সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১
Raiha Zubair Ripti
দীর্ঘ দুই বছর ধরে মুনতাহা যাকে ভালোবেসেছিল, মায়ের প্রথম ঘরের সন্তান বলে যেই বাড়ি থেকে মুনতাহা কে রিজেক্ট করে মুনতাহার সৎ ছোট বোন ফারিন কে বউ বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বছর এক আগে, সেই বাড়িরই বড় ছেলের সাথে আজ নিজের বিয়ের কথা শুনে রীতিমত চমকে উঠলো মুনতাহা। সেই ছেলে নিজ থেকে মুনতাহা কে বিয়ে করতে চাইছে। এমনকি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে।
বলাবাহুল্য, মুনতাহা যাকে ভালোবেসেছিল সে মুনতাহার সৎ বাবা সালমান মির্জার আপন বড় ভাইয়ের সন্তান। নাম অর্নব। মায়ের এক কথাতে অর্নব ২ বছরের সম্পর্ক টাকে গলা টিপে মেরে ফেলে সবার সামনে ফারিন কে বিয়ে করতে রাজি হয়। ফারিন কেই যদি বিয়ে করার ছিলো তাহলে মুনতাহার ইমোশন নিয়ে খেলার কি মানে ছিলো? মুনতাহা তো নিজ থেকে কখনো অর্নব কে ভালোবাসতে চায় নি। ছেলেটাই তো বাধ্য করলো। কত পাগলামি করলো। কত বড় বড় কথাও বলেছিল যে মরে গেলেও মুনতাহা কে সে ছাড়বে না। কিন্তু সেদিন তো ঠিকই ছেড়ে দিলো হাত টা। আর বাহানা দিলো- মা মানবে না। তুমি চাচির আগের ঘরের সন্তান। আমি তোমাকে বিয়ে করলে আমার মা সুইসাইড করবে। আরো কত কি! ঠকবাজ প্রতারক ছেলে একটা। সেই ঠকবাজ,প্রতারক ছেলের বড় ভাইকে মুনতাহা জেনেশুনে বিয়ে করবে! কোনোদিনই না।
মুনতাহা সালমান মির্জা কে বলেছিল এই বিয়েটা সে করবে না। তার পক্ষে সম্ভবই না করা। কথাটা সালমান মির্জা কে বলার বিশ মিনিটের মাথায় হন্তদন্ত হয়ে এ বাড়িতে ছুটে আসে সিকান্দার। আর এসেই মুনতাহা কে ডেকে জিজ্ঞেস করেছে কেনো বিয়ে করবে না সে সিকান্দার কে?
মুনতাহা সাহস করে আড় চোখে একবার তাকায় তার সামনে গম্ভীর মুখে সোফায় বসে থাকা সিকান্দার শাহ্ মির্জার দিকে। যাকে এই প্রথম বার সামনাসামনি দেখা হলো। গত সপ্তাহেই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছে দীর্ঘ ১২ বছর পর। তার সম্পর্কে কিছুই জানে না মুনতাহা। লোকটা কেমন,কি করে..নাথিং। অথচ আগাম সার্টিফিকেট দিয়ে বসে রইলো তাকে নিয়ে!
কেমন এক গম্ভীর দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে মুনতাহার দিকে সিকান্দার । অস্বস্তি হচ্ছে তার এই চাহনি তে মুনতাহার । বসার ঘরে থাকা তিন তিনটে মুখ তাকিয়ে আছে এভাবে।
সিকান্দার হাত ঘড়িতে একবার সময় দেখে নিলো। পাক্কা ৪০ মিনিট ধরে তারা এভাবে বসে আছে। একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে কারো ৪০ মিনিট লাগে! সিকান্দারের জানা নেই। বাড়িতে রীতিমত ঝগড়া করে তারপর এখানে এসেছে সিকান্দার । মেজাজটা ভীষণ চটে আছে। কিন্তু সেটা একটুও বুঝতে দিচ্ছে না সামনে বসে থাকা রমণী কে।
সকল নীরবতা কে সাইডে রেখে দিয়ে সিকান্দার আবারও প্রশ্ন করলো-
“ আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন না কেনো মন? চাচা কে মানা কেনো করেছেন?”
