শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৩ (২)
সুমাইয়া ইসলাম নূর
ইনায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ইউভির দিকে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো কী করছো?
ইউভি কোনো উত্তর দিলেন না। বরং আরও এক পা এগিয়ে এসে ইনায়ার কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তার চোখে তখন সেই চেনা দুষ্টু ঝিলিক।হাস্কি কণ্ঠে ধীরে ধীরে বলল কিচ্ছু করবো না বউ জাস্ট একটু ‘আইসক্রিম খাব।’
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। হাতে থাকা আইসক্রিমটা ইউভির দিকে এগিয়ে দিয়ে মুচকি হেসে বলল ওহ্, এই ব্যাপার! এই নিন, খান।’
কিন্তু ইউভি যেন তার কথার শেষটুকু শুনতেই পেল না।পরের মুহূর্তেই এক ঝটকায় ইনায়াকে কোলে তুলে নিল সে।
আকস্মিকতায় ইনায়ার মুখ থেকে ছোট্ট চিৎকার বেরিয়ে এলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে দুহাত দিয়ে ইউভির কাঁধ আঁকড়ে ধরল সে। তার পা দুটোও অনিচ্ছায় জড়িয়ে গেল ইউভির শরীরের সঙ্গে।ইউভি ধীর পায়ে এগিয়ে চললেন। তার বাহুর শক্ত বাঁধনে ইনায়া নিজেকে আরও নিরাপদ, আবার একইসঙ্গে ভীষণ অস্বস্তিকর এক মায়াবী অবস্থায় আবিষ্কার করল।
ইউভির দৃষ্টি ধীরে ধীরে নেমে এলো ইনায়ার মুখের দিকে। তারপর থেমে গেল তার ঠোঁটের কোণে।
আইসক্রিম খেতে গিয়ে একফোঁটা আইসক্রিম ইনায়ার ঠোঁটের কোণে লেগে ছিল।ইউভির চোখে মুহূর্তেই নেমে এলো এক গভীর, দুষ্টু মুগ্ধতা।
ইনায়া তার দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের ঠোঁটের কোণের দিকে তাকাতে চাইল। কিন্তু ইউভির চোখের সেই দৃষ্টি দেখে তার বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল।কী করছো?
ইনায়ার কণ্ঠ অজান্তেই কেঁপে উঠল সামান্য ভয় আর লজ্জাই। ইউভি কোনো উত্তর দিলেন না।
শুধু ধীরে ধীরে তার মুখের আরও কাছে ঝুঁকে এল
ইনায়ার চোখ দুটো ভয়ে লজ্জায় আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে গেল।পরের মুহূর্তে ইউভির ঠোঁট আলতো করে ছুঁয়ে গেল তার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা আইসক্রিমের ছোট্ট দাগটুকু।তারপর সে ধীরে ধীরে সরে এল ইনায়া তখনও চোখ বন্ধ করে ইউভির কাঁধ আঁকড়ে ধরে আছে। কয়েক সেকেন্ড পর যখন কোনো শব্দ পেল না, তখন ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল।
ইউভির মুখে তখন তৃপ্তির হাসি।ইনায়ার চোখ বড়ো হয়ে গেল।ইউভি ভীষণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল মজাদার ইনায়া লজ্জায় মুখ গম্ভীর করে বলল—
অসভ্য!’ইউভি তার কোমরের বাঁধন আরও শক্ত করে মুচকি হেসে বলল আইসক্রিমটা নষ্ট হতে দিইনি। এতে আবার অসভ্যতার কী হলো, মিসেস চৌধুরী?’ইনায়া কিছু বলতে পারল না। শুধু লজ্জায় মুখটা ইউভির কাঁধের কাছে লুকিয়ে ফেলল। ইউভি
তার আদরকে আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে হাসতে লাগল ।ইউভি আর কোনো কথা না বলে এক ঝটকায় ইনায়াকে কোলে নিয়েই সোফায় বসে পড়ল। ইনায়াকে নিজের কোলে বসিয়ে তার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে।
ইনায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউভি তার চুলের মুঠো একটু শক্ত করে ধরে নিচু, ভারী কণ্ঠে বলল—
‘আমাকে ইগনোর করেছিলি কেন? কোন সাহসে?’
