Home শ্রাবণ ধারার রূপকথা শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৩

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৩

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৩
অনামিকা তাহসিন রোজা

কেটে গেলো কয়েকদিন। সময় আর স্রোত কারো জন্যে থেমে থাকে না। এ হলো পৃথিবীর অন্যরকম এক মহাসত্য কথা, যা মানুষের জীবনে বেশ ভালোই টের পাওয়া যায়। শ্রাবণ এখনো বুঝতে পারে না কীভাবে ধারার সাথে কাটানো দিনগুলো এত সুন্দর করে কেটে যায়। কেনো সময় এত দ্রুত এগোচ্ছে। আজ অফিস থেকে আসার পথে শ্রাবণ উপলব্ধি করতে পারলো যে ধারার সাথে কাটানো প্রত্যেক টা মুহুর্তই তার খুব প্রিয়। সবসময় মেয়েটাকে নিজের প্রশান্তি মনে হয়। কখনো বিরক্তির কারন মনে হয় না। এমনকি মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মত যে কান্না করে সেটাও আদুরে লাগে শ্রাবণ শেখের কাছে। এটা কি জাদুর কবলে পড়ে হয়েছে? হতেও পারে। মারাত্মক জাদু যে!
আজ ভীষন তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বাড়িতে আসছে শ্রাবণ।

কারন কাল আবার জিহান আর মুনিরার গায়ে হলুদ। তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান টা হবে মুনিরাদের বাড়িতে। মমিনুর সাহেবের বড়ই শখ এ বিষয়ে। তাই জিহানও চুপচাপ ভদ্র জামাইয়ের মত মেনে নিয়েছে। যতই হোক, একমাত্র হিটলার শ্বশুর বলে কথা। না মেনে কি উপায় আছে? একবার মেয়েকে হাতে তুলে দিক! তারপর আর মানামানির মধ্যে থাকবেনা সে। বউ কে নিয়ে উড়তে থাকবে। কালকের অনুষ্ঠানের সব গোছগাছ করতে আজ বিকেলেই শেখ পরিবার গিয়ে পৌঁছাবে মমিনুর সাহেবের বাড়িতে। ভদ্রলোক আবার রীতিমতো বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করে গিয়েছেন যে শেখ পরিবার কনেপক্ষ হয়ে পুরো বিয়েতেই ও বাড়িতে অবস্থান করে। প্রথমে নাকোচ করেছিলেন সামিউল শেখ, পরবর্তীতে ভদ্রলোকের আন্তরিকতার কাছে হার মেনে তিনিও রাজি হয়েছেন।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দ্রুত গতিতে গাড়ি থেকে নেমে সদর দরজা পেরোলো শ্রাবণ। এই সময় টাতে তাকে দরজা নক করতে হয়না। তার লক্ষ্মী বউ সর্বদাই সময়ের মধ্যে আগে থেকেই দরজা খোলা রাখে। আজও তেমনই হলো। তবে প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে আগে ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হলেও আজ আগে রান্নাঘরের দিকে গেলো শ্রাবণ। কারন তার মিষ্টি বউ আজ সকাল থেকে রান্নাঘরে ঘাঁটি গেঁড়েছে। এর এক বিরাট কারন হলো সালমা বেগম ইতোমধ্যে মহিলাসমাজ নিয়ে মুনিরাদের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। যাওয়ার সময় ইকরাকেও সঙ্গে নিয়েছে। মুনিরাও জোরজবরদস্তি করে নিয়ে গিয়েছে তাদেরকে। আর সামিউল শেখ গিয়েছেন শাহেদ শেখের অফিসে কোনো এক কাজে। ফলস্বরূপ এই বড় বাড়িতে আজ একা শ্রাবণ আর ধারা।

এবং রান্নার কাজও ধারা কে করতে হচ্ছে। যদিও সে এটা বেশ ভালোই উপভোগ করে। এই কিচেনরুমে রান্না করতে ধারার মোটেই কষ্ট হয়না। অথচ তা তো শোনে না শ্রাবণ শেখ। তাঁহার ভাষ্যমতে, বউ কেনো রান্না করবে? বউয়ের কাজ হলো স্বামীর সেবাযত্ন করা। আর তা করলেই খুশি শ্রাবণ শেখ।
শ্রাবণ ল্যাপটপের ব্যাগ টা ছুঁড়ে ফেলে সোজাসুজি ঢুকে গেলো কিচেনে। এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হলো মুহুর্তেই। থ্রিপিসের ওড়না পেঁচিয়ে কোঁমড়ে বেঁধে চুলো খোপা করে জোর কদমে রান্না করছে ধারা। একটু একটু ঘেমে গেছে, ক্লান্তি স্পষ্ট। তবুও কি স্নিগ্ধ মনোরম মন নিয়ে রান্নায় মত্ত মেয়েটা। এতটাই মনোযোগী যে শ্রাবণের উপস্থিতি টের পেলো না। কেনো যেন দৃশ্য টা বেশ আকর্ষণ করলো শ্রাবণ। মন্ত্রমুগ্ধের মত এগিয়ে গেলো সে। ধীরে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ধারাকে। প্রথমে আঁতকে উঠলো ধারা। কিন্তু পরক্ষনেই বুঝতে পারলো আগন্তুকের পরিচয়। তাই মিইয়ে গেলো খানিকটা,

