Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৫
তানিয়া হুসাইন

বাংলাদেশ |
রোদ্দুর ছিল চড়া, আকাশ ছিল নির্মেঘ। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে প্রতিদিনকার মতোই চলছিলো জীবন।
এই দুপুরে আদ্রিয়ান তার অফিসের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং শেষে ফিরছিলো। অফিসের পাশে একটি প্রজেক্ট সাইট পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য সে বের হয়।
গাড়ি একটি মোড়ে পৌঁছাতেই হঠাৎ করে থেমে যায়, সামনে জ্যাম থাকার কারনে। অনেক গাড়ি একসাথে আটকে গেছে, হর্ন বাজছে একটানা। ড্রাইভার একটু এগিয়ে গিয়ে বলল,
স্যার, সামনে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে মনে হচ্ছে, লোকজন জটলা করেছে।

____আদ্রিয়ান জানালার দিকে তাকিয়ে কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না। খানিকটা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে গাড়ি থেকে নেমে আসে। গরমে তার কপালে ঘাম জমে উঠেছে। রাস্তার একপাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তার চোখ আটকে যায় কিছুটা দূরে।
___সে যাকে দেখে, তাকে দেখার পর তার মুখে বিস্ময়ের ছাপ খেলে যায়।
রাহি!
কিন্তু শুধু রাহি না, সে আরও কয়েকজন ছেলের সঙ্গে রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে পড়েছে।
কণ্ঠ চড়া, চোখে রাগ।
রাহির ফ্রেন্ডরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে কিন্তু রাহি থামার নামে নেই।
আদ্রিয়ান এগিয়ে এসে কাহিনি কি বোঝার চেষ্টা করে,
কিছু ছেলে তাকে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছিল,
___এটা নিয়েই ঝামেলা শুরু।
রাহি প্রতিবাদ করে,
মুখের ওপর কথা শুনিয়েছে এমনকি গালাগাল ও করে এ নিয়েই মানুষ জড়ো হয়ে যায় রাস্তায়।
চারপাশে ভিড় বাড়ছে, মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছে, কিছু মোবাইলে তুলছে।
আদ্রিয়ানের গলার নিচে কেমন একটা কাঁটা বিঁধে যায়।
এই দৃশ্য দেখে তার সাফার কথা মনে পড়ে যায়।

সাফা,
সেও ঠিক এমনই ছিল। অন্যায় দেখলে একচুল পিছিয়ে আসত না। প্রতিবাদ করত বুক ঠুকে। কারও ভয় পেত না।
আর সেই সাহসটাই সেই প্রতিবাদ করাটাই আজ তাকে পৃথিবী থেকে ছিটকে নিয়ে গেছে।
তার চোখ দুটো নিমিষেই ভার হয়ে ওঠে।
হঠাৎই একটা তীব্র বিতৃষ্ণা ভর করে ভেতরটায়।
শুধু সাফা না
তার ছোট বোনকেও সে হারিয়েছে।
সাফার এই অতিরিক্ত সাহসিকতার কারণেই সে সবকিছু হারিয়েছে।
না হলে আজকে তাদের জীবনটা কত সুন্দর হতো।
তার একটা সাজানো গোছানো সংসার থাকতো। তার ছোট বোনটাও তাদের কাছে থাকতো।
মা-বাবার এই কষ্ট সে আর চোখে দেখতে পারেনা।
এসব কিছু মনে হতেই আদ্রিয়ান রাগে ফেটে পড়ে।
দ্রুত এগিয়ে যায় রাহির দিকে।
জড়ো হয়ে থাকা মানুষদের সরিয়ে দিয়ে রাহিকে জোরে ধমক দেয়,
আর এই ছেলেগুলোকে সাবধান করে,পুলিশের ভয় দেখায়।
রাহিকে বলে গাড়িতে উঠতে।
রাহি তো অবাক। একদিকে ঝগড়া, অন্যদিকে হঠাৎ আদ্রিয়ানের উপস্থিতি, তার রাগ সব মিলে মুহূর্তটা বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।
চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে আদ্রিয়ানের দিকে।

