৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৯ (৫)
রুপান্জলি
খাবার টেবিলে খাবার সাজাচ্ছেন আরশাদ জামান,, এটা বরাবরি হয়ে এসেছে। বাবা মেয়ে যখন একে অপরকে ঘিরে বাঁচতো তখন তাদের আগলে নেওয়ার জন্য কেউ আসেনি,, প্লেটে ভাত বেড়ে দেওয়ার জন্য তো দূর,, তীব্র অসুস্থতার মাঝেও দেখার মতো একটা লোক ছিলোনা। ঐ সময়টাতে আরশাদ জামান একটা বোনের অভাব ফিল করেছিলেন। মায়ের পর বোনরা নাকি সবচেয়ে আপন হয়,, একটা বোন থাকলে নিশ্চয়ই তাদের খোঁজ খবর নিতো। ছোট্ট অর্পনাকে মায়ের আদর দিতো কিন্তু উনার আর মেয়েটার লাক খারাপ ছিলো , যার ফলে আরশাদ জামানের কোনো ভাইবোন ছিলোনা। পাপ্পাকে খাবার বাড়তে দেখে এগিয়ে এলো অর্পনা,, পাপ্পাকে টেনে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিজে খাবার বাড়ার জন্য হাত বাড়াতেই পিছন থেকে ভেসে এলো গম্ভীর স্বর —
,,, থামো,, আমি বেড়ে দিচ্ছি। নয়তো তোমার পাপ্পা ভাববে উনার মেয়ে বোধয় আমাদের বাড়িতে কাজ করতে করতে কাজ শিখে গিয়েছে।
,,, দ্বীপের দেওয়া সুক্ষ্ম খোঁচাটা বুঝতে পেরে ভ্রু গুটালেন আরশাদ জামান। সহসা অর্পনার হাত ধরে টেনে পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন এবং দ্বীপকে খাবার বেড়ে দেওয়ার জন্য সুযোগ করে দিলেন। দ্বীপ ও চোখ মুখ শক্ত রেখে এগিয়ে এসে অর্পনার পাশের চেয়ারটায় বসে পরলো। পরপর একটা প্লেটে খাবার বেড়ে আরশাদ জামানের দিকে এগিয়ে দিলো। প্লেট এগিয়ে দিতেই আরশাদ জামান সেটা নিয়ে ভাত মাখাতে মাখাতে অর্পনার উদ্দেশ্য বললো– প্রিন্সেস হা করো।
,,, অর্পনা সহাস্যে হা করতে নিতেই ওর চেয়ারটা সাইড থেকে টেনে নিলো দ্বীপ,, আচমকা টানে দ্বীপের বাহুতে গিয়ে পরলো অর্পনা, সাথে সাথে আগলে নিলো দ্বীপ,, চেয়ার মিশেছে দ্বীপের চেয়ারের সাথে। দ্বীপ নিজের প্লেটে ভাত বাড়তে বাড়তে বললো — ভেলোরা আমার কাছে খাবে!!
,,, আরশাদ জামান মাখা ভাত টুকু ফিরিয়ে নিয়ে বললেন — দেখবো কতোদিন এভাবে খাওয়ানো হয়,, মেয়েকে রাজকন্যার মতো বড়ো করেছি। আমার মেয়ের বিন্দুমাত্র অযত্ন হলে তাকে ফিরিয়ে আনতে দুবার ভাববোনা।
,, দ্বীপ ভাত মাখাতে মাখাতে বললো — আমার বউ আমার রাজ্যের রানী। সে আমি সহ আমার সম্পূর্ন রাজ্যে রাজত্ব করবে। আমার মতে এখানে কম্পেয়ার খাটেনা। আর যদি ফিরিয়ে আনার সপ্ন দেখা হয়ে থাকে,, তাহলে সেটা স্বপ্ন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখা হোক। আল্লাহ ব্যাতিত এই পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে আমার কাছ থেকে আমার ভেলোরাকে কেড়ে নিতে পারবে।
,,, অর্পনা হতাশ,, বড্ড হতাশ সে। এসে থেকে শ্বশুর জামাইয়ের নিরব যুদ্ধ দেখতে দেখতে এখন তার বড্ড বিরক্ত লাগছে। রান্না করার সময় ও একপ্রকার ফাঁসাদে পরেছিলো সে। অর্পনা কিংবা দ্বীপ কেউ ই পূর্বাচলে খাবার খায়নি,, সেটা জানতে পেরে রান্না চাপাতে চেয়েছিলেন আরশাদ জামান,, অর্পনা এসেছিলো পাপ্পাকে টুকটাক সাহায্য করতে,, তখন ওর পিছন পিছন দ্বীপ ও এসেছিলো। আসার পর রান্না করা নিয়ে কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে নিরব যুদ্ধ চললো। লাস্ট মোমেন্টে অর্পনার বিপরীতে দ্বীপ ই আরশাদ জামানকে সাহায্য করলো। এটা স্বাভাবিক ছিলোনা,, দুজনেই একপ্রকার যুদ্ধ করতে করতে খাসির গোস্ত, ভাত আর ডাল রান্না করেছে। আপাতত এই দুটো ডিস দিয়েই খাবার খাচ্ছে তিনজন। দ্বীপের কথামতো ওর হাতেই খাবার খেতে হচ্ছে অর্পনার। সে খেতে খেতে একবার গম্ভীর মুখে খেতে থাকা পাপ্পার দিকে তাকালো।অর্পনার নিজেরো খুব ইচ্ছা করছে পাপ্পার হাতে একটা লোকমা খেতে,, কতোদিন হয়ে গেলো পাপ্পার হাতে খায়না সে। তাই আরশাদ জামানের তোলা লোকমাটা গ্রহনের আশায় মুখ এগিয়ে দিলো অর্পনা,, নরম স্বরে বললো — পাপ্পা দাও!!
