Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫
সাঞ্জেনা শাজ

আজ শুভ্র‍তাদের পরিক্ষার শেষ। কলেজের মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে তারা সকলে। সামান্তা দাড়িয়ে প্রশ্নের সাথে উত্তর একটু আকটু মিলালো। এতেই তার কয়েক নম্বর খাতা থেকে মাইনাস হয়ে গেলো। বেচারির মন ভার হলো কিছুটা। কিন্তু সোহানার হুটোপুটিতে সেসব পালালো মন থেকে। মেয়েটা এমন ভাবে উড়ছে! কনে হচ্ছে বোর্ড এক্সাম দিয়ে শেষ করেছে।
“এই শুন? রেজাল্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত বন্ধ না! চল কোথা থেকে ঘুরে আসি। রেজাল্ট দিলে আবার সেই কলেজ প্রাইভেট কোচিং এগুলো নিয়ে পরে থাকতে হবে। আয় আজকেই প্ল্যান করি, কোথায় যাবো!” উচ্ছ্বাস নিয়ে বললো সোহানা।

“এখন না। বাড়িতে গিয়ে বুঝলি! এবার একটা লম্বা টুর দিবো ? বাসায় গিয়ে শান্তা আপুকেও সাথে নিবো। নয়তো আমাদের একা একা কোথাও দিবে না।”
“রাইট বলেছিস রে। চল।তাড়াতাড়ি বাসায় যাই৷” শুভ্রতার হাত ঝাপটে ধরে বললো সোহানা। মেয়েটা প্রচুর উচ্ছ্বসিত ঘুরতে যাওয়া নিয়ে। যত তাড়াতাড়ি বাসায় যাবে, তত তাড়াতাড়ি প্ল্যানিং করতে পাড়বে।
সামান্তা আটকালো মেয়েটাকে। তেতো গলায় বললো,
“ঢেং ঢেং করে কোথায় যাচ্ছিস? আমায় চোখে লাগে না? ফেলেয় চলে যাচ্ছিস যে? আমারটাকে আসতে দিবি তো। হাতিটা কই গিয়ে ম’রেছে কে জানে!”
বলতে বলতেই তাদের সামনে এসে আদনান দাড়ালো। অসময়ে আদনানকে দেখে ভ্রু কুচকালো মেয়ে দুটো। সোহানা কিছুটা নাক সিটকালো, এখানে আবার কি?

“কি ব্যাপার গার্লস? পরিক্ষা কেমন দিয়ে এসেছো আজ?”
সবার আগে সোহানার গলার স্বর শুনা গেল। হি হি করে দাত দেখিয়ে বললো,
“আজ পরিক্ষায় লাল বাতি জ্বালাইয়া দিয়া আইছি।” বলে নিজেই হু হু করে হাসতে লাগলো। শুভ্রতা চাপর মারলো ওর বাহুতে। মেয়েটা সব সময় ফাজলামো করে। ওকে থামিয়া বললো,
“নাহ ভাইয়া,আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে পরিক্ষা। আপনি এদিকে?”
“যাচ্ছিলাম এদিক দিয়েই। মেহরাদ কল করে জানালো তোমাদের নিয়ে যেতে। আজ নাকি তোমাদের ড্রাইভার আংকেলের শরীরটা তেমন ভালো না। তাই আর গাড়ি নিয়ে বের হতে বলে নি। আমি না আসলে ও আসতো নিতে। ভাবলাম আমিই তো যাচ্ছি এদিক দিয়ে। নিয়ে যাই।”
“ওহহহ।” বলে বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়াল শুভ্র‍তা। মনে পড়লো গত পরশুর কথা।সে এসব আন্ডারওয়্যার ধোঁয় টোই নি। বহু কসরত করে বেঁচে এসেছিলো। ইশ! সে এগুলো ধুবে!!
“আমরা নিজেরাই যেতে পারি। আপনার দরকার নেই কোন,হুহ!” সোহানা বললো তাড় স্বরে।
আদনান কপালে ভাজ ফেললো বিরক্তের। মেয়েটা অতিরিক্ত।
“তোমায় জিজ্ঞেস করেছি? ছোট ছোটর মতো থাকবে। ”

