Home স্নিগ্ধবিষ স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৫৬

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৫৬

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৫৬
সানজিদা আক্তার মুন্নী

মধ্যরাতের ঘড়ির কাঁটাটা থমকে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক অভিশপ্ত ক্ষণে। ছুরিটা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে বসে আছে নাজহা নিজের ডান হাতের মুঠোয়। তার হাতের প্রতিটা শিরা টানটান হয়ে আছে, প্রতিটা পেশি প্রস্তুত হচ্ছে এক চূড়ান্ত আঘাতের জন্য। স্থির হয়ে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তৌসিরের শিয়রে বসে আছে। তৌসিরের চওড়া বুক ছন্দের মতো ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে, প্রতিটা নিঃশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসছে এক নিশ্চিন্ত, তৃপ্তির ভারী শ্বাস। ওর মুখে লেগে আছে এক নিশ্ছিদ্র প্রশান্তির ছাপ, মনে হচ্ছে পৃথিবীর কোনো ভয় বা শঙ্কাই বুঝি ছুঁতে পারেনি তাকে। ঘুমন্ত তৌসিরের দিকে তাকিয়ে আছে নাজহা ওর চোখের মণি স্থির, পলকহীন। ওর ভেতরে এখন আর কোনো রক্তমাংসের মানবী বেঁচে নেই। ওর ভেতরে মানবিকতা, মায়া, কোমলতা কিংবা অনুশোচনার শেষ বিন্দুটুকুও কর্পূরের মতো উবে গেছে বাতাসে। তার বুকের ভেতর যে নারীটি একসময় ভালোবাসতে জানত, কাঁদতে জানত, ক্ষমা করতে জানত, সেই নারীটি দাফন হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু এক বিকারগ্রস্ত নারী, যার মস্তিষ্কে প্রতিশোধপাগল পিশাচিনীর একচ্ছত্র রাজত্ব চলছে। এখন ওর বুকের গহিনে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আক্রোশের লাভা গলিত আগ্নেয়গিরির মতো উপচে পড়েছে। আর সেই উত্তাপ তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে রূপান্তরিত করেছে এক উন্মাদ নারীতে। নামহীন এক বৈপরীত্য ওর ভেতরে দাউদাউ আগুন, অথচ বাইরে বরফের মতো স্থির, ঠান্ডা।

হাতের মুঠো আরও শক্ত হয় আসে নাজহার। ছুরির বাঁট এত জোরে সে চেপে ধরে যে, চাপের চোটে আঙুলের গিঁটগুলো রক্তশূন্য হয়ে সাদাটে আকার ধারণ করে। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, দাঁতে দাঁত চেপে ধরে সে এমনভাবে, যে দাঁতগুলো গুঁড়ো হয়ে গেলেও তার কোনো পরোয়া নেই। বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ঘৃণা সে একবিন্দুতে এনে জড়ো করে হাতে থাকা ছুরির ধারালো ফলায়। তারপর বাতাস চিরে সজোরে ছুরিটা নামিয়ে আনে তৌসিরের চওড়া বুকের ঠিক মাঝবরাবর। তারপর ‘চপ’ করে বসিয়ে দেয় ছুরিটা তৌসিরের বুকে। এতে অন্ধকার ঘরটায় তীক্ষ্ণ, বীভৎস একটা শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। চামড়া, মাংস আর পাঁজরের হাড়ের বাধা নিমেষেই পেরিয়ে ফলাটা গেঁথে যায় তৌসিরের বুকের গভীরে, আর সঙ্গে সঙ্গে ফিনকি দিয়ে ছিটকে আসে গা-গরম করা টকটকে লাল রক্ত। সেই উষ্ণ রক্তের ছিটে এসে লাগে নাজহার মুখে, গালে, কপালে কিন্তু এতে তার চোখের পলক পর্যন্ত কাঁপে না। আকস্মিক ও তীব্র মরণযন্ত্রণায় ঘুমন্ত তৌসিরের শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যায়, তারপর প্রবল এক ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে ওঠে সে। তার বুক চিরে বেরিয়ে আসে আহত পশুর মতো এক পশলা অমানুষিক, কর্কশ গোঙানি। তৌসিরের এই গোঙানির শব্দে ঘরটাও হয়তো রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।

