Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪
সাঞ্জেনা শাজ

ব্যাথিত হৃদয় নিয়ে আবারও গেট পেড়িয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো শুভ্রতা। কপোল দুটো নোনাজলে সিক্ত। হাত দুটো মুঠো করতে পাড়ছে না। পা’য়ে হালকা চোট। সব মিলিয়ে ভঙ্গুর ছোট্ট দেহটা গুটি গুটি পা’য়ে এগিয়ে যাচ্ছে দু’তলার অন্ধকার রুমটার দিকে।
আধারে ডুবানো রুমটায় পা রাখতেই হুট করেই আলো জ্বলে উঠলো। ভয়ে অন্তরাত্মা খামচে উঠলো শুভ্রতার। নিজের সামনা-সামনি আবিষ্কার করলো নিজের মা’কে। এবার যেন ভয়টা আরও বাড়ল। রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে হয়ে গেল মেয়েটার মুখশ্রী।

রিমা বেগম বসে ছিলেন মেয়ের রুমে সেই কখন থেকেই। তার অভিব্যক্তি খুব একটা সুবিধার নয়, কেমন তীরের ফলার মতো তীক্ষ্ণ চাহনি। শুভ্রতাকে বেড়িয়ে যেতে দেখেছেন তিনি সেই সাথে সাথেই ওর রুমে এসে বারান্দায় দেখেছেন মেহরাদকে গাড়ি সহ। তিনি যা বোঝার তখনিই বুঝে গিয়েছেন। কিন্তু এরপর কি হয়েছে বাকি টুকু দেখার আর প্রয়োজন বোধ করেননি।
“কি ব্যাপার এতো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিল? গেলে না যে সাথে করে?”
ভয়ে শুভ্রতার গলা শুকিয়ে কাঠ। কি জবাব দিবে সে? সে তো জানেনা তার মা দেখে নিয়েছে মেহরাদকে। তাই সে মিথ্যে বলার চেষ্টা করলো,

“কিসব বলছো? আমিতো… আমি এই এই এদিকেই গিয়েছিলাম একটু বাহিরে। এখানে ঘুম আসছিলো না।”
“লজ্জা করে না মিথ্যে বলতে? এটুকু বয়সে আর কি কি শিখেছো শুনি? এই রাত বিরেতেও এক ছেলের টানে রুম ছেড়ে বেরিয়ে যাও।আবার মিথ্যে গীত শোনাও আমায়? নির্লজ্জ মেয়ে!”
শুভ্রতা মাথাটা নিচু করে নিলো। সে বুঝতে পেরেছে ধরা পরে গিয়েছে মা’য়ের কাছে। হাত দুটো অনবরত কাপতে থাকলো তার৷ রিমা বেগম মেয়েত ভয়ার্ত চেহারা দেখেও থামলেন না। একের পর পর এক কথার বান ছুড়তেই থাকলেন,

“এভাবে রাত বিরেতে রুমে, গাড়িতে নষ্টামি করো বিয়ের দোহাই দিয়ে? এই বিয়ে কেউ মেনেছে? ভিত্তি আছে এটার কোন? ঐ ছেলের ফুসলানিতে নিজের চরিত্রে দাগ লাগাচ্ছো, ছুড়ে ফেলে রেখে দিয়ে যাবে সব কেড়ে নিয়ে।। ”
শুভ্রতার মনে হচ্ছে তার কানে কেউ শিষা ঢেলে দিচ্ছে। বুকটায় অসহ্য রকমের ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। তার দেহটা থর থর করে কাপতে থাকলো। কয়েক কদম পিছু গিয়ে দেয়ালের সাথে গিয়ে ঠেকলো কাপতে থাকা ছোট্ট দেহটা।
রিমা খান মেয়ের দিকে ঘৃণা বড়া দৃষ্টি দিয়ে বের হয়ে গেলেন রুম ছেড়ে। শুভ্রতা সেদিকে তাকালো না। তার ভিতরে অসহ্য রকম যন্ত্রণা লাগছে, ঠিক সেদিনকার মতো। এখানে তো কোন ঔষধ নেই! আজ কিভাবে নিস্তার পাবে এই মরণ যন্ত্রণা থেকে? কিভাবে……

