শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ১১
অনামিকা তাহসিন রোজা
অপ্রত্যাশিত কিছু পেলে মানুষ হয়তো অবাক হয়, বিস্মিত হয়, চমকে যায়, খুব বেশি হলে চেঁচামেচি করতে পারে। অথচ বেচারি ধারা নিথর হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে কথা বলা ভুলে গেছে। মেঘলা আকাশের নিচে সিএনজি তে পাশাপাশি বসে আছে শ্রাবণ ও ধারা। আপন গতিতে চলছে সিএনজি, গন্তব্য এখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরেই মোহনপুর বাজারে। শ্রাবণ মাথা উঁচিয়ে উঁচিয়ে রাস্তা ঠিক আছে কিনা তা দেখতে ব্যস্ত।
অথচ ধারা গুটিসুটি মেরে বসে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। এখনো মনে পড়ছে ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শ্রাবণ নামক লোকটা কতটা দায়িত্বের সাথে এই হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেছিল। এমনকি সিএনজিতে ওঠার আগ পর্যন্ত ওই শক্তপোক্ত হাতের মুঠোতেই ছিল ধারার নরম হাতখানা। বিষয়টা হয়তো মোটেই তেমন প্রতিক্রিয়া দেখানোর মত কিছু না। কিন্তু ধারার কাছে অনেক কিছু। অনেক ভিন্ন কিছু। কেও কখনো এভাবে তার হাত ধরেনি, আগে কেও কখনো এভাবে পাশে দাঁড়ায়নি।
ধারা এখনো বুঝতে পারছে না যে, তার কেনো একটুও মন খারাপ হচ্ছে না। কেনো তার এত শান্তি লাগছে। কিন্তু শুধু এটুকু বুঝতে পারছে যে, তার ভীষণ শান্তি লাগছে, প্রশান্তিতে বুক ভরে যাচ্ছে। কনিকা, লিজান আর সাইমের জন্য মন খারাপ হলেও এই মুহূর্তে ধারা যেন একেবারে অন্য জগতে আছে। বাস্তব জগতে শ্রাবণের পাশে বসে থাকা এই মেয়েটা যেন আগের সেই ঘরের কোণায় থাকা চুপচাপ ধারা না, একদম আলাদা কেউ, খুব নতুন, মুক্ত, একটু অবাক, কিন্তু শান্ত।
সিএনজির ঝাঁকুনিতে শ্রাবণের কাঁধ কখনো কখনো হালকা ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে, কিন্তু সে সরে যাচ্ছে না। না, লজ্জায় না, অদ্ভুত এক নির্ভরতার কারণে। মনে হচ্ছে, তার পাশে বসে থাকা মানুষটার গা ঘেঁষে থাকলে সব ঝাঁকুনি সামলে যাবে। ধারা মনে মনেই নিজেকে প্রশ্ন করে, এত কিছু ঘটে গেল, অথচ আমার ভিতরটায় এতটা নিস্তরঙ্গ কেন? এটা কি শান্তি? নাকি এটা বিশ্বাস?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শ্রাবণ একটাও বাড়তি কথা বলছে না। দরকার হলে এক-আধটু তাকিয়ে নিচু গলায় জানতে চাচ্ছে কিছু, ধারা ঠিক আছে কি না, গায়ে কাদা লেগেছে কি না, গরম লাগছে কিনা। খুব স্বাভাবিক, খুব সাধারণ কণ্ঠে। অথচ সেই সাধারণতাটুকুর মধ্যেই যেন লুকানো আছে পাহাড়সম আন্তরিকতা। ধারা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। শ্রাবণের সেই মুঠো এখন নেই, কিন্তু স্পর্শটা ঠিকই রয়ে গেছে। প্রথম দিনের মতোই ধারার বুকের ভেতর অল্প কাঁপুনি চলতে থাকে, কিন্তু সেই কাঁপুনিতে ভয় নেই। উল্টো একটা উষ্ণতা আছে, শ্রাবণের দিকে না তাকিয়ে শুধু পাশে বসে থেকেও সে বুঝতে পারছে, লোকটা তার পাশে দাঁড়াবে।
এখনও ধারা পুরোপুরি হাসেনি, কিন্তু তার চোখের নিচে সেই ভেজা রেখাগুলো শুকিয়ে আসছে। আর তার দৃষ্টি একটু একটু করে সেই সিএনজির ফাঁক দিয়ে ছুটে যাওয়া রাস্তা পেরিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শিখছে। এই মুহূর্তে ধারা বুঝতে পারছে না কী হতে যাচ্ছে সামনে, কিন্তু প্রথমবারের মত সে ভয় পাচ্ছে না, কারণ তার পাশে আছে শ্রাবণ। এটা হয়তো ভালোবাসা না, কিন্তু এটা ভরসা। আর ভরসার প্রথম অনুভূতিই হয়তো এরকম হয়, চুপচাপ, গাঢ়, অথচ অনেকটা শান্তিময়।
এসব ভাবতে ভাবতেই শ্রাবণের কন্ঠে ধ্যান ভাঙলো ধারার,
—” তুমি একটু এখানে বোসো। আমি আসছি।”
কিছুটা আঁতকে উঠলো ধারা। চোখ বড় করে তাকালো শ্রাবণের দিকে। এর মধ্যে সিএনজি থেকে নেমে পড়েছে শ্রাবণ। ধারা এবার একটু মাথা বের করে বলে উঠলো,
—” কোথায় যাচ্ছেন?”