যন্ত্রণায় বিকৃত মুখ নিয়ে ঝটকা মেরে চোখ খোলে নেয় তৌসির । প্রথম কয়েক সেকেন্ডের ঘোলাটে দৃষ্টি ধীরে ধীরে স্থির হতেই সে দেখে, তার বুকের ঠিক ওপরে সাক্ষাৎ আজরাইলের মতো ঝুঁকে আছে নাজহা। নাজহার কালচে সবুজ চোখে জ্বলছে উন্মাদনার লেলিহান দাবানল, আর সেই আগুনের আলোয় তৌসিরের চেহারায় প্রথমবারের মতো খেলে যায় এক অচেনা অনুভূতি। চিনতে পারে সে নাজহার এই মুখ, কিন্তু চিনতে পারে না এই হিংস্র চোখের হিংস্রতা। তবে তৌসিরের চোখে মৃত্যুর কোনো আতঙ্ক নেই, নেই প্রাণভিক্ষার সামান্যতম আকুতি, নেই কোনো বিস্ময় কিংবা ক্রোধও। বরং নাজহা কে অবাক করে দিয়ে তার রক্তে ভেজা কালচে ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে গা-শিরশিরে এক তৃপ্তির হাসি। মনে হয় এই হাসিটাই তার জীবনের শেষ স্বস্তি। বুকের অসহ্য কষ্ট চেপে, রক্তে মেখে আসা ভাঙা আর ঘড়ঘড়ে গলায় তৌসির ফিসফিস করে বলে,
“মারবি? মার। আমারে মাইরা ফেল। বাইচা থাকার ইচ্ছা ছিল বহুত এই দুনিয়া তয়রাজ করে খাওয়ারও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পারলাম না বাঁচতে।”

তৌসিরের বলা প্রতিটি শব্দ গলার কাছে আটকে আসা রক্তের সাথে মিশে বেরিয়ে আসে। নাজহার ভেতরে এতক্ষণ যেটুকু মনুষ্যত্বের ক্ষীণ আভাস টিকে ছিল, সেটাও পলকে ছাই হয়ে যায়। তার চোখের দৃষ্টি হয়ে ওঠে আহত পশুর চেয়েও হিংস্র, আরও অপ্রকৃতিস্থ, আরও পৈশাচিক। তৌসিরের রক্তরাঙা চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে হিসহিসে, সাপের মতো তীক্ষ্ণ কণ্ঠে নাজহা ফুঁসে ওঠে,
“আপনাকে মরতেই হতো! আমার হাতে আপনার মৃত্যু এটাই নিয়তি!”

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই এক হ্যাঁচকা টানে তৌসিরের বুক থেকে ছুরিটা টেনে তোলে নেয় নাজহা। মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার সময় ছুরির ফলায় লেগে থাকা রক্ত আর মাংসের টুকরো ছিটকে পড়ে চারদিকে। বাতাসের অভাবে তৌসিরের শরীরটা আরেকবার খিল ধরে কেঁপে ওঠে, সে হাঁপাতে হাঁপাতে জোরে একটা বাতাস টেনে নেয় ক্ষতবিক্ষত ফুসফুসে। সেই শ্বাসের সাথে সাথে বুকের ফাঁক দিয়ে শোঁ শোঁ করে বেরিয়ে আসে রক্তের সাথে মিশে যাওয়া বাতাসের শব্দ। এরপর নাজহা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় পৃথিবীর সমস্ত নিয়মের শিকল। তার আর কোনো হিতাহিত জ্ঞান হুঁশ অবশিষ্ট নেই। তার ভেতরে এখন আর কোনো মানুষ নেই, আছে শুধু এক রক্তপিপাসু, প্রতিশোধান্ধ অপদেবতা। তৌসিরের রক্তাক্ত বুক লক্ষ্য করে সে বদ্ধ উন্মাদের মতো একের পর এক কোপ বসাতে শুরু করে। ফ্যাঁত ফ্যাঁত ফ্যাঁত করে সে তৌসিরের বুকে কুপাতে শুরু করে। এই ছুরি বসায়,তো এই তোলে। তৌসিরের পাপিষ্ঠ ক্ষতবিক্ষত, ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া বুক চিরে গলগল করে বেরিয়ে আসে গাঢ় রক্তের উষ্ণ স্রোত। বাতাসের সাথে ঘন হয়ে মিশে যায় কাঁচা রক্তের উৎকট, ধাতব গন্ধ। সেই উষ্ণ, লাল তরলে ভিজে একাকার হয়ে যায় তৌসিরের গলা, পেট, কোমর আর বিছানার ধবধবে সাদা বালিশ-চাদর। ধবধবে চাদরটা ক্রমেই রূপ নেয় এক রক্তাক্ত মানচিত্রে। এক, দুই, তিন পরপর গুনে গুনে বারোবার ইস্পাতের ফলাটা তৌসিরের বুকে আমূল বসিয়ে দেয় নাজহা। প্রতিটা কোপের সাথে সাথে সে কবর দেয় তৌসিরের সাথে কাটানো সময়গুলো কে।