রাতটা কেটে গেলো সকলের ভিতরে অস্থিরতায়। ঘুম থেকে উঠেই ছেলের রুমের দিকে ছুটেছেন জাহানারা বেগম। দরজা খোলাই পেয়েছেন ছেলের রুমের ; এতে কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভিতরে গিয়ে ছেলেকে জ্বরের ঘোরে অবচেতন দেখে কলিজা খামচে উঠেছে ওনার।
এত্তো জ্বর! গা পুড়ে যাচ্ছে একদম। তিনি আলতাফ তালুকদারকে বলে ডাক্তার ডাকিয়ে এনেছেন বাড়িতে। চিন্তিত সকলে একের পর এক একটু পর পর মেহরাদের রুমে ঢু মারছে। কিন্তু মেহরাদের জ্বর কমার নাম নেই।
অবচেতন মেহরাদের কিছুটা হুশ ফিরতে সকলকে রুমে দেখে এক বাক্যে রুম থেকে বের হতে বলেছে অগ্যতা জাহানারা বেগম ছাড়া বাকি সকলে সুর সুর করে বেড়িয়ে গেছে রুম ছেড়ে। তবে তাদের চিন্তার অবসান ঘটেনি কারণ, মেহরাদ এরকম ঘোরতর অসুস্থ খুব কমিই হয়। আলতাফ তালুকদার অফিস থেকেও চিন্তিত হয়ে বেশ কয়েকবার খবর নিয়েছে ছেলের।
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সকলে শুভ্রতার কথা ভুলেই বসেছে এক প্রকার। তারা ব্যাস্ত অসুস্থ মেহরাদকে নিয়ে। কিভাবে এতো জ্বর আসলো? কমছে না কেন জ্বর?

দরজা আটকে রুমে বসে আছে শুভ্রতা। অঝোর দ্বারায় চোখের পানি বিসর্জন দিচ্ছে। তার এখানে আসা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। সারা রাতের নির্ঘুম সে সকালে কলেজ ড্রেস গায়ে চড়িয়ে কলেজের জন্য বের হতে গিয়েছিলো। কিন্ত তার মা রিমা বেগম তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। সাফ সাফ বের হতে নিষেধ করে দিয়েছে। এমনকি দারোয়ানকেও তাকে বের হতে দিতে নিষেধ করে দিয়েছে।
মানুষ কতো টক্সিক হয়! শুভ্রতা যত দিন যাচ্ছে ততই নিজের মানুষদের প্রতি আস্থা হাড়াচ্ছে, যেন নতুন করে চিনছে তাদের! আর একেকবার একেক রুপে তার ছোট্ট হৃদয় টা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
গতকাল মেহরাদ ভাই তাকে ফেলে চলে গেল। একটু কথাও বললো না। রাতে মা কতো গুলো বাজে কথা শুনালো। আজ শর্মিলা আন্টি কতো কটু কথা শুনালো। নিজের মা ঘর বন্ধি করে দিলো। আর কতো বার কতো রকমে সকলে তার হৃদয়টাকে ক্ষতবিক্ষত করবে?
মানছে, সে বুঝে কম। বিবেক থেকে বেশি আবেগ দিয়ে কাজ করে। তাই বলে কি তাকে বুঝে তার মতো আগলে নেওয়া যায় না! সে যাবে কার কাছে!
সারা রাত নির্ঘুম শুভ্রতা কাঁদতে কাঁদতে সেভাবেই ঘুমিয়ে গেল। তার আর জানা হলো না তার মেহরাদ ভাই তার বিরহে জ্বরে পুড়ছে। তার সাথে অভিমান করে সে-ও ভালো নেই। কখনো থাকতেই পাড়ে না!

শুভ্রতার যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন দুপুর পেড়িয়ে গেছে। বিকেলের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সূর্য হেলে পড়বে পড়বে ভাব। শুভ্রতার গালে অশ্রুর দাগ পড়ে আছে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। গা’য়ে এখনো কলেজ ড্রেস। শুভ্রতা শোয়া থেকে উঠে ওয়াশরুমে গেলো, আজও বুঝি এখানেই আটকে পড়ে থাকতে হবে! আজও বুঝি বাড়ি যাওয়া হবে না!
নিরাশ শুভ্রতা শাওয়ার নিয়ে এসে দরজা খুলে নিচের দিকে পা বাড়ালো। তখন রাগ করে নিজেই দরজা আটকে বসে ছিলো। নিচে এসে দেখলো ড্রয়িং রুম খালি, কেউ নেই। ভাত ঘুমে বোধহয় সকলে! হটাৎ ই শুভ্রতার নজরে গেলো সোফার উপরে একটি মোবাইল। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলো এটি তার মা’য়েরই ফোন।
শুভ্রতার বুকটা আচমকাই ডিপডিপ শুরু করলো। মনে মনে ভাবতে থাকলো মোবাইলটা ঠিক কিভাবে ব্যাবহার করা যায়। কাকে কল দেওয়া যায় এখান থেকে উদ্ধার হতে! মেহরাদ ছাড়া কারো নামিই আসলো না তার মাথায় প্রথম। এদিক সেদিক তাকিয়ে পা বাড়িয়ে মোবাইলটা হাতে তুলে নিলো শুভ্রতা। ঠোঁটস্থ, মুখস্ত, অন্তঃস্থ নাম্বারটা হরহর করে টাইপ করে ডায়াল করলো।

কিন্তু কোন রেসপন্স পেল না। ধুরুধুরু বুক নিয়ে শুভ্রতা বার কয়েকিই কল দিলো কিন্তু তাকে হতাশার চরমে পৌছে দিয়ে মেহরাদ ভাই কল রিসিভ করলো না। আর করবেই বা কি করে! সে যে এখনো জ্বরের ঘোরে পড়ে আছে। শুভ্রতা তো আর তা জানেনা!
এরকম চোরের মতো কাজ করা তার জীবনে প্রথম। মনে ভয় কখন না কে এসে পড়ে! যদি দেখে নেয়! কপালের চিকন ঘাম টুকু মুছে শুভ্রতা নতুন একটি নাম্বার তুললো এবার। এবার রিং হওয়ার কিছুক্ষণ পড়’ই রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো শান্তার কন্ঠঃ,
“আসসালামু আলাইকুম ছোট চাচি। ”
“আপু আমি, আমি শুভ্রতা। ”
“ওহহহ গড, শুভ্রতা! কি খবর তোর? ভাইয়ের অসুস্থতায় তোর কথা ভুলেই বসেছি আমরা। ”
শুভ্রতার অস্থিরতা যেন আরও বাড়লো। ভাইয়ের অসুস্থতা? কোন ভাইয়ের? সে নিজের বিষয়ে বলতে ভুলে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কার কি হয়েছে আপু? কার কথা বলছো?”
“মেহরাদ ভাই খুব অসুস্থ রে। ভিষণ জ্বর। কমছেই……”
আর বলা হলো না শান্তার ওপাশ থেকে কেটে গিয়েছে লাইন। ভ্রু কুচকে মোবাইলের দিকে তাকালো। কলটা কেটে গেল কেন? তবে সে নিচে গিয়ে বড় মা’কে শুভ্রতার কথা জানালো। মেয়েটার কথা সকলেই ভুলে বসেছিলো প্রায়।
রিমা বেগম শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে। তার হাতের মুঠোয় আপাতত তার ফোনটা পিষ্ট হচ্ছে। শুভ্রতা তার মা’য়ের শক্ত চোখ মুখকে গুরুত্ব দিলো না আজ। অস্থির হয়ে বললো,
“মেহরাদ ভাইয়ের নাকি শরীর ভালো না! আমি বাসায় যাবো। আমাকে যেতে দাও। ফোনটা দাও ওদের বলি বাড়ি থেকে গাড়ি পাঠাতে।”

