হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪০
সাঞ্জেনা শাজ
সোহানা, শান্তা মিলে নানু বাড়িতে পারি জমাবে আজ । তাদের প্ল্যান ভিন্ন, সেখান থেকে দু’বোন মিলে অন্য কোথাও যাওয়ার প্ল্যান আছে। অবশ্য সব-ই তাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাইয়ের কল্যানে। গতকাল সকালে তারা অসুস্থতার ভান ধরলো যখন, মেহরাদ ভাই রুমে এসে সুন্দর করে বসলেন। তারা দু’বোন তো তখন ঠিক ঠাক করে অভিনয়ের জন্য লেগে পড়েছিলো। ভাই, আস্তেধীরে এটা সেটা জিজ্ঞেস করে খবরা-খবর নিলো। তারাও দেদারসে এটা সেটা বানিয়ে বলে দিয়েছিলো। তারপর কি মনে করে যেন, মেহরাদ ভাই তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে শুধালো,
“দু’জন এক সাথে অসুস্থ হলি? হুয়াট..আর…কু’ইনসিডেন্স, হ্যাঁ? ”
মেহরাদ ভাইয়ের এরকম টেনেটেনে বলায় তারা দু’বোন ই ভ্যাবাচেকা খেয়ে একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করছিলো। আশ্চর্য! ওঁদের ভালোর জন্যই তো তারা নাটক সিনেমা করলো। এখন কি ভালো করতে গিয়ে সেধে সেধে বকা খাবে ভাইয়া থেকে! তাদের এসব চিন্তার মধ্যেই মেহরাদ ভাই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলো,
“খুব পেকে গিয়েছিস, হু? শান্তা? বিচ্ছুটার বুদ্ধি, তাই না? নয়তো ওই রুমের গবেট টার এসব বুদ্ধি জীবনেও আসবে না।”
সোহানা তখন ভাইয়ার সামনে লজ্জায় মরি মরি ভাব। যদিও সে বরাবরই নির্লজ্জ। তবুও…
“কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে? খবরদার বেশি দূরের আবদার মানা যাবে না। আমি থাকবো না, সু আরও আগেই না। তবে কাউকে সাথে পাঠাবো। আমার অবর্তমানে যে গাইডেন্স দিবে। সব ব্যাবস্থা করে দিবো। শুধু আমার গাইডেন্সে থাকতে হবে, ওকেই? ”
মেহরাদের একথা শুনে সোহানা এক লাফে বিছানা থেকে উঠে ভাইকে জড়িয়ে ধরেছে। তার ভাইয়ের নজর না লাগুক কারো। তার পুকিইই ভাই! এতো আদুরে ভাই হতে আছে? তবে সে বেশি ভাব আবার জমাতে যায়নি নয়তো কখন আবার সব কিছু শেষ করে রফাদফা করে দেয়!
চিন্তা থেকে বের হলো সোহানা। দু’বোন জোড় দার গোছগাছ করছে। তারা নানু বাড়ি থেকে সাজেক যাবে বলে ঠিক করেছে। ভাইয়াও সব ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। তবে তাদেরকে যেতে বলেছে দ্যা গ্রেট আদনান শেখ এর সাথে। সোহানা তো শুনেই মুখের চৌদ্ধটা বাজিয়েছে। তবুও ভালো যেতে তো পাড়ছে!
