Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৪
সাঞ্জেনা শাজ

শুভ্রতাদের পরিক্ষা এগোচ্ছে গুটি গুটি পায়ে। গত দু’সপ্তাহের মধ্যে বাকি সব পরিক্ষা শেষ। সবে আর দুটো বাকি তার। আর সোহানার একটা। তার হায়ার মেথ আর আই সি টি। সোহানার শুধু আই সি টি বাকি আছে।
চোখ মুখ অন্ধকার করে হায়ার মেথ করছে শুভ্রতা। তার সব চ্যাপ্টার প্রায় করা। আজ সন্ধ্যায় দ্বীপ ভাইয়া’ও বেশ খানিক চ্যাপ্টার বুঝিয়ে দিয়েছে। তবে বুঝালেও! তার মেহরাদের কাছ ছাড়া কারো পড়াই মাথায় খুব কম ঢুকে। বিশেষ করে হায়ার মেথ! কিন্তু মেহরাদ ভাই তো এখনো বাড়ি আসেনি। কখন আসবে আজ?

ঘড়ির দিকে তাকালো শুভ্রতা, প্রায় সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছে। এতো দিন রাত হলে মেহরাদ ভাই যখনিই বাড়িতে আসতো তাকে আর সোহানাকে আধা ঘন্টার জন্য হলেও রুমে নিয়ে লেসন দিতো। সেদিন কি হলো,
সে আর সোহানা গেল মেহরাদ ভাই আসার পর তার রুমে। উনিই ডেকে ছিলো। তারাও গেল বই টই নিয়ে। কিন্তু সোহানা গিয়েছিলো কিছুটা উড়ে উড়ে। তার পরিক্ষা নিয়েও তেমন মাথা ব্যাথা ছিলো না। তো সে আর সোহানা যখন পড়ছিলো, অবশ্য সোহানার পড়ছিলো বললে ভুল হবে। এ মেয়ে করছিলো ফুনিয়ার হাবিজাবি কাজ। অথচ, মেহরাদ ভাই দুনিয়া নিয়া দিলো তাকে এক ধমক! ধমকে তো ধমক! এমন ধমক! বড়মা নিচ থেকে দৌড়ে রুমে ছুটে এসেছিলো। সোহানা হতভম্ব হয়ে বরফের মতো জমে ছিলো। আর আমি! আমিতো, নাকে মুখে চোখে জল নিয়ে তাকিয়ে ছিলাম শুধু। আমি কি কোন দুষ্টমি করছিলাম? তাহলে আমায় কেন দিলো এ ধমক?

বড়মা এসে ওনাকে একটু রাগারাগি করলো, এরপর উনিও এক বাক্যে বলে দিলেন, সারাদিন অফিস শেষে এসে ওঁদের পড়া নিয়ে ডিসকাস করছি। আর এখানে বসে বসে ফাতরামি করছে। সময়ের মূল্য নেই? রেজাল্ট ঊনিশ বিশ হলে একেকটাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করতে দু মিনিট সময় লাগবে না আমার। আমার বাড়ির মান সম্মান নেই? যা তা রেজাল্ট করা নিয়ে বসে থাকবে? কোন রকমে পাশ করতে পারলেই হলো? এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলো।
সে তখন বই টই সব গুছিয়ে বুকে গুজে নিয়েছিলো। পড়বে না সে এ লোকের কাছে। কে বলেছে পড়াতে? সে তো পড়ছিলোই! তা-ও এমন করলো কেন? তখন বড় মা মাথায় হাত টাত ভুলিয়ে দিয়েছিলো। তারপর পড়তে বসিয়ে মেহরাদ ভাইকে শাসিয়ে গিয়েছিলো।
সেদিন তারা চুপ চাপ পড়ে যখন রুমে এসে পড়বে তখন তাকে ডেকে রুমে দাড় করিয়ে রেখেছিলো মেহরাদ। সোহানা এসে পরার পর রুমে দাঁড়িয়ে সে শুধু ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছিলো। তারপর এ লোক যখন তাকে আহ্লাদ করতে এসেছিলো সে সে ঝটকায় দূরে সড়ে এসেছিলো। তারপরই তো রাগী লোক খুব ই ভদ্রলোক সেজে তাকে বুঝালো,

