সন্ধি হৃদয়ে হৃদয়ে পর্ব ২৩
লেখিকাঃ আসরিফা সুলতানা জেবা
শ্রেয়ার নিশ্চল চাহনি আয়নার দিক। কথার স্বাধীনতা কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে গেল। বিশদ বর্ণনা দিচ্ছে কামড়ের দাগ টা। কারো কাছে আসার, তীক্ষ্ণ দাঁতে ওর কোমল ত্বক ছুঁয়ে যাওয়ার বিবৃতি। দৃষ্টির নড়চড় হলো। আরেকটু গাঢ় দৃষ্টে আঁখিপাত করতেই চক্ষুগোচর হয় রঙ লেপন। রক্ত জমাট বেঁধে লালের প্রলেপ পড়েছে কামড়ের অংশে। এতক্ষণে মনে পড়ে যায় এই কারণবশত গোসলের সময়টাতে পানির সংস্পর্শে গলার নিচের অংশে জ্বালা করছিল অত্যধিক। কিন্তু মাথায় সহস্র চিন্তার বিচরণ ছিল বলে খেয়ালই করে নি।
তাছাড়া আরেকটা কথা মন পিঞ্জিরায় বন্দি হতেই অন্তস্থল কেঁপে উঠে শ্রেয়ার। ভোর হবে নাকি গহন রাত্রি ওর সঠিক জানা নেই তবে হঠাৎ করে তীব্র ব্যাথা অনুভব করেছিল ঘুম ঘুম অবস্থায়। কিন্তু চোখের পাতায় যে আঁধার ছেয়েছিল তা সরিয়ে দেখা হয় নি আর কিছুই। তারপর কি হলো,কে কামড় দিল তাতে এখন বেশ সন্দিহান সে। ছোটকাল থেকেই গাঢ় ঘুমের অভ্যেস। কক্ষে হাজারো শব্দ খেলা করলেও সহজে ঘুম টা ভাঙ্গে না। অভ্যাসবশত পূর্ণ হলেই আপনাআপনি জেগে ওঠে ও, নয়ত অন্য কারো সাহায্যে। পরিণামে জ্বলন,বেদনা ভুলে ঘুমে মাতাল হয়ে পড়ে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
হুট করে মাথায় চেপে বসে তূর্যর নাম খানা। শত শত অনুভূতিতে থমকে যায় শ্রেয়ার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া প্রক্রিয়া। চোখের দৃষ্টি নিম্নে মেলে ধরে জোরালো নিঃশ্বাস ছাড়ে। না কখনোই তূর্য এমন করবে না। সে তো তাকে প্রেমের চক্ষে আঁকে না,কেবল মর্যাদা দেয় স্ত্রী রূপে। নিজ থেকেই কথার তালে বুঝিয়ে দিয়েছে স্পষ্টত প্রেম মিশিয়ে না ছুঁইয়ে কাছে টানবে না কখনও। যা হবে,যা করবে তা শুধু, শুধুই স্বামীর দায়িত্ব পালনে। কোনোকালেই স্বামী রূপে প্রেমিক হয়ে উঠবে না। কিন্তু! এই দাগের উৎপত্তি কোথা থেকে তা-ই ঠাহর করতে পারছে না ও।
প্রিয়ু পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ভ্রুঁ নাচিয়ে, উৎফুল্ল কন্ঠে বলে,’ আমার খুব ভালো লাগছে। উল্টো বাসর রাতে চিন্তা করছিলাম স্যার তোকে সম্পূর্ণভাবে মেনে নিবে কি-না!এখন অনেক অনেক শান্তি লাগছে। আমরা ভাগ্যবতী শ্রেয়া। দু’জনেই দু’টো সুদর্শন,প্রেমিক পুরুষ পেয়ে গেলাম। দুই বান্ধবী এখন জা। ‘
প্রতি উত্তরে শ্রেয়া ম্লান হাসে। সতর্কতার সহিত ঢেকে নিল ক্ষত স্থানটি। পাছে যদি কারো চোখে পড়ে যায় সেই জন্য। ভেজা চুলগুলোর উপর ঘোমটা জড়িয়ে নেয়। কন্ঠ নরম,তেজহীন,
‘ একটু শরম কর প্রিয়ু। রাতারাতি কেমন নির্লজ্জ হয়ে গিয়েছিস।’
‘ জামাই করে দিয়েছে। ‘– প্রিয়ুর নির্বিকার অভিব্যক্তি।
