হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩০
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
তিমির-বিদারীর আগমনে সূচিত হলো এক নতুন দিনের। আজকের দিনটা অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশিই বিশেষ। ধরণীর প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের মাঝে আজ এক অদৃশ্য খুশির আমেজ। বছর ঘুরে আবারও মাহে রমজানের আগমনে সকলের হৃদয় রাজ্যে কাজ করছে অন্যরকম এক ভালোলাগা। ঘরে ঘরে সাধ্য অনুযায়ী রাঁধা হচ্ছে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার। খাবারের গন্ধে মো মো করছে চারিপাশ। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতির বাঁকে বাঁকে যেন ছড়িয়ে পড়েছে রমাদানের আগমন বার্তা।
বিকেলের শেষদিকে রান্নাঘরে এসে শাশুড়ির আদেশ মোতাবেক সাহরীর জন্য রান্না বসিয়েছে হুমায়রা। মুখের অবস্থা মলিন। একটু আগেই শাশুড়ির থেকে জানতে পেরেছে কৃশান রোযা রাখে না। কথাটা প্রত্যাশিত হলেও কেন যেন মেনে নিতে পারছে না সে। বারবার মনে বিষাদের ছায়া নেমে আসছে। এর মাঝেই রান্নাঘরে প্রবেশ করলেন ইয়াসমিন বেগম। জিজ্ঞাসা করলেন,
“ রান্না কতটুকু এগোলে? ”
শাশুড়ির কণ্ঠে ধ্যান ভাঙলো হুমায়রার। ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে উত্তর করল,
“ এইতো আম্মু হয়ে এসেছে। ”
আর কোনো কথা বাড়ালেন না ভদ্রমহিলা। আজকাল তেমন একটা কথা বার্তা বলেন না তিনি। কৃশানের সাথে তো আরও আগেই না। টাকা পয়সা যা দেওয়ার সব নাজমিন বেগমের হাত দিয়ে দেয়ান। কৃশানের অবশ্য সে নিয়ে মাথাব্যথা নেই সে টাকা পেলেই হলো।
ইয়াসমিন বেগম যেতে নিলেই পিছু ডাকল হুমায়রা। মিহি স্বরে দ্বিধা নিয়ে বলল,
“ আম্মু আপনার মোবাইলটা একটু দিবেন? আপনার ছেলেকে একটা কল দিবো। ”
সাথে সাথেই তার দিকে ফোন বাড়িয়ে দিলেন তিনি। স্থান ত্যাগ করতে করতে কটাক্ষ করে বললেন,
“ সেই নবাবজাদা কল ধরলেই হলো। ”
সুদীর্ঘ একটা খালি মাঠের মধ্যে আজ ছেলেদের ফুটবল খেলার যো লেগেছে। কিছুদিনের অবসরে মাটিতে জেগে উঠা ছোট ছোট ঘাসগুলো তরুণদের শক্ত পদযুগলের ভারে পুরো নেতিয়ে পড়েছে। আশেপাশে ভিড় জমেছে অসংখ্য মানুষের। সবার নজর ছুটতে থাকা যুবকদলের পানে। আজকাল সহজে খেলার মাঠে তাদের দেখা মিলেনা। যে যার মতো এদিক সেদিক সময় কাটানোয় ব্যস্ত থাকে। তাই যখন তাদের দেখা মিলে তখন তা বেশ উপভোগ করেই দেখেন এলাকার লোকজন।
সহসা খেলার মাঝে থেমে গেল সবচেয়ে আকর্ষনীয় দেহের অধিকারী যুবকটি। সকলের উৎসুক দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো তার উপরেই। দেখল একটু দূর থেকে ছেলেটির বয়সিই আরেকটি ছেলে তাকে ডাকছে। বন্ধু হবে হয়তো।
