সে খলনায়ক পর্ব ২৩
ফারহানা সানিয়াত
হুমায়ুন আর কল্পনার মাঝে বেশ অনেকক্ষণ যাবৎ ধরে নানান বিষয় নিয়ে কথা চলছে।তাদের পাশে সারা, আহনাফ, দামিয়ান ও ছিল। দামিয়ান শীতল দৃষ্টিতে টেবিলের ওপর রাখা ড্রিংকসের গ্লাস তার তিন আঙ্গুল দ্বারা ঘুরাচ্ছে হুমায়ুন আর কল্পনার প্রতিটা কথায় তার মনোযোগ, তবে কেনো?দামিয়ান তীর্যক হেসে চোখ তুলে সামনে তাকায়,
গেস্টদের মাঝ দিয়ে ইভান এক হাতে খাবারের প্লেট আরেক হাতে কোল্ড ড্রিংক নিয়ে হাসিমুখে কোথাও একটা যাচ্ছে।
দামিয়ান হালকা ঘাড় কাত করে ইভানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
প্রাণপ্রিয়া গালে হাত দিয়ে পার্টির গেস্টদের দেখছে, সবার মুখে হাসি খুশির ছাপ। কথাবার্তা চালচলনে বিলাসিতা, এক এক জন ছিল উচ্চ পরিবারের , আর সে! সে তাদের মাঝে একজন খালি চোখে না দেখার মত মেয়ে। প্রাণপ্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের পড়া ড্রেসটার দিকে তাকায় আর কিছুক্ষণ আগের সারার বলা কথা ভাবে,,
আসলেই তো তার মত মেয়ে যদি এমন ড্রেসাপে থাকে যে কেউ তাকে ধনী ভাববে এটা তো ভুল কিছু না।
কিঞ্চিৎ নিজের উপর হেসে উঠে সে মনে পড়ে সকালে যখন সে নিজেও এই দামি ড্রেসটা দেখে অবাক হয়েছিল, বিশ্বাস ই করতে পারছিল না তার দেওয়া টাকায় এমন একটা ড্রেস পাবে। তাই সিওর হওয়ার জন্য সুফিয়াকে ফোন দিলে সে ব্যস্ত কন্ঠে বলেছিল যা পেয়েছ চুপচাপ পড়ে নেও, কিন্তু যতই দামি ড্রেস জুতো আর জুয়েলারি পরুক তার অবস্থান কখনই পরিবর্তন হবে না।
প্রাণপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে, মনের ভেতর এখ চাপা কষ্ট চলে আসে তবে হঠাৎ মুখের সামনে কেউ সাদা গোলাপ ধরে।
__ শুনেছি সাদা গোলাপ কে শান্তি একতা এবং শুদ্ধতার প্রতীক বলা হয় এটা কি সত্যি?
প্রাণপ্রিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে চোখ তুলে তাকায়, ইভান দাড়িয়ে ঠোঁটে স্বচ্ছ হাসি তার । সে চঞ্চল ভঙ্গিতে চেয়ার টেনে বসে, আমি আরো শুনেছি নতুন প্রেম বা প্রেম শুরু করার আগে ভালোবাসার মানুষকে সাদা গোলাপ দেওয়া উচিত এটাও কি সত্যি?
প্রাণপ্রিয়া চোখ সরিয়ে টেবিলের উপর দেখে,
খাবার রাখা মানে ইভান এসেছে ভাবনার মাঝে সে টেরও পায়নি ।
ইভান ঘাড় কাত করে,, কিরে!!
