Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০২+১০৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০২+১০৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০২+১০৩
neelarahman

সাদাফ নুর কে নিয়ে বাড়ির গেটে এসেই নুরের দিকে তাকিয়ে বলল ,”বাসায় যেতে পারবি ?নাকি আম্মুকে ফোন দিব তোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ?”
নুর যেন একটু লজ্জাই পেল ।বললো ,” না আমি যেতে পারব ।”
কিন্তু এমন সময় বাসা থেকে বের হয়ে এলেন নওরিন আফরোজ ।উনি তো জানতেন সাদাফ আসবে তাই দরজার কাছাকাছি ছিলেন।

সাদাফ তাকিয়ে দেখলেন নওরিন আফরোজ দ্রুত পায়ে হেঁটে ওদের কাছে আসছে ।সাদাফ গাড়ি থেকে নেমে একটু এগিয়ে গিয়ে বলল ,”কি হয়েছে মা ?এভাবে আসছো কেনো ?”
নওরিন আফরোজ বললেন ,”দেখ না বাবা রাত কত হয়ে গেল তোর বাবা তো এখনও এলো না ।ছোট বাবাও আসেনি ।ফোনও ধরছেনা ।আমার তো খুব টেনশন হচ্ছে দেখবি একটু অফিসে ফোন করে কি হলো?”
সাদাফ ও মনে মনে ভেবেছিল অফিস থেকে এখনো বের হয়নি কেন ?তাই সাদাফ সাথে সাথে মোবাইল বের করে অফিসে ফোন লাগালো ।ফোন রিসিভ করলো ফারদিন।
ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই সাদাফ হ্যালো বলতেই ফারদিন বলল জি স্যার বলুন ।
সাদাফ জানতে চাইলো,”অফিসের কি অবস্থা ?বাবা এখনও অফিস থেকে বের হয়নি কেন ?”
ফারদিন বললো ,”কি হয়েছে কিভাবে যে বলি?”
সাদাফ বললো,” বলো কি হয়েছে?”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ফারদিন বললো,” কি হয়নি স্যার সেটাই জিজ্ঞেস করুন।” সাদাফ বলল ,”কি হয়নি বল।”
ফারদিন আমতা আমতা করে বলল ,” তাহলে কি হয়েছে সেটাই বলি ।স্যার আপনি দ্রুত অফিসে চলে আসেন যদি পারেন ।বড় স্যাররা তো মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে কিছুই বুঝতে পারছে না ।অবস্থা খুবই খারাপ ।ফোনে বলা যাবে না ।আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসেন স্যার ।”বলেই ফোন রেখে দিল।
সাদাফ বুঝতে পারল অফিসে হয়তো কোন ঝামেলা হয়েছে কিন্তু মাকে ও নুরকে বুঝতে না দিয়ে ফোনটি রেখে নওরিন আফরোজের দিকে তাকিয়ে বলল ,”মা নুরকে নিয়ে ভিতরে যাও ।নূরের শরীরটা ভালো না একটু জ্বর জ্বর ভাব ছিল ।বাসায় ওকে নিয়ে রেস্ট করতে দাও আর আমি অফিসে যেয়ে দেখছি চিন্তা করতে হবে না।”
নওরিন আফরোজ নুর এর দিকে তাকিয়ে দেখলেন আসলে চেহারাটা কেমন অসুস্থ অসুস্থ হয়ে গিয়েছে ।যেন মনে হচ্ছে রাজ্যের ব্যাথা ।কপাল কুঁচকে আছে ।কপালে হাত দিয়ে বলল ,”তোর কি হয়েছে রে মা এরকম লাগছে কেন চেহারাটা জ্বর এসেছিল?”

নূর বড় মার দিকে তাকিয়ে বলল ,”না আম্মু চলো ভিতরে যাই ।আমার ভালো লাগছে না একটু শুয়ে থাকব ।সাদাফ বুঝতে পারল নূরের ভীষণ খারাপ লাগছে কিন্তু এই মুহূর্তে অফিসে যেতে হবে তাই এদিকে আর সময় ব্যয় না করে বলল ,”তোমরা ভিতরে যাও আমি অফিসে গিয়ে তোমাকে ফোন দিয়ে জানাচ্ছি।”
২০ মিনিটের মধ্যে ড্রাইভ করে সাদাফ চলে আসলো অফিসে ।সাদাফ অফিসে প্রবেশ করা দুই তিন মিনিটের মধ্যে খবর হয়ে গিয়েছে সাদাফ এসেছে ।ফারদিন দৌড়ে দৌড়ে সাদাফের কেবিনে এসে হুমায়ূন রহমান ও ফজলুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”স্যার ছোট সাহেব এসেছে ।”

