হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৭
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
দিনের প্রথম প্রহর, সূর্য তখন পূর্ব গগন হতে তেজস্ক্রিয় তীক্ষ্ণ রশ্মি ছড়াচ্ছে। সকাল সকাল তার উত্তপ্ততায় অতিষ্ট জনমানব। ঘণ্টা খানেক হবে কৃশান ক্যাফেতে এসেছে। এর মাঝেই অপ্রত্যাশিত ভাবে হুমায়রার নাম্বার থেকে একটি মেসেজ আসে-
“ আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। একটু বাসায় আসতে পারবেন? ”
কর্মরত হাত খানা থেমে যায় কৃশানের। কপালে পড়ে চিন্তার গাঢ় ভাঁজ। আজ অব্দি কখনো এমন অসময়ে বাসায় ফেরার কথা বলেনি হুমায়রা। ইদানিং এমনিতেই ওর শরীরটা দুর্বল। হয়তো শরীর একটু বেশিই খারাপ লাগছে মেয়েটার। কৃশানের পদ যুগল ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কাজ থেকে হাত সরিয়ে বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে,
“ আমি একটু বাড়িতে যাচ্ছি। ”
“ এখন? কিছু হয়েছে নাকি? ”
অবাক কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে অভি। উত্তরে কৃশান যেতে যেতে বলে,
“ হুম, এসে বলব সব। ”
কৃশানের যাওয়ার সময়েই ক্যাফেতে প্রবেশ করল রবি। অপ্রত্যাশিত হলেও তার থেকে কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হলো না কৃশান। সে নিজের বাইক নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করল। অভি পেছন থেকে আরো কিছু বলতে নিচ্ছিল তখনি তাকে থামিয়ে দেয় রবি। শান্ত স্বরে বলে,
“ ওঁকে যেতে দে। ”
অভির ভ্রূ কুঁচকে যায়। অবাকের স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ে,
“ কিরে আজকেই এসে পড়লি? তুই তো বলেছিলি কিছুদিন থাকবি বাড়িতে? ”
“ হুম বলেছিলাম, কিন্তু পসিবল হয়নি। ”
“ কেন? ”
রবি এগিয়ে গিয়ে সবকিছু খুলে বলে। সাথে সাথেই মাথায় হাত দিয়ে বসে অভি। সতর্ক কণ্ঠে বলে,
“ কৃশান ফিরে এসে তোকে টপকে দিবে নিশ্চিত! ”
বাইক চালানোর মাঝেই হুমায়রার নাম্বারে কল লাগাল কৃশান। দুবার রিং হওয়ার মাথাতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ করল হুমায়রা। কর্ণকুহরে পৌঁছাল মানুষটার বিচলিত স্বর,
“ শরীর কি বেশি খারাপ লাগছে? ডাক্তা….”
“ না না তেমন খারাপ লাগছে না। ডাক্তারের প্রয়োজন নেই। আপনি চিন্তা না করে সাবধানে আসুন। ”
“ আচ্ছা আমি আসছি। তুই সাবধানে থাক! ”
কিছুক্ষণ কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় না হুমায়রা। হয়তো কোনোকিছু ভাবছে সে। সময় নিয়ে উত্তর করে,
“ আচ্ছা। আপনি সাবধানে আসবেন কিন্তু? তাড়াহুড়া করবেন না। ”
“ হুম। ”
মুখে সম্মতি জানায় অথচ তাড়াহুড়ার ঊর্ধ্বে গিয়ে ফুল স্পিডে বাইক চালাচ্ছে ছেলেটা। দিন কয়েক হবে নিজের টাকায় বাইক কিনেছে সে। যার দরুন বাইকের কিছু হওয়া নিয়ে এখন মোটেও ভাবে না। সবজায়গায় নিজের সুবিধানুযায়ী স্পিড দিয়ে চালাতে থাকে।
কৃশানের ব্যস্ত হাত কলিং বেইলে চাপ দিতেই দরজা খুলে যায়। সাথে সাথেই ভিতর থেকে কেউ একজন এসে তাকে ঝাপটে ধরে। কৃশান থমকায়, হকচকায়! জড়িয়ে ধরা ব্যক্তির শরীরের ঘ্রাণটা বড্ডো চেনা তার। তবে এই ঘ্রাণ ঠিক করে নেয়া হয়না বহুবছর। ছেলেটার নড়চড় নেই। সটান দেহে দাঁড়িয়ে আছে সে। তখনি কর্ণপাত হয় পরিচিত কণ্ঠের অপরিচিত শব্দ,
“ বাবা আমার, আম্মুকে ক্ষমা দে। আর কখনো তোকে ওভাবে কথা শুনাব না। মায়ের সাথে বাড়ি ফিরে চল বাবা। তোদের ছাড়া বাড়িটা শূন্য হয়ে আছে। আর রাগ করে থাকিস না আমাদের উপর। ”
ইয়াসমিন বেগমের ক্রন্দনরত কথার পৃষ্ঠে কৃশান কিছু বলতে নেয় তখনি পাশ থেকে শুনতে পায় জিনিয়ার অনুতপ্ত কণ্ঠ,
“ কৃশান আ’ম স্যরি, ঐদিনের জন্য আ’ম রিয়েলি স্যরি। দয়া করে তোমরা বাসায় ফিরে চলো। আমি কথা দিচ্ছি- ফিউচারে আর কখনোই এরকম বিহেভিয়ার করব না আমি। আ’ম এক্সট্রিমলি স্যরি ফর মাই ফল্ট! ”
কৃশানের দৃষ্টি নত। জিনিয়ার পানে তাকায়না সে। ওভাবেই ঠান্ডা গলায় জবাব দেয়,
“ আমার কারো প্রতি কোনো রাগ নেই। ওসব অতীতের কথাবার্তা মনে রেখে রাগ পুষে রাখে কে! বরং শুকরিয়া সেই অতীতের প্রতি যার দরুন আমার বর্তমান এতো সুন্দর হয়েছে। আমার কোনো রাগ অভিমান নেই কারো প্রতি! ”
“ তাহলে আমাদের সাথে ফিরে চল? ”
নাজমিন বেগমের কথায় তাল মেলায় ইয়াসমিন বেগমও। তিনি ছেলেকে ছেড়ে তার মুখ পানে চেয়ে আবদার ছুঁড়েন,
“ হ্যাঁ বাড়িতে ফিরে চল। ”
কৃশান কিঞ্চিৎ হাসে। ঠোঁটে হাসি বজায় রেখেই বলে,
“ এখানেই বিন্দাস আছি! বাড়ি ফেরার কি প্রয়োজন? তোমাদের যখন ইচ্ছে হবে চলে আসবে আমাদের দেখতে। ”
“ এসব বললে হবে না। তুই বলেছিস কারো প্রতি কোনো রাগ নেই এখন সেটা বাড়িতে গিয়েই প্রমাণ করতে হবে। নাহলে অমরা ভাবব তোরা এখনো রেগে আছিস আমাদের উপর! ”
“ আচ্ছা ওসব কথা পড়ে। এসেছ বসো, খাওয়া দাওয়া করো তারপর বাকি কথা। ”
“ তোর কি মনে হয় হুমায়রা এখনো আমাদের না খাইয়ে রেখেছে? এত কথা বাদ! তোরা এক্ষুনি রেডি হয়ে নে। বাড়ি ফিরব আমরা। ”
কৃশান পৃষ্ঠে বলার সুযোগ পায়না এর আগেই ফের শুনতে পায় জননীর আকুতি ভরা কণ্ঠ,
“ ফিরে চল না রে বাবা! এবারের মতো তোর এই অপরাধী মাকে নাহয় ক্ষমা করে দে? ”
বলেই তিনি ফের কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সাথে নাজমিন বেগমও এসে যোগ হলেন। ক্রমান্বয়ে তাদের কান্নার গতি বাড়তেই থাকে। বলেও থামানো যায় না। কৃশানের সন্তান সত্তা আর টিকে থাকতে পারেনা। বিচলিত চিত্তে তাদেরকে নিজের থেকে ছাড়ায়। শান্ত কণ্ঠে বলে,
“ আচ্ছা আচ্ছা, ফিরছি আমরা। এবার অন্তত কান্না থামাও! ”