কিন্তু এত পৈশাচিক, এত প্রাণঘাতী আঘাত পাওয়ার পরও তৌসিরের বেহায়া প্রাণ এই ক্ষতবিক্ষত শরীর ছেড়ে যেতে চায় না। পরপর বারোবার ছুরির আঘাতে বিদ্ধ হওয়ার পরও তৌসিরের বেহায়া জানটা আঁকড়ে থাকে তার পাপবিদ্ধ দেহকে। মৃত্যুর একেবারে অন্ধকার, অতল খাদের কিনারায় ঝুলেও তৌসির হঠাৎ শব্দ করে ওঠে। সে হাসে! রক্তে ভেজা গলা দিয়ে হু হু করে হেসে ওঠে সে। রক্তমাখা বীভৎস মুখ, তৌসির অবর্ণনীয় মৃত্যুযন্ত্রণা আর পৈশাচিক হাসি দিয়ে নিজের সবচেয়ে প্রিয়, নাজহার কালচে সবুজ নয়না জোড়ায় শেষবারের মতো তাকিয়ে বলে ওঠে,
“বারোটা কোপ খাওয়ার পরও এই নাদান জান শরীর ছাড়তে চায় না। দেখলি তো নাজহা বাঁইচা থাকার কত আক্ষেপ আমার!”

কথাগুলো শেষ হতেই তৌসিরের শরীরের ভেতরের পুরো কাঠামো ভেতর থেকে ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যায়। মুখ বেয়ে কুলি কুলি করে রক্ত বেরিয়ে আসতে শুরু করে। প্রতিটা কাশির ঝাঁকুনির সাথে সাথে নাক আর মুখ দিয়ে কালচে রক্তের জমাট ধারা গলগল করে গড়িয়ে পড়ে বিছানায়, চিবুক বেয়ে নামে গলায়, ভিজিয়ে দেয় বুকের লোমশ চামড়াকে আরও গাঢ় লালে। প্রতিটি কাশির সাথে তার শরীরটা ঝাঁকুনি খাচ্ছে, আর মনে হচ্ছে কেউ হাত দিয়ে তাকে ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
তবে নাজহার রক্তমাখা হাত এখনো থামে না। প্রতিশোধের অন্ধ নেশায় সে এখন পুরোপুরি মাতাল, পুরোপুরি বিভোর। এবার তেরো নম্বর কোপটা সে আর তৌসিরের মাংসপিণ্ডে পরিণত হওয়া বুকে বসায় না। নাজহা রক্তাক্ত ইস্পাতের ফলাটা সোজা মাথার ওপরে তুলে আনে, সর্বশক্তিতে সজোরে বসিয়ে দেয় তৌসিরের টান টান হয়ে থাকা গলার প্রধান শিরায়।

আর সাথে সাথে তৌসিরের গলা হতে ফিনকি দিয়ে শেষবারের মতো ফোয়ারার মতো রক্ত ছিটকে ওঠে, ঘরের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায় সেই লাল প্রস্রবণ। ব্যস, সব শেষ। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তৌসিরের শরীর তীব্র খিঁচুনিতে কেঁপে ওঠে, আঙুলগুলো বাতাসে কিছু একটা আঁকড়ে ধরতে চায় শূন্যে, চোখদুটো ধীরে ধীরে উল্টে যায় কোটরে, তারপর সব স্থির হয়ে পড়ে। একদম স্থির। ঘরের মৌনতা ফিরে আসে, কিন্তু এই মৌনতা আগের মৌনতা নয় এই মৌনতার ভেতরে এখন বাস করছে শুধুই মৃত্যু।
মেয়র তৌসির শিকদারের দম্ভে ভরা প্রাণপাখি চিরতরের জন্য শান্ত হয়ে যায়। তার অঢেল ক্ষমতা, তার আকাশছোঁয়া দম্ভ, তার পাপিষ্ঠ জীবনের সমস্ত হিসাব-নিকাশ এক বীভৎস, রক্তপিপাসু অন্তিম পরিণতিতে এসে শেষ হয় এই বদ্ধ ঘরের চার দেয়ালের মাঝে। যে দেয়ালগুলো এতদিন তার ক্ষমতার সাক্ষী ছিল, আজ সেগুলোই হয়ে উঠল তার নির্মম পতনের শব্দহীণ দর্শক। হয়তো মৃত্যু তার কাম্যই ছিল, হয়তো ভেতরে ভেতরে সে নিজেও এক অবসান খুঁজছিল কিন্তু এতটা ভয়াবহ তাকে এই পৃথিবী ছাড়তে হবে, সেটা সে নিজেও কখনো কল্পনা করেনি।
রাতের এই জমাট অন্ধকার পেরিয়ে কাল সকালের প্রথম সূর্যের আলো ফুটতেই খবরের কাগজের প্রথম পাতায় হয়তো মোটা, কালো অক্ষরে ছাপা হবে এক সত্য,”