—” হুট করে এভাবে কেও ধরে? ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তো। কখন আসলেন?”
শ্রাবণ থুতনি ঠেকিয়ে দিলো ধারার কাঁধে। ঠোঁট চেপে মায়াভরা কন্ঠে বলল,
—” মাত্র এসেছি। তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না?”
ধারা তাৎক্ষণিক মাথা নেড়ে বলল,
—” মোটেই না। আমি কি সবমসময় রান্না করি নাকি? মা তো করতেই দেয়না। অথচ এখানে রান্না করতে আমার ভালোই লাগে। সবকিছু কি সুন্দর গোছানো! ওভেন, ম্যাজিক চুলা, গ্যাসের চুলা, ব্লেন্ডার, কাটিং বোর্ড, ফ্রাই প্যান, প্রেশার কুকার, রাইস কুকার আরো কত কি কি রান্নার জিনিসপত্র আছে। এসব দিয়ে তো খুব সহজেই রান্না করা যায়।”
শ্রাবণ হেসে চোখ বড় করে তাকালো,

—” আসলেই? তাই নাকি? বাহবা! নামও মুখস্থ করে ফেলেছো দেখছি।’
ধারা হেসে বলল,
—” অবশ্যই। আপনি তো জানেন না, গ্রামে অনেক কষ্ট রান্না করতে। এত কিছু তো নেই সেখানে। আগুনের তাপে মুখ জ্বলে যেত আমার। ছোটবেলায় ভাত রান্না করতে গিয়ে একবার পুরো মুখ জ্বলে গিয়েছিল। তখন দৌঁড়ে পুকুরে গিয়ে ডুব দিয়েছিলাম।”
ধারা কি সুন্দর হেসে হেসে কথাটা বলল। অথচ শ্রাবণ তাকিয়ে রইলো অবাক হয়ে। আসলেই। কাকে কি বলছিল সে? ধারার কষ্ট হবে কেনো? যেই মেয়ে ছোট থেকে কষ্ট পেতে পেতে সুখের সংজ্ঞা ভুলে গিয়েছে, সেই মেয়ে আবার কীসের কষ্ট পাবে। এসব তো তার কাছে কোনো ব্যপারই না। বুকটা আবারো মোঁচড় দিলো শ্রাবণের। ধারার কোঁমড়ে রাখা হাতদুটো আরো দৃঢ় করে জড়িয়ে ধরলো পেছন থেকে। চুমু খেলো গালে। আদর দিলো সেখানটায়। বলল,

—” তুমি আমায় তোমার গ্রামের ওসব কথা বলবে না ধারা। আমি তোমার ওই কালো অধ্যায়ের কাহিনী শুনতে মোটেই চাই না। সহ্য করতে পারিনা আমি। কষ্ট হয় ভীষন। মন চায়, যদি পারতাম, যদি অতীতে গিয়ে কিছু একটা করতে পারতাম, তোমায় এত কষ্ট পেতে হতো না। কিন্তু এটা তো অসম্ভব। ভাগ্য তো পরিবর্তন করতে পারিনা আমরা। অথচ অনেক যন্ত্রনা হয়! ”
ধারা হেসে ফেললো। মুখভরে হাসলো। মিষ্টি স্বরে বলল,

—’ আচ্ছা, আর বলব না। ”
শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধারার ঘাঁড়ে মুখ গুঁজে দিলো। চুলের ঘ্রান নেয়ার প্রয়াস। ক্লান্তি কাটানোর আকাঙ্খা! ধারা এবার কুঁকড়ে গেলো। একটু সরার চেষ্টা করে তড়িঘড়ি করে বলল,
—” আহহা। আমার কাছে আসবেন না। ঘেমে গেছি তো।”
ভ্রু কুঁচকালো শ্রাবণ,
—” তো কি হয়েছে?”
বিরক্ত হয়ে গেলো ধারা। কড়াইটা একটু ঘুরিয়ে আরেকবার চামচ দিয়ে নাড়তে নাড়তে বলল,
—”কী হয়েছে মানে? ঘেমে গেছি, নোংরা হয়ে আছি তো। এই অবস্থায় ছোঁবেন কেনো? কোঁমড় থেকে হাত সরান। জামায় মসলা লেগেছে।”
শ্রাবণ চরম বিরক্ত হলো। জগতের সব রাগ এক করে ঢেলে দিলো বউয়ের উপর। ধমক দিয়ে বলল,