শ্রেয়ার চোখ ছানাবড়া। প্রিয়ুর কথাতে নয়,দরজায় দাঁড়ানো আয়ুশীকে দেখে। মেয়েটা শুনে ফেলেছে বোধহয়!কেমন মিটমিট করে ঠোঁট যুগল চেপে হাসছে। গলা ঝাড়ল ও। আয়ুশীর দিকে তাকিয়ে উঁচানো স্বরে ডাকে,’ ওইখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?আসো।’
আয়ুশীর আনন্দিত গলা ও নির্লিপ্ত জবাব,’ ভাবী দের গোপন কথা শুনছিলাম। ‘
প্রিয়ু ও শ্রেয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় লাল নীল হয়ে যায়। আয়ুশী ওদের দু’জনের এক হাত করে দু হাত টেনে ধরে বললো,’ মা নিচে নিয়ে যেতে বলেছে তোমাদের। নাস্তার টেবিলে উপস্থিত হতে হবে তিন মিনিটে। চলো, চলো। ‘
অবনত মস্তকে প্রিয়ু,শ্রেয়া নিচে আসে আয়ুশীর সঙ্গে। মাথা উঠিয়ে দেখার সাহস পাচ্ছে না। শ্রেয়ার ভয় করছে,সবাই কিরূপ ব্যবহার করবে ভাবছে। বিশেষ করে তূর্যর বাবার কথা চিন্তা করছে। সবার সঙ্গে পূর্বে একটু আধটু কথা হলেও ওনার মুখোমুখি কখনও হয় নি সে। দেখে গম্ভীর ধাঁচের লোক তা আঁচ করে ফেলে। ত্রিহার কন্ঠস্বরের আওয়াজে হেঁটে ডাইনিং টেবিলের কাছাকাছি আসল। সালাম দিল সবাইকে উদ্দেশ্য করে। কে আছে,কারা আছে দেখে নি শ্রেয়া। তবে আন্দাজ করে নিল সকালের খাবার টাইমে অবশ্যই পরিবারের প্রত্যেক সদস্য থাকবে। গমগমে স্বরে কেউ একজন ওর সালামের জবাবে দেয়। বলে,’ বসো। ‘
কন্ঠটার সাথে আগে কখনও পরিচিত হয়েছে বলে মনে হয় নি শ্রেয়ার। জড়তা সংকোচ নিয়েই দৃষ্টি তুলে তাকায়। প্রথমে অবলোকন করে নুরুল চৌধুরীর চেহারা। তৎপরে দেখে,ওনার পাশের চেয়ারেই ওনার অর্ধাঙ্গিনী মেহরিমা চৌধুরী। সালামের জবাব টা নুরুল চৌধুরীই দিয়েছেন বুঝতে বেগ পোহাতে হলো না ওর। ত্রিহার তাড়াতে চেয়ারে বসতেই,ওর পাশের চেয়ার টেনে বসল তূর্য।
‘ আজকালকার মেয়েরা স্বামী ছাড়াই খেতে বসে যায়। বাহ!এটাও শিখাতে হবে আমার। ‘
আচমকা গাম্ভীর্য মিশ্রিত স্বরে চাপা কথায় ঘাড় আলতো বাঁকিয়ে চাইল শ্রেয়া। তূর্য প্লেটে পরোটা নিয়ে একটু একটু ছিঁড়ে খাচ্ছে। চোখে মুখে গম্ভীরতা। একবারও ফিরে তাকাচ্ছে না। এখন যেন খাওয়াটাই অতীব জরুরী৷ অথচ সেকেন্ড সময় আগেই একটা বাক্য শুনিয়ে দিল। এই ছেলের মতিগতি বুঝতে যদি কোনো ক্লাস করানো হয় তাও নির্দ্বিধায় মনোযোগ সমেত করবে ও।
শ্রেয়া নিজের প্লেটে শশুড় কে পরোটা তুলে দিতে দেখে থমকে যায়। স্তব্ধ হয়ে পড়ে চোখ জোড়া। নুরল চৌধুরী আরো একটা পরোটা দিয়ে বললেন,’ খাবার টেবিলে মনোযোগ সহকারে খাবার খাওয়া উচিত। খাও। ‘ কখনও ভাবে নি ও যেচে কথা বলবেন তিনি। সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সবার উৎসুক দৃষ্টি ওর দিকেই নিবদ্ধ, কেবল দুটো মানুষ বাদে। প্রথমজন তার স্বামী ও দ্বিতীয়জন শাশুড়ী। মেহরিমা তাকিয়েছিল এক পলক তবে সেটা ছিল তীক্ষ্ণ,রোষপূর্ণ চাউনি।