ব্যস, ইনায়ার সমস্ত সাহস যেন মুহূর্তেই পুটুস হয়ে গেল।আমতা আমতা করে বললো কখন । ইউভি আরও একটু শক্ত করে তাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে ধীরে বলল মনে করিয়ে দিই, মিসেস চৌধুরী?’
এই বলে ইউভি ইনায়ার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের দখলে নিয়ে নিল।
ইনায়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টাই বৃথা হলো। আজ যেন ইউভি একেবারে উন্মাদের মতো আচরণ করছে। এই চুম্বন আসলে কী—ভালোবাসা, নাকি শাস্তি—ইনায়া নিজেই বুঝে উঠতে পারল না।ইউভির বাহুর শক্ত বাঁধনে আটকে থেকে একসময় ইনায়া আর সহ্য করতে পারল না। তার চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
সঙ্গে সঙ্গে ইউভি থেমে গেল।পরমুহূর্তেই সে ইনায়াকে ছেড়ে দিল।ইনায়া জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো । ইউভিও হাঁপাতে হাঁপাতে তার দিকে তাকিয়ে রইল। কয়েক মুহূর্ত পর ভারী শ্বাসের ফাঁকে বলল।
‘ইচ্ছা ছিল তোকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলার তবে আদরের বউ এই জন্য মায়া হচ্ছে পারছি না।’
কথাটা বলেই ইউভি দ্রুত উঠে গেল। কিছুক্ষণ পর কোথা থেকে যেন একটি মেডিসিনের বক্স নিয়ে ফিরে এল।ইনায়ার ঠোঁটে আলতো করে মেডিসিন লাগিয়ে দিতে দিতে অভিমানী কণ্ঠে বলল‘আমাকে একা রেখে তুই চলে আসলি কেন?’ইনায়া চুপ করে রইল।ইউভি তার ঠোঁটে খুব যত্ন করে মেডিসিন লাগাতে লাগাতে আবার বলল ‘শুধু একবার তোকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য আমি IVA গ্রুপে ছুটে গিয়েছিলাম। ‘আর তুই, বেয়াদব… আমার দিকে ঘুরেও তাকালি না। ইনায়ার চোখ আবারও ছলছল করে উঠল।ইউভি তা খেয়াল করেও যেন নিজের অভিমান থামাতে পারল না। ঠোঁটে মেডিসিন লাগাতে লাগাতেই বলল বেয়াদব। ইনায়া কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল এই কষ্টগুলো দিয়ে কি সুখ পাও তুমি।
তুমি এভাবে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আবার আশা করো আমি নিজেকে সামলে রাখব? বউ, তোমার এই সরল মুখটা দেখেই তো আমার সমস্ত ভদ্রতা পালিয়ে যায়!”
ইউভি আআার চোখ কুঁচকে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
সত্যি কথা বল তো, তোমার কোন খিদে লেগেছে? সামির আদর?”না কী “বাস!” ইউভিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ইনায়া তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল, চুপ করুন! ইউভি মুচকি হাসল। তারপর ধীরে ধীরে তার একেবারে কাছে এগিয়ে এসে ইনায়ার ঠোঁটে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। ইনায়া কিছু বলার আগেই ইউভি তার কোমর জড়িয়ে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।তার কণ্ঠ নেমে এলো গভীর, কর্কশ ধনি ফিসফিসে করে বললো কিন্তু আমার তো অন্য খিদে লেগেছে, বউ।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল।
আপনি… একদম অসভ্য! হুম ইউভি ইনায়ার গালের ওপর আঙুল বুলিয়ে মুচকি হাসে বলল তোমার কাছে এলেই হয়ে যাই। ইনায়া লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিতেই ইউভি তার চিবুক ধরে মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল।আমার দিকে তাকাও, আদর।”
ইনায়া চোখ তুলে তাকাতেই ইউভির দৃষ্টি আরও গভীর হয়ে উঠল।
তোমার এই লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখলে আমার নিজেকে সামলাতে ইচ্ছে করে না।”
ইনায়া ফিসফিস করে বলল তবুও নিজেকে সামলান…”
ইউভির ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।সে ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে বলল,“সেটাই তো সমস্যা, বউ… তোমার কাছে এলে আমি নিজেকে সামলাতে চাইও না।
ইনায়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল বুঝি ।
ইউভি তার কপালে ধীরে একটি চুমু এঁকে আরও কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,আজ তোমাকে একটু কাছে চাই। এতটা কাছে… যেন তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার হয়ে যায়।আমি তোমার এই লজ্জায় কাঁপতে থাকা মুখটা দেখতে চাই।
ইনায়া লজ্জায় ইউভির বুকের ওপর মুখ লুকিয়ে ফেলল ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ধীরে ধীরে বলল,ওকে। এই বলে সে উঠে দাঁড়াল চলুন, অনেক রাত হয়ে গেছে। ইনায়া হাঁটতে শুরু করতেই পেছন থেকে ভেসে এল ইউভির কন্ঠ কোথায় যাচ্ছ?”
