Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫১

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫১

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫১
তামান্না ইসলাম শিমলা

কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব, ইউসুফ ও শফিক। ভেতরে ডাক্তার মনিরা তনয়াকে দেখছেন। প্রায় ঘন্টা খানেক পার হওয়ার পরেও ডাক্তারকে বের হতে না দেখে অস্থির হয়ে উঠছে তেহরাব।
“আব্বু তনয়া…….
ইউসুফ তেহরাবের কাধে হাত রাখলেন। চোখের ইশারায় শান্ত হতে বললেন। এমন সময় কেবিন থেকে বের হল ডাক্তার মনিরা। তিনি এক পলক তেহরাবের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলল,
“চেম্বারে এসো।”
মনিরা পা বাড়ায়। তার পিছু পিছু আসে তেহরাব।
চেয়ারে বসে রিপোর্ট গুলো দেখতে ব্যস্ত মনিরা আর তেহরাব চিন্তামগ্ন।
“আন্টি তনয়ার কি হয়েছে?”
মনিরা ফাইলের দিকে মনোযোগ রেখেই বলল,
“হয়নি তবে হবে।”
তেহরাব চমকায়!
“মানে?”

“তনয়ার কন্ডিশন ভালো নয়। মানসিক শারীরিক দুদিকেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সময়ে মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাটা বেশি প্রয়োজন। আর শারীরিক ভাবে অসুস্থতা তো রয়েছেই।”
তেহরাব চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস নিল। তার ভেতে ঝড় বয়ছে।
“সবে সাড়ে দিন মাস, এখুনি এই অবস্থা। বাকি সময় তো পরেই আছে।”
তেহরাব অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল ডাক্তার মনিরার দিকে,
“এখন কি করব?”
মনিরা তেহরাবের দিকে তাকাল,
“বাচ্চাটা না রাখলেও ভালো হয়, তনয়ার লাইফ রিস্ক আছে।”
“নাহহহ!”
তেহরাব শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠে,
“নাহ আমার বাচ্চা…..

বাকিটা বলতে পারল না তেহরাব। বড্ড রাগ হচ্ছে তার। মনিরা ফাইলটা এক পাশে রেখে বলল,
“তোমাদের উপর ডিপেন্ড করছে সবটা। যাইহোক চেষ্টা করো মানসিক ভাবে ঠিক রাখার। ওষুধ ঠিক মতো খাচ্ছে না খাবার দাবারেও অনিহা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত মা বাচ্চার দুজনেরই সমস্যা।”
তেহরাব আবারো ধপ করে বসে পরল। একদিকে তনয়া আরেক দিকে তার রক্ত, তার সন্তান। কি করবে সে? নিজের উপর বড্ড বেশি রাগ হচ্ছে তার। কেন সে রেগে গিয়ে এতগুলো দিন কথা বলল না, এর জন্যই হয়তো তনয়ার শরীর আরো খারাপ হয়েছে।
“তনয়াকে দুদিন ভর্তি রাখা হবে। শারীরিক ভাবে উন্নতি হলে বাড়ি নিয়ে যেতে পারো। এখন আসতে পারো।”
তেহরাব করুন চোখে তাকাল মনিরার দিকে,
“আন্টি দুজনেই সুস্থ থাকবে তো? কিছু হবে না তো?”
মনিরা কিছু বলতে গিয়েও বলল না, দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বলল,
“সবটায় আল্লাহর ইচ্ছে।”

