সায়রে গর্জন পর্ব ৩৮
নীতি জাহিদ
মনোযোগ সেই কবে ছুটে গিয়েছে। চাপ নিতে পারছেনা। সকাল থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডাক পড়েছিলো, বিকেলে মিটিং সবশেষ করে এখন নিজেদের অফিসে বসে আছে বাতি নিভিয়ে৷ এমন অদ্ভুদ ক্ষন এর আগে এই অফিসে কেউ দেখেনি৷ সামনে এক লিটারের পানির বোতলের পানি তলানী। গত এক ঘন্টায় পুরোটা শেষ। একটা প্রশ্ন! মাত্র একটা প্রশ্ন।
– শেহজার বাবা, মুখে বলেন এতটা ভালোবাসতেন তাহলে কি করে ভুল বুঝে সরিয়ে রাখলেন দুটো বছর? সব অযুহাত কি তুচ্ছ নয়? যেখানে আপনার ভাষ্যমতে বিশ্বাস দৃঢ় ছিলো৷
সরাসরি উঠে দাঁড়ালো। বেলটা প্রেস করলো। ছুটে আসলো সকলে। লাইটের আলো চোখে পড়লো। চোখ কুচকে মিনিট খানেকের মত স্বাভাবিক করে নিলো নিজেকে। গাঢ় স্বরে
– গাড়ি বের করো।
পাভেলকে নিয়ে ছুটছে বাসার দিকে। গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে মাথা রাখলো।কপালে হাত। এখন পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট। যে অন্যায় করা হয়েছে মেয়েটার প্রতি এত সহজে কি করে শাহাদকে ক্ষমা করে দিয়েছিলো? আসলে সে ক্ষমাই করেছে, মন থেকে ভুলেনি। আসার পর থেকে প্রতিরাতে একটা করে উদ্ভট প্রশ্ন করে মস্তিষ্কের ফাংশন এলোমেলো করছে৷ নিজের প্রতি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ভাবলো,
– অসুস্থতার জন্য তখন মায়া করে সব অন্যায়ের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে বুঝি?
অন্তরের অন্তস্থল থেকে দীর্ঘ শ্বাস। চিনচিন ব্যাথা। বুক ধরে চোখ দুটো নিভিয়ে অপেক্ষা করছে এই যাত্রায় অন্তিমের জন্য।
ভিডিও কলে গভীর আলোচনায় বসেছে ‘সিক্স স্পাইডার’৷ নোমান এবং শাহীন দেশের বাইরে থেকে কানেক্ট হয়েছে। প্রত্যেকের চেহারা বেলুনের মত চুপসে আছে। লিমন মুখ খুললো,
– তোমরা এরম মুখটা ভোঁতার মত করে রেখেছো কেনো?
ইয়াজ এখন কোথায় ঘাপটি মে*রে আছে কেউ জানেনা। শাহাদ আল্টিমেটাম দিয়েছে খুব তাড়াতাড়ি দেখা করতে। নাহলে পিঠের ছাল উঠাবে। লিমন ওদের দলে যুক্ত হয়ে দু বছর। সবচেয়ে ছোট সদস্য। এই দলের প্রত্যেকের কিছু স্পেশাল হিডেন টেলেন্ট রয়েছে। শাহীন খুব সহজে মানুষকে হিপনোটাইজ করে ফেলতে পারে, পাভেলের মা*রা*মা*রির স্কিল দূর্দান্ত, নোমানের পলিটিক্যাল থেকে শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল লিংক অনেক স্ট্রং, ইয়াজ হ্যাকার, তানভীর স্কেচ খুব ভালো করতে পারে এবং যেকোনো রহস্যের সমাধান খুব দ্রুত করতে পারে সর্বশেষ লিমন। যাকে দিয়ে ছদ্মবেশে সব কাজ করানো যায়। সবচেয়ে বেশি ইনফরমেশন এনেছে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, এমপি মন্ত্রীদের মেয়ে,বোনদের কাছ থেকে। মেয়েদের খুব ভালো ম্যানেজ করতে পারে। হঠাৎ ইয়াজ চেঁচিয়ে উঠে,
– ওহ মাই অলমাইটি, আই এম প্রেডিক্টিং উই আর ইন ডেঞ্জার।
সকলে সমস্বরে বলে উঠলো,
– কিহ?