‘বোকা, ধমকটা ছিলো সোহানার জন্য। তোকে ধমকেছি এরপর থেকে ও এমনিই লাইনে এসে যাবে। এখন শুধু ওঁকে ধমকালে কষ্ট পেতো বেশি। বিরূপ ধারণা নিতো মনে। তোকে দিয়েছি ও এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। দেখবি পরিক্ষায় অন্তত ওঁকে হেলাফেলা করতে দেখবি না। আজকের ওয়ার্নিং গুলো জরুরি ছিলো। সব সময় ফাঁকিবাজি করলেও পরিক্ষার সময় ফাঁকিবাজি করলে এটা ওর জন্যই বেড এফেক্ট হবে। এখনো সিরিয়াস না হলে বোর্ড এক্সামে ও আরও পিছিয়ে যাবে। আমি তো জানি আমার লক্ষিটা পরিক্ষার সময় গুড গার্ল হয়ে যায়।আমি বুঝালেও লক্ষি পাখির মতো বুঝে যাবে ছিচ’কাদুনিটা। ‘ বলেই চুমু খেয়েছিলো তার কপালে।

আশ্চর্য ভাবে সেদিনের পর থেকে সোহানা বেশ সিরিয়াস ছিলো এক্সামের সময় টায়। ইভেন সব গুলো পরিক্ষাই বেশ ভালো ভাবে দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ সে নিজেও বেশ ভালোই পরিক্ষা দিয়েছে।
শুভ্রতার এসব ভাবনার মাঝেই আবারও সেই ধরাম করে দরজা খোলার শব্দ পেল শুভ্রতা। হকচকিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলো, স্বপ্না। শুভ্রতা কিছু বলতে মুখ খুলবে এর আগে স্বপ্না নিজেই বিরক্ত হয়ে বললো,
“কি ছাতার মাতা পড়ায় এই চাইর চোখ ওলায়? প্রতিডাদিন দেহি ছেড়াডায় তোমগো দুইডারে অফিস থেকা আইয়া পড়তে বসায়। এই খালাম্মা ওয়ালা পোলায় পড়ায় কি তাইলে?”
“খালা তুমি কি একবারও নক কইরা আসতে পারো না? নক না কইরা আসো একটু আস্তে ধীরে তো আসবে? তুমি আসো নাকি তুফান আসে আল্লাহ মালুম!” তেতো মুখে বলে উঠলো শুভ্রতা। সব সময় তাকে ভয় পায়িয়ে দেয় এমন তুফানের মতো এসে।

“এমনেই আমু আমি। এমন কইলজা লইয়া বাইচ্চা রইছো কা, ঢং। ইশশশ, হেতাই হাম্বা দেখলে মুর্ছা যায়।” বলেই মুখ মোচড়াল। আবারও বললো,
“এই বাড়ির মহারাজায় আইছে। বই খাতা নিয়া যাইতে কইছে রুমে। যাও হের রুমে। এ রাজায় মুখ কইরা রাহে দুনিয়ার আইন্ধার। আবার বলে ফ্রেম কইরা লুকাইয়া বিয়া’ও কইরা লাইছে! মাইয়া তুমিই কেমনে এই মহারাজার ফ্রেমে পরলা খোদা জানে। আদর সোহাগ কপালে জুটবো নি তোমার সন্দেহ! মুখ তো এক দুনিয়ার নাই কইরা রাহে।” বলতে বলতেই আবার নিজের মতো মুখ মুচড়াতে মুচড়াতে বের হয়ে গেল স্বপ্না।
শুভ্রতা শুধু হা করে তাকিয়ে সেদিকে। কি থেকে কি বলে গেল! সে বুঝলো না এই দুই লোকের মধতে শত্রুতাটা কি? যখনি দেখে, মেহরাদ ভাই’য়ের নামে জিন্দেগীতে ভালো কথা শুনে না স্বপ্না খালার মুখে। শুধু এক কথা, মুখ কইরা রাখে নাকি বলে দুনিয়ার অন্ধকার। কথা কয় না! গরম চোখে তাকাইয়া থাহে, হেন তেন। আরও কতো কি!
শুভ্রতা সব কিছু সাইডে রেখে টেবিলে থাকা বই খাতা আর কলম নিয়ে ছুটলো মেহরাদের রুমের দিকে। বাকি চ্যাপ্টার গুলো একটু রিভাইস দিয়ে আসা যাক! এমনিতেই লেট হয়ে গিয়েছে!

