Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২
রুপান্জলি

হসপিটালের ওয়েটিং রুমে বসে আছে সবাই,, অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলছে। হাতের, পায়ের সিরা কেটে যাওয়ায় অনেকটাই ব্লাড লস হয়েছে সেই সাথে অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট একসাথে খেয়ে নিয়েছে মেয়েটা। রাত্রির কন্ডিশন দেখে ডক্টর বড্ড আফসোসের সহিত বলেছিলেন– মেয়েটা বাঁচার কোনো রাস্তা রাখেনি। এমন ভাবে আত্মহত্যা করেছে যেনো ওকে কেউ বাঁচাতে না পারে। প্রথমে অপর্যাপ্ত পরিমানের ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে তারপর হাতেট সিরা কেটেছে তাছাড়া গত কয়েকদিনে হাতের বাহু আর পায়ের হাটুর উপরে বহু কাটা ছেড়া করেছে যার ঘা গুলো এখনো অনেকটা তরতাজা । আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো বাকিটা আল্লাহ এর হাতে। এই মুহুর্তে আপনাদের আল্লাহ এর কাছে পানাহ চাওয়া ব্যাতিত অন্য কোনো রাস্তা নেই।

,,,,দ্বীপের বুকে অর্ধঅবচেতনের ন্যায় পরে আছে অর্পনা,, মেয়েটা মাত্র এক প্যাক ব্লাড দিয়ে এসেছে। অথচ দ্বীপ কিছুই জানেনা। জানবে কি করে? অর্পনা তাকে জানানোর প্রয়োজন ও মনে করেনি। ইম্পর্ট্যান্ট কাজের কথা বলে ওর অনুমতি ব্যাতিতই ব্লাড দিয়ে এসেছে। এতে দ্বীপের রাগ হলেও অর্পনাকে কিছু বলতে পারছে না। দ্বীপ কেনো যেনো সবার সাথে কঠোর হলেও অর্পনার সাথে হতে পারেনা,, মেয়েটার মুখের দিকে তাকালেই সব কঠোরতা হাওয়ার মতো মিলিয়ে যায়। তাদের পাশে বসে আছে ইরা, মেয়েটা ক্ষনে ক্ষনে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠছে,, পল্লব এখানে নেই, কোথায় গিয়েছে জানা নেই। রাত্রির মা পাশের ব্যাডে ভর্তি,, হসপিটালে আসার পর ৬ বার অঙ্গান হয়েছেন তিনি। অরুন মাথা নিচু করে মেঝেতে বসে আছে, এসে থেকে কারোর সাথে একটা কথা বলেনি,, কাঁদেওনি,, আসার পর অর্পনা রাতের ফোনে পাঠানো অরুনের মেসেজ গুলো দেখে পরপর তিনটে থাপ্পড় মেরেছিলো তখনো টু – শব্দটুকু ও করেনি ছেলেটা। যেনো একপ্রকার পাথর বনে গিয়েছে সে।

দ্বীপ অরুনকে নিয়ে চিন্তিত, ভালোবাসা হাড়ানোর যন্ত্রণা তার থেকে ভালো কে বুঝে? ওপ্স!! এই যন্ত্রণা!! এই যন্ত্রণাটা ব্যাখ্যা করার নয়। আজ যদি রাতের ও এমন কিছু হয়ে যায় তাহলে অরুনের অবস্থা ও তার মতোই হবে? হতে পারে। তারপর? অর্পনার মতো কেউ জীবনে আসবে? নাও আসতে পারে। সবার ভাগ্য তো আর তার মতো ভালো হবে না যে,, অর্পনার মতো একজন কোমল মনের অধিকারিনীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে। দ্বীপের ভাবনার মাঝেই বুকে কয়েকফোটা তরল পদার্থ পরলো,, বুকে ভেজা ভেজা অনুভব হতেই অর্পনার দিকে তাকালো দ্বীপ। মাথায় হাত বুলিয়ে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো — কান্না করোনা, আমার কষ্ট হয়। নিজের কথা না ভাবো অন্তত আমার জন্য চোখের পানিগুলোকে আটকে রাখো।