ইনায়া পেছনে না ফিরেই বলল,
— “রুমে। আর কোথায় যাব?”
— “জিমে এসেছ, ওয়ার্কআউট করবে না?
ইনায়া এবার থেমে পেছনে ফিরে তাকাল। ভ্রু কুঁচকে বলল মাঝরাতে কেউ জিম করে? ইউভি ধীরে ধীরে বক্সিং গ্লাভস হাতে পরতে পরতে মুচকি হেসে বলল,
— “কেন? আমি তো করি। ইনায়া দুই হাত ভাঁজ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।ইউভি এবার বক্সিং রিংয়ের দিকে ইশারা করল।
চৌধুরী ভিলার এই বিশাল জিমের একপাশে আছে আলাদা একটি বক্সিং রিং। মাঝেমধ্যে গভীর রাতেও ইউভি আর রেদোয়ান সেখানে বক্সিং প্র্যাকটিস করে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পাঞ্চিং ব্যাগ, বক্সিং গ্লাভস রিংয়ের ওপরের তীব্র আলো ঝলমল করছে সব মিলিয়ে জায়গাটার পরিবেশেই ছিল এক ধরনের দমবন্ধ করা উত্তেজনা।
ইউভি রিংয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,“এসো। সবকিছু যখন আমার হাত ধরে শিখেছ, এটাও শিখিয়ে দিই।”
ইনায়ার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক চঞ্চল হাসি ফুটে উঠল।ঠিক আছে। নতুন কিছু করতে মন্দ লাগে না। ইউভির চোখে এবার এক ঝলক দুষ্টুমি খেলে গেল।সে এগিয়ে এসে ইনায়ার হাত নিজের হাতে তুলে নিল। অত্যন্ত যত্ন করে তার হাতে বক্সিং গ্লাভস পরিয়ে দিল। তারপর গ্লাভসের স্ট্র্যাপ শক্ত করে আটকে দিতে দিতে নিচু স্বরে বলল,
“মিসেস চৌধুরী…”
ইনায়া তার দিকে তাকাল।ইউভি ধীরে ধীরে মাথা তুলে মুচকি হেসে বলল জিততে পারলে গিফট আছে। ইনায়ার চোখ চকচক করে উঠল।
— “কী গিফট? ইউভি আরেকটি গ্লাভস হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে নিজের হাতে পরতে পরতে বলল,তুমি যদি জিততে পারো, তাহলে তুমি যা চাইবে, তাই হবে। আর আমি জিতলে… আমি যা চাইব, তাই হবে।”ইনায়া কয়েক মুহূর্ত নীরবে তার দিকে তাকিয়ে রইল।ইউভি এক পা এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,
— “রাজি?”