প্রশ্ন আশা করেনি শ্রাবণ। তখন থেকে মুখে তালা লাগিয়ে রেখেছিল মেয়েটা। তাই ভেবেছিল এখনো চুপ করেই থাকবে। কিন্তু হঠাৎ করা প্রশ্নে চমকে উঠলো শ্রাবণ। ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে নিজেকে সামলে এগিয়ে এসে বলল,
—” খাবার আনতে। দুপুরে তো খেলে না কিছু। খিদে পায় নি? ”
ধারা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল দুপুরের খাবারের কথা। যদিও এক বেলা না খেয়ে থাকাটা ধারার কাছে নিত্যনৈমিত্তিক একটা ঘটনা। কোনো ব্যাপারই না। অন্তত তিন থেকে চারদিন না খেয়ে থাকার অভ্যাস হয়েছে ধারার। কিন্তু শ্রাবণও তো খায়নি। লোকটার নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে। ভেবেই একটু লজ্জাবোধ করল ধারা। ও বাড়ির ঘটনা মনে পড়ে গেলো। শ্রাবণ হয়তো বুঝতে পারল। দু’পা এগিয়ে এসে সিএনজির দরজার কাছে একটু ঝুঁকে দাঁড়ালো। মুখে একধরনের ধীর, নিশ্চিন্ত ভরসার হাসি নিয়ে বলল,
—” এই যে… এই মেয়ে, এদিকে তাকাও। মাথা নিচু করে বসে থেকো না। ওই বাড়ির কিছু নিয়ে ভাবার দরকার নেই, বুঝলে? সব ঠিক আছে এখন। আমি তো আছি। আর তোমাকে বলেছিনা যে, তুমি পিচ্চি মানুষ! এটুকু মাথায় অত কিছু নিতে হবেনা!”
ধারা একটু চমকে তাকালো। শ্রাবণের গলা এতটা নরম, এতটা আশ্বস্তকরণ আগে কখনো মনে হয়নি। তার কন্ঠে কোনো রাগ নেই, হুকুম নেই, তাড়া নেই, শুধু একটা স্পষ্ট অনুভব। শ্রাবণ আবারো বলল,
—” এই বাইরের খাবার নিয়ে চিন্তা কোরো না। তোমার হয়তো অভ্যেস নেই এসব খাওয়ার, কিন্তু শহরে গিয়ে এইরকমই চলবে কিছুদিন। মোটেও খারাপ কিছু না। অনেক ভালো ভালো দোকান আছে এখানে। আর আমি তো আছি, খারাপ কিছু খেতে দেব না তোমায়।”
ধারা আস্তে করে মাথা নিচু করল। আবারো নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। কেনো যে লোকটা এত ভাবছে তাকে নিয়ে কে জানে। এত গুরুত্ব কেনো যে দিচ্ছে। ধারার তো অভ্যেস নেই এসবের। অসস্তিতে গুটিয়ে মেয়েটা কোনোমতে মাথা নেড়ে বলল,
—” হুম আচ্ছা!”
শ্রাবণ এবার আবার সোজা হয়ে দাঁড়াল, হালকা গলায় বলে উঠল,
—”তুমি একটু বসো এখানে। আমি ভালো কিছু নিয়ে আসছি, ঠিক আছে?”