ইয়াজ পুনরায় উত্তর করলো,
– শেষ ভাই,সব শেষ ‘অক্টোপাস’ জেগে উঠবে। তখন আমাদের আটচল্লিশটা পা এমন ভাবে তার এক পা দিয়ে ধরে সারা অঙ্গে বিষ ঢেলে দিবে।
শাহীন ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছে,
– উলটা পালটা কথা কম বল। ‘অক্টোপাস’ জাগার মত কিছুই হয়নাই। আপাতত গা ঢাকা দে। ভাইজান তোরে কুচি কুচি করবে।
– টিকিট কে*টেছি। আপাতত মিশর থাকব কিছুদিন।
লিমন উঠসাহী হয়ে বললো,
– আচ্ছা এই ‘অক্টোপাস’ কী? আরো দশ বছর আগে শুনেছিলাম একবার। খবরে দেখিয়েছিলো।
পাভেল প্রসঙ্গে বদলে বললো,
– যে যেখানেই থাকো সেফ থাকো। আপাতত আমরা ‘ সিক্স স্পাইডার’ এর কথা ভুলে যাই। বস অনেক ক্ষেপে আছে। ‘অক্টোপাসের’ নাম মুখেও আইনো না। এই জিনিস দশ বছর আগেই ভ্যানিশ হয়েছে। নতুন ‘অক্টোপাস’ কোথা থেকে আসবে। ইয়াজ তোর কাছে এসব ফাউল নিউজ কে দেয়? নোমান তো কিছু বললিনা?
নোমান ভাবুক হয়ে বললো,
– আরেহ আমি নিজেই তো জানিনা। ও কিভাবে জানে?
ইয়াজ জানালো,
– গতকাল রাতে একটা মেইল এসেছে আমার মেইলে। লিখা ছিলো, Be carefull . Send me all the information of ‘OCTOPUS’. ইভেন মেইলটা করেছে একটা সাইট থেকে যার নাম ‘OCTOPUS’ । অনেক ট্রাই করেছি ইনফো কালেক্ট করার কিন্তু পারিনি।
শাহীন খেঁকিয়ে উঠলো,
– হ; অক্টোপাস নিজের ইনফরমেশন জানেনা, তোর কাছ থেকে নিবে।
লিমন পুনরায় বললো,
– আগে তো বলবা কি জিনিস? পরে বিবরণ কইরো তোমরা।
তানভীর এতক্ষনে মুখ খুলে বলে,
– অক্টোপাসের ফুল ফর্ম হচ্ছে Optimistic Candescent Transformation of Oppressive Politics and Unethical Service. এটা একটা…
পাভেল পুনরায় থামিয়ে বলে,
– নো তানভীর স্টপ। ইয়াজ তোর থেকেও বড় হ্যাকার -ট্র্যাকার যে এক্সিস্ট করে জানিস? আমার কেনো যেন মনে হচ্ছে আমাদের কল ট্র্যাক হচ্ছে।
বলার দেরি ইন্সট্যান্ট সকলে কল কাট করে দিয়েছে। ইয়াজের ওয়েবসাইট থেকে সকলের ফোনে মেসেজ এসেছে পাঁচ মিনিট পর,
– Yes, we are tracked. Even I can’t track the miscreant website.
নোমান মেসেজ দিলো,
– বন্ধ কর আপাতত সব। বস কি বলে শুন। যদি এসব জানতে পারে কাঁচা চিবিয়ে ফেলবে।
সকলের মেসেজ আসলো একসাথে,
– আই আই চিফ।
অতিথি আয়োজন চলছে। বাড়িতে একত্রিত হয়েছে সকলে। অনুপস্থিত শুধু রেদোয়ান ও তার পরিবার। মঞ্জিলা রান্নাঘরে ভাবীর সাথে কথা বলছে। যা যা হয়েছে সব জেনে নিচ্ছে। রেদোয়ানের ব্যবহারে সে খুবই মর্মাহত। মনিতো খুব আদরের ছিলো। মেয়েটা হঠাৎ এমন পাগলামি বংশের কারোই পছন্দ হচ্ছেনা।
সাথে যোগ দিয়েছে সাবিনা, ইফফাত, তাইবা। সবার আফসোসের সীমা নেই। সুলতানা প্রসঙ্গে পালটে জা বোনদের বললো,
– থাক বাদ দাও এসব। আজ আমাদের শুভদিন। সাবিনা দেখতো তাহিকে রেডি করিয়েছে কিনা ওরা। ছেলে পক্ষ এসে পড়লো বলে।
মঞ্জিলা এগিয়ে এসে বললো,
– ভাবী বুঝতেছিনা বাবু কাজটা কি ঠিক করছে?