,,, মেয়ের পানে তাকিয়ে মুচকি হেসে লোকমা এগিয়ে দিলেন আরশাদ জামান। খেতে খেতে দ্বীপের দিকে তাকালো অর্পনা,, সে লোক চোখ মুখ শক্ত করে খাবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্ঘাৎ রাগ করেছে? করলে করুক,, উনি রাগ করবে বলে কি অর্পনা তার পাপ্পার থেকে একটা লোকমা ও খেতে পারবেনা? দ্বীপকে এভাবে শক্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে অর্পনা ওর হাতের ভাজে হাত ঢুকিয়ে ফিসফিস করে বললো — একটাই তো খেয়েছি, আর খাবোনা। দিন!!
,,, দ্বীপ চোখ মুখ শক্ত রেখেই লোকমা এগিয়ে দিলো। মেয়ের প্রতি দ্বীপের কেয়ার দেখে পুলকিত হলেন আরশাদ জামান। ছেলেটা তবে খারাপ নয়,, সবসময় মুখটাকে অন্ধকার আর কঠিন করে রাখলেও মেয়েটার প্রতি বড্ড সচেতন। রাগ অভিমান ও করে দেখা যায়। এরকম সম্পর্ক গুলো খুব সুন্দর হয়,, বউরা খুব আদরে থাকে। উনার মেয়েও নিশ্চয় খুব ভালো থাকবে? ভেবেই খাওয়ার ফাকে মুচকি হাসলেন তিনি।
,,, রুমে এসে পরনের শার্ট খানা খুলে ফেললো দ্বীপ,, বড্ড গরম করছে,, যদিও বাহিরে ঝর বাদলা তবে দরজা ঝানালা বন্ধ থাকার ফলে ভিতরে বাতাস প্রবেশ করতে পারছেনা। তার উপর তারা এতোক্ষণ নিচে ছিলো বিদায় রুমের এসি ও অফ করা,, দ্বীপ কেনো যেনো সেটা চালানোর প্রয়াস করলোনা। শার্ট বিছানায় ছুড়ে ফেলে বারান্দার দরজা আর ঝানালা সব খুলে দিলো। সাথে সাথে তীব্র বাতাস ঘরময় ছড়িয়ে পরলো। ঝানালার সফেদ রঙা পর্দাটা ধপ ধপ শব্দ তুলে উড়ছে,, বিছানার চাদর খানাও এলোমেলো হয়ে গিয়েছে,, বাতাস যত প্রবেশ করছে ততোই এলোমেলো হচ্ছে অর্পনার ছোট্ট ঘর খানা। অর্পনা রুমে এসে ঘরের এমন হাল দেখে ভ্রু কুচকালো,, পরপর দ্বীপের দিকে নজর পরতেই থমকে গেলো। লোকটাকে এরকম উন্মুক্ত অবস্থায় সচারাচর দেখা যায়না। উনি নিজে থেকেই সেসব মেইনটেইন করে চলে,, মাঝে মধ্যে শার্ট ছাড়া ঘুমালেও পরনে সেন্ডো গেঞ্জি অন্তত থাকে। কিন্তু আজ কি হলো? গরম লাগছে নাকি? ভেবেই এগিয়ে গেলো অর্পনা। সামনাসামনি দাড়ালেও দ্বীপের দিকে নজর তাক করলো না,, সে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো — গরম করছে?এসি অন করে দিবো?
