শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ১০
অনামিকা তাহসিন রোজা
উঠোনে দাঁড়িয়ে করিম সাহেব দু’হাত পেছনে গুঁজে একটু কুণ্ঠিতভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। গায়ের ঢোলা শার্টটা ঘেমে একাকার। মাত্রই কাজ সেড়ে বাড়িতে পা রেখেছেন তিনি। এসেই বুঝে গেছেন, কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু কী, সেটা এখনো পরিষ্কার না। শ্রাবণ সামনে এসে দাঁড়ানোর পর দুজনের মাঝখানে কিছুক্ষণ নীরবতা ভেসে রইল। বাড়ির চারপাশে দুপুরের নিস্তব্ধতা, শুধু দূর থেকে পাখির ডাক ভেসে আসছে। করিম সাহেব বেশ ভয়েই আছেন। বুঝতে পারছেন না বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে কেনো শ্রাবণ তাকে এভাবে দাঁড় করালো। শ্রাবণের চোখে সরাসরি না তাকিয়ে করিম সাহেব এবার জিজ্ঞেস করলেন,
—”হ্যাঁ জামাই বাবা, কিছু বলবা ?”
শ্রাবণ চোখ নামাল না। কণ্ঠটা ঠান্ডা, কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বলল,
—” হুম। বলতে এসেছি, আমরা আজই চলে যাচ্ছি।”
ভ্রু কুঁচকালেন করিম সাহেব। কথাটা শুনে চমকেছেন বটে। এত তাড়াতাড়ি শ্রাবণ চলে গেলে তো নিজের স্বার্থ হাসিল হবেনা ভেবেই মনে মনে বিরক্ত হলেন তিনি। কন্ঠে অব্যক্ত অসস্তি নিয়ে মেকি হেসে প্রশ্ন করলেন,
—”এ কেমন কথা? হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিলে কেনো বাবা? এত তাড়াতাড়ি? সাতদিন থাকার কথা ছিল যে, কিছু হয়েছে নাকি?
শ্রাবণ মাথা সামান্য কাত করল, মুখে মৃদু হাসি, তবে চোখে হাসি নেই। কপালে তর্জনী ঘষে বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—”না, কিছু হয়নি। শুধু কিছু উপলব্ধি করেছি। বুঝতে পেরেছি, যেসব জায়গায় মানুষ নিজের মন খুলে কথা বলতে পারে না, নিজের অবস্থান নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারে না, নিজের শারিরীক সুস্থতার গ্যারান্টি থাকেনা, সেসব জায়গায় থাকা মানে নিজের সম্মানের সঙ্গে অন্যায় করা। আর সবচেয়ে বড় কথা, ধারা তো আপনাদের কেও না! ”
করিম সাহেব এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন। শ্রাবণের এত গভীর কথাগুলো বুঝলেন না। তবে বুঝতে পারলেন ধারার সাথে কিছু একটা হয়েছে বোধহয়। মুখ কুঁচকে মনে মনে গালি দিলেন সোহাগি কে। বেশ বুঝলেন এই মহিলা কিছু একটা করেছে। করিম সাহেব কতবার বারণ করেছে, কতবার সাবধান করেছে যেন টাকা পাওয়ার আগে উল্টোবাল্টা কোনো আচরণ না করে। অথচ এই বেয়াদব মহিলা সেটাই করল। মনে মনে সাফাই দেয়ার অযুহাত খুঁজে তিনি কিছু বলার আগেই শ্রাবণ আবার বলল,
—”আপনারা আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন, এত কিছু আয়োজন করেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। তবে একটা বিষয় বলতে চাই, খাওয়ানো-পরানো দিয়ে সব দায়িত্ব শেষ হয় না। সম্পর্কের মূল মানে সম্মান আর নিরাপত্তা। একটা মেয়ে যদি নিজের বাড়িতেই নিরাপদ থাকতে না পারে, তাহলে তো বিষয়টা খুবই খারাপ হয়। বাড়ির গরু ছাগলকেও আপনারা ভালো করে ট্রিট করেন, অথচ নিজের বাড়ির মেয়েকে…যাক ওসব বাদ দিন! আমি আপনাদের মত অমানুষদের সাথে এমন নৈতিকতার বিষয়ে কথা বলতে চাইছি না। বোঝার মত মানসিকতা নেই আপনাদের!”