“ সত্যি…? ”
“ হ্যাঁ সত্যি! আর আমাকেও তোমরা সবাই ক্ষমা করে দাও। কত বেয়াদবি করেছি তোমাদের সাথে! ”
ছেলের এমন পরিবর্তন দেখে দুই জা এর মুখে হাসি ফুটে। সমস্বরে উত্তর করেন,
“ দূর, সন্তান রা কতই ভুল করে এসব মায়েরা মনে রাখে নাকি! ”
পরপরই ইয়াসমিন বেগম তাড়া দিয়ে বলেন,
“ এখন সবকিছু গুছিয়ে নে তাড়াতাড়ি। ”
কৃশান ভিতরে ঢুকে। রুমের এক প্রান্তে কাচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা হুমায়রার দিক এক পল চায় আড়চোখে। ঐ দৃষ্টি যেন জানান দিচ্ছে- “ তোকে পরে দেখে নেব! ”
ইয়াসমিন বেগমরা গাড়ি নিয়ে এসেছেন। যাওয়ার সময় ওনারা সেটাতেই উঠলেন। কৃশান উনাদের সঙ্গে যাবেন না। নিজের বাইকে করে যাবে সে। এইদিকে হুমায়রা পড়েছে বিপাকে। সবাই তাকে গাড়িতে উঠতে বলেছে। কিন্তু সে বারবার কৃশানের পানে তাকাচ্ছে। বাইকে যাবে, না গাড়িতে সেই ব্যাপারে জানার আশায়। অথচ মানুষটা তাকে পরোয়াই করছে না। এবেলায় মিঠুকে কোলে করেই এগিয়ে এসে কৃশানের সামনে দাঁড়াল সে। জিজ্ঞেস করল,
“ আমি কি বাইকে যাব…? ”
পৃষ্ঠে উত্তর দেয়ার বদলে তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, বেপরোয়া ভঙ্গিতে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে গেল কৃশান।কিয়ৎক্ষণ ধোঁয়া উড়া রাস্তাটার পানে ফ্যালফ্যাল নয়নে চেয়ে থেকে গাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো হুমায়রা।
গাড়িতে বসে বসে কৃশানের পরিবর্তন সম্পর্কে সব তথ্য হুমায়রার থেকে নিলেন ইয়াসমিন বেগম ও নাজমিন বেগম। কৃশানের সহীহ শুদ্ধ ভাবে কুরআন তেলাওয়াত শেখার কথা জেনে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন তারা। এক বছরে (কিছু মাস বেশি) যে তাদের ছেলের মধ্যে এতটা পরিবর্তন আসবে- কল্পনাতেও ছিল না তাদের। ইয়াসমিন বেগম আল্লাহর নিকট ক্ষণে ক্ষণে শুকরিয়া আদায় করেন। এরপর নিজেও ইকরার করা সব কান্ডের কথা হুমায়রা কে শুনান। সব শুনে একেবারে হতবাক হয়ে আছে হুমায়রা। বলার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না মেয়েটা। নির্বাক হয়ে রয় কিছুটা সময়। পরপর ইয়াসমিন বেগমের থেকে ইকরার নাম্বার নিয়ে তৎক্ষণাৎ কল লাগায় সে। খানেক সময় নিয়েই কল রিসিভ হয়। ওপাশ থেকে ভেসে আসে সুপরিচিত একটি নারী কণ্ঠ,
“ আসসালামু আলাইকুম, কে বলছেন …? ”
“ ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি…….”
বাকিটুকু বলার আগেই ওপাশ থেকে খানেক চিৎকার করে ওঠে ইকরা,
“ হুমায়রা……? ”
“ হুম সখি! ”
“ তুই হুমায়রা? আমার প্রিয় সখি? এতদিন কোথায় ছিলি তোরা? আমি কতবার কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছি তোদের সাথে! একটা বার…..”