প্রাণপ্রিয়া কিছুটা ইতস্ত হয় ,,আআমি কি করে বলবো ।
ইভানের ঠোঁট কামড়ে হাসে ,, তুই নিজেই তো একটা সাদা গোলাপ তোর ব্যাপারে তোর থেকে ভালো কে জানবে।
প্রানপ্রিয়া গোল গোল চোখে ফের ইভানের দিকে তাকায়,
ইভান প্রাণপ্রিয়ার সামনে গোলাপটা রাখে আজ পুরো বাগানে শুধু একটা সাদা গোলাপ ফুটেছে।
অন্যদিকে,
যেটা চাইলে ও আজ আড়াল হতে পাড়বে না। এর আকর্ষন ছিল ভিন্ন,, তাকে সবাই পেতে চাইলে ও তার অসহায়ত্বে উপভোগ শুধু বাগানের মালিক করবে, দামিয়ানের গ্লাস ঘোরানোর হাত থেমে যায় সে দূরে টেবিলে বসা ইভান আর প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ক্রূর হাসে
আজকের পার্টি যে কারণে আয়োজন করা হয়েছে হুমায়ুন কিছুক্ষণ আগে এনাউন্স করে দিয়েছেন। তাই সবার দৃষ্টি ক্যামেরা এখন দামিয়ান আর সারার দিকে গেস্টরা দুজনকে কংগ্রাচুলেশন জানাচ্ছে ।
আহানাফ এক কোনায় দাঁড়িয়ে সে হাতে ড্রিংকসের গ্লাস নিয়ে সামনের নিউ কাপলকে দেখছে। অনেকটা মাতাল সে ,কিছুটা ঘোলা ঘোলা দৃষ্টিতে দেখছে। তবে ভেতরের কষ্ট ছিল স্পষ্ট, নিজের উপর উপহাস করে হাসে ,, জেনে বুঝে কাটার ওপর পা রাখলে তো ব্যথা করবেই তবে যত দ্রুত সম্ভব যেভাবেই হোক কাটা বের করতে হবে ,, , অবশ্যই হবে, অবশ্যই,
আহানাফ দৃষ্টি সারার দিকে রেখে হাতে গ্লাসের ড্রিংকস এক ঢোকে খেয়ে ফেলে অতঃপর কোনমতো হেলে দুলে বাহিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই কারো সাথে ধাক্কা,
ওওহ সরি! সরি! সরি! মেয়েলী কন্ঠ,
আহানাফ মাতাল হওয়ার কারণে হালকা মাথা ঝাঁকায় কার সাথে ধাক্কা লেগেছে তার!!
প্রানপ্রিয়া সামনে থাকা আহানাফকে বারবার সরি বলেছে ইসস!!আজকে তার সাথে কি হচ্ছে এসব !!
আহানাফ কপাল গুটিয়ে ঘোলা দৃষ্টিতে এতটুকু বুঝতে পাড়ে সামনে একটি মেয়ে যে সাদা রঙের ড্রেস পড়া তবে… সাদা… ড্রেস……এ…টা !!! মাতাল আহানাফ এক আঙুল তুলে কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করে কিন্তু আপাতত তার সবকিছু ঘুরছে তাই ফের মাথা ঝাঁকায়,,
Whatever যাওয়া উচিত আমার মনে মনে বলে আহনাফ অনবরত সরি বলা প্রাণপ্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নিজের মত হেলতে দুলতে চলে যায়।
প্রাণপ্রিয়া থামে, সে ঢোক গিলে তার চোখে মুখে কিছুটা ভীত ভাব কারন ধাক্কাটা তার অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটার জন্য লেগেছে এর মানে দোষটা ও তার। সে ঘুরে আহানাফের যাওয়ার পানে তাকায় ভাগ্যের কিছু বলে নি।
প্রানপ্রিয়া পুনরায় সামনের দিকে হাটা ধরে, সে আপাতত একা সাথে ইভান নেই, কিছুক্ষণ আগে ছিল কিন্তু মিসেস কল্পনা এসে হঠাৎ ইভানকে নিয়ে চলে যায়।
প্রাণপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে,,,
ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সারা আর দামিয়ানের ফটোশুট চলছে,, আশেপাশে গেস্টদের মুখে দুজনের প্রশংসা এতে হুমায়ুন আবরার আর মিস্টার চৌধুরী দুজনেই খুশি অবশ্যই তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সারা দামিয়ান কে ধরে পারফেক্ট কাপলদের মত ছবি তুলছে কিন্তু দামিয়ানের কাছে এসব বিরক্তিকর মুখে কোনরকম প্রতিক্রিয়া না থাকলেও এত ক্যামেরা ছবি তোলা পছন্দ হচ্ছে না তাই হাত দিয়ে ইশারা করে থামার জন্য,,