সাবিনা আক্ষেপ নিয়ে বললো,
– আমার মেয়েটার কপাল এত খারাপ কেনো? ও বিয়েটা যদিও করে শুধুমাত্র বাবুর কথা রাখতে করবে। কাল সারা রাত কেঁদেছে।
পেছন থেকে দিয়া এসে বললো,
– খালামনি এভাবে থাকলে তো নিজে নিজেই শেষ হয়ে যাবে।
– ওর ভয় যদি বর্তমান স্বামী রাশেদকে মুছে দেয়? রাশেদের মতো কাউকে ভালোবাসতে পারবেনা। সংসার ও করতে পারবেনা। তখন বাবু অপমানিত হবে। অন্যদিকে একটা অবিবাহিত ছেলে বিধবা মেয়ে বিয়ে করছে তার এক্সপেকটেশন ও তো অনেক বেশি থাকবে তাই না।
সকলে সম্মতিতে মাথা নাড়ায়।
কিছুক্ষন হলো ছেলেরা চলে গিয়েছে। এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে এই বাড়িতে। রায়হান সাহেব অত্যন্ত রেগে আছেন। এ যাবৎকালে উনাকে এতটা রাগতে ঘরের ছোটরা দেখে নি। শাহাদ কেমন নিশ্চুপ। রায়হান সাহেব শাহাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
– কিছু বলছোনা কেনো শাহাদ? তখন ও দেখলাম তুমি চুপ করে ছিলে।
অন্যমনস্ক শাহাদ সম্বিত ফিরে বললো,
– কি বলা উচিত এমন পরিবেশে?
– কি বলা উচিত মানে? এক মেয়েকে দেখতে এসে অন্য মেয়েকে পছন্দ করা কোন ধরনের অভদ্রতা। এটা তো আমি মেনে নিতে পারছিনা। তাহিকে ফেলে বিবাহিত এক বাচ্চার মা কিভাবে ওদের পছন্দ হয়।
শাহাদ মাথা নিচু করে ফ্লোরে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে আজ চাপ বেশি হয়ে যাচ্ছে। লাইফটা এত তিক্ততায় ভরে যাচ্ছে কেনো? সবদিকেই ঝামেলা। অফিসে ঝামেলা,বাসায় ঝামেলা। ঘাড় তুলে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
– আচ্ছা আমি দেখছি কি করা যায়।
শাহাদকে এমন এর আগে কেউ দেখেনি। এতটা তৎপর একটা ছেলে হঠাৎ চুপ করে আছে কেনো? শরীর খারাপ ওর। তবে আজকের ব্যাপারটা খুব অপমানের। তাহি রুমের দরজা দিয়েছে। শেফালী লজ্জায় নিজের রুমে বসে আছে। ছেলে পক্ষ থেকে তাহিকে পছন্দ হলেও ছেলে শেফালীকে চেয়ে বসে আছে,ব্যাপারটা খুবই অপ্রিয়। ছেলেকে রায়হান সাহেব সকলের সামনেই বুঝিয়ে বলেছে শেফালী ডিভোর্সি। বাকিটুকু বলার আগেই ছেলে জানিয়েছে সে সবটা জানে শেফালী সম্পর্কে। তার আসার কারণ ও শেফালী ছিলো। বুঝতে পারেনি পরিবারের লোকজন শাহাদের বোন বলতে তাহিকে বুঝিয়েছে। হাসবেন্ড নেই বলতে সে শেফালীকে বুঝেছে অন্যদিকে তার পরিবারের লোকজন তাহিকে ভেবে নিয়েছে। তা নিয়ে চলছে দ্বন্দ্ব। শেফালী খুবই বিচলিত। তাহি আপার জায়গায় ওকে ছেলে পছন্দ করাতে আজ বড্ড রাগ হচ্ছে। রূপের দিক থেকে দুজনই পাল্লা দেয়ার মত। উলটা শেফালীর ছেলে আছে তা বুঝার সাধ্য নেই।
শাহাদের নিরবতা সকলকে গ্রাস করেছে। উঠে দাঁড়ায়। সকলকে বলে,
– আমার শরীর টা ভালো লাগছেনা। একটু রুমে যাই। ফারাহ্ রুমে আসবে, কথা ছিলো।
তটস্থ পায়ে হেঁটে চলে গেলো। বেডে হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখেছে। দিয়ার পায়ের আওয়াজ শুনে আস্তে বললো,
– দরজা আটকে লাইট নিভিয়ে দাও। কাছে এসে বসো।
কথা অনুযায়ী কাজ করে পাশে এসে বসলো দিয়া। শাহাদ শান্ত গলায় বললো,
– আজ সবাই বিধ্বস্ত শাহাদকে দেখেছে তাই না?
দিয়া চুপ। শাহাদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
– একটা প্রশ্ন সবটুকু এলোমেলো করে রেখেছে আমার। দু বছর কেনো দূরে সরিয়ে রেখেছি যদি এত ভালোবাসি, তাই না?
কামরা জুড়ে পিন পতন নিরবতা। মিনিট দশেক পেরোলো। শব্দ আসলো শাহাদের মুখ থেকে,
– আমি জানিনা… আমি সত্যি জানিনা।
কিছুটা থেমে,
– ফারাহ্…আমি ফল্টলেস নই। আমার বিশ্বাসে খুঁত ছিলো ফারাহ্। আমি তোমার মতো নিখুঁত নই। আমি তোমার দয়ায় পাওয়া ক্ষমা নিয়ে বেঁচে আছি এই কথা প্রতিটি মুহুর্তে শেষ করে দিচ্ছে ভেতরটাকে। মন থেকে ক্ষমা পাই নি আমি। ঠিকই তো, কেনো পাবো? আশা করি কি করে?
– কিছু ভুলের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করতে হয়। সেসব ভুলকে শাস্তি দিতে গেলে জীবনের বাকি সুখটুকু ও হারিয়ে যাবে।
অন্ধকারেও স্পষ্ট দিয়ার মুখ। বাইরে থেকে পোর্চের আলোর আবছা রুমে এসে পড়েছে। সেই আলোতে সামনে বসে থাকা মেয়েটাকে আজ বড্ড অচেনা লাগছে। বুঝতে পারছেনা কি বলবে, কি উপায়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করবে। এটাও মেনে নিতে পারছেনা, তার সহধর্মিণী তার প্রতি দয়া দেখিয়েছে। অকস্মাৎ উঠে দাঁড়ায়। সরাসরি বাতি জ্বালিয়ে বললো,
– ফারাহ্, আমি কয়েকদিনের জন্য ঢাকার বাইরে যাবো। তুমি, শেহজা কাছে থাকলে আমি পাগল হয়ে যাবো। পাগলামী আচরণ গুলো এর আগেও কেউ দেখেনি এখনও কেউ না দেখুক।
– এটা সল্যুশন?
– উপায় আছে আর?
– নেই বুঝি?
শাহাদ সরাসরি দিয়ার পায়ের কাছে বসে হাঁটু জড়িয়ে ধরে কোলে মাথা রেখে বললো,
– বলে দাও। নিতে পারছি না আর।
– প্রশ্নের উত্তর দিন। তবেই বলে দিব।
জবাবটা আসলো ধীরে,
– অবিশ্বাস করেছিলাম। হালকা হলেও করেছিলাম। স্বীকার করলাম। নোমানকে তো বিশ্বাস করতাম আমি। ও মিথ্যা বলবে বুঝিনি। শেফালী তো আমার বোন। তোমাকে ফাঁসাবে বুঝিনি। যখন জানলাম আমার শেহজা তোমার গর্ভে। তুমি তাকে নিজের সবকিছু দিয়ে আগলে রাখছো। একটু করে রাগ কমতে থাকলো। পুরো ঘটনা বের করার চেষ্টা করলাম। অনেকটুকু বের করে ফেললেও মেনে নিতে পারছিলাম না তুমি নির্দোষ।আমিও তো মানুষ। ভুল করেছিলাম। শেহজা যেদিন পৃথিবীতে এলো। আমার পুরো পৃথিবী বদলে গেলো। এরপর থেকে নোমানকে খুঁজছিলাম। বাকি সব তুমি জানো।
পুনরায় বললো,
– স্যরি, মন থেকে মাফ করে দাও না। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। বাইরে কেমন আচরণ করলাম দেখলে তো। একই কাজ আজ অফিসে করেছি, মিটিংয়ে করেছি।
– ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি খাবার বাড়ছি।
তৎক্ষনাৎ উঠে দাঁড়ায়, গর্জে উঠলো,
– আহ্লাদ দেখাবেনা। আমি বলেছি আমি খাবো?
– তো কি করবেন?
আচমকা টেবিলের পাশে ফুলদানি আছাড় দিলো। আশপাশে যা পারছে সব ভাঙছে। দিয়া ভয়ে আঁৎকে উঠলো। একি রূপ শাহাদের। এত সেন্সিবল একজন মানুষকে এত বছরেও এমন রূপে দেখেনি।
– কি করছেন আপনি এসব? হাতে লাগবে।
– লাগুক, যা খুশি হোক। সব ভেঙ্গে ফেলবো। কিছুই রাখবো না। আমি ভেঙ্গে যাচ্ছি। সবাই কেনো ভালো থাকবে। সব কেনো ঠিক থাকবে? আমার জীবনে অগোছালো হয়ে আছে, সব ধ্বংস করে ফেলবো।
শাহাদের চিৎকার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দেয়ালে। বাইরে থেকে দরজা ধাক্কার আওয়াজ। পুনরায় চেঁচিয়ে উঠলো,
– খবরদার দরজা খুলবে না।
– পাগলের মত আচরণ করছেন কেনো?
হাত চুয়ে র*ক্ত পড়ছে। কিভাবে কে*টেছে জানেনা। কিছু ভাঙার সময় হয়তো হাতে লেগেছে। চোখ দুটো দেখতে আজ ভয়ানক লাগছে দিয়ার। শাহাদ প্রগাঢ় স্বরে বললো,
– সবকিছুতেই শাহাদকে সেন্সিবল থাকতে হবে, সবকিছুতে শাহাদ এগিয়ে আসতে হবে, অথচ শাহাদের যে শান্তির প্রয়োজন কেউ তো বুঝলোনা। দায়িত্বটা কেনো আমার হতে হবে সবসময়?
আবার আছাড় দিলো নিজের প্রিয় পারফিউম। দরজার লক খুলে ফেলেছে সুলতানা কবির। রুমের অবস্থা থেকে সবাই হতবাক। দিয়ার চোখে পানি। মেয়েটা ভয় পেয়েছে। শিফার কোলে শেহজা। শেহজা বাবার এই রূপ দেখে কেঁদে দিলো। ঘুম থেকে উঠার পর বাবাকে সকালের পর আর দেখেনি,মাত্র দেখলো। দু হাত বাড়িয়ে কাঁদছে কোলে নিতে। শাহাদ পুনরায় চিৎকার দিলো,
সায়রে গর্জন পর্ব ৩৭
– ওকে এখানে কেনো এনেছিস?
শিফা ভয়ে শেহজাকে নিয়ে বের হবে এমন সময় মেয়েটা আরো জোরে কাঁদছে। শিফার কোল থেকে নেমে যাচ্ছে। বাবা বাবা করছে। জোরে শ্বাস টেনে নিজেকে সংযত করছে। একটানে আলমারি খুলে ড্রয়ার থেকে একটা রুমাল বের করে হাতে পেঁচিয়ে নিলো। সেই ভাঙা টুকরো গুলো মাড়িয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে সকলের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। যেতে যেতে বলতে থাকলো,
– আম্মা আপনি ছাড়া কেউ বুঝেনা বাবাকে, কেউ না।
