সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৬+৮৭
neelarahman
নওরিন আফরোজ চেয়ারে বসে আছে ।বিছানায় হাত-পা মেলে শুয়ে আছে হুমায়ূন রহমান কপালে একটি হাত ।নওরিন আফরোজ বুঝতে পারছে তার স্বামীর বুকে ঝড় বয়ে যাচ্ছে ।ছেলেটা বাড়িতে নেই কাউকে কিছু বলতে পারছে না ।সমস্ত ঝড় একা নিজের বুকে নিয়ে চুপচাপ শান্ত হয়ে শুয়ে আছে।
নওরিন আফরোজ উঠে গিয়ে স্বামীর শিতানের পাশে বসলেন ।বসে একটি হাত রাখলেন কপালে ।দেখলেন কপালটা ভীষণ গরম এই কিছুক্ষণের মধ্যে কি উনার জ্বর এসে গেছে ?মনে মনে ভাবলেন নওরিন আফরোজ।
হাত সরালেন মাথা থেকে হুমায়ুন রহমান । চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।
হুমায়ূন রহমান স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তুমিও কি আমাকে দোষী মনে করছো নুরিন ?আমি যে অপারগ।”
নওরিন আফরোজ কি বলবেন স্বামীকে ? এমনিতেই মাথায় হাত দিয়ে দেখল মোটামুটি ভালোই জ্বর চলে এসেছে হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসবে ।তাই বললেন ,”না আপনাকে আমি দোষারোপ করছি না ।যা হওয়ার হয়ে গেছে ।এরপর থেকে আর যেন এমন কিছু না হয় সে চেষ্টা করতে হবে ।তবে আপনাকে এখন সুস্থ থাকতে হবে ।ছেলের জন্য ১০ মিনিটও হয়নি শরীরে জ্বর বাধিয়ে বসে আছেন ।মে*রেছেন ছেলেকে অথচ জ্বর চলে এসেছে আপনার আর চোখ দুটো এমন অবস্থা কেন?”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হুমায়ূন রহমান এই প্রথম স্ত্রীর সামনে চোখ দিয়ে পানি ছেড়ে দিলেন । নওরিন আফরোজ অবাক হয়ে গেলো। হুমায়ূন রহমান বললেন ,”আমি ভিতরে কষ্টটাকে ধরে রাখতে পারছি না নুরিন। আমার কলিজা ছেলেটার গালে আমি আজকের চ*র বসিয়েছি ।এই প্রথম জীবনের হাত তুলেছি ওর গায়ে।আমার দিকে কিভাবে তাকিয়ে ছিল ছেলে টা।একটি কথা বলতে পারেনি আমার ছেলেটা।
আমি জানি ফজলুরের কথায় ও বাড়ি থেকে চলে যায়নি ও আমার অপারগতায় বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে ।আমি এর জন্য দায়ী ।আচ্ছা আমার ছেলেটা কোথায় আছে খোঁজ নিয়েছো আমি না হয় নিতে পারছি না ।ফোন করে জেনেছো খেয়েছে কিনা ?কোথায় আছে ?”
নওরিন আফরোজ বললেন ,”মাত্রই তো গিয়েছে এখনই এত টেনশন করছেন তাহলে এতদিন থাকবেন কি করে?”
হুমায়ূন আহমেদ উঠে বসলেন ।উঠে বসে নওরিন আফরোজ এর দিকে তাকিয়ে বললেন ,”হ্যাঁ আমি পারছি না আমার ছেলেটা কিভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ! ওই চোখ দুটো যে আমাকে শান্তি দিচ্ছে না নুরিন !আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছে।
কিন্তু ফজলুরের কথার ও তো যুক্তি আছে ।যেখানে ধীরে ধীরে সবাই মেনে নিত সেখানেও তাড়াহুড়া করে কেন আবার বিয়ে করতে গেল ?”