“ এই কৃশান, আন্টির নাম্বার থেকে বারবার কল আসছে। এদিকে আয় মামা! ”
এই নিয়ে তিনবার- তাকে ডেকেছে রবি। মাঠভর্তি মানুষের মাঝে রবির এমন উচ্চশব্দে না চাইতেও এবার সেদিকে এগিয়ে গেলো কৃশান। ধমকে বলল,
“ এই লাফাঙ্গা! আস্তে চেঁচাতে পারিস না? ”
“ জোরে চেঁচিয়েই তোকে পাইনা আর আস্তে চেঁচালে তো হলোই! ”
বলেই কৃশানের দিক ফোনটা এগিয়ে দিতে নিলো। তখনি স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি অপ্রত্যাশিত মেসেজ,
“ শুনছেন? একটু ফোনটা ধরুন না। একটা কথা ছিল আপনার সাথে। ”
রবির যেন মনে হলো সে ভুল কিছু দেখেছে। হাত দিয়ে চোখগুলো কচলে আবারও ফোনের স্ক্রিনে তাকাল। তখনও একই লেখায় তার বিস্মিত মনি জোড়া আটকাল। ভ্রু গুটিয়ে গেলো ছেলেটার। মারবেলের আকার ধারন করা চোখজোড়া বন্ধুর উপর নিক্ষেপ করে বলল,
“ এই ‘শুনছেন’ টা আবার কে রে! ”
মন গহীনে রাজত্ব চালানো অত্যন্ত সুপরিচিত সেই সম্বোধন খানা কর্নপাত হতেই বন্ধুর হাত থেকে ছুঁ মেরে মোবাইলটা নিয়ে নিল কৃশান। বলল,
“ আমার ফোন ধরার অনুমতি কে দিয়েছে তোকে? ”
“ অনুমতি আবার কোন ডিকশনারির শব্দ! এটা কোথায় ব্যবহার করে? ”
চোখ ছোট ছোট করে উত্তর করল রবি। কথা শুনে তাকে সপাটে একটা লাথি বসাতে যাবে ওমনিই ফোনটা আবারও বেজে উঠল কৃশানের। স্ক্রিনে চোখ পড়তেই নিজেকে দমিয়ে নিল। রবির কোলে থাকা নিজের শার্টটা নিয়ে, এক হাতে কলার টা ধরে পিঠ পিছে ঝুলিয়ে উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরলো। তার এমন হুট করে চলে যাওয়া দেখে পেছন থেকে সব ছেলেগুলো চিল্লিয়ে উঠল,
“ কিরে কৃশান খেলার মাঝখান থেকে কোথায় যাচ্ছিস? ”
তৎক্ষনাৎ মস্তিষ্ককে এড়িয়ে কৃশানের হৃদ গহীন হতে উত্তর এলো,
“ আমার শুরু, মাঝখান, শেষ-সবকিছু যেখানে সীমাবদ্ধ সেখানেই যাচ্ছি! ”
শোরগোলে মেতে থাকা পরিবেশে মুহূর্তেই নীরবতা নেমে এলো। সবগুলো হতবিহ্বল চোখ চেয়ে রইল কৃশানের যাওয়ার পথে। পরপর কৃশানের কথার মর্মার্থ বুঝতে না পেরে একে অপরের দিক প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল। সেদিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করল না কৃশান মির্জা। যেন ফোনের ওপাশের ব্যাক্তি ব্যতিত আশেপাশের সবকিছুই তার নিকট বৃথা।
গুনে গুনে তিনবার কল করার পরও যখন ওপাশ থেকে কোনো রেসপন্স পাওয়া গেল না তখন ব্যার্থ মুখে মোবাইল নিয়ে হাঁটা ধরল হুমায়রা। উদ্দেশ্য শাশুড়িকে মোবাইল ফেরত দিয়ে আসবে। তখনি ফোনের স্ক্রিনে ঝলঝল করে উঠল কাঙ্ক্ষিত পুরুষের নাম্বার। এক চিলতে হাসিতে প্রসারিত হলো রমণীর ঠোঁট। ফোন রিসিভ করে মিষ্টি কণ্ঠে সালাম দিলো। স্বাভাবিক স্বরেই সালামের জবাব দিলো কৃশান। পরপর গম্ভীর গলায় প্রশ্ন ছুঁড়ল,
