Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (৩)

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (৩)

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (৩)
সাঞ্জেনা শাজ

সন্ধ্যা হতেই তালুকদার বাড়িতে হুটোপুটি লেগে গিয়েছে বাচ্চাদের৷ সোহানা শুভ্রতা ছুটোছুটি করছে বেশি। তাদের সাথে সাফিও রয়েছে অবশ্য। তাদের এই আনন্দ উল্লাসের একমাত্র কারণ হচ্ছে, তারা আজ পার্টি করছে।
থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎযাপন যাকে বলে আর কি! শুভ্রতা সোহানা ফোন দিয়ে সামান্তা আর আশিক কেও আসতে বলে দিয়েছে। দ্বীপকেও বলেছে আসতে। দ্বীপ ভাই রাজি হয়েছে। শুভ্রতার তো মনে হয় খুশিও হয়েছে বেশ!
আহারে! শুভ্রতার তখন এতো খারাপ লাগলো! মানুষটার মা নেই। আবার বড় আপাও দূরে। পারিবার নিয়ে সুন্দর মূহুর্ত কাটানোর সময়ই তো নেই! তার তো তা-ও সবাই আছে!

কিছুক্ষন পর দ্বীপকে কতক্ষণ আফসোস করে আবারও পার্টির কাজে হাত চালালো চারজন। সোহানা শুভ্রতা সামান্তা আর শান্তা চারজন মিলে ছাদটা ডেকোরেশন করছে বেশ সুন্দর করে। এইতো একটু আগেই এসেছে সকলে। চারপাশে লোহার রেলিং জুড়ে টাঙানো উষ্ণ হলুদ ফেয়ারি লাইট। আলোগুলো একদম ঝলমলে না—বরং মোলায়েম, চোখে আর মনে আরাম দেয়। কোথাও কোথাও লাইটের সাথে ছোট ছোট সাদা ফুল আর ইউক্যালিপ্টাসের ডাল জড়িয়ে দেওয়া, যেন শীতের ছোঁয়ায় ফুলের নিঃশ্বাস ছড়িয়ে যাচ্ছে।
আর মাঝখানের জায়গাটায় রাখা বড় গোল কার্পেট—গাঢ় কফি রঙের। তার উপর ছড়িয়ে দেওয়া কয়েকটা ফ্লোর কুশন আর কম্বল। সময়টা শীতকাল হওয়ায় আনন্দ পাওয়া যাচ্ছে বেশ তবে ডিসেম্বরের এই শেষ সময়টাতে যেমন শীত তার পাওয়ার দেখিয়ে দিতে চাইছে! চারদিন যাবৎ সূর্যের দেখা নেই। তবুও মানুষের আয়োজনের শেষ নেই হাড়কাঁপানো শীতকে এরা স্বাধরে গ্রহণ করে ২০২৫ কে বিদায় দিতে উল্লাসী।
আর এই উল্লাসে একটু বেশিই উল্লাসী সোহানা৷ মেয়েটার পার্টি টার্টি, মজ মাস্তি হলেই চলে। এসব শীত টিত কে মানে? সে ভাই এসব মানে না। শুভ্রতা প্রথম হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে ঠান্ডা মৃদু বাতাসে কাপছিলো ঠকঠক করে। সোহানা ত্যাছড়া করে শুনিয়েছে মেয়েটাকে,

“আমরা এখন জোয়ান মাইয়া মানুষ। কি ফার্মের মুরগীর মতো থম মেরে দাঁড়িয়ে আছিস? হাত লাগা। কাজ করলে এমনিই গরম হয়ে যাবে শরীর।”
আসলেই হুটোপুটি করে সাজাতে গিয়ে এখন গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছে তারা চারজন। শান্তা বেচারি খাটছে বেশি। সোহানা কাজ করছে কম, বকছে বেশি। শুভ্রতা করছে ধিমে ধিমে। সে এসবে অনবিজ্ঞ।
তাদের এসব সাজাতে সাজাতেই নয়টা বেজে গেলো। একপাশে বার্বিকিউ করার জন্য সব সেট করবে জাবের আর আদনান এসে। মেহরাদ এসবে থাকে কম। তাকে ডেকেও আনা যায় না। আজ আসবে কি-না তা-ও সন্দেহ! না আসুক। কিন্তু বকা ঝকা না করলেই চলে, ব্যাস!
পার্টি যেহেতু, সকলে মিলেমিশে আড্ডা টাড্ডা না দিলে কি হয়! উঁহু, একদম না! তাই তো একে একে সকলে এসে হাজির হলো ছাদে দশটার পর। সময় কম। আরেকটু পরেই সব আতশবাজি ফোটানো শুরু করবে। তারা পিছিয়ে যাবে না?