সব কিছু ঠিক ঠাক করে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেলো দু’বোন। ড্রাইভার পৌছে দিয়ে আসবে সে বাড়ি। বেশি দূর নয়। তাই সকলে কিছুটা চিন্তা মুক্ত। ওঁদের এই ঘুরাঘুরি দেখে রোজা হায় হুতাশ করে বললো,
“যাহ, যাহ। তোদেরই দিন। আমি পোয়াতি হয়ে আটকে পড়েছি। নয়তো আমি কিন্তু বিদেশও ঘুরে এসেছি বুঝলি?” ওর কথা শুনে সকলে হেসেছে। সান্তনা দিয়েছে। জাবের ইদানীং খুব ব্যাস্ততায় সময় পার করছে বাংলাদেশে তাদের কোম্পানির নতুন ব্রাঞ্চ খোলা নিয়ে। তবে রোজা থেকে নজর একটুও সড়েনি। এ সময় কত মুড সুইং হয়, সে স্বানন্দে রোজার রাগ জেদ ছেলে মানুষি সব কবুল করছে। সময় করে তাকেও ঘুরতে নিয়ে যাবে সেই আশ্বাসও দিয়েছে। তবে বেশি দূর নয়, সেটাও হুশিয়ারীতে জানিয়েছে।
সারা রাত বর্ষন শেষে আকাশে মিষ্টি সূর্য উঁকি দিয়েছে সেই কখন। ঝকঝকা ফকফকা আকাশে ভোরের কোমল সূর্যের আলো পরিবেশটাকে কেমন নরম কোমল মোলায়েম করে তুলেছিলো।
তবে কোমল সে সূর্যের আলো এখন তীক্ষ্ণ। কিন্তু ধ্বংসা যজ্ঞ চালানো রাতের সে রুমে পৌছাতে অপারগ। বিলাসবহুল স্যুটের কর্নারের এ রুমটি এখনো অন্ধকারে ঠাসা। বেলা কতটা গড়িয়েছে দু’জনেরই অজানা। রাসেল সাহেব কল করে করে মোবাইল ভেঙে ফেলার মতো অবস্থা। তার স্যার আর ম্যামকে নিয়ে সে খুবিই চিন্তিত। অথচ, ঘন্টা খানেক আগে ঘুমের ঘরে মোবাইল সাইলেন্ট করে ফ্লোরে ছুড়ে মারা মেহরাদ এখনো, একটা নরম তুলতুলে ছোট্ট দেহ বুকে আগলে ঘুমিয়ে আছে।
কম্ফর্টার এর ভিতরে নিজের উপরে শক্ত ভারী একটা দেহ অনুভব করলো শুভ্রতা। ওঁকে আগলে রেখেছে যেন। মস্তিষ্ক সজাগ হচ্ছে একটু একটু করে। কিন্তু চোখ দুটো খোলা দায়। এই সবেই তো ঘুমালো, না? কতক্ষণ হবে?
কারো গরম ভারী নিশ্বাস নিজের ঘার, গলা, গালের একপাশে অনুভব করলো। টেনে চোখ দুটো খুলতে চাইলো না মেয়েটা। সে ঘুমাবে, আরও ঘুমাবে। তার ঘুমের সাথে যেন সকলের শত্রুতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। সে একটু নড়াচড়া করতে চাইলো। না চাইতেও ‘আয়ায়ায়া’ বলে মৃদু শব্দ কান্না করে উঠলো মেয়েটা। দেহটাকে অবশ মনে হচ্ছে। সেই সাথে নারী দেহের ভাজে ভাজে অসহ্য বিশ ব্যাথা অনুভব করলো। অসহ্য এ ব্যাথায় ফুপিয়ে উঠলো অভিমানী মেয়েটা না চাইতেও। শরীরটা উত্তপ্ত লাভার ন্যায় হয়ে আছে। তাপদাহ বের হচ্ছে দেহ ছেড়ে। তাপের মাত্রা শ’ পেরিয়ে সেটা নিশ্চিত মেয়েটা।
আদুরে বিড়াল ছানার মতো মেয়েটার মৃদু গুঙ্গানি শুনে নিন্দ্রা ছুটলো মেহরাদের। চোখ দুটো ফোলা ফোলা লাল। অন্ধকার হাতড়ে মৃদু আলোয় ছোট্ট দেহটাকে আরেকটু টেনে বুকে মিশালো। উষ্ণতা দিতে চাইছে যেন। কোমর গলিয়ে হাত দিয়ে পিঠের নিচে হাত ভুলালো। ঘুমো ঘুমো ভারী হাস্কিস্বরে বললো,
“কষ্ট হচ্ছে, হু ? ”
আহ্লাদী শুভ্রতা সুর তুলে কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু জ্বর আর ঘুমের ঘোরে টু শব্দও করতে পারলো না। পিঠে মৃদু হাত ভুলানো অনুভব করলো। নিজেকে আরেকটু গুটিয়ে নিতে চাইলো মেহরাদের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ থেকেই।
মেহরাদের তন্দ্রা ছুটে গেলো ভালো ভাবেই। হাতরে বেড সাইড টেবিল ল্যাম্প টা জ্বালিয়ে দিলো। মৃদু আলো ছড়ালো রুম জুড়ে। মসৃন এলো মেলো চুল গুলো কপাল বেয়ে চোখে ঠেকেছে। এক হাতে ভর দিয়ে শুভ্রতার উপর থেকে একটু উঁচু হয়ে কপালের চুল গুলো ঠেলে দিলো পিছনে। আরেকটু উঁচু হয়ে শুভ্রতার দিকে তাকাতেই তড়াক করে ঘুমের দফারফা করে মেহরাদের গলা জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো শুভ্রতা। চেহারাটা আতঙ্কিত। জাপ্টে ধরে আছে মেহরাদকে। শ্বাস ফেলছে বড়সড় করে তবে গুনে গুনে যেন।
শুভ্রতার ভয় ধরতে পেড়ে গেলো বোধহয় ধূর্ত লোকটা। মেয়েটার অনাবৃতি পিঠময় রুক্ষ হাতে স্লাইড করতে করতে মৃদুস্বরে আওড়াল,
“সব তো দেখা কমপ্লিট। এখনো লজ্জা….”