__ আমার ইম্পর্টেন্ট কল করতে হবে,, বলে গটগট পায়ে দামিয়ান প্রস্থান ত্যাগ করে।
সারা দামিয়ানের যাওয়ার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকে অতঃপর আবার চোখ ঘুরিয়ে নিজের মত ছবি তোলা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া হাটঁতে হাঁটতে আবরার ম্যানশনের সুইমিং পুলের দিকটায় চলে এসেছে,, এই দিকটা একদম নিরিবিলি চারপাশে লাইটিং করা সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজানো কিছু চেয়ার টেবিল আর সবথেকে সুন্দর সুইমিং পুলের নীল পানি যা লাইটিং এর কারনে জ্বলজ্বল করছে।প্রাণপ্রিয়া মুগ্ধ নয়নে জ্বলজ্বল করা পানির দিকে তাকিয়ে পাশের একটা টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। তার হাতের ইভানের দেওয়া সাদা গোলাপ টা পাশে রেখে বুকে হাত গুঁজে।
দামিয়ান বিরক্তি মুখে পড়নের কোট খুলতে খুলতে পার্টি থেকে বের হয় নিরিবিলি পরিবেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে,, এত মানুষ তার কখনোই পছন্দ না শুধু বাবার মন রাখার জন্য সহ্য করছে। সে নিজেও হাঁটতে হাঁটতে সুইমিং পুলের দিকটায় চলে আসে আর এসে ই
চোখে পড়ে সুইমিং পুলের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণপ্রিয়া যে টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
দামিয়ানের কপালে ভাঁজ পড়ে সে আসা করি নি এই মেয়ে এখানে থাকবে, কিন্তু এটা তার বিরক্তি দূর করে বিনোদন উপভোগ করার জন্য ভালো ছিল।
দামিয়ানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে সে অবশ্যই উপভোগ করবে ধীর পায়ে পা বাড়ায় প্রাণপ্রিয়ার দিকে সে।
এদিকে প্রাণপ্রিয়ার পানির দিকে মনোযোগ গভীর ছিল তাই তার দিকে কেউ আসছে বুঝতে না পারলেও দামিয়ান কাছে এসে যখন তার হেলান দেওয়া টেবিলের উপর শব্দ করে হাতের কোট টা রাখে, সে চমকে ঘুরে প্রথম টেবিলের ওপর কারো কালো রঙের কোট দেখতে পায় এরপর চোখ তুলে উপরে তাকাতে ই চোখাচোখি হয় দামিয়ানের সাথে।
দামিয়ানের দৃষ্টি শান্ত তবে প্রাণপ্রিয়া দ্রুত চোখ সরিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় ভেতরটা কেঁপে উঠেছে তার এই লোকটার এখানে কেনো!!
দামিয়ান প্রানপ্রিয়ার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আস্তে আস্তে তার দিকে পা বাড়ায়,
__ একটা অসহায় সাদা গোলাপ, ভাড়ি কন্ঠ দামিয়ানের।প্রাণপ্রিয়া ঢোক গিলে।
দামিয়ান থামে।
__ অসহায় গোলাপটা কি তোমার?
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে, কম্পিত দৃষ্টি তার এলোমেলো। সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে এক পা পিছিয়ে যায়।
দামিয়ান মৃদু হাসে, এটা হয়তো তোমার না ফেলে দেওয়া উচিত আমার তাই না।
প্রাণপ্রিয়া অস্থিরতা আর ভয়ের জন্য দামিয়ান কিসের বা কোন গোলাপের কথা বলছে বুঝতে পারছিল না ।কিন্তু ফেলে দেওয়ার কথা শুনে চোখ তুলে তাকাতেই দেখে,