শুভ্রতা রুমে ঢুকেই কয়েকটা কাপর বিছানার উপর ছড়নো ছিটানো, সে সেগুলোর উপরই ভসে পড়লো ততো খেয়াল না করে। মেহরাদের শার্ট, টাই, পেন্টও আছে। চেয়ে দেখলো ওয়াশুরুম থেকে পানির আওয়াজ আসছে। শাওয়ার নিচ্ছে বোধহয়! সে খাতা খুলে অংক কষতে লাগলো।
মিনিট পাচেক পর মেহরাদ বেরিয়ে আসলো। আজ সম্পূর্ণ শরীরই আবৃত। গায়ে কালো টিশার্ট কালো ট্রাউজার। এসে শুভ্রতাকে বললো,
“আগামীকাল তো হায়ার মেথ না? সব করা হয়েছে?” বলতে বলতেই বিছানার উপরের পোশাক গুলো এক হাতে গুছিয়ে নিতে থাকলো। গুছাতে গিয়ে কিছু একটা মিসিং মনে হলো। কপালে ভাজ ফেলে পুরো খাট তল্লাশী দিলো চোখে চোখে। নাহ, ছোট্ট বস্র খানা মিসিং।
শুভ্রতা তাকালো মেহরাদের দিকে। মেহরাদকে চোখে চোখে কিছু খুজতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

“কিছু খুজছেন? বসেন না কেন? অংক গুলো দেখেন!”
“তুই কর, আমি দেখছি। ওয়েট…” বলেই আবারও খুজা শুরু করলো। না পেলো না।
শুভ্রতা নিজেও অংক না করে আশে পাশে দেখছে। কি খুজছে, কে জানে ! এসে তো কাপর ছাড়া কিছুই দেখলো না।
ভাবতেই শুভ্রতার মনে হলো সে কিছুর উপর বসেছে। সে নড়ে চড়ে বসে নিচে বসার জায়গা থেকে একটা কালো রঙা underwear। শুভ্রতা না বুঝেই মুঠো পুরে হাতে নিয়ে সামনে মেলে ধরলো। ধরতে নিজেই চেচিয়ে উঠলো।
মেহরাদ ওর দিকে তাকিয়ে কাঙ্খিত বস্তু দেখতে পেয়ে ছু মে’রে নিয়ে নিলো নিজের কাছে। তাকে অবাক করে দিয়ে শুভ্রতা বলে উঠলো,

“ইয়াক, এসব জাঙ্গিয়া টাঙ্গিয়া খাটে কে রাখে? ছিহহহ, আমি এটার উপর বসে ছিলাম!!!” চোখ মুখ উল্টানোর ভঙ্গিমা করলো সে। অথচ মনে মনে সে নিজেও বেশ লজ্জা পেয়েছে। হাসছে।
মেহরাদ চোখ কটমাটালো।
“থাপরে দাত ফেলে দিবো বেয়াদব । অশিক্ষিত। Underwear এটা। এমন ভাবে ছিটকাচ্ছিস কেন? ওভার এক্টিং করবি,তোকে দিয়ে ধোয়াবো এর পর থেকে এসব। ” বলতেই দ্রুত হাতে সড়িয়ে ফেললো এটা।
শুভ্রতা চোখ উল্টালো। হরভরিয়ে বললো,
“ছিহ! কিসব বলেন? এগুলো আর আমিইই?”
মেহরাদ তীক্ষ্ণ চোখে চাইলো। বেশি নাক ছিটকাচ্ছে না?
“একবার ভাত নিয়ে বলেছিলি মনে আছে, ইয়াক ছিহহ? এখন আবার এটা নিয়ে শুরু করেছিস? ওয়েট, এর ফল ও পাবি।”

শুভ্রতা চোখ বড় বড় করে এক লাফে বিছানা থেকে নেমে দাড়ালো। সেদিন রাতের কথা মনে পরে গেল তার।
“আপনার আগে পিছেই আমি আর থাকবো না। ধুবো কি? আমি গেলাম৷ এসব জাঙ্গি….”
“আবার???? আর কোথায় যাচ্ছিস তুই? বস পড়তে৷ কোন লেইম এক্সকিউজ ধরবি, মা’র খাবি। ”
শুভ্রতা ভোতা মুখে কাউচে গিয়ে বসলো। সে আর এই বিছানাতেই বসবে না। কিসব জাঙ্গিয়া টাঙ্গিয়া ফেলে রাখে বিছানায়! সে বলেছে এসব ফেলে রাখতে! মেহরাদও শ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে ওর পাশে কাউচে গিয়ে বসলো। একে একে শুভ্রতার করা অংক গুলো চেক দিলো। যেগুলো এখনো রিভাইস করা বাকি সেগুলো করালো।
করানোর এক পর্যায়ে ঝুকে শুভ্রতার উরুর উপর হাত রাখলো অন্যমনস্কতেই৷। শুভ্রতা ফট করে তাকালো পাশ ফিরে মেহরাদের দিকে। চেহারায় বিস্ময় প্লাস অস্বস্তিতার ঘাট। ওর পাশ ফেরায় মেহরাদও তাকালো ওর দিকে। দৃষ্টি ভোলালো সমগ্র মুখশ্রীতে। তারপর নিজের হাতের অবস্থানের দিকে খেয়াল করলো।

