Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৪

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৪

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৪
সুমাইয়া ইসলাম নূর

গাড়ির ভেতরের পরিবেশটা অদ্ভুত শান্ত আর মায়াময়। রাতের নরম বাতাস জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছে। ইনায়া নিজের সিটে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তার দুটো পা নিশ্চিন্তে ইউভির কোলের ওপর তুলে রাখা। আর ইউভি… এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালাচ্ছে, অন্য হাত দিয়ে আলতো করে নিজের বউয়ের পা দুটো ধরে রেখেছে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা আগলে রেখেছে সে।ইনায়া মুগ্ধ হয়ে বাইরের রাতের আবহাওয়া দেখছে। হঠাৎ তার চোখ পড়ল দূরে উড়তে থাকা একটা জোনাকি পোকার দিকে।

সে ছোট্ট বাচ্চাদের মতো চিৎকার করে উঠল ওয়াও! জোনাকি পোকা!ইউভি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল ভালো লাগে?
ইনায়া উৎসাহ নিয়ে মাথা নাড়ল।ভীষণ ভালো লাগে!
কথাটা শুনেই ইউভি হঠাৎ গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দিল।ইনায়া চমকে উঠে বলল এই! কোথায় যাচ্ছি আমরা? বাসায় যাব না?ইউভি গম্ভীর মুখে উত্তর দিল চুপ করে বসে থাক, বেয়াদব।ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে রইল।কিছুক্ষণ পর গাড়িটা ঢাকার ব্যস্ত শহর ছেড়ে একটু নিরিবিলি পথে চলে এলো। চারপাশে সারি সারি গাছপালা। রাতের নিস্তব্ধতায় জায়গাটা আরও সুন্দর লাগছে। পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের কাছাকাছি নিরিবিলি গাছঘেরা এলাকায় গাড়িটা এসে থামল।
ইনায়া অবাক হয়ে ইউভির দিকে তাকিয়ে আছে।
ইউভি মুচকি হেসে তার মাথায় আলতো গাট্টা মেরে বলল বেয়াদব কী সাধে বলি তোকে ? পেছনের জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখ।ইনায়া জানালার বাইরে তাকাতেই হতবাক হয়ে গেল। কিহহহ… এতগুলো জোনাকি পোকা!

চারপাশে অসংখ্য জোনাকি জ্বলছে। মনে হচ্ছে যেন ছোট ছোট তারারা মাটিতে নেমে এসেছে।ইনায়া খুশিতে বলে উঠল এতগুলো একসাথে তো গ্রামের বাড়িতেও দেখিনি!কথাটা বলেই সে গাড়ি থেকে নেমে গেল।ইউভিও নেমে দাঁড়াল। তার বেয়াদব বউটার শিশুসুলভ আনন্দ দেখে অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।ইনায়া একটার পর একটা জোনাকি ধরার চেষ্টা করছে।কিন্তু কোনোটাই তার হাতে ধরা দিচ্ছে না।কিছুক্ষণ পর সে ঠোঁট ফুলিয়ে বিরক্ত মুখে বলল ধুর! একটাও কাছে আসল না।
তারপর মন খারাপ করে বলল চলুন… আর থাকব না এখানে।ইউভি কিছু না বলে দূরে একটা ছোট্ট চায়ের দোকানের দিকে তাকাল।তারপর আবার ইনায়াকে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ল।বেচারি ইনায়া মুখ গোমড়া করে বসে রইল।এতগুলো জোনাকি, অথচ একটা পর্যন্ত ধরতে পারল না!কিছুক্ষণ পর গাড়ি একটা ছোট্ট চায়ের দোকানের সামনে থামল।
ইউভি নেমে একটা কাঁচের বয়াম কিনে নিল।তবে ইনায়ার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।কিছুক্ষণ পর আবার গাড়িটা আগের সেই জায়গায় ফিরে এলো।