দামিয়ান ইভানের দেওয়া সাদা গোলাপ টা টেবিলের উপর থেকে হাতে তুলে নিচ্ছে।
__ এ…টা আমার! অস্থির কন্ঠ প্রাণপ্রিয়ার।
দামিয়ান গোলাপটা হাতে নিয়ে ক্রূর হাসে।
__ ওহহ তাহলে এটা কি তোমার চাই ?
__ হ্যাঁ অবশ্যই,
__ but I don’t like this rose, দামিয়ান গোলাপটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বলে।
প্রানপ্রিয়া কপাল কুঁচকে মাথা নত করে,, আমার গোলাপ আমাকে দিন।
দামিয়ান চোখ তুলে তাকায়,, কাঁদো তাহলে দেব,
প্রাণপ্রিয়া দামিয়ানের এরূপ কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। মানে!
দামিয়ান ঠোঁটে হাসি নিয়ে টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়, আমার কথা স্পষ্ট ছিল দ্বিতীয়বার একই কথা বলার থেকে আমি এটা ফেলে দেওয়া উচিত মনে করব।
প্রাণপ্রিয়া হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ঠোঁট কামড়ে ধরে লোকটা যে শুধু শুধু তার সাথে এমন করছে বিনোদন পাওয়ার জন্য বুঝতে তার বাকি নেই ।
প্রাণপ্রিয়া তার সাহস সঞ্চয় করে বলে ওঠে,,
__ আমি জানি না কেনো আপনি আমাকে সহ্য করতে পারেনা কিন্তু শুধু শুধু ,, বাকি কথা বলার আগে দামিয়ান গোলাপটা ছুড়ে মারে সুইমিং পুলে।
প্রাণপ্রিয়া হতভম্ব সে দ্রুত সুইমিংপুলে পড়া গোলাপটার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যায়,, জ্বলজ্বল করা নীল পানিতে ইভানের দেওয়া সাদা গোলাপটা ভাসছে। গোলাপটা ছিল খুবই সামান্য কিন্তু এটা তার বন্ধু দিয়েছিল তাই,,,
__ কেন ফেললেন আপনি আমার গোলাপ। প্রাণপ্রিয়ার মুখে স্পষ্ট ক্রোধ,
__ তোমার গোলাপটা হয়তো প্রয়োজন ছিল না তাই, ভাবলেশহীন কন্ঠ দামিয়ানে
__ আমি বলেছি আপনাকে এমন কিছু, আপনার কাছে আমার গোলাপ পছন্দ না হলে আমাকে দিয়ে দিবেন আমিও তো আপনার পছন্দ না এর মানে কি আপনি আমাকে ফেলে দিবেন,
প্রাণপ্রিয়ার কথা শুনে দামিয়ান কিছুটা শব্দ করে হেসে ওঠে,, তুমি ভয় পাচ্ছো না আমাকে, এটা আমার পছন্দ হচ্ছে না তবে তোমার কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে বলে দামিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে প্রাণপ্রিয়ার কাছে এগিয়ে যায়।
প্রাণপ্রিয়া নিজ জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে দামিয়ানের চোখে চোখ তার যদিও ভয়ে তার কাধ কাঁপছিল।
দামিয়ান বাঁকা হাসে আর আকম্মিক প্রাণপ্রিয়াকে সুইমিংপুল দিকে ধাক্কা দিতে ই,, প্রাণপ্রিয়া আতকে চোখ বন্ধ করে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার দিয়ে ওঠে,,
দামিয়ানের দৃষ্টি শান্ত,
__ তোমার ভয়, অস্থিরতা ,ছটফট আমাকে আনন্দ দেয় প্রাণপ্রিয়া আর আমি এটা উপভোগ করতে চাই আর করব ও ।
প্রাণপ্রিয়া পানির উপর ঝুলছে সে পড়ে নি আতঙ্কিত হয়ে দু চোখ খুলে, দামিয়ান তার এক হাত ধরে আছে তার ভয়ে চোখ দিয়ে জল এসে পড়ে,
__ এমনটা কিভাবে বলতে পারেন আপনি,
দামিয়ান হাসে, যেভাবে আমি ভেবেছি।
প্রাণপ্রিয় চোখের জল এবার অনবরত পড়া শুরু করে,
__ আপনি এমনটা সবার জন্য ভাবেন ,
দামিয়ান ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে না সূচক মাথা নাড়ায় ,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে সে চোখ বন্ধ করে আবার খুলে,