,,,,অর্পনা কিছু বললো না, দ্বীপের বুকের কাছটা শক্ত করে ধরে তাতে চোখ চেপে কান্না আটকানোর প্রয়াশ চালালো। এর মধ্যে একজন নার্স অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো। দ্বীপ অর্পনাকে ছেড়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে,, রাত্রির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে নার্সটি বললো — এখনো রুগির হার্ট বিট করছে তবে খুব কম পরিসরে। পরবর্তীতে কি হবে জানা নেই, তবে এখন আরও এক প্যাক ব্লাড লাগবে। দ্রুত ব্যাবস্থা করুন।
,,, ব্লাড লাগবে শুনে অর্পনা তরিঘরি উঠে দাড়ালো। তার আর রাত্রির ব্লাড গ্রুপ সেইম। আগেও এক প্যাক দিয়েছিলো, এখন আবার লাগলে আবার দিবে। অর্পনাকে উঠে দাড়াতে দেখে দ্বীপ নার্সের উদ্দেশ্যে বললো — আপনি যান আমি আসছি। আমার ব্লাড গ্রুপ ও সেইম,,
,,, নার্সটি মাথা ঝাকিয়ে বললো — আপনি ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করুন। ওখানে নার্স আছে, আমি নোটিশ পাঠিয়ে দিচ্ছি।

,,, কথাটা বলে নার্সটি আবারও অপারেশন রুমে ফিরে গেলো। নার্সটি যেতেই অর্পনা দ্বীপের দিকে এগিয়ে এলো,, দ্বিধান্মিত কন্ঠে সুধালো — আপনি ব্লাড দিবেন?
— হুম!! দের প্যাক দিবো,, একটা রাতের জন্য আর অর্ধেকটা তুমি নিবে।
,,, আমি? আমি কেনো নিবো?
,,, একটু আগে যে ব্লাড দিয়ে এসেছো সেটার কি হবে?
,,, দ্বীপের কথাটা অর্পনার কাছে বাচ্চামি মনে হলো। ব্লাড দিয়েছে তাতে কি? তিনমাস পর আবার নতুন ব্লাড সেল জন্ম নিবে। তার জন্য এখনি ব্লাড নিতে হবে কেনো? অর্পনা দ্বীপের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো — আপনার মুখে এসব বোকা কথা মানায় না দ্বীপ,, আপনি বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন আপনি,,
,,, দ্বীপ শক্ত কন্ঠে বললো– আমি তোমার হাসবেন্ড,, আমার প্রথম পরিচয় আমি তোমার হাসবেন্ড। গতকাল সারারাত জ্বরে কাতরানোর পর আজ গিয়ে ব্লাড দিয়ে এসেছো। নিজের কথা ভেবেছো একবার? কিংবা আমার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেছো? করার কথাও নয়,, তোমার লাইফ তোমার রুল্স,, তোমার জীবনে আমি কে? যা খুশি করো, আমার কিছু বলার নেই। ( ইরার দিকে তাকিয়ে) ইরাদ!! অরুনকে বুঝিয়ে উপরে তুলো,, এভাবে থম মেরে বসে থাকলে খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভেলোরার খেয়াল রেখো, ও একটু উইক। কিছুক্ষণের মাঝে বিহান আর মেধা চলে আসবে তখন তোমায় এতোটা কষ্ট করতে হবেনা।

,, ইরা মাথা নাড়িয়ে বললো– আচ্ছা, ভাইয়া।
,,, ইরার সম্মতি পেয়ে দ্বীপ সামনের দিকে হাটা দিলো। অর্পনা দ্বিধা নিয়ে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটার কথায় স্পষ্ট অভিমান। অর্পনার অপরাধ বোধ হলো খুব, সে তো এর আগে কখনো অনুমতি নিয়ে কাজ করেনি। পাপ্পা বরাবর তাকে স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে তাই অনুমতি নেওয়ার অভ্যাস তার কখনোই ছিলো না। এবার কি স্বভাবে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে? আচ্ছা, একজন ভদ্র মেয়ে কিংবা ভদ্র স্ত্রী হতে কি কি গুন লাগে? সে তো জানে না,, তাহলে কে জানাবে তাকে? কে শিখিয়ে দিবে? অন্যান্য মেয়েদের তো মায়েরা শিখিয়ে দেয়, তার তো মা থেকেও নেই।

