Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ২১

সে খলনায়ক পর্ব ২১

সে খলনায়ক পর্ব ২১
ফারহানা সানিয়াত

আশ্রমে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া তার সামনে দাঁড়ানো একজন লাল পোশাক পরা ডেলিভারি বয় ,
__ কোথায় সাইন করব ভাইয়া?
__ এই যে আপু এই লেখাটার নিচে।
সাদা কাগজে সারি সারি নামের নিচে ডেলিভারি বয় সাইন করার জায়গাটা দেখিয়ে দেয় প্রাণপ্রিয়াকে।
প্রাণপ্রিয়া দ্রুত হাতে সাইন করে সৌজন্যে মুলক হেসে সাদা কাগজ আর কলম ডেলিভারি বয়ের দিকে বাড়িয়ে দেয় ।

__ থ্যাংক ইউ আপু, কাগজটা হাতে নেয় ডেলিভারি বয় এরপর কালো রঙের বিশাল আকারের একটা বক্স প্রাণপ্রিয়ার হাতে ধরিয়ে চলে যায়।
প্রাণপ্রিয়া ডেলিভারি বয়ের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে এরপর নিজের হাতের বক্সের দিকে তাকায়, তার কৌতুহল দৃষ্টি বক্সটার ওপর, একটা ড্রেসের জন্য এত বড় বক্স!! যাইহোক ‌সে ঘুরে আশ্রমের ভেতর যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।
আর ভাবতে থাকে কালকের কথা,
সুফিয়া বলেছিলেন জামার ব্যাপারটা সে দেখবে আর সে অল্প টাকায় খুব ভালো জামা কিনে দিতে পারবেন। তার কথা শুনে প্রথম সেলিনা টাকা দিতে চাইলেও প্রাণপ্রিয়া দ্রুত ঘর থেকে তার ছবি আর্ট করার জন্য যা টাকা পেয়েছিল সেগুলো এনে সুফিয়ার হাতে দিয়েছিল আর বলেছিল আপনার যা পছন্দ হবে আমাকে কিনে দিবেন, সুফিয়া স্বচ্ছ হেসে প্রাণপ্রিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্রমের ঠিকানা নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে আজ আপাতত তার অল্প টাকা দিয়ে এত বড় বক্সে জামা এটা অবাক করার বিষয় ছিল,,

টেবিলের উপর কালো রঙের বক্সের দিকে আশ্রমের সবার কৌতূহল ভরা দৃষ্টি,, প্রাণপ্রিয়া বক্সে লাগানো কসটিপগুলো একটা একটা করে ছুটিয়ে নিজেও কৌতুহল নিয়ে বক্সটার এদিক ওদিক দেখে খুলে। তবে খুলতেই তার চক্ষু চড়ক গাছ সাথে হাত ও থেমে যায়,,কারণ বক্সের ভেতর সাদা রংয়ের ড্রেস যেটা তার কল্পনার বাইরে ছিল ,এখানে শুধু ড্রেস বললে ভুল হবে সাথে ছিল ম্যাচিং জুতো আর জুয়েলারি,,
__ এএএটা আআমার না ভুল এড্রেসে এসে এসব!!! বিস্মিত উচুকন্ঠ প্রাণপ্রিয়ার।

__ স্যার আপনার কথামতো আশ্রমে গিফট পৌঁছে গেছে,
পকেটে হাত গুঁজে জানলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দামিয়ান হালকা ঘাড় ঘুড়িয়ে এক নজর নিলয় কে দেখে,, good now you can go about your work,
নিলয় হালকা মাথা নত করে ,, জি স্যার, অতঃপর নিঃশব্দ পায়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
নিলয় যেতে ই দামিয়ানের ঠোঁটে কোণে সূক্ষ্ম হাসি দেখা মেলে।
আবরার ম্যানশনের আজকের পার্টি ছিল বিশাল আয়োজন যেখানে ঢাকার অনেক বড় বড় বিজনেসম্যান আর তাদের ছেলেমেয়েরা আসবে। আর ওই আশ্রমের আশ্রিতা তাদের মধ্যে ছিল অতি সামান্য গরিব অসহায় একটা মেয়ে, তার থেকে কি ধরনের বিনোদন সারা নিতে পারে তা স্পষ্ট ছিল।
সে হাসে,, অবশ্যই এই বিনোদন তৃপ্তিদায়ক হত যদি সে এমনটা ভাবতো, কিন্তু ভেবেছে সারা তাই তার বিনোদন নেওয়ার পথ সে আটকে দেবে এবং দিয়েছো ও।কথাগুলো ভেবে দামিয়ান তার পাশে ছোট একটা বক্সের দিকে তাকায় যেটা যাওয়ার কথা ছিল আশ্রমে, নিলয়ের মাধ্যমে তার দাওয়া গিফট বক্সের সাথে পরিবর্তন করে দিয়েছে, বক্সটির মধ্যে কি থাকতে পারে অনুমান করা কঠিন নয় কারন এর খবর সে কাল ই নিয়েছিল।