ইনায়া অবাক হয়ে বলল কী হলো? বাড়ি যাবেন না?ইউভি গম্ভীর মুখে বলল চুপ করে বসে থাক। আমি এখানেই আছি
কথাটা বলে সে হাতে বয়াম নিয়ে জোনাকির দিকে এগিয়ে গেল।একে একে অনেকগুলো জোনাকি সেই কাঁচের বয়ামের ভেতর ভরে ফেলল।তারপর একটা পাতা দিয়ে বয়ামের মুখ বন্ধ করে দিল।
অনেকক্ষণ ইউভিকে না দেখে ইনায়া গাড়ি থেকে নেমে এল।ঠিক তখনই দেখল ইউভি দুই হাত পেছনে রেখে তার দিকে এগিয়ে আসছে।
তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে হাত দুটো সামনে আনলো কাঁচের বয়ামভর্তি জোনাকি।
মুহূর্তেই ইনায়ার মুখে বিস্ময় আর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল।সে দুই হাত মুখে চেপে ধরে বলে উঠল—
কিহহহ…!তারপর খিলখিল করে হেসে উঠল।

অনেক… অনেক সুন্দর! আমি অনেক খুশি!
ইউ আর দ্য বেস্ট হাজব্যান্ড, মিস্টার চৌধুরী!
ইউভি মুগ্ধ হয়ে তার হাসিমাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর নরম গলায় বলল আপনার হাসিটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার, মিসেস চৌধুরী। এতটুকু জিনিসে যদি আপনি খুশি হন, তাহলে আমি বারবার এই খুশি এনে দেব।কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল।সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ইউভির বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে ফেলল।ফিসফিস করে বলল আমি না… আপনাকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি,ইউভি মুচকি হেসে তার মাথায় চুমু দিল।
আমার বেয়াদবটা খুশি তো?ইনায়া শিশুর মতো মাথা নাড়ল।অনেক খুশি।রাতের বাতাসটা একটু ঠান্ডা হয়ে উঠেছে।তারপর এক হাতে বয়াম আর অন্য হাতে ইনায়ার হাত ধরে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল ইউভি ফেরার পুরো পথজুড়ে ইনায়া বয়ামটা বুকে আগলে ধরে রেখেছিল।মাঝেমধ্যে সে জোনাকিগুলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।

কিছুক্ষণ পর দূরে দেখা গেল আলোয় ঝলমল করা চৌধুরী ভিলা।গাড়িটা ধীরে ধীরে ভিলার ভেতরে ঢুকে পড়ল।ইনায়াকে সুস্থভাবে চৌধুরী ভিলায় পৌঁছে দিল ইউভি।
ইনায়াকে ভেতরে রেখে ইউভি ধীরে ধীরে এক পা… দুই পা করে ভিলার বাইরে যাওয়ার জন্য এগোতে লাগল।বিষয়টা সবার চোখ এড়িয়ে গেলেও রেদোয়ানের চোখ এড়ালো না।সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে ইউভির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।ইউভি পেছন ফিরে শুধু হাত তুলে ইশারা করল স্টপ।তার চোখের সেই চাহনি দেখে রেদোয়ান আর এক পা-ও এগোল না।সে বুঝে গেল, ইউভি এখন এমন কিছু করতে যাচ্ছে যেখানে তাকে সঙ্গে নিতে চাচ্ছে না।এদিকে পাশে সোফায় বসে গল্প করছিল রেসব, অর্কো, আদিল আর আলভি।
রেদোয়ান তাদের কাছে গিয়ে নিচু স্বরে কী যেন বলল।কথাটা শুনে চারজনই এক মুহূর্ত দেরি না করে উঠে দাঁড়াল।তারপর দ্রুত ভিলার বাইরে চলে গেল।পরের মুহূর্তেই ইউভির গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ শোনা গেল।রেসবরা দ্রুত আরেকটি গাড়িতে উঠে বসল।কিছুক্ষণের মধ্যেই রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল দুটি গাড়ি।রেদোয়ান দীর্ঘ একটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলল।তার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