‘সিলেটের মেয়র তৌসির শিকদার মধ্যরাতে নিজের স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।’
ঘরের ভেতর নিশ্চুপতা নেমে আসে। এই নীরবতা কানে বাজে, বুকে চাপ ধরায়, শ্বাসনালীকে শক্ত মুঠোয় চেপে ধরে। নাজহা একবার তৌসিরের নিথর দেহের দিকে তাকায়। কিন্তু তার চোখের পাতা নড়ে না, পলকও পড়ে না। পরক্ষণেই সে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় নিজের দুই হাতের দিকে। এই হাত দুটো দিয়ে তৌসির কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে তৌসিরের বুকে মাথা রেখে সে নিশ্চিন্তে ঘুমাত। তার এই আঙুলগুলো তৌসিরের ঘন কালো চুলে বিলি কেটে আদর মেখেছে কত রাতে। আজ সেই হাত দুটিই তৌসিরের রক্তে ভেজা, টকটকে লাল হয়ে গেছে। ওর থরথর করে কাঁপতে থাকা হাতের নখের ফাঁকে জমে আছে শুকিয়ে আসা রক্তের কালচে রেখা। হাতের তালুর রেখাগুলো বদলে একাকার হয়ে গেছে। হাতের তালুর কুসংস্কারি ভাগ্যরেখা, জীবনরেখা কিংবা প্রেমরেখা সব মুছে যায় এক গাঢ় লাল প্রলেপের নিচে। নাজহা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ঠিক কী ঘটে গেল এইমাত্র। ওর জন্য বোধহয় সময় থমকে দাঁড়িয়েছে কোনো এক বেনামী বিন্দুতে। বাইরে ঝড় উঠেছে আর ঝড়ের গর্জন আর জানালার কাচে আছড়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা জানান দিচ্ছে যে পৃথিবী এখনো সচল, সময় এখনো বহমান। শুধু এই ঘরটাই নিঝুম ঘরের ভেতরের মানুষ দুজনই স্থির একজন চিরতরে, আরেকজন কে জানে কতক্ষণের জন্য।

কিছুক্ষণ একদৃষ্টে চেয়ে থাকে নাজহা তৌসিরের রক্তাক্ত লাশের দিকে। তৌসিরের নিথর দেহের মুখটা স্থির, চোখ দুটি আধখোলা, শেষ সময়ে হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিল সে, কিন্তু পারেনি। ঠোঁটের কোণে জমে আছে শুকিয়ে আসা রক্তের ক্ষীণ রেখা। গলার গভীর ক্ষত থেকে এখনো আলতো ধারায় রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। হয়তো তৌসিরের শরীর এখনো বিশ্বাস করতে পারছে যে সে আর নেই। বিছানা ভেসে যাচ্ছে তৌসিরের শরীর থেকে গড়ানো টকটকে লাল রক্তে। সাদা চাদরের প্রতিটি ভাঁজ বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ছে সেই লাল স্রোত ধীরে, অথচ অনিবার্যভাবে। যে সাদা চাদরে কাল রাতেও তারা পাশাপাশি শুয়েছিল, যে চাদরে মিশে ছিল দুজনের শরীরের গন্ধ, ঘামের স্পর্শ আর নিঃশ্বাসের উষ্ণতা, সেই চাদরই আজ পরিণত হয়েছে এক রক্তাক্ত কাফনে। বিছানার চাদার চুইয়ে মেঝেতে রক্তের ফোঁটা জমছে টপ টপ টপ করে। তৌসিরের গলাকাটা দেহের দিকে তাকিয়ে অসহায় হরিণীর মতো আর্তনাদ করে ওঠে নাজহা,