অল্পস্বল্প খেল ও। পেট টা গুড়গুড় শব্দ সৃষ্ট করছিল বারংবার। কারো কর্ণকুহর হবার আগে দমানোর জন্য পেটে পরোটা চালান করে। সবার খাওয়া শেষ হওয়ার পর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় ও। রহিমা পান খাওয়া লালচে দাঁতগুলো প্রদর্শন করে বললো,’ বসার ঘরে চলো নতুন বধূ। বড় সাহেব তোমারে কি যেন কইব। ‘
শ্রেয়া ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বুকটা কেঁপে উঠে। দ্রিমদ্রিম শব্দ তুলে। না জানি কি বলেন নুরুল চৌধুরী!ছোট ছোট পা ফেলে রহিমার সাথে আসে। সোফায় সারিবদ্ধভাবে বসে আছে সকলে। ভাবে মনে হচ্ছে সালিশ বসেছে,বিচারক নুরুল ও অপরাধী শ্রেয়া। অসহায় দৃষ্টিতে চাইতেই দেখে তূর্যও বসে আছে। একটা নিউজ পেপার প্রশস্ত করে ধরে রেখেছে মুখের সামনে। যার দরুন চেহারার আকৃতি, দৃষ্টি বুঝা মুশকিল।
শ্রেয়ার পা শক্তিহীন হয়ে দেহ টলে টলে পড়বে অবস্থা। ভরসা যোগ্য কোনো মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না যে ইশারায় বলবে ‘ দুর্বল হয়ে পড়ছো কেন?আমি আছি না?’ অভাব বোধ করে অনতিবিলম্বে দীর্ঘ নিঃশ্বাস মুক্ত করতে চায় সে কিন্তু ভয় ও মানুষের সমাগমে পারে না।
নুরুল চৌধুরীর কন্ঠস্বর কর্ণধার হওয়া মাত্র সোফায় বসলো ওনার আদেশ মোতাবেক ঠিক প্রিয়ুর সান্নিধ্যে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আবারও মুখ খুললেন,
‘ শুনেছি তুমি আমাদের এতিমখানায় বড় হয়েছো। আমার মা তোমাকে সেখানে দেখে পছন্দ করে বউ করে আনে। তার পরের দিন তুমি স্বামী পাগল বলে পালিয়েছিলে। ভয়ে পালিয়েছিলে নাকি ইচ্ছে করে?’
শ্রেয়া নির্বাক। জানত, এমন প্রশ্ন ওর পিছু ছাড়বে না। চোখ বুঁজে চুপ রইল খানিকক্ষণ। এই কথাগুলো শুনলে ওর ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায়। নিজেকে সংবরণ করে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে। কন্ঠস্বর নিষ্প্রভ, ‘ ভয়ে। ‘
নুরুল চৌধুরী মুখের কাঠিন্যতা বজায় রেখে বললেন,’ এটাই স্বাভাবিক। তোমাকে আমার পরিবার ঠকিয়েছে তার জন্য আমি লজ্জিত। তবুও একটা কথা বলবো বাড়ির বউ যখন হয়েছো সংসার ভাঙার নয় বরং গড়ার চেষ্টা করবে। তোমার মতই কেউ একজন সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার সংসার অর্ধেক ভেঙে দিয়ে আমার কলিজা ছিন্নভিন্ন করেছে। ‘
তূর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। পেপার টা ছুঁড়ে মারে সমুখে রাখা ছোট্ট টেবিল টার দিক। কন্ঠনালি রাগে শক্ত হয়ে উঠে তার,
‘ আপনি আমার বউয়ের সাথে নরম গলায় কথা বলুন বাবা। ‘
নুরুল চৌধুরী তেতে উঠলেন, ‘ আমি কি খারাপ কথা বলেছি?’
‘ হ্যাঁ। সবাইকে এক পাল্লায় কেন মাপবেন আপনি?সহজ সরল চেহারার মেয়ে মানেই খারাপ? ধারণা পাল্টান। ‘
‘ আমি বলি নি তোমার বউও তেমন। শশুড় হিসেবে উপদেশ দিতে পারব না?’