” কি বলবি? ”
“ আপনি রাতের খাবারে কি খান? ”
“ অনেককিছুই খাই সেটা জেনে তোর কি লাভ? ”
“ আসলে আজকে আমার ঘরের খাবার খেতে ইচ্ছে করছে না। আপনি যা খান আমার জন্যেও নিয়ে আসবেন? ”
হুমায়রার থেকে আবদারটা শুনার জন্য হয়তো মোটেও প্রস্তুত ছিল না ওপাশের মানব। ক্ষণকালের জন্য নীরব হয়ে গেলো সে। কিয়ৎক্ষণ চুপ থেকে কোনোরূপ বাড়তি শব্দ ব্যবহার না করেই বলল,
“ আচ্ছা আনবো। ”
মানুষটার এতো সহজে মেনে নেয়া দেখে বেশ অবাক হলো হুমায়রা। সে কল্পনাতেও ভাবেনি মাত্র এক বাক্যেই কৃশান তার আবদার পূরণে রাজি হয়ে যাবে। কিছুক্ষন অবাক চোখে ফোনের দিক তাকিয়ে স্বামীর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলল,
“ শুকরিয়া। ”
“ হুম, এবার ফোন রাখ। ”
কথা বাড়াল না হুমায়রা। সালাম দিয়ে কল কেটে দিলো।
“ সত্যি করে বল এই ‘শুনছেন’ এর পিছনে কোন মহিলা? যার ফোন আসতেই তুই উধাও হয়ে গেলি! কোন চিপায় গিয়ে কথা সেরে এসেছিস? ”
“ আমি কোনো চিপায় যাইনি মাঠের ওদিকটাতেই ছিলাম তোরাই খুঁজে পাসনি। ”
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবলেশহীন ভাবে রবির প্রশ্নের উত্তর করল কৃশান। তখন হুমায়রার সাথে কথা শেষ করে সরাসরি নিজেদের পরিচিত আড্ডা শালায় চলে এসেছে সে। অন্যদিকে তাকে নাকি হন্য হয়ে খুঁজেছে রবি, অভি ও সাইফুল।
“ তুই যেখানেই ছিলি এখন এই ‘শুনছেন’ টা কে সেটা বল। ”
“ আরেকবার মুখে নিবি না শব্দটা। ”
“ কেন নিলে কি করবি তুই? ”
ঘাড় ঘুরিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল কৃশান। শেষ! ওমনিই মিইয়ে গেলো ছেলেগুলো। সাইফুল মেকি অভিমান দেখিয়ে বলল,
“ থাক বলতে হবে না আমাদের। তুই লুকিয়ে লুকিয়েই প্রেম করে যা। আমরা তোর কে? যে আমাদের বলবি? ”
সাথে বাকিরাও দুঃখ প্রকাশ করে সায় জানাল। বন্ধুদের নাটকে মোটেও গলল না কৃশান। উল্টো আগের চেয়েও শক্ত কণ্ঠে জবাব দিলো,
“ যেদিন আমার মনে হবে- নিজের সব নিয়মের বাইরে গিয়ে আমি সত্যিই কাউকে ভালোবেসে ফেলেছি সেদিন এমনিতেই সব জেনে যাবি। ”
“ মাতলাব কুছ তো হে মামা? ”
“ জানিনা ”
দীর্ঘশ্বাস ফেলল তিন বন্ধু। বুঝতে পারল কৃশানের সাথে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। অগত্যা এই টপিক বাদ দিয়ে দিলো। আশায় রইল সেদিনের, যেদিন এলাকার নামকরা বখাটে কৃশান কারো প্রেমে পড়বে।