ধারা ঠোঁট একটু কাঁপিয়ে জানালো,
—”জ্বি।”
আরও কিছু বলার মতো ছিল, কিন্তু আর মুখ ফুটলো না তার। এই প্রথম কেউ তার খিদে, অভ্যাস, মানসিক অবস্থার এত খুঁটিনাটি বুঝতে পারছে, এমন অনুভূতির ভার সামলে কথা বলাটাও যেন কঠিন হয়ে গেলো।
সামিউল শেখ বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে তাকিয়ে রয়েছেন নিজের স্ত্রী সালমা বেগমের দিকে। সোফায় বসে ক্লান্তিতে শরীর নেতিয়ে পড়েছে তার৷ আসলে তিনি অবাক হচ্ছেন এটা ভেবে যে তার চালাক স্ত্রী এমন একটা বোকামি করল। সালমা বেগম ভয়ে রীতিমতো ঘেমে গিয়েছেন। কি যে হবে, কি যে করবেন তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। শুধু এটুকু বুঝতে পারছেন তন্নি কে শ্রাবণের বিয়ের কথাটা বলে অনেক বড় ভুল করেছেন। সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন দু বছর আগে তন্নির বাবা-মা’র সাথে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে। কে জানত যে মেয়েটা এতটা সিরিয়াস হয়ে যাবে।
সামিউল শেখ নিজের চোখে হেলে পড়া চশমাটা তর্জনী দিয়ে ঠিক করে বললেন,
—” তুমি কি তোমার ছেলের মত গরু হয়েছো, সালমা?”
এত কিছুর পরেও নিজের ছেলের বদনাম সহ্য করবেন না সালমা বেগম। তিনি এবার অসহায় কন্ঠেই জোরালোভাবে বললেন,
—” খবরদার শ্রাবণের বাবা, তুমি আমার বাপের বাড়ি নিয়ে কথা বলো, তাও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভুল করেও আমার ছেলে কে নিয়ে কিছু বলবে না। হীরের টুকরো ছেলে আমার। কারো নজর না পড়ুক!”
সামিউল শেখ এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বিড়বিড় করে বললেন,
—” হ্যাঁ ঠিকই বলেছো। হীরের টুকরো ছেলে তোমার। তাই তন্নির মত শান্তশিষ্ট মেয়েটাও তোমার ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। আমি তো ভেবেই অবাক হচ্ছি যে ওই মেয়ে শ্রাবণকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছে। আমি ভুলক্রমেও ওদের বিয়ে দিতাম না। কে বলেছিল তোমাকে আগ বাড়িয়ে বিয়ের কথা তুলতে।”
সালমা বেগম এবার একটু এগিয়ে আসলেন। সামিউল শেখের হাত ধরে আকুল গলায় বললেন,
—” ও শ্রাবণের বাবা, কিছু একটা করো প্লিজ। মানছি তো যে আমার একটা ভুল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার এই ভুলের মাশুল ধারা কেনো দেবে বলো। মেয়েটা ছোট হলেও কম কিছু ভেবো না বুঝলে। আমরা মেয়েরা সব কিছু সহ্য করতে পারি। কিন্তু স্বামীর পাশে অন্য মেয়েকে কোনোভাবেই নিতে পারিনা। ধারার মত মেয়ে হয়তো মুখে কিছু বলবেনা, কারন তার বুক ফাটবে, মুখ ফুটবে না। কিন্তু বিশ্বাস করো ওই মেয়ে যদি এসে এসব ভালোবাসা-টালোবাসার কথা বলে শ্রাবণকে, তাহলে ধারা একদম ভেঙে পড়বে। কষ্ট পাবে মেয়েটা! আমার হীরের টুকরো ছেলে টাকেও ভুল বুঝতে পারে! ”
এসবই এতক্ষন ধরে ভাবছিলেন সামিউল শেখ। সালমা বেগমের কথায় তিনি এবার মুখ কুঁচকে বললেন,
—” এটা আগে ভাবা উচিত ছিল সালমা। একটা কথা মনে রেখো, তন্নি নিতান্তই অনেক ভদ্র, শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে। আর এটাই সবচেয়ে বড় ভয়ানক বিষয়। এসব মেয়েরা খুব সহজে জেদি হয়না, কিন্তু যদি একবার জেদ ধরে, তখন সেটা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়।”
সালমা বেগম নিথর হয়ে গেলেন। অসহায় কন্ঠে মিনমিন করে জানতে চাইলেন,
—” এখন কী করব শ্রাবণের বাবা?”