‘ পারবেন তবে মায়া দেখিয়ে। আমার বউ যদি কখনও আপনার সংসার ভাঙ্গার চেষ্টা করে তাহলে ভাইয়ের মতোন আমি সহ্য করবো না,একদম মে’রে পুঁতে দিব। কিন্তু আমি জানি ও কখনও এমনটা করবে না। ওকে আদর করে কথা বললেই আমি খুশি হবো। বাবা-মায়ের স্নেহ পায় নি ও। আপনারা ওকে সেটা দিলে আপনাদের জন্য জীবন দিতে ও দু’বার ভাববে না তা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ‘
সবাই চুপচাপ ভঙ্গিতে বাবা ছেলের তর্ক দেখছে। তাছাড়া উপায় নেই। শ্রেয়ার অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে এসব দেখে। প্রিয়ুর হাতে হাত রেখে মলিন মুখে বসে রইল। শশুড়ও ওকে দেখতে পারে না। দোষী বলে সাব্যস্ত করে নি তবে অন্য কোনো কারণে হয়ত। নুরল চৌধুরী গলা ঝেড়ে বললেন,
‘ আমার কাউকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছে নেই। আমি শুধু চাই আমার পরিবার যেন না ভাঙ্গে তাই দু একটা কথা বলা। আসি। ‘
কথাগুলো বলে তিনি বেরিয়ে আসলেন। মেহরিমা আসলেন পিছু পিছু কিন্তু তাকে অগ্রাহ্য করে গাড়িতে বসলেন। গত রাত থেকেই কথা বন্ধ করে দিয়েছেন স্ত্রীর সাথে। জীবনে হারিয়ে হারিয়েই তিনি আজ পাষণ্ড হয়ে উঠেছেন। শ্রেয়াকে অভদ্র, খারাপ মেয়ে মনে হয় নি কিন্তু বিশ্বাসও করতে পারছেন না। তাই আগে থেকে ওয়ার্নিং দিয়ে দিলেন যেন পরবর্তীতে পরিবারের কোনো দুঃখের কারণ সে না হয়।
বিছানার এক কোণে বসে বসে শ্রেয়া শশুড়ের কথাগুলো মনে মনে আওড়াচ্ছে বার বার। মানুষ টাকে কঠোর লাগে নি,কঠিন হবার অভিনয় করছিল যেন। কিন্তু কি কারণে?আর তূর্য ও তার বাবার মধ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কথা কাটকাটির সূচনা ঘটেছিল। কোনো প্রকার শক্তি খরচ না করেই শ্রেয়া ধরে ফেলে সবটা তূর্যর বড় ভাই কি যে নাম তোহাশ ও তার বউয়ের সাথে জড়িত। কি এমন হয়েছিল যার ফলে পরিস্থিতি এরকম হয়েছে? হিমেল হাওয়ায় কক্ষের সাদা পাতলা পর্দাগুলো উড়ছে। সুড়সুড় করে এসে ছুঁয়ে দেয় শ্রেয়ার আধা ভেজা উন্মুক্ত কেশ। সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ফেলে সামনে তাকাতেই সৌষ্ঠবপূর্ণ দেহের মানুষটাকে দেখে পেট মোচড় দিয়ে উঠে। প্রগাঢ় দৃষ্টিতে তূর্য চেয়ে আছে। কপাল কুঁচকে ধারালো কন্ঠে প্রশ্ন করে,
‘ কি ভাবছো?’