দুদিনের কথা বলা হলেও পাক্কা ছয়দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে তনয়াকে। এ কদিন তাসলিমাই থেকেছে সাথে। তেহরাব শুধু মাঝে মাঝে এসে দেখে গিয়েছে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে তানিয়া, যে কিনা এই ছয়দিনে মাত্র একদিনই তনয়াকে দেখতে এসেছিল। অবশ্য শফিক প্রতিদিন এক বেলা এসে দেখে গেছে। তবে তানিয়ার বিষয়টা নজর এড়ায়নি তাসলিমার। মেয়ে অসুস্থ আর মা কিনা দেখতে আসেনা এমনকি কলও করেনা।
এর কারন জানতে চেয়েছিল তাসলিমা, শফিক বলেছে তানহা শিহাব নাকি চলে যাবে তাই সে নিয়ে ব্যস্ত। বিনিময়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছে তিনি, বড় মেয়ে অসুস্থ আর মা কিনা ছোট মেয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে পরে আছে।
আজ তনয়াকে বাড়িতে আনা হয়েছে। মেয়েটা এ কদিনে যেন আরো শুকিয়ে গেছে। তাসলিমা বড্ড চিন্তিত এই মেয়েকে নিয়ে, তনয়াকে যে তিনি তার মেয়ের মতোই দেখেন।
নিজের ঘরেই শুয়ে আছে তনয়া, আজ কাল ঘুম পায় প্রচুর। সেই বিকেল চারটায় শুয়েছে আর এখন সন্ধ্যা হতে চলল। টিপটিপ করে চোখ খুলল তনয়া, ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখতে পেল তেহরাবকে। উল্টোদিক ফিরে দাঁড়িয়ে কিছু একটা করছে।

হাসপাতালে তো কথাও বলতে পারেনি, সুযোগই মেলেনি। তনয়াতো ভেবে নিয়েছে তেহরাব এখনো রেগে আছে।
তেহরাব ওষুধপত্র গোছাচ্ছে, তনয়া কোনো রকম মাথা ধরে উঠে বসে। মাথা ঘোরাচ্ছে তার।
হাত লেগে বেডসাইড কেবিনেট থেকে পেপার ওয়েটটা পরে যায়। শব্দ পেয়ে পেছনে তাকায় তেহরাব। তনয়া উঠে গেছে।
তেহরাব দৌড়ে আসে তনয়ার কাছে,
“ঠিক আছিস?”
তনয়া তেহরাব হাত ধরে বাহুতে মাথা রাখল,নাহ সে ঠিক নেই। শরীর যেন চলতেই চায় না। তেহরাব তনয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,
“এখানেই বস, আমি পানি নিয়ে আসছি চোখে মুখে পানি দে।”
তনয়া মুখ তুলে তাকাল, তেহরাব ভাঙাচোরা তনয়ার দিকে তাকাতেই ভেতরে তান্ডব শুরু হল। এটা তার তনয়া? মেয়েটার কি অবস্থা হয়েছে! মাঝে মাঝে তেহরাবের মনে হয় সব দোষ তার। তার জন্যই তনয়ার এই অবস্থা।

“শুনুন।”
মিহি স্বরে ডেকে উঠল তনয়া। তেহরাব জবাব দিল,
“হু?”
তেহরাব হাঁটু গেঁড়ে বসল, তনয়া মৃদু হাসলো।
তেহরাবের গালে হাত রেখে তনয়া বলল,
“রাগ করে থাকবেন না আর হ্যাঁ?”
তেহরাব দুদিকে মাথা নাড়ে,
“উহু করব না।”
তনয়া আবারো হাসে,
“আচ্ছা একটা কথা রাখবেন?”
তেহরাব কিছু সময় তাকিয়ে থাকে তনয়ার চোখের দিকে। এই চোখে প্রকাশ পাচ্ছে তনয়ার যন্ত্রনা, কষ্ট। তার তনয়া ভালো নেই।
“হু।”