ফাইনালি চিন্তামুক্ত এদিকে সবাই ইনায়াকে পেয়ে একপ্রকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।রেশমা চৌধুরী ছুটে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আমার মেয়েটার সাথে কার এত শত্রুতা বল তো মা?ইনায়া কিছু বলার আগেই রাতিব চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,সবকিছু ইউভি কাল সকালে খুলে বলবে। এখন আর এসব নিয়ে কথা নয়। সবাই যার যার রুমে যাও।তারপর তুবার দিকে তাকিয়ে বললেন,তুবা মা, আমার বউমাকে রুমে নিয়ে যাও। বেচারি বোনের জন্য অনেক কান্নাকাটি করেছে।একটু থেমে আবার বললেন,
এখন আমার নূর ঠিক আছে। তোমরা চাইলে আনন্দ করতে পারো।ঠিক তখনই ইনায়ার কানে এলো চাপা কান্নার শব্দ।সে আড়চোখে তাকিয়ে দেখল পিয়াসা দাঁড়িয়ে কাঁদছে।ইনায়ার হাতে তখনও শক্ত করে ধরা সেই কাঁচের ছোট্ট বোয়ামটা। ভেতরে ছোট ছোট জোনাকি পোকারা মিটমিট করে জ্বলছে।সেই আলো যেন তার ক্লান্ত মুখেও একটুখানি হাসি এনে দিল।দুজনের চোখে চোখ পড়তেই পিয়াসা দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
— বেবি…!ইনায়াও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

পিয়াসা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল,অনেক কষ্ট পেয়েছিস? ওরা তোকে কষ্ট দিয়েছে?ইনায়া তাকে আলতো করে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
বিশ্বাস কর, ওদের থেকে আমি একটুও কষ্ট পাইনি। তবে এই এক সপ্তাহে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি…
তোর থেকে।পিয়াসার চোখ বেয়ে আবারও জল গড়িয়ে পড়ল। সরি… আমি এমনটা কেন করেছি, তুই জানিস তো কিন্তু ইনায়া তাকে আর কিছু বলতে দিল না। ব্যাস! বেবি… উফফ, সরি—ভাবি।
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে বলল,ভাবি?ইনায়া খিলখিল করে হেসে বলল,
— হ্যাঁ, আজ থেকে আপনি আমার বড় ভাবি।
ইনায়া হাতে জোনাকিভরা বোয়ামটা উঁচু করে ধরে বলল,আমি পুরোপুরি ঠিক আছি। তোমরা সবাই এখন ঘুমাতে যাও। অনেক রাত হয়েছে।
তারপর দুষ্টু হেসে বলল,আর আমরা ছোটরা এখন একটু আনন্দ করব। আমার হাজব্যান্ড যেহেতু আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছে, তাই আমি ওই রুমে যাচ্ছি না। আমি আজ বেবির রুমে থাকব।
ঠিক তখনই রাজ্য ভিলায় প্রবেশ করল।

সবার সাথে কথা বলে সে রানির হাতে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিয়ে বলল, বনু, এগুলো আমার রুমে রেখে আসো।তারপর রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, ব্রো, বাকিরা সব কোথায়?
রেদোয়ান সব ঘটনা খুলে বলতেই রাজ্য দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলল। ভাই… ব্রো এবার খুব খেপেছে।
ঠিক তখনই লিখন চৌধুরী মৃদু হেসে রেশমা চৌধুরীর দিকে তাকালেন।চলো, সবাইকে একটু আনন্দ করতে দিই।তারপর বাড়ির বড়রা সবাই নিজেদের রুমে চলে গেলেন।রিমঝিম আর রাশেদ মির্জাও বিশেষ একটা কাজের জন্য এত রাতে বের হয়ে গেছেন।এদিকে আত্মীয়স্বজন বলতে শুধু ইনায়া আর পিয়াসার নানুবাড়ির লোকেরাই আছে।
মাগুরা থেকে কেউ আসতে পারেনি।তারিন আর তুলির পরীক্ষা চলায় শুধু মুস্তাক চৌধুরী এসেছে মুস্তাক চৌধুরী ও কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন।