,,, নামি দামি হসপিটাল গুলোতে আলাদা করে নামাজের জায়গা রাখা হয় যেনো বড়ো বড়ো অপারেশনের সময় রুগির পরিবার নামাজ পড়ে রুগির জন্য দোয়া করতে পারে। ব্লাড ব্যাংকে যেতে হলে সেই নামাজের স্থান ক্রস করে যেতে হয়। ক্রস করার সময় হালকা ফোঁপানোর স্বর শুনে দ্বীপের পা যুগল থমকে গেলো,, সে পায়ে পায়ে পিছিয়ে নামাজের জায়গায় প্রবেশ করলো। ড্রিম লাইটের মৃধু আলোয় পল্লবের অভয়ব বুঝতে পেরে ভ্রু কুঁচকে নিলো। পল্লব নামাজ পড়ছে? এভাবে কাঁদছে কেনো? শুধুই বন্ধুত্বের খাতিরে? হতে পারে। দ্বীপের দেখা সবচেয়ে শক্ত বন্ধুত্বটি হলো এই পাঁচ মূর্তির বন্ধন। ভার্সিটি লাইফে তাদের ও ফ্রেন্ড সারক্যাল ছিলো তবে এখন তারা একেকজন একেক মেরুতে বসবাস করে। কেউ কারোর খোঁজ জানেনা,, খোঁজ জানার প্রয়োজন ও মনে করেনি কোনোদিন। তবে এই পাঁচ মূর্তি আলাদা,, এদের সম্পর্কের কাছে হয়তো আপন ভাই বোনের সম্পর্ক গুলো ও হাড় মেনে যাবে। সেজন্যই কোনোদিন অরুন আর পল্লবকে নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেনি দ্বীপ আর না ওদের নিয়ে কোনো প্রকার জেলাসি কাজ করে। দ্বীপ শুধু একটা কথাই মানে,, কোনোদিন ভালোবাসা না পাওয়া মেয়েটা এই চারজনের খুব প্রিয়। যখন তার ভেলোরার জীবনে সে ছিলোনা তখন এরাই আগলে রেখেছে ভেলোরাকে। এদের কাছে চিরো কৃতজ্ঞ দ্বীপ, এরা আগলে না রাখলে হয়তো বহু আগেই ভেঙে যেতো অর্পনা তাহলে হয়তো নিয়তির টানে দ্বীপকেও আজীবন পাগল হয়ে জীবন কাটাতে হতো। ভেবেই তপ্ত শ্বাস ফেললো দ্বীপ। সময় নষ্ট না করে নামাজের স্থান থেকে বেড়িয়ে হাটা দিলো ব্লাড ব্যাংকের দিকে।

,,, অপারেশন চলা কালিন সময়ে ব্লাড প্রয়োজন বিদায় দ্বীপকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,, ওখান থেকেই সরাসরি ব্লাড আদান-প্রদান করা হবে। অর্পনা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে,, দ্বীপ মানুষ হিসেবে মন্দ নয়। তার ফ্রেন্ডদের এতোটাই আপন ভাবে যে নিজের শরীরের কথা না ভেবে ব্লাড দিতে রাজি হয়ে গিয়েছে। অর্পনা আরও একবার কৃতজ্ঞ হলো দ্বীপের প্রতি,, দিনকে দিন কৃতজ্ঞতার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো একদিন সুযোগ পেলে সেও না হয় দ্বীপের উপকার করে দিবে। অর্পনার ভাবনার ঘোর কাটলো ইরার শব্দে,, মেয়েটা সেই কখন থেকে অরুনকে ডেকে যাচ্ছে,, হাত ধরে টানছে কিন্তু অরুনের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। একদম শক্ত হয়ে বসে আছে,, ছেলেটার মনে কি চলছে কে জানে। অরুনের কান্ডে রাগ হলো অর্পনার, রাগে হিস হিস করতে করতে বললো — মরে যাবি? তো মরে যা না ভাই, নাটক করছিস কেনো? এখন এতো প্রেম উৎলাচ্ছে,, দুপুরে ওসব বললি কেনো? ভালো হয়েছে। রাত মরে যেতো,,খুশি হতাম আমি,, আর তুই ও বুঝতি ভালোবাসা হাড়ানোর কষ্ট। এইটুকু যন্ত্রণা সহ্য করতে পারিস না? একটাবার ওর কাছে গিয়েছিস? আদর করে জানতে চেয়েছিস কেনো তকে এভোয়েট করছে? নাটক বাজ একটা। মরে যা দুজন,, মরার রাস্তা খুঁজে না পেলে ওয়াসরুমে গিয়ে হারপিক খেয়ে দরজা আটকে বসে থাক। কথা দিচ্ছি খুঁজতেও যাবো না। পল্লব বলে, রাত্রি নাকি ন্যাকা,, আসলে রাতের চেয়েও বেশি ন্যাকা তুই। মেইলি টাইপ আচরন,, এভাবে থম মেরে বসে থেকে কি বুঝাতে চাস? স্ট্রোক করে দেখ একবার, ডাক্তার ডাকা তো দূর, সার্জিক্যাল ক্যাচি দিয়ে তর গলা এফোর ওফোড় করে দিবো আমি। এতো যন্ত্রণা আর ভালো লাগছে না,, হয় আমি মরতাম নয়তো তদের আজীবনের জন্য ভুলে যেতাম। শান্তি পেতাম একটু।