সাথে সাথে হুমায়ুন রহমানের মুখে একটু হাসি খেলে গেল যেন সব টেনশন এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল হুমায়ূন রহমানের। ফজলুর রহমান ও খুশি তবে চুপ করে রইলেন।
ফারদিন সাথে সাথে বলল ,”আমি আপনাদের জন্য কফি নিয়ে আসছি ।অনেকক্ষণ ধরে টেনশন করছেন আর স্যারের তো কফি না খেলে মাথায় বুদ্ধি খুলে না।”
বলেই তিন জনের জন্য কফি আনতে চলে গেল ফারদিন ।সাদাফ ধীরে ধীরে দরজার নব ঘুরিয়ে দরজা খুলে দেখল বাবা এবং বড় বাবা বসে আছে ।কেন যেন মনে হল কয়েক যুগ ধরে তাদের দেখেনা অথচ মাত্র তিন দিন হলো তাদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই।

সাদাফ ভিতরে এসেই ফজলুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বলল ,”কি হয়েছে তোমরা এখনো বাসায় যাও নি কেন ?বাসায় সবাই টেনসনে আছে তাই বাধ্য হয়ে আমাকে আসতে হল।
এখনো বসে আছো কেন কি হয়েছে ?কিছু বলবে অফিসের কোন ঝামেলা?”
হুমায়ূন রহমান কোন কথাই বলতে পারছেন না ।কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল ,”সব ব্লেন্ডার হয়ে গেছে ।কি করে কি হলো কিছুই বুঝলাম না ।শিপমেন্ট ক্যানসেল হয়েছে প্রোডাকশনে নাকি কি ফল্ট আছে ? কিন্তু আমাদের ডেটাবেস এর সাথে সে প্রোডাকশনের ডাটার কোন মিল নেই ।কে রাতারাতি চেঞ্জ করেছে কিছু বুঝতে পারছি না।

এদিকে বাইয়ার রা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দুদিনের মধ্যে যদি যথোপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারি সাথে সাথেই চুক্তি ও ক্যান্সেল করে দিবে ।চুক্তিটা যদি বাতিল করে দেয় তাহলে বিশাল অংকের জরিমানা দিতে হবে যেহেতু ফল্ট আমাদের দিক থেকে।
সাথে যোগ করলেন ফজলুর রহমান। বললেন ,”প্রোডাকশনের মিটিং অলরেডি আমি দেখেছি আধাঘন্টা পরে হবে তুই প্রোডাকশনের সবার সাথে কথা বল ।ইন্ডিভিজুয়ালি কথা বল আর প্রত্যেকটা ডেটা ভালো করে চেক কর ।হয়তো যা আমাদের চোখে পড়ছে না তা তোর চোখে পড়তে পারে ।যেভাবেই হোক ব্যাপারটা সলভ কর শুধু টাকার ব্যাপার না আমাদের সারা জীবনের রেপুটেশনের ব্যাপার।”
সাদাফ এক মিনিট ভেবে বলল ,”সবাইকে ডেকেছেন মিটিং এর জন্য ?”
হুমায়ুন রহমান বলল ,”হ্যাঁ শুধু একজন ছুটিতে আছে ।”
বলল ,”কে ছুটিতে আছে ?”
হুমায়ন রহমান বলল ,”আকাশ আহমেদ নামে একটি ছেলে তিন মাস হল জয়েন করেছিল ৩ /৪ দিন আগে প্রোডাকশন টিমে ওর পোস্টিং দেওয়া হয়েছে ।তবে ওর মা নাকি জরুরী বিভাগে ভর্তি তাই গতকাল থেকে ছুটিতে আছে।”

এমন সময় রুমে ঢুকলো ফারদিন ।ফারদিনের দিকে তাকিয়ে বলল ,”আকাশ আহমেদের বায়োডাটা যা যা কাগজপত্র আছে সবকিছু নিয়ে এসো ।ওর পার্সোনাল ডিটেলস যা যা জানোর সবকিছু নিয়ে এসো।”
আকাশ আহমেদ মনে মনে নামটা কয়েক বার আওড়ালো সাদাফ কেন যেন পরিচিত লাগছে আকাশ আহমেদ নামটা ।কে হতে পারে বুঝতে পারছে না কোথাও তো শুনেছেন নামটা।
এদিকে বাসায় আসতেই নূরের সত্যি সত্যি সারা শরীরে জ্বর চলে আসলো ।নওরিন আফরোজ ও সামিহা বেগম বললো ,”ভালো মেয়েটা গেল জ্বর কিভাবে আসলো ?”
নওরিন আফরোজ বলল ,”মনে হয় পিরিয়ড হয়েছে রে পেটে ব্যথা তলপেটে ব্যথা ।”আমি গরম পানির ছ্যাকা দিয়ে দিচ্ছি তুই পানি পট্টি দিয়ে দেওয়ার জন্য পানি নিয়ে আয়।
এদিকে রিমা এখনো জানেনা নুর বাসায় এসেছে নূরের শরীর অসুস্থ ।নূরের রুমে কাছে যেতে দেখতে পেল নুরের অবস্থা। দৌড়ে রুমে ঢুকতেই দেখল একজন মাথায় পানি পট্টি দিচ্ছে আরেকজন তলপেটে হটওয়াটার ব্যাগ ধরে রেখেছে।
রিমা সাথে সাথে দৌড়ে এসে বলল ,”কি হয়েছে মা ওর কি শরীর অসুস্থ জ্বর এসেছে ?ব্যথা করছে কোথাও ?এমন লাগছে কেন চেহারাটা এত মলিন?”