শুভ্রতা বলতে দিলো না সম্পূর্ণ কথা। দুর্বল কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো। মেহরাদকে আরেকটু মিশালো নিজের অনাবৃত দেহের সাথে। মেয়েটার মুখটা কাদো কাদো। অনুভব করলো, লোকটার পরিহিত জিন্স প্যান্ট তার পেট উড়ুর কোমল চামড়ায় মিশে। অথচ সে অনাবৃত। রাতে কখন কিভাবে ঘুমিয়েছে সে নিজেও জানে না। শুধু খেয়াল আছে, মেহরাদের হাতে গোসল করতে তার শরীরের চামড়া জ্বলে পুড়ে রাখ হয়ে গিয়েছে। মেহরাদ ভাইয়ের স্বান্তনার বাণী শুনেছে। তারপর… তারপর বেহুদিশ সে মেহরাদের হাতেই বাথরুব গায়ে জড়িয়ে সোফায় ঝুমেছে। নিভু নিভু চোখ মেহরাদকে তাদের পূর্নতার স্বাক্ষীর দলিতমথিত চাদর খানা তুলতে দেখেছে। একপলক রাতের খোলা জানালায় রাতের অন্ধকার কাটতে দেখেছে। আর কিছু মনে নেই। কিচ্ছুই না…
“নিজে তো ঠিক-ই পোশাক জড়িয়েছেন। আমার গুলা কই? এই অবস্থা কেন?” কাদো কাদো কন্ঠ বললো মেয়েটা। লোকটা তার সম্পূর্ণ নারী দেহে মিশে। তার লজ্জায় অক্কাপাওয়া অবস্থা৷ আবার দূরে সড়িয়ে দিলে তাকে দেখবে এভাবে, এটা ভাবলে আরও মা/রা খাওয়ার মতো অবস্থা। কি করবে সে এখন? তার সাথে রাত থেকে যে ঝড় তোফান যাচ্ছে। লোকটা রাতে বোল্ডুজার চালিয়েছে তার উপর।
মেহরাদের হাত ছুলো তপ্ত কোমল বাক। শুভ্রতা মুষড়িয়ে উঠলো। শরীর এখনো ব্যাথায় জর্জরিত। আর কতো? সে দুর্বল হাতে সড়িয়ে দিতে চাইলো। মেহরাদ দিলে তো! সে শুভ্রতাকে টেনে আরেকটু উপরে উঠালো বালিশের। নারী দেহের কোমল বাকের মিষ্টি সুভাস নাসারন্ধ্রে ধাক্কা দিলো। পুরুষালী দেহ বিদ্রোহী হয়ে উঠতো চাইলো আবারও নতুন স্বাদ গ্রহনের জন্য। কিন্তু লোকটা নিজেকে দমালো। রাতেই মেয়েটার নাজেহাল অবস্থা করে ছেড়েছে। এখন আবার গভীর ছুলে নির্ঘাত হসপিটালাইজড করতে হবে। ট্রাবেলিংয়ের জন্য আনা স্বল্প ঔষধ সামগ্রী থেকে ঘুমের ঘড়েই প্যারাসিটামল খায়িয়ে দেওয়াতেই বোধহয় একটু টিকে আছে এখনো।
নিজেকে দমালো কিন্তু পুরো পুরি না। উষ্ণ ওষ্ঠজোড়া ছুঁয়িয়ে দিলো। নাক চেপে আওড়াল,
” আমিই তোর পোশাক। শুনিস নি, পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছে? স্বামী স্ত্রী একে অপরের চাদর স্বরুপ। এই যে আমি-ই তোর পোশাক। তোকে ঢেকে রাখার চাদর। এই যে ঢেকে রেখেছি। ”