ইনায়া চোখ সরু করে তার দিকে তাকিয়ে বললো ওকে।ইউভি এবার মৃদু হেসে বলল,
আমি জিতলে আমার গিফট আমি আজ… এই মুহূর্তেই নেব।
কথাটা শুনে ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।সে কিছুক্ষণ নীরব রইল।ইউভি তার মুখের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।অবশেষে ইনায়া ধীরে ধীরে গ্লাভস পরা হাত দুটো তুলে বক্সিংয়ের ভঙ্গিতে দাঁড়াল।তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল আত্মবিশ্বাসী হাসি।
— “ওকে।”
ইউভির চোখে এবার খেলে গেল বিজয়ের ঝিলিক।
সে রিংয়ের ভেতরে উঠে দাঁড়িয়ে ইনায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,“তাহলে শুরু করা যাক, মিসেস চৌধুরী। ইনায়াও রিংয়ে উঠে তার বিপরীতে দাঁড়াল।
চারপাশে নিস্তব্ধ রাত।শুধু জিমের উজ্জ্বল আলোয় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে ইউভি আর ইনায়া।
একজন চৌধুরী পরিবারের অপ্রতিরোধ্য পুরুষ।
আর অন্যজন তার আদরের বউ।যে বউকে সে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসে।
ইউভি গার্ড তুলে মুচকি হেসে বলল,তৈরি তো, আদর? ইনায়া গ্লাভস উঁচিয়ে চোখে দুষ্টুমি নিয়ে বলল তুমি হারার জন্য তৈরি তো? ইউভির ঠোঁটের হাসিটা আরও গভীর হলো।আমাকে হারানো এত সহজ নয়, আদর। ইনায়া মুচকি হেসে বলল,
— “আজ বুঝে যাব।”
এর পর দুজনের মধ্যে শুরু হলো এক দুষ্টু-মিষ্টি বক্সিং ম্যাচ।ইউভি ইচ্ছে করেই ইনায়ার কোনো আঘাতের জবাব দিচ্ছে না। ইনায়া যাতে ব্যথা না পায়, সেদিকে তার পুরো নজর। সে শুধু কৌশলে ইনায়ার প্রতিটি আক্রমণ এড়িয়ে যাচ্ছে।
ইনায়া একের পর এক পাঞ্চ ছুড়তে লাগল। ইউভি শরীর বাঁকিয়ে, এক পা পিছিয়ে, আবার কখনো কৌশলে সরে গিয়ে তার আঘাত এড়িয়ে যাচ্ছে।
ইনায়া ভেবেই নিল, সে সত্যিই ইউভিকে চাপে ফেলে দিয়েছে।ঠোঁটের কোণে আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটিয়ে সে আরও জোরে এগিয়ে গেল।একসময় ইনায়ার ছোড়া একটি পাঞ্চ এড়াতে ইউভি দ্রুত একপাশে সরে গেল। পরের মুহূর্তেই ইউভি ইনায়ার হাত ধরে তাকে নিজের চারপাশে ঘুরিয়ে নিল।
কৌশলে ইনায়ার দুই হাত পেছনে নিয়ে আটকে ফেলল।ইনায়া চোখ বড় বড় করে বলল,
— “এই! ছাড় ইউভি মুচকি হেসে তার আরও কাছে এগিয়ে গেল।এতক্ষণ তো বেশ সাহস দেখাচ্ছিলে।”
ইনায়া কিছু বলার আগেই ইউভি তার ঠোঁটে আলতো করে একটি চুমু এঁকে দিল।ইনায়া কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।ইউভি তার হাত ছেড়ে দিতেই ইনায়া দ্রুত পিছিয়ে গেল। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে উঠেছে। ইনায়া এবার আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ইউভি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে কৌশলে তার হাত সরিয়ে পাশে সরে গেল। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ইউভির দিকে দ্রুত এগিয়ে গেল।
ইউভি এবার সত্যিই অবাক হয়ে গেল।ইনায়া একের পর এক কৌশলে তাকে পেছাতে বাধ্য করতে লাগল। ইউভি তার প্রতিটি আক্রমণ এড়িয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ইনায়া ভাবল—সে বুঝি সত্যিই ইউভিকে হারিয়ে দিচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ইনায়া এক নিখুঁত কৌশলে ইউভিকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করল।তারপর গ্লাভস পরা দুহাত তুলে বিজয়ীর মতো দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল,
— “আমি জিতে গেছি! ইউভি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে হঠাৎ ইনায়াকে কোলে তুলে নিল। ইনায়া চমকে উঠে তার গলা জড়িয়ে ধরল।
— “এই! কী করছো
ইউভি কোনো উত্তর না দিয়ে তাকে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সিং রিংয়ের এক পাশে থাকা নরম ম্যাটের ওপর শুয়ে দিলো । ইনায়াকে নিজের ওপর রেখেই মুচকি হেসে বলল এখন জিতে দেখাও।
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ইউভি তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। ইনায়া নানাভাবে চেষ্টা করেও কিছুতেই ইউভির ওপর থেকে উঠতে পারল না।শেষ পর্যন্ত হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,আপনি জিতেছেন। এখন উঠুন আমার ওপর থেকে!”ইউভি মুচকি হেসে ইনায়াকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল রিয়েলি তাহলে এখন আমার গিফট দাও। ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কী গিফট?”