“কেন তুমি ডাক্তার? গিয়ে চিকিৎসা করবে ওর?”
“ডাক্তার না হই। আমি যাবো মেহরাদ ভাইয়ের কাছে।”
“কোথাও যাবে না তুমি। এখন এই মূহুর্তে রুমে যাবে তুমি।”
” আমি বাড়ি যাবো। ”
“এটাও তো বাড়ি। ”
“এটা বাড়ি কিন্তু আমার না। এখানে কেউ নেই আমার। ”
“আমরা কে তাহলে?”
“তোমরাও কেউ না। নামের সম্পর্ক শুধু সব। আপন হলে এরকম করতে পারতে?”
“বড় বড় কথা বলছো? থাপ্পড় খাবে বেয়াদব মেয়ে। ”
“আমি বাড়িতে যাবো। ”
“চুপপপপ! ” ধমকে উঠলো রিমা বেগম।
এযাত্রায় চোখের জল ছেড়ে দিলো শুভ্রতা।

“ঐ ছেলে একটা বেয়াদব, সাথে তোমাকেও বানাচ্ছে বেয়াদব। নির্লজ্জের মতো এ চোখের জল ফেলা বন্ধ করো। আমি যেতে দিবো না ও বাড়ি তোমায়। এসেছো নিজের ইচ্ছেয় যাবে আমার ইচ্ছেয়।” বলেই তিনি চলে আসলেন সেখান থেকে। দারওয়ানকে তো আগেই নিষেধ করে দিয়েছে বের হতে দিতে। তাই তিনি নিশ্চিন্তে মোবাইল সাথে করে নিয়ে চলে গেলেন।
শুভ্রতা মা’র নিষেধ মানলো না। নিজের রুমেও গেলো না। সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে এলো। গেটের কাছে গেলে দারওয়ান বার বার ফিরিয়ে দিলো। শুভ্রতা অস্থির ভঙ্গিতে পাইচারি করতে থাকলো বাহিরেই। চারদিকে উঁচু উঁচু দেয়াল। তার উপরে কাচ দেওয়া যাতে কেউ ভিতরে ঢোকার সাহস না করে দেয়াল টপকে।
প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছে। শুভ্রতা কোন উপায় পেল না বের হওয়ার। তা-ও ভালো মানুষ কম বাড়িতে তাই কেউ তার খোঁজ করতে আসেনি বাইরে।

শুভ্রতা দারওয়ানের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির পিছনটায় আসলো। উঁচু দেওয়াল এর পিছনে জঙ্গল কিছুটা তারপরই রাস্তা। এ দেয়াল টপকাতে হবে যেভাবেই হোক।
গাছ আছে বেশ বড় বড়। কিন্তু, শুভ্রতাতো তেমন একটা ভালো গাছ চড়তে পাড়ে না!
পাড়ে না তো কি হয়েছে! চেষ্টা করলো শুভ্রতা। চেষ্টা করলেই সব হয় যদি আল্লাহর সহায়তা থাকে। গাছে চড়ে দেয়ালের উপরে উঠলো শুভ্রতা। পা’য়ে জুতো ফুড়ে কাচ বিধছে। পা আনস্টেবেল। কোনরকম লাফ দিলো দেয়ালের উপর থেকে।
হাতের কনুই ছিলে গিয়েছে। একে তো রাতের ক্ষত তালুতে এখন আবার কনুই। শুভ্রতার জীবিনে বুঝি একের পর এক পরিক্ষা শুরু হয়েছে! ভালোবাসার পরিক্ষা!
কিছু পড়ার শব্দে দারওয়ান পিছনের দিক এসে দেখে গেলেন কিন্তু আশানুরূপ কিছুই দেখলেন না। আবার চলে গেলেন গেটের কাছে। তার কল্পনার বাইরে কেউ এই উঁচু দেওয়াল টপকে বের হবে।