নওরিন আফরোজ সচকিত হয়ে তাকালেন স্বামী হুমায়ূন রহমানের দিকে ।বললেন আবার বিয়ে করতে মানে ?
হুমায়ূন রহমান ধরা পড়া দৃষ্টিতে বললেন ,”না মানে …….. নওরিন আফরোজ বললেন আপনাকে আল্লাহ দোহাই লাগে আর কিছু লুকাবেন না।”
হুমায়ূন রহমান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না ।একে একে ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজকে পর্যন্ত সব কথাই খুলে বললেন ।এমনকি ফজলুর রহমান ও জানে প্রথমবার যখন বিয়ে হয়েছিল সেই কথা সবকিছু খুলে বললেন।
নওরিন আফরোজ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন হুমায়ন রহমানের দিকে ।তারপর বললেন ,”এত কথা গোপন করে গেছেন ?আমি তো ওর মা আমি ওকে জন্ম দিয়েছি আমার কি জানার অধিকার ছিল না ?সেই ২০ বছর বয়স থেকে আমার ছেলেটা বিবাহিত ?বিয়ে করেছে ?নুরকে বিয়ে করেছে ?এমনও তো হতে পারতো আমি জানলে ব্যাপারটাকে অন্যরকম ভাবে ম্যানেজ করতে পারতাম।আমি তো মা কেন আপনি আমার সাথে শেয়ার করলেন না ?না হয় সাদাফ শেয়ার করেনি আমার সাথে হয়তো আপনার সাথে ওর বেশি সখ্যতা ছিল কিন্তু আমি তো আপনার স্ত্রী ! আপনার প্রিয় স্ত্রী আপনি কেন আমার কাছে এতগুলো কথা গোপন করে গেলেন ?ছেলে সম্পর্কে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা কেন আমার ছয় বছর পরে শুনতে হবে?”
এখনো ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে আছে ফজলুর রহমান।
বুঝে উঠতে পারছে না কি থেকে কি হয়ে গেল ?গতকালও তো এরকম চিন্তাও করতে পারেনি ।
ছেলেটা এমন একটি কাজ করে বসেছে ফজলুর রহমান ই বা কি করবে ?শাস্তি দেওয়া তো প্রয়োজন ছিল ।যখন ছেলে মেয়ে কোন অন্যায় করে তাকে তো অবশ্যই বুঝাতে হবে বুঝিয়ে কাজ না হলে শাস্তি দিতে হবে।
ওনারও তো সন্তান সাদাফ ।ভিতরে ভিতরে ওনার ও খুব খারাপ লাগছে ।না জানি ছেলেটা কোথায় আছে কোথায় যাবে ?কোন বন্ধুর বাসায় যাবে ?কিভাবে থাকবে ?”মনে মনে ভাবছে আর হৃদয়টা কেঁপে উঠছে ফজলুর রহমানের।
কিন্তু কিছু করারও তো নেই ছেলেটা যে শুধু ঘর মুখো ।সবসময় মনে করে বাবা চাচাই সবকিছু করবে ওর জন্য ।অন্য কাউকে কেয়ার করে না ।কিন্তু সামাজিকতা বুঝতে হবে এই পৃথিবীতে চলতে হলে দুনিয়াদারি বুঝতে হবে ।সবার কথার মূল্যায়ন করতে হবে ।গুরুত্ব দিতে হবে ।ছেলেটা যে ভীষণ ঘর মুখো।
ওকে বুঝতে হবে মানুষ সামাজিক জীব সমাজের কথা চিন্তা করে অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
একা একা বিয়েটা করে ফেলল ।ভাবলো না সমাজের মানুষ নানান কথা বলবে ।যেহেতু ওরা কাজিন একই বাড়িতে থাকতো মানুষ নোংরা কথা বলতেও মুখ আটকাবে না।
তাই ওর বাহিরে যাওয়াটা দরকার ছিল ।এখন ও নিজের পায়ে দাঁড়াবে সামাজিকতা বুঝবে পরিশ্রম করবে পৃথিবী কি সেটা চিনবে ।বাবাদের ছায়ার বাহিরে গিয়ে সত্যি দুনিয়াটা বুঝতে পারবে ।দেখবে দুনিয়াটা এত সহজ নয় যখন যা চায় তাই পেতে হবে এমন কোন কথা নেই।
সামিহা বেগম রুমে মন খারাপ করে বসে আছে ।সাথে আছে রিমা ও সাইমন ।সাইমন বলছে ,”ভাইয়াকে বাড়ি থেকে বের করাটা কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিল ?বাড়িতে রেখেও শাসন করা যেত ।দূরে রাখা যেত ।ভাইয়া তো তার ভুলগুলো বুঝতে পারত আর এমন কিই বা ভুল করেছে মা?