ইউভি হেসে, গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,কিছু সময়ের জন্য আমার হয়ে যাও বউ” ইনায়ার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।ইউভি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে আরও নিচু স্বরে বলল,
“কিছু সময়ের জন্য আমার আত্মার সঙ্গে মিশে যাও। তোমাকে লজ্জায় লাল হতে দেখতে চাই,বউ।”
ইনায়ার ঠোঁট অদ্ভুতভাবে কাঁপতে লাগল।
ইউভি মৃদু হেসে তার ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
এখনই এত কাঁপাকাঁপি কেন, বউ? পারমিশন দিয়ে দাও, প্লিজ ইনায়া কাঁপা কণ্ঠে বলল,আপনি রাগ করে থাকলেই ভালো হতো। ইউভি ধীরে ধীরে ইনায়ার হাত থেকে গ্লাভস দুটো খুলে ফেলল। তারপর ইনায়ার দুই হাত মাথার দুপাশে রেখে নিজের দুহাত দিয়ে তার হাত দুটো শক্ত করে মুঠোর মধ্যে ধরে নিল।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল।
ইউভি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ধীর, গভীর কণ্ঠে বলল
“Mrs. Chowdhury… don’t resist me. Instead, get lost with me in a place called happiness.”
“মিসেস চৌধুরী… বাধা দিও না। বরং আমার সঙ্গে হারিয়ে যাও সুখের ঠিকানায়।”
ইউভির চোখে তখন সেই গভীর, অন্ধকার আকাঙ্ক্ষা—যে আকাঙ্ক্ষার সামনে ইনায়ার সমস্ত জেদ, লজ্জা আর অভিমান ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে ধিরে ধিরে ইনায়ার শরীরজুড়ে ইউভির ভালোবাসার চিহ্ন ফুটে উঠতে লাগল। কোমল স্পর্শে, কখনো গভীর চুম্বনে, তার তীব্র ভালোবাসার ছাপ রেখে দিচ্ছে ইউভি।
ইনায়া একসময় আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। ইউভির সেই উন্মাদনায় সেও যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলল। তার নখের আঁচড়ে ইউভির পিঠে লালচে দাগ ফুটে উঠল। কিন্তু ইউভি তাতে থামল না বরং ইনায়াকে আরও শক্ত করে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিল।
“আজ তোমাকে শুধু আমার হতে বলছি না… আজ তোমার প্রতিটা লজ্জা, প্রতিটা কাঁপন, প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার নামে লিখে দিতে বলছি বউ।
ইনায়ার ঠোঁট থেকে বেরিয়ে এলো কাঁপা নিঃশ্বাস।
— “ইউভি প্লিজ ডোন্ট ডু দিস।
ইউভি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ভারী স্বরে ফিসফিস করে বলল,চুপ… আজ কোনো কথা নয়,বউ আজ শুধু আমার হয়ে থাকো। বলো… থামতে বলবে? নাকিসত্যিই কিছু সময়ের জন্য আমার হয়ে থাকবে?