পিছলে একদম চলবে না! এপাশের সব সেট করা শেষ। ওপাশে জাবের আদনান আর দ্বীপ মিলে সব বারবিকিউ এর ব্যাবস্থা করে ফেলেছে সব। এই ব্যাবস্থা করার মধ্যেও আদনান আর সোহানা লেগে গেলো একচোট। আদনান ওঁকে কথার চেয়েও বেশি বেয়াদব ডাকলো। আর সোহানা একশো মুখ ভেঙ্গচি কাটলো।
এসবের মাঝখানেই মেহরাদ ছাদে আসলো ধীর পদাচড়নে। শুভ্রতা দেখে নিজের মুখখানা গুজো করলো সবার আগে। সন্ধ্যায় সে একটু আহ্লাদ করে থাকতে বলেছিলো তাদের সাথে পার্টিতে। তাকে দিলো এক চোখ রাঙ্গানি। তখন সে মনে মনে ভেবেছিলো, থাক চোখ এ না রাঙ্গানি দিয়েছি। ধমক টমক তো দেয়নি! আরেকটু বলে দেখি! তাই আবারও বলেছিলো,

“আমাদের সাথে থাকলে কি হয়? জাবের ভাইয়া আদনান ভাইয়া ওনারা থাকছে না পার্টিতে? আপনিও থাকেন না? আপনি বলেছেন আতশবাজি ফোটানো যাবে না৷ আমরা তা-ই মেনে নিয়েছি। এখন আপনি থাকলে কি হয়?”
মেহরাদ এবার দিলো এক ধমক। ধমকে বললো,
“এ-সব করতে টোটালি না করেছিলাম। চোখের পানি নাকের পানি দেখিয়ে গলিয়েছিস। এখন আবার আমায় সাথে টানছিস? মা’র খেতে মন চাচ্ছে?”
শুভ্রতা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হজম করেছে সে ধমক। শুভ্রতা সবটা হজম করলেও ব্যার্থ হয়ে পিছু ঘুরে আসতে নিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে একদমে বলে এসেছে,
“বুড়ো একটা! কোন রসকষ নেই। মজা টজা কিচ্ছু বুঝে না!”
মেহরাদ চোখ পাকিয়ে ওকে ধরতে যাচ্ছিলো সে দৌড়ে পালিয়ে এসেছে। তখন তাকে ধমকে এখন এসেছে। “উউউউউহহহ,ঢং!” বলেই গুজু মুখখানা মোচড়াল।