চাচাতো বোনকে বিয়ে করেছে এটা তো দুনিয়ার প্রথম না অনেক জায়গাই হয় ।সাদাফ ভাই তো দেখতে শুনতে এমনকি ব্যক্তি হিসেবে অনেক ভালো আমার তো মনে হয় নূরের জন্য এর থেকে বেস্ট কোন ছেলেই হত না ।তাছাড়া ভেবে দেখো নুর সব সময় এখানে থাকবে দূরে যেতে হবে না এর থেকে ভালো অপশন কি আর পেতাম?
এমন শশুর শাশুড়ি কি নুর কোথাও পেতো ?দেখা গেল তোমরা বাহিরে বিয়ে দিতে ভালো দেখে বিয়ে দিতে কিন্তু সেখানে নূর সুখে থাকত না ।এখন তো নূর যাকে ভালবাসে পছন্দ করে তাকে বিয়ে করেছে এটা কি খুব দোষের কিছু হয়ে গেছে মা ?আমি তো বাবার কথা বুঝতে পারছি না।”
এদিকে রিমা চুপ হয়ে গেছে সাদাফ ভাই এবং নূরের ব্যাপার চার রিয়েকশন দেখে।তারপর রিমা নিজেদের সম্পর্কে কথা ভাবছে ।ওদেরটা যখন জানাজানি হবে তখন কি হবে বুঝতে পারছে না।
সায়মন রিমার দিকে তাকালো ।সায়মন মনে মনে ভাবছে রিমা নিশ্চয়ই ভয় পাচ্ছে ওদের সম্পর্ক নিয়ে ।কিন্তু সায়মন ভাবছে অন্য কিছু।”সাদাফ ভাইকে যদি বাড়ি থেকে বের করে দেয় সে ক্ষেত্রে সাইমনকে কি করবে?”
সামিহা বেগম একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ।তারপর বললেন ,”তোমার বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছে উনার উপরে ছেড়ে দাও ।আমরা আর এই সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলে কি করবো বলো ?যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে ।এখন কিভাবে বাড়ির ছেলেটাকে বাড়িতে ফেরানো যায় সেই চেষ্টাই করতে হবে।”
এদিকে রুমে বসে এখনো কথা বলছেন নুর ও সাদাফ।নুর ফোন রাখতে নারাজ ।সাদাফ বলছে রেস্ট নিতে কিন্তু নূর বলছে লাগবে না ।বারবার বলছে আপনি বাড়িতে আসেন বাড়িতে আসেন ।
সাদাফ বললো,”আচ্ছা ঠিক আছে শোন নূর ?”
নুর বলল ,”হুম ?”
সাদাফ বললো,”কালকে স্কুলে আসবি ।”
নূর বলল ,”কেন ?”
সাদাফ মনে মনে ভাবলো কি একটা মাথা মোটা মেয়ে বিয়ে করেছে।
তাই মেকি রাগ দেখিয়ে বলল ,”তোকে পড়াবো তাই। তোর কিছু জ্ঞানের দরকার সেই জ্ঞান দিব ।”
নুর বলল ,”কিসের জ্ঞান ?আপনি কি স্কুলে চাকরি নিয়েছেন যে আমাকে পড়াবেন?”