সোহানা জিভ দেখিয়ে ভেঙচি কাটলো। আদনান চোখ কপালে তুললো রাঙ্গানি দিয়ে। ধমকও দিলো বেয়াদবির জন্য। মেয়েটার মুখটা বারুদের মতো চলে! এতে অবশ্য সোহানার কিছু যায় আসে না। সে নিজের মতোই।
“আহহ! সোহানা থাম। আচ্ছা ভাইয়া চলুন। আমরা আপনার সাথেই যাচ্ছি।” বলেই সামান্তার দিকে তাকালো। তাকাতেই সামান্তা বললো,
“তোরা যা। আশিক এসে পরবে হয়তো এক্ষুনি। ভাইয়ার আবার দেরি হয়ে যাবে নয়তো। আমি একদিকেই আছি।”
শুভ্রতারা বিদায় নিলো সামান্তা থেকে। এগিয়ে গেল গেটের বাইরে গাড়ির দিকে। শুভ্রতা গিয়ে গাড়ির ডোর খুলে পিছনে বসলো। সোহানাও বসতে যেতে নিলো শুভ্রতা বাধা দিয়ে বললো, সামনে বস। নয়তো ভাইয়াকে ড্রাইভার ভাববে মানুষ।
ততক্ষণে আদনান গিয়ে বসেছে ড্রাইভিং সিটে। সোহানা খিটমিট করে গিয়ে বসলো তার পাশের সিটে না চাইতেও। গাড়ির দরজা লাগালো ধাম করে। আদনানের কলিজা কেপে উঠলো প্রায়। তার সখের গাড়ি! এভাবে নির্যাতন? সে কি যে করবে এ মেয়েটাকে!!! ওহহ, গড!
সোহানা হি হি করে দাত খিচে আদনানের মুখের দিকে তাকিয়ে ওর রাগকে আরও আস্কারা দিলো। বেচারা বহু কষ্টে ফুসতে ফুসতে নিজেকে সামলে গাড়ি স্টার্ট দিলো।

আদনান গাড়ি চালিয়ে বাড়ির দিকে না নিয়ে অফিসের দিকে নিয়ে গেল। শুভ্রতারা চিনে অফিসের রাস্তা। যাওয়া হয়েছে মাঝে মধ্যেই তাদের। তবে বেশি না। অফিসের রাস্তা দেখে শুভ্রতা শুধালো,
“আমরা বাসায় যাচ্ছি না?”
“উঁহু। মেহরাদের সাথে একটু কাজ আছে।” তারপর নিরবতা।
শুভ্রতা খুশিই হলো কিছুটা। আজ পরিক্ষা শেষ। সেও ফ্রী একদম। খালি মস্তিষ্ক সয়তানের আস্তানা। সে এখন সব সয়তান থেকে বুদ্ধি নিয়ে লোকটাকে জ্বালাবে। হা হা, কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!! শুভ্রতা মনে মনে পেখম মেলে হাওয়ায় আকাশে উড়ছে।
আধা ঘন্টার মধ্যেই শুভ্রতারা পৌছে গেল তাদের তালুকদার গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিয়ের বিশাল কোম্পানির সামনে। গাড়ি ভিতরে ঢুকলো গেট পাড়িয়ে। এবার সবার আগে ধেই ধেই করে নামলো শুভ্রতা। পরিচিত ফ্লোর তাদের। সে নেমেই উড়তে উড়তে এগুলো সামনের এন্ট্রেসের দিকে। তার চিন্তা একেবারে লিফটের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে সোহানার জন্য। ও আসুক।
“কিরে ভাইয়ের কাছে এসে কি তুই আমায় ভুলে গেলি। দাড়া আমার জন্য!” বলতে বলতেই সিট বেল্ট খুললো সোহানা। গাড়ির দরজা খুলবে তার আগেই হুমরি খেয়ে পড়লো সামনের দিকে। আবারও গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে আদনান। গেট পেড়িয়ে বের হয়েছে গাড়ি নিয়ে। সোহানা হতভম্ব! আবার কোথায় যাচ্ছে তাকে নিয়ে?
“এই কোথায় যাচ্ছেন আপনি? আমায় রেখে যান!”
আদনান জবাব দিলো না। গাড়ির স্পিড ছাড়ালো শ’য়ের ঘর। সোহানার চোখ কপালে। লোকটা পাগল টাগল হয়ে গেল নাকি? কি? ম’রে ট’রে যাওয়ার সখ জেগেছে নাকি? তা মরুক গিয়ে! তাকে সাথে নিয়ে কি? তার এখনো বিয়ে হলো না, জামাই হলো না? জামাইয়ের আদর সোহাগ কি সেটাই বুঝলো না এখনো? এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। নাহ, কিছুতেই না!