করিম সাহেব পাথরের মত দাঁড়িয়ে শুনতে থাকলেন। হাতের তালু ইতোমধ্যে ভিজে গেছে। একটু থেমে, এবার গলায় ঠান্ডা একটা দৃঢ়তা এনে শ্রাবণ চোয়াল শক্ত করে বলে উঠলো,
—”আমি জানি না, এখানে আপনাদের মেয়ের সাথে কে কেমন ব্যবহার করেছে। তবে আমি এটুকু জানি, আপনাদের মেয়ে হওয়ার দিন শেষ ওর, শি ইজ নাউ মাই রেসপনসেবিলিটি! আর, আমার স্ত্রী যদি মাথায় এত বড় আঘাত পেয়ে ব্যথা নিয়ে বসে থাকে আর চোখ লুকোতে বাধ্য হয়, তাহলে তার শারীরিক আঘাতের চেয়েও বড় আঘাত হয় তার আত্মমর্যাদায়। এই জিনিসটা এতগুলো বছর ধরে হয়ে আসছে, ইটস ওকে। আমার সমস্যা নেই। কারন তখন ধারা আমার কেও ছিল না। বাট বর্তমানে আর ভবিষ্যতে, ও আমার দায়িত্ব! আমি ওর অভিভাবক, আপনারা নন! তাই ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না হয়, সেসবের দেখার দায়িত্ব টাও আমার!”
করিম সাহেব এবার অস্বস্তিতে গলা খাঁকারি দিলেন। শ্রাবণ এবার আর একটু এগিয়ে এসে একেবারে নিচু গলায় বলল,
—”ধারাকে নিয়ে আমি তেমন দাবি করিনি কখনো। এটা ঠিক, আমি ওকে সেভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দিইনি, কিন্তু দিন শেষে, সে আমার স্ত্রী। তার সম্মান রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। আমি শ্রাবণ শেখ কখনো দায়িত্ব নিয়ে হেলাফেলা করিনা। আপনি বুঝতে পারছেন তো, চাচা?”
করিম সাহেব মুখে কিছু বললেন না, শুধু মাথা নিচু করে উপর নিচ করে হ্যাঁ বোঝালেন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার। শ্রাবণ কে তিনি খুব একটা শক্ত মনে করেন নি। ভেবেছিলেন ধারাকে নিয়ে হয়তো খুব একটা গুরুত্ব দেবে না শ্রাবণ। অথচ ছেলেটা যে ভেতরে ভেতরে এতটা ভয়ানক! তা তো জানা ছিল না। ঠান্ডা মাথায় হুমকি দিলো মনে হচ্ছে।
শ্রাবণ আবারও গভীর নিঃশ্বাস নিল, কণ্ঠটা এবার আরও শীতল, আরও জোরালো করে বলে উঠলো,
—” আজ থেকে, এই মুহুর্ত থেকে ধারা আপনাদের কেও না। ও আর কখনো এ বাড়িতে পা রাখবেনা। আর এমন কিছু দ্বিতীয় বার হলে আমি অন্তত বরদাশত করব না!”
প্রতিটি শব্দ চূর্ণ করে ফেলছে করিম সাহেবের আত্মবিশ্বাস। তিনি এবার পুরোপুরি স্তব্ধ। মুখটা সাদা হয়ে এসেছে, চোখে আতঙ্কের ছাপ। এত কিছু করার পরেও কোনো ফল না পাওয়া, ভাতিজির স্বামীর মুখে এমন কাঁপন ধরা সংলাপ, সব মিলিয়ে এক ধরনের শীতল ভয় বুকের ভেতর জমে বসেছে। শ্রাবণ নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ, তারপর একটু ঝুঁকে ঠাণ্ডা গলায় বলল,
—”ওর মাথায় হাত দিয়ে মানুষ করেছে কেউ, আর কেউ করেছে কাঠ দিয়ে মাথা ফাটিয়ে। আপনারা কী দিয়েছেন, সেটা নিয়ে ও কিছু বলেনি কখনো। আজও বলতো না, আমি না জানতে চাইলে। কিন্তু আমি জানার পরেও যদি চুপ করে থাকি, তাহলে আমার নিজের প্রতি অসম্মান হবে। আফটার অল, আ’ম আ গার্ডিয়ান নাউ!”