তনয়া তেহরাবকে জড়িয়ে ধরল, তেহরাবও আলতো করে জড়িয়ে ধরল।
“যদি এমন কোনো দিন আসে যে হয় আমি নাহয় আমাদের বাচ্চাকে বাঁচাতে হবে তাহলে দয়া করে আমাদের বাচ্চাকে বাঁচাবেন ঠিক আছে?”
তেহরাব চট কর তনয়াকে ছেড়ে দেয়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে তার। সে যে কল্পনাও করতে পারবে না এমন কিছু। সব কিছু ছেড়ে থাকতে পারবে তবে তনয়া…. তনয়াকে ছাড়া অসম্ভব।
“আমার যদি কিছু হয়ে যায় আপনি আমার বাচ্চাকে ভালো করে মানুষ করবেন হ্যাঁ? অন্য কাউকে বিয়ে করবেন না কিন্তু, আমি তবে কষ্ট পাব।”
তেহরাবের হাত পা কাঁপছে। তনয়ার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনাজল। তবে তার মুখে এক অমায়িক হাসি। যেন তার জীবনে কোনো কষ্টই নেই।
“তনয়া!”
তনয়া তেহরাবের ঠোঁটে হাত রাখল,
“উহু,আগে আমি বলব। আমি মরে গেলে দক্ষিণ দিকে যে শিমুল গাছটা আছে সেখানে কবর দিবেন হ্যাঁ? আপনি রোজ বারান্দায় বসে আমাকে দেখবেন। শিমুল গাছ আমার বড্ড প্রিয়, ওদের ফুল থেকে তুলো হয় সেগুলোকে হাওয়াই মিঠাই এর মতো লাগে। কত সুন্দর তাই না?”
তেহরাব আর নিজেকে সামলাতে পারল না। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তনয়াকে,তেহরাব কাঁদছে। এই শক্ত, কঠোর হৃদয়ের মানুষটাও কাঁদে, কি অদ্ভুত!
“এসব কেন বলছিস তনয়া? আমি বাঁচব কি করে তোকে ছাড়া? এসব বলিস না জান আমার, পায়ে পরি তোর। এসব বলিস না৷ তোকে ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনাও করতে পারব না।”
তনয়া এখনো হাসছে,
“কেন যেন মনে হয় আমি হয়তো বাঁচব না। যানেন বড্ড কষ্ট হয় আমার। শরীর কাঁপে, মাথা তুলতে পারি না।পেটে ব্যথা হয়, নিশ্বাস নিতে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে। আশে পাশে সব অন্ধকার। কেন বলুন তো? আচ্ছা মরার আগে কি সবারই এম……….

তেহরাব কিছু না বলেই তনয়াে অধর আঁকড়ে ধরে। এছাড়াযে তনয়াকে আটকানোর উপায় পাচ্ছে না সে। তনয়া চোখ বন্ধ করে নিল। তেহরাব তনয়াকে ছেড়ে তার দুগালে হাত রাখল।।
“আমিও মরে যাব তনয়া। তোর কিছু হলে আমিও শেষ, পুরোপুরি শেষ।”
তনয়া চোখ খুলল না, তেহরাব তনয়ার কপালে চুমু খেল। তার হাত পা সব কাঁপছে।
“ তুই এত স্বার্থপর হতে চাচ্ছিস কেন তনয়া? আমাকে একা রেখে চলে যাওয়ার কথা ভাবছিস কি করে?”
তনয়া শব্দ করে কেঁদে উঠল৷ জড়িয়ে ধরল তেহরাবকে,
“ভালোবাসি, আপনি ছাড়া কেউ নেই আমার। ভয় হয়, সব হারিয়ে ফেলার ভয়। আপনি কেন আমার মতো কপাল পোড়াকে ভকলোবাসতে গেলেন? তনয়া অপয়া। সবার জীবনেই কষ্ট বয়ে আনে।”
“ কষ্ট বয়েই আন, সারাজীবন আন। আমি তাই সই। আমাকে ছেড়ে যাস না, মরে যাব।”
তনয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আমি তো চাই না ছেড়ে যেতে। যদি আল্লাহ নিয়ে নেয়, ভয় হয়।এত ভালোবাসবেন না দয়া করে,একটু গুরুত্ব কমান।”