—”সবসময় বেশি বেশি করো কেনো তুমি? চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকো। আরেকবার নড়লে কানের নিচে মারব দুটো। বেয়াদব। আমি আমার বউকে যখন খুশি, যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি সেভাবেই জড়িয়ে ধরবো। তোমার তাতে কী?”
ধারা মিইয়ে গেলো। আজব লোক তো! এই না মিষ্টি করে কি সুন্দর সুন্দর কথা বলছিল। সেকেন্ডের মধ্যে রূপ বদলে ফেললো। মনে মনে ভেঙচি কাটলো ধারা। শ্রাবণ আবারো আগের মত জড়িয়ে ধরলো। ধারা সেভাবেই রান্না করতে থাকলো। ফট করে জিজ্ঞেস করল,
—” সদর দরজা লাগিয়ে দিয়েছেন?”
শ্রাবণ ক্লান্ত কন্ঠে বলল,

—” হুম!”
কথা বলতে ইচ্ছুক না সে। কারন শ্রাবণ তো ধারার ঘাড়ে মুখ গুঁজে চোখ বন্ধ করে ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টায় মত্ত।
ধারা আবারো জিজ্ঞেস করল,
—”অফিস ভালো হয়েছে?”
—” হুম।”
—” আপনার কি ঘুম পাচ্ছে?”
—” হুম!”
ঠোঁট কাঁমড়ে কিছু একটা ভেবে ধারা আবারো প্রশ্ন ছুঁড়লো,
—” গোসল করবেন না এখন? বিকেলে যেতে হবে তো।”
শ্রাবণ এবার মুখ তুলে ঘুমুঘুম চোখে তাকালো ধারার দিকে। নাকমুখ কুঁচকে ধমক দিলো,
—” একটা সেকেন্ড চুপচাপ থাকতে পারো না তুমি? একটু শান্তিতে ছিলাম, তখন থেকে বকবক করেই যাচ্ছো। ফটরফটর করে কথা বলা কোথথেকে শিখেছো? সকালে কি মটরশুঁটি গিলো?”
ধারা ঠোঁচ উল্টে মিনমিন করে বলল,

—” আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম।”
শ্রাবণ চ সূচক শব্দ করে এবার ধারার থেকে সরেই এলো। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,
—” ধুর! আর থাকবোই না এখানে। গোসল করতে গেলাম।” বলেই চলে গেলো ঘরে।
শ্রাবণ চলে যেতেই ফিক করে হেসে ফেলল ধারা। ভীষন দুষ্টু হয়েছে সে। ইচ্ছে করে এভাবে অযৌক্তিক কথা বলে শ্রাবণকে জ্বালিয়েছে যেন নিজে থেকেই এখন চলে যায়। পরিকল্পনা সফল।

মুনিরাদের বাড়িতে এসে ইকরা অবশেষে একটু মন ভালো করতে পেরেছে। মুনিরার সাথে ভাব জমেছে বেশ। দুজনে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করেছে তারা। একসাথে জামাকাপড় গুছিয়েছে। রান্না করেছে। দুপুরের খাবারের পর মুনিরা বারান্দায় বসে জিহানের সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত ছিল। তখন ইকরাও বারান্দায় এসে বসলো। মুনিরা হেসে জিহানের সাথে কথা শেষ করে ফোন রেখে জিজ্ঞেস করল ইকরাকে,
—” হলুদ শাড়ি কিনেছো তো?”
ইকরা হেসে একটু কাঁচুমাচু করে বলল,
—” হ্যাঁ তা তো কিনেছি। কিন্তু আমার তো তেমন চুড়ি নেই।”
মুনিরা হাত নেড়ে বলল,

—” আরেহ চিল। আমার কাছে আছে তো। হয়ে যাবে কোনো একটা ব্যবস্থা। ”
ইকরা কৃতজ্ঞতার সহিত হেসে বারান্দা দিয়ে বাইরে তাকালো। আকাশটা দেখতে দেখতে হুট করে চোখ আটকালো বারান্দায় ঝোলানো একটা ফুলের টব, যেখানে ছোট্ট দুটো ফুল ফুটে আছে। জিনিসটায় অবাক হলো ইকরা। কারন ফুল দুটো অপরিচিত। আগে কখনো এই ফুল দেখেনি সে। সাদা রঙা ছোট্ট ফুলদুটো টানলো ইকরা কে। সে মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” এটা কী ফুল মুনিরা? কোথা থেকে এনেছো?”
মুনিরা তাকিয়ে দেখলো ফুলদুটো। আলতো হেসে বলল,
—” আনিনি। জিহান গিফট করেছে।”
ইকরা ভ্রু কুঁচকালো,