মেহরাদ জ্বলজ্বল করা নিয়ন আলোতে সবই অবলকন করলো। ছাদে পা রাখতেই শরীর শীতলতায় ছেয়ে গেলো কিছুটা। তাকে দেখেই আদনান তারা হই হই করে সেদিকে ডাক দিলো। তাই পা বাড়ালো সেদিকেই।
মেহরাদের গা’য়ে শুধু হোয়াইট টি-শার্ট জড়িয়ে। কোন জ্যাকেট ট্যাকেট নেই। শুভ্রতা খেয়াল করেছে সেটা মুখ গুজু করলেও। যেই ঠান্ডা! ঠান্ডা লাগছে না ওনার? সে তো দুটো পড়েও কাপছে দৌড়াদৌড়ি করে। অবশ্য তার শীত বেশি। সবাই বলে সে নাকি চিকন দেখে শীত করে বেশি। এ কোন আজগুবি যুক্তি সে বুঝেনা! থাক, এতো বুঝে লাভ কি!!
তাদের ডেকোরেশন সব শেষ। সোহানা সাউন্ড বক্সে ডিজে গান লাগিয়ে দিয়েছিলো কখনিই। সাফি আর সে কতক্ষণ আউলা ঝাউলা নাচলো। সাথে অবশ্য আশিকও এসে একটু আদটু জয়েন করেছিলো। তারপর আবার চলে গিয়েছে আদনানদের এদিকে। সে একবার এদিকে আসছে তো আরেকবার ওদিকে যাচ্ছে। এ নিয়েও সামান্তা তাকে কটাক্ষ করেছে। তবে আশিক পাত্তা দেয়নি ওর কথা। বেডি মানুষ! থাক তাই আপাতত বাদ!
সাফি নাচ ফেলে নিজেত গুরুকে দেখে সেখানে ছুটলো। ছুটেই বললো,

“ভাইয়া তুমি এসেছো? আমরা তো ভেবেছিলাম আসবে না।”
মেহরাদ অল্প হেসে ওর নাচে ঘেমে যাওয়া কপালের চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে সন্তপর্ণে শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“বুড়ো নাকি বলে আমি! মজা টজা কিচ্ছু বুঝিনা! তাই মজা খেতে আসলাম।”
“এ্যাহ্! ভাইয়া মজা তো করে, খায় না।” হেসে বললো সাফি।
“উঁহু । খায়-ও। তোর অজানা। বড় হলে জেনে যাবি সমস্যা নেই। ” বলতে বলতেই তার মোবাইলটা রিং হলো। অন্যান্য ফ্রেন্ডরা কল করছে। তাদের কল এটেন্ড করতে এক পাশে গেলো ট্রাউজারে এক হাত গুজে।
শুভ্রতা বড়ো বড়ো চোখে চেয়ে দেখলো আর শুনলো মেহরাদের কথা। বাবাহ! তার কথা বুঝি ইগোতে লেগেছে বেশ? তোর তো খবর করে ছাড়বে রে শুভ্রা পেলে!
ভিতর ভিতরে কতো হাবিজাবি ভাবলো শুভ্রতা। তার এসব ভাবনার মাঝে বারবার এটাই আসলো লোকটা ছাদের উত্তর পাশে যাচ্ছে কথা বলতে বলতে। সেখানে তো ঠান্ডা বাতাসটা বেশি। গা’য়ে কিচ্ছু নেই। ঠান্ডা লাগবে না?
শান্তা, সোহানা সামান্তাকে আড্ডা স্থলে রেখে শুভ্রতা নিচে নেমে এলো। মেহরাদের রুম থেকে জ্যাকেট খুঁজে আবারও রওনা দিলো ছাদের উদ্দেশ্যে।
বাড়ির বড়রা তখন ঘুমে। তারা এসবে নেই আগেই বলে দিয়েছে। বলে, বাচ্চাদের জিনিস তারা থেকে কি করবে এ ঠান্ডায়!