সামিউল শেখ বিদ্রুপ করে হাসলেন। মুখ কুঁচকে বিরক্ত হয়ে বললেন,
—” এখন কী করবে বুঝতে পারছো না? এক কাজ করো, বসে বসে আমার মাথাটা চিবিয়ে চিবিয়ে খাও, রান্নাঘর থেকে খুন্তি এনে আমার মাথায় ফাটাও, আর নাহলে যাও, পাশের বাসার ভাবির সাথে পিরিতের আলাপ করে এসো!”
সালমা বেগম এবার থম মেরে বসে রইলেন। সামিউল শেখ যেভাবে ব্যঙ্গ করে কথা বললেন, তাতে সাধারণত গর্জে উঠতেন তিনি। কিন্তু আজ আর তেমন কিছুই করলেন না। চুপচাপ বসে রইলেন কিছুক্ষণ। মনে হচ্ছে ভেতরে কিছু পুড়ে যাচ্ছে, কিছু একটা ধ্বসে পড়ছে। মিনমিন করে বললেন,
—” আর চার দিন পরই তোমার ছেলে আর বউমা বাড়িতে ফিরবে। আর তোমার এই ভাগ্নি আমায় বলে গিয়েছে যে শ্রাবণের সাথে নাকি দেখা করবে। আমার তো শুনেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।”
অবশেষে সোফায় ধপ করে মাথা এলিয়ে দিয়ে মুখে হাত চাপা দিলেন সালমা বেগম। চোখের কোণে জলের রেখা চিকচিক করে উঠেছে। নিজেকে দোষ না দিয়ে উপায় নেই আজ। তন্নিকে এত বছর ধরে পরিবারের মতো দেখে এসেছেন, ভাবেননি ওর ছোট্ট এক খুশির আশাটাই একদিন এভাবে জ্বলন্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে ধারার জীবনে। গলা কেঁপে উঠলো সালমা বেগমের,
— “ও যদি সত্যি চলে আসে…যদি সত্যিই এই বাসার সামনে এসে দাঁড়ায়… শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলে, তোমার মা কথা দিয়েছিল, এখন আমি ভালোবাসি তোমাকে, তখন কি হবে? আমার ধারা? ও কেমন করে বাঁচবে? ছেলেটা তো আমার কিচ্ছু জানে না, কিচ্ছু বুঝবেও না এসব!”
সামিউল শেখ এবার কিছুটা স্থির হয়ে চেয়ারে সোজা হয়ে বসলেন। সালমার কণ্ঠে কাঁপন, চোখের কোণে আতঙ্ক, সব মিলিয়ে তিনিও যেন কিছুটা চিন্তিত হয়ে উঠলেন। এ অবস্থার সামান্যতম আঁচ যদি শ্রাবণ বা ধারা পায়, সব এলোমেলো হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত ওদের সম্পর্কটাই তো স্বাভাবিক হয়নি। গলায় বিরক্তির সাথে হালকা উদ্বেগ মিশিয়ে সামিউল শেখ এবার বললেন,
—”আহহা, শান্ত হও তো একবার। আমরা এখন কিছু না করলে…. হ্যাঁ, সমস্যা হবে। কিন্তু একেবারে বসে তো থাকতে পারি না, ঠিক বলছি? তোমার ছেলে আসতে আরো কদিন তো আছে!”
সালমা বেগম অসহায় গলায় ফিসফিস করে বললেন,
—”তাহলে তুমি কী করবে?”
সামিউল শেখ একটা ভারী নিঃশ্বাস ফেললেন। চশমাটা আবার চোখে বসিয়ে নিয়ে বললেন,
—”আমি তন্নির বাবার সঙ্গে কথা বলব একবার। আগের কথা নতুন করে তুলবো না, কিন্তু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবো, বলব যে ওটা ছিল একটা ভুল বোঝাবুঝি। এখন ওদের বিয়ের কোনো প্রশ্নই উঠে না। শ্রাবণ আর ধারা একসাথে আছে, এটা ওদের মানতে হবে। তন্নির এসব পাগলামি মোটেই কাম্য নয়!”
সালমা বেগম এবার একটু বুক ঠেলে উঠে বসলেন। চোখে আশার আলো ঝলকে উঠলো,
—”তুমি সত্যিই কথা বলবে? তুমি পারবে বুঝিয়ে বলতে?”