—” এমন ফুল তো আগে দেখিনি কখনো। দেশীয় তো মনে হয়না!”
মুনিরা এবারে লজ্জায় খানিকটা মিইয়ে গেলো। লাজুক সুরে মাথা চুলকিয়ে বলল,
—” আসলে কী আর বলি, আমি ইনস্টাগ্রামে একবার এই ফুল টা দেখেছিলাম। ভীষণ পছন্দ হয়েছিল। পরে জানতে পারলাম এটা দেশে পাওয়া যায় না, বিদেশি ফুল। থাইল্যান্ডে বেশি জন্মায়। এশিয়াতেও পাওয়া যায়, তবে আমাদের দেশে নেই। তখন খুব মন খারাপ করেছিলাম। তবে আশা করিনি। কিন্তু ওই পাগল জিহান যে সত্যি সত্যি এভাবে আমাকে ফুলের চারা এনে দেবে তা আমি ভাবতেও পারিনি। আমি চাইনি ফুলটা, তবুও বিদেশ থেকে আনিয়ে নিয়েছে।”
একটুখানি থেমে মুনিরা আবারো বলল,

—” আমি ভীষণ চেষ্টা করি গাছটার যত্ন নেওয়ার। কারণ আমাদের দেশের পরিবেশের সাথে, আবহাওয়ার সাথে গাছটা খাপ খাইয়ে নিতে পারত না। আমি খুব কষ্টে যত্ন করে গাছটাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। এখন মাঝে মাঝে ফুল ফোটে। সত্যি! লোকটা পারেও বটে।”
ইকরা মনোমুগ্ধকর হয়ে শুনে গেলো মুনিরার কথা। জ্বলজ্বল করা চোখ নিয়ে তাকিয়ে ফুল দুটোকে আবারো দেখলো। মন্ত্রমুগ্ধের মত জিজ্ঞেস করল,
—” নাম কী ফুলটার?”
মুনিরা হেসে বলল,
—” বেবিস ব্রেথ।”
ইকরা এবারে মুনিরার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
—’ সত্যি, ভালোবাসা সুন্দর। ”
মুনিরা হাসলো। মাথা নিচু করে রাখলো কিছুটা সময়। এরপর ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
—” তোমার কাহিনী বলোতো এবার! শুনব শুনব করে শোনা হয়নি।”
হেসে ফেলল ইকরা। মলিন হাসলো,

—” ধুর! আমার আবার কীসের কাহিনী থাকবে?”
মুনিরা মানতে নারাজ। মাথা নেড়ে বলল,
—” উহু। বলতেই হবে। তোমাকে দেখেই বোঝা যায় যে অনেক আগেই নিজের মন হারিয়েছো। নিশ্চয়ই কাওকে দিয়ে বসে আছো। সত্যি করে বলো।”
ইকরার হাসি কমলো। সে এবারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—” মন তো হারিয়েছি। কিন্তু যাকে দিতে চেয়েছি, সে তা গ্রহন করেনি, অজান্তে অবহেলা করেছে। অন্য এক স্থানে মনটাকে স্থান দিয়েছে, যা আমার কাম্য ছিল না। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় মন হারিয়েছি বুঝলে। আফসোস! অনেক চেষ্টা করেও আর দেয়া জিনিসটা ফিরিয়ে আনতে পারছি না। থাকুক না! অবহেলাতেই থাকুক। তবুও তার কাছেই থাকুক!”
মুনিরাও মলিন মুখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

—” একতরফা?”
চোখের পানি অবাধ্য। তারা বাঁধা মানে না। কখনোই মানে না। ইকরা সেই জলেভরা চোখ নিয়েই হেসে বলল,
—” ভালোবাসায় আবার একতরফা কী? ভালোবাসি মানে ভালোবাসি। অপরপক্ষের ভিত্তিতে নিজের যত্নে গড়া ভালোবাসা টাকে একতরফা নাম দেবো কেনো? আমার ভালোবাসা একতরফা নয়, নিঁখুত!”
মুনিরা এতক্ষণ অন্য জগতে ছিল মনে হয়। সে একদম আবেগের সাগরে ভাসতে থাকলো। অনেকটা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে বসলো,

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪২

—” কে সে?”
ইকরা আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
—” থাকুক না কিছুটা অজানা!”

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৪