শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৭
সুমাইয়া ইসলাম নূর
ডাইনিং হলজুড়ে তখনও হাসির রেশ কাটেনি।
ইউভি এখনও নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ইনায়ার শাড়ির আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এক হাতে নিজের হাত মুছছে, আর ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি।
ইনায়া রাগী কণ্ঠে বলল, ছুঁবেন না আমার শাড়ির আঁচল ছাড়ুন
ইউভি মুচকি হেসে বললো ধরেছি বুঝি, ছাড়তে বলছেন যে?
ইনায়া রেগে বললো অসভ্য লোক একটা আমার আঁচলটার কথা বলছি ইউভি আবারো ফিসফিস করে বললো আপনার আঁচলটা না, আমি তো আপনাকেই ধরে রেখেছি। ভুলটা আপনার হয়েছে, মিসেস চৌধুরী।
ইনায়া এবার কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
আমার রান্না বাজে? আমি এত কষ্ট করে পকোড়া বানিয়েছি। শুধু বড় মা বেসন মেখে দিয়েছেন, আর মা সেটাকে ভেজে দিয়েছেন। বাকি সব আমি-ই তো সব করেছি। একটু তো বলতে পারতেন, ভালো হয়েছে।
ইউভি গম্ভীর মুখ করে বলল,
— না… ভালো হয়েছে।এক মুহূর্তের জন্য ইনায়ার মুখে হাসি ফুটতেই ইউভি আবার বলল, আমার মা সবকিছু রেডি করে মেখে দিয়েছেন, মেজো মা ভেজে দিয়েছেন। ভালো তো হবেই।
কথাটা শুনেই ইনায়ার মুখটা আবার কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল। সেই তো… মা আর বড় মারই প্রশংসা করলেন। ধুর! ভালো লাগে না। আপনি ছাড়ুন আমার শাড়ির আঁচল… অসভ্য লোক!
ইউভি হেসে বলল,ছাড়ব না, মিসেস চৌধুরী। আপনার শাড়ির আঁচলেই যে আমাকে বেঁধে ফেলেছেন । এখন বলেন আপনাকে ছেড়ে আমি দূরে যাই কী করে?
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল,
— বড় মা! তোমার অসভ্য ছেলেকে সামলাও!
ইনায়ার কথা শুনে উপস্থিত সবাই মুখ চেপে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।ঠিক তখনই ছোট্ট আয়াত দৌড়ে এসে ইনায়ার হাত ধরে বলল, ঠিক আছে। আমার ইউভি ভাইয়া আর তোমার কাছে যাবে না। তুমি আমার সঙ্গে আসো, তো ভাইয়া আমি শাড়ি পরে তোমার বউ সাজব!আয়াতের কথা শুনে পুরো ডাইনিং হলজুড়ে উচ্চস্বরে হাসির রোল পড়ে গেল।
ঠিক সেই সময় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে রেদোয়ান হেসে বলল,কী নিয়ে এত হাসছ তোমরা? শুনি!
কিন্তু রেদোয়ানের কথা শেষ হওয়ার আগেই হন্তদন্ত হয়ে চৌধুরী ভিলায় ঢুকে পড়লেন রাইহান চৌধুরী।
ভেতরে ঢুকেই হাততালি দিতে দিতে বললেন,
বাহ, বাহ! সবাই কত খুশি! বাড়ির এক মেয়েকে পেয়ে অন্য মেয়েকে তো একেবারে ভুলেই গেছ!