সামিউল শেখ গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বললেন,
—”আমার ছেলে কোনো অজুহাতে বিপদে পড়ুক, এটা আমি চাই না। তন্নির পরিবারকে বোঝাতে হলে আমি বোঝাবো। তবে কথা একটাই, এবার থেকে আমার কথার বাইরে কিছু করবেনা তুমি সালমা। যদি করো, তবে মনে রাখো, এক চামচ মরিচ বেটে তোমার চায়ে মিশিয়ে খাইয়ে দেব!”
সালমা বেগম মুখ চেপে একটু হেসে ফেললেন অজান্তেই। তারপর নিজের আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন,
—”আচ্ছা বাবা, ভুল করেছি, মেনে নিচ্ছি। এবার শুধু এতটুকু করো, ছেলেটা যেন শান্তিতে থাকুক। আর মেয়েটার মন যেন না ভাঙে…”
সামিউল শেখ চোখ বুঁজে বললেন,
—”দেখি কী করা যায়।”
ঘরজুড়ে এক নিঃশব্দ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বাইরের আকাশটা তখন একটু একটু করে ঘন মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে। সালমা বেগম মনে মনে দোয়া করলেন যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।
ধারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে অদুরে থাকা শ্রাবণের হাতের দিকে। সিএনজির খোলা পাশে একটু ঝুঁকে বসে সে দেখল, শ্রাবণ হেঁটে আসছে হাতে একজোড়া গরম গরম বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে। চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইলো ধারা। কারণ এই রাস্তার ধারে তো তেমন কোনো ভালো খাবারের দোকান নেই। আর যে বিরিয়ানির প্যাকেটটা শ্রাবণের হাতে দেখা যাচ্ছে, ওটা তো সে চেনে। মোহনপুর বাজারের মাঝখান দিয়ে যে সরু গলিটা সোজা গিয়ে একটা পুরোনো রেস্টুরেন্টে মিশেছে, ওইখানেই পাওয়া যায় এই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বিরিয়ানি। সে জানে কারণ একদিন লিজান একবার নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ওই দোকান তো এখান থেকে কম করে হলেও সাত-আট মিনিটের হাঁটা পথ… আর এই রোদে, এই রাস্তায়… শ্রাবণ কি সত্যিই ওইখান থেকে নিয়ে এলো? এত কষ্ট করে অত দুরে যাওয়ার দরকার কি ছিল।
ধারা মনে মনে অবাক হয়ে ভাবে, মুখে কিছু না বলে কেবল শ্রাবণকে চেয়ে চেয়ে দেখে। শ্রাবণ কাছে এসে বিরিয়ানির প্যাকেট দুটো সিএনজির সিটে রাখে, হাতের বোতল বের করে নিজের শার্টের হাতা গুটিয়ে নেয়, আর হাসিমুখে বলে,
—” হাত ধুয়ে নাও দেখি! গন্ধেই বুঝতে পারছো নিশ্চয়ই, বিরিয়ানি এনেছি। ওটা তোমার, ওটা আমার। খুব মশলা না, খেতে পারবে।”
ধারা ওসব কথা বোধহয় শুনতে পেলো না, সে এবার একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
—”আপনি..ওই দোকানে গেলেন নাকি? ওটা তো তো অনেকটা দূরে!”
শ্রাবণ হাসতে হাসতে কাঁধ ঝাঁকালো,
—” হুম, তো কী হয়েছে?”