,,, অর্পনার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো দ্বীপ,, পরপর হাত ধরে টেনে কোলের উপর বসিয়ে দিতে দিতে বললো — হুম করছে,, এই ঠান্ডা ওয়েদারেও আমার বড্ড গরম করছে।
,,, কথাটা দুই বাক্যের হলেও দ্বীপের বলার ধরনটা ঠিক ছিলোনা। এমনিতেই লোকটার কন্ঠস্বর বড্ড ভারি। শুনলেই ভিতরটা কেঁপে উঠে,, তার উপর এরকম একটা কথা,, অর্পনাকে ঠিক থাকতে দিচ্ছেনা। শক্ত হয়ে বসে রইলো অর্পনা,, দ্বীপ দেখলো সেই শক্ত আবরন যা চাইলেই সে এক মুহুর্তে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে পারে। অর্পনার পরন ওভার সাইজ টিশার্ট আর ট্রাউজার।বহুদিন পর এমন পোশাক পরায় বড্ড আন-ইজি ফিল করছে অর্পনা। দ্বীপ এক হাতে অর্পনার কোমর আকরে ধরতেই কেঁপে উঠলো মেয়েটা। শিরশির করে উঠলো ভিতর বাহির। লোকটার হাত বন্ড ঠান্ডা,, অস্বস্তি হচ্ছে তার। ওর অস্বস্তি বুঝতে পেরে ওকে এক টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো দ্বীপ,, খেই হাড়িয়ে দ্বীপের কাধ আকরে ধরলো অর্পনা। এক হাতে ওকে শক্ত বাধনে আবদ্ধ করে,, অন্য হাত চুলের ভাজে নিয়ে,, মুখটা নিজ মুখ বরাবর এনে পাতলা অধর জোড়ার দিকে ঘোর লাগা নয়নে তাকিয়ে রইলো দ্বীপ। অর্পনাও তাকালো রুক্ষ মানবের বিড়াল চোখের দিকে। দুজনের হৃদয়ে একই আন্দোলন,, দুজনের নিশ্বাস শাক্ষি দিচ্ছে তারা একে অপরকে কতোটা গভীর ভাবে চায়। দ্বীপ বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে অর্পনার ঠোঁটের মধ্যিখানে থাকা তিলকে হাত ভুলাতেই অর্পনা আবেশে চোখ বুঝে নিলো। দ্বীপ সেই বন্ধ চোখে তাকিয়ে প্রয়োজন মতো লাইন চেঞ্জ করে ঢিপ বয়জে গাইলো —
,,, keep your lip on mine,,
And if you want I’ll tell you lies,,
Tell you I am is you life
And tell My Wife,, She’s Next in liene
,,,, Ooooh,,
,,, দ্বীপের গান শুনে চোখ মেলে তাকালো অর্পনা,, দ্বীপকে বড্ড অস্বাভাবিক লাগছে,, কেমন থেমে থেমে নিশ্বাস নিচ্ছে। অর্পনার ও একই অবস্থা,, সে দ্বীপের কাধ থেকে একটা হাত সরিয়ে ধীরে ধীরে গলার ভাজে রেখে,, সেখানে আলতো করে ছুয়ে দিতেই বড়ো সরো ঢোক গিললো দ্বীপ,, যার ফলে রুক্ষ মানবের অ্যাডম্স অ্যাপলটা উঠা নামা করলো গভীর ভাবে। অর্পনা সেদিকে দৃষ্টি রেখে নরম স্বরে বললো– আমি ই তো আপনার ওয়াইফ, তাহলে আগে পরের বিষয় আসছে কত থেকে?
,,, দ্বীপ অর্পনার মুখটা আরেকটু উপরে তুলে নিলো,, এখন তাদের মাঝে সেন্টিমিটার পরিমান দূরত্ব,, দ্বীপ আবারও মাদকিয় স্বরে প্রতিত্তোর করলো — এখন তুমি,, তারপর তুমি,, এরপরেও তুমি,, তোমার পরেও তুমি,, তার পরেও তুমি!! তুমি ব্যাতিত দ্বীপ মির্জা আর কাউকেই স্পর্শ করবেনা। আমার মাঝে সকল দখল দারি তোমার।
,,, দ্বীপের বলা কথাটা অর্পনার মনোভাবকে আরও প্রশ্রয় দিলো,, সে গলার ভাজে থাকা হাতটা ধীরে ধীরে উপরে তুলে দ্বীপের চুলের ভাজে রাখলো। বড়ো বড়ো চুলগুলো আলতো করে চেপে ধরে এরেকটু এগিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে জানতে চাইলো — ভালোবাসেন?
,,, এই মুহুর্তে এমন প্রশ্ন বোধয় আশা করেনি দ্বীপ,, কিছুক্ষণ অর্পনার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিলো,, ঠোঁটের ভাজে থাকা হাতটা সন্তর্পণে নিচে নেমে গেলো। উত্তপ্ত মনোভাব গুলো কেমন ঘোমট রুপ ধারন করলো। দ্বীপকে চোখ সরিয়ে নিতে দেখে যা বুঝার বুঝে নিলো অর্পনা। সাথে সাথে মাথায় খুন চেপে গেলো তার ,, দুহাতে দ্বীপের গলা চেপে ধরে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো — আমাকে তর প্র*স্টেটিউট মনে হয়? তর এই সুন্দর রুপ দেখে গলে যাবো আমি? আমাকে এতোটাই সস্তা মনে হয় তর? ভালো যখন বাসিস ই না,, তাহলে কোন অধীকারে ছুঁতে এসেছিস? স্বামীর অধিকারে? তকে স্বামী বলে আমি মানিনা দ্বীপ মির্জা,, আমার তালাক চাই। এই মুহুর্তে তালাক দে তুই!!