__ তাহলে আমি কেনো?
__ কারণ এটা তুমি যে আমাকে প্রথম অনুভব করিয়েছ এমন কিছু থেকেও বিনোদন পাওয়া যায়।
দামিয়ানের উত্তর ছিল শান্ত এবং শুষ্ক। তার সুর প্রাণপ্রিয়াকে আরও করুণ করে তুলেছিল সে যে একজন অসহায় আশ্রিতা এটা স্পষ্ট।
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়াকে এক ঝটকা সোজা করে দাঁড়া করিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরতেই প্রাণপ্রিয়া ভয়ে দ্রুত মাথা নত করে দূরে সরে যেতে চায় কিন্তু পিছে সুইমিং পুলের কারণে আটকা পড়ে।
দামিয়ান বাঁকা হাসে,
সে তার এক হাত দিয়ে প্রাণপ্রিয়ার সামনে চুল আলতো করে কানে গুঁজে দেয়,
__ কিন্তু তোমার কান্না সব থেকে তৃপ্তিদায়ক,,
প্রাণপ্রিয়া হাত মুষ্টিবদ্ধ করে,,
__ আমার দেখে এমন এক নারী যাকে কাঁদলে সব থেকে সুন্দর লাগে।
প্রাণপ্রিয়া এরার চোখ বন্ধ করে নেয় সে একজন ভয়ংকর নিষ্ঠুর নির্দয়ের সাথে অবশ্যই পাগল ও আর এটা সে নিশ্চিত।
অন্ধকার আকাশে আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে, রাত বাড়ার সাথে সাথে পার্টির রূপ বদলে গেছে সব গেস্টরা এখন গার্ডেনে লাউড মিউজিক ডান্স আর এক প্রান্তে কিছু ছেলেমেয়েরা মদ্যপান করছে। আজকাল ধনীদের পার্টিতে মদ্যপান না হলে যেন পার্টি মনে হয় না তাদের। গার্ডেনের আরেক প্রান্তে মুরুব্বী গেস্টরা বাড়ির সদস্য তারা আছেন আর ইভান তাদের মাঝে বসা মিসেস কল্পনা তাকে জোর করে বসিয়ে রেখেছেন কারণ তার একদমই পছন্দ না ওই আশ্রমের মেয়ে প্রাণপ্রিয়ার সাথে ছেলের মেলামেশা।
ইভান বিরক্তি দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকায় নানান বাহানা খুঁজতে থাকে এখান থেকে যাওয়া জন্য আর তৎক্ষণাৎ চোখ পড়ে মেনগেটের দিকে
প্রাণপ্রিয়া দৌড়ে চলে যাচ্ছে।
ইভান দ্রুত বাসা থেকে ওঠে, এই মেয়ের আবার কি হলো,
পাশ থেকে মিসেস কল্পনা ছেলেকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে বলেন,,
সে খলনায়ক পর্ব ২২
__ কোথায় যাচ্ছ এখানে বস?
ইভান তার মায়ের দিকে এক নজর তাকায় যেতে হবে মম বলে ই দ্রুত পায়ে হাটা ধরে।
প্রাণপ্রিয়া গেট দিয়ে বের হয়ে এক হাত দিয়ে নিজের চোখের জল মুছে। তার আজ একটা ছোটবেলার ভাবনা ভেঙ্গে গেলো যে সব বড়লোকদের মন ও বড় হয় কিন্তু এটা তার ভুল ভাবনা ছিল আসলে কিছু বড়লোকদের মন বড় হবে কি তাদের অত্যাধিক ধন সম্পদের কারণে মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়। এতটাই বিকৃতি হয়ে যায় যে তারা বিনোদন হিসেবে নিজের মতই মাটিতে গড়া মানুষদের বেছে নেয়,
পিছন থেকে ইভান,,
__ প্রিয়া! এই প্রিয়া! দাঁড়া,