রাতিব চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেন, কার কথা বলছিস তুই?রাইহান চৌধুরী কোনো দ্বিধা না করেই বললেন, কে আবার? আমার মেয়ে… তিয়া চৌধুরী।
তিনি আবার বললেন, মেয়েটাও তো কাল থেকে বাড়িতে নেই তোমরা কী তা জানো
রাইহান চৌধুরীর কথা শুনে উপস্থিত সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।মুহূর্তের মধ্যেই যেন সবার হুঁশ ফিরল।রেশমা চৌধুরী বিস্মিত কণ্ঠে বললেন, সত্যিই তো! কিন্তু আমরা তো ভেবেছিলাম তিয়া তোমার সঙ্গেই আছে। তোমার ফ্ল্যাটেই আছে। মেয়েটা তো এই বাড়ির হৈচৈ খুব একটা পছন্দ করে না। তাই ভেবেছিলাম তোমার সঙ্গেই রয়েছে।
রাইহান চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন না ভাবি ও আমার সাথে নেই।তার কথা শেষ হতেই রেশমা চৌধুরীও নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।এদিকে ইউভি আর রেদোয়ান একে অপরের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ উচ্চস্বরে হেসে উঠল।
রেদোয়ান মাথা নেড়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
লাইক সিরিয়াসলি, চাচ্চু? তিয়া তোমার মেয়ে
রাইহান চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।কী বলতে চাইছিস?ইউভি ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো। ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল, তিয়া আপনার মেয়ে… এতে কোনো সন্দেহ নেই, চাচ্চু।একটু থেমে সবার দিকে তাকিয়ে আবার বলল, কিন্তু ও তিয়া চৌধুরী নয়, চাচ্চু তিয়া মালিথা।
কথাটা শুনেই পুরো ড্রইংরুম এর সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।লিখন চৌধুরী রাগে উঠে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বললেন, কী বলছ, ইউভি? তোমার মাথা ঠিক আছে?ইউভি একটুও বিচলিত হলো না।
বরং আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলল, আমি শেহজাদ ইউভি চৌধুরী। আমার মুখ থেকে একটা ওয়ার্ড বের হওয়ার আগে আমি হাজারবার ভেবে দেখি। আর আপনি বলছেন, আমি কী বলছি?তার কণ্ঠে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তা জরানো ছিলো।
ঠিক তখনই বাইরে একটি গাড়ি এসে থামল।
হইচই শুনে দ্রুত ভিলার ভেতরে প্রবেশ করলেন রিমঝিম চৌধুরী। তার পাশে রাশেদ মির্জা।
দুজনেই বিস্মিত হয়ে সামনে এগিয়ে এলেন।
ইউভি আবারও শান্ত কণ্ঠে বলল, তিয়া চৌধুরী নয় তিয়া মালিথা।তারপর রাইহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে এক এক করে বলতে শুরু করল,তোমার এক্স ওয়াইফ রুমি… সে সাজ্জাদ মালিথার পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট ওয়াইফ। তোমার সঙ্গে বিয়ের আগেও সে সাজ্জাদ মালিথার স্ত্রী ছিল… এখনও আছে। আর তিয়া কথা টা বলতে গিয়ে ইউভির চোখ দুটো তখন বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেলো তিয়া হলো সাজ্জাদ মালিথা অ্যান্ড রুমি মালিথার মেয়ে। তিয়া মালিথা… নট চৌধুরী বুঝতে পারছো চাচ্চু।
ইউভির শেষ কথাটা যেন পুরো ড্রইংরুমে বিস্ফোরণের মতো আঘাত করল।চারপাশে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা।রাইহান চৌধুরী স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মুখে কোনো কথা নেই।
ঠিক তখনই রেদোয়ান ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল, আমাদের বাড়ির বউ হওয়ার উদ্দেশ্য কখনোই সংসার করার জন্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল এই চৌধুরী বাড়ির সব প্রপার্টি নিজের নামে করা, আমাদের পরিবারের প্রতিটি মানুষের ওপর নজর রাখা।একটু থেমে সবার দিকে তাকিয়ে আবার বলল, কিন্তু ফুপিমণি একদিন নিজের চোখে ওই মহিলাকে সাজ্জাদ মালিথার সঙ্গে দেখে ফেলেছিলেন। তখন তিনি সবাইকে সত্যিটা বলেছিলেন। অথচ তোমাদের কেউই সেটা বিশ্বাস করোনি…রাইহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে রেদোয়ান বলল,হয়তো চাচ্চু… তুমি বিশ্বাস করেছিলে। আর সেই কারণেই তো ওই মহিলাকে নিয়ে লন্ডনে চলে গিয়েছিলে।