ধারা পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো শ্রাবণের দিকে। শ্রাবণ আপাতত বোতলের পানি দিয়ে হাত ধুতে আর বিরিয়ানির প্যাকেট ঠিক করে রাখতে ব্যস্ত। কিন্তু ধারার চোখ গেলো লোকটার কপালের দিকে। ইশ! হেঁটে হেঁটে ঘেমে গিয়েছে লোকটা। হয়তো ক্লান্তও হয়েছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেছে। কিন্তু মুখে একটুও বিরক্তি নেই। বরং একটা সন্তুষ্টি—যেন কোনো এক অচেনা তৃপ্তি কাজ করছে তার ভিতর থেকে।
ধারার হঠাৎ কি হলো কে জানে। বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন করে উঠলো। একটা কাঁপুনি গলার কাছ থেকে ধীরে ধীরে হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লো। কিছু না ভেবেই, এক অনিচ্ছা সজাগ অনুভবেই সে তার শাড়ির আঁচলটা আলতো করে উঠিয়ে নিলো, আর পরম মমতায় এগিয়ে গিয়ে মুছিয়ে দিলো শ্রাবণের ঘর্মাক্ত কপাল। শ্রাবণ থমকে গেল। এক মুহূর্তের জন্য বোতলের পানির ধারা থেমে গেল, হাতের ভঙ্গি থেমে গেল, এমনকি বাতাসও যেন থেমে গেল আশেপাশে।
শ্রাবণ ফট করে চোখ ফেরালো ধারার দিকে। সেই দৃষ্টি তখনও দেখেনি ধারা,সে তো মৃদু কাঁপা হাতে কপাল মুছে দিচ্ছে, আর শ্রাবণ বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে তার চোখে। এ পর্যায়ে ধারাও খেয়াল করল শ্রাবণের দৃষ্টি। চকিত নয়নে তাকালো সেও। দু’জনের চোখে চোখ, কোনো শব্দ নেই, কোনো কথা নেই, শুধু এক নির্বাক অনুভব। মুহূর্তটাই যেন দীর্ঘ হলো। সময় সেখানে দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু হঠাৎই যেন নিজের কাণ্ড বুঝে উঠলো ধারা। লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো সঙ্গে সঙ্গে, আঁচলটা গুটিয়ে নিলো দ্রুত। হাত সরিয়ে নিলো এমনভাবে, যেন নিজেকেই দোষী ভাবছে সে। চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—” আসলে..টিস্যু নেই আমার কাছে তাই..!”
চিবুক কাঁপছে হালকা করে। বাকি কথা আর বলতে পারল না ধারা। শ্রাবণ কিছু বললো না। তার ঠোঁটের কোণে কেবল একটা মৃদু হাসি খেলে গেল। শব্দের চেয়ে স্পষ্ট কিছু যেন বলে গেল সেই হাসি। একটা নতুন কিছু শুরু হচ্ছে হয়তো। নিঃশব্দে, নিভৃতে।
শ্রাবণ এবার হাত ধোয়া শেষ হলে মুচকি হাসলো। একটু ভেবে ধারার দিকে হঠাৎ ঝুঁকে এলো। আলতো করে হাত বাড়িয়ে ধারার শক্ত করে মুঠোয় রাখা আঁচল টা টেনে নিল। ভেজা হাতটা মুছে নিল সন্তপর্ণে। এবার ধারাও অবাক হয়ে তাকালো। চোখ বড় করে চমকে উঠলে, শ্রাবণ নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে,
—” আমার কাছেও টিস্যু নেই!”
বলেই নিজের ভেজা হাতটা মুছতে লাগলো সেই আঁচলে, যেন এটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক কাজ। ধারা এবার পুরোপুরি স্তব্ধ। এতটা সহজ হতে পারে কেউ? এতটা স্বাভাবিকভাবে ভেঙে দিতে পারে কারো লজ্জা আর দূরত্বের দেয়াল? সে এবার চোখ নামিয়ে ফেললো। ঠোঁটের কোণে একটু হাসির রেখা টেনে আনতে চাইল, কিন্তু পারলো না। বুকের ভেতর কেমন ধক করে উঠলো। এই মানুষটা যদি তার পাশে থেকে যায়… সারাজীবন এমন করে থাকলে কেমন হয়?
ধারার আজ ভীষণ কথা বলতে ইচ্ছে করছে। সিএনজি চলতে শুরু করলে ধারা এবার মিনমিন করে বলে,
—” আপনি অত দূরে হেঁটে গেলেন কেনো? আশপাশ থেকেই কিছু একটা আনলে পারতেন।”
শ্রাবণ বিরিয়ানির প্যাকেট দুটো হাতে নিল। মুখে বলল,
—” তোমাকে ভালো কিছু খাওয়াতে ইচ্ছা করলো। তাই একটু হাঁটলাম। এমন কী বা আর হবে! হেঁটেই তো এসেছি! হামাগুড়ি দিয়ে তো আসিনি! ”
ধারা কোনো কথা খুঁজে পেল না। তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে কেমন গুলিয়ে উঠলো। কেউ হয়তো প্রথমবারের মতো তার জন্য একটু কষ্ট করল। কেউ তার খিদেটাকে গুরুত্ব দিল। এই হেঁটে আসাটা হঠাৎ করেই খুব দামী একটা অনুভূতিতে পরিণত হলো ধারার কাছে। কিন্তু এতক্ষণে ধারা লক্ষ্য করল শ্রাবণের অদ্ভুত কার্যক্রম। শ্রাবণ কিছুক্ষণ থ মেরে প্যাকেট দুটোর দিকে তাকিয়ে থেকে ফট করে তুলে নিয়েছে। ধারা বুঝে উঠার আগে ইতোমধ্যেই শ্রাবণ দু প্যাকেটের বিরিয়ানি এক প্যাকেটে ঢেলে ফেলেছে। মানে দুটোই একসাথে করে নিয়েছে। এবার অবাক হলো ধারা, তারা কি একই প্যাকেটে দুজন খাবে নাকি! হায়হায়! তা কীভাবে হয়?