লিফটের সামনে দাড়িয়ে শুভ্রতা চিন্তিত হলো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো সোহানা আসছে না। আবারও গ্রাউন্ড ফ্লোরে গেল। ওখানে ওঁদের কাউকেই না দেখে কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলো। আদনান আর সোহানা আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে শুনে। সে এর আগা মাথা কিছুই বুঝলো না।
উপরে গিয়ে মেহরাদকে কল দিতে বলবে এটা ভেবে আবারও ভিতরে হাটা দিলো। কলেজে মোবাইল এল্যাও না। তারউপর চলে পরিক্ষা! তাই সে বা সোহানা কেউ-ই মোবাইল আনেনি বাসা থেকে সাথে।
হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে তিন তলায় এসে পৌছলো শুভ্রতা। লাঞ্চ টাইম হওয়ায় অফিস অনেকটাই খালি। সবচেয়ে কর্নারে বড় কেবিনটা মেহরাদের তার জানা। তার থেকে কিছুটা দূরে। পরিক্ষার ফাইল হাতে নিয়ে সাদা কলেজ ড্রেস পড়নে সে এগিয়ে যাচ্ছিলো কেবিনের দিকে। পথিমধ্যে বাধা পেল কোন রমনীর কর্কশ কন্ঠে।
পিছু ঘুরে তাকালো শুভ্রতা। পঁচিশ ছাব্বিশের এক রমনী। পড়নে কিছুটা মাত্রাতিরিক্ত আধুনিক পোশাক। শালনীতার শ’ও নেই। মেয়েটি আবার ডাকলো তার ডেস্ক থেকে। এই ফ্লোরের নতুন রিসিপশনিস্ট সে। কিছুদিন আগেই জয়েন করেছে।

“এদিকে আসুন। কোথায় যাচ্ছেন আপনি?” কর্কশ কন্ঠে আবারও বলে উঠলো উক্ত রমনী শুভ্রতার উদ্দেশ্যে।
শুভ্রতা এগিয়ে গেল বিনা দ্বীধায়। ডেস্কের সামনে দাড়িয়ে বললো,
“আপনার স্যার এর কেবিনে যাচ্ছি। এই যে ওই রুমে। ” আঙুল দিয়ে দেখালো সে।
“এপোয়েন্টমেন্ট আছে আপনার? অনুমতি না নিয়েই চলে যাচ্ছেন?৷ ”
“আপনি বোধহয় নতুন, তাই চিনতে পারছেন না। আনার অনুমতির প্রয়োজন নেই। যাচ্ছি আমি।”
মেয়েটা বেশ বিরক্ত হলো এযাত্রায়। চুনোপুঁটির মতো কলেজের স্টুডেন্ট! সে কি চিনবে? আবার সে নতুন কি পুরনো দেখাচ্ছে! কন্ঠ্ব আরও কর্কশতা ঢাললো,
“বিনা অনুমতিতে আপনায় যেতে দেওয়া যাবে না। এপোয়েন্টমেন্ট দেখান৷ না-হয় বেরিয়ে যান।”
শুভ্রতার একদম ভালো লাগলো না এ মেয়ের কথার টোন। মুখশ্রীতে আধার নামলো তার। তবুও বিনয়ের সাথে বললো,

“এপোয়েন্টমেন্ট তো নেই। আপনি বরং উনাকে কল করুন। করে বলুন ওনার ও…য়াইফ এসেছে।” ওয়াইফ কথাটা বলতে গিয়ে তোতলালো শুভ্রতা। সাথে এক অন্যরকম অনুভূতিও হলো ভিতরে। তা-ও বলেছে সে। সে নিজেকে কাজিন বললে অর্থাৎ নিজেকে মেহরাদের বোন বলে পরিচয় দিলে তো লোকটা জানতে পারলে রেগে যাবে। তখন? আর এমনিতেও তো বাড়িতে সকলেরই সব জানা৷
ডেস্কের সামনে দাড়ানো মেয়েটার মাথায় বুঝি বজ্রপাত হলো? থম মে’রে দাঁড়িয়ে রইলো কিয়ৎক্ষন। তার কান দুটো বিশ্বাস করতে চাইলো না। করলোও না সে৷ তার এই ইয়াং, ড্যাশিং হার্ট থ্রো বিং কি-না ম্যারেড? জাস্ট অবিশ্বাস্যকর নজরে তাকিয়ে রইলো মেয়েটা।
কতো ইতি উতি জেনে সে এই ইন্ডাস্ট্রিতে জব নিয়েছে! শুধু এই ক্রাশ বয়ের জন্য। নয়তো তার কিসের অভাব ছিলো? সে তো জানে না তার ক্রাশ বস ম্যারেড! নিশ্চয়ই মেয়েটা মিথ্যে বলছে। আলবাত বলছে। সে ফুসে উঠে বলে,