মিটিং রুমে বসে আছে সাদাফ । কিছুক্ষণ পর পর তাকাচ্ছে হুমায়ূন রহমান এবং ফজলুর রহমানের দিকে ।দুজন খুবই চিন্তিত দেখে বুঝা যাচ্ছে।
সাদাফ ফজলুর রহমান দিকে তাকিয়ে বলল ,”না হয় একটু বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও ।বাকিটুকু আমি দেখছি ।”ফজলুর রহমান বলল ,”না তুই একা কেন দেখবি আমরা একসাথে মিটিং শেষ করব।”
এদিকে ফজলুর রহমানের মাথা ব্যথা করছে ।ফারদিন কে ডেকে আরেক কাপ কফি চেয়ে পাঠালেন ।ফারদিন কফি নিয়ে আসলো সবার জন্যই। সাদাফ কফি খেতে খেতে আকাশের ফাইলটি দেখছিল ।কিছুক্ষণ আগে ফারদিন ফাইলটি দিয়ে গিয়েছে ।আকাশ আহমেদ কোথায় যেন নামটা শুনেছে কিন্তু অন্য কোন নাম না থাকায় চিনতে পারছেনা।

স্কুল কলেজ সাদাফের স্কুল কলেজেই তাই পরিচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু তারপরও কেন আকাশ আহমেদ কে চিনতে পারছে না সাদাফ।
এমন চেহারার কাউকে তো সাদাফ চিনত না।
প্রোডাকশন টিমের সবার সাথে কথা বলল সাদাফ।সাদাফের তেমন কিছু অদ্ভুত মনে হলো না ।সবার তথ্য অনুযায়ী সবার কাজ ঠিক আছে সবাই যার যার ফাইল জমা দিয়েছে সব জায়গায় সবকিছু ঠিক আছে কিন্তু গড়মিলটা হলো কোথায়।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এখনো পর্যন্ত কিছু সনাক্ত করা যায়নি ।অফিস আওয়ারে এমন কেউ কম্পিউটারের সামনে আসা-যাওয়া করেনি যা দেখে সন্দেহজনক মনে হবে হঠাৎ সাদাফের মনে হল অফিস আওয়ার বাদে অন্যান্য সময় গুলো সিসি ক্যামেরা চেক করা হোক তিনদিনের।
ফারদিন জানালো ,”স্যার একটু দেরি হবে ।যেহেতু তিনদিনের তাই একটু সময় লাগবে ঘন্টাখানেক সময় দেন কয়েকজন সিকিউরিটি দিয়ে চেক করাচ্ছি এক ঘন্টার মধ্যে আশা করি হয়ে যাবে।”
সাদাফ বলল ,”এন্ট্রান্স থেকে শুরু করে প্রোডাকশনের প্রত্যেকটা কম্পিউটারের কাছাকাছি কে কে গিয়েছে কার কার এক্সেস আছে সবকিছু চেক করবে।
আকাশ আহমেদের কোথায় কোথায় এক্সেস আছে সে কোথায় কোথায় যেতে পারে অফিস আওয়ার এর ভিতর এবং বাইরে প্রত্যেকটা ফুটেজ আমাকে এনে দিবে।”

মিটিং শেষ করে ঘন্টা খানেক আরও অপেক্ষা করতে হবে সিসি ফুটেজের জন্য তাই সাদাফ জোর করে ফজলুর রহমান এবং হুমায়ুন রহমানকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন ।বললো ,”বাসায় চলে যাও এই মুহূর্তে তোমাদের এখানে কোন কাজ নেই ।কি কি হচ্ছে আমি তোমাদের ফোনে ইনফর্ম করব এখানে থেকে চিন্তা করে কোন কাজ হবে না।
বরং বাসায় যাও তোমাদের জন্য বাসার সবাই চিন্তা করছে।”
ফজলুর রহমান ও হুমায়ুন রহমান আর কথা বাড়ালেন না ।যেহেতু মিটিং শেষ এই মুহূর্তে আর এখানে থেকে কোন লাভ হবে না বরং বাসায় গিয়ে একটু রেষ্ট করা যাক মাথা প্রচন্ড ব্যথা করছে।
এদিকে নুরের অবস্থা খুবই খারাপ ।জ্বর ১০২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে ।ব্যথায় কোকাচ্ছে মেয়েটি ।এখন যেন পানি মাথার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে ।নওরিন আফরোজ সামিহার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”সায়মন কে গাড়ি বের করতে বল ।হসপিটালে নিতে হবে ।অফিসে কাউকে কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই এই মুহূর্তে ।হসপিটাল নেওয়াটা জরুরি আমি মনে করছি।”

