Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১
রুপান্জলি

বিকাল চারটার দিকে মির্জা বাড়ির বাগানে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করা হয়েছে,,বর্তমানে বাজে ৫ টা ২৪। সারে পাঁচটার দিকে রওনা দিবে তারা,, চট্রগ্রামে তাদের বেশ কিছু কাজ আছে সেসব কমপ্লিট করে তারপর সোজা কক্সবাজার। অর্পনা ঝানালার ফাঁক দিয়ে বাহিরের দৃশ্যটি দেখে নিলো,, বিহান পাইলটের সাথে কি নিয়ে যেনো ডিসকাস করছে। দ্বীপ পাশেই দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। দ্বীপ আজ হালকা সি- গ্রিন কালারের একটা শার্ট পরেছে সাথে ব্লাক পেন্ট। পেন্টের সাথে শার্ট ইন করা, হাতে সিলভার কালারের ওয়াচ,,ব্লাক স্যুজ। অর্পনা ইচ্ছা করে দ্বীপের সাথে মিলিয়ে সি-গ্রিন কালারের একটা গাউন পরেছে,, হাতে স্বর্নের চুরি, পায়ে পাথরের সিম্পল কাজ করা হিল। ওকে দেখতে অনেকটা নতুন বউদের মতো লাগছে,, যদিও সে এখন নতুন বউ নেই। আর কয়েক মাস পরেই তাদের বিবাহ বার্ষিকি,,, বছর খানিক হয়ে আসার পরেও বউরা নতুন থাকে নাকি? অর্পনা ফোনটা ব্যাগে ঢুকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই , শ্বশুরকে দেখতে পেলো তিনি নিউজ দেখছেন,, শ্বাশুরি, চাচি শ্বাশুড়ি ইফতারের ব্যাবস্থা করছেন। আরিব আর পরশী সোফায় বসে কি নিয়ে যেনো খুনশুটি করছে,, মেধা বোধয় রুমে। দুই চাচা শ্বশুর নিজেদের দলীয় অফিসে,, এখনো বাড়ি ফিরেনি তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবে বোধয়। অর্পনা এগিয়ে এসে শ্বশুরের থেকে দোয়া নিলো,, ভাবির কন্ঠ শুনে আরিব আর পরশী দৌড়ে এলো। অর্পনা তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে কথা দিলো ফিরার সময় অনের খাবার নিয়ে আসবে। পরশি এতে সন্তুষ্ট হলো না,, সে একে একে নানান ফর্দ দিলো। অর্পনাও সহাস্যে মেনে নিলো সেসব। দিনবাদিন পরশীটা তার বড্ড আদরের হয়ে উঠছে। পরপর রান্নাঘরে ঢুকতে নিতেই বাধ সাধলেন সাথী বেগম,, পাছে রান্না ঘরে ঢুকলে যদি পোশাকে ময়লা লেগে যায়? চাচি শ্বাশুড়ির কাছে দোয়া নিয়ে শ্বাশুড়ির দিকে তাকালো অর্পনা। এই মানুষটার সাথে তার তেমন কোনো সক্ষতা নেই,, ইচ্ছা করে তৈরি করেনি। কারন উনার শরীর থেকে কেমন মা মা ঘ্রান আসে যেটা অর্পনার কাম্য নয়। সে কখনোই মা নামক অনুভুতি চায়না। অর্পনা শ্বশুরির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো, মনে পরে গেলো সেদিনের বলা নিকৃষ্ট কথা গুলো। অর্পনার ফুরফুরা মুড টা কেমন মলিন হয়ে এলো। এর মধ্যে দুজনার চোখাচোখি হতেই সাথে সাথে মুখ ফিরিয়ে নিলেন রোমানা বেগম,, অর্পনা একটু ও কষ্ট পায়নি। কথায় আছে,, আমের পোকারা কখনো মিষ্টির স্বাধ বুঝেনা কারন তারা মিষ্টির ভিতরেই জন্মায়। অর্পনার বেলায় ও তাই,, সে কষ্ট, অবজ্ঞা পেতে পেতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে,, এখন আর এসব গায়ে লাগেনা। সে যেহেতু উনার মনের মতো না তাই কথা না বাড়িয়ে উল্টো পথে হাঁটা দিতেই পিছন থেকে ডাকলেন সাথি বেগম। তরিহরি করে একটা বক্স হাতে নিয়ে অর্পনার কাছে এগিয়ে এসে খাবারের বাটিটা এগিয়ে দিতে দিতে বললেন — পথে কিংবা কাজে থাকা অবস্থায় আজান দিয়ে দিতে পারে,, এটা রাখো। পাইলট সহ চারজনার খাবার দিয়েছি।