মন! এই প্রথম তার গলার স্বর শুনলো মুনতাহা। বাট মন মানে কি? মন কেনো বললো? তার নাম মুনতাহা।
“ কিছু জিজ্ঞেস করছি আপনাকে মন। উত্তর দিন। আপনার এই নীরবতা কে কি তাহলে ধরে নিব আপনি রাজি আছেন? চাচা কে মিথ্যা কথা বলেছেন। ”
মুনতাহা এবার সাহস সঞ্চয় করলো। হাত কচলাতে কচলাতে থতমত গলায় বলল-
“ আ..আমার পক্ষে আপনাকে ব..বিয়ে করা সম্ভব নয়। ”
“ আমি কারনটা জানতে এসেছি। কারন টা বলুন। আমার হাতে সময় নেই মন। বাড়ি ফিরতে হবে। বাড়িতে ঝগড়া করে এসেছি। শুনেছেন তো? ”
মুনতাহা মায়ের দিকে তাকালো। সরল দৃষ্টি নিয়েই তাকিয়ে আছে। সালমান মির্জা নড়েচড়ে বসলো। তার নিজেরও তেমন একটা মত নেই এই বিয়েতে।
“ অজানা থাকার কথা তো নয় আপনার। আপনাকে বিয়ে করা আমার কাছে অপমানের। ”
সিকান্দারের ভ্রু কুঁচকে আসলো সে কথা শুনে।
“ অপমানের মানে? ”
“ যেই বাড়ি থেকে আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সেই বাড়ির আরেক ছেলেকে বিয়ে করাটা কি আমার জন্য অপমানের নয়? ”
“ বাড়ি প্রত্যাখ্যান করছে,সিকান্দার না। আমি আপনাকে বাড়ির বিরুদ্ধে গিয়ে চুজ করেছি। আপনি সম্মতি প্রদান করুন বিয়েতে। আপনার অমতে বিয়ে করার ইচ্ছে নেই আমার আপাতত। তবে আপনি যদি এই অমত নিয়ে বসে থাকেন তাহলে হয়তো আপনার অমতেই আমার আপনাকে বিয়ে করতে হবে। আর সেটা করলে আপনার বা আমার কারোর জন্যই খুব একটা ভালো কিছু বয়ে আনবে না মন। ”
কথাটা শেষ করে সিকান্দার উঠে যেতে যেতে ফের বলল-“ চাচা মেয়েকে রাজি করান। আমি বিয়ে কিন্তু আপনার মেয়েকেই করবো। সেটা তার মাথায় ঢুকিয়ে দিন। আর আমি যা চাই তাই কিন্তু নিয়ে ছাড়ি। আমি কোনো মাম্মাস বয় না যে একটু ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করলেই আপনার মেয়ের হাত ছেড়ে দিব। ভুল মানুষ কে পাকনামি করে ভালোবেসে ঠকে গেলে তার দায়ভার নিশ্চয়ই আমি নিব না। আজ আসছি। কাল আবার আসবো আপনার মেয়ের মতামত জানতে। যদি কালও রাজি না হয় তাহলে আবার ফের পরশু আসবো,পরশু না হলে টরশু। রাজি না হলে আসতেই থাকবো রোজ। ”
সিকান্দার চলে গেলো। ময়না বেগম প্রলম্বিত শ্বাস ফেলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন-
“ ছেলেটা ভালো মুনতাহা। আমি এখানে তোমার অমতের কিছু দেখছি না। সংসার করবে ছেলের সাথে। ছেলের পরিবারের সাথে নয়। ছেলে যদি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাকে চায় তাহলে তোমার আপত্তি হওয়ার কথা আসছে কেনো এখানে? কতদিন আর এভাবে অন্যের ঘাড়ে বসে বসে খাবে? ”