শুভ্রতা মেহরাদের মাথার চুলগুলো মুঠোয় চাপলো। পা’য়ের তালু গুলো জ্বলে যাচ্ছে। পা কাপছে। রাতের অস্থির এলোমেলো মেহরাদকে বারবার আবার কল্পনা করছে। অথচ তার দেহ একদমই মুষড়ে পড়া। ক্ষনে ক্ষনে লজ্জায় ডুবে ম/রে যাচ্ছে। মেহরাদকে ঠেলে সড়িয়ে দিতে চাইলো। কোমর থেকে নিচ অব্দি অবশ প্রায়। তবুও নিজেকে নড়িয়ে ছাড়া পেতে চাইলো। চাপা স্বরে বললো,
“ছাড়ুন প্লিজ। আপনি আমায় মে/রে ফেলতে চাইছেন? আবার এমন করছেন কেন?” শেষের কথাটা কান্নার সুরে বললো।
মেহরাদ তপ্ত উষ্ণ চুমু খেলো। মুখ উচিয়ে শুভ্রতা মুখোমুখি হয়ে প্রগাঢ় চোখে চেয়ে রইলো মিনিট দু’য়েক। ঠোঁটের এক পাশ বেকে আসতে চাইলো। কিন্তু মেহরাদ তা সন্তপর্ণে আড়াল করে ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় বললো,
“আদরের চাদরে মুড়িয়েছি। মা/রলাম কখন? কে যেন রাতে বললো আরও ক্ষত করুন তবুও রাগ শেষ করুন? আমিতো তার কথাই রেখেছি। ”
শুভ্রতা মেহরাদের দুষ্ট স্বরের কথা শুনে চোখ মুখ কুচকে তেছড়া চোখে তাকিয়ে রইলো। তারপর দুর্বল ছোট্ট হাত দুটো দিয়েই আবারও কাধে নখ ডাবালো। মেহরাদ কিঞ্চিৎ চোখ দুটো বন্ধ করে সয়ে নিলো তা। তারপর নিজের সম্পূর্ণ কাধ ঝুকে শুভ্রতাকে দেখিয়ে বললো,
“কোথাও বাধ রেখেছিস আর? ভালো করে দেখে নয়তো সেখানেও পুড়িয়ে দিতি!” শুভ্রতা দেখলো তার নখের কারুকাজ সমস্ত বলিষ্ঠ কাধ জুড়ে। পিছনের কি অবস্থা কে জানে! শুভ্রতার মনে মনে কষ্টই হলো। আবার নিজের কথা মনে পড়ে সেই কষ্ট লাঘবও হলো কিছুটা। মিনমিন করে বললো,
“নিজে কি করেছেন? আমি অনেক জায়গায় বাদ রেখেছি। কিন্তু আপনি? আপনি একটুও বাদ রাখেন নি? সব জায়গায় ক্ষত….”
“কই দেখি? সাহস থাকলে দেখা তো…” মেহরাদ চট করেই বলে উঠলো।
শুভ্রতা চোখ বড়ো বড়ো করে চেয়ে। কি ধরিবাজ লোক। সে এগুলো কিভাবে দেখাবে? দেখানোর জায়গা? সে কম্ফর্টার এর নিচে হাতড়ে বাথরুবটা খুজলো। কোথায় গিয়ে আছে ম/রারটা? এটা পেলেও তো হতো!
শুভ্রতাকে কিছু খুঁজতে দেখে মেহরাদ উঠে বসতে নিলো। তার সাথে সাথে সমস্ত কম্ফর্টার সড়ে যাচ্ছে। শুভ্রতা চোখ খিঁচে বারন করলো উঠতে। মেহরাদ ঠোঁট কামড়ে একপেশে হাসলো। শুভ্রতার বারন শুনলো না। উপর থেকে সেভাবেই উঠে বসলো। শুভ্রতা কোনরকম পাশের বালিশ নিজের উপর টেনে নিলো উপরাংশে। মেহরাদ নির্লজ্জের চুড়ান্ত গিয়ে বললো,
“পার্ফেক্ট, হ্যাঁ?”