নুর ব্যথা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে কিন্তু লজ্জা হচ্ছে পিরিয়ডের ব্যথার জন্য হসপিটালে যাবে তাই বলছে থাক লাগবে না ।নওরিন আফরোজ বললো,”একবারে থা*প্পড় দিব লাগবে না মানে ?কতটুকু যন্ত্রণা হচ্ছে দুইদিন ধরে তুই যন্ত্রণা সহ্য করছিস এখন বলছিস লাগবেনা ?”
সামিহা তুই কথা শুনিস না তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করতে বল এক্ষুনি আমার মেয়েকে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।
সামিহা দৌড়ে দৌড়ে তাড়াতাড়ি সায়মন এর কাছে গিয়ে বলল ,”সাইমন তাড়াতাড়ি গাড়ি বের কর নুরকে হসপিটাল নিয়ে যেতে হবে ।”
সাইমন টেবিলে বসে পড়ছিল একটু আগে তো রিমার সাথে কথা বলছিল এরপর পরে মনোযোগ দিয়েছিল পড়ায়।অবাক হয়ে গেল ,”নূরকে হাসপাতাল নিতে হবে মানে বাসায় থেকে ও সায়মন কিছু জানে না ?অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ,”কি হয়েছে নূরের?”

“নুরের জ্বর এবং শরীর ব্যথা এত কিছু জানতে হবে না এক্ষুনি গাড়ি বের কর ।আর সাদাফ বা অন্য কাউকে কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই ।আমরা আগে হসপিটালে নিয়ে যাই দেখি তারপরে জানাবো ।”
বলে সামিহা বেগম নুরের সবকিছু গোছগাছ করতে গেলেন ।হসপিটালে আজকে রাতটা তো থাকতেই হবে।
এদিকে রিমা মাথার কাছে বসে বারবার পানি পট্টি দিচ্ছে ।নরিন আফরোজ কিছুক্ষণ পর পর হট ওয়াটার ব্যাগ চেঞ্জ করে তলপেটে চেপে ধরে রেখেছে ।নূর বলে বুঝাতে পারবে না কেমন লাগছে বারবার শুধু সাদাফের কথা মনে পড়ছে ।সাদাফ ভাইকে কি আর দেখতে পারবে না নুর?অসম্ভব ব্যথা বারবার ওর মন যেন ভয় শিহরিত হয়ে যাচ্ছে। আর শুধু সাদাফ ভাইকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে।

এদিকে সবাইকে বিদায় করে দিয়ে ফারদিন আর সাদাফ বসে সিসি ফুটেজ খেয়াল করছিল ।ঠিক এমন সময় একটি ফোন আসলো সাদাফের মোবাইলে ।সাদাফ ফোন ধরে হ্যালো বলতে ওপাশ থেকে বলে উঠলো সাজিদ বলছি মানে আকাশ আহমেদ বলছি।
সাজিত নামটা শুনতেই বুকের ভিতর ধক করে উঠলো সাদাফের ।
আকাশ আহমেদ আর সাজিদ তাহলে একজন ! সাদাফ অবাক হলেও অবাকের রেশ সাজিদকে বুঝতে দিল না ।কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল ,”কি চাই ?আমার অফিসে কেন জয়েন করেছিস ?তোর তো অবস্থা এমন না তুই কোন অফিসে চাকরি করতে হবে তোর?”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০০+১০১

সাজিদ হাসলো প্রাণ খুলে হাসলো ।মনে হয় অনেকদিন পর ।তারপর বলল ,”চাওয়া একটাই আগেও যে চাওয়া ছিল এখনো সেই চাওয়াই। আগে শুধু চাইতাম এখন ভয়ংকর ভাবে চাই।”
সাদাফের চোয়াল শক্ত হলো ।তারপর বলল ,”আগেও ফল ভোগ করেছিস এখনো ফল ভোগ করবি ।”
সাজিদ হাসতে হাসতে বলল ,”আগের বার ফল ভোগ করেছিলাম আমি এবার ফল তোর ভোগ করার পালা ।সব সময় আমি একাই কেন ভোগ করবো তুইও কর।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০৪+১০৫