কথাটা শুনে রাইহান চৌধুরীর মুখের সমস্ত রং উধাও হয়ে গেল।ধপ করে পাশের সোফায় বসে পড়লেন তিনি।মাথাটা দু’হাতে চেপে ধরে নির্বাক হয়ে রইলেন।ঠিক তখনই ইউভি আবার কথা বলল।
তার কণ্ঠে কোনো রাগ নেই, ছিল কেবল নির্মম সত্যের দৃঢ়তা। যখন তিয়া আমাদের চৌধুরী বংশের সদস্য হিসেবে এই বাড়িতে ছিল, তখন সাজ্জাদ মালিথার কাছে সে ছিল সোনার হরিণ। এই বাড়ির প্রতিটি খবর, প্রতিটি মানুষের গতিবিধি, পরিবারের ভেতরের সম্পর্ক—সবকিছুর ওপর নজর রাখার জন্যই সে নিজের মেয়েকে এখানে রেখে গিয়েছিল।
ইউভি ধীরে ধীরে রাইহান চৌধুরীর দিকে তাকাল।
শুধু তাই নয় নয় সেই ছোট থেকেই তিয়াকে চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে একে অপরের মনে ভুল ধারণা দিয়েছে । পরিবারের মধ্যে অবিশ্বাস, দূরত্ব আর বিভেদ সৃষ্টি করাই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য। আর তিয়া আমাদের পরিবারের সাথে থেকেই পরিবারটাকে আলাদা করতে চেয়েছিল কারণ তারা খুব ভালো করেই জানত, বাইরে থেকে চৌধুরী পরিবারকে ভাঙা সম্ভব নয়। তাই ভাঙার চেষ্টা করেছিল ভেতর থেকে।
ইউভির প্রতিটি কথার সঙ্গে সঙ্গে ড্রইংরুমের পরিবেশ আরও ভারী হয়ে উঠল সবার চোখ তখন স্থির হয়ে আছে রাইহান চৌধুরীর দিকে।
আর রাইহান চৌধুরী তিনি শুধু মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে রইলেন। তাঁর নীরবতাই যেন হাজারো কথার উত্তর হয়ে দাঁড়াল।
ইউভি নির্বিকার ভঙ্গিতে রাইহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল, আর টেনশন কোরো না, চাচ্চু। তোমার মেয়ে তার মায়ের কাছেই আছে।ইউভি একটু থেমে ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলল,কোথাই জানো মালিথা ভিলায়।
কথাটা শুনে সবাই একসঙ্গে শিউরে উঠল।
ইউভি আবার বলল,শুধু তাই নয়, চাচ্চু। তিয়া আমার আদর কে কিডন্যাপ করেছিল। শোনা মাএই ইনায়া যেন জমে গেল।বিস্ময়ে বড় বড় চোখ করে ইউভির দিকে তাকিয়ে রইল।
ইউভি শান্ত কণ্ঠেই বলতে থাকল, শুধু এই একটা অপরাধ নয়। আদর আর বনু যখন লন্ডনে ছিল, তখনও ওদের ওপর একাধিকবার হামলা করানো হয়েছিল। ইউভি এবার রাইহান চৌধুরীর চোখে চোখ রেখে বলল, আর একটা কথা তোমার এলএলবি কোম্পানি মালিথারা নিজেদের নামে লিখে নিয়েছিল।রাইহান চৌধুরী হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন ইউভির দিকে ইউভি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলল, তুমি কি ভেবেছিলে, তিয়া নিজের নামে কোম্পানিটা লিখে নিয়েছিল?মাথা নেড়ে বলল,
নো, চাচ্চু। ওটা তিয়ার জন্য নয়… পুরো পরিকল্পনাটাই ছিল মালিথাদের।এদিকে লিখন চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, লিখে নিয়েছিল মানে?রেদোয়ান মুচকি হেসে উত্তর দিল, এখন আর চিন্তার কিছু নেই। আমরা কৌশলে কোম্পানির মালিকানা আবার চাচ্চুর নামেই ফিরিয়ে এনেছি।
কথাটা শুনে উপস্থিত সবার বুক থেকে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।
অন্যদিকে রাইহান চৌধুরীর চোখের সামনে যেন একে একে সবকিছু পরিষ্কার হতে শুরু করল।
গত কয়েক বছরের অদ্ভুত সব ঘটনা তিয়ার আচরণ রুমির সিদ্ধান্ত সবকিছুই যেন এখন এক সুতোয় গাঁথা।তিনি অনেক আগেই কিছুটা সন্দেহ করেছিলেন।কিন্তু প্রকাশ করেননি।
কারণ তিয়াই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।হঠাৎ করেই তিনি ভেঙে পড়লেন।
চোখ ভিজে উঠল অশ্রুতে।কাঁপা গলায় চিৎকার করে বললেন, হোক সে সাজ্জাদ মালিথার মেয়ে!