___চল,
আদ্রিয়ান কড়া গলায় হুকুম দেয়।
রাহি একটু ইতস্তত করে, যেন কিছু বলতে যাবে। কিন্তু আদ্রিয়ানের চোখের ভাষা তাকে থামিয়ে দেয়।
বুঝে যায় এখন কিছু বললে হিতে বিপরীত হবে।
চুপচাপ গাড়িতে উঠে পড়ে রাহি।

গাড়ি এসে থামে বাড়ির সামনের গেটে।
আদ্রিয়ান চুপচাপ নেমে যায়, একবারও পিছনে তাকায় না।
রাহি পেছনে পেছনে ঢুকে পড়ে।
এই সময় আবির বাড়িতেই ছিল। এক্সিডেন্টের পর থেকে সে বেশিরভাগ কাজ বাসা থেকেই সামলায়।
সায়মা বেগম সোফায় বসে ছিলেন, এক কাপ চা হাতে।
রাহিকে এভাবে হঠাৎ দেখে চমকে উঠেন।

___এই সময়ে তুই?
তোর তো এখন কোচিং এ থাকার কথা!
সায়মা বেগম বলে।
আদ্রিয়ান তার কথা না শুনেই সরাসরি বলে ওঠে,
___ওকে বুঝিয়ে দাও। যদি এই বাড়িতে থাকতে চায়, তাহলে ভদ্রভাবে থাকতে শিখুক। রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছেলেদের সঙ্গে ঝগড়া করা, চিৎকার করা,এসব বরদাস্ত করব না আমি।
সায়মা বেগম অবাক হয়ে তাকান রাহির দিকে।
আবির একটু বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে,
তুই এমন করে বলছিস কেন, কী হয়েছে?
চিৎকারের আওয়াজ শুনে জান্নাত কোলে ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
আদ্রিয়ান এবার আর থামে না।
আমার বাড়িতে থাকতে হলে এসব ছাড়তে হবে।
একজনের অতিরিক্ত সাহসের কারণে আমি শুধু তাকে না, আমার ছোট বোনকেও হারিয়েছি!
আমি আর কাউকে হারাতে চাই না।
আর কারোর জন্য আমার পরিবারের ক্ষতি হলে আমি তাকে ছেড়ে দেবো না।
আদ্রিয়ানের গলা কাঁপে, চোখ লাল হয়ে ওঠে।

আর কিছু না বলে হাঁটতে থাকে রুমের দিকে।
সেই মুহূর্তে সায়মা বেগম বলে উঠেন,
তাহলে তোর মনে আছে, তুই তোর বোনকেও হারিয়েছিস?
আমি তো ভেবেছিলাম, তুই ভুলেই গেছিস।
একজনের শোকেই পাগল হয়ে ঘুরছিস।
তোর চোখে আজও যদি সেই কষ্টের ছায়া থাকে, তাহলে একটু হলেও বুঝতে শেখ তোর কাছের মানুষগুলোর কষ্ট ।
সাফাকে ভুলে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাব।
এভাবে জীবন চলে না।
প্রত্যেকটা মানুষকে সব কিছু বলে জীবনে আগে বাড়তে হয়।
জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।
আমাদেরও তো দায়মুক্ত করা উচিত তোর।
আদ্রিয়ান আর কোনো উত্তর দেয় না।
সে তার রুমে চলে যায়।
পেছনে রাহির চোখে জমে ওঠে এক চিলতে বিস্ময় আর ভয়।
এই প্রথমবারের মতো সে বুঝতে পেরেছে আদ্রিয়ানের এই রাগের পেছনে কতটা গভীর ক্ষত লুকিয়ে আছে।

ছয় মাস কেটে গেছে।
এই ছয় মাসে বদলে গেছে অনেক কিছু,
মেক্সিকোর আকাশ, ভীরের সাম্রাজ্যের নিয়ম, মানুষের মুখ, ক্ষমতার মাত্রা।
শুধু একটা জীবন বদলায়নি ইশায়ার।
তাকে ঘিরে পৃথিবী থেমে গেছে,
শুধু সময় তার উপর দিয়ে রোলার চাকার মতো বয়ে গেছে।
কিন্তু সে এখন আর আগের মতো নয়।
সে এখন ভীর আলভারেযের বন্দিনী রানী,
একটি খাঁচার পাখি, যে মুক্তির আশা না করে খাঁচায় তার নিজের ডানা সাজায়।
শুরুতে সে দম বন্ধ হয়ে আসা নিঃশ্বাসে প্রতিদিন কেঁদে কেঁদে বাঁচতো।
কিন্তু ধীরে ধীরে সে শিখে নিয়েছে, কান্নায় কিছু বদলায় না,
আর ভীরের মতো মানুষের সামনে কান্না দুর্বলতা, আর দুর্বলতা মানে শাস্তি।
সে এখন চুপ থাকে।
নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