“ইয়া আল্লাহ….” বলে শুভ্রতা দু হাতে মুখ ঢেকে ফেললো। মেহরাদ ওর ঢেকে রাখা হাতের উপরেই চুমু খেলো। উপর থেকে উঠে গিয়ে বিছানা ছেড়ে নিচে নেমে দাঁড়িয়ে ওকে কম্ফর্টার এ ঢেকে দিলো। মোবাইলে সময় দেখে নিলো। প্রায় এগারোটা বাজে। ফ্রেশ হয়ে আসলো দু মিনিটে। গায়ে টিশার্ট জড়াতে জড়াতে শুভ্রতার দিকে এগিয়ে গেলো। মেয়েটা এখনো সেভাবেই আছে। হাত টেনে সড়াতে চাইলে মেয়েটা বাধা দিলো। মেহরাদ জোর খাটিয়ে সড়িয়ে বললো,
“আরেকটু ঘুমো, হু? আমি মেডেসিন নিয়ে আসছি। যাবো আর আসবো। উঠার দরকার নেই। আমিই এসে ফ্রেশ করিয়ে দিবো, ওকে?” বলেই চুমু খেয়ে ব্যাস্ত ভঙ্গিতে বেড়িয়ে গেলো। কোয়ালিটি টাইম পরেও স্পেন্ড করা যাবে। সামান্য প্যারাসিটামল এ এতো পেইন জ্বর সাড়বে না। ভাবতে ভাবতেই স্যুট ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।
মেহরাদের যাওয়ার পানে চেয়ে শুভ্রতা মুখ ভেঙচি কাটলো। কম্ফর্টার জড়িয়ে উঠে বসলো কুকিয়ে কাকিয়ে। নিচে নেমে অবশ পা দুটো নেড়ে দু পা এগোতেই ধপ করে পড়ে যেতে নিলো। একজোড়া বলিষ্ঠ হাত আকড়ে ধরলো ওঁকে। মেহরাদ ধমকালো ওঁকে। এক্ষুনি তো পড়তো। ভাগ্যিস সে মানিব্যাগটার জন্য এসেছিলো আবার! পাজোকোলে করে বিছানায় শুয়িয়ে দিলো আবার। সাশিয়ে বললো,
“কথা না শুনে উলটা পালটা কাজ করবি, মা/র খাবি। কথাটা মাথায় থাকে যেন?”
“দেখেছেন দেখেছেন? আবার নিজের আগের ফর্মে ফিরে এসেছেন আপনি। শুধু শুধু ধমকাচ্ছেন আমায়। ” অভিমান নিয়ে বললো মেয়েটা।
মেহরাদ গুরুত্ব দিলো না এতে। ধমকে বললো,
“এক্ষুনি পড়লে নাকে মুখে ব্যাথাটা কে পেতো? আদরের সময় আদর শাসনের সময় শাসন। রাত দিয়ে দিন মাপতে গেলে একশো ধমক খাবি৷ আমাকে ওরকম ভাবার কোন মানে নেই। ” একটু থেমে আবারও জিজ্ঞেস করলো, “কি প্রয়োজনে নিচে নামা? ওয়াশরুম যাবি?”
শুভ্রতা মাথা নেড়ে না করলো। ড্রেস আনতে যাচ্ছিলো জানাতে মেহরাদ খেয়ে ফেলা লুক দিয়ে তাকালো ওর দিকে। শক্ত চোখে চেয়ে জানালো,
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৯ (২)
“এভাবেই থাকবি আজ সারাদিন। সারা রাত। আসছি আমি। ”
মেহরাদ যেতেই শুভ্রতা নাক টানলো। সয়তান লোক একটা। দুমুখো মানুষ। রাতে না কতো আদর করলো? আদুরে ডেকে ডেকে তাকে পাগল করলো? আর এখন? পল্টিবাজ, পল্টিবাজ, পল্টিবাজ।
শুভ্রতা নিজেকে আরও ভালো করে কম্ফর্টার এ জড়ালো। দু চোখে আরও ঘুম নামছে। ক্লান্তিতে বুদে আসছে চোখ দুটো। আবার পেটে ক্ষুদা। তবুও মেয়েটা চোখ বুজেই ঘুমিয়ে গেলো সেভাবে। যা হবে পরে দেখা যাবে। এ লোকের কথা সে আর ভাববে না। ঘুমের ঘরেই বিরবির করলো, “পল্টিবাজ, স্বার্থবাজ….”