ধারা অবাক হয়ে কিছু বলে ওঠার আগেই শ্রাবণ তড়িঘড়ি করে বিরিয়ানির লোকমা তুলে ধরে ধারার সামনে, মুখে বলে,
—” নাও, মুখ খোলো।”
অবাকের রেশ কাটতেই চাইছে না। ধারার এবার মনে বিরক্ত লাগলো। কি এক বাজে অবস্থা! আজ কি অবাক হওয়ারই দিন নাকি? সকাল থেকে একের পর একেক কান্ডে অবাকের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে মেয়েটা। এখন আবার এই লোক কি তাকে খাইয়ে দিতে চাইছে? আশেপাশে আড়চোখে তাকালো ধারা। যদিও তারা এখন রাস্তায় আছে, আশেপাশে দেখার মত কেও নেই। কিন্তু সিএনজির চালকটা তো আছে!
ধারা এবার মিনমিন করে বলল,
—” আমি তো নিজে খেতে পারতাম!”
ভ্রু কুঁচকে তাকালো শ্রাবণ। কড়া কন্ঠে বলে উঠলো,
—” তুমি আমার সামনে বেশি মাতব্বরি করতে আসবেনা মেয়ে। ছোট মানুষ, ছোটর মত থাকো। এত বেশি বোঝো কেনো তুমি? এখন তুমি নিজে খেতে গেলে হাত ধুতে হবে, আর রাস্তাতে অত কিছুর দরকার নেই। খাইয়ে দিচ্ছি, খেয়ে নাও!”
ধারা এক মুহূর্ত বোবার মতো তাকিয়ে থাকল শ্রাবণের দিকে। লোকটা সত্যিই লোকমাটা তুলে ধরে রেখেছে তার সামনে, একেবারে গম্ভীর অথচ স্নেহময় কণ্ঠে আদেশ করছে খেয়ে নিতে। এ আবার কেমন মানুষ? মাথার মধ্যে হাজারটা চিন্তা একসাথে ঘুরপাক খাচ্ছে। আশেপাশে কেউ দেখছে না তো? সিএনজির ড্রাইভার কী ভাবছে? তাও, এতবড় হয়ে গেছি, আর এখন কেউ লোকমা তুলে খাওয়াবে, এটা কি মানায়? কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, ধারা বিরক্ত হতে পারছে না। রাগ করতেও পারছে না। যেন শ্রাবণের চোখে চোখ রাখলেই সব অসস্তি কোথায় গলে যায়। মনে হচ্ছে, লোকটা যতটা গম্ভীর মুখে কথাটা বলেছে, ঠিক ততটাই যত্নে বলেছে, একদম ছোট বেলায় মা যেভাবে বলতো তেমন, বা… আরও কাছের কেউ, যার সামনে ছোট হয়ে থাকতেও একটা নিরাপত্তা থাকে।
ধারা মুখ নামিয়ে বলল না কিছু, কেবল চোখের কোণ দিয়ে শ্রাবণের দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে একটু মুখ খুলে লোকমাটা নিলো। লজ্জায় গলা শুকিয়ে আছে তার। মুখ নিচু, চোখের পাতাও কাঁপছে। শ্রাবণ এবার অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নিজেও খেলো, তারপরের লোকমা তুলতে লাগল। দেখে মনে হচ্ছে, এটা খুব পরিচিত একটা দৃশ্য, খুব চেনা অভ্যেস। একটা ভারী নিঃশ্বাস ফেলল ধারা। তার আজকের সকালটা কেমন ছিল অবহেলা, অপমান, সব পেছনে পড়ে গেছে যেন। এখন কেবল একটা অদ্ভুত নরম সময়, যেখানে কেউ তাকে খাইয়ে দিচ্ছে, আর সে মুগ্ধ হয়ে গ্রহণ করছে।
ধারা এবার ধীরে বলল,
—” একটা কথা বলি?”