ঘড়িতে তখন রাত দশটার কাছাকাছি। বিছানায় বসে বসে বিভিন্ন দোয়া জপছে হুমায়রা। মাত্রই এশার ও তারাবি নামাজ আদায় করে রুমে এসেছে সে। শরীর টা ক্লান্ত লাগছে। তবে ঘুমিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বিছানায় গা এলাচ্ছে না। মানুষটা আসা অব্দি যেভাবেই হোক জেগে থাকতে হবে তাকে।
মিনিট পাঁচেক যেতেই দরজা খুলে নিঃশব্দে প্রবেশ করতে দেখা গেলো কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে। তাকে দেখতেই সোজা হয়ে বসল মেয়েটা। এর মাঝেই তার নিকট এগিয়ে এলো কৃশান। বড় সড় একটা খাবারের প্যাকেট ধরিয়ে দিলো হুমায়রার হাতে। খাবার দেখে মনে হচ্ছে তিন জন খেয়েও শেষ করতে পারবে না। প্যাকেটের দিক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল রমণী। পরপর তাকাল স্বামীর পানে। বলল,
“ এতগুলো খাবার! ”
“ তুই খাবি। ”
“ আমার তো মনে হচ্ছে ঘরের সবাই খেতে পারবে যেই পরিমাণ খাবার এনেছেন। ”
“ বেশি কথা বলবি না। তুই আমাকে পরিমাণ বলিসনি কোনো। এখন মুখ বন্ধ রাখবি। ”
সরু চোখে কিছুক্ষন মানুষটার দিক তাকিয়ে রইল হুমায়রা। পরপর বলল,
“ আপনি নাকি রোজা রাখেন না? ”
“ না। ”
” কেন? ”
“ পারিনা। ”
” চেষ্টা করেছেন কখনো? ”
“ হুম, ছোটবেলা। ”
“ এখন চেষ্টা করে দেখুন ইনশাআল্লাহ থাকতে পারবেন। ”
হুমায়রার দিক পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল কৃশান। সহসা বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলে উঠল,
“ এখন আমার মতো বখাটে রোজা রাখলে মানুষ হাসবে। বলবে- সারাবছর মদ গাঁজা খেয়ে এখন এসেছে সাধু সাজতে। ”
“ আপনি বুঝি মানুষের কথায়ও কান দেন? ”
“ ওদের ধরে কে! আর এমনিতেই কখনো নামাজ কালাম আদায় করিনা রোজা রেখে কি লাভ? এসব তোদের জন্য। ”
” একদিক দিয়ে গুনাহ করেন বলে যে অন্যদিক দিয়েও করতে হবে এটা- কি কথা! যেটা থেকে আপনি বিরত থাকতে পারেন সেটা থেকে বিরত থাকুন না। অন্তত একটার শাস্তি থেকে তো বাঁচতে পারবেন? ”
“ আমায় নিয়ে ভাবতে হবে না তোর। আমার মতো জাহান্নামীর রোজা আবার কবুল হবে নাকি! ”
“ আপনাকে কে বলেছে আপনি জাহান্নামী! আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা কার ঠাঁই কোথায় হবে। কেউ পাপিষ্ঠ হয়েও জান্নাত পায় আবার কেউ এবাদতকারী হয়েও জাহান্নামে যায়- সবকিছু আল্লাহর উপর। ”
” তারমানে আমার জান্নাতে যাওযার চান্স আছে? ”
আশ্চর্য কণ্ঠে বলল কৃশান। উত্তরে হুমায়রা গলায় জোর প্রয়োগ করে বলল,
“ তো থাকবে না কেন? ”
“ হয়তো….! যে নসিবে তুই থাকতে পারিস সেই নসিবে জান্নাত ও থাকতে পারে! ”
মনে মনে ভাবলো কৃশান। পরক্ষনেই আবার নফসের খেলায় মজে গিয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“ যাই হোক এসব আমার কাজ না। আমার দ্বারা হবে না। ”
মুখ কালো হলো হুমায়রার। তবে দমলো না রমণী। কণ্ঠে আশ্চর্য ভাব মিশিয়ে বলল,
“ বখাটে পুরুষরা বুঝি এতো অকৃতজ্ঞ হয়! ”
ভ্রু কুঁচকে গেলো কৃশানের। রাগী গলায় বলল,
“ আমি অকৃতজ্ঞ তোকে কে বলেছে! মার খাবি কিন্তু। ”
“ অকৃতজ্ঞ নয়তো কি? যে আপনাকে এতো সুন্দর একটা জীবন দান করল। যার জন্য আপনি এমন বিন্দাস একটা জীবন কাটাতে পারছেন। প্রতিটা কদমে কদমে যে সৃষ্টিকর্তা আপনার সুবিধার জন্য এতকিছু সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এতোকিছু পাওয়ার পরেও তার সন্তুষ্টির জন্য এইটুকু করতে পারবেন না! ”
হুমায়রার কথায় জীবনের সকল পাওয়া না পাওয়ার গল্প মস্তিষ্কে জাগ্রত হলো কৃশানের। প্রথমেই দেখা মিলল প্রাপ্তির অধ্যায় জুড়ে রাজত্ব চালানো এক স্নিগ্ধ রমণীর। যার মায়াবী মুখ খানা তার চোখের সামনেই দৃশ্যমান। কৃশানের মনে হলো এক জীবনে এই একটা পাওয়াই যেন তার রবের প্রতি জনমভর শুকরিয়া আদায়ের চেয়েও বড়। সে আনমনেই বিড়বিড় করল,
“ যে সৃষ্টিকর্তা আমার মতো অধমের নসিবে তোকে লিখে দিয়েছে তার সন্তুষ্টির জন্য এইটুকু তো করাই যায়। ”
মুখে বলল,
“ আচ্ছা রাখবো রোজা। এখন যা এখান থেকে। ”
নিজের কাজে সফল হয়ে তৃপ্তির হাসি ফুটলো হুমায়রার মুখে। সে খাবারের প্যাকেট নিয়ে উঠে দাঁড়াল। হাঁটা ধরে বলল,
“ আচ্ছা এবার তাহলে আমি খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে আসি। ”
“ ফ্রিজে কেন? তুই খাবিনা? ”
ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল কৃশান। কর্ণকোহর হলো হুমায়রার উচ্ছাসিত স্বর,
“ আরে এইগুলো আপনার জন্যই। আমিতো কোনবেলাই খেয়ে নিয়েছি। আপনি তো ঘরের খাবার খান না। তাই আনতে বলেছিলাম। আমার নাম বলেছিলাম কারণ আসল কথা বললে আপনি আমায় মোবাইলের ভিতর থেকেই উড়িয়ে দিতেন। ”
“ বড্ডো বাড় বেড়েছিস আজকাল। কৃশান মির্জাকে বোকা বানানো না? একবার ধরলে…..”
“ মেরে একেবারে তুন্দুরী বানিয়ে ফেলবেন- জানি আমি। তবে আপনাকে দেখলে আজকাল আমার মনে ভয় কাজ করেনা বরং…”
পথিমধ্যেই থেমে গেলো সে। অসম্পূর্ণ বাক্য খানা অনুসরণ করে কৃশান বলল,
“ বরং..? ”
কিছুক্ষন কি যেন ভাবলো হুমায়রা। পরপর ত্রস্ত পায়ে একেবারে দরজার নিকট চলে এলো। মানুষটার কুঁচকানো চোখের দিক তাকিয়ে বলল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৯
“ আগামীকাল ইফতারের পর বলবো। ”
কথা শেষ করতে দেরি অথচ কেটে পড়তে দেরি করল না মেয়েটা। সেদিকে ভরকানো চিত্তে পলকহীন তাকিয়ে রইল কৃশান। পরক্ষনেই উচ্চ কণ্ঠে হুমকি দিলো,
“ তোর খবর আছে হুজুরনী! ”

Nice 🙂
Please taratari deo