করিম সাহেবের চোখে চোখ রাখল শ্রাবণ। সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঘাড় বাঁকালো, ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
—”আপনারা টাকার জন্য ওকে এনেছিলেন, সেটা বুঝতে আমার দেরি হয়নি। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন, এখন থেকে ওর পাশে আমি আছি। আর ওর ওপর হাত তোলার সাহস যদি কেউ করে… তাহলে আমি আর কথা বলবো না। শুধু যা করতে হয় তাই করব! এবার ভদ্রভাবে বলছি। পরের বার অভদ্রতা করতে দ্বিধা করবনা! এরপর থেকে ধারার সাথে কোনোরকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না! আশা করব আমার কথাগুলো বুঝেছেন!”
হাওয়ার ঝাপটা উঠোনের শূন্যতা ভেঙে দুলে উঠল। শ্রাবণ এবার হুট করেই ভাঙা গলায় বলল,
—”জীবন মানুষকে চুপ থাকতে শিখিয়ে দেয়। কিন্তু একজন মানুষ যখন চুপ করে ভেতর থেকে ভেঙে দাঁড়ায়, নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলে, তখন তার চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু হয় না।”
শব্দগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, করিম সাহেব যেন শিকড়ে আটকে যাওয়া কোনো গাছের মতো নড়েন না, শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন, চুপচাপ, নির্বাক, এবং জবাবহীন। শ্রাবণ এবার পেছন ফিরতে ফিরতে আবার বলল,
—”আমরা চলে যাচ্ছি। তবে কথা দিচ্ছি, আবার দেখা হবে। তখন হয়তো এই উঠোনে এমন এক ধারা ফিরে আসবে, যাকে দেখে আফসোস করবেন আপনারা!”
করিম সাহেব ঠোঁট ভিজিয়ে মাথা নিচু করলেন। শ্রাবণ হয়তো কথাগুলো সব করিম সাহেব কে উদ্দেশ্য করে বলেছে, অথচ চৌকাঠে অসহায় মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ধারাকে হয়তো সে দেখেনি। চৌকাঠে বাঁশের খুঁটির সাথে হাত পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে, ধারা নীরব চোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের দিকে। ভেতরে কোথাও কোনো শব্দ নেই, কেবল বুকের ভেতর থেমে থেমে কাঁপছে এক অজানা আবেগ।
শ্রাবণের প্রতিটি কথা, প্রতিটি ভরাট উচ্চারণ, ঠান্ডা অথচ তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে বলা প্রতিটি হুঁশিয়ারি, সবকিছু ও শুনেছে। শুনেছে নিঃশব্দে, নিঃশ্বাস আটকে রেখে। যতই ঠাণ্ডা মুখ করে সে দাঁড়িয়ে থাকুক, তার ভেতরে যেন কোনো এক দেয়াল ভেঙে পড়েছে ধ্বংসের শব্দে। ‘ও আমার স্ত্রী’, ‘তার সম্মান আমার দায়িত্ব— কথাগুলো বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ধারার কানের কাছে। নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছিল না সে। এ-ই কি সেই শ্রাবণ? যে বিয়ের রাতেই তার থেকে দূরে সরে ছিল, যার সঙ্গে সম্পর্কটাই যেন হাওয়ায় ঝুলছিল এতদিন? এই শ্রাবণই কি আজ এমনভাবে, এমন দৃঢ়তায় সবাইকে বলছে — ধারা তার দায়িত্ব? সত্যি কি তাই? আসলেই এমন একজন আছে যে কিনা ধারার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে!
কিছু বলার শক্তি নেই ধারার। বিস্ময়ে পাথর হয়ে শুধু নিঃশব্দে মাথা নামিয়ে ফেলল সে। বাঁশের খুঁটির সাথে কপাল ঠেকিয়ে দিল। চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাটির দিকে। গলার কাছটা ধড়ফড় করছে, বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছে। এতটা কষ্ট, অপমান আর অবহেলার মাঝে কেউ এভাবে পাশে দাঁড়াবে, এটা ওর কল্পনায়ও ছিল না। হয়তো এটা ভালোবাসা না, কিন্তু এর চেয়েও বড় কিছু — দায়িত্ব, সম্মান আর সুরক্ষার আশ্বাস। ধারা শুধু দাঁড়িয়ে থাকল, নিশ্চল, নীরব। তার চোখে পানি, আর সেই পানির নিচে, একটা ভরসার ছায়া, যে ছায়ার নাম শ্রাবণ।
শ্রাবণ করিম সাহেবকে আর একবারও না দেখে সোজা পা বাড়াল উঠোন ছেড়ে ঘরের দিকে। মুখে কোনও শব্দ নেই, চেহারাটা থমথমে, চোখে রাগের আঁচড় এখনও স্পষ্ট। তার পায়ের ভার যেন উঠোনের শুকনো মাটি চেপে দিচ্ছিল, একেকটা ধাপ যেন নিজেকে সংবরণ করার লড়াই মনে হচ্ছিল। কিন্তু চৌকাঠের কাছে এসে থমকে গেল শ্রাবণ। ধারা ঠিক দঁড়ির মত টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ঠেকানো মাথাটা ধীরে উঠালো সে, চোখে বিস্ময়ের ছায়া, ঠোঁটে কোনো শব্দ নেই, কেবল নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের চোখে চোখ রেখে।
শ্রাবণ থমকে দাঁড়ায়, চোখ নামায় না। তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ, নিঃশব্দ সেই বিস্ময় আর কৃতজ্ঞতা মাখানো দৃষ্টির গভীরে ডুবে যায় তার চোখও। একটা অদ্ভুত বোঝাপড়া জমে ওঠে দুজনের মাঝখানে, ভাষাহীন অথচ পূর্ণ। তারপর শ্রাবণ ঠোঁট নেড়ে নিচু গলায় জানতে চায়,
—”ব্যাগ গুছিয়েছো? ”
ধারার চোখ আরও একবার জলে চিকচিক করে ওঠে, কিন্তু এবার সে চোখ সরিয়ে না নিয়ে ধীরে মাথা নাড়ে। যার অর্থ, হ্যাঁ সে গুছিয়েছে। শ্রাবণ এবার একটু এগিয়ে আসে মেয়েটার দিকে। একদম চোখে চোখ রেখে সোজা দৃষ্টি দিয়ে শক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
—” বলোতো, আমি কে তোমার?”
ধারা বুঝলো না। এটা একটা বদ অভ্যেস হয়ে গেছে। শ্রাবণ হঠাৎ করে কোনো প্রশ্ন করলে প্রথমবারে বুঝতে পারেনা ধারা। বরাবরের মত এবারও বুঝলো না। অবুঝের ন্যায় নিশ্চিত হতে চাইলো,
—” হুম ?”
শ্রাবণ হাসলো না। আরো বেশি থমথমে দৃষ্টি ফেলে বলল,
—'” আমি জিজ্ঞেস করেছি যে, আমি কে? সম্পর্কে আমি কী হই তোমার?”
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ধারা। একটু আগে শোনা প্রত্যেক টা কথার রেশ এখনো তার মধ্যে রয়ে গেছে। বিস্ময়ের ভাবটা কাটাতেই পারেনি মেয়েটা। তার মধ্যে এমন জোরালো প্রশ্ন পেয়ে থতমত খেয়ে গেলো ধারা। কিছুক্ষণ আতঙ্কিত হয়ে তাকিয়ে থাকলো শ্রাবণের দিকে। লোকটা তো তাকে মানে না! তবুও কি তার বলা উচিত যে শ্রাবণ তার বর! হয়তো উচিত! উনি না মানলেও ধারা তো মানে। সব ভেবে নিয়ে ধারা মিনমিন করে বলল,
—” স্বামী…! ”
শ্রাবণ সন্তুষ্ট হলো কিনা বোঝা গেলো না। আরেকটু গম্ভীর গলায় সোজাসাপটা জিজ্ঞেস করল,
—” আর স্বামীর সব কথা যে শুনতে হয়, মান্য করতে হয়, স্বামীর কথার অবাধ্য হতে নেই, এগুলো জানো নিশ্চয়ই?”
ধারা এক পাশে মাথা এলিয়ে দিয়ে নীরবে বোঝালো জানে সে। খুব ভালো করেই জানে। শ্রাবণ এবার ক্ষীণ সরু কন্ঠে বলে উঠলো,
—” তাহলে, আমি যা বলব সব শুনবে তো? আমার অবাধ্য হবে ? নাকি আমার সব কথা শুনবে?”
ধারা মাথা নিচু করে মিনমিন করেই জানালো,
—” সব কথা শুনবো! ”
এ পর্যায়ে উঠোনে থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকা করিম সাহেবের দিকে তাকাল শ্রাবণ। কিছুক্ষণ অগ্নিঝরা দৃষ্টি ফেলে ধারার দিকে আবারো চোখ ফিরিয়ে বেশ অধিকারবোধ নিয়ে বলে উঠলো,
—” আজ থেকে তুমি এই বাড়ির সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখবেনা। তোমার চাচা-চাচির সাথে সমস্ত সম্পর্কের ইতি আজ, এই মুহুর্তে এখানেই টেনে দিতে চাই। সব পিছুটান বিচ্ছিন্ন করতে হবে। আর সবকিছু ছেড়েছুড়ে আমার সাথে যেতে হবে তোমায়। শহরে ফেরার পর তোমার শুধু একটা পরিচয়ই থাকবে, শেখ পরিবারের বউ। ”
ধারা বিস্ময়ে চোখ পিটপিট করে তাকালো শ্রাবণের দিকে। এরপর করিম সাহেবের দিকে তাকালো। কিন্তু করিম সাহেব মোটেই খুব একটা দুঃখ পাচ্ছেন বলে মনে হলো না। বরং হয়তো মনে মনে সস্তির শ্বাস ফেলছেন। শ্রাবণ আবারো বলল,
—” কথা বুঝতে পেরেছো?”
ধারা এবার শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে আগের মতোই মাথা এলিয়ে দিয়ে হৃদয়ে টান পড়ার মত কন্ঠ নিয়ে বলল,
—” জ্বি বুঝেছি!”
—” এতে তোমার কোনো আপত্তি আছে? কোনো সমস্যা আছে?”
শ্রাবণের পাল্টা প্রশ্নে তড়িঘড়ি করে মাথা নিচু করে ফেলল ধারা। চোখে আসতে থাকা পানিটা ছিটকে ফেলে দিয়ে, দুদিকে দ্রুতগতি মাথা নেড়ে বলল,
—” না! কোনো সমস্যা নেই! আপনি যা বলবেন তাই হবে!”
উঠোনের হাওয়াটা তখন থেমে গেছে যেন। চারদিক নিস্তব্ধ, কেবল দুইজন মানুষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক পৃথিবী শব্দহীন আলোড়নে কাঁপছে। শ্রাবণ একটানা তাকিয়ে রইল ধারার মুখের দিকে। সেই চোখে অভিযোগ নেই, রাগ নেই, আছে একরকম অদ্ভুত নির্লিপ্তি, যে নির্লিপ্তির নিচে গভীর একটা আবেগ জমে আছে। শ্রাবণ এবার ধীরে ধীরে বলল,
—”তুমি খুব ছোটবেলায় হারিয়ে গেছো ধারা। বড় হয়েছো এমন একটা ঘরে, যেখানে ভালোবাসার নামে নিঃশ্বাস টানাও ছিল শাস্তি। তোমার মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তুমি অক্ষম, তোমার প্রাপ্য কম, তোমার অবস্থান কম, তুমি কিছুই না । তাই চুপ থাকা শিখে গেছো। মুখ বুঁজে থাকা শিখে গেছো। আর সহ্য করতে করতে ভাবছো…এটাই জীবন।”
কন্ঠ গাঢ় হয়ে উঠলো শ্রাবণের,
—” কিন্তু না, এটাই জীবন না। নিজের প্রতি ভালোবাসা, নিজের প্রাপ্য বুঝে নেওয়াটাই আসল জীবন। এবং সেটা অর্জন করার জন্য মানুষকে কখনো কখনো পেছনে তাকানো ছেড়ে দিতে হয়।”
ধারা চুপ করে তাকিয়ে রইলো মানুষটার দিকে। চোখ জলে টলমল করছে, কিন্তু সে এক ফোঁটাও ফেলছে না। বরং মুগ্ধতার সাথে তাকিয়েই থাকলো। শ্রাবণ এবার একটু এগিয়ে এলো। দূরত্বটুকু কমিয়ে ফেলল। তারপর বলল,
—”তোমাকে বদলাতে বলছি না। আমি চাই তুমি নিজেকে চিনতে শেখো। এতদিন যেটা ভুলে গেছো, সেটাই ফিরে পেতে শেখো। নিজের সম্মানটুকু নিজের হাতেই রাখো। বিশ্বাস করো, তুমি মোটেই অভাগী নও। শুধু ভাগ্য একটু দেরিতে সহায় হয়েছে। পৃথিবীর সব সম্পর্ক জরুরি না, কিন্তু নিজের প্রতি দায়বদ্ধতাটা জরুরি। বুঝলে, ধারা?”
এই প্রথম বার শ্রাবণের কণ্ঠে একরাশ কোমলতা ভেসে এলো, প্রথমবার হয়তো নাম ধরে ডাকলো ধারাকে। ধারা আবারো মুগ্ধ হলো। লোকটার মুখে নিজের নাম টা শুনতে এত ভালো শোনাচ্ছে কেনো সেটাই হিসেব করতে থাকলো বোধহয়। না, শ্রাবন ভালোবাসা শব্দটা উচ্চারণ করেনি। দায়িত্ব শব্দটাও না। কিন্তু তার প্রতিটি বাক্যে, প্রতিটি দৃষ্টিতে যেন বলে গেল, আমি তোমার পক্ষে দাঁড়াবো। তোমার হয়ে কথা বলব। তুমি হারিয়ে গেলে খুঁজে আনবো। আমি আছি। ধারা চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারল না। এক ফোঁটা, দুই ফোঁটা করে গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।
শ্রাবণ ধীরে ধীরে তার ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল সামনে। কোনো নাটকীয়তা ছিল না তাতে। ছিল না কোনো নাট্যরসের মঞ্চসাজ। কিন্তু সেই একটা হাত, সেই একটা হাতই যেন পুরো পৃথিবী। সেই একটা হাতের মধ্যে লুকানো আছে এক নতুন পথের দিগন্ত, এক সাহসের প্রতিচ্ছবি, আর এক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।
ধারার দিকে ডান হাতটা বাড়িয়ে শ্রাবণ শুকনো ঢোক গিলে প্রস্তাব দিল,
—” যাবে আমার সাথে? একটা নতুন পৃথিবী জানতে চাও? নতুন জীবন পেতে চাও তুমি? চাইলে, চলো আমার সাথে। তোমায় নিজেকে চিনিয়ে দেব। বাস্তবতার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে হারিয়ে যাওয়া তুমিটাকে দায়িত্বসহকারে ফিরিয়ে আনব, কথা দিলাম!”
ধারা থেমে রইল এক মুহূর্ত। ঠোঁট কাঁমড়ে তাকিয়েই রইলো কিছুক্ষণ। তারপর সে সবকিছু…তার অতীত, তার ভয়, তার কষ্ট, তার গ্লানি—সবকিছু ধীরে ধীরে মুঠো বন্ধ করে রেখে দিল নিজের ভিতরে। একটা গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে, কাঁপা চোখে তাকিয়ে, সে এগিয়ে এসে শ্রাবণের বাড়ানো হাতটার উপর নিজের কাঁপা হাত রাখলো। শক্ত করে ধরে ফেলল তামাটে পুরুষালি হাতটা। না, জোর করে না। দ্বিধা নিয়ে না। বরং একেবারে নিজের ইচ্ছায়। নিজেকে তুলে দিল এক রক্তের সম্পর্কহীন অথচ সবচেয়ে কাছের অভিভাবকের হাতে।
চামেলী কাকির বাড়ি থেকে আচারের বয়াম ফিরিয়ে নিতে গিয়েছিল কনিকা। কিন্তু এদিকে শ্রাবণ এবং ধারা যে বাড়ি থেকে ইতোমধ্যে চলে গিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো জানেনা সে। সেই সময় শ্রাবণ বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে কনিকা চামেলী কাকির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। আপাতত সে যত দ্রুত সম্ভব পা চালিয়ে হেঁটে আসছে বাড়ির দিকে। বু্ুবু আচার ভীষন পছন্দ করে — এই চিন্তাতেই দ্রুতগতিতে আসছে সে। বুকের মধ্যে একরাশ উত্তেজনা। বুবু নিশ্চয় খুশি হবে! শ্রাবণ ভাইয়া হয়তো এখনো বাড়িতেই আছেন। ওরা দুজনেই আচারের বয়ামটা দেখে চমকে উঠবে! তার চোখে-মুখে আনন্দের রঙ, মনে মনে ছবিও এঁকে ফেলেছে, ধারা এক চামচ মুখে দিয়ে বলবে, “আহা! ঠিক আগের মতোই অসাধারণ!”