এখন বেজে গেছে প্রায় এগারোটা ত্রিশ এর কাছাকাছি। সময় ঘনিয়ে আসছে। শুভ্রতা ছোট ছোট কদমে কথা বলতে ব্যাস্ত মেহরাদের দিকে এগিয়ে গেলো। গিয়ে পাশে দাড়ালো। মেহরাদ ভ্রু ভাজ করে তার দিকে তাকাতেই হাতের মধ্যখানের জ্যাকেটটা এগিয়ে দিলো মেহরাদের দিকে।
মেহরাদের কানে ফোন চাপা। সে কানে ফোন চেপেই একবার চোখের ইশারায় না বুঝালো যে লাগবে না। তারপর কি মনে করে আবার নিজের এক হাত বাড়িয়ে দিলো অর্থাৎ পড়িয়ে দিতে তাকে।
শুভ্রতা হা সদৃশ করলো মুখ খানা। সে পড়িয়ে দিবে। সকলে দেখবে না? লজ্জা না এটা?
সে চেয়ে দেখলো সকলে অলরেডি তাকিয়ে তাদের দিকে।মিটিমিটি হাসছে যেনো! সে আবার তাকালো মেহরাদের দিকে। মেহরাদ হাত নামিয়ে নিতে যাচ্ছিলো শুভ্রতা দ্রুত পড়িয়ে দিলো জ্যাকেট খানা এ বাহুতে তারপর ঘুরে অপর দিকে গেলে মেহরাদ সে কানের ফোন এ কানে এনে ওই হাত বাড়িয়ে দিতে ও হাতেও পড়িয়ে দিলো। তারপর এসে দ্রুত আবার সকলের সাথে বসে পড়ল। এরপর থেকে তাদের সকলের ঠাট্টা মশকার বলির পাঠা হলো বেচারি। আদনান তো একবার চেচিয়েই বলে উঠলো,
“এই শুভ্রতা? আমরাও তো শীতের পোশাক ছাড়া কাজ করছি। কই একবারও তো কিছু বললে না? মায়া নেই না? সব একজনের জন্য রেখে দিয়েছো। ” সকলে তখন অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলো।
শুভ্রতার তো লজ্জায় শীতেই ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে হয়ে গিয়েছে। লাল গোলাপ হয়ে গিয়েছিলো বেচারি সকলের ঠাট্টায়। তারপর মেহরাদ ধমকাতে সব থেমেছে।
এভাবেই হাসি মজা আড্ডাতে সময় গড়িয়ে তারা ২০২৫ কে বিদায় দিয়ে নতুন বছরে পদার্পণ করলো।

হ্যাপি নিউ ইয়ার উৎযাপন শেষ। সকলের আড্ডা খাওয়া দাওয়া-ও শেষ পর্যাতে। সময় তখন একটার ঘরে। সাফি ঢুলতে ঢুলতে কোন রকম খেয়ে নিচে নেমে গেছে কখনই। বাকি সবারই তেমন অবস্থা। আদনান তাদের জন্য গেস্ট রুম খুলে দেওয়া হয়েছে। সামান্তা থাকবে সোহানার সাথে। তারা রুমেও গিয়েও উড়া ধুরা নাচবে এরকমই প্ল্যান তাদের। তাই খাওয়া শেষ হতেই ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে নেমে গিয়েছে দু’জন।
শান্তা আর শুভ্রতা সহ সকলে সবটা গুছিয়ে ফেললো। শান্তা চলে গেলো তারপর। আদনান বাকি সকলকে নিয়ে ফুটলো বন্ধুকে রেখে। বন্ধুকে চিনতে তো আর বাদ রাখেনি এখনো তাই না!
সকলে নেমে গেলেও শুভ্রতা আকাশে উড়া গুটি কয়েক ফানুশ দেখে হা করে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে রেলিং ধরে। তার এগুলো এত্তো ভালো লাগে! কিন্তু এতে রিক্স! কখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়! তাইতো মেহরাদ মানা করাতে তারাও মেনে নিয়েছে। তাদের ক্ষনিকের উল্লাসের জন্য কারো যদি ক্ষতি হয়ে যায়, কি দরকার এমন উল্লাসের? কোন দরকার নেই। মানুষ যে কেন বুঝে না!