সারাদিন তার একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকে তার ছোট্ট সাদা বিড়ালটা।
ভীর নিজেই ওটা এনে দিয়েছিল।
দিন কেটে যায় বিড়ালটার সাথে খেলা করে,
বই পড়ে, জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশ দেখে।
কিন্তু রাত, রাত হল তার সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু।
কারণ রাত হল ভীরের সময়,
দখলদারিত্বের সময়।
ভীরের চোখ সেই চোখ যেগুলো এখনো আগুনের মতো জ্বলে ওঠে যখন সে ইশায়াকে দেখে,
তার স্পর্শ, তার অধিকার, তার আদেশ সবকিছু নিয়ে সে ইশায়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তাকে আলতো করে ছোঁয় না কখনো,

সেই ছোঁয়ায় থাকে উন্মত্ততা, মালিকানা আর হিংস্র ভালোবাসা।
ভীর এখন আর আগের মতো বাইরে বাইরে পড়ে থাকে না কাজের জন্য।
আগে অফিস, মাফিয়া মিটিং, অ*স্ত্র, ডি*লিং,পাচা*র এইসব নিয়ে ডুবে থাকতো সে।
কিন্তু এখন কাজের মাঝেও ছুতোয় ছুতোয় ফিরে আসে।
তার চোখে ঘোরাফেরা করে ইশায়ার মুখ,
আর তার ভেতরের পাষাণ হৃদয় রক্তের বদলে চায় এই মেয়েকে।
কোন মিশনে গেলে পাগলাটে হয়ে যায় ভীর।
হিংস্রতা বেড়ে যায় তার মধ্যে, ১০ দিনের কাজ সে তিন দিনে শেষ করে ফেলে।
নিকো ডিয়েগো ভীরের এই পরিবর্তনের চিন্তিত।
তাদের কাজে সবসময় রিস্ক থাকে,
একটা ভুলের কারণে তাদের সাম্রাজ্যে ধস নামবে।
এর জন্য তাদেরকে প্রতিটা পা একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে হয়।
কিন্তু ভীর দিন দিন অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে।
দূরে থাকলে তো আলাদা কথা, মেক্সিকো থাকাকালীন সময়গুলোতে সে দিনে দুইবার, কখনো চারবার এসে দাঁড়ায় তার দরজায়।

মাঝরাতে উঠে বিছানায় হাত দিয়ে দেখে, ইশায়া পাশেই আছে কিনা।
সে জানেনা দিন দিন সে এরকম কেন হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু যত সময় যাচ্ছে ইশায়া যেন তার রক্তের সাথে মিশে যাচ্ছে।
কিন্তু কোন কাজে ইশায়ার প্রত্যাখ্যানে সে তাকে ছাড়ে না।
ভীর সে যেনো দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছে।
এমন এক প্রেম, যা ছায়ার মতো আঁধারে জন্ম নেয়,
জলাভূমির মতো গভীর আর অন্ধকার।

___আর ইশায়া।
সে এখন বুঝে গেছে, পালানোর উপায় নেই,
চিৎকার করে লাভ নেই,
ভীর তার সমস্ত নিঃশ্বাসে, সমস্ত গন্ধে, সমস্ত জোয়ারে ঢুকে গেছে।
তবু সে নিজেকে সামলে নিয়েছে,
সে জানে, দুর্বল হলে ভীর তার মনটাও দখল করে ফেলবে।
তাই সে এখন বেঁচে থাকে, শুধু বেঁচে থাকার জন্য।
আর রাত নামলে চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করে,
যেন এক নির্জন গভীর বৃষ্টির রাতে বজ্রপাতের আগে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে,
কারণ সে জানে ভীর আসবে।
আর সে তাকে নিতে আসবে
নিয়ম করে, প্রতিরাতের মতো,
তার মতো করে।