কিন্তু সেই ছবিটার রং ভেঙে গেল হঠাৎ। একটা কাদায় ভেজা উঁচু মাটির ঢিবি ছিল রাস্তায়। কনিকা হাঁটতে হাঁটতে ওখানে পা দিতেই, পা হড়কে গেল। এক তীব্র শব্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে গেল সে। আচারের বয়ামটা তার হাত থেকে ছিটকে গিয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো। কনিকার হাত, জামা, হাঁটু সব কাদা মাটিতে ভরে গেল। ধুলো, কাদার গন্ধে অস্থির সে।
বিরক্তিতে কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো কনিকা। এসব আর নেয়া যাচ্ছেনা। এভাবে পড়ে গেলো রাস্তায়! কি একটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি! সে কাঁদতে কাঁদতে উঠে বসল। হাঁটুতে চামড়া ছেঁড়ে গেছে সামান্য, কাদা লেগে আছে চারপাশে।
—”উফফ! এমন কপালও হয়! কী বেহুদা কাদায় পা দিলাম!”
বয়ামটা তুলে নিল কনিকা, ভালো করে দেখে নিশ্চিত হলো ভাঙেনি। মনে মনে রাস্তাকে গালি দিল কনিকা, মনে মনে বলল, — বা লে র রাস্তা!
একটু হাঁপাতে হাঁপাতে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল সে। কিন্তু পারল না। পা বোধহয় মচকে গেছে। এবার দুঃখে কেঁদেই ফেলল কনিকা। কষ্ট করে উঠে দাঁড়িয়ে এপাশ ওপাশ পা নেড়ে স্বাভাবিক হলো। মনে মনে ভাবল, যাক ভাগ্যিস কেও দেখেনি।
কিন্তু ধারনা ভুল হলো কনিকার। পাশের পেয়ারা গাছে পাকা টসটসা পেয়ারা চুরি করতে উঠেছিল সাদিক। ঠাস করে পড়ার শব্দে নিচেও তাকিয়েছিল। কনিকাকে এভাবে আঁছাড় খেয়ে পড়তে দেখে কোনোমতে হাসি আটকে রেখেছিল সে। কিন্তু এবার মেয়েটাকে কাঁদতে দেখে আর চুপ থাকলো না গাছের ডালে ঝুলন্ত সাদিক, গাছের উপর থেকেই গলা উঁচিয়ে ডাক ছুঁড়লো,
—” কনা রে! এই কনা? ছিঁচকাদুনের মত কান্দোস ক্যান রে বেডি? কাদা কি তোকে চিপায়ে মা’রছে?”
কনিকা চমকে উঠলো। ফট করে কান্না থেমে গিয়েও মুখটা কেমন ফেঁসে রইলো। চারপাশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুঁড়লো। সাদিকের কন্ঠের উৎস খুঁজতে ব্যস্ত হলো মেয়েটা। মুখে বলল, এই কে রে?কে ছিলো?কোথা থেকে চেঁচাইতেছে?! সে রাস্তার দুইপাশে তাকালো। পেছনে দেখলো না কেউ। রাস্তার ধারে ঝোঁপঝাড়, কিন্তু তাও তো নড়ছে না কিছু! আইচ্ছা! ভূত নাকি! একবার তো কনিকা থমকে গেল ভয় পেয়ে।
হঠাৎ আবার এক খিল খিল হাসির মতো গলা ভেসে এলো। সাদিক উপর থেকে আরো জোরে চেঁচালো,
—’ এই কনার বাচ্চা, এদিকে দ্যাখ, খালি কান্দলেই হবে না, উপরে তাকাইলে দেখবি… প্রেমিকের মতো গাছে উঠা ছেলেটা একখান পেয়ারা সহ ধরা খাইছে!”
কনিকা এবার উপরে তাকাল। গাছে ঝুলন্ত সাদিক কে দেখে ফিক করে হেসে ফেললো! পেয়ারা গাছের মাঝখানে একটা মোটা ডালে ঝুলে আছে সাদিক, একটা আধা খাওয়া পেয়ারা এখনো মুখে ঝুলে, আর জামার পেছন থেকে পকেট বের হয়ে আছে! একটা ডালে হাত দিয়ে ধরেছে, আরেকটা পায়ে চেপে বসে আছে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গর্বিত চোর!
কনিকা চোখ মুছে বলল,
—” সাদিক ভাই তুমি? গাছে? আয়হায়! কি সর্বনাশ! তুমি ফয়সাল কাকার পেয়ারা চুরি করতাছো? আর আমি ভাবছি কে জানি ভূতের মতো চিল্লাইতেছে! তোমার তো পেঁচা হওয়া দরকার ছিলো সাদিক ভাই!”