,,, দ্বীপ নিরব দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকিয়ে রইলো,, এইযে গলা চেপে ধরেছে,, সে বিষয়ে কোনো রিয়্যাকশন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেনা দ্বীপ। ওকে বিন্দুমাত্র নড়াচড়া না করতে দেখে আরও শক্ত করে চেপে ধরলো অর্পনা। এতেও ফলাফল পেলোনা,, দ্বীপ দম আটকে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। বুক উঠা নামা করছেনা,, নাক মুখ দিয়েও শ্বাস প্রশ্বাস চলাচল করছেনা। রাগের মাঝেই ঘাবরে গেলো অর্পনা। দ্রুত গলা ছে্রে গালে চাপর মারতে মারতে বললো — হেই!! আর ইউ ওকে? দম নিন ,, দম নিন প্লিজ!! ঠিক আছেন? দ্বীপ!!
,,,, তারপরেও দম ছাড়লোনা দ্বীপ,, অর্পনার ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। লোকটা তো এমনি অসুস্থ,, সে কি খুব জোরে আঘাত করে ফেললো? নিজের শক্ত আবরন ছেড়ে ফুঁপিয়ে উঠলো অর্পনা,, দ্বীপের বুকে ধাক্কা দিতে দিতে বললো — দম নিন না,, মেরে ফেলবেন আমায়? কি শুরু করেছেন এসব? দ্বীপ!! এই দ্বীপ!! কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছেন, বলুন তো।
,,, বলতে বলতে শক্ত করে আকরে ধরলো দ্বীপের প্রসস্থ বুক। সেখানে মাথা ঠেকিয়ে শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। ওকে এমন করতে দেখে ধীরে ধীরে দম ছাড়লো দ্বীপ,, বুক থেকে অর্পনার মাথাটা তুলে কপালের মাঝখানে চুমু দিলো। অর্পনা কাঁদতে কাঁদতে আবার জড়িয়ে ধরলো ওকে। বুকে মুখ গুজে অস্ফুট স্বরে বললো — দ্বীপ!! একটা কথা বলি? আজ ই বলবো তাও লাস্টবার। দেখবেন!! আপনি আমায় একদিন ভালোবাসবেন,, খুব ভালোবাসবেন। সেদিন বার বার গলা ফাটিয়ে বলবেন,, আই লাভ ইউ অর্পন,, তকে আমি আমার নিজের থেকেও বেশি ভা,ভালোবাসি কিন্তু ততোদিনে খুব দেরি হয়ে যাবে। আমার একটা বাজে স্বভাব আছে জানেন? আমায় কেউ যত্ন করে অবহেলা দিলে আমি তাকে পৃথিবী সমান অবহেলা দিয়ে ছেড়ে যাই। আমি থাকবোনা দ্বীপ,, মিলিয়ে নিবেন। আপনাকে আমি একা করে,,
,,, আর বলতে পারলোনা অর্পনা তার আগেই ওর মাথাটা তুলে ওষ্ঠ যুগল দখল করে নিলো দ্বীপ। সেকেন্ডর গতিতে অর্পনার পিঠ ঠেকলো বিছানায়,, হাত আবদ্ধ হলো দ্বীপের হাতের ভাজে। অনেকটা সময় এভাবেই পেরোলো। স্বামীর সুক্ষ্ম আদরে মন নেই অর্পনার,, সে পাথরের ন্যায় পরে রইলো। অর্পনাকে শক্ত হয়ে পরে থাকতে দেখে ওকে ছাড় দিলো দ্বীপ। দ্রুত শ্বাস টেনে নিজেকে ঠিক করার প্রয়াস চালিয়ে বললো — কোথায় যাবি তুই? বল!! আমার কাছ থেকে আবার পালাবি? কতো দূরে যাবি? তুই যেখানেই যাস তকে সেখান থেকে ছিনিয়ে এনে বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখবো অর্পন। ভালোবাসা কি জান? ভালোবাসায় কি থাকে? তকে কম আদর করি আমি? বল তর কি লাগবে? আরও আদর লাগবে? কতোটা ইম্পর্ট্যান্স চাই তর? সব এনে ফেলবো তর পায়ের কাছে। তকে একটা বাচ্চার ন্যায় আগলে রাখবো সারাজীবন। এরপরেও ভালোবাসা দিয়ে কি করবি তুই? আমি আছিনা? আমি যে তর মাঝে আবদ্ধ আছি তাতে কি তুই হেপি নয়? এরপরেও ওসব ভালোবাসার জন্য কেনো মরিয়া হচ্ছিস? ভালোবাসা ভালোনা,, আমি আর ভালোবাসবোনা। ভালোবাসলেই সেটা হাড়িয়ে যায়। তকে আমি হাড়াতে পারবোনা।
,,, বলতে বলতে অর্পনার বুকে মুখ গুজে দিলো দ্বীপ। সে পারেনা,, ভালোবাসি কথাটা কেনো যেনো স্বীকার করতে পারেনা। মন বুঝে,, সে অর্পনাকে ছাড়া এক মুহুর্ত ও বাঁচতে পারবেনা অথচ মন এটা স্বীকার করতে চায়না যে সে অর্পনাকে ভালোবেসে ফেলেছে। অর্পনা চোখ বুঝে আগের ন্যায় বিছানায় পরে রইলো। জীবন, সংসার, আপন পুরুষ কোনোটাতেই তার ধ্যান নেই। সে ডুবে আছে অলিক ভাবনায়। সেসব ভাবনার মাঝেই মনে মনে কয়েকটা বাক্য আওড়ালো– আপনাকে ছেড়ে আমি এমন এক জায়গায় যাবো,, সেখান থেকে আপনি কেনো কেউ ফিরাতে পারবেনা আমায়। দেখে নিবেন,, আমি আপনাকে আবারও অসহায় বানিয়ে ছেড়ে যাবো।।
,,, সাথে সাথে চোখ থেকে দুফোটা গরম জল গড়ালো। অর্পনা সেই জলকে ওপেক্ষা করে নিজেকে শক্ত করলো। পরপর দ্বীপের চুলের ভাজে হাত চালিয়ে বললো — ঠিক হয়ে শোন,, ঘুম পেয়েছে,, ঘুমাবো।
,,,, রাত তখন ২ টা বেজে ২৮ মিনিট। অর্পনাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে খুব শান্তিময় ঘুম দিয়েছে দ্বীপ তবে ঘুম নেই অর্পনার চোখে। প্রথম দিকে দ্বীপের সামনে ঘুমোনোর ভান করে পরে থাকলেও ঘুমানোটা আর হয়ে উঠেনি। ভঙ্গুর অর্পনা মনের সকল ব্যাথা সরিয়ে রেখে ধীরে ধীরে দ্বীপের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। লোকটা ঘুমের মাঝেও তাকে আঠার মতো শক্ত করে নিজের সাথে বেধে রাখে,, ছাড়াতে বড্ড বেগ পোহাতে হয়। যেমনটা এই মুহুর্তে পোহাতে হলো। অর্পনা নিজের পোশাক ঠিকঠাক করে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। বসার ঘর পেরুনোর সময় নিজের অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটা নিয়ে,,তার রুমের মুখোমুখি অবস্থান করা রুমের দরজাটা নিশ্বব্দে খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো। এই সময়টাতে আরশাদ জামান জেগে থাকে। গভীর রাতে কেইস নিয়ে স্টাডি করা বহুদিনের স্বভাব। দরজা খোলার শব্দ পেয়ে নোটে নজর রেখেই এক হাত বাড়িয়ে দিলেন,, অতিবো নরম স্বরে ডাকলেন — আসো মাম্মা!!
,,, পাপ্পার ডাকে মুচকি হাসলো অর্পনা,, পাপ্পা যখন তাকে এই ভাবে ডাকে তখন তার পৃথিবী সমান অপূর্ণতা এই ডাকের মাঝে মাটি চাপা পরে যায়। মন বলে অর্পনা তুই সকল পূর্নতা একসাথে লাভ করে নিয়েছিস। অর্পনা ধীরো পায়ে এগিয়ে গিয়ে পাপ্পার পাশাপাশি সোফায় বসে পরলো। পাপ্পার বাড়ানো হাতের ভাজে নিজেকে সপে দিয়ে পাপ্পার বুকে মুখ গুজলো। আরশাদ জামান কিসের যেনো একটা চার্ট বানাচ্ছিলেন,, নিশ্চয়ই কোনো কেইসের ডকুমেন্ট হবে? অর্পনা সেসব বুঝেনা। আরশাদ জামান একহাতে চার্ট বানাতে বানাতে অন্য হাতে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন — আজ বহুদিন পর তোমায় পেলাম মা,, তুমি ছাড়া বাড়িটা পুরো ফাকা পরে থাকে। তুমি নেই তাই আদিটাও আসেনা,, আগে তো রাত দিন এখানেই পরে থাকতো। তুমি ওকে মেনে নিলে, আমি, তুমি আর আদিতে একটা সুন্দর সংসার হতো মাম্মা!! আমাদের কখনো আলাদা হতে হতোনা।
,,,, পাপ্পার কথায় মলিন হাসলো অর্পনা। সত্যি ই আদিকে মেনে নিলে তাদের বাবা মেয়েকে আলাদা হতে হতোনা। কিন্তু,, তাতো অর্পনার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা। আপাতত সেসব কথা ভাবলোনা অর্পনা,, ফিরার পথে কিনে আনা বিয়ারটা পাপ্পার সামনে রেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো। বিনিময়ে আরশাদ জামান চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলেন — এখন আবার আপনার কি চাই মা?
,,, অর্পনা বিয়ারের ক্যানটা ঘুরাতে ঘুরাতে বললো — ইনফরমেশন!!
,,, না মা, মাফ করেন। আপনাকে একবার ইনফরমেশন দিয়ে দ্বিতীয়বার জীবনটা হ্যাল করে দিয়েছি। আর কোনো ইনফরমেশন আমি দিতে পারবোনা।
,,, পাপ্পার নাকোচে শব্দ করে হাসলো অর্পনা। পরপর পাপ্পার বুক থেকে মাথা তুলে কাধে হাত রেখে বললো — বাডি!! ইউ নো না? তোমার ফ্রেন্ড এমনি এমনি ইনফরমেশন চায়না তার বিনিময়ে অপশন হিসেবে অবশ্যই কিছু একটা রাখে। এই বিয়্যারটা বিডিতে নিউ লঞ্চ হয়েছে,, Floyds Dark Lord Day করকরা ১৮ হাজার ৪৬০ টাকা দিয়ে কিনেছি। বিনিময়ে দুটো ইনফরমেশন দিতে পারবেনা? সু বেড!!
,,,, অর্পনার কথায় সামান্য হাসলেন আরশাদ জামান,, ছোট বেলায় অর্পনা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে কখনো ওর সামনে এসব খাননি তিনি। যতবার খেয়েছেন ততোবার আড়ালে খেয়েছেন যেনো মেয়েটার কষ্ট না হয়। অর্পনা এটাই বিশ্বাস করে যে তার পাপ্পা এখন আর ওসব খায়না তাই প্রতিবার কিছু চাওয়ার হলে বিয়ার নিয়ে আসে। আরশাদ জামান ও সেটা নিয়ে মেয়ের মন রক্ষা করে। মেয়েকে বুঝান, সে অনুমতি না দিলে তিনি কখনোই এসব ছুয়েও দেখেন না। প্রতিবারের ন্যায় মেয়ের হাত থেকে বিয়ারটা নিয়ে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললেন — বলো কি জানতে চাও।
,,,অর্পনা রাত্রির বিষয়ে সম্পূর্ণটা খুলে বললো। সবটা শুনার পর বড্ড ব্যাথিত হলেন আরশাদ জামান। মেয়েকে কথা দিলেন, রাতের মায়ের অতিত সম্পর্কে সব ইনফরমেশন কালেক্ট করে অর্পনাকে জানাবেন। পাপ্পার কথায় পুলকিত হলো অর্পনা। সহাস্যে পাপ্পার কোলে মাথা রেখে সোফায় শুয়ে করলো। আরশাদ জামান মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে বললেন — এবার নিজের সম্পর্কে বলো মা,, কেমন যাচ্ছে তোমার দিনকাল? মনটা ভালো আছে তো?
,,, অর্পনা ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো, কতোদিন পর কেউ তার মনের খোঁজ নিলো। হাঁসার মাঝেই অর্পনার চোখ জোড়া জ্বালা করে উঠলো,, চোখের পানি লুকাতে বাবার পেটে মুখ লুকালো। আরশাদ জামান মেয়েকে শক্ত হওয়ার জন্য সময় দিলেন কিন্তু মেয়েটা নিজেকে শক্ত করতে পারলোনা। উল্টো কান্না ভেজা কন্ঠে অস্ফুট স্বরে ডাকলো — পাপ্পা!!
,,, মেয়ের কান্না ভেজা কন্ঠ শুনে থমকে গেলেন আরশাদ জামান। চার বছর ধরে মেয়ের পাথর রুপ দেখার পর এই ডাকটা বড্ড ব্যথা দিলো উনাকে। তিনি নরম স্বরে শারা দিলেন– বলো মাম্মা!!
,,, তোমার অর্পনা কি খুব খারাপ?
,,, মেয়ের করা প্রশ্নটা আরও ব্যাথা দিলো উনাকে,, মেয়েটা আজ এতো কাতর হচ্ছে কেনো? আরশাদ জামান ঢোক গিলে নিজেকে স্বাভাবিক করে বললেন– আমার অর্পনা বেস্ট!! সবার সেরা সে,, আমার মেয়ের সাথে তুলনা শব্দটাকেও তুলনা করা যায়না মা।
,,, অর্পনা তাচ্ছিল্য হেসে বললো — তাহলে আদি কেনো অর্পনাকে ভালোবাসলোনা? সে কেনো সিঙ্গার পৃথা জামানকে ভালোবাসলো? আমাকে একটু ভালোবাসতো,, আমাকে বাসতো,, আমার জন্য ফিরে আসতো। সবার সামনে অপমান করেছে, আমি মলেস্ট হয়েছি,, সব ভুলে যেতাম। ও শুধু অর্পনার জন্য আসতো,, যাকে সে পায়ের তলায় পিষে গিয়েছিলো তাকে কুড়িয়ে নিতে চাইতো। আমি সব ভুল ক্ষমা করে ওর জীবনে ফুল হয়ে থেকে যেতাম। ও এসেছিলো পৃথার কাছে। পাপ্পা!” ইমাজিন করতে পারছো? আদ্রিয়ান পৃথাকে কতোটা ভালোবেসেছে? সে পৃথাকে এতোটাই ভালোবেসেছে যে,, সেই ভালোবাসার তোপে সে ভুলেই গিয়েছে এই অর্পনাটা তার সবচেয়ে অপছন্দের ব্যাক্তি ছিলো। কতোটা ভালোবাসা থাকলে অপছন্দের ব্যাক্তিটিকেও ভালোবাসি বলা যায়। ওফফ!! ভাবলেই পৃথাকে আমার বড্ড হিংসা হয় জানো? খুব খুব!! খুব হিংসা হয়।
,,,, মেয়ের মুখে অবজ্ঞা থাকলেও ভিতরকার কষ্টটা বুঝতে পারলেন তিনি,, মেয়েকে শক্ত করতে বললেন — সবাই রত্নের কদর করতে জানেনা মাম্মা!! হিরে আর পাথরের রং কিন্তু একই, আলোতে গেলে দুটোই ঝলমল করে তবুও ও কিন্তু হিরে হিরেই হয় আর পাথর পাথরি থেকে যায়। তোমায় কেউ মুল্য দিতে পারলোনা মানে তুমি মুল্যহিন নয়,, যে দিতে পারলোনা মুলত সেই রত্ন চিনার ক্ষমতা রাখেনা।
,,, অর্পনা এবার শব্দ করে হাসলো, মুখ তুলে পাপ্পার দিকে তাকিয়ে বললো — তাহলে দ্বীপ মির্জা কেনো অর্পনাকে ভালোবাসলোনা? সে কেনো শুধু তার বউয়ের দায়িত্ব নিলো? বিয়ে করেছে বলে সেই অধীকারে করুনা দেখাচ্ছে কেনো? সেও কি তবে রত্নের কদর করতে পারেনি? নাকি রত্নের মাঝেই কোনো বেঝাল আছে? অর্পনার বেলায় সবাই এতো অবুঝ কেনো পাপ্পা? আমায় কি একটু বুঝা যায়না?
,,, আরশাদ জামানের ভয় হচ্ছে,, মেয়েটা বড্ড ভারি ভারি প্রশ্ন করে। একজন সাধারন মানুষ যেই বিষয়টসকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়,,অর্পনা সেটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। এতো ভারি ভারি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হিমসিম খায় তিনি,, তাই কিছুটা সহজ ভাবেই বললেন — দ্বীপ ছেলেটা খারাপ নয়,, তোমাকে ভালোই কেয়ার করে। একটু সময় দাও ঠিক ভালোবাসবে। হুট করেই তোমার আসল পরিচয় জানতে পেরেছে তো, তাই হয়তো ভালোবাসতে পারছেনা।
,,,, তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন ছুড়ে দিলো অর্পনা — কেনো পাপ্পা? অর্পনাদের কেনো কেউ ভালোবাসতে পারেনা? মাম্মাও বাসলোনা। কেনো বাসলোনা পাপ্পা? আমি তো তার নিজের মেয়ে,, নাড়ি ছেড়া ধন। রাত্রির মাম্মা যদি ওর দিকে তাকিয়ে সারাজীবন বিয়ে না করে থাকতে পারে তাহলে মাম্মা কেনো আমার দিকে তাকিয়ে তোমার সংসারটা করলোনা পাপ্পা? তুমি তো মাম্মাকে কষ্ট দাওনি? কেনো ছেড়ে গেলো আমাদের?