প্রায় দশ মিনিট হেটে মেইন রাস্তায় এসে উঠলো শুভ্রতা। রাস্তায় এসে তার মনে পড়লো তার হাতে টাকা নেই। এক টাকা-ও না! সে কিভাবে যাবে এখন? তার কলেজ ব্যাগে টাকা। টাকার জন্য কি আবার সে বাসায় যাবে? অসম্ভব!
কিছুতেই যাওয়া যাবে না। শুভ্রতা এভাবেই এগুলো আরেকটু সামনে। গা’য়ের টপসের ওড়নাটা ভালো ভাবে গা’য়ে জড়িয়ে নিলো। গোধুলির লাল সূর্য চারদিকে নরম কোমল আলো ছড়িয়ে রেখেছে। রাস্তায় অহরহ গাড়ি চলাফেরা করছে। এখান থেকে কি করে গাড়িতে উঠবে, কিভাবে যাবে সে নিয়ে চিন্তিত শুভ্রতা। বাড়ির গাড়ি ছাড়া তার কখনো নরমালি দূরে কোথাও যাতায়াত হয়নি। রিক্সা সি এন জি এগুলোতে চড়া হয়নি বলেই মনে হয় তার। কিন্তু আজকে এগুলোই ভরসা। কিন্তু তার কাছে যে টাকা নেই!
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে শুভ্রতা রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলো। প্রায় মিনিট পাঁচেকের পর একটা চি এন জি এসে থামলো তার সামনে। পুরো খালি সি এন জি। শুভ্রতা এগিয়ে গিয়ে আস্তে করে শুধালো,
“আমাকে ***** এই যায়গায় নামিয়ে দিতে পাড়বেন প্লিজ!”
অল্প বয়সি ছেলে এগুলোই এখন বেশিরভাগ সি এন জি চালায়। গাড়ির চালকটাকেও দেখে তাই মনে হলো। ছেলেটার চোখ শুভ্রতার দিকেই ঘুরপাক খেল বার দু’য়েক। তারপর বললো,

“একা নাকি?বাড়ি থেকে পালায় আইছেন নাকি আপা?”
শুভ্রতা এদিক সেদিক মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। তারপর বললো,
” একাই। তবে পালাইনি। বাড়িতেই যাচ্ছি। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, যাবেন আপনি আমায় নিয়ে? ডাবল ভারা দিবো, প্লিজ নিয়ে যান। ”
ছেলেটা রাজি হয়ে গেল। আর কিছুই না জিজ্ঞেস করে গাড়িতে উঠে বসতে বললো। এবার ডাবল ভারার জন্যই নাকি সুন্দরী মেয়ের জন্য নিতে রাজি হলো কে জানে!

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৩

“আমার কাছে টাকা নেই ভাইয়া। বাড়িতে গেলে তখন একেবারে আপনার ভারার টাকা দিয়ে দিবো। ডাবল পাবেন চিন্তা করবেন না। শুধু তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবেন প্লিজ। ” গাড়িতে উঠে বসতে বসতে বললো শুভ্রতা।
গাড়ির ফ্রন্ট মিররে ছেলেটা শুভ্রতার দিকে কেমন চোখে তাকিয়ে রইলো। এ দৃষ্টি ভিন্ন। এরকম দৃষ্টি শুভ্রতা তার জীবনে দেখেছে কি না সন্দেহ! পরিবারের ছত্রছায়ায় বড় হওয়া মেয়েটা রাস্তার মানুষ রুপি হিংস্র জন্তু জানোয়ারদের চিনবে না এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু এ জানোয়ারদের থেকে শুভ্রতাকে কে রক্ষা করবে? কিভাবে বাচবে মেয়েটা? কে বাচাবে?

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