,,, অর্পনা চোখ তুলে তাকালো না, এসব মায়া মমতা তার ভালো লাগেনা তাই মাথা ঝাকিয়ে শায় জানিয়ে খাবারটা নিয়ে নিলো। কিছুটা নরম স্বরে বললো — আমি তবে যাই আন্টি?
,,, সাথী বেগম অর্পনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, মেয়েটার জন্য বড্ড মায়া হয় উনার। সারাক্ষণ মুখে গম্ভীর ভাব ধরে রাখলেও মেয়েটা যে মনে মনে একা,, মায়ের আদর খুঁজে এটা তিনি ঠিকি বুঝতে পারেন। মেধাটা তো ওর থেকেও চার বছরের বড়ো তবুও উনার কাছে কত্ত আহ্লাদ করেন,, এটুকু বাচ্চা মেয়ের ও নিশ্চয়ই আহ্লাদ করতে মন চায়? কিন্তু মাকে পায়না। আবার তারা আদর করতে চাইলেও মেয়েটা এভোয়েট করে। দ্বীপ বহুবার উনাকে বলেছে যেনো অর্পনাকে একটু মায়ের মতো আদর স্নেহ করে, অথচ মেয়েটা তাদের থেকে এসব নিতে চায়না। জোর করলে বিরক্ত হয়, এই যেমন এখন হচ্ছে। তিনি অর্পনাকে হালকা করে জড়িয়ে ধরে বললেন– সাবধানে যেও মা।

,,, অর্পনা কিছু বললো না,, দাড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণের মাঝেই শক্ত কদমে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো দ্বীপ। দেহের গঠন, হাব ভাবে কাঠিন্যতা স্পষ্ট, পায়ের প্রতিটি কদমে কদমে তার কঠিন ব্যাক্তিত্ব আর আভিজাত্যের প্রকাশ। অর্পনা এখনো চাচি শ্বাশুড়ির সাথে দাড়িয়ে। দুজন সামনাসামনি হতেই দ্বীপের ভাব ভঙ্গি পাল্টালো,, সে ভ্রু নাচিয়ে মৃধু হাসলো, ইশারায় বুঝালো দুজনেই মেচিং মেচিং এবং অর্পনাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। দ্বীপের ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা দেখে অর্পনাও মৃধু হাসলো। দ্বীপ অর্পনার সামনে এসে ওর হাত থেকে টিফিন বক্সটা নিয়ে নিলো পরপর ভেনিটি ব্যাগটাও নিলো। ফোন নিতে চাইলে অর্পনা মানা করে দিলো,, সে তার ফোন কাউকে দেয় না, দেওয়াটা পছন্দ করেনা। দ্বীপ সহাস্যে মেনে নিলো সেটা,, এই মেয়ে যে এখনো শান্ত আছে, কোনোরুপ যুদ্ধ ঘোষণা করেনি এতেই সন্তুষ্ট দ্বীপ। এমনিতে,, বনের রাজা সিংহ ও তার সিংহির ধমকে চুপসে যায়। সে তো দ্বীপ মির্জাই, সামান্য রাজনীতি বীদ, টুকটাক খু*ন খারাপি করে সাথে বিজনেস ও করে। এ আর এমন কি? কিছুই না?

একবার চন্ডিদাশ বলেছিলেন”” সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই “” আজ দ্বীপ মির্জা নিজে স্বীকারুক্তি দিচ্ছে “” সবার আগে বউ সত্য তাহার উপর নাই””। তাছাড়াও নবীজি বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” দ্বীপ একজন মুসলিম হিসেবে নবী রাসুলের প্রতিটি কথা মান্য করবে আজ থেকে,, একটু ও অমান্য করবে না। আজ সে রোজা রেখেছে,, তিন ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে,, ফজরের আগে বউয়ের সাথে সেহরি করেছে আবার মাগবিবের পর ইফতার করবে। হালাল সঙ্গিনীর সাথে জীবনটা একটু হালাল করা যাক। রাজনৈতিক জীবনে সে যেমনি থাকুক,, আজ থেকে বউয়ের কাছে সে নরম মাটি। দ্বীপ সন্তর্পণে অর্পনার হাত ধরে সামনের দিকে হাঁটা দিলো। হাটতে গিয়ে হুট করেই পা বেধে পরতে নিলো অর্পনা, দ্বীপ আগলে নিলো। অর্পনা পায়ের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বললো — জুতার ফিতে খুলে গিয়েছে,, বিরক্তিকর স্যুজ।
,,, দ্বীপ উঁকি দিয়ে জুতাটা দেখলো, ফিতা খুলে গিয়েছে। অবলীলায় হাটু মুড়ে বসে পরলো দ্বীপ, অর্পনাকে ইশারায় হাটুর উপরে পা রাখতে বললো। অর্পনা মানা করলো তবে দ্বীপ শুনলো না। মৃধু ধমকের স্বরে বললো — আমায় রাগাবে না ভেলোরা, পা উপরে তুলো।

,,, অর্পনা কাচুমাচু করতে করতে দ্বীপের হাটুর উপর পা রাখলো,, দ্বীপ সন্তর্পণে জুতার ফিতাটা লাগিয়ে দিলো। ফিতা লাগানোর সময় খেয়াল করলো জুতার স্টোন গুলোতে একটি সুতো আটকে আছে,, মেবি অর্পনার জামা কিংবা উড়না থেকে লেগেছে। দ্বীপ সেটাও ছাড়িয়ে দিলো। অর্পনা মুখের কাচুমাচু ভাবটা দূরে সরিয়ে ঘাড় বাকিয়ে শ্বাশুড়ির দিকে তাকালো। উনি এদিকেই তাকিয়ে ছিলেন, চোখাচোখি হতেই সয়তানি একটা হাসি দিলো অর্পনা। এক ভ্রু উচিয়ে কপালে পরে থাকা চুলগুলো ফু দিয়ে উড়িয়ে দিলো। দ্বীপকে মানা করার ব্যাপারটা জাস্ট নাটক ছিলো,, জুতার ফিতাটা সে আগে থেকেই খুলে রেখেছে এবং দ্বীপকে দিয়ে সেটা লাগিয়েছে। সেদিন রোমানা বেগম বলেছিলেন না?

“” এরকম লাফাঙ্গার মতো চললে নাকি তাকে কারোর রুচিতে ধরবেনা,, ধরলেও বেশিদিন টিকতে পারবে না “” অথচ উনার ছেলে ওর সামান্য আগ্রহ পাওয়ার জন্য মরিয়া। রাত হলে ওর মতো লাফাঙ্গার পায়ে চুমু খায়,, পিরিয়ড্স এর সময় পা ও টিপে দেয়। তল পেটে গরম সেক ও দেয়,, ছেড়ে যাবার কথা বললে ঘরময় তোলপাড় চালায় এমনকি তার মতো লাফাঙ্গা, বেয়াদব, অসভ্য উগ্র মেয়ের জন্য উনার ছেলে নেশাও ছেড়ে দিয়েছে। যদি কখনো কথা উঠে একদিকে পুরো দুনিয়া আর অপরদিকে অর্পনা তাহলে নিসন্দেহে উনার ছেলে অর্পনাকেই চুজ করবে। অর্পনা ইজ অর্পনা। তাকে এভোয়েট করা এত্তো ইজি না,, আর না সে কখনো হাড়তে শিখেছে। এখন তো জাস্ট শুরু,, এই দ্বীপ মির্জা একদিন তার জন্য উন্মাদ প্রেমিক হবে,, তখন শ্বাশুড়ির হজম হবে কিনা সন্দেহ। ছেলের কান্ডে খুক খুক করে কেশে উঠলেন মাহিদ মির্জা,, কে বলবে এই ছেলে ঐদিন এই মেয়েটাকে জাস্ট মেইড বলে পরিচয় দিয়েছিলো? ওহুম কেউ বলবে না আর যারা দেখেছিলো তারা শাক্ষি দিলেও লোকে সেটা বিশ্বাস করবে না।

,,,গতকাল ঝর ঝাপ্টা থাকলেও আজ আকাশ মোটামুটি পরিস্কার। তবে কতোক্ষন পরিষ্কার থাকবে তার আশঙ্কা করা যাচ্ছেনা। ইদানিং কেমন আগাম বার্তা ছাড়াই হুটহাট বর্ষন নেমে আসে। সাদা তুলোর ন্যায় মেঘমালার দিকে নজর তাক করে গভীর ভাবনায় বিভোর অর্পনা। দ্বীপ দুদিন যাবতি বিষয়টা খেয়াল করছে,, আজো একই ব্যাপার। দ্বীপ ভাবলো অর্পনা বোধহয় প্রজেক্ট নিয়ে টেন্সড তাই আসস্থ করতে বললো — এনি প্রবলেম ভেলোরা? প্রজেক্ট নিয়ে ভয় পাচ্ছো? ভয় পেওনা, আমি আছিতো। আর এমন কোনো কথা নেই যে প্রজেক্ট টা তোমাকে পেতেই হবে,, তুমি এটাকে জাস্ট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে ধরে নেও। হলে হলো,, না হলে ইট্স ওকে।
,,, দ্বীপের কথায় মেঘ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ওর দিকে তাকালো অর্পনা,, নরম স্বরে প্রতিত্তর করলো– আমি সেজন্য চিন্তিত নই দ্বীপ,, আমি শিউর প্রজেক্ট টা আমি পাবোই তবে কিছু বিষয় নিয়ে আমি সত্যি টেন্সড,,সুলেশন খুজে পাচ্ছিনা।

,,, দ্বীপ ভাবেনি অর্পনা সত্যি ই প্রশ্নের উত্তর দিবে।সে কিছুটা দ্বীধান্মিত কন্ঠে সুধালো — যেমন? শেয়ার করা যাবে?
,,, অর্পনা সাবলীল ভাবে জবাব দিলো — করা যাবেনা কেনো? আপনি তো আমারি।
,,, এই পর্যায়ে বেশ অবাক হলো দ্বীপ — কি বললে?
,,, কি বল্লাম?
,,, আমি কার?
,,, দ্বীপের অবাকতাকে খুব একটা পাত্তা দিলোনা রমনি,, চোখে মুখে বিরক্তি প্রকাশ করে বললো– ওপ্স সেন্টি খাইয়েন নাতো,, এরকম রিয়্যাকশন দেওয়ার কি আছে? আপনি তো আমারি,, বিয়ে করেছি, সংসার করছি তাহলে কি অন্য মহিলার হবেন?

,,, দ্বীপের মুখটা চুপসে গেলো,, সামনে থেকে বিহান কিছুটা তিক্ত স্বরে বললো — নিরামিষ!!
,,, বিহানের কথায় পাত্তা দিলোনা অর্পনা,, দ্বীপের কাধে মাথা হেলিয়ে দিয়ে ওর শার্টের বোতাম নাড়াচাড়া করতে লাগলো, প্রশ্রয় পেয়ে ওকে এক হাতে আগলে নিলো দ্বীপ, অর্পনা আরও একটু মিশে গেলো দ্বীপে বুকে,, কিছুটা ভাবুক হয়ে বললো — রাত আর অরুনকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। ওদেরকে কথা দিয়োছিলাম সব ঠিক করে দিবো অথচ কিভাবে ঠিক করবো সেটা বুঝতে পারছিনা। সুহাসিনী আন্টির বিষয়টা এতোটাই স্যানসিটিভ যে এটা চাইলেও সবার সামনে রিভিল করা যাবেনা তাহলে রাত্রি জেনে যাবে,,যে সে তার মায়ের সন্তান নয়। ভাববে, সে অনাথ তার বাবা মা কেউ নেই। এই যন্ত্রনার পরিমান বিশাল আর রাত্রি যথেষ্ট ইমোশনাল,, এসব কখনো মেনে নিতে পারবেনা। তারপর যদি আবারও কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে? তখন কি হবে? একবার বেঁচে গিয়েছে আবার যদি বাচাতে না পারি? (,কিছুটা আতকে উঠে) আল্লাহ আমার রাত!! আমি ভাবতেই পারছিনা,, আমার ফ্রেন্ডদের মধ্যে কারোর কিছু হবেনা। কখনোই না, কোনোভাবেই না। ওদের ভালো রাখতে আমি সব করবো,, সবটা।
,,, বন্ধুদের প্রতি অর্পনার টান বরাবরই দ্বীপকে মুগ্ধ করে। সে খরখরা হাতে অর্পনার গাল ছুলো,, অত্যন্ত কোমল কন্ঠে প্রশ্ন করলো — ধরো তোমার সাথেও রাতের মতো এমন কিছু হলো,, হুট করে কেউ এসে বললো তোমার পাপ্পা তোমার নিজের পাপ্পা নয়,, তুমি অন্য কারোর,,,
,,, কথা শেষ করার আগেই দ্বীপের শার্টের বোতামে রাখা অর্পনার হাতটা অসার হয়ে এলো,, ফসকে পরলো দ্বীপের উরুর উপর। অর্পনার চোখ ঝাপসা,, শ্বাশের গতি বেড়েছে,, ঠোট তিরতির করে কাপছে,, ধীরে ধীরে শরীরেও কাঁপন ধরছে,, দ্বীপের বুকটা ধ্বক করে উঠলো। কাল রাতে অর্পনা শুরুতে এভাবেই কাপছিলো,, এখন কি অজ্ঞান হয়ে যাবে? দ্বীপকে বসে থাকতে দেখে বিহান ধমকের স্বরে বললো — আহাম্মকের বাচ্চা!! রোবটের মতো বসে না থেকে পানি দে।

,,, দ্বীপ দ্রুত পানির বোতল নিয়ে অর্পনাকে খায়িয়ে দিলো, চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে চুম্বন করতে করতে বলো — আমার সোনা, আমি তো এমনি ই বলেছি। জাস্ট এমনি কিউরিসিটি থেকে জিজ্ঞেস করলাম৷ এই পৃথিবীতে চাঁদ সূর্য যেমন সত্যি,, অর্পনা জামান হচ্ছে আরশাদ জামানের মেয়ে এটা তার থেকেও অধীক সত্যি। রিল্যাক্স হও জান রিল্যাক্স। তোমার পাপ্পা শুধু তোমার আর তুমিও শুধুই তোমার পাপ্পার,, আমি সিরিয়াস ছিলাম না।
,,, অর্পনা কিছুটা শান্ত হলো,,সে দ্বীপের শার্টের বোতামের ফাকে গলার উন্মুক্ত জায়গায় মুখ ডুবিয়ে অভুজ শিশুর ন্যায় আওড়ালো — আমার পাপ্পা আমার তাইনা? আমিও শুধু আমার পাপ্পার মেয়ে,, বলুন? আমার পাপ্পা আমায় কখনোই দয়া করতে পারেনা,,, এই পৃথিবীতে যারা যারা আমার জীবনে এসেছে সবাই আমাকে দয়া করেছে,, আপনিও করেছেন। আমার কেউ নেই বলে দয়া করে আমার সাথে থাকছেন। এসব বুঝি আমি। আমার প্রতি সবার সুহানুভুতি জন্মায় বাট নট আদার্স ফিলিংস। তবে আমার পাপ্পা সবার মতো না। সে আলাদা, আমি তার সন্তান তাই সে আমায় ভালোবাসে,, অসম্ভব ভালোবাসে। এখানে কোনো দয়ার স্থান নেই।

,,, দ্বীপ শুকনো ঢোক গিললো,, অর্পনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো — আমি তোমায় কখনোই দয়া করিনি সোনা,, এক টুকরো ও না। আচ্ছা বাদ দেও এসব,, তারপর বলো,, রাত আর অরুনকে নিয়ে কি ভাবলে?
,,, অর্পনা দ্বীপের গলায় মুখ গুজেই দ্বীধান্মিত কন্ঠে সুধালো — আমি একটা কথা ভাবছিলাম কিন্তু,,,
,,, কি কিন্তু?
,,, আবার বকবেন নাতো?
,,, আমার বকাকে ভয় পাও তুমি?
,,, কিছুটা!! ধমক দিলে ভয় পাই।
,,, দ্বীপ ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো, আশ্বস্ত করতে বললো– আচ্ছা ধমক দিবোনা, বলো।
,,, ভাবছিলাম যে,, যদি সুহাসিনী আন্টিকে আমরা বিয়ে দেই। উনি তো কখনোই বিয়ে করেননি,, সি ডিসার্ভ বেটার দেন মেহমাদ। একজন ভালো মনমানসিকতার লোক দেখে বিয়ে দিলে। উনি যদি রাতকে মেয়ে হিসেবে মেনে নেয় তাহলে বিষয়টা নিয়ে আর কোনো জল ঘোলা হবেনা। কেউ আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন ও করবেনা, রাতের জন্ম পরিচয় কি? কারন তারা তো রাতের পাপ্পাকে চোখের সামনেই দেখতে পাবে। আবার সুহাসিনী আন্টির ও একটা শুন্যস্থান পূরন হবে।

,,,প্রস্তাবটা পছন্দ হলো না দ্বীপের আবার অগ্রাহ্য করার মতো ও না। সে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে সুধালো — উনি বিয়ে করতে রাজি হবে বলে মনে হয় তোমার?
,,, জানিনা তবে চেষ্টা করতে ক্ষতি কি?
,,, তাহলে করো। কিছু হেল্প লাগলে আমায় জানিও।
,,, অর্পনা ভাবলো,, এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন ভালো মানুষ যে সুহাসিনী আন্টিকে বুঝবে,, ভালোটালো বাসবে আবার রাতকেও মেয়ে হিসেবে মেনে নিবে। কিন্তু এমন মানুষ সে কোথায় পাবে? সে তো ফ্রেন্ড সারক্যল, শ্বশুর বাড়ির লোকজন, পাপ্পা, আদি আর দ্বীপ ব্যাতিত অন্য কারোর সাথেই মিসেনি,, কথা টথাও বলেনি কোনোদিন। তাহলে সে এমন মানুষ কোথায় পাবে? পেলে দ্বীপ পেতে পারে কারন সে তো অনেক লোকের সাথে উঠাবসা করে,, তাদের কোম্পানিতেও অনেকেই জব করে,, আবার বিজন্যাস পার্টনার ও রয়েছে। কাউকে না কাউকে তো পাওয়াই উচিৎ। অগত্যাই আবদার জুড়ে দিলো অর্পনা– একটা ভালো মন মানসিকতার মানুষ খুজতে হবে,, এটুকু হেল্প করুন। আই নো আন্টির এইজের কোনো অবিবাহিত লোক থাকবেনা কিন্তু এমন কেউ, যার প্রথম স্ত্রী নেই,, বিয়ে হয়ে গিয়েছে কিংবা মারা গিয়েছে,, এরকম হলেও ভেবে দেখা যায়।
,,, দ্বীপ অর্পনার চুলের ভাজে চুমু খেয়ে বললো — দেখছি!!

রাত ৭ টা বেজে ২৫। চট্টগ্রামে মেইন অফিসের কাজ শেষ করে মাত্রই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো দুজন,, অর্পনা ড্রাইভ করছে দ্বীপ পাশের সিটে বসে,, বিহান আপাতত তাদের সাথে নেই সে আগেই কক্সবাজারে চলে গিয়েছে। বিকালের দিকে আকাশটা পরিষ্কার থাকলেও বর্তমানে আকাশটা মেঘলা, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছে। অর্পনা গাড়ির ভিতর এবং বাহির দুদিকের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। কখন আবার কি অঘটন ঘটে যায় বলা তো যায়না। হুট করে আলো জ্বলে উঠায় ভ্রু গুটালো দ্বীপ,, অর্পনার উদ্দেশ্য প্রশ্ন করলো — কি হয়েছে? ভিতরের আলো জ্বালালে কেনো?

,,, আপনার নজর খুব ভালো তো তাই? অন্ধকারে নিজের বউয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে লজ্জা করে না?
,,, দ্বীপ এক ভ্রু উচিয়ে অর্পনার দিকে কেমন করে যেনো তাকালো। তার দৃষ্টিতে পরিমাপ,, সে অর্পনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্কেন করলো। দ্বীপকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্পনা কিছুটা ভাব নিয়ে সামনে আসা চুলগুলো হাত দ্বারা সরিয়ে দিলো। যার ফলে সহসাই তার কাধের এক পাশ উন্মুক্ত হলো,, অর্পনা বোধয় ভাবতে পারেনি এই ভাব নেওয়াটাই তার জন্য কাল হয়ে দাড়াবে। অর্পনার কাধে নজর স্থির রেখে একটা গভীর নিশ্বাস টানলো দ্বীপ, হাত বাড়িয়ে ভিতরের লাইট টা অফ করে দিলো। যতটা সময় নিয়ে লাইট অফ করেছে তার থেকেও দ্রুত গতিতে অর্পনার গলায় মুখ গুজে দিলো। আলতো স্পর্শে কেপে উঠলো অর্পনা,, এক হাতে দ্বীপের শার্ট খামচে ধরে অন্য হাতে গাড়ির স্টেয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে গভীর শ্বাস টেনে বললো — দ্বীপ,, এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে।
,,,, দুদিকে মাথা নাড়িয়ে গোঙিয়ে উঠলো দ্বীপ,, তারমানে সে সরবেনা। অগত্যা গাড়িতে ব্রেক কষলো অর্পনা,, স্থির হয়ে বসে দ্বীপকে সরাতে চাইলে ওর দুহাত আটকে দিয়ে চুমুতে চুমুতে ভিজিয়ে দিলো কাধের এক পাশ। অর্পনা এক হাতে দ্বীপের মুখ সরাতে চেয়ে শান্ত কন্ঠে বললো —

,,, দ্বীপ আমি আপনাকে আঘাত করতে চাচ্ছিনা,, সসম্মানে দূরে সরুন।
,,, সরে এলো দ্বীপ, গভীর শ্বাস টেনে বললো– আমায় তুমি কষ্ট দিচ্ছো ভেলোরা!!
,,, কেনো কাছে আসতে দিচ্ছিনা বলে? বিয়ে করলে কাছে টানাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট?
,,,, উত্তর করলো না দ্বীপ,, ঝানালার গ্লাসটা নামিয়ে দিলো,, শো শো শব্দ করে ভিতরে বাতাস ডুকলো, সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ঝাপটা এসে লাগলো মুখবিবরে। অর্পনা গাড়ি স্টার্ট দিলো। পিনপতন নিরবতায় অনেকটা সময় কাটলো,,, কেউ আর কোনো বাক্য বিনিময় করলো না। অর্পনা জানে দ্বীপ কষ্ট পেয়েছে,, সে চাইলেই দ্বীপকে মেনে নিতে পারতো কিন্তু এটা ঠিক নয়। উনি কষ্ট না পেলে সুধরাবে না। একটা ধাপ যেহেতু অতিক্রম করতে পেরেছে বাকিটাও পারবে,, একদিন ঠিকি মনের কথা প্রকাশ করবে। আর সেটা প্রকাশ করাতে যদি উনাকে তীব্র ব্যাথায় ও ব্যাথিত করতে হয় সেটাও করবে অর্পনা। ভালোবাসি না বলে ভালোবাসাবাসি কখনোই সম্ভব না।

রাত ৯ টা ১৮,,
,,, বিছানার এক কোনায় বসে ফাইল ঘাটাঘাটি করতে করতে বারান্দার দিকে তাকালো অর্পনা,, দ্বীপ এক মনে বিচের দিকে তাকিয়ে কফি খাচ্ছে,, এসে থেকে তার সাথে প্রয়োজনের বাহিরে একটা কথাও বলেনি। বিষয়টাতে এতোক্ষন তেমন মাথা না ঘামালেও বর্তমানে অর্পনার দ্বীপের সান্নিধ্যে পেতে ইচ্ছা করছে,, অগত্যা ফাইল পত্র দূরে সরিয়ে উঠে দাড়ালো। এই কটেজ টা দ্বীপদের প্রাইভেট ভিলার একটি অংশ। মারমেইড রিসোর্ট থেকে কিছুটা দূরে বিচের উপরে জায়গা নিয়ে একটি ভিলা তৈরি করেছিলেন মাহিদ মির্জা,, এটা বহুদিন আগের ভীলা। যখন চট্টগ্রামে প্রথম ওদের ব্রাঞ্চ খোলা হয় তখন এই ভীলাটা বানিয়েছিলেন যেনো কাজের সূত্রে আসলে থাকার অসুবিধা না হয়। আবার চাইলেই যেনো মাঝে সাঝে ফ্যামিলি ট্যুর দিতে পারে সেই প্রত্যাশায় এটি তৈরি করা। দ্বীপ আর বিহান বড়ো হওয়ার পর শাহিন মির্জার রেফারেন্সের মাধ্যমে,, সরকার কর্তৃক ঝামেলা ওভারক্যাম করে বিচ থেকে ৫ বিঘা জমি কালেক্ট করে,, বিচের একদম মাঝামাঝি জায়গায় এই কটেজ টা তৈরি করে। এই কটেজটি ভীলার সাথে এটাস্ট,, কাঠের লম্বা ব্রিজ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে দুটো বাড়ি।

চাইলেই যখন তখন কটেজ থেকে ভীলায় পৌছানো যায় আবার ভীলা থেকে কটেজে। ব্রিজের দুপাশে লম্বা লম্বা ঝাও বন প্লেসটার সৌন্দর্য যেনো দ্বীগুন করে তোলেছে। কটেজটিতে দুটো ইউনিট,, একটা বিহানের অন্যটা দ্বীপের। একটা ইউনিটে একটি রুম আর একটি ওয়াসরুম রয়েছে,, দুই ইউনিটের বারান্দা সমুদ্র মুখি। সেই সাথে রুম আর বারান্দার মাঝে আলাদা কোনো দেওয়াল নেই শুধু রুমটা একটু উচুতে আর বারান্দাটা একটু নিচে,, ডিফারেন্স পরিমাপ করলে এক হাতের মতো হবে। তারো এক হাত নিচে সুইমিং পুল এরিয়া। বিচ থেকে এই কটেজের উচ্চতা ১০ ফুট প্লাস। যখন সমুদ্রে জোয়ার আসে তখন পানি একদম কটেজের কাছাকাছি চলে আসে। ঢেউয়ের সাথে সাথে কিছু পানি সুইমিং এড়িয়াতেও এসে পৌছায়। কটেজটিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এটি উন্যত মানের কাঠ আর কাচ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি এর চারপাশেও বড়ো বড়ো ঝাউ বন রয়েছে যার ফলে পরিবেশটা অসম্ভব সুন্দর দোখায়।

বর্তমানে ওরা দুজন এই কটেজেই অবস্থান করছে আর বিহান আছে ভিলাতে,, ওখানেই তাদের জন্য রান্নাবান্না করা হচ্ছে,, মেবি কিছুক্ষণের মধ্যেই মেইড এসে খাবার দিয়ে যাবে। অর্পনা এইতো বছর দুয়েক আগে বন্ধু মহলের সাথে এখানে এসে মারমেইড রিসোর্টে রুম বুক করেছিলো,, তখন বিচে নামতেই দূর থেকে এই কটেজটা দেখেছিলো। তখন রাত্রি একবার কটেজটি ঘুরে দেখার ইচ্ছা পোষন করোছিলো,, রাত তো তাদের বন্ধু মহলের প্রান ভোমরা,, চারজনের বড্ড আদুরে বাচ্চা সে,, সারাক্ষণ তাকে প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট দিয়ে রাখা তাদের অভ্যাস। সেবারেও তাই হলো,, সবাই এসে পৌছালো এই কটেজের কাছে কিন্তু পুরোপুরি কাছে পৌছাতে পারলো না। তার আগেই দুজন গার্ড এসে ওদের আটকে দিলো,, হুসিয়ার দিলো আর দুপা এগুলে তারা গুলি করতে বাধ্য হবে। অরুন, ইরা আর পল্লব গার্ড দুটোকে যথেষ্ট রিকোয়েস্ট করেছিলো যেনো একটুখানি ঢুকতে দেয়, কিন্তু লোক দুটো পাত্তা দেয়নি। পাত্তা না পেয়ে অর্পনা গার্ড দুটোর সাথে মারাত্মক হাড়ে ঝগড়া করেছিলো,, তারপরেও লোক গুলো তাদের ঢুকতে দিলোনা। এইতো আজ ভীলায় ঢুকার সময় ও লোক দুটোর সাথে দেখা হলো। ওকে দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলো,, নিশ্চই ভাবছে “” এই মেয়ে এখানে কি করছে?”” ভাবলে ভাবুক,, তাতে অর্পনার কি এসে যায়? সেসব ভাবতে ভাবতে অর্পনা এগিয়ে এসে দ্বীপকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। দ্বীপের কোনো ভাবান্তর হলো না সে আগের নেয় শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো। পাত্তা না পেয়ে অর্পনা দ্বীপের বাহুর ফাক দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে সুধালো — কি হয়েছে?

,,,, কি হবে?
,,, আমার সাথে কথা বলছেন না যে? রাগ করেছেন?
,,, রাগ করবো কেনো? কিছু বলবে?
,,, আপনার কন্ঠ খুব কঠোর শুনাচ্ছে,, আমি কাছে আসাতে খুশি হোননি?
,,, দ্বীর্ঘশ্বাস ফেললো দ্বীপ,, বললো — আমার সান্নিধ্যে যার যন্ত্রণা হয় তার সান্নিধ্যে আমার যন্ত্রণা লাঘব হয়। তোমার আর আমার অনুভুতির বড্ড তফাৎ ভেলোরা,, বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।
,,, অর্পনা প্রতিত্তর করলো না,, সমুদ্র হতে ঠান্ডা বাসাত আসছে। আকাশ কিছুটা মেঘলা হলেও বৃষ্টি নেই,, সমুদ্রেও ভাটা চলছে তবে ঢেউয়ের কল কল শব্দে মুখোরিত হচ্ছে চারিপাশ। বৃষ্টি আসবে কিনা তা শিউর না হয়েও শুধু দ্বীপের রাগ ভাঙাতে বললো — মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে।

,,, দ্বীপের নির্লষ জবাব– তাতে কি?
,,, ভিজবেন?
,,, আমি পছন্দ করিনা।
,,, আমিও করিনা তবে কিছু কিছু সময়ে পছন্দের মানুষের সাথে অপছন্দের কাজ করতেও ভালো লাগে। চলুন একটা এক্সপেরিমেন্ট করা যাক,, একবার ভিজেই দেখি ভালো লাগে কিনা।
,,, দ্বীপকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না অর্পনা, তার আগেই ওর হাত ধরে পুল সাইডে নেমে গেলো। এখানে অনেকটা যায়গা ফাকা,, চারপাশ ফুলের গাছ দ্বারা আবৃত। একপাশে ছোট্ট একটা পুল,, পুলের মাঝামাঝি পর্যায়ের এক সাইডে একটা দোলনা সেট করা,, এই দোলনায় বসে দোল খেলে পুলের মাঝখান পর্যন্ত পৌছানো যায়। অর্পনা দ্বীপকে টানতে টানতে সেই পুলের কাছে এসে পৌছালো। গার্ডার দিয়ে আটকে রাখা লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দিলো,, সাথে সাথে ফুরফুরা বাতাসে উড়তে লাগলো চুলগুলো। অর্পনা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দুদিকে দুটো হাত ছড়িয়ে দিলো,, বাতাসের তোপে তার গায়ের সফ্ট শার্ট আর লুজ জিন্স উড়ে যাচ্ছে অবলীলায়। এই পর্যায়ে দ্বীপের মনে লোভেরা হানা দিলো, এই চুলের ঘ্রানের প্রতি বড্ড যোক তার,, দেখলোই ঘ্রাণ নিতে ইচ্ছা করে। তবে নিজেকে দমিয়ে রাখলো,, যতক্ষণ না অর্পনা নিজ থেকে ওর কাছে এসে কাছে যাওয়ার জন্য আবদার করবে ততক্ষণ সে ওর ধারে কাছেও যাবেনা। দ্বীপের কোনো হেলদোল না দেখে অর্পনা ভ্রু কুচকালো,, লোকটা কি বুঝতে পারছে না? যে সে উনার রাগ ভাঙাতে এসেছে? নাকি বুঝতে পেরেই এমন রং ঢং করছে? অর্পনা এগিয়ে এসে দ্বীপের গলা জড়িয়ে ধরে বুকের বামপাশে চুমু খেলো তবুও দ্বীপের মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেলোনা। এই পর্যায়ে অর্পনা খুবি শান্ত অথচ হুমকি স্বরুপ কন্ঠে বললো — আপনি কি রাগ কমিয়ে নরমাল হবেন? নাকি আমি রাগ করে চলে যাবো? বুইঝেন,, আমি রাগ করলে আপনার ১৪ গুষ্টি ও সেটা ঠিক করতে পারবেনা।

,,, দ্বীপ এবারেও নির্লিপ্ত জবাবে সুধালো — আমি নরমাল ই আছি, দাড়িয়ে আছি,, চাইলে বৃষ্টি আসলে ভিজবো ও। এর বাহিরে আর কি চাও?
,,, অর্পনার এবার মেজাজ চরে গেলো,, লোকটার কোনো ধারনা আছে সে কতোখানি ধৈর্য যোগার করে উনার রাগ ভাঙাতে এসেছে? এখন ধৈর্যের বাধ ভাঙা ডান,, মন চায় এই লোক রাগ করুক নয়তো রাগ করে উত্তল সমুদ্রে ঝাপ দেক, সে দেখতেও আসবে না। অগত্যা দ্বীপের বুকে সজোরে ধাক্কা মেরে দাতে দাত চেপে বললো — একদম আমার আশেপাশে আসবিনা,, রাতে যদি গায়ে হাত দিয়েছিস তাহলে তর হাত আমি ভেঙে গুড়িয়ে দিবো দ্বীপ মির্জা,, আসিস শুধু।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০ (১)

,,, বলতে বলতে বারান্দা পেরিয়ে রুমে চলে গেলো,, এই লোকের সাথে আর কখনো কথা বলবে না সে। কালকে প্রজেক্ট ফাইনাল করে একা একা বাড়ি চলে যাবে নয়তো যাবেই না। এখান থেকেই কোথাও একটা হাড়িয়ে যাবে,, তখন নিশ্চয়ই খুজবে? খুজবেই তো। তাকে ছাড়া এই লোক বাচবে কি করে? নাকি বাচতে পারবে? ভেবেই অর্পনা একবার পিছু ফিরে তাকালো,, ভেবেছিলো দ্বীপ ওর দিকে তাকাবে কিন্তু নাহ। ঐ লোক কার সাথে যেনো ফোনে বিজি। অর্পনার খুব অভিমান হলো,, আসলেই মানুষ পুরোনো হয়ে গেলে দাম দেয় না। সে তো এখন পুরোনো হয়ে গিয়েছে তাই না? ভেবেই তীব্র অভিমান নিয়ে বিছানায় গা হেলিয়ে দিলো,, বালিশে মুখ গুজে রাখলো। আজ খাবেও না সে,, যা খাওয়ার ঐ লোকটাই খাক।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here