এই ছয় মাসে রাজভীর একেবারে সাইলেন্ট কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক এক অভিযান শুরু করে।
সে জানে জয় করতে হলে আগে শিকারের রক্তচিহ্ন পড়ে থাকতে হয় মাটিতে, তারপর আসে থাবা।
ভীর প্রথম তিন মাসে মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ার ভিত আরো মজবুত করে।
স্থানীয় পুলিশ, কিছু উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিবিদ, এমনকি সীমান্ত কর্মকর্তাদেরও সে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগে শুধু মাফিয়া ছিল, এখন সিস্টেমের ভিতরেও ঢুকে পড়ে।
তার গোপন সংস্থা তৈরি হয় এই সময়েই শুধু বিশ্বস্ত, প্রশিক্ষিত, নীরব ঘাতকদের নিয়ে।
ড্রাগ থেকে অ*স্ত্র, হ্যাকিং এবং ভীর বুঝে গেছে, কেবল ড্রা*গে চলবে না।
সে একটি গোপন ডার্ক ওয়েব হ্যাকিং গ্রুপ গড়ে তোলে যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোপন তথ্য বের করে এনে তাকে পাস করে।
এই ইনফো দিয়েই সে চাপে ফেলে আফ্রিকার কিছু ছোট অ*স্ত্র ডিলিং গ্রুপকে।
একটা ডিলের মাধ্যমে সে ঘানা ও নাইজেরিয়ার দুইটি অ*স্ত্র চালান নিজের হাতে নেয়।
তবে পুরো দেশ নয়, এসব দেশে তার এখন শুধু নেটওয়ার্ক ছড়ানোর কাজ চলছে।
চতুর্থ ও পঞ্চম মাসে সে টার্গেট করে পানামা ও হন্ডুরাস এগুলো দক্ষিণ আমেরিকার ড্রা*গ ট্রানজিট হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভীর এখানে কাউকে খু*ন করে দখল নেয় না, বরং ডলার ঢেলে দেয়।
ডিল করে তার ড্রা*গ যাবে, লাভ তাদেরও হবে।
তবে মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে তার হাতে।

___এর মাঝে একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক মেক্সিকোতে ভীরের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করছিল।
সে হঠাৎ একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়।
মিডিয়া স্তব্ধ।
আর তখন থেকেই ভীরের নাম কেউ প্রকাশ্যে উচ্চারণ করে না।
ছয় মাসের মধ্যে সে গোপনে তিনটি অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলে, প্রতি মাসে কোটি কোটি ডলার ট্রান্সফার করে।
সুইজারল্যান্ডে তার নিজের নামে নয়, তিনটা ভুয়া কোম্পানির নামে রেজিস্টার্ড হয় নতুন ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম।
এটাই হবে পরবর্তী ধাপে তার লিগাল ফ্রন্ট।
আর দুবাই ও হংকং-এ সে একেকটা ছোট ব্যবসা শুরু করে যা মূলত মানি লন্ডা*রিং কভার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
অন্ধকার রাতের মতোই তার উপস্থিতি নীরব, কিন্তু কাঁপন ধরানো।
রাজভীর আলভারেয।
একটা নাম না, ভয়ংকর এক ছায়া।

সে হাসে না, সে ঘোষণা দেয় আমার পথ ছেড়ে দাও, নইলে এই পথ থাকলেও তুমি থকবে না।
মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পানামা, হন্ডুরাস,চারদিকে তার শাসন।
অফিসের কাচের ঘর থেকে গুলির শব্দে ভেসে আসে।
সাংবাদিক, নিখোঁজ হয় নেতা।
বন্দরে কেউ চোখ তুলে তাকায় না, কারণ সবাই জানে ভীর যা চায়, সেটাই নিয়ম।
সে কারও সঙ্গে যুদ্ধ করে না, সে যুদ্ধই।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৪

সিস্টেমের ভিতরে তার শিকড়। বাইরে সে হিংস্র, ভিতরে ঠাণ্ডা বিষ।
ছয় মাসে নয়টা দেশের নেটওয়ার্ক তার হাতে।
সে আইন লেখে না, সে আইন হয়ে গেছে।
জগৎ জানে, এখন একটা মাত্র সিংহাসন আছে
মাফিয়াদের রাজ্য, যার রাজা একজনই রাজভীর আলভারেয।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৬