সাদাফ বলল ,”তোকে পড়ানোর জন্য আমার স্কুলে চাকরি নিতে হবে ?ভুলে যাস না তোকে বিয়ে করেছি স্বামী হই তোর।যখন তখন পড়াতে পারি ।মিসেস সাদাফ দেখতে চাই ।বিয়ের পর তোর চেহারা কেমন লাগে তাই দেখবো।”
নুর লজ্জা পেল।”মিসেস সাদাফ” কথাটি শুনে হৃদয়টা যেন পুলকিত হল ।দূল্ উঠলো যেমন বাতাসে দোলে ওঠে কোন কলমি লতা ফুল।
নুর ও ধীরে ধীরে বলে উঠল ,”আমিও দেখতে চাই ।”
সাদাফ বলল ,”কি ?”
নুর বলল ,”চাচাতো ভাই যখন স্বামী হয় তখন তাকে দেখতে কেমন লাগে সেটাই দেখতে চাই।”
সাদাফ মনে মনে বলল ,”সেটা তুই ছয় বছর ধরেই দেখছিস ।বিয়ে তো আর আজকে করিনি কোলে বসিয়ে কবুল বলিয়েছি।
আমি কি দুনিয়া প্রথম স্বামী যে কিনা তার বউ কে তার কোলে বসিয়ে কবুল বলেছিল ।”মনে মনে হাসলো সাদাফ।
তারপর বলল ,”আচ্ছা ঠিক আছে মাথামোটা কালকে স্কুলে চলে আসবি এখন রাখছি কালকে দেখা হবে কেমন?”
নূর সাথে সাথে বলল ,”কিন্তু আপনি এখন কোথায় যাবেন ?”
সাদাফ বলল ,”যাচ্ছি এক বন্ধুর বাড়িতে ।চিন্তা করিস না ।আগামী কালকে দেখা হলে সব বলব ।ঘুমিয়ে থাক রাখছি বাই।”
নূর ফোন কে*টে সাথে সাথে ফোনটা বুকে নিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো ।কেমন যেন লাগছে সদ্য বিবাহিত লাগছে নিজেকে ।মিসেস সাদাফ ভাবতেই নূর সারা ঘরে দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে আয়না সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ।এখনো লাল শাড়িটি পড়ে আছে নূর ।মিসেস সাদাফ লাগছে দেখতে ।খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখছছে নূর।
আচ্ছা কেমন হবে সেই সকালগুলো যে সকালগুলো ঘুম থেকে উঠেই নূর চোখ খুলে সাদাফ কে দেখবে ?ইশ আর কিছু ভাবতে পারল না নূর ।ল*জ্জায় সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল।
ধীরে ধীরে আর অস্পষ্ট সুরে গুনগুন করে আওড়ালো,” আমি এখন মিসেস সাদাফ।”
সাদাফ পার্কের বেঞ্চে বসেই আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল ,”তুই সব সময় মিসেস সাদাফ ছিলি নুর। ৬ বছর আগে যখন আমার কোলে বসে কবুল করেছিস তখনও মিসেস সাদাফ ছিলি ।
প্রথম যখন কথা বলা শিখেছিস কত শতবার তোকে কবুল বলিয়েছি তখনও তুই মিসেস সাদাফ ছিলি ।প্রথম যখন হাঁটতে শিখেছিস তোকে কোলে নিয়ে আমি এখানে সেখানে যেতাম কত শত কিছু বায়না ধরতি দেওয়ার আগে তোকে তিনবার করে কবুল বলাতাম।তুই তখনো মিসেস সাদাফ ছিলি।শুধু তুই বুঝতে পারিস নি নুর।”
রাতটা সাদাফ সোহান নামে একটি বন্ধুর বাড়িতে কাটিয়ে দিবে।অন্য কোন বন্ধুদের এখনো জানায়নি সোহানের সাথে বিদেশে লেখাপড়া করেছিল এবং সোহান সবকিছু জানে তাই সোহানের বাসায় থাকাটাই ভালো মনে করেছে সাদাফ ।
পরদিন থেকে একটি বাড়ি ভাড়া নিবে এভাবে অন্যের বাসায় থাকাটা সাদাফে ভালো লাগে না ।সাদাফ হোটেলে থাকতে চেয়েছিল কিন্তু সোহান বাধ্য করেছে সোহানের বাসায় আজ রাতটুকু আতিথেয়তা গ্রহণ করার জন্য।
সোহানদের বাসায় রাতে ডিনার শেষে ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছিল সোহান এবং সাদাফ ।আজকে বাসায় কেউ নেই সবাই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে এক সপ্তাহের জন্য আর তাই সাদাফ না করেনি যেহেতু বাড়ি খালি তাই থাকাই যায় ।
তবে শুধুমাত্র একদিনের জন্য ।
সোহান বলল ,”তাহলে কেমন বাড়ি খুজছিস বড় ছোট কেমন ধরনের বাড়ি খুঁজছিস?