এদিকে রেদোয়ানের রুমে হালকা সোনালি আলোয় পুরো ঘরটা ঝলমল করছে।চারদিকে সাদা আর লাল গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে আছে।বিছানার চারপাশে ঝুলছে সাদা পর্দা আর ছোট ছোট ফেয়ারি লাইট।সুগন্ধি মোমবাতির মিষ্টি ঘ্রাণে পুরো রুমটা যেন স্বপ্নের রাজ্য হয়ে উঠেছে।বিছানার মাঝখানে লাজুক মুখে বসে আছে পিয়াসা। গারো লাল খয়েরী লেহেঙ্গা কপালে টিপ, মাথায় ঘোমট।একেবারে রাজকন্যার মতো লাগছে তাকে।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া, তুবা, রানি, সাম্মি আর রিধ ইনায়ার হাতে তখনও সেই জোনাকিভরা কাঁচের বোয়াম।মিটমিটে আলোয় বোয়ামটা যেন ছোট্ট একটা আকাশ হয়ে আছে।
রেদোয়ান আর রাজ্য দাঁড়িয়ে আছে তাদের সামনে।
ইনায়া কোমরে হাত দিয়ে বলল,

দেখো ভাইয়া, আমাদের দাবি না মানলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।রাজ্য সঙ্গে সঙ্গে তুবার দিকে তাকাল।কী দাবি, বেয়ান?তুবা ভেংচি কেটে বলল, সব দাবি টাবি আপনি মেটাতে পারবেন না। তাই চুপ থাকুন।সবাই হেসে উঠল।তারপর তুবা গম্ভীর মুখে বলল, কথা হচ্ছে, রেদোয়ান ভাইয়ার সাথে আমাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে।
রাজ্য চোখ বড় বড় করে বলল, কী! পাঁচ লাখ!
পরের মুহূর্তেই সে দৌড়ে মেয়েদের পাশে এসে দাঁড়াল। ব্রো, ছয় লাখ চাই! আমি এখন এদের দলে।কথাটা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
রাজ্য নিচু হয়ে তুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, রেডি থেকো পিচ্চি… নেক্সট তোমার পালা। তবে বাপু, আমার এত ধৈর্য থাকবে না বলে দিলাম।
তুবা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।রাজ্য আবার বলল,

—আমি কিন্তু টাকা আগেই দিয়ে রাখব। যাতে একটু ও সময় নষ্ট না হয় সময়ের অনেক দাম বুঝতে পারছো এই দিকে তবু চিমটি কেটে বললো চুপ করবেন অসভ্য লোক একটা।
রেদোয়ান আর দেরি করল না।
পকেট থেকে দশ লাখ টাকার একটা চেক বের করে ইনায়ার হাতে দিয়ে বলল,এই নে, বনু। এখন সবগুলো সরে যা।ইনায়া চেকটা হাতে নিয়ে আবার নিজের অন্য হাতে ধরা জোনাকিভরা বোয়ামটার দিকে তাকাল।তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।বাহ… আজ তো আমার ডাবল গিফট পাওয়া হয়ে গেল! একদিকে আমার শেহজাদার দেওয়া জোনাকি, অন্যদিকে ভাইয়ার দেওয়া দশ লাখ টাকা!