“এই মেয়ে! কিসব আজে বাজে বকছো?নিজেকে দেখেছো? রাস্তার ছাপড়ি মনে হচ্ছে তোমায়। আবার নিজেকে বসের ওয়াইফ বলছো? বয়স দেখেছো তোমার? ”
ছাপড়ি? সিরিয়াসলি? ঘেমে নেয়ে তার চেহারাটা একটু তেল চিটচিটে করছে বেশি হলে। তাই বলে ছাপড়িদের মতো লাগছে বলবে? নিজে বুড়ি হয়ে কুড়ি সেজে আমায় ছাপড়ি বলছে????
শুভতা ভস্ম করে দেওয়া দৃষ্টিতে তাকালো সামনের মেয়েটির দিকে। যে লিপে এক গাধা লিপস্টিক লাগিয়ে তাকে অপমান করে চলছে। অপমানে লজ্জায় সে বাকহারা হয়ে গেল। শিমুল তুলোর ন্যায় কোমল হৃদয়ের মেয়েটার চোখ দুটো নোনাজলে লাল টকটকে টলটলে হয়ে উঠলো। সে ওষ্ঠ দুটো নাড়িয়ে বললো,
“ছাপড়ি কাকে বললেন আপনি? আপনি জানেন আমি কে? তালুকদার বাড়ির মেয়ে আমি। আমার চৌদ্ধ গোষ্ঠীর কোম্পানি এটা।”
সামনে দাড়ানো মেয়েটা আরও আগেই বিশ্বাস হলো না এবার। এই বলে ওয়াইফ আবার বলে মেয়ে। নিশ্চিত ফ্রড হবে। সে আরও জোর পেলো মনে,

“এতটুকু বয়সে এতো মিথ্যে কিভাবে বলছো? দেখে তো বোঝা যাচ্ছে কলেজ স্টুডেন্ট। এই বয়সেই ধান্ধা শিখে গিয়েছো? এভাবেই বড়লোকদের ফাসাতে অফিসে অফিসে ঘুরে বেড়াও? ছিহহহহ্! ”
শুভ্রতা আর নিতে পারলো না। চেচিয়ে উঠলো,
“আপনার এই বস্তি পচা মুখটা বন্ধ করুন প্লিজ। না-হয় আমিও সীমা অতিক্রম করবো। এক্ষুনি এসিটেন্ট সাহেবকে আসতে বলুন। এক্ষুনি। ওয়েট, আপনায় বলতে হবে না আমিই বলছে… ” বলে শুভ্রতা গালে নোনা জল মুছে রাগে থরথর করে কাপতে থাকা হাত দিয়ে ডেস্কের উপরে থাকা ইন্টারকমে নিজেই হাত বাড়ালেন৷
সামনের রিংকি নামের মেয়েটা নিজের আস্পর্ধার চুড়ান্তে পৌছালো। শুভ্রতার হাতে বাধা দিয়ে বললো,
“স্যাররা মিটিংয়ে ব্যাস্ত। চুপচাপ এখান থেকে বের হবে। তা না হলে সিকিউরিটি ডাকিয়ে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করাবো অসভ্য মেয়ে। ”

শুভ্রতা এবার গলার সাউন্ড বাড়ালো। চেচামেচি হলো দু’জনার মধ্যেই। কেবিনে ইমপোর্টেন্ট ক্লায়েন্টের সাথে ডিল হচ্ছিলো। বাহিরের চেচামেচি সেখান পর্যন্ত পৌছালো কিছুটা । মেহরাদের বিরক্তি আকাশ পর্যন্ত ছুলো। আধারে নিমজ্জিত কেবিনের প্রজেক্টেরের সামনে দাড়ানো সুঠাম দেহের মেহরাদ দাঁড়িয়ে। এজ এ সি ই ও সে ডিল প্রজেক্ট ফাইনালের শেষ পর্যায় ছিলো। স্লিভ গোটানে হোয়াইট রঙা শার্টের। কালো টাই’য়ের নটটা ঢিলে করে এসিস্ট্যান্ট রাসেলের দিকে তাকালো। চোখের চাহনিতেই বুঝালো ‘what all this fvcking bullshits.’

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৪

রাসেল যেন খুব সহজেই স্যারের ত্যাক্ত বিরক্ত বাক্য গুলো বুঝে ফেললো। ‘ওকে স্যার’ বলে বিনা শব্দে কেবিন ছেড়ে বেরিয়ে গেল সে।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার আগেই শুভ্রতা ছুটেছে কেবিনের উদ্দেশ্যে। পিছনে ঠক ঠক করে হিলে শব্দ তুলে এগিয়ে যাচ্ছে রিংকি ওঁকে ডাকতে ডাকতে……

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৫ (২)