বেলা গুড়িয়ে সন্ধ্যা, চারপাশে অন্ধকার নামছে, আজকে দিনের সময়টা যেন চোখে পলকে কেটে গেলো। তবে আশ্রমের বিষ্ময় আর কৌতূহল এখনো কাটেনি।আপাতত বসার ঘরে সকলে প্রানপ্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে নতুন ড্রেস পরে তাকে কেমন দেখায় দেখার জন্য।
সবার এমন অপেক্ষা করার মাঝে আশ্রমের সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ইভান, তার পরনে কালো রঙের কোট প্যান্ট, কালো জুতো ,কালো দামী ঘড়ি সব সময় কপালে পরে থাকা চুল একদম পারফেক্ট ভাবে জেল দিয়ে সেট করে রাখা, এই প্রথম তাকে বয়সের তুলনায় বড় লাগছে আর আগের থেকে বেশ হ্যান্ডসাম ও।
সকলে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে আসার কারো পায়ের শব্দ শুনে একসাথে সেদিকে ঘুরে তাকাতে ই দেখে ইভান যাকে আজ বেশ সুন্দর আর অন্যরকম লাগছে,,
ইভান এভাবে সবাইকে তাকাতে দেখে কিছুটা ভরকে মেকি হেসে মাথা চুলকায়।

__ এএভাবে কি দেখছো সবাই?
___ আমাকে কি অদ্ভুত দেখাচ্ছে? ইতস্ত কন্ঠে প্রাণপ্রিয়া সিঁড়ি দিয়ে হিল জুতা ঠকঠক শব্দে নামতে নামতে জিজ্ঞেস করে ওঠে,,
বসার ঘরে সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে বলে দূরত্ব ইভানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে সিঁড়ি দিকে তাকায়,
ইভান সবার কান্ড দেখে কপাল কুঁচকে ফেলে এদের আবার কি হলো আজ একসাথে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,, কথাটা মনে মনে ভেবে সে নিজে ও সিঁড়ির দিকে তাকায় তবে!!!
সাদা ড্রেস পড়া প্রাণপ্রিয়াকে দেখে মনে হচ্ছে আজ আকাশের যেন চাঁদ জমিনে নেমে এসেছে, ড্রেস বলতে রেডিমেড ওয়েস্টার্ন শাড়ি যা তার শরীরের গঠনের সাথে একদম পারফেক্ট। পাতলা নেটের শাড়িতে সিলভার সিকোয়েন্স দিয়ে কাচ করা, আর ওয়েস্টার্ন বলে শরীরের কিছু কিছু জায়গা দৃশ্যমান তবে খারাপ দেখার মতো না।
প্রাণপ্রিয়া কিছুটা এলোমেলো পায়ে শাড়ি হাত দিয়ে এদিক ওদিক টানতে টানতে সবার সামনে এসে দাঁড়ায়,,
__ আমার খুব অস্বস্তি লাগছে আমার কি ড্রেসটা খুলে ফেলা উচিত।
সোফায় বসা সকলের মুখে মুগ্ধতা প্রাণপ্রিয়া আসলেই চাঁদ যেমনটা আকাশে একটি মাত্র চাঁদ থাকে সে ছিল পূর্বাঞ্চলের একটি মাত্র চাঁদ,
সেলিনা অত্যন্ত খুশি মুখে বসা থেকে উঠে প্রাণপ্রিয়ার সামনে এসে দু কাঁধে হাত রেখেন এরপর ভালো করে দেখে নিজের চোখ থেকে আঙ্গুল দিয়ে কাজল নিয়ে প্রাণপ্রিয়ার কানের নিচে দিয়ে বলেন,,