ইকরার কণ্ঠ দিশেহারা, ভেঙে আসছে বারংবার। হুমায়রা ওকে থামিয়ে দেয়। শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে বলে,
“ শান্ত হ সখি, আমি বাড়ি ফিরছি। তুইও আয় বাড়িতে। এরপর সব খুলে বলব। ”
“ কোথায় তোরা? ”
“ রাস্তাতেই আছি। বড় আম্মু, আম্মু , ভাবি সবাই একসাথে আমরা। তুই উমর ভাইয়া কে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আয়। ইনশাআল্লাহ বাড়ি ফিরে সব কথা বলব। ”
“ আচ্ছা আমি রওনা হচ্ছি। ”
“ আচ্ছা, সাবধানে আসিস। ”
এখানেই কথা শেষ হয় দুই বান্ধবীর। ইয়াসমিন বেগম বলেন,
“ তোমরা বাড়ি থেকে বেরোনোর পর এই অব্দি যত নাম্বার দিয়ে কল করেছি আমাদের কণ্ঠ শুনেই কল কেটে দিত ও! আর এখন তোমার কণ্ঠ শুনতেই দেখলে মেয়ের কি খুশি…! ”
শাশুড়ির কথার পৃষ্ঠে নীরব রইল হুমায়রা। প্রতি উত্তর করার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পেল না শব্দ ভান্ডারে।
দীর্ঘ পথ শেষ করে একটা সময় পরিচিত মির্জা নিবাসের গেইটে এসে গাড়িটা থামল। আস্তে ধীরে ভিতর থাকা সকলে গাড়ি থেকে নেমে এলো। কৃশান আরো আগেই পৌঁছে গেছে। বাগানের দিকে তার বাইকটা পার্ক করে রাখা। ওখান থেকে আনা সব মালপত্র লোকজন নিয়ে ভিতরে সেট করছে সে। মা- চাচিদের ঘরে প্রবেশ করতে দেখে এক পল সেদিকে দৃষ্টিপাত করল সে। সবার মাঝে কাঙ্ক্ষিত রমণীর অবয়ব দৃষ্টিগোচর না হতেই ভ্রূ বেঁকে গেল তার। তখনি ইয়াসমিন বেগম দরজা অব্দি এসে পেছন ফিরে ডেকে উঠলেন,
“ এই হুমায়রা? ওখানে কেন দাঁড়িয়ে আছো তুমি? ভিতরে এসো? ”
বাইরে রোদের মধ্যে এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে হুমায়রা। উদ্দেশ্য ইকরা এলে একসাথে ভিতরে যাবে। যে মেয়েটা তার জন্য এতগুলো দিন নিজের বাপের বাড়িতে পা রাখেনি। তাকে ছাড়াই কি ভিতরে যাওয়া যায়? সে ইয়াসমিন বেগমকে বলে,
“ আসছি আম্মু। ইকরা আসুক না, এসেই পড়েছে বোধ হয়। ”
কথা শুনে ভদ্রমহিলা কিছু পল অবাক চোখে থেকে হেসে ফেলেন। পরিবর্তে বর্ণমালা উচ্চারণ করার আগেই গেইটের কাছ থেকে ভেসে আসে ইকরার উৎফুল্ল স্বর,
“ সখি …….! ”
দৌড়ে এসে হুমায়রা কে ঝাপটে ধরে সে। অকস্মাৎ কাণ্ডে ব্যালেন্স হারাতে নিয়েও নিজেকে সামলে নেয় হুমায়রা। পরপর নিজেও দুহাতে জড়িয়ে ধরে সখিকে। বাকিদের সেদিকে ধ্যান নেই সকলের ছানাবড়া দৃষ্টি নিবদ্ধ উমরের কাঁধে খাড়া ভাবে নেয়া বাচ্চা টির উপর। শিশুটি ফ্যালফ্যাল নয়নে সকলকে পর্যবেক্ষণ করছে। এর মাঝেই সেখানে ছুটে আসেন ইয়াসমিন বেগম। অবিশ্বাস্য কণ্ঠে শিশুটিকে ধরে বলেন,
“ ও….? ”
“ ও আপনার নাতি উবাইদুল্লাহ বিন উমর ”
সাথে সাথেই শিশুটির ছোট্ট দেহ খানা বড্ডো আদরের সাথে আগলে নেন ইয়াসমিন বেগম। পরপর স্নেহের পরশ একে দেন নাতির পুরো মুখশ্রী জুড়ে। বারংবার উচ্চারণ করেন,
“ আমার নাতি…! ”
উবাইদুল্লাহ একবার উমরের দিক তাকাচ্ছে তো আরেকবার ইয়াসমিন বেগমের দিক। এর মাঝেই নাজমিন বেগম এসে তাকে কোলে তুলে নেয়। এভাবেই একজনের পর আরেকজনের কোল পাল্টিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ হয় তার। সবার পেছনে হুমায়রা ও ইকরা হাতে ধরে ভিতরে প্রবেশ করে। উমর ভিতরে আসতেই তার উদ্দেশ্যে সালাম চুকে কৃশান। পরপর হাসি মুখে জানতে চায়,
“ কি অবস্থা আপনাদের? ”