শুভ্রতা এতো যুক্তি মাথায় রাখলেও মুগ্ধ চোখে দেখে গেলো তিমিরে ঢাকা আকাশে রঙ বেরঙের ফানুশ। চারদিকে হই হই চিৎকার উল্লাস।
মুগ্ধ বিমোহিত শুভ্রতা প্রথমে খেয়াল করলো না। বাজির ধুম ধাম শব্দে কারো পদাচরণের শব্দ ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। তবে ঠিক তখন খেয়াল হলো যখন, দুটো বলিষ্ঠ হাত ওঁকে সহ ঘিরে রেলিং আকড়ে ধরলো।
ঝুকে মুখ নামিয়ে আনলো তার কানের কাছে। খোচাখোচা দাড়ির ঘর্ষণ পেল কানের নিম্ন ভাগে, ঘারে।
গরম ভারী নিশ্বাসের আচ্ পেল কাধে। তার গায়ে আপাতত কোন শীত পরিধেয় পোশাক নেই। কিছুক্ষণ আগেই হুটোপুটি করে ঘেমে খুলে ফেলেছিলো।
“হুউউ, আমি বুড়ো? রসকষহীন? মজা টজা বুঝি না, না?”
উল্লাসে শীত ছুতে না পারা ছোট্ট দেহখানা এতক্ষণ ঠান্ডায় কেপে না উঠলেও এযাত্রায় থরথর করে কেপে উঠলো। নিশ্বাস আটকালো জোড় দমে। এতো গভীর স্বর! চারদিকে বাজি’র শব্দ তার কাছে ফিকে মনে হলো। হৃদয় মাঝে ঝংকার তুললো অতল সমুদ্রের ন্যায় গভীর কন্ঠঃটা।
এবার মেহরাদ খিচে যাওয়া ছোট্ট দেহের মালিকের কোমরে শীতল হাতটা চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুরালো। শুভ্রতার কোমর বেকে আসতে চাইলো। হাতের শীতলতার চেয়ে ছোঁয়ার গভীরতা তার রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দিচ্ছে। শীরদ্বারা বেয়ে শীতল স্রোত নামছে। তার তো তখনকার কথা মনে পড়ছে বারবার।
শুভ্রতা নিজের দিকে ঘুরিয়ে রেলিংএ ঠেসে দাড় করালো মেহরাদ। চুপটি করে খিচে রাখা চোখ মুখে ফু দিলো। সাথে সাথেই তিরতির করে কেপে উঠলো চোখের পাপড়ি যুগোল। নরম তুলতুলে শুকিয়ে যাওয়া চিকন গোলাপি ওষ্ঠ জোড়া।

জ্বীব দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ওষ্ঠ ভিজালো শুভ্রতা। চোখ খুলে মৃদু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে শুধালো,
“কি…কিছু বললেন?”
মেহরাদ কন্ঠে যেন আফিম মেশালো। অদ্ভুত মুখভঙ্গিমা করে মাথা নেড়ে বললো,
“হু। বলেছি তো! আমার রসকষ আছে প্রচুর। এখন সেটা প্রমান কিভাবে করবো তোর কাছে? ওয়ে জানা আছে তো? না-কি প্রাক্টিকেলি করে দেখাতে হবে।”
“নাহ…নাহ। কইচ্ছু দেখাতে হবে না। ভু…ভুল বলেছি তখন আমি।” ক্রমান্বয়ে মাথা নেড়ে বললো শুভ্রতা।
“উঁহু। আমিতো দেখাবোই। ”
শুভ্রতা ভরকালো। ভরকে মেহরাদের দিকে মুখ উচিয়ে শুধালো,
“কি দেখাবেন? ”
“রসকষ!”
তারপর নীরবতা কিয়ৎক্ষন। শুভ্রতার গলা ঠোঁট শুকিয়ে আসছে বারবার। ত্বক ছাড়িয়ে উষ্ণতা বের হচ্ছে। পুরো মুখশ্রী রক্ত লাল।
মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় তাকিয়ে থাকা মেহরাদ নিজের বৃদ্ধা আঙুল বাড়িয়ে চেপে ধরলো শুষ্ক কোমল ওষ্ঠজোড়া। শুভ্রতার সাথে তার নিজের আঙুলটাও একটু কেপে উঠলো।
ওষ্ঠ ফুরে তপ্ত ঘনঘন নিশ্বাস ত্যাগ করতে করতে নিজের নিশ্বাসের ইতি ঘটালো নরম কোমল ওষ্ঠজোড়ার গভীরে।
দু’জনের তপ্ত গরম নিশ্বাসের আনাগোনা হলো মধ্যভর্তিতে।
কর্ন গাল গলিয়ে এক হাত পৌছালো ঘারের কাছে। আরেকহাত নিজের সর্বোচ্চ কৃতিত্ব ফলাচ্ছে সমগ্র লতানো বাকা খাজের কোমড় জুড়ে। সেখানেই থেমে নেয়। এর বিস্তৃতি নাজুক দেহের অন্তপ্রান্তে।
একটি তপ্ত গভীর চুমু শেষে দু’জনেই হাপিয়ে উঠলো। নিশ্বাস ছেড়ে বারংবার মেহরাদ আওড়ালো,

“ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। আমার ভালোবাসাকে খুউউউউব ভালোবাসি। ”
শুভ্রতার কাছে এ শব্দ গুলো এতো মধুর লাগলো! ইশ, একটা টেপ রেকর্ডার দিয়ে রেকর্ড করে রাখা যেতো! তাহলে একটু পর পর শোনা যেতো।
“আমি এর চেয়েও বেশি। ” শুভ্রতা বললো বড়ো গলায়৷
মেহরাদ এক ভ্রু উচু করলো। তাড় স্বরে শুধালো ,
“কি এর চেয়েও বেশি…?”
“ভালোবাসি এর চেয়েও বেশি। ”
“হু? আমার চেয়েও…? কই এতো ভালোবাসা?”
“কেন? এই যে… এই হৃদয়ে। ” শুভ্রতা চোখের ইশারায় নিজের বুকের বা পাশটা দেখালো।
মেহরাদ নিজের বরফ শীতল হাতখানা চাপলো হৃদস্থলে। শুভ্রতা যেন থরথর করে কেপে উঠলো। সে হাতের উপর হাত চাপলো। চাইলো মেহরাদের দিকে। মেহরাদের ঠোঁটের কোনায় রসাত্মক হাসি।
“হ্য, এতোটুকু জায়গার হৃদয়ে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসা? ” বলেই হাতের আঙুল গুলো মৃদু তালে নাচালো। শুভ্রতা চোখের চাহনিতে শাসাতে চায়। আটকাতে চায় আঙুলের নড়ন চড়ন। তবে মেয়েটা বরাবরই হার মানে মেহরাদের কাছে শেষে। শেষ রাস্তা হিসেবে নিজেকে মিলিয়ে নেয় মেহরাদের প্রস্বস্থ বুকে।
হাত দুটো দিয়ে আকড়ে ধরে পিঠ।

মেহরাদ আবারও হাসলো একটু। ওঁকে চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো সম্পূর্ণ রুপে। নিজের জ্যাকেট দ্বারা ঘুরে নিলো শুভ্রতার পাতলা চিকন দেহখানা। একবার না বারবার চুমু খেলো মাথার মধ্যভাগে। আর রসকষের প্র‍্যাক্টিকেল তুলে রাখলো সামনের জন্য এটাও জানিয়ে রাখলো। এখন শুধু ডেমো ছিলো।
দেহে মিশে থেকেই শুভ্রতা হটাৎ করে বলে উঠলো,
“নিউ ইয়ার উপলক্ষে আমায় গিফট দিবেন না?”
“দিতে চাই তো।”
“দিন তাহলে। কি গিফট দিবেন এবার শুনি..? ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (২)

“রুমে গিয়ে গিফট দিতে হবে। একদম এভার লাস্টিং প্রোডাক্ট হবে। ইউনিক। যেটা শুধু তোর জন্যই বরাদ্ধকৃত। আল্লাহ চাইলে একদম মৃত্যু পর্যন্ত তোর সাথে থাকবে।”
“হু? এতো ভালো জিনিস? একদম মৃত্যু পর্যন্ত সাথে থাকবে? কি জিনিস?” সে বোকা বনে জিজ্ঞেস করলো। মাথা উচিয়ে দেখতে চাইলো মেহরাদের মুখ। তবে মেহরাদ দিলো না। আবারও মাথাটা বুক পিঞ্জিরাবদ্ধ করে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে নির্লজ্জের চুড়ান্তে গিয়ে বললো,
“একটা জেনেটিক সিগনেচার একে দিতে চাই এই ছোট্ট অস্তিত্বে । একদম ইউনিক এন্ড এভার লাস্টিং….. ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (৪)