সাদিক গাছ থেকে নামতে নামতে হাসতে হাসতেই বলল,
—” আরে ধুর! কি কস না কস! পেঁচা রা কি চুরি করে নাকি বলদ। আইচ্ছা, তোর বয়াম ভাঙছে নাকি? ”
কনিকা বয়ামটা তার কোলে আঁচলের মতো ধরে ফেলে। মুখে বলে,
—” না না, ভাঙেনাই। দেখো, একদম চকচকা আছে!”
সাদিক ফিক করে হাসলো। কনিকাকে সে মনে মনে পছন্দ করলেও মেয়েটার সামনে সবসময় বড় ভাইয়ের মতই আচরণ করেছে। সে এবার মাথা নেড়ে বলল,
—’ হ্যাঁ হ্যাঁ! অনেক চকচকা আছে। দে, আমারে একটু আচার দে। খাইয়া দেখি!”
বলেই হাত পাতলো সাদিক। কনিকা একটু লজ্জা পেয়ে পেছন থেকে বয়ামটা খুলে, আঙুল ঢুকিয়ে তুলে আনলো একটা ছোট পেয়াঁজের টুকরো সহ টক-মিষ্টি আমের আচার। খুব যত্ন করে সাদিকের হাতে দিল। নিজের হাতে লেগে থাকা টুকু চে টে খেয়ে বলল,
—”এই নাও, একটাই দিলাম কিন্তু! বেশি খেলে আবার গলা ধরবে!”
সাদিক খুশি হয়ে বলল,
—”এই জন্যই তোরে আমার ভালো লাগে কনা, মন চায় ঘরে এনে রেখে দেই!”
—”তোমার ঘরে জায়গা আছে নাকি?”
কনিকা মুখ গম্ভীর করে চোখ গোল করে জিজ্ঞেস করল।
সাদিক তার আঙুলে লেগে থাকা আচার একটুখানি খেয়ে বলল,
—”একটা চেয়ারও যদি খালি থাকে, সেটা তোরই! যা!”
খিলখিল করে হাসলো কনিকা। কিন্তু এই মুহূর্তেই যেন প্রকৃতি দুজনের খেলায় বাদ সেধে উঠলো। হঠাৎ পাশের বাড়ির বাঁশের বেড়ার দিক থেকে বজ্রধ্বনির মতো ভেসে এলো এক গলা,
—”ওই কোন পোলা রে? মাইরা ফালামু! আবার পেয়ারা গাছে চুরি করতে আসছে? কার হাত? দ্যাখি কোন বান্দার পোলা?”
ফয়সাল চাচার গলা! সর্বনাশ! কনিকার রক্ত হিম হয়ে গেল। আচারের বয়ামটা আঁচলে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। আর সাদিক? বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে সে মুহূর্তে ফোঁড়ার মত এক টানে কনিকাকে হাত ধরে টেনে উঠিয়ে নিয়ে দৌঁড় শুরু করে বলল,
—”দৌড় দে রে কনা! এই বুড়া দুপুরে কেরোসিন খাইয়া জ্বলে উঠে! এইবার ধরা খাইলাম মানে ঘরের ভেতর হাড় গুঁড়ো! পালা কনা, পালা!”
কনিকা হকচকিয়ে উঠেও দৌড় শুরু করে দিল সাদিকের সাথে। আচারের বয়াম এক হাতে, আরেক হাতে সাদিকের হাত। এমনভাবে তারা ছিটকে দৌঁড় দিল যেন দুজন ছেলে-মেয়ে নয়, দুই দেশদ্রোহী ধরা খাওয়ার আগে পালিয়ে যাচ্ছে। ফয়সাল চাচার কণ্ঠ আবার ভেসে আসে,
—”ওই দ্যাখ, হারামজাদা সাদিক! এই পোলা জীবনে শোধরাব না! আমার সাধের পেয়ারা সব নিয়া গেলো রে! হায় হায় হায়! ও আল্লাহ! বিচার কইরো!”
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৯
আহাজারি করতে করতে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়লেন ফয়সাল।
এদিকে প্রাণপণে দৌঁড়াতে থাকা কনিকা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
—” ও সাদিক ভাই! পেয়ারা খাইছো তুমি, আমি তো খাইলাম না… তো আমি কেন দৌড়াইতাছি? ”
সাদিক একফাঁকে বলল,
—” চুপ থাক! তুই আমারে আচার খাইতে দিছোস, গুনাহের ভাগীদার তো তুইও! বেশ কথা না কইয়া, পা চালা! জোরে দৌঁড়া রে!”
দৌড় আর কাদার ধোঁয়া উড়িয়ে সীমানার বাইরে চলে গেলো দুজন।