তবুও আমি তাকে আমার মেয়ের মতোই ভালোবাসি ইউভি… আমার মেয়েকে এনে দে।
আমার ছোট্ট মাকে একবার ফিরিয়ে এনে দে…
পুরো ড্রইংরুমের সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল
ইউভি ধীরে ধীরে রাইহান চৌধুরীর সামনে এসে দাঁড়াল।দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, চাচ্চু…
এই সত্যিটা যত তাড়াতাড়ি মেনে নেবে, ততই তোমার জন্য ভালো হবে।একটু ঝুঁকে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, যে মানুষটা তোমাকে কখনোই বাবা বলে মেনে নেয়নি… যার কাছে তুমি ছিলে শুধু একটা স্টেপিং স্টোন তাকে নিজের মেয়ে ভেবে আঁকড়ে ধরে রাখার কোনো মানে হয় না।ইউভির চোখে তখন বরফশীতল দৃঢ়তা। আমি কাউকে জোর করে সম্পর্ক মানাতে চাই না, চাচ্চু। আর তিয়া…
সে কোনোদিন তোমাকে নিজের বাবা বলে মানেনি।
তাই তাকে ফিরিয়ে এনে মিথ্যে একটা সম্পর্কের অভিনয় করানোর ইচ্ছাও আমার নেই।শেষ কথাটা বলেই ইউভি সোজা হয়ে দাঁড়াল।
রাইহান চৌধুরী কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। চোখদুটো লাল হয়ে উঠেছে। বুকের ভেতরটা যেন কেউ পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। হঠাৎই ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।ভারী গলায় বললেন আমি আসছি।
কেউ কিছু বলার আগেই তিনি দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করলেন।দরজার কাছে পৌঁছে আবার থেমে গেলেন। ধীরে ধীরে ঘুরে রিমঝিম চৌধুরীর সামনে এসে দাঁড়ালেন।চোখ নামিয়ে নিচু স্বরে বললেন, বোন… আমাকে ক্ষমা করে দিস।রিমঝিম অবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকালেন।
রাইহান চৌধুরীর গলা কেঁপে উঠল। সেদিন… রাগের মাথায় আমি তোর গায়ে হাত তুলেছিলাম। আই’ম রিয়েলি সরি, বোন। আমাকে ক্ষমা করে দিস।
কথা শেষ করেই তিনি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।রিমঝিমের চোখ ভিজে উঠল। তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন।
নরম গলায় বললেন, আমার কষ্ট এখানে নয়, ভাইয়া আমার কষ্ট হচ্ছে তোর কথা ভেবে। এত বড় একটা সত্যি জেনে তুই নিজেকে কীভাবে সামলাবি, সেটাই ভাবছি।রাইহান চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তুই আমার জন্য চিন্তা করিস না।
তারপর নিজের চোখের পানি মুছে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমি রাইহান চৌধুরী। এত সহজে ভেঙে পড়ব না।দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আবার বললেন, আমি আসছি। আমাকে নিয়ে কেউ ভাবিস না।এই বলে ধীর পায়ে চৌধুরী ভিলা থেকে বেরিয়ে গেলেন রাইহান চৌধুরী।
ড্রয়িংরুমজুড়ে নেমে এলো ভারী নীরবতা।
সবাই এখনও দরজার দিকেই তাকিয়ে আছে। রাইহান চৌধুরীর চলে যাওয়ার দৃশ্যটা যেন কারও মন থেকেই সরছে না।
ইউভি কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখে কোনো অনুভূতি নেই। তারপর ধীরে ধীরে পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করল।
স্পিড ডায়ালের একটা নম্বরে কল দিতেই ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হলো।ইউভির কণ্ঠ মুহূর্তেই বদলে গেল। শান্ত, ঠান্ডা, অথচ আদেশে ভরা—
— ফলো করো রাইহান চৌধুরী কে।
ওপাশ থেকে কিছু বলতেই ইউভি আবার বলল,
এক সেকেন্ডের জন্যও উনাকে চোখের আড়াল করবে না। উনি কোথায় যান, কার সঙ্গে দেখা করেন, কী করেন—প্রতিটা আপডেট আমি চাই। কোনো ভুল যেন না হয়। আর একটা কথা… উনি যদি কোনো রকম অস্বাভাবিক কিছু করার চেষ্টা করেন, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবে। নিজেরা কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যতক্ষণ না আমি নির্দেশ দিচ্ছি। আন্ডারস্ট্যান্ড?ওপাশ থেকে দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর এলো,ইয়েস, বস।
শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৬
ইউভি সংক্ষিপ্তভাবে বলল,
গুড। ডোন্ট লুজ হিম।
কলটা কেটে দিয়ে ফোনটা আবার পকেটে রেখে দিল সে।সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু ইউভির চোখ এখনও স্থির দরজার দিকেই।খুব আস্তে, যেন নিজের মনেই বলল
তোমাকে একা ছেড়ে দেওয়ার মতো ভুল আমি করব না, চাচ্চু