মনে মনে বেশ অবাক হলেও উপরে তা প্রকাশ করল না উমর। সে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর করল,
“ এইতো আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের কি খবর? কেমন কেটেছে দিনকাল? ”
“ আলহামদুলিল্লাহ। ”
কৃশানের সাথে কথা বলতে বলতেই রুমে আসে উমর। তাকে রুম অব্দি দিয়ে ড্রয়িং রুমে আসে কৃশান। প্রথমেই চোখ যায় পাঞ্জাবি পরিহিত ছোট্ট বাচ্চাটির পানে।
“ কিরে এই ছোট্ট মুসল্লী আবার কোথা থেকে আবডেট হলো! ”
তার কথায় হেসে দেয় সকলে। কৃশান কে দেখিয়ে ইকরা নিজের ছেলের উদ্দেশ্যে বলে,
“ এইযে বাবা, এটা হচ্ছে তোমার এক নাম্বারের খচ্চর মামা! তুমি কিন্তু মোটেও ওর কোলে যাবে না। ”
“ তুই বললেই হলো? ও কি তোর মতো মদন নাকি? দেখ কীভাবে আমার দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছে! বলতে জানলে এতক্ষণে ঠিকি বলে দিত- মামা আমি শুধু তোমারি কোলের দেওয়ানা…! ”
“ মোটেও না! আমার ছেলে সবার কোলে যায়না। তোমার কোলে তো আরো আগেই যাবে না। ”
“ দেখা যাক। ”
বলেই হাঁটু গেড়ে উবাইদুল্লাহর সামনে বসল কৃশান। দুহাত মেলে কিছু বলতে নিবে এর আগেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাত নাড়িয়ে কৃশানের কোলে আসতে উদ্যত হয় শিশুটি। উপস্থিত সকলের মতো কৃশানও কিছুটা অবাক হয়। যেখানে তাকে দেখলে সব বাচ্চারাই ভয় পেয়ে এসেছে সেখানে মোটেও আশা করেনি বাচ্চাটি এতো সহজে তার কোলে এসে পড়বে। তবে সে বিস্ময়ভাব প্রকাশ করেনা কৃশান। উল্টো আলতো হাতে ভাগিনাকে কোলে নিয়ে ভাব দেখিয়ে বলে,
“ মামা ভাগিনা যেখানে, সকলে লাপাত্তা সেখানে! ”
আরেক দফা হাসির রোল পড়ে ঘরময়। অতঃপর এতদিনের প্রাণহীন মির্জা নিবাস মুহূর্তেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর তিনটা পেরিয়েছে। ফ্রেশ হয়ে রুমে দুপুরের খাবার খেয়ে রুমে বসে আছে কৃশান। হুমায়রা এখন অব্দি রুমে আসেনি। ড্রয়িং রুমে বসে এখনো সবার সাথে আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত সে। শুধু একবার এসে কোনোমতে বোরকা টা খুলে গিয়েছে। তবে তখন কৃশান ওয়াশরুমে থাকার দরুন দেখতে পায়নি তাঁকে। ছেলেটার মেজাজ খিটখিটে হয়ে আছে বেশ। কিছুক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়ে শুয়া ছেড়ে উঠে পড়ে। পরপর রেডি হয়ে হাঁটা দেয় বাইরের উদ্দেশ্যে।
“ আম্মু আমি ঢাকা যাচ্ছি, ফিরতে লেট হবে। ”
ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সকল নারী সদস্যের দৃষ্টি এবার গিয়ে কৃশানের উপর পড়ল। হুমায়রাও এবেলায় ইকরার সাথে আলাপ আলোচনা বাদ দিয়ে তাকাল মানুষটার পানে। ইয়াসমিন বেগম বললেন,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৬
“ আজকে আর না গেলে হয়না? ”
“ না যেতে হবে। ”
“ আচ্ছা সাবধানে যাস! ”
কৃশান বড় বড় পা ফেলে চলে গেল। হুমায়রা সেই পথ পানে চেয়ে রইল এক দৃষ্টিতে। তবে পুরোটা সময় একবারের জন্যও তার দিকে তাকায়নি সে। মেয়েটা বুঝল- সকালের বিষয়টা নিয়ে এখনো রেগে আছে মানুষটা। ওমনিই তার মাথায় হাত। জিভে কামড় দিয়ে ভাবে- ইয়া আল্লাহ, আমিতো এখনো সকালের ঐ মিথ্যাটার জন্য ক্ষমাই চায়নি উনার কাছে। এটা কি করলাম আমি? কপালে নিশ্চয়ই দুঃখ আছে আমার….! ”