মুনতাহার চোখ দুটো জলে ভরে আসলো শেষের কথাটা শুনে। খাওয়ার খোটা দিলো তার মা? হ্যাঁ কথাটা পুরোপুরি সত্যি বলেছে। সালমান মির্জা তো মুনতাহার আপন বাবা না। কিন্তু মুনতাহা কিভাবে বিয়ে করবে ঐ বাড়ির ছেলেকে? মুনতাহার দিকটা কি তার মা একবারও ভেবে দেখবে না? মুনতাহার কথা ফুরিয়ে গেলো মায়ের শেষ কথায়। উঠে চলে গেলেন তিনি। সালমান মির্জা একবার মুনতাহার দিকে তাকিয়ে বসা থেকে উঠে বললেন-
“ মায়ের কথায় কিছু মনে করো না মুনতাহা। তুমি কারো চাপে পড়ে অথবা নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিও না। সময় নাও ভাবো। যেটা সঠিক মনে হয় করো। তবে এটুকু বলতে পারি সিকান্দার তোমার জন্য উত্তম হবে। এই ভরসা টুকু আমার উপর তুমি করতে পারো। বাট ও বাড়ির বউ হলে তোমাকে তাদের কথা শুনতে হবে এটা সত্য কথা। কারন সিকান্দার কোনোদিন ভাবি কে মানাতে পারবে না এই বিয়েতে। তিনি এক কথার মানুষ। সেজন্যই আমি চাই না তুমি কারোর চাপে পড়ে রাজি হও। ”
সালমান মির্জা চলে গেলেন রুমে। রুমে এসে দেখলো ময়না বেগম জামাকাপড় ভাজ করছে। সালমান মির্জা বিছানায় বসে বলল-
“ ওভাবে বলা টা তোমার ঠিক হয় নি মুনতাহা কে।”
“ সেটা আপনার ভাববার বিষয় না। ”
“ তাহলে কার ভাববার বিষয়?”
ময়না বেগম শব্দ করে আলমারির পাল্লা টা লাগিয়ে বলল-
“ মুনতাহা কার মেয়ে? আমার মেয়ে। তাই তার বিষয়ে ভাববার অধিকার কেবল একান্তই আমার। আপনার ছেলে মেয়েদের কোনো বিষয়ে তো আমি কথা বলি না। ”
সালমান মির্জা আহত হলো স্ত্রীর এমন কথায়।
“ মেয়েটা তোমার একার ময়না?”
“ কোনো সন্দেহ আছে এতে?”
সালমান মির্জা আর কিছু বললো না।
মির্জা বাড়ির বসার ঘরটা আজ গুমোট হয়ে আছে। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে সাইদা মির্জার। আজ সিকান্দারের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিলো অথচ ছেলেটা গেলো না! আবার খবরও এসেছে যে সিকান্দার নাকি ঐ মুনতাহা কে বিয়ে করতে চাইছে! তীব্র রাগে সে ফুঁসতে ফুঁসতে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছে। অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলল ভাইকে ফোন করতে। অর্নব পকেট থেকে ফোনটা বের করে ভাইকে ফোন দিতে যাবে এমন সময় সদর দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো তার ভাই আসছে ধীর পায়ে হেঁটে। অর্নব নিজেও অবাক হয়েছে ভাইয়ের এই সিদ্ধান্তে। সে কি করে ছোট ভাইয়ের প্রাক্তন কে বিয়ে করতে চাইতে পারে!