,,,, উত্তরটা জানেন আরশাদ জামান, কিন্তু মেয়েকে বলতে পারবেন না তাই চুপ রইলেন। বাবাকে চুপ থাকতে দেখে তপ্ত নিশ্বাস ফেললো অর্পনা — পা্পা! আমার কটা রুপ জানো? আমার তিনটে রুপ!! একটি হলো অর্পনা,, এইযে এই আমিটা,,উগ্র, বেয়াদব, ঘারত্যারা, অসভ্য, যে ম্যানার্সের ম ও জানেনা। দ্বিতীয়টি হলো পৃথা,, সে খুব ভালো গাইকা,, আদির ভালোবাসা। আর তৃতীয়টি হলো পারমিতা, মানে পারুর মতো হুবহু দেখতে চেহারাটা। ভেবে দেখো পাপ্পা,, এই তিনটি রুপের মাঝে আদি বেছে নিলো পৃথাকে আর দ্বীপ বেছে নিলো তার বউয়ের চেহারাকে। এখানে অর্পনার অস্তিত্ব কোথায়? অর্পনাকে কে খুঁজলো? কে ভালোবাসলো? একজন আমার গুন ভালোবাসলো আরেকজন আমার রুপ। কেউ আমায় ভালোবাসলোনা পাপ্পা,, কেউ না। আমার মাঝে আমার বলতে কিছুই রইলোনা,, ব্যাক্তি আমিটা কোনো কাজের না। আ’ম অ্যা লুজার পাপ্পা,, জাস্ট লুজার।
,,, বলতে বলতে শব্দ করো ফুঁপিয়ে উঠলো অর্পনা,, বহু কষ্টে নিজেকে সামলে রাখার প্রয়াস করেও পারলোনা। পাপ্পার পেটে মুখ গুজে শার্টটা আকরে ধরে ফোপাঁতে ফোপাঁতে বললো — পাপ্পাগো!! ও আমায় ভালোবাসলোনা পাপ্পা। ও ভালো বাসলোনা,, আমায় বরাবর রিজেক্ট করে দিলো। যতবার ওর কাছে ভালোবাসার আবদার জানালাম, ও চোখ সরিয়ে নিলো। আমি খুব খারাপ, খুব অভদ্র। কখোনো কোনোদিন নিজের স্বভাব নিয়ে আফসোস হয়নি জানো? আদি যখন এক ঘর লোকের সামনে আমার স্বভাব নিয়ে অপমান করলো,, আমি তখনো আফসোস করিনি। আজ খুব আফসোস হচ্ছে,, আমি কেনো এরকম হলাম? আমি কেনো ভালো হলামনা? আমি কেনো ভদ্র হলামনা? কেনো মেয়েদের মতো চলতে শিখলামনা? দুটো মিষ্টি করে কথাও বলতে পারিনা। ও একবার অভিযোগ করেছিলো আমি কেনো এরকম তিক্ত কথা বলি? স্বামীর মন রক্ষার্থে কেনো দুটো মিষ্টি কথা বলতে পারিনা? ও আমায় ঘারত্যাড়া বলে,, ও আমার প্রতি চরম বিরক্ত পাপ্পা। আমাকে নিয়ে শুধু অভিযোগ করা যায়। আমায় ভালোবাসা যায়না। আমি যদি কখনো মরে যাই ওকে দেখে রেখো পাপ্পা। মনে রেখো ও তোমার মেয়ের শেষ ভালোবাসা। ওর সাথে কখনো খারাপ বিহেব করনো,, ওর সাথে কথা বলার সময় মনে করবে তুমি আমার সাথে কথা বলছো। আমার পুরো অস্তিত্ব মিশে আছে ওর সাথে,, আমার অস্তিত্বকে অবহেলা করোনা। ওকে সন্তানের মতো মনে ক,,
,,, মেয়ের মাথাটা পেটের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলেন আরশাদ জামান,, মেয়ের আর্তনাদে উনার চোখ ভিজে উঠেছে। তিনি ভাঙা কন্ঠে আওড়ালেন– চুপ করো মা!! চুপ করো। কি বলছো এসব? আমার মেয়ে তো এতোটা ভঙ্গুর না, সে তো খুব স্ট্রং। একা হাতে সব ঝামেলা ওভারকাম করতে পারে। আমার মেয়েকে তো আমি এতোটা দূর্বল হতে শিখাইনি। তাহলে আজকে এরকম আচরন করছে কেনো? আমার মা!! আপনি ছাড়া আমার কে আছে বলুন? আপনার কিছু হলে আপনার পাপ্পাকে কে দেখবে?
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৯ (৪)
,,,, আগের ন্যায় ফোঁপাতে লাগলো অর্পনা,, বাচ্চাদের মতো করে কাঁদতে কাঁদতে বললো –আমি দূর্বল হয়ে পরেছি পাপ্পা,, খুব খুব দূর্বল হয়ে পরেছি। চারটা বছরে নিজের জন্য যেই শক্ত আবরন তৈরি করেছিলাম সেটা দ্বীপ মির্জা এসে ভেঙে চুর্ণ চুর্ন করে দিয়েছে। উনাকে আমি ভালোবাসি পাপ্পা, খুব খুব ভালোবাসি। তোমার মেয়ে আবারও ভালোবেসেছে তারপর ঠকে গিয়েছে,, বারবার রিজেক্ট হয়েছে। আমি আর কখনো ওর কাছে ভালোবাসা চাইবোনা পাপ্পা,, ওকে মুক্তি দিয়ে দিলাম। আর কোনোদিন ওর ভালোবাসার আশাও করবোনা। সে থাকুক নিজের আবদ্ধ ভালোবাসা নিয়ে,, আমি আর কোনোদিন সেই দাড় খুলতে যাবোনা,, সামান্য টোকাও দিবোনা।