ইনায়া চোখ বন্ধ করে আরও শক্ত করে তাকে আঁকড়ে ধরল।ধীরে ধীরে ইউভির উন্মাদনা আরও তীব্র হয়ে উঠতে লাগল।
তার প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি চুম্বনে যেন জমে থাকা সমস্ত অভিমান, অপেক্ষা আর ভালোবাসা একসঙ্গে মিশে যাচ্ছিল। সবকিছু যেন সেই মুহূর্তে নিঃশব্দে গলে গিয়ে তাদের দুজনকে আরও গভীরভাবে একে অপরের কাছে টেনে আনছিল।ইউভির বাহুর শক্ত বাঁধনে আটকে থেকে ইনায়া ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত প্রতিরোধ হারিয়ে ফেলল। তার বুকের ভেতরটা দ্রুত ওঠানামা করছিল। লজ্জা, ভালোবাসা আর অদ্ভুত এক মায়াবী অনুভূতিতে তার সমস্ত অস্তিত্ব যেন আচ্ছন্ন হয়ে আসছিল।
একসময় আর নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পেরে ইনায়া সম্পূর্ণভাবে নিজেকে তার প্রিয় মানুষটির কাছে সমর্পণ করে দিল।ইউভির বুকে মুখ লুকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল সে।সেই মুহূর্তে তাদের মাঝে আর কোনো অভিমান রইল না, কোনো দূরত্ব রইল না রইল শুধু দুটো হৃদয়ের নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।
ইউভি যেন তার এই নীরব সমর্পণ বুঝতে পারল। আরও যত্নে, আরও গভীর ভালোবাসায় ইনায়াকে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিল সে।
রাতের নিস্তব্ধতা তাদের চারপাশে আরও গভীর হয়ে নামল।আর সেই নীরব রাতের আড়ালে, ভালোবাসার উন্মাদনায়, ইনায়া ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির কাছে। তার বালের শেহেজাদা……….
রাতের নিস্তব্ধ জিমঘর টি ধীরে ধীরে তাদের গভীর ভালোবাসা আর ঘনিষ্ঠতার নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।
ইউভি চুপচাপ ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। লজ্জায় ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে শুয়ে আছে। ইউভি মুচকি হেসে তাকে আবার নিজের কাছে টেনে নিল। মাথাই হাত বুলাতে বুলাতে বুলল
— “থাকার কথা ছিল শুধু হৃদয়ের এক কোণে… অথচ তুমি পুরো মস্তিষ্কটাই দখল করে নিলে। বলো তো, আদর… এ কেমন অত্যাচার তোমার?”
“তুমি আমার দুর্বলতা নও, আদর… তুমি সেই একমাত্র মানুষ, যার কাছে আমি ইচ্ছে করেই দুর্বল হয়ে যাই।”
ইনায়া ধীরে ধীরে ইউভির বুকে মাথা রেখে মৃদু স্বরে বলল, “বর…”ইউভি তার চুলে হাত বুলিয়ে মুচকি হেসে বলল,হুম, বলো বউ।”
ইনায়া কিছুক্ষণ নীরব থেকে ধীরে ধীরে বলল,
কখনো আমি ব্যতীত অন্য কোনো নারীর দিকে তাকাবে না… আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যেও না প্লিজ।
ইউভি মৃদু হেসে তার মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল।
শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৩
— “এত বোকা বোকা প্রশ্ন করো কেন, আমার আদর?”তুমি তো শুধু তুমি। তোমার সঙ্গে কারও তুলনা চলে নাকি? আমার চোখে তুমি আমার পুরো পৃথিবী। আমার পৃথিবীতে তোমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না… কারণ তুমি কোনো জায়গা দখল করোনি, তুমি পুরো পৃথিবীটাই দখল করে নিয়েছো।তোমার জায়গা তো দূরের কথা, তোমার ছায়ার কাছাকাছি আসার অধিকারও কারও নেই।”
তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। যতদিন আমার নিঃশ্বাস আছে, ততদিন তুমি আমারই থাকবে। এটাই আমার আমৃত্যু প্রতিজ্ঞা, আদর….