শ্রাবণ একটু থমকে গেলো। লোকমাটা হাতে নিয়ে সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো ধারার মুখের দিকে। মনে মনে কিছু একটা বুঝতে পেরেছে শ্রাবণ। উপলব্ধি করতে পেরেছে মেয়েটা কী বলতে চাইছে। আর এটাও বুঝতে পেরেছে ধারা যা বলতে চাইছে তা এই মুহুর্তে শুনতে মোটেই ইচ্ছুক নয় শ্রাবণ। এখন যদি মেয়েটা আবার বলে যে, আমি কখনো বিরিয়ানি আগে খাইনি। তাহলে এর থেকে খারাপ কিছু হবেনা শ্রাবণের জন্য। শুনতে পারবেনা সে। এই মেয়েটার স্বাভাবিক ভাবে বলা অপ্রিয় কথাগুলো শুনতে বেশ নির্মম লাগে! তাই সে মাথা ঝাঁকালো,
—” খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই। চুপচাপ খাও!”
ধারা বোধহয় অবাধ্য হলো। মাথা নামিয়ে মিনমিন করে বলল,
—” একটু বলি, নইলে পেট ব্যথা করবে!”
ফিক করে হাসলো শ্রাবণ। মনে মনে হিসেব কষলো, আবিষ্কার করল, মেয়েটা একটু স্বাভাবিক হয়েছে তার সাথে। তাই মুখে বলল,
—” তাহলে বলো..!”
ধারা আঁচলে আঙুল পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,
—” মা বলেছিল, আপনি নাকি ভালো। কিন্তু আমার মনে হয় আপনি…
ভ্রু কুঁচকে ফট করে তাকালো শ্রাবণ। চোখ সরু করে বুঝতে চাইলো ধারা কি বলতে চাইছে। মেয়েটা কি তাকে খারাপ বলবে! তাই ভ্রু উঁচিয়ে শুধালো,
—” আমি?”
ধারা চোখ পিটপিট করে গম্ভীর শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে মুখ ফঁসকে বলেই ফেলল,
—” আপনি মনে হয় টিকটিকি, না মানে… গিরগিটি। মাঝে মাঝে খুব ভালো, আবার মাঝে মাঝে একটু খারাপ হয়ে যান।”
শ্রাবণ দু’সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলো ধারার দিকে। ধারা একটু ভয় পেয়েছে। খুব সাহস নিয়ে কথাটা বলেছে যে। শ্রাবণের দৃষ্টি দেখে আরেকটু সংকুচিত হলো মেয়েটা। শ্রাবণ ওকে দেখে মুখ গম্ভীর রাখার চেষ্টা করল ঠিকই, কিন্তু সেটা বেশি সময় স্থায়ী হলো না। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। একটা টেনে রাখা হাসি, যেটা শেষমেশ হালকা গলায় বেরিয়েই এলো। মুখে জিজ্ঞেস করল,
—” টিকটিকি নাকি গিরগিটি? কোনটা?
ধারা এবার আর ঝুঁকি নিল না। ফটাফট দুদিকে মাথা নেড়ে অস্বীকার করে বলল,
—” না মানে, কোনোটাই না। আপনি তো ভালো।”
শ্রাবণ এবার গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়ে বলল,
—” কিন্তু তুমি তো আমায় টিকটিকি আর গিরগিটি বললে!”
ধারা এবার নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল,
—” না না বলিনি। মজা করেছি। আপনি তো ভীষণ ভালো!”
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ১০
শ্রাবণ এবার সত্যি সত্যি হেসে উঠল। একটা ভারি, প্রাণখোলা হাসি, যেটা খুব কম সময়ে দেখা গেছে তার মুখে। ধারা অবাক হয়ে চেয়ে রইল, যেন প্রথমবার শুনছে লোকটার হাসি। তাকে এমন হেসে উঠতে দেখে ধারা মনে মনে বুঝে গেলো, সে আর আগের ধারা নেই। সেই যে ভয় পেত, সংকোচে মুখ ঢাকত, দমবন্ধ করে রাখত নিজের কথা, সেই ধারা যেন একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। তার জায়গায় জন্ম নিচ্ছে এক নতুন ধারা, যে হাসতে জানে, ঠাট্টা করতে জানে, কিছু একটা বুঝতে শিখছে। শ্রাবণ এবার চোখ সরিয়ে বিরিয়ানির প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে বলল,
—” একটু গিরগিটি হলে ক্ষতি নেই। পারলে তুমিও একটু গিরগিটি হয়ে দেখতে পারো। ভালো লাগবে!”