বউ এসে মাঝেমধ্যে থাকতে পারবে এমন বাড়ি নাকি দুই বেডরুম ড্রইং ডাইনিং হলেই হবে?”
সাদাফ সোহানের দিকে তাকিয়ে বলল ,”দুই বেডরুমও বেশি হয়ে যায় বেডরুম দরকার একটা ।বাকি চার-পাঁচটা রুম থাকুক সমস্যা নেই যাতে বউ আসলে আমার বেডরুম ছাড়া অন্য কোথাও থাকতে না পারে ।”বলেই হেসে দিল সাদাফ।
“এক বউকে এই জীবনে কতবার বিয়ে করবি ?সামনেও তো বিয়ে হবে যখন সবাই মেনে নিবে তখন বিয়ে হবে ।আচ্ছা সাদাফ তুই বাড়ি থেকে বের হলি কেন ?এমন তো না যে তোর চাচার এটা একার বাড়ি ।”
সাদাফ সাথে সাথে সোহানের দিকে তাকিয়ে বলল,” আমার বা চাচার বলে কোনো কথা না চাচা আমার বাবার মত চাচা যখন বলেছে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে তাই বের হয়ে যাওয়াটা আমার কর্তব্য।
আমি জানি আমি অন্যায় করেছি আর আমার চাচা আমার বাবার মত তাই আমাকে শাস্তি দেওয়ার শতভাগ অধিকার ওনার আছে।
সবসময় সবকিছুতে সায়মনের আগে আমাকে প্রাধান্য দিয়েছে আমার ছোট বাবা ।তাই উনি আমাকে অধিকার নিয়ে একটি কথা বলেছে সেখানে যদি আমি বেয়াদবি করি তাহলে তো আমি ওনার ছেলে হওয়ার যোগ্য না।”
সোহান মুচকি হেসে বললো ,”বাবা খুব বাধ্য ছেলে দেখছি ।তাহলে একা একা বিয়েটা করলি কেন উনার অমতে ?উনার জন্য অপেক্ষা করতি একদিন না একদিন তো মেনেই নিতো।নুরের হাত তোর হাতে দিত সেটা তুই ও ভালো করেই জানিস।”
“হ্যাঁ জানি দিত কিন্তু আমার এটা সহ্য হচ্ছিল না নুর কেন জানবে না আমি ওর স্বামী ।ও সজ্ঞানে হোক বা অবচেতন মনেই হোক ও সব সময় জানবে আমি ওর স্বামী ।বাকি যার যা শাস্তি দেওয়ার আমাকে দিতে পারে পুরো দুনিয়া সাথে আমি বোঝা পড়ে করে নিব কিন্তু নূর এখন থেকে আমাকে নিজের স্বামী মানবে।”
পরদিন সকালের দিকে ধানমন্ডি এরিয়ার মধ্যে সুন্দর একটি বাসা দেখে ফেলল সাদাফ এবং অটবি থেকে কিছু সিম্পল ফার্নিচার এনে লোকজন দিয়ে সাজিয়ে ফেলল ।বেলা দুপুর ২ টার কাছাকাছি।
বাসায় মোটামুটি সব বন্ধুরা সাবা সোহান আরো দু’একজন বন্ধু-বান্ধব এসে বাসা গোছগাছ করে দিচ্ছে ।সাদাফ সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তৈরি হয়ে নিল ।বলল ,”তোরা সবাই বাসা গুছিয়ে রাখ আমি একটু নূরের স্কুলে যাব ।কাজ আছে আর আসার সময় তোদের সবার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসবো খাওয়া-দাওয়া করে তারপর যাবি।”