ততক্ষণের অন্যমনস্কতা এই মূহুর্তে বিলীন হয়ে গেল।
শুভ্রতার গভীর ভাসা ভাসা চোখ দুটোয় চেয়ে থেকেই হাতের গভীরতা বাড়ালো। ছোঁয়া হলো নিগূঢ়।
শুভ্রতার হাতে থাকা কলম খানা শব্দ করে ফ্লোরে পরে গেল। থরথর করে কেপে উঠলো ফ্লোরে অবস্থিত মেহরাদের আয়ত্তের উরুখানা। তিরতির করে কাপলো চিবুক সহ পাতলা ফিনফিনে উষ্ঠ দুটো।
শুভ্রতার লাজুক অস্থিরতায় মেহরাদ ঘোরে আটকালো কিশোরীর লাজে রাঙা মুখশ্রী দেখে।
হাত খানা বেয়ে কোমরে পৌছালো। শুভ্রতা এপাশ ওপাশ মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো। মেহরাদের এক হাত শুভ্রতার ঘারে গলিয়ে মাথার পিছন ভাগের চুল আঁকড়ে ধরলো। মুখটা এগিয়ে এনে নিজের নাক ছুই ছুই করলো। সেভাবেই শুধালো,

“বেশি গভীরে পৌছে যাচ্ছি?”
শুভ্রতা লজ্জায় হতভম্ব , বাকহারা। এগুলো কি জিজ্ঞেস করার মতো কিছু! ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো। পুরো মুখ লালিমায় ছেয়ে গিয়েছে লজ্জার আবরণে। কথার তালে তালে শুভ্রতার ঠোঁট ছুয়ে যাচ্ছে মেহরাদের ওষ্ঠ।
গাঢ় একটা চুমু খেলো মেহরাদ শুভ্রতার ঠোঁটে। তারপর উরুর অন্তর্লীন প্রান্ত ঘেঁষে হাত নিয়ে পৌছলো জেগিন্সের রাবারে। দু আঙুলে সেটা টেনে শব্দ করে আবারও ছেড়ে দিল উদরের নিম্নাঞ্চলে।
“ওমাহহহহ!” শুভ্রতা ঋজু ঝুকে হাত দিয়ে চেপে ধরলো ব্যাথার জায়গায়। চোখ মুখ কুচকে রেখেছে মেয়েটা।
“আরও গভীরে পৌছবো। এ দেহের কোন রহস্য উন্মোচন বাধে থাকবে না আমার। বুঝলি?” বলেই উঠে দাড়ালো বসা থেকে।
দাঁড়িয়ে আবারও ওর দিকে তাকিয়ে বললো,

“এগুলো ধুয়ে দিয়ে যাবি৷” হাতের ইশারায় তখনকার পোশাক গুলো দেখালো।
শুভ্রতা কুচকে রাখা মুখ মুচড়ালো। মুচড়িয়ে বললো,
“ইশশশ! আমার পরিক্ষা। আমি এখন কাপড় দুবো? আর এসব জাঙ্গিয়া টাঙ্গিয়া তো ভুলেও না।”
“পরিক্ষার সব পড়া কমপ্লিট। এগুলো ধোয়া ছাড়া তোর আজ এখান থেকে বের হওয়া বন্ধ৷ ওটা হলেও ধুতে হবে। নয়তো এই হাত দেখেছিস?”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৩

“ভয় দেখান? মা’রবেন?”
“ওহহহ। নো, বেইবি। তোকে মা’রবো কেন? হোয়াই? এটা দিয়ে তোকে সর্বোচ্চ প্লেজেন্টে নিয়ে যাবো। লাইক যেখানে থেমে গিয়েছিলাম…..!”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