“আমাদের সুন্দর সংসারের এই সর্বনাশ কেন হলো তৌসির? আমাদের সংসারের পরিণতি এমন করুণ হওয়ার কথা তো ছিল না!আপনার শেষটা এত হৃদয়বিদারক কেন হলো? আর সেটাও কেন হলো আমারই হাতে?”
ওর কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যায়,কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কেউ থাকে না। তৌসির শুনতে পায় না। শোনার মতো অবস্থায় সে আর নেই। সে এখন এমন এক জগতে চলে গেছে, যেখান থেকে কোনো শব্দ ফিরে আসে না, কোনো প্রতিশ্রুতি পৌঁছায় না, কোনো ক্ষমা ফেরত আসে না।

কথাগুলো বলেই হাতের রক্তমাখা ছুরিটা শক্ত করে ধরে উঠে দাঁড়ায় নাজহা। ছুরির হাতলটা তার মুঠোয় চেপে বসে যায়। বাইরে এখন শুরু হয়েছে প্রলয়ংকরী তুফান। সারাটা দিন ধরেই ঝড় বয়ে যাচ্ছে আকাশজুড়ে। মেঘের বুক-কাঁপানো গর্জন আর বাতাসের তীব্র শিস জানান দিচ্ছে প্রকৃতির এক ভয়ংকর ধ্বংসলীলার। বোধহয় প্রকৃতি নিজেই জানত আজ কী ঘটতে চলেছে, কাঁপছিল এক অশুভ আশঙ্কায়। প্রকৃতি নিজেই এঁকে দিয়েছে আসমানের বুকে নাজহার ভেতরের জীবনের প্রতিচ্ছবি। আকাশের বুকে যে কালো মেঘ জমে, সে মেঘ হয়তো নাজহারই বুকের ভার। আকাশ থেকে যে অশ্রু ঝরছে, তা নাজহারই কান্না আর চেপে রাখা তীব্র যন্ত্রণা। বজ্র যখন গর্জে ওঠে, হয়তো তা আসলে নাজহার ভেতরের আর্তনাদ। আজ এই দিনে এই তুমুল তুফানের দিনে নাজহা হারাল নিজের সব ভালোবাসা, বিশ্বাস, স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ, এমনকি নিজেকেও। নিঃস্ব হয়ে গেল সে। একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল সে। যে নাজহা একদিন স্বপ্ন দেখত একটা সুন্দর সংসারের, একটা ছোট্ট সন্তানের, একটা শান্ত সকালের, সেই নাজহা আজ পরিণত হয়ে গেছে এক নির্মম খুনিতে। নাজহার পরনের সাদা পোশাকটা রক্তে ভিজে একাকার হয়ে গেছে। লাল রঙ লেপটে গেছে বুক থেকে আঁচল পর্যন্ত। গায়ের সাদা কামিজ আর ওড়নাটায় তৌসিরের তাজা রক্তে ভিজে চটচট করছে। কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে রক্তের ফোঁটা। বেলকনি আর ঘরের খোলা জানালা দিয়ে দমকা হাওয়া আছড়ে পড়ে ঘরের ভেতর। পর্দাগুলো ফরফর করে উড়ছে। মনে হচ্ছে কোনো অশরীরী আত্মা যেন ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। সেই উন্মত্ত বাতাসে নাজহার কালচে-লাল কোঁকড়ানো চুলগুলো উড়ছে আপন ছন্দে। কোনো অভিশপ্ত প্রেত্নীর মতো দেখাচ্ছে ওকে এই বিধস্ত রুপে। ঘরের কোণে ঝুলে থাকা ঝাড়বাতিটা দুলছে অস্থির হাওয়ায়। তার কাঁপতে থাকা আলো-ছায়ায় ঢাকা পড়ে নাজহার মুখ কখনো আলোকিত, কখনো অন্ধকার। তার ভেতরের দুই সত্তা প্রেমিকা আর খুনি, বধূ আর বিধবা, ভিকটিম আর অপরাধী, পালা করে উঁকি দিচ্ছে এক মুখে একশোটা রুপ।

প্রাণহীন এক পুতুলের মতো শূন্য দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে পা বাড়ায় নাজহা। তার চোখে কোনো লক্ষ্য নেই, মনে কোনো ভাবনা নেই, শুধু এক অজানা টান তাকে টেনে নিয়ে যায় সামনের দিকে। তৌসিরের রক্ত ততক্ষণে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে গাঢ় হয়ে গেছে। মেঝেতে সেই রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করেছে কোথাও কোথাও কালচে হয়ে আসছে, কোথাও এখনো টকটকে লাল। তৌসিরের রক্তের ওপর পা মাড়িয়েই নাজহা বেরিয়ে আসে ঘরের বাইরে। তার খালি পায়ের নিচে লেগে রয় রক্তের উষ্ণতা, তৌসিরের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা শেষ ওম, কিন্তু সে টের পায় না। তার পা দুটি রক্তে লাল হয়ে গেছে গোড়ালি পর্যন্ত, মনে হবে কেউ সদ্য আলতা পরিয়ে দিয়েছে তার পায়ে। পুরো করিডোর জুড়ে পড়ে থাকে নাজহার পায়ের ছাপ এক জোড়া, দুই জোড়া, তিন জোড়া, ক্রমশ ফিকে হয়ে আসা রক্তের ছাপ। আর তার হাতে ধরা ছুরির ফলা বেয়ে এখনো টপ টপ করে ঝরে পড়ছে তাজা রক্ত। এক অনামা ঘোরে আচ্ছন্নের মতো সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে নাজহা। নিজেই বুঝতে পারছে না সে কী করছে, কোথায় চলছে, কেন চলছে। তার মস্তিষ্ক এক কুয়াশায় ঢেকে গেছে। শুধু পা চলাচ্ছে নিজের ছন্দে, নিজের নিয়মে।
শিকদার বাড়ির বড় সদর দরজাটা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসে নাজহা। বাইরে এখন মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে। আকাশ ভেঙে পড়েছে। উদ্দাম বাতাস গাছপালা, ফুলের টব, উঠোনের সবকিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে।
বুড়ো আম গাছটার ডালগুলো হেলে পড়ছে এদিক-ওদিকের হাওয়ায়।আসমান কাঁপিয়ে ভয়াবহ গর্জনে ডাকছে মেঘ। বজ্রপাতের প্রতিটি গর্জনে কেঁপে উঠছে শিকদার বাড়ির পুরোনো জানালার কাচ, কাঁপছে উঠোন, কাঁপছে একটু দূরের পুকুরের জল।
সম্মোহিতের মতো বৃষ্টির মাঝেই উঠোনে নেমে আসে নাজহা। প্রথম ফোঁটা বৃষ্টি যখন তার মুখে এসে পড়ে, সে চমকায় না। দ্বিতীয় ফোঁটা যখন তার চোখের পাতা ভিজিয়ে দেয়, সে চোখ বোজে না। তৃতীয় ফোঁটা যখন তার ঠোঁট ছুঁয়ে যায়, সে জিব দিয়ে চাটে না।
বৃষ্টির ঠাণ্ডা ফোঁটা মিশে যেতে থাকে তার গরম শরীরের সাথে। ওর হাতের ছুরিটা বৃষ্টিতে ভেজে, ধুয়ে যায় লাল রক্ত, ফোঁটায় ফোঁটায় মিশে যায় কাদামাটির বুকে। বৃষ্টির পানি আর তৌসিরের রক্ত দুয়ে মিলে এক হয়ে যায় মাটিতে। মাটি মনে হচ্ছে তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে এই রক্তের জন্য, তাই তো এক ফুটা পড়তেই তা দ্রুত শোষণ করে নেয়। বৃষ্টির প্রবল ছাটে ভিজে চুপসে যায় নাজহার সারা শরীর। তার পরনে সাদা ড্রেস ভিজে লেপটে যায় গায়ে। ধুয়ে যেতে থাকে তৌসিরের রক্তের শেষ চিহ্নটুকুও তার হাত থেকে, তার পোশাক থেকে, তার মুখ থেকে, তার চুল থেকে। মুহুর্মুহু বজ্রপাত হচ্ছে চারপাশে। বিদ্যুতের ঝলকানিতে এক লহমার জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা উঠোন। সেই সময়ে দেখা যায় নাজহার ভেজা মুখ, ছড়িয়ে পড়া চুল, রক্তে রাঙানো পোশাক, কাঁপতে থাকা ঠোঁট। তারপর আবার ডুবে যায় অন্ধকারে।