তৎক্ষনাৎ শ্রেয়া কম্পনরত কন্ঠে এলোমেলো বাক্যে উত্তর সাজায়,’ ভাবছি,,কিছু না। ‘
তূর্যর কপালে বলিরেখার ভাঁজ পড়ল। দ্রুত বেগে এসে সুঠাম দেহ খানি এলিয়ে দিল শ্রেয়ার পাশে। ঘাড় হালকা কাত করে গম্ভীর স্বরে বললো, ‘ আমার পা টিপে দাও তো। ‘
শ্রেয়া হতভম্ব! ভুলভাল শুনেছে কি?কিন্তু না তূর্য গর্জে উঠলো পুনশ্চঃ, ‘ ঠিক কত বার বলতে হবে?বউ বানিয়ে এমনি এমনি আনি নি। পতিসেবা করো। ধরে নাও তুমি আগেরকার যুগের অবলা নারী। নাও স্টার্ট। ‘
হনহন করে বিছানা ছাড়ল শ্রেয়া। তূর্যর পায়ের কাছে আসতেই মেয়েটার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার অভিপ্রায়। তেষ্টা পেয়ে বসে। ধবধবে ফর্সা পায়ে কালো কালো লোমশ। দুর্বল হাত দু’টো বাড়িয়ে গুটিয়ে নেয়। আঁড়চোখে তূর্যর দিক চাইতেই অক্ষিপটে ভেসে ওঠে তূর্যর কঠিন মুখো ভঙ্গি। নিরুপায় হয়ে ভয়ে ভয়ে হাত দেয়। চাপ দিতে থাকে আস্তেধীরে। তখনই শোনা গেল রাগান্বিত কন্ঠস্বর,
‘ শরীরে শক্তি নেই? মনে হয় তুলো উড়ে এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে আমার পা। তোমার শক্তির পরখ করে যা বুঝলাম আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ‘
অগ্নিময় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তূর্য রুম ত্যাগ করে। বুকে হাত দিয়ে থম মেরে বসে থাকে শ্রেয়া। শ্বাস ফেলতে ফেলতে বিছানায় মাথা এলিয়ে বসে। তখনই হাতে প্লেট নিয়ে ঘরে ঢুকে তূর্য। শ্রেয়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো, ‘ তাড়াতাড়ি খেয়ে শেষ করবে। ‘
প্লেট ভর্তি গরম ভাত ও তরকারি। শ্রেয়া ঢোক গিলে। মুখ থেকে অস্ফুটস্বরে মনের ভাবনা বাহিরে উন্মুক্ত হয়,’ এত ভাত খেতে পারবো না স্যার। ‘
‘ তাহলে আমাকে গিলে খাও। পারবে?হয় ভাত নয় আমি?কোনটা?তূর্য নাকি ভাত?অবশ্য আমি বেশি টেস্টি। ‘– দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো তূর্য।
শ্রেয়ার কর্ণে আগুন জ্বলছে। হাত চলছে ভাতের প্লেটে। লজ্জা শরীরের ভাঁজে ভাঁজে স্পর্শ করে শিহরণ জাগিয়ে তুলছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাওয়া চালিয়ে শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা। কোনোমতে ভাত গুলো গিলে আঙ্গুল চেটেপুটে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্লেট রেখে হাত ধুয়ে আসে। তূর্য বালিশে মাথা ঠেকিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে। একটু একটু করে এগিয়ে গিয়ে আনতস্বরে জিজ্ঞেস করলো, ‘ পা টিপে দিব স্যার? ‘
চট করে উঠে দাঁড়ায় তূর্য। চলে আসে শ্রেয়ার সন্নিকটে। অন্তঃকরণের বেসামাল ধুকপুকানি তে শ্রেয়া পিছিয়ে যেতে চায়,কিন্তু পারে না৷ তূর্য ক্রমশ ঝুঁকে আসলো ওর গলার কাছে। তূর্যর তপ্ত নিঃশ্বাসে ঢেউ সৃষ্ট করে সমগ্র সত্তায়। উতালপাতাল ঝড় বইছে ভিতরে।
‘ কামড় দিল কে?এত গভীর প্রেমের বিষ কে ছড়ালো?’
শ্রেয়া লজ্জায় কুঁকড়ে যায়। জড়োসড়ো হতে চায় জীর্ণ শীর্ণ দেহটা।বাকহারা হয়ে মাথা নাড়ে। অর্থ্যাৎ জানে না ও। তৎপরে দেখতে পায় তূর্যর ওষ্ঠে ফিচেল হাসি। ঝুঁকে থাকা অবস্থায় আফসোস করে,’ এজন্যই রহিমা খালাকে বলেছিলাম আমি আসার আগে রুম ভালো করে পরিষ্কার করতে। কিভাবে করেছে কে জানে ইঁদুর গুলো সুন্দরের মোহে পড়ে আমার সম্পদে হস্তক্ষেপ করলো। সর্বনাশ করলো তোমার। ‘
সন্ধি হৃদয়ে হৃদয়ে পর্ব ২২
শ্রেয়া যেন আকাশ পথ ভুলে ধরণীতে ধপ করে ছিটকে পড়ল। অবাক কন্ঠে বলে উঠলো,’ ইঁদুর? ‘
তূর্য সরে এসে ড্রয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্স বের করতে করতে জবাব দেয় গাঢ় স্বরে, ‘ ভেবো না বড়লোকের বাসায় ইঁদুর কোত্থেকে আসবে!কত দিক থেকে চলে আসে টেরও পাবে না। ইঁদুরকে এভাবে আকৃষ্ট করলে নিজের প্রতি উদাম অঙ্গ দেখিয়ে ,দেখো প্রতি রাতে না আবার কামড়ে দেয়। ‘