রেদোয়ান ধীরে ধীরে রুমে প্রবেশ করল।
দরজা বন্ধ হওয়ার মৃদু শব্দে পিয়াসার বুকের ধুকপুকানি যেন আরও বেড়ে গেল তার ছোট্ট শরীরটা কেমন কেঁপে উঠল।রেদোয়ান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তার পাশে বসে পড়ল।তারপর খুব যত্ন করে পিয়াসার ঘোমটাটা সরিয়ে দিল।মুহূর্তেই সে যেন মুগ্ধ হয়ে গেল।চোখের সামনে বসে আছে তার বহু বছরের ভালোবাসা… তার পিহু… তার স্ত্রী।
খুশিতে তার চোখের কোণে চিকচিক করে উঠল জল।খুব কোমল স্বরে বলল,আমার পিহু…
পিয়াসা মাথা নিচু করেই রইল।আজ কেন জানি সে রেদোয়ানের দিকে তাকাতে পারছে না।মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করল আগে তো এমন কখনো হয়নি… আজ কেন এত লজ্জা লাগছে?”
তার অস্বস্তিটা বুঝতে পেরে রেদোয়ান মুচকি হেসে ফেলল। এই কি সেই পিহু, যে বলেছিল, “রেদোয়ান ভাইয়া, আমি একদিন আপনার লাল টুকটুকে বউ সাজব। বউ সেজে বাসরঘরে আপনার জন্য অপেক্ষা করব?”পিয়াসা লজ্জায় লাল হয়ে বলল,

আমি তখন ছোট ছিলাম, রেদোয়ান ভাইয়া…
রেদোয়ান আলতো করে তার থুতনিতে হাত রেখে মুখটা উপরে তুলল।কেন? বড় হয়ে কি আমার বউ হওয়ার ইচ্ছা ছিল না ?পিয়াসা কিছু বলল না।
শুধু লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল।কিছুক্ষণ পর রেদোয়ান মৃদু হেসে বলল, অনেক কষ্ট হচ্ছে এই লেহেঙ্গায়, পিহু?
এবার পিয়াসা তার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল, হুম…রেদোয়ান একে একে তার ভারী গয়নাগুলো খুলে দিতে লাগল।
কানের দুল, ভারী হার, মাথার টিকলি…

সবকিছু খুলে দিয়ে বললো যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো। আমাদের দুজনকে নফল নামাজ পড়তে হবে।
একটু থেমে আবার বলল,তারপর তোমার দেনমোহর আর সবকিছু তোমাকে বুঝিয়ে দেব।
তারপর ভ্রু কুঁচকে বলল তোমাকে কে বলেছে এত কষ্ট করে এই ভারী লেহেঙ্গা পরে থাকতে?
পিয়াসা আমতা আমতা করে বলল বেবির চিন্তায় এসব ভুলেই গিয়েছিলাম…রেদোয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এখন আর ওইসব কথা না, পিহু।
এরপর সে আলতো করে পিয়াসাকে নিজের কাছে টেনে নিল।তার কপালে একটা নরম চুমু এঁকে দিয়ে বলল আমার বউ… এখন থেকে আর কোনো কষ্ট পেতে হবে না। আমি আছি তো।তার কণ্ঠটা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠল। আর আজকের পর আমার বনুর ক্ষতি করার সাহসও কেউ পাবে না।কথাটা বলে সে ড্রয়ার থেকে একটা প্যাকেট বের করল।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৩

পিয়াসার হাতে দিয়ে মুচকি হেসে বলল, চেঞ্জ করে আসো, বউ। আমি যে আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
পিয়াসা অবাক হয়ে বলল, এর মধ্যে কী আছে?
নিজেই খুলে দেখো।পিয়াসা ধীরে ধীরে প্যাকেটটা খুলল।ভেতরে রয়েছে একটা নীল শাড়ি… নীল কাঁচের চুড়িসে অবাক হয়ে রেদোয়ানের দিকে তাকাল।ঠিক তখনই রেদোয়ান মৃদু হেসে বলল—
আজ আমার জন্য নীল শাড়িতে সেজো, হাতে পরো নীল চুড়ি। তোমাকে দেখে যেন মনে হয়, নীল আকাশটা নিজেই আমার কাছে লীলাঞ্জনা হয়ে নেমে এসেছে।”

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here