সিকান্দার কোনোদিকে না তাকিয়ে সবাই কে পাশ কাটিয়ে উপরে উঠে চলে যেতে নিলে সাইদা মির্জা ছেলে কে ডেকে উঠে-
“ সিকান্দার। ”
সিকান্দার দাঁড়িয়ে যায়। সাইদা মির্জা বসা থেকে উঠে ছেলের দিকে এগিয়ে এসে বলে-
“ এসব আমি কি শুনছি? তুমি নাকি ঐ মুনতাহা কে বিয়ে করতে চাইছো! মাথাটা কি খারাপ হয়ে গেছে তোমার? ”
সিকান্দা গম্ভীর গলায় বলল-
“ ভুল কোনো খবর পান নি। যা শুনেছেন ঠিকই শুনেছেন। অথেনটিক নিউজই এটা। ”
“ এটা তুমি করতে পারো না সিকান্দার। ঐ মেয়ে এ বাড়ির বউ হতে পারে না। ”
“ কেনো হতে পারে না? ”
“ ঐ মেয়ের বংশ পরিচয় কেমন জানো না? তোমার ছোট ভাইও এই সেম ভুল করতে যাচ্ছিলো। তাকে ফিরিয়ে এনেছি। এখন আবার তুমি শুরু করলে! ”
“ তারজন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি যে আপনার ছেলেকে ভুল করা থেকে আঁটকিয়েছন। সে এই সিকান্দার শাহ্ মির্জার সম্পত্তির দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করছিলো। ভাই তো সেজন্য জীবিত রেখে দিয়েছি। অন্য কেও হলে এতদিন তার জায়গা কবরে থাকতো। ”
“ সিকান্দার! ” চিৎকার করে উঠলো সাইদা মির্জা। স্বামী সেলিম মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল-“ কি বলছে কি তোমার ছেলে শুনছো? ঐ মেয়ের মধ্যে কি দেখেছো তুমি? ওর চেয়েও হাজার গুন সুন্দরী মেয়ে আমি তোমার জন্য খুঁজে এনে দেব। ছেড়ে দাও ঐ মেয়েকে। ”
“ ছাড়বো না। ছোট ছিলাম তাই তখন ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম এবার বড় হয়েছি। নিজের জিনিস নিজের কাছে রাখতে জানি। আপনি আমাকে আটকাতে পারবেন না। তাই অযথা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার সময় নষ্ট করবেন না। আমি আগ্রহী নই। ”
“ আমি কিছুতেই ঐ মেয়েকে এ বাড়ির বউ হতে দিব না সিকান্দার। তোমার বিয়ে আমি জুলির সাথেই করাবো। ”
“ কোনো ঝুলি বুলি গুলি টুলি কে আমি সিকান্দার বিয়ে করছি না। আমার বউ হবে কেবল মুনতাহা।”
“ আমি হতে দিব না। ”
“ কি করবেন শুনি? বিষ খাওয়ার নাটক করবেন? এই ট্রিকস টা বেশ পুরোনো । নতুন কিছু ট্রাই করুন। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য। ”
সিকান্দার চলে গেলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে। সাইদা বেগম রাগে ফেটে যেতে লাগলো। অবাধ্য ছেলে। সে তো জীবনেও ঐ মুনতাহা কে, এতিম মেয়েটা কে মেনে নিবে না। মির্জা বাড়ির কাজের মেয়ের যা মূল্য আছে ঐ মুনতাহার সেই মূল্য টাও তো নেই।
গভীর রাত। বেলকনিতে বসে নীরবে চোখ জল ফেলছে মুনতাহা। তার ভীষণ খারাপ লাগে এই জীবনটা বয়ে বেড়াতে। কোনো জায়গায় সে একটু শান্তি পেলো না। মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছিল বলে তার বাবা নামক অমানুষটা তার মা কে ডিভোর্স দিয়েছিল। সেই রাগ সেই ক্ষোভের কারনে হয়তো তার মা তাকে ভালোবাসে না। মামা মামির কাছে আশ্রয় হয়েছিল তাদের। কিন্তু মামা মামির ভালোবাসা টা পায় নি কখনো মুনতাহা। নিজের মায়ের ভালোবাসাটাই তো পায় নি কখনো সেখানে মামা মামির ভালোবাসা পাওয়া তো দূরের কথা। মুনতাহার বয়স যখন সাত তখন মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলো ঢাকায়। আর এই সংসারে থাকতে শুরু করলো তার মা।