__ একদমই না তোমাকে খুব খুব সুন্দর লাগছে কারো নজর না লাগুক ।
প্রাণপ্রিয়া পিটপিট করে আন্টি মুখের দিকে তাকিয়ে হালকা মাথা কাত করে সোফায় বসে রহমান আঙ্কেলকের দিকেও তাকায় যিনি স্বচ্ছ হাসি নিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।
প্রাণপ্রিয়া লজ্জা লাল হয়ে যায় আশ্রমে থাকা কিশোর কিশোরীরা ও প্রাণপ্রিয়া সৌন্দর্য নিয়ে নানান প্রশংসা করা শুরু করে,,
এদিকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ইভানের অবস্থা বেহাল, সে জানতো প্রাণপ্রিয়া সুফিয়া আন্টিকে দিয়ে নতুন জামা অর্ডার করেছে এমনটা তার জন্য প্রথম ছিল তাই খুশি মনে তাকে ফোন করে বলেছিল। সাথে আজকে পার্টিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ও বলেছিল কিন্তু ইভান জানতো না যে আজ তাকে একেবারে মারার জন্য প্লান করেছে এই মেয়ে, আর সে আজ সত্যিই মারা গেছে এই মেয়ের প্রেমের,, উফফ এটা যন্ত্রণাদায়ক তবে ভালো লাগার।
প্রাণপ্রিয়া সবার থেকে সরে চোখে মুখে লজ্জা নিয়ে ইভানের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়,
__ আমাদের যাওয়া উচিত তাই না,
ইভান মুগ্ধভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে হালকা মাথা নাড়ায়, হু,প্রাণপ্রিয়া মৃদু হেসে কানের পিছে চুল গুজে।
সোফায় বসা রহমানের গম্ভীর কন্ঠ,, প্রিয়ার খেয়াল রাখবে ইভান আজকের জন্য প্রিয়ার দায়িত্ব তোমার।
ইভান প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে চমৎকার হাসে কথাটা শুনে এরপর বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে বের হয়ে যায় আবরার ম্যানসনের উদ্দেশ্য,,
রহমান তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুখটা কালো করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে কথাটা যে সে না চাইতে ও বলেছেন।

ঝকমক পূর্ণ রাজকীয় আবরার ম্যানসন আজ সাদা গোলাপ দিয়ে সাদা আর মরিচা বাতি দিয়ে ডেকোরেশন করা হয়েছে, বাড়ির বিশাল গার্ডেন থেকে ধরে বাড়ির ভেতর বাহির সম্পূর্ণ। বাড়ির এমন পরিবেশের রূপ দেখে পার্টিতে আসা গেস্টরা মনোমুগ্ধ। তারমধ্যে ড্রেস কোড কালো সব কিছু মিলিয়ে বড়লোকের বিলাস বহুল চোখে পড়ার মতো পার্টি আয়োজন করা হয়েছে। প্রাণপ্রিয়া আপাতত এসব দেখে হা তার চেনাজানা রাজকীয় বাড়িটাকে সাদা ফুলের রাজ্য মনে হচ্ছে তবে পার্টিতে আসা গেস্টদের মাঝে নিজেকে অদ্ভুত লাগছে প্রথমত এমন পরিবেশ এমন জায়গায় আসতে পারা তার কল্পনার বাইরে ছিল আর দ্বিতীয়ত এটা খুব অদ্ভুত যে ‌ সবার কালো ড্রেসের মাঝে সে শুধু একা সাদা পড়ে আছে।
__ আমাকে সবার মাঝে অদ্ভুত লাগছে ইভান।
গার্ডেনে হাঁটার মাঝে পাশে থাকা ইভানকে বলে ওঠে প্রানপ্রিয়া।
ইভানের দৃষ্টি আশেপাশে ছিল তবে প্রাণপ্রিয়ার কথা শুনে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, কেনো কি হয়েছে ?
প্রাণপ্রিয়া মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারপাশে দেখে, সবার থেকে আমি আলাদা এটা অদ্ভুত,,
ইভান দাড়িয়ে যায় সাথে প্রাণপ্রিয়াও সে নিজেকে মানানসই মনে করছে না এখানে।
__ সবার থেকে আলাদা মেয়েটা সবার থেকে সুন্দর
স্লো ভয়েজে ইভান আস্তে করে বলে ওঠে।
প্রাণপ্রিয়া কপাল কুঁচকায়, এটা কি ফ্লার্টিং করার সময় ইভান? ইভান দাঁত বের করে হাসে,,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট উল্টে অন্য দিকে ঘুরে তবে হঠাৎ মাথায় আসে সারা বলেছিল পার্টিতে এসে প্রথম তার সাথে দেখা করতে।