তেহরাব আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল,
“ভালোবেসে মরতে হলে মরব, আফসোস নাই। তোর প্রতি ভালোবাসা কমতে পারে তবে এই তেহরাবের আসক্তি না। তুই হলি আমার প্রাণ ভ্রমরা, গুরুত্ব কমালে যে মৃত্যু নিশ্চিত। “
তনয়ার হুট করেই নিজেকে বড্ড সুখী মানুষ মনে হল। তার জীবনের সকল দুঃখ যেন তেহরাব নিয়ে নিচ্ছে। নিজের ভেতরে থাকা সকল দুশ্চিন্তা গায়েব, তেহরাব কি কোনো জাদু জানে?
“আচ্ছা আমাদের ছেলে হবে না মেয়ে?”
তেহরাব আনমনে হাসলো, তনয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্যই কথা ঘোরাচ্ছে। তেহরাব তনয়ার পেটে হালকা চুমু খেয়ে বলল,
“মেয়ে হবে। আমাদের রাজকন্যা আসবে। তোর মতো সুন্দর, মায়াবী তবে স্বভাব চরিত্র হতে হবে এই তেহরাবের মতো।”
তনয়াও হাসলো,

“আমার তো ছেলে চাই। অবহেলা যেন সহ্য করতে না হয়।”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকায়,
“মানে?”
তনয়াও হকচকিয়ে যায়, দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,
“না কিছু না। খিদে পেয়েছে। “
তেহরাব আর মাথা ঘামাল না। তনয়াকে ছেড়ে খাবার আনতে ছুটল। তনয়া তাচ্ছিল্যে হাসলো। আনমনে বলল,
“মেয়ে হয়ে জন্মানো বুঝি অভিশাপ? নাকি শুধু আমিই অভিশপ্ত?”

আজ আবারো চেকাপ করে এসেছে তনয়া। ছয়মাস পরে গেছে তার। আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে অবশ্য। ডাক্তার বলেছে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করলে তনয়া ও বাচ্চা সুস্থ থাকবে। তনয়ার পেটের ব্যথাটাও আজকাল তেমন করে না। তবে তেহরাব তাকে হাঁটতে চলতেও দিতে চায় না।
রাত সাড়ে এগারোটা।
ব্যালকনিতে বসে আছে তেহরাব তনয়া। তেহরাব গিটার বাজিয়ে গান শোনাচ্ছে আর তনয়া তেহরাবের কাঁধে মাথা রেখে গান শুনছে।
গান শেষ হতেই তনয়া তেহরাবের দিকে তাকাল। হঠাৎ একটা প্রশ্ন মাথা চারা দিয়ে উঠেছে।
“শুনুন।”
“জ্বি বলুন।”
তেহরাব নিজের মুখ এগিয়ে আনল তনয়ার দিকে। তনয়া হাত দিয়ে তেহরাবকে দূরে সড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ডাক্তার মনিরা আপনার আত্মীয়?”
তেহরাব মাথা চুলকায়,
“হ্যাঁ ৷ মায়ের বান্ধবী।”
তনয়া ভ্রু কুঁচকায়,
“তাহলে সেদিন ওমন ব্যবহার কেন করলেন?”
তেহরাব ফলের প্লেটটা হাতে নিয়ে তনয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“সে অনেক কাহিনী। নে ফল খা।”
তনয়া প্লেটটা হাতে নেয়, প্রশ্ন করে,
“কি কাহিনী বলুন।”
তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