কিন্তু সেদিকে নাজহার বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ থাকে না। ভেজা চুলগুলো লেপটে থাকে তার চোখে-মুখে, কপালজুড়ে,তাও সে সেগুলো সরায় না। চোখের পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা জমে, তবু সে মোছে না।
হঠাৎ এক পাগলাটে শূন্যতা গ্রাস করে নাজহাকে। পেটের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে অসহনীয় এক যন্ত্রণা, কেউ মনে হচ্ছে ভেতর থেকে কুঁচকে ধরেছে তাকে, ছিঁড়ে ফেলতে চাচ্ছে তার নাড়িভুড়ি। হয়তো এ যন্ত্রণা শারীরিক, হয়তো মানসিক, হয়তো দুটোই।
বৃষ্টির পানিতে শরীরের ক্ষতগুলো ভিজে তীব্র জ্বালা করছে। দিনে বিবিজান যে আঘাতগুলো করেছেন পিঠে, বুকে, বাহুতে, সেই ক্ষতগুলো এখন পানির স্পর্শে নতুন করে জ্বলে ওঠেছে। দুহাত আকাশের দিকে তুলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে নাজহা
“এ আমার কী হলো!
আমি কী করে ফেললাম!
এ কোন পাপের শাস্তি আমি পেলাম?
এ কোন অভিশাপ আমার কপালে লেখা ছিল?”

তার এই আর্তনাদ মিশে যায় বজ্রের গর্জনে, বৃষ্টির শব্দে, বাতাসের হাহাকারে। কেউ শোনে না, কেউ সাড়া দেয় না।
পাগলের মতো কিছুক্ষণ কাঁদতে কাঁদতে আবার স্তব্ধ হয়ে যায় নাজহা। ওর কান্নার শব্দ থেমে যায় হঠাৎই, ভেতরের সব অশ্রু শুকিয়ে যায় এক পলকে, চোখের জলের ভাণ্ডার নিঃশেষ হয়ে যায় চিরতরে। চোখ দুটি আবার শূন্য, সেই একই শূন্যতা, যা একটু আগে ঘরে ছিল। সেই একই মৃত শূন্যতা।
এবার তার শূন্য দৃষ্টি গিয়ে পড়ে বাড়ির বড় পুকুরটার দিকে। এক বেনামী জাদুমন্ত্রে বশীভূত হয়ে পুকুরের এগোয় সে। পুকুরের কাছে এসে পুকুরের শ্যাওলা ধরা পিচ্ছিল সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করে সে। তলপেটে ব্যাথা করছে তবে এই ব্যাথার তোয়াক্কা সে করে না। ধীরে ধীরে নেমে আসে নাজহা পুকুরের পানিতে। প্রথম ধাপে ওর পায়ের গোড়ালি ডোবে ঠাণ্ডা পানিতে। দ্বিতীয় ধাপে হাঁটু ডোবে। ওর ভিজে যাওয়া পোশাকটা ফুলে ওঠে জলের উপরে, কোনো জলপদ্মের মতো দেখায়, কিন্তু পদ্মের শুভ্রতা থাকে না, থাকে রক্তের কালচে দাগ। তৃতীয় ধাপে ওর কোমর ডোবে। চতুর্থ ধাপে ওর বুক ডোবে। একপর্যায়ে নাজহা গলা সমান পানিতে নেমে যায়। তার হাতের ছুরিটা ছেড়ে দেয় সে। যে ছুরি এতক্ষণ মুঠোয় চেপে ধরে ছিল, যা তার শরীরেরই অংশ হয়ে গিয়েছিল, সেই ছুরিকে এবার ছেড়ে দেয় নাজহা।
ছুরিটা টুপ করে ডুবে যায় পানির তলায়, চিরতরে হারিয়ে যায় কালো জলের গভীরে। ধীরে ধীরে নাজহার শরীরটা মিশে যেতে থাকে পুকুরের জলের অতল গভীরে। তার লালচে কোঁকড়ানো চুলগুলো ভাসতে থাকে পানির উপর। তারপর সেগুলোও ডুবে যায়, ধীরে, অনিবার্যভাবে।

যখন নাজহা টের পায় যে সে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন তার আর ওঠার কোনো উপায় থাকে না। শরীর শক্তিহীন, মন বশহীন, আত্মা ভারগ্রস্ত উঠবে কি করে? হাত-পা নাড়ানোর শক্তি নেই, চিৎকার করার ক্ষমতা নেই। নাজহার হুঁশ যখন ফেরে, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়। বহুহুহু দেরি। জীবন আর মৃত্যুর সীমারেখা সে পেরিয়ে আসে কখন, কীভাবে, তা সে নিজেও বুঝতে পারে না।

পুকুরের অন্ধকার গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে নাজহা। চারপাশে শুধু পানি আর পানি। উপরে বৃষ্টির শব্দ ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে তার কানে, কেউ মনে হচ্ছে ভলিউম কমিয়ে দিচ্ছে ধীরে ধীরে। পৃথিবীর কোলাহল মুছে যাচ্ছে নাজহার জন্য। নাজহার কানে বজ্রের গর্জন এখন শুধুই দূরের গুঞ্জন, বাতাসের শোঁ-শোঁ আওয়াজ অস্পষ্ট ফিসফিসানি মাত্র।
পানির নিচের পৃথিবীটা এক ভিন্ন জগৎ। এখানে কোনো শব্দ নেই, কোনো রঙ নেই, কোনো সময় নেই। শুধু এক অসীম, অন্তহীন নৈঃশব্দ্য বিরাজ করছে। নাজহার চোখের সামনে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সেই অন্ধকারের মাঝেই এক ভয়াল চলচ্চিত্রের পর্দা ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সে দেখতে পায় মাস্টার চাচ্চুর খণ্ডিত দেহ তারপর তার চোখে ভেসে ওঠে তৌসিরের গলাকাটা লাশ, যার রক্ত এখনো শুকায়নি। নাজহার মস্তিষ্ক অবশ হতে শুরু করে। মৃত্যুর ঠিক সাত সেকেন্ড আগে, যখন মস্তিষ্কে অক্সিজেনের শেষ ফোঁটাটুকুও নিঃশেষ হয়ে আসে, যখন ওর হৃদয়ের শেষ স্পন্দনটি গুনে নেয় নিয়তি, তখন তার চোখের সামনে ফুটে ওঠে তৌসিরের মুখানা। তৌসির কে আবছা দেখে নাজহা ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক টুকরো তৃপ্তির মুচকি হাসি, এক বিষাদমাখা, রহস্যময়, করুণ হাসি। যে হাসিতে মিশে আছে ভালোবাসা ও ঘৃণা, অনুতাপ ও মুক্তি, বেদনা ও শান্তি, প্রতিশোধ ও আত্মসমর্পণ সবকিছু।
এই হাসির অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ কোনোদিন বুঝবে না। কোনো কবি লিখতে পারবেন না, কোনো শিল্পী আঁকতে পারবেন না, কোনো দার্শনিক ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। কারণ সেই হাসি এক ধ্বংস হওয়া নারীর শেষ বিজয়ের হাসি, যে বিজয়ে কেউ জেতেনি, কেউ হারেনি, শুধু সব শেষ হয়ে গেছে।
অবশেষে নিজের ক্লান্তিকর, যন্ত্রণাময় আর ছলনার ভরা জীবন থেকে চিরতরে মুক্তি নেয় নাজহা। পুকুরের পানি শান্ত হয়ে আসে। শুধু কয়েকটি বুদবুদ ওঠে পানির উপর।

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৫৫

একদিকে শিকদার বাড়ির অন্ধকার ঘরে পড়ে থাকে তৌসিরের রক্তাক্ত নিথর দেহ, যার চোখ দুটি এখনও আধখোলা, যার মৃত দেহ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, নাজহা তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে পুকুরের অথৈ জলে চিরতরে তলিয়ে যায় নাজহার লাশ, যার মুখে লেগে আছে সেই শেষ মুচকি হাসি। তার চুল ছড়িয়ে যায় জলের তলদেশে, তার সাদা ড্রেসটা ফুলে ওঠেছে এক জলপদ্মের মতো।
বাইরে তখনো অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। আকাশ কাঁদছে অবিরাম, বাতাস হাহাকার করছে গাছের পাতায় পাতায়, বজ্র গর্জে চলছে। প্রকৃতিও সাক্ষী হয়ে রয়েছে এক করুণ অধ্যায়ের।
নাজহা তৌসিরের এই নিন্দার সংসারে তারা কেউ জিতলোও না, কেউ হারলও না। শুধু রয়ে গেল তাদের লাশ আর এক ফোঁটা রক্ত।

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৫৭

11 COMMENTS

    • সত্যি কি নাজহা আর তৌসির মারা গেছে 😭😭

  1. এটা কি করলেন ওদের সুন্দর একটা সংসার দিতে পারতেন , এমন কেন করলেন , প্লিজ ওদের হ্যাপি এন্ডিং দেন প্লিজ

Comments are closed.