গেস্ট হাউসে কাঁচের দেয়ালের সামনে হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দামিয়ান, দৃষ্টি বাহিরের গোলাপ ফুল বাগানের দিকে। কাঁচের দেয়াল আর লাইটিংয়ের জন্য বাহিরে ভেতরে দুই দিকে ই স্পষ্ট, দামিয়ান হাতের গ্লাসে ঠোঁট ছোঁয়ায়,,
পিছন থেকে সারা দামিয়ানের বাহু জরিয়ে ধরে মাথা ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করে,,
__ তুমি এনগেজমেন্টের পর কি আবার রাশিয়া চলে যাবে?দামিয়ান গ্লাস ঠোঁটের সামনে থেকে সরায়,
__ হুম।
__ বাংলাদেশ আবার কবে আসবে ?
__ যখন আসার কারন পাবো,
সারা মাথা তুলে দামিয়ানের বরাবর হয়ে তার কালো কোটের উপর হাত রেখে তা ধীরে ধীরে কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে,,
__ তোমার কাছে আমি কি কারণ না,
দামিয়ান বাহির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সারার দিকে তাকিয়ে গ্লাসে ফের ঠোঁট ছোঁয়ায়,
__ আমাকে খুশি কর এরপর ভেবে দেখব,

সারা মৃদু হাসে কিভাবে খুশি করব তোমাকে।
দামিয়ান বাঁকা হাসে, সারার দিকে দৃষ্টি রেখে হাতের গ্লাস পাশের একটা টেবিলে রাখে,__সব মেয়েরা যানে ছেলেদের কিভাবে খুশি করতে হয়।
সারা ঠোঁট কামড়ে হাসে তবে মনে মনে সে নার্ভাস আধুনিক আজকালকার মেয়ে হলেও কোনো ছেলের স্পর্শে যায়নি।
দামিয়ান সারার কোমর জড়িয়ে নিজের আরো কাছে টেনে ফিসফিস করে,, আমার সাথে রাত্রি যাপন কর।
সরার ঢোক গিলে তার শরীর কেঁপে ওঠে তবে মুখের হাসি বজায় রাখে।

দামিয়ানের দৃষ্টি এখনো স্থির তবে সে হুট করে সারার গলা চেপে ধরে,সারা আতকে উঠে , কিক করছো দামিয়ান,
দামিয়ান হালকা শব্দ করে হাসে এরপর গলা চেপে ধরে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে গলায় স্লাইট করা শুরু করে।
সারা সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে এটা বেশ অস্বস্তিকর তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে বুকের উঠানামা বেড়ে গেছে।
দামিয়ান ঘাড় কাত করে লালসা দৃষ্টিতে গলায় স্লাইট করতে করতে কানের নিচে হাত নিয়ে যায় তবে সারার জায়গায় চোখে ভেসে ওই আশ্রিতা যাকে সে ঠিক এভাবেই স্পর্শ করেছিল, সাথে সাথে দামিয়ানের চোখ সরু হয় ভেতর থেকে এবার উত্তেজনা দিগুন তাকে কাছে পাওয়ার কামনা, যেটা ছিল বিরক্তিকর তবে তার আপাতত মন কন্ট্রোলের বাহিরে তাই সারাকে ওই আশ্রিতা ভেবে নিজের একদম কাছে এনে গলায় হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়ায়।এতে সারা শক্ত করে দামিয়ানের কোট আঁকড়ে ধরে তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া উপক্রম মনে মনে ভেবে ওঠে এসব দ্রুত শেষ হোক।

সে খলনায়ক পর্ব ২০

দামিয়ান সারার গলায় হালকা হালকা ঠোঁটের স্পর্শ করার মাঝে কি মনে করে হঠাৎ কাচের দেয়ালের বাহিরের দিকে তাকায়,,
যেখানে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া যার পুরো মুখ লাল হয়ে গরম হয়ে গেছে কারন সে এসব দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না।

সে খলনায়ক পর্ব ২২