অনেকক্ষণ ধরেই স্কুলের গেটে অপেক্ষা করছে সাদাফ।নুরকে জানিয়ে দিয়েছিল স্কুলে আসতে ।আজ স্কুল থেকে পিক করবে নুরকে ।যেহেতু সাদাফ অফিস যাচ্ছেনা তাই ছোট বাবা এবং বাবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হবে আর বাসায় অন্য কারো সমস্যা নেই ।মাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে সাদাফ নূরকে নিয়ে একটু বাইরে বের হবে।
নওরিন আফরোজ এবং সামিহা বেগম জানে তাই বাসা তারা মেনটেইন করতে পারবে।
দূর থেকে সাদাফ দেখতে পেল দুই পাশে দুই বেনি ঝুলিয়ে হেলে দুলে হেঁটে আসছে নূর ।হাতে একটি পাইপ আইসক্রিম ।
সাদাফ মনে মনে হাসলো বিয়ে হয়ে গেছে গতকাল মেয়েটা আজকে রাস্তায় পাইপ আইসক্রিম খেতে খেতে আসছে ।অবশ্য গরম পড়েছে অনেক এজন্যই হয়তো ঠান্ডা আইসক্রিম খেতে খেতে আসছে।
নুর গেইট পার করেই দেখতে পেল সাদাফ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । নুর দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে বলল ,”আপনি কখন এসেছেন ?অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন আমার জন্য ?সরি আমি একটু আইসক্রিম খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম।”
বলেই সাদাফকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গাড়ি দরজা খুলে সামনে সিটে বসে পড়লো নূর ।তারপর বলল আমরা কোথায় যাব?”
সাদাফ বললো,”চল গেলেই দেখতে পারবি ।”
নুর বলল ,”কোথায় যাচ্ছি বলেন না ?”
সাদাফ বললো ,”তোর স্বামীর বাড়ি।”
“স্বামীর বাড়ি”কথাটা শুনেই নূর লজ্জায় লাল নীল হয়ে গেল ।তারপর কিছুক্ষণ পর বলল ,”আপনি বাড়ি কিনেছেন ?”
সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে বলল ,”বাড়ি কিনবো কেন ?ভাড়া নিয়েছি ।তোর কি সারা জীবন বাইরে থাকার ইচ্ছা নাকি? তোর বাবা যদি জানত তোর মত মেয়ে সারা জীবন স্বামী নিয়ে বাইরে থাকতে চায় আলাদা ,তাহলে আমাকে বের না করে তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিত।”
কথাটা শুনে নূরের মন খারাপ হয়ে গেল ।সাদাফ ভাইকে যে ফজলুর রহমান বের করে দিয়েছে তা নূর শুনেছে ।জানে তাই চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইল ।
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৪+৮৫
সাদাফ বুঝতে পারল নূরের মন খারাপ হয়েছে তাই নূরের মন ভালো করার জন্য বলল ,”আচ্ছা চল বাসায় চল বাসায় গিয়ে কি কি করব সেটা চিন্তা কর।
স্বামীর বাড়িতে আজকে প্রথম যাচ্ছিস ।বিবাহিত জীবনের প্রথম দিন ।কিভাবে সংসার করবি ভেবে দেখেছিস?”