,,, অর্পনার চেচামেচিতে ওয়েটিং রুমে বসে থাকা অনেকেই দূর থেকে তাকিয়ে রইলো । ইরা অরুনের পিঠে চাপর মেরে বললো– দয়া করে কিছু বল ভাই,, তর কি শরীর খারাপ করছে? ডক্টর ডাকবো? একটু কাঁদ না,, কাঁদলে ভিতরটা হালকা হবে।
,,,ওদের কথোপকথনের মাঝেই পাশের ক্যাবিন থেকে ভাঙুর পায়ে বেড়িয়ে এলো ৪৫ উর্ধ এক নারী। অর্পনা যখনি এই নারীকে দেখে তখন এক প্রকার থমকে যায়,, একটা মানুষ শ্যামলা হওয়া সত্তেও তাকে এতোটা সুন্দর কিভাবে লাগতে পারে? আর সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে এই নারীর শালীনতা,, চাকরি করা সত্তেও তিনি সবসময় শাড়ি পরে থাকেন। শাড়ি পরার ধরন টা বড্ড সাবলীল,, ফুল হাতা ব্লাউজ,, শাড়ীটা কাধে টেনে একটা বড়ো করে ভাজ করে রাখেন,, আচলটা টেনে নিয়ে অপর পাশের কাধ ঢেকে রাখেন,, ব্লাউজের শালীনতায় কখনো উনার পেট, ঘাড় কিংবা গলার বার্তি অংশ দেখা যায়নি। মাথার ঘন, লম্বা চুলগুলো সবসময় খোপা করে রাখেন। উনার মতো পরিপাটি মানবী অর্পনা তার জীবনে খুব কম দেখেছে। মেয়ে হয়েও বহুবার সে এই নারীর চলন বলনের প্রেমে পরেছে। তবে আজ সেই গোছালো নারীর অগোছালো বদন স্পস্ট। কান্নার তরে নারীটির চোখ মুখ ফুলে আছে,, মাথার চুল গুলো এলোমেলো কাকের বাসার মতো হয়ে আছে। পরনের কাপর খানা কুঁকরে গিয়েছে,, হাটতে পারছেনা বার বার টাল হাড়িয়ে পরে যেতে নিচ্ছে। অর্পনা তরিঘরি করে এগিয়ে গেলো সেদিকে,, রাতের মাকে দুহাতে আগলে নিয়ে বললো– আপনি এখানে কি করছেন আন্টি? একটু রেস্ট নিন, কিছুক্ষণের মাঝেই রাতের অপারেশন শেষ হয়ে যাবে। ও ঠিক হয়ে যাবে দেখবেন,, আপনার রাতের কিছু হবেনা।

,,, অর্পনার কথায় কোনো প্রতিক্রিয়া করলেন না তিনি,, তার দৃষ্টি মেঝেতে বসে থাকা অরুনের দিকে স্থির । যাকে প্রতিনিয়ত ডেকে যাচ্ছে ইরা তবুও কোনো প্রকার সারা শব্দ করছে না। রাতের মা অর্পনাকে ছেড়ে ধীরে ধীরে অরুনের কাছে গিয়ে তার পাশে মেঝেতে বসে পরলো। অর্পনা আর ইরা উনাকে টেনে তুলতে চাইলে উনি হাত উচিয়ে মানা করলেন। অর্পনা বুঝলো রাতের মা অরুনের সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন তাই কিছুটা সরে এলো তারা। রাতের মা হাতে থাকা ফোনের স্ক্রিন অন করে অরুনের দেওয়া মেসেজগুলো বের করে মেঝেতে রাখলেন। পরপর অরুনের নিচু করে রাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে বললেন — তোমায় আমার মেয়ে ভালোবাসে?
,,, বরাবরের ন্যায় চুপ রইলো অরুন,, কোনো উত্তর করলো না। উনি আবারও অরুনের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করলেন — তুমি ওকে ভালোবাসতে? (অর্পনা আর ইরার দিকে তাকিয়ে) ওরা একে অপরকে ভালোবাসতো?
,,, অর্পনা আর ইরা চুপ করে তাকিয়ে রইলো। কেউ কোনো উত্তর করলো না। কি উত্তর করবে? এই উত্তরটা সবারি জানা,, সবাই জানে ওরা একে অপরকে কতোখানি ভালোবাসে। এতোক্ষণে নিশ্চিত রাত্রির মাও জেনে গিয়েছে এর উত্তর,, নয়তো এরকম প্রশ্ন নিশ্চয়ই করতেন না? নারী জাত বরই অদ্ভুত, তারা সঠিক উত্তর জেনেই মানুষকে প্রশ্ন করে। ওদের ভাবনার ইতি ঘটিয়ে অরুনের উদ্দেশ্যে আবারও প্রশ্ন ছুড়লেন তিনি—

,,, তুমি আমার মেয়ের পরিচয় জানতে চেয়েছিলে বাবা? ও কে? ওর কি আছে? ও কার মেয়ে? ও তো অর্থমন্ত্রীর মেয়ে নয়। তবে ও এক লড়াকু মায়ের মেয়ে। জানো, ওকে জন্ম দিতে আমার কতো কষ্ট করতে হয়েছে? কতো লাঞ্চনা, কটুক্তি সহ্য করেছি আমি? এই সমাজ আমায় এক দন্ড শান্তি দেয়নি বাবা। প্রতিনিয়ত ছিড়ে খুরে খেয়েছে এই সমাজ। তোমাদের মতো কিছু মানুষ বার বার জিজ্ঞেস করেছে,, কে ও? ওর বাপের নাম কি? আদেও বাপ আছে তো? নাকি মায়ের চরিত্র খারাপ? এমন হাজারটা প্রশ্ন পাড়ি দিয়ে আমার মেয়েকে আমি বড়ো করেছি বাবা। এক অবিবাহিত নারী কখনো স্বাভাবিক ভাবে সন্তান লালন পালন করতে পারেনা,, সমাজ তাদের স্বাভাবিক থাকতে দেয়না। তোমাদের মতো কিছু সমাজ আমাদের স্বাভাবিক জীবন দিতে পারেনা,,

তোমরা পারো আঘাত করতে,, কষ্ট দিতে আর স্বপ্ন গুলো ছিনিয়ে নিতে। এটা কেনো করলে তুমি? আমার মেয়েকে মানতে আর না মানতে ম্যাটার করতো না। আমার মেয়েটা আদুরে হলেও যথেষ্ট বুঝদার। ছোট থেকে মানুষের কতো বাজে কথা সহ্য করেছে তাও কোনোদিন আমার কাছে অভিযোগ করেনি। জানতে চায়নি “” মাম্মা!! আমার পাপ্পা কে? আমি কার মেয়ে? “” তুমি কেনো জানতে চাইলে? একটা বাচ্চা কেনো তার বাবার পরিচয়ে পরিচিত হবে? মা কি তার অভিভাবক হতে পারেনা? আমি আমার মেয়েকে যখন বড়ো করলাম তখন তো কোনো পুরুষের প্রয়োজন পরেনি,, আজ কেনো ও বড়ো হয়ে যাবার পর প্রয়োজন পরছে? উত্তর দিতে পারো?
,,, রাতের মায়ের কথায় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ইরা তবে অর্পনার কোনো ভাবান্তর হলো না। সে জানে রাতের মায়ের বিয়ে হয়নি এবং রাতের অস্তিত্ব সম্পর্কেও অবগত। দুদিন আগেই আরশাদ জামান ওকে জানিয়েছে সবটা৷ ইরা অবাকের পরিসীমা ছাড়িয়ে অর্পনার হাত শক্ত করে ধরে বললো–
,,, সুহাসিনী আন্টি অবিবাহিত? তাহলে রাত? ওর সত্যি অর্থে পরিচয় কি?

সময়টা :২০০২ সাল
,,, মাথার উপর সূর্যের তীক্ষ্ন রশ্মিতে মাথা ঘুরে উঠলো সুহাসিনীর,, সকাল থেকে পেটে কিছু না পরায় খুব বমি পাচ্ছে। এতো এতো জায়গায় খোজার পরেও একটা ভালো চাকরির সন্ধান পেলো না। পাওয়ার কথাও নয়। এমনিতেই বেসরকারি কোম্পানি গুলোতে এক্সপেরিয়েন্স ছাড়া চাকরি দেওয়া হয়না। তার উপর সে এবার বাংলা বিভাগ থেকে অনার্স থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। কম্পিউটার সম্পর্কে এক আনার ধারনাও নেই তার। এই কোয়ালিফিকেশনে কেউ জব দেওয়া তো দূরের থাক কেউ ইন্টারভিউ নিতেও রাজি না। লোকে বলে ঢাকা নাকি স্বপ্নের শহর। এই শহরে নাকি মানুষ তাদের হাজারো স্বপ্নের বুনন করতে আসে। সেই ধারনা থেকেই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে তিন বছর আগে ঢাকা শহরে পা রেখেছিলো সুহাসিনী। যখন প্রথমবার সে এই শহরে পা দিয়েছিলো তখন তার জীবনখানা বড্ড সহজ সরল ছিলো। বাবা মোতালেব অন্যের জমি “কাটায়” নিয়ে কৃষি কাজ করতেন। বছর শেষে যেই ফসল ঘরে উঠতো তা দিয়ে তাদের খাবারের খোরাকটা মিটে যেতো। মা জমেলা খাতুন নকশিকাথা শেলাই করে বিক্রি করতেন আর সুহাসীনি কয়েকটা টিউশন করতো। টিউশনের মাধ্যমে যেই টাকাগুলো আসতো সেগুলো দিয়ে সুহাসিনী নিজের এবং বাড়িতে কলেজ পড়ুয়া বোনের পড়ালেখাটা ভালো মতোই হেন্ডেল করতে পারতো। পরিবারে সচ্ছলতা না থাকলেও খুব একটা অভাব অনটন পোহাতে হয়নি তাদের,, বলতে গেলে তাদের দিনকাল বড্ড সুখেই কাটছিলো।

কিন্তু মাস চারেক আগে একটা এ*ক্সিডেন্টে সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। সুহাসিনী তখন ঢাকায়,, বাবা মা আর ছোট বোন এক নিকটস্থ আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলো। খাওয়া দাওয়া শেষে অটো করে বাড়ি ফিরছিলো। সেই ফিরার পথে আচমকা একটা ট্রাকের সাথে তাদের অটো সংঘর্ষ হয় আর সেই এ*ক্সিডেন্টের ঘটনাস্থলেই ছোট বোনটা মারা যায়। বাবার দুটো পা চলে যায়,, ডক্টর জানালেন খুব শিগ্রই অপারেশন করে পা দুটো কেটে ফেলতে হবে নয়তো পায়ে পচন ধরে ক্যান্সার হয়ে যাবে। এক্সিডেন্টের ফলে মায়ের চোখে রক্ত জমাট বেধে গিয়েছিলো,, সময়ের সাথে সেটা ঠিকঠাক হয়ে গেলেও জমিলা খাতুন প্রতিনিয়ত চোখের ব্যাথায় অস্থির থাকেন। চোখে ভালো মতো দেখতে পান না,, এখন আর কাথা ও সেলাই করতে পারেন না। ডক্টর দেখানোর পর ডক্টর জানালেন খুব শিগ্রই ভালো হসপিটালে নিয়ে চিকিৎসা না করালে উনার চোখের কর্নিয়া ডেমেজ হয়ে যাবে। এরপর চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে অপারেশন করে চোখ বদলানো ব্যাতিত অন্য কোন রাস্তা থাকবেনা। বাবার পায়ের অপারেশন মায়ের চোখের চিকিৎসা করতে বহুত টাকার প্রয়োজন।

এতো টাকা কোথায় পাবে সে? তাদের নিজস্ব ভিটা ব্যাতিত আর কোনো জায়গা নেই, যা বিক্রি করে বাবা মায়ের চিকিৎসা খরচ টা উতরে দিবে। যেই তিনটে টিউশন করতো সেখান থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আসে। এরমধ্যে পাঁচশত টাকা ম্যাচ ভারা,, এক হাজার টাকা খাওয়ার খরচা আর বাকি দের হাজার টাকা দিয়ে কোনোরকম বাবা মায়ের খাওয়ার খরচাটা সামলাতে পারলেও চিকিৎসার টাকাটা হয়ে উঠেনা। গত চার মাস ধরে চাচাদের থেকে ধার নিয়ে বাবা মায়ের চিকিৎসা করে যাচ্ছে। এবার তো উনাদের টাকা গুলোও ফেরত দিতে হবে,, আর এই সবকিছু করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। আর টাকা কামাতে হলে একটা চাকরির দরকার কিন্তু সারাদিন খুজেও একটা ভালো চাকরির সন্ধান পেলোনা মেয়েটা। হসপিটাল কিংবা ছোট স্টোর গুলোতে কাজ পেলেও তাতে বেতন ৩-৪ হাজারের কোটা ছাড়ায়না। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সুহাসিনী কয়েক ঘন্টা টিউশন করেই এর সমান টাকা কামাতে পারে। তাহলে অনর্থক ১২ ঘন্টা কাজ করতে যাবে কেনো? তীব্র হতাশা নিয়ে ম্যাচে ঢুকলো সুহাসিনী। রুমে এসে হাতের ফাইলটা বিছানার উপর রাখতেই পিছন থেকে ধেয়ে এলো একটা হতাশা যুক্ত মেইলি স্বর — আজকেও হয়নি?

,,,, ফাহিমার কথায় ফিরে তাকালো সুহাসিনী,, সহসা চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — কেউ নিলোনারে,, একজন থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্টকে কে চাকরি দিবে ভাই? তার উপর কম্পিউটার সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। এই কোয়াললিফিকেশন নিয়ে জব করতে চাওয়া বড্ড বোকামি।
,,,, বলতে বলতে বিছানায় ধপ করে বসে পরলো সুহাসিনী,, সেকেন্ডের গতিতে দুহাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠলো। ফাহিমা এগিয়ে এসে সুহাসিনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো — কাঁদিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে। একবার বারমিজ শপে গিয়ে দেখতি, ওখানে ভালোই বেতন দেয়।
,,, সুহাসিনী হাতে মুখ গুজে রেখেই বললো — ওখানেও নেয়নি। তাদের নাকি এই মুহুর্তে কোনো কর্মচারীর প্রয়োজন নেই। কাজ যদি করতেই হয় তাহলে কম বেতনে করতে হবে,, ধীরে ধীরে কাজ দেখে, কাজ ভালো হলে তারপর বেতন বাড়াবে। আমার কি অতো সময় আছে? বল!! নেইতো। আমার তো এখোনি টাকার প্রয়োজন। গার্মেন্টসে গেলাম ওখানকার ম্যানাজারের নজর খারাপ। উল্টা পাল্টা কথা বলে। কথা বলার সময় গায়ে হাত দেয়। আমার পক্ষে ঐ নরকে গিয়ে কাজ করা সম্ভব নারে। প্রতিদিন একটু একটু করে ইজ্জত দেওয়ার চেয়ে বি*ষ খেয়ে মরে যাওয়া ভালো। আমার না বাঁচতে মন চাচ্ছে নারে,, আমি বরং মরে যাই? এই যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছেনা আমার।

,,, সুহাসিনীর কথায় আঁতকে উঠলো ফাহিমা, মাথায় হাত বুলিয়ে বললো — এসব কি বলছিস সুহা? মাথা খারাপ হয়েছে তর? তর কিছু হলে কাকা কাকির কি হবে? যাদের জন্য এতো স্ট্রাগল করছিস তাদেরকে রেখে মরে যাবি? তুই মরে গেলে সব ঝামেলা মিটে যাবে? কাকা কাকি সুস্থ হয়ে যাবে?
,,, সুহাসিনী দুহাতে চোখ মুখ মুছে গাড়ো নিশ্বাস ফেলে বললো — মরলে বাপ মা নিয়েই মরবো। ওদের বি*ষ খাইয়ে নিজেও বি*ষ খেয়ে মরে যাবো। তাহলে আর কোনো চিন্তা থাকবে না।
,,, তাহলে মেহমাদ ভাইয়ের কি হবে? উনাকেও সাথে নিয়ে মরবি?

,,, ফাহিমার কথায় মাথা চেপে ধরলো সুহাসিনী। কি করবে সে? তার তো পুরো একটা জীবন পরে আছে। ভালোবাসার মেহমাদ!! যার সাথে একটা সুন্দর সংসার হওয়ার কথা। অথচ তার বেঁচে থাকাটাই টাফ হয়ে যাচ্ছে। বেঁচে থাকলে তো সংসার করবে। যদি বেঁচেই না থাকে তাহলে কিসের সংসার, কিসের ভালোবাসা আর কিসের মেহমাদ? সুহাসিনীর ভাবনার মাঝেই ফাহিমা বললো– আমি তকে যেটার কথা বলেছিলাম, সেটা মেনে নে সুহা। অনেক টাকা পাবি,, প্রথমেই পাঁচলাখ টাকা দিবে। তারপর মাসে মাসে একলাখ করে দিবে,, কাজ শেষ হলে আবার পাঁচলাখ দিবে। এতো টাকা তুই এইটুকু সময়ে চাইলেও কামাতে পারবি না। ভেবে দেখ,, এই টাকায় তর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কাকার অপারেশন, কাকির চিকিৎসা, তর পড়ালেখা, সব ঠিক ঠাক মতো চলে যাবে। তখন তর জব ও করতে হবেনা।

,,,, সুহাসিনী কান্না ভেজা চোখে অনেকটা সময় নিয়ে ফাহিমার দিকে তাকিয়ে রইলো,, মেয়েটা তার রুম মেইট সাথে বেস্ট ফ্রেন্ড ও বলা চলে। এই একমাত্র ব্যাক্তি যে কিনা সুহাসিনীর জীবনের উত্থান পাত্থন সম্পর্কে সবটা জানে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ নামিয়ে নিলো সুহাসিনী। ফাহিমা আর কিছু বললোনা,, এগিয়ে গিয়ে রান্না করা খাবার গুলো থেকে কিছুটা ভাত আর আলুর ভর্তা নিয়ে ভাত মেখে সুহাসিনীর সামনে ধরলো। সুহাসিনী মানা করে বললো — খেতে ইচ্ছে করছেনারে,, আমি একটু ঘুমাবো। শরীরটা ক্লান্তিতে অসার হয়ে আসছে।

,,,, ফাহিমা মানলো না, জোর করে মুখে খাবার পুরে দিয়ে বললো — এতো জ্বালিস না সুহা, জীবনটা কখনোই গল্প উপন্যাস কিংবা নাটক সিনেমার মতো সুন্দর হয়না। নাইকা সকালে ঘুম থেকে উঠতেই চার পাঁচ জন কাজের লোক এসে হাজির হবে,, একজন তোয়ালে এগিয়ে দিবে আরেকজন মাথা বুছে দিবে আরেকজন পা ধুইয়ে দিবে। খাবার টেবিলে হাজার রকমের খাবার থাকবে,, যখন যা আদেশ করবে তাই হাজির করবে। বাপকে পাপ্পা ডেকে টাকা চাইলে ব্লাঙ্ক চেক ধরিয়ে দিবে,, ওসব বাস্তবে হয়নারে পাগলি। ওসব কল্পনায় মানায়। আর যদি কারোর সাথে হয়েও থাকে তাহলে তারা বড়োলোক। তাদের মতো জীবন চাইলেও আমরা কাটাতে পারবো না। একটা কথা জানিস তো? এই দুনিয়ায় কেউ কারোর লড়াই লড়ে দেয় না। নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হয়। আর নিজের লড়াই নিজে লড়ে জিততে পারে যেই জন,, সেই জনই হচ্ছে আসল বীর। এলাকাবাসী কিংবা পৃথিবীর কাছে নয়, সে নিজের জীবনে নিজের কাছে বীর। তকে ভঙ্গুর হলে চলবে না,, লড়াই করে যা,, একদিন না একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখিস।

,,বলতে বলতে আরও এক লোকমা ভাত তুলে ধরলো ফাহিমা,, সুহাসিনী কাঁদতে কাঁদতে খাবার মুখে তুলে নিলো। খেতে খেতে ফাহিমার বলা কথাটা গভীর ভাবে ভাবলো,, তাকে লড়তে হবে। জীবন যখন পরিক্ষা নিচ্ছে তখন সেই পরিক্ষা সে দিবে আর সফল হয়েও দেখাবে। কি হবে এই শরীর দিয়ে যদি বাবা মা ই বেচে না থাকে? নাহ!! সুহাসিনীর জীবনে সবার আগে বাবা মা। যারা তাকে এতোটা যত্ন করে, আদর স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে এতোটা বড়ো বানালো তাদের জন্য এটুকু করতে পারবে না? পারবে, অবশ্যই পারবে। কিন্তু মেহমাদ? ও মানবে এসব? ও যদি কখনো কিছু জেনে যায় তাহলে তাকে বুঝবে? যদি না বুঝে? যদি ওকে ছেড়ে যায়? তখন কিভাবে বাচবে সে? দম আটকে মরেই তো যাবে। মনের সঙ্কা নিয়ে ফাহিমার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো — যদি মেহমাদ জানতে পারে আর আমায় মেনে না নেয়?

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪১ (৩)

,,, ফাহিমা আরও এক লোকমা ভাত এগিয়ে দিয়ে বললো — মেহমাদ ভাই বড্ড বুঝদার মানুষ,, কখনোই তকে ভুল বুঝবে না। দেখিস, উনি তকে আরও আগলে নিবেন,, উনার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে খুব কমিই আছে। তুই ভেবে দেখ,, একটু কষ্ট হবে হয়তো,, তবে কষ্টের বিনিময়ে সকল অপূর্ণতার উপসম ঘটবে। তর বাবা মা সুস্থ হবে,, তর জীবনটা সুন্দর হবে।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here