তখন মুনতাহা কে মামার বাড়িতে থাকতে হতো গ্রামে। মায়ের সংসারে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য মুনতাহা কে যোগাযোগ করতে দিত না তার মামারা।
কিন্তু প্রতিদিন অত্যাচার করতো তার মামিরা মুনাতাহা কে। বাড়ির সকল কাজ তাকে দিয়ে করাতো। পড়াশোনা করতে দিত না ঠিকমতো। খুবই কষ্টের দিন ছিলো।
এই তো এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার সময় একবার তীব্র জ্বর হয়েছিলো মুনাতহার। শরীর চলছিলো না বলে সেদিন রাতে রান্না করে নি মুনতাহা। সেজন্য মুনতাহা কে সেদিন খুব মেরেছিল তার বড় মামি। শরীর জুড়ে কালসিটে দাগ বসে গিয়েছি। মুনতাহার নানি নাতনির এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে সালমান মির্জা কে ফোন করেছিল।
তার ঠিক পরের দিন সালমান মির্জা এসে মুনতাহা কে তার বাড়িতে নিয়ে আসলেন। মা’কে আট বছর পর কাছে পেয়ে মুনতাহার খুশি হবার কথা ছিলো। কিন্তু মুনতাহা হতে পারলো না। মায়ের চোখ মুখ বুঝিয়ে দিচ্ছিলো তার আসাতে তার মা ঠিক কতটা অখুশি।
আজ পাঁচ বছর ধরে সে এই বাড়িতে আছে। এই পাঁচ বছরে একটি বারের জন্যও মুনতাহা তার মাকে জড়িয়ে ধরতে পারে নি। সব সময় মায়ের মুখের শক্ত শক্ত কথা আর বিরক্তিকর আচরণ পেয়েছে। সেই জীবনে অর্নব এসেছিল একটুখানি সুখ হয়ে। কিন্তু সে সুখ হয়ে ঢুকে বিষ ফেলে চলে গেলো জীবনে।
মুনতাহা মুখ চেপে ধরলো। তার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছে না। এটাও আরেক যন্ত্রণা। মায়ের ডাক কানে আসতেই তড়িঘড়ি করে চোখের জল মুছে ফেলে মুনতাহা। নিজেকে স্বাভাবিক করে বেলকনি থেকে চলে যাওয়ার সময় তার ফোনে একটা মেসেজ আসে। মুনতাহা ফোনটা অন করে দেখে একটা নিউ ফেসবুক আইডি থেকে মেসেজ এসেছে। মেসেজে পাঠানো লেখা গুলো দেখে পড়ে চিনতে আর বাকি নেই এটা কার পাঠানো মেসেজ। মুনতাহা রাগে ফুলে উঠলো। আইডিটাও ব্লক লিস্টে ফেলে রাখলো। সাথে সাথে কল আসলো ফোনে। মুনতাহা নম্বর না দেখেই রিসিভ করে তীব্র রাগ নিয়ে বলল-
“ মিনিমাম লজ্জাবোধ টাও কি আপনার নেই? কেনো আমাকে মেসেজ দেন ফেক আইডি খুলে? আমি আপনাকে প্রচন্ড ঘৃণা করি,বুঝতে পারেন না এই সিম্পল বিষয়টা? নাকি গন্ডারের চামড়া শরীরে কোনটা? আর একবার ফোন বা মেসেজ করলে সামনাসামনি গিয়ে চড়িয়ে আপনার গাল লাল করে দিয়ে আসবো। ”
কথাগুলো এক নাগালে বলে মুনতাহা যখন ফোনটা কেটে দিতে যাবে। ঠিক সেই সময় ফোনের ওপাশ থেকে ধীর গলায় ভেসে আসলো-
“ মন..!! ”
চমকে উঠলো মুনতাহা। ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো নম্বরটা। নম্বরটা অচেনা। প্রতিবার এভাবে আইডি ব্লক করার পর পরই অর্নবের ফোন আসে। মুনতাহা অর্নবই ভেবেছিল। তবে এটা তো অর্নবের গলা না। এই গলার মালিক কে মুনতাহা চিনে। এই নামে কেবল একজনই তাকে ডাকে। আর সেটা হলো সিকান্দার শাহ্ মির্জা…!!
