভি চুপচাপ বসে রইল।তার চোখে অদ্ভুত এক স্থিরতা।

সন্ধ্যা নেমে এসেছে অনেক আগেই।
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে চৌধুরী ভিলার প্রতিটি মানুষ ঘরে ফিরেছে কিন্তু আজ বাড়িটার পরিবেশে সেই চেনা প্রাণচাঞ্চল্য নেই।
কারণ বাড়ির বাদর দুইটা এখনও অভিমান করে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে।ইনায়া আর পিয়াসা।
পিয়াসা বিকেল থেকেই নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
নিজের রুমে যাওয়ার আগে রেদোয়ান একবার পিয়াসার দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।দরজাটা ভেতর থেকে লক করা।রেদোয়ান নরম কণ্ঠে বলল,
—পিহু… দরজাটা খোল। ঠিক তখনই ইউভি করিডর এ এসে দারালো। রেদোয়ান আবার বললো
তোর জন্য একটা গিফট এনেছি।
কোনো উত্তর নেই।রেদোয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল।
আবার বলল,পিহু ঠিক আছিস তো? শরীর খারাপ লাগছে?কথা বল না পিহু, ভয় পাইয়ে দিস না আমাকে।
ঠিক তখনই ভেতর থেকে ঝট করে দরজা খুলে গেল।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পিয়াসা।মুখ ফুলিয়ে।চোখে স্পষ্ট রাগ।পিয়াসা দু’হাত কোমড়ে রেখে বলল, কী হয়েছে?
কেন এত ডাকাডাকি করছ?আমি তো চলেই যাচ্ছি। শ্বশুরবাড়ি কংগ্রাচুলেশন জানাতে এসেছ নাকি?রেদোয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

তারপর হাতে থাকা প্যাকেটটা এগিয়ে দিল।
পার্টিতে এটা পরে যাবে আমার পাখি কেমন ।পিয়াসা প্যাকেটটা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল।হাঁটতে হাঁটতে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,আহারে আমার সোনা পাখিটার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? পাখিটা উড়ে যাবে।অন্যের খাঁচায় গিয়ে বন্দি হবে।কথাটা শেষ হওয়ার আগেই—রেদোয়ান এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিল।পিয়াসা হতভম্ব হয়ে গেছে
রেদোয়ানের বুকের ধুকপুকানি যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।সে নিচু গলায় বলল, কী বললি তুই?আমার পাখি অন্যের খাঁচায় যাবে? তুই শুধু আমার পাখি।সারাজীবন আমার আকাশেই উড়বি।তোকে কে বন্দি করবে? তোর বিয়ে আমি অন্য কোথাও হতে দেব?পিয়াসা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল।তারপর ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল।

এরপর মিডিল ফিঙ্গার দেখিয়ে চিৎকার করে বলল, এইটা করবে?রেদোয়ান হেসে ফেলল।আরে না। তোর মতো ঘাড়তেরা মেয়েকে অন্য কারো জীবনে জড়িয়ে আমি এত বড় পাপ করতে পারব না। বেচারা ছেলেটা তো বিয়ের পরদিনই হাসপাতালে ভর্তি হবে।আমি না হয় সারাজীবন তোর অত্যাচার সহ্য করে নিলাম।
পিয়াসা রাগে ফুঁসতে লাগল। কী বললে?আমি অত্যাচার করি? আমি তোমাকে আজকেই মেরে ফেলব!বলেই ধুমাধুম রেদোয়ানের বুকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করল।রেদোয়ান শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে।মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে দামি মুহূর্তটা উপভোগ করছে সে
এদিকে…ইউভি নিজের রুমে ঢুকেই চারপাশে চোখ বুলালো ইনায়া কোথাও নেই বিছানায় নেই সোফায় নেই।স্টাডি টেবিলেও নেই।একটু খুঁজেই সে বারান্দার দিকে গেল।গিয়ে দেখল—
বারান্দার এক কোণে অ্যালোভেরা গাছের টবের পাশে মেঝেতে বসে আছে ইনায়া।মুখটা ভার।স্পষ্ট অভিমান।ইউভি ধীরে ধীরে গিয়ে তার পাশেই বসে পড়ল।ইনায়া দেখেও না দেখার ভান করল।ইউভি শান্ত গলায় বলল,
দুপুরে খেয়েছিস?

— না।
— কেন?
— ইচ্ছা করেনি।
— কেন ইচ্ছা করেনি, আদর?
ইনায়া এবার মুখ ঘুরিয়ে তাকাল।
অভিমান ভরা চোখ। আপনি ভালো করেই জানেন, ইউভি ভাইয়া।কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,
ইউভি ভাইয়া বেবির বিয়ে দিয়েন না।ইউভি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।তারপর গম্ভীর মুখে বলল,
ওকে, বেয়ান।আপনার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য হলেও ওকে অন্য কোথাও বিয়ে দেব না। কী বেয়ান, এবার খুশি?ইনায়া অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে ফেলল।কীইই? সত্যি?ইউভি মুচকি হাসতেই।ইনায়া ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।আমি জানতাম!আপনি খারাপ না!আপনি পৃথিবীর বেস্ট ভাইয়া পিয়াসার বেস্ট ভাইয়া ইউভি হেসে মাথা নাড়ল।কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার হাত ধরে টেনে নিজের একদম কাছে নিয়ে এলো তারপর ধীরে ধীরে ইনায়ার দিকে ঝুঁকে এল।

গম্ভীর কণ্ঠে বলল বেয়ান, একটা কথা মনে রাখনেন।ইনায়া কৌতূহলী হয়ে বললো কী কথা?
ইউভি নিচু স্বরে বললো আজ আমি তোকে যে কথা গুলো বলেছি সেটা কিন্তু কাউকে বলা যাবে না।
বিশেষ করে পিয়াসা আর রেদোয়ানকে না।
ইনায়া অবাক হয়ে বললো কেন?বেবি আর রেদোয়ান ভাইয়াকে বলব না কেন?

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৬

ইউভির ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। এর পর ইনায়া নাক টা টেনে বললো সাধে কি আর বলি বুদ্ধি হাটুতে। কারণ সময় না আসা পর্যন্ত কিছু কথা গোপন থাকাই ভালো।আর এই কথাটা যদি ওরা জেনে যায় তাহলে পুরো প্ল্যানটাই নষ্ট হয়ে যাবে।ইনায়ার চোখ কৌতূহলে বড় হয়ে গেল।
প্ল্যান? কীসের প্ল্যান?ইউভি আলতো করে তার নাকে টোকা দিয়ে বললো এত জানতে হবে না।
শুধু এটুকু জানো

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here