“আর বলিস না। আন্টির মেয়ে ফাহিমের সাথে পালিয়েছে। আন্টি ভেবেছে আমি সব জানি তবুও তাকে বলেনি তাই রাগ করে আছে। এদিকে আমি পালানোর দুদিন পর জেনেছি মিমু আর ফাহিমের মাঝে সম্পর্ক ছিল। শালা আমার বেস্টফ্রেন্ড হয়ে আমাকেই লুকিয়ে গিয়েছিল।”
তনয়া ফিক করে হেসে উঠে,
“মেয়ে কীসে পড়ে?”
এবার তেহরাবও হাসে,
“আর বলিস না, সবে টেইনে। বড় মেয়ে মারজিয়া আমার সমবয়সী। ওর বিয়ে হয়েছে গতবছর।”
তনয়া হতভম্ব, এটুকু মেয়ে পালিয়ে গিয়েছে!
“শোন একটা প্ল্যান করেছি।”
“কি?”
“ সামনের মাসে সিলেট যাব।”
তনয়া প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকাল,
“কেন”
তেহরাব মাথার দুদিকে হাত রেখে হেলান দিল,
“ আমার এক বন্ধু সিলেটে থাকে ওর সাথে দেখা করতে যাব। থাকব দু তিনদিন।”
তনয়া “ওহ আচ্ছা।” বলে আবারো তেহরাবের কাঁধে মাথা রাখল।
“ঘুম পাচ্ছে।”

তনয়ার কথা কর্ণপাত হতেই তেহরাব তনয়াকে কোলে তুলে নিল। চলে আসলো রুমে। বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ওষুধ ও পানি হাতে ধরিয়ে দিল।
“নে চুপচাপ খেয়ে ঘুমা।”
ওষুধ দেখেই নাক ছিটকাল তনয়া, ওষুধ খেতে খেতে পুরো শরীর যেন ওষুধ ওষুধ হয়ে গেছে। তেহরাবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে কিছু না বলে ওষুধ খেয়ে নিল। শুয়ে পরল বিছানায়। তেহরাব কাঁথা টেনে দিল, লাইট বন্ধ করে নিজেও শুয়ে পরল পাশে। তেহরাব তনয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, এমন সময় নিজের কানের কাছে ভেসে আসলো তনয়ার ফিসফিস করে বলা কথা,
“শুভ জন্মদিন তেহরাব।”
তেহরাব চমকাল! আজ তার জন্মদিন? চট করে ঘড়ির দিকে তাকাল,
৩০-১২-২৫
তারিখটা দেখেই উঠে বসল তেহরাব। সে তো ভুলেই গিয়েছিল তার জন্মদিনের কথা। তনয়া হাসলো! তনয়া তেহরাবকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো, বিড়বিড় করে বলল,
“ আজ আমি আপনাকে কিছু উপহার দেই?”
তেহরাব অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে। তনয়া তেহরাবের ঠোঁটে ছোট্ট করে চুমু খেয়ে বলে,

“আপনি একজন নয়, দুটি সন্তানের বাবা হতে চলেছেন।”
“এ্যাঁ?”
তেহরাব তৎক্ষনাৎ চেঁচিয়ে উঠে, তনয়া হুহু করে হেঁসে উঠে। তেহরাবের নাকে নাক ঘষে বলে,
“এ্যাঁ না হ্যাঁ। আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে বাবু হবে।”
তেহরাব পুরো থ মেরে গেছে৷ কিছু সময় পর আবারো বলে উঠল,
“এ্যাঁ।”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৯

তনয়া শব্দ করে হাসছে তেহরাবের প্রতিক্রিয়া দেখে। লোকটা সত্যি পাগল। তেহরাব তনয়ার পেটে মাথা রাখে,
“কিরে তোরা দুটো তো মস্ত পাজি। এত কষ্ট করলাম আমি আর তোরা কিনা সব খবর তোদের মাকে দিচ্ছিস। এই বৈষম্য মানি না মানছি না। আমি শাহাবাগে আন্দোলন করব।”
তনয়ার হাসি থামায় কে? তেহরাব আরো কতকি বলেই চলছে আর তনয়া হেসেই চলেছে। সত্যিই এটাই তেহরাবের জন্মদিনের বেস্ট গিফ্ট।

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫২