হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৪ (২)
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
সকল প্রকার কাজ কর্মের পর্ব শেষ করে রুমে এসে শাওয়ার নিল ইকরা। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে উমরের আনা, পেঁয়াজ কালার শাড়ি পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সে। জীবনে এই প্রথম নিজের হাতে শাড়ি পড়ছে। তবে কোনোকিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না। বাড়িতে মহিলা মানুষ বলতে তার দাদি শাশুড়ি ও শাশুড়ি মা আছে। কিন্তু ওনাদের কাছে বলতেও কেমন যেন লাগছে তার। খাদিজা থাকলেই হয়ে যেত।
হঠাৎ দরজায় কারো কড়াঘাতের শব্দে চেষ্টারত হাত খানা থেমে গেল ইকরার। পরপর শুনতে পেল ফরিদা বেগমের গম্ভীর স্বর,
“ তাড়াতাড়ি নিচে এসো, কাজ আছে। ”
“ আম্মাজান ”
মাত্রই যাওয়ার জন্য পা বাড়াচ্ছিলেন ফরিদা বেগম। তখনি পেছন থেকে ডেকে উঠল ইকরা। বরাবরের মতোই গোমড়া মুখ করে ফিরলেন তিনি। বললেন,
“ কি? ”
“ দাদিজান কোথায়? আসলে আমি কাপড়টা ঠিক করে পড়তে পারছি না! ”
কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে ইকরার অবিন্যস্ত ও অগুছালো কাপড়টার দিক তাকিয়ে রইলেন ভদ্রমহিলা। পরপর নিজেই রুমের ভিতর প্রবেশ করতে করতে বললেন,
“ আম্মাজান ঘরে নাই, পাশের চাচি আম্মাদের বাসায় গিয়েছেন। ”
পরপর ইকরাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে বললেন,
“ দেখি এখানে এসো। শাড়ি পড়া টাও শিখে আসোনি বাপের বাড়ি থেকে! ”
পৃষ্ঠে কিছুই বলল না মেয়েটা। বরং ফরিদা বেগম যখন কথা বলতে বলতেই শাড়িতে কুচি করছিল সেই দৃশ্যের দিক মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। কেমন যেন একটা মা মা অনুভূতি হলো তার। কতদিন ধরে নিজের মায়ের যত্ন পায়না সে। যদিও নিয়মমাফিক বিয়ের পরদিনই মেয়েদের বাপের বাড়ি যাওয়া হয় তবে একদিকে তার শাশুড়ির মনমালিন্যতা ও অন্যদিকে রমজান এসে পড়ায় আর যাওয়া হয়নি। ফরিদা বেগমের দিক তাকিয়ে ইকরা সহসাই আনমনে উত্তর দিল,
“ যদি শিখেই আসতাম তাহলে কি আমার এই আম্মাজানের হাতে শাড়ি পড়ার সৌভাগ্য হতো? ”
অদ্ভুত দৃষ্টিতে ছেলের বউয়ের দিক তাকালেন ফরিদা বেগম। সে দৃষ্টিতে নমনীয়তা বা কঠোরতা কোনোটাই খুঁজে পেল না ইকরা। বোধ হয়, দুই ধরনের অনুভূতিই মিশে আছে সেথায়। এরপর আর কোনো কথা বলল না কেউই। চুপচাপ কাপড় পড়ানো শেষ করে রুম ছাড়তে নিলেন ফরিদা বেগম। তখনি রুমে উপস্থিত হলো উমর। মাকে দেখতেই মুচকি হাসি উপহার দিল। তাকে দেখতেই ফরিদা বেগম বলে উঠলেন,
“ তোমার বউ দেখছি কোনো কাজই জানে না ঠিক মতো। ”
কথা শুনে মায়ের পিছনে থাকা স্ত্রীর দিক তাকাল উমর। কিয়ৎক্ষণ একেবারে থম মেরে রইল। মনে হচ্ছে যেন শাড়ি পরিহিতা বধূর সৌন্দর্যে আটকে গেছে সে। পরক্ষণেই দুহাত পিঠ পিছে আড়াআড়ি ভাবে ভাঁজ করে ইকরার উদ্দেশ্যে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ আসলেই তাই? ”
মাথা নুইয়ে নিল ইকরা। পরপর হ্যাঁ সূচক ভঙ্গিতে উপর নিচ মাথা দোলাল। এবার এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসল উমর,
“ স্বামী সেবা ঠিকঠাক করতে পারবেন তো? ”
দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেল রমণী। স্বামীর অভিব্যক্তি বুঝার প্রয়াস চালিয়ে গেল কিছু সময়। বুঝতে সক্ষম না হয়ে উত্তর করল,
“ হুম। ”
সন্তুষ্টিজনক হাসি ফুটল উমরের মুখে। বলল,
“ আলহামদুলিল্লাহ, এইটুকু পারলেই হবে। বাকিটুকু আপনার সেবক সামলে নিবে! ”
“ তোমার বউয়ের জন্য কি এখন সেবকও রাখবে নাকি তুমি? ”
কণ্ঠ শৃঙ্গে তুলে বললেন ফরিদা বেগম। জবাবে মুচকি হেসে উমর বলল,
“ আম্মাজান, আপনি বড্ডো সরল! সেবক রাখতে হবে কেন? এইযে আপনার সামনে জলজ্যান্ত একজন সেবক দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পাচ্ছেন না? ”
পরপর হাতদ্বয় সামনে এনে প্রথমে দেহের ডান পাশ ও পরবর্তীতে বাঁ পাশ দেখিয়ে বলল,
“ আমার দেহের এ পাশটা আপনার আর ও পাশটা আমার সহধর্মিণীর! এবার বলুন আপনাদের কি কি সেবা প্রয়োজন। এই সেবক সদা তৎপর! ”
ছেলের কান্ড দেখে বিরক্তি আর ভালোলাগার মাঝখানে ফেঁসে গেলেন ফরিদা বেগম। কিছুক্ষন উমরের দিক তাকিয়ে থেকে রুম ছাড়তে উদ্যত হলেন। যেতে যেতেই বললেন,
“ তুমি দেখছি দিনদিন বউ পাগল হয়ে যাচ্ছ! ”
“ এমন হুরের মতো বউ ঘরে থাকলে আপনার ছেলে তো পাগল হবেই আম্মাজান! ”
ইকরার নিকট এগিয়ে আসতে আসতে বলল উমর। ততক্ষণে ফরিদা বেগম নিচে চলে গেছেন। ছেলের কথা শুনতে পাননি তিনি। এইদিকে তার এহেন কথায় লজ্জায় গালে রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ল ইকরার। মেয়েটা কেমন হাসফাস করে প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করে বলল,
“ আপনি বোধ হয় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। খেতে চলুন। ”
বলেই উমরকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইল। ওমনিই তার হাতখানা ধরে নিল উমর। অদ্ভূত স্বরে বলল,
“ উপেক্ষা করতে চাইছেন ইকরাবিবি? এমনটা করলে কিন্তু আপনার প্রেমব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে খুব শীগ্রই এই সেবকের মৃত্যু হবে। ”
তড়িৎ পিছু ফিরে চাইল ইকরার। হালকা রাগী তবে ক্ষীণ স্বরে বলল,
“ এইগুলো কি ধরনের কথা ইমাম সাহেব! ”
“ সত্য কথা! ”
উমরের নির্লিপ্ত কণ্ঠে মুখ কালো করল ইকরা। বলল,
“ আপনাকে আমি কখন উপেক্ষা করলাম? ”
“ সবসময় করেন। ”
দুষ্টুমি করে বলল উমর। অথচ ইকরা এবার বেশ চটে গেল। কোনো কথাই বলল না সে। তা দেখে উমর বলল,
“ কি হলো কথা বলছেন না যে? ”
“ ………..”
“ আমি কি আপনাকে বেশি পরিমাণে রাগিয়ে ফেললাম ইকরাবিবি? ”
“ …………”
“ আচ্ছা, ভুল হয়ে গেছে আমার। আর বলবো না এসব। এবার তো কথা বলুন। ”
এবারও নিরুত্তর রইল মেয়েটা। তা দেখে উমর অনুতপ্ত কন্ঠে বলল,
“ ভুল হয়েছে বললাম তো! কি করলে রাগ কমবে আপনার? আরে আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনার সালামি টা তো এখনো দেওয়া হয়নি ইকরাবিবি। ”
বলেই জুব্বা হতে মানি ব্যাগ বের করে আনলো সে। পরপর ইকরার দিকে কয়েকটা হাজার টাকার টাটকা নোট বাড়িয়ে দিল। বলল,
“ নিন, এইটুকু চলবে কিনা বলুন নাকি আরও লাগবে? ”
“ ………… ”
“ প্রিয় ইকরাবিবি এবার তো কথা বলুন! আপনার ইমাম সাহেব আর কখনও তার ইকরাবিবির সাথে এরকম মজা করবে না। ”
এবেলায় এসে মুখ ফিরিয়ে তাকাল ইকরা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল উমর। বুকে হাত দিয়ে বলল,
“ মুখ ফিরিয়ে চাইলেন তবে এই সেবকের দিকে!
তার কাণ্ডে হেসে ফেলল ইকরা। তৎক্ষনাৎ তার হাতে টাকাগুলো ধরিয়ে দিল উমর। বলল,
“ চলবে..? ”
“ হুম ”
ছোট উত্তর ইকরার। চোখে মুখে মিষ্টি হাসি। বুঝাই যাচ্ছে স্বামীর থেকে প্রথম সালামি পেয়ে কতোটা খুশি সে। তার হাসি মুখের দিক তাকিয়ে উমর হঠাৎ বলে উঠল,
“ তাহলে এবার একটু জড়িয়ে ধরুন। বুকটা বড্ডো আপনি আপনি করছে! ”
আরেকদফা হাসল ইকরা। পরপর কোনোরূপ দেনামনা ছাড়াই জড়িয়ে ধরল স্বামীকে।
পিচঢালা রাস্তায় সবেগে চলছে একটা সাদা প্রাইভেট কার। ভিতরে ফুল সাউন্ডে গান চালিয়ে ফুর্তি করছে একদল যুবক। আশেপাশের কোনকিছুতেই তাদের তোয়াক্কা নেই। নিজেদের মতো উপভোগ করতে ব্যস্ত তারা।
তবে এতো এতো আনন্দের ভিড়েও কেমন যেন একটা শূন্য শূন্য অনুভূতি হচ্ছে কৃশানের।বন্ধুদের সাথে ঈদের দিন ট্যুরে যাওয়া কোনো নতুন ব্যাপার নয় তার কাছে। প্রতি বছরই কোথাও না কোথাও ট্যুরে যায় তারা। এবারও দু’ তিন দিনের জন্য সাজেক যাচ্ছে। তবে আগের মতো আনন্দটা খুঁজে পাচ্ছে না সে। বারংবার ভিতর সত্ত্বা কোনো এক অজানা কারণে বিষন্ন হয়ে উঠতে চাইছে। যার কারণ খুঁজতে গিয়ে ফুর্তির মাঝখানেই হঠাৎ করে নীরব হয়ে গেছে কৃশান। জানালা খুলে তাকিয়ে আছে বাইরের দিক। আসার সময় একবারও হুমায়রার দিক ফিরে তাকায়নি সে। মেয়েটা তার পিছন পিছন এসেছিল গেইট অব্দি। মুখে ছিল মলিনতা, যা না তাকিয়েও বুঝতে পেরেছে কৃশান। কিন্তু তবুও ফিরে তাকায়নি সে। কারণ সে জানে-
ঐ মুখপানে একবার ফিরে তাকালে কখনোই আর এখানে আসা হয়ে উঠতো না তার।
আজকাল যে তার বখাটে মনটা পুরোটাই তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, বড্ডো বেইমানি করে নিজের নিয়ন্ত্রণ সপে দিয়েছে ঐ এক রমণীর কাছে! অথচ এর কোনোটাই কথা ছিল না। সবটাই অবাধ্যতা হয়ে গেল।
অতিষ্ট হয়ে সিটে গা এলিয়ে দিল কৃশান। চোখ বন্ধ করতেই মানস্পটে ভেসে উঠল সেই কাঙ্ক্ষিত মুখ খানা। ছেলেটা আশ্চর্য হলো। আনমনে বলল,
“ কি আজব! বলেছিলাম আমার বিন্দাস লাইফে মেয়েদের প্রবেশ নিষিদ্ধ আর এই মেয়ে কিনা একেবারে আমার বখাটে মনটাতেই ঢুকে পড়েছে! ”
এইদিকে তাকে এমন নীরব হয়ে থাকতে দেখে রবি বলল,
“ কিরে মামা, আজকাল তুই সবজায়গায় এমন সাইলেন্ট মোডে থাকিস কেন? বললেই বলিস শরীর ভালো লাগছে না। গর্ভবতী মহিলারা ও মনে হয় এতো অসুস্থ থাকে না! ”
ত্যাড়া চোখে তার দিক চাইল কৃশান। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“ আজাইরা বকবি একেবারে ট্রাকের নিচে চাপা ফেলে মারব তোকে লাফাঙ্গা কোথাকার! ”
বলেই আবারও চোখ বুজে রইল সে। রবির ইচ্ছে হলো এক ঘুষি মেরে গাড়ির বাইরে ফালিয়ে দিতে মির্জার ছোট ঝামেলাটাকে। তবে নিজের জানের ভয়ে তা করতে সম্ভব হলো না বেচারা। অগত্যা চুপ মেরে নিজের কাজে মন দিল।
অপরাহ্নে,
সূর্য্য তখন তেজ হারিয়ে পশ্চিম আকাশে ফেলে পড়েছে। তার মৃদু লাল আলোতে লোহিত হয়ে আছে ধরণী। গাছে থাকা ফুলগুলো নেতিয়ে পড়েছে। কিছু কিছু আবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
বারান্দার গ্রিল ঘেঁষে মিঠুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য অন্যমনস্ক হয়ে উঠছে দেখছে হুমায়রা। কৃশানকে ছাড়া গুনেগুনে তিনটা দিন থাকতে হবে তাকে- ভাবলেই কষ্ট হচ্ছে তার। এমন নয় যে বাসায় থাকলে সারাদিন তার সাথেই কাটাতো কৃশান। তবে মানুষটার বাসায় ফিরার জন্য তো সবসময় অপেক্ষা করে থাকত সে। এখন সে অপেক্ষার সময়গুলো কাটবে মানুষটার দূরত্বের কথা ভেবে। মনে সৃষ্টি হবে বিষণ্নতা। ইকরা বাড়িতে থাকলে হয়তো একটু ভালো লাগতো কিন্তু বাড়িতে শুধু তার দুই শাশুড়ি আছে। আর হুমায়রার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়ে আছে মিঠু। আপাতত ওর সাথেই দিন কাটানো হবে।
ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা পেরিয়ে গেছে। সাজেক পৌঁছে এক দফা ঘুরে মাত্র রিসোর্টে ফিরেছে কৃশানরা। রবি, অভি ও সাইফুল এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। কৃশান গিয়ে দাঁড়াল করিডোরের দিকটায়। নীরব আকাশপানে কতক্ষণ চেয়ে থেকে প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেট বের করল। পরপর ঠোঁটের ভাঁজে পুরে লাইটার জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তেই নিকোটিনের বিষাক্ত গন্ধে ভরে গেল আশপাশ। আজকে এখানে এসে আবারও নিকোটিনের দুনিয়ায় ফিরে গেছে সে। প্রথমে একটু দ্বিধা হলেও বন্ধুদের সঙ্গ দিতে গিয়ে সেই দ্বিধা ক্ষণিকের মধ্যেই উধাও হয়ে গেছে। তবে এতকিছুর মধ্যেও মনের কোথাও শান্তি খুঁজে পাচ্ছে না ছেলেটা। বিষন্ন মনটা শুধু ছুটতে চাইছে বাড়ির পথে। মনের ভিতর এমন অশান্তি রেখে ঠিকমতো ট্যুর টাও এনজয় করতে পারছে না। শূন্যতার বেড়াজালে মন আটকে পড়ছে বারবার। ঠিক তখনি কৃশানের সকল শূন্যতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে রবির ফোনে বেজে উঠল শিতম আহমেদের কন্ঠে গাওয়া একটি গান,
“ কেন লাগে শূন্য শূন্য বলো!
তোমায় ছাড়া এতো?
তুমি কি তা- বলতে পারো?(২x) ”
পর দিন সকালে,
ফজরের নামাজ আদায় শেষে বরাবরের মতোই বাগানের গাছের মধ্যে পানি দিচ্ছে হুমায়রা। ধরণী তখনও পুরোপুরি আলোকিত হয়নি। আশপাশ একদম নীরব হয়ে আছে।হুমায়রার চোখ গুলো ঘুমে ঢুলছ। সারারাত একটুও ঘুম আসেনি। এপাশ ওপাশ করেই কাটিয়ে দিয়েছে। যার দরুন চোখগুলো কেমন ভার ভার লাগছে।
হঠাৎ হুমায়রার মনে হলো গেইটের সামনে কৃশানের অবয়ব দেখছে সে। ঘুমের তাড়নায় ভুলভাল দেখছে হয়তো মেয়েটা। তাই চোখগুলো বার কয়েক বন্ধ করে আবার সামনে তাকাল। নাহ, ভুল নয় চোখের সামনে স্বয়ং কৃশান মির্জাকেই দেখছে সে। ফ্যাকাশে চেহারা তার, সিল্কি চুলগুলো রুক্ষ এলেমেলো হয়ে আছে, চোখগুলো লালবর্ণ ধারণ করেছে- দেখেই বুঝা যাচ্ছে নিদ্রার দেখা মেলেনি তাদের। এবড়ো থেবড়ো খোলা শার্ট, গলায় থাকা লকেট টাও ঠিক জায়গায় নেই। যাওয়ার সময় ঠিক যতটা পরিপাটি ছিল ঠিক ততটাই অগুছালো!
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৪
বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে গেল হুমায়রা। অবিশ্বাস্য চোখের পাতা পড়ার আগেই ধমকা হাওয়ার মতো অকস্মাৎ এসে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল কৃশান। থমকাল রমণী, নরম দেহ খানা খনিকের জন্য নড়তে ভুলে বসল তার। কিয়ৎক্ষণ ওভাবেই স্ট্যাচু হয়ে রইল মেয়েটা।

taratari porar porbo ta dio plz………….