Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫
রুপান্জলি

০২/০৩/২০১৯
,,,, একজন মুসলিম ধর্মের অনুসারী হওয়ার দরুন প্রতিটা মুসলিমের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। তবে ইদানীং বেশিভাগ মুসলিম ই নামাজ ব্যাতিত বাকি সবকিছুর পিছনে সময় কাটায়। অন্যায়ভাবে অসাধু জীবন কাটানোর পরেও যখন কেউ তাদের সৎ পথের দিক নির্দেশনা দিতে আসে তখন তারা সেটার মুল্য তো দেয় ই না বরং যে তাদের নির্দেশনা দিতে আসে তাকেই জান্নাত থেকে ছুটে আসা হুর-পরী বলে বেঙ্গ করে। মাঝে মধ্যে মক্কার খেজুর বলেও বেঙ্গ করতে ছাড়েনা। এমনি কিছু কটুক্তির শিকার হয়েছে পারমিতা। সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অদম্য চেষ্টা করে, ভুলক্রমেও যদি কোনোদিন নামাজ পড়তে না পারে তাহলে সেদিনের জন্য আলাদা নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ এর নিকট তওবা করে নেয়। প্রতিদিনকার মতো আজকেও ফজর ওয়াক্তে উঠে দুজন রুম মেইটকে নামাজ পড়ার তাগিদা দিলো।

সিমি নামক মেয়েটা আল্লাহ ভিতি নিয়ে উঠে পরলেও সেই কর্কশ ধ্বনির সিনিয়রটা পারুকে অনেক কথা শুনায়। এতে অবশ্য সে রাগ করেনি, আমাদের সম্মানীয় নবীগনরা যখন দ্বীন প্রচার করতেন তখন তাদের কটুক্তির সাথে সাথে অনেক আঘাত ও পেতে হয়েছিলো। কই তারা তো কোনোদিন মন খারাপ করেনি? ওনারা মন খারাপ করেনি বলেই আজ পৃথিবীর ২৩.৯ % মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। হয়তো পৃথিবী এগুতে এগুতে আরও সংখ্যা বাড়বে। সিমি নামাজ পড়েই আবার ঘুম দিয়েছে। পারমিতা জায়নামাজ ভাজ করে জানালার পাশে গিয়ে দাড়ালো, জানালার একটা ফটক খুলতেই হরহর করে স্নিগ্ধ বাতাস প্রবেশ করলো। মুগ্ধ অনুভুতিতে চোখ বন্ধ করে নিলো পারমিতা, এভাবে কতো মিনিট কাটলো জানা নেই। এরপর যখন চোখ মেলে তাকালো তখন তার চোখ কপালে। একদম তার বরাবর রাস্তায় ব্লাক বাইকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে দ্বীপ। তার পরনে পিচ কালারের শার্ট আর ক্রিম কালার পেন্ট, শার্টের হাতা ফোল্ড করা, বুকের এদিকে তিনটে বোতাম খোলা থাকার ফলে প্রসস্থ বুকের অভয়ব দৃশ্যমান,, সমান করে কাটা চুলগুলো এখন অযত্নে কপালের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, আর সেই ধূসর রঙা বিড়াল চোখের দৃষ্টি!! সেটা একদম পারমিতার চোখের দিকে তাক করা।

পারমিতা মোহাচ্ছন্নের ন্যায় তাকিয়ে রইলো সেই চোখে,, যেনো দ্বীপ তার ভয়ানক সুন্দর চোখ ধারা তার চোখকে ম্যানিপুলেট করে রেখেছে। এভাবে সময় পেরুলো কিছুক্ষণ। পারমিতা যখন নিজের অবস্থান আর দ্বীপের এভাবে তাকিয়ে থাকার মানে বুঝতে পারলো ততক্ষণাৎ ভয়ার্ত ঢোক গিললো মেয়েটা, এই লোক এতো সকালে এখানে কি করছে? গত রাতের ঐ কথাটা কে বলেছে সেটাই জানতে সকাল সকাল চলে এসেছে বুঝি? ওরে বুদ্ধি!! পশংসা করতে হচ্ছেতো। ঠিক বুদ্ধি করে সকাল সকাল চলে এসেছে, কারন সে জানতো সারা রাত জানালা বন্ধ করে রাখলেও সকাল হতে না হতেই জানালার মালিক তার জানালা খুলে বাহিরে তাকাবে। এই কুটনৈতিক বুদ্ধি নিয়েই বোধহয় রাজনীতি করে বেড়ান এই লোক। নয়তো দুই চাচা একই বাড়িতে থেকে নিশ্চয়ই এমপি মন্ত্রী হতে পারতেন না? দ্বীপ এখনো একভাবে পারমিতাকেই দেখছে,পারু ও সেদিকেই তাকিয়ে। ঐ চোখে কি আছে জানেনা মেয়েটা। ঐ চোখের ভাষা পড়া যাচ্ছেনা, সেখানে কি আছে? রাগ নাকি অন্য কিছু? যদি রাগ থাকে তাহলে কি সেই রাগের তোপে পারমিতাকে খুন করে দিবে? খুনের কথা মাথায় আসতেই সাথে সাথে জানালা আটকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বড়ো বড়ো দম নিলো পারমিতা। মনে মনে দোয়া করলো,, আল্লাহ যেনো তাকে রক্ষা করে। আপাতত কয়েকদিন যেনো তাকে এই লোকের সামনে পরতে না হয়, ভার্সিটিতে গেলে সে ক্লাস থেকে বের হবেনা, তাহলেই আর এই লোকের সামনে পরতে হবেনা।

,,,,অবোধ, বোকা পারু জানতেই পারলোনা, অজানা বিষের তারনায় গতকাল রাতে বাড়ি ফিরেনি দ্বীপ । শুধু জায়গা পরিবর্তন করে তার জানালা বরাবর এসে দাড়িয়েছে,, তারপর সেই দাড়িয়ে থেকেই সারা রাত পারি দিয়েছে। কোনো এক অজানা কারনে সেই কথার মালিককে এক নজর দেখার প্রবল ইচ্ছা জেগেছিলো মনে। আর সেই ইচ্ছা থেকেই তার এই ঘুমের নির্বাসন।

০৩- ৩- ২০১৯
,,,,ভার্সিটি প্রাঙ্গনে পা রাখতেই কেউ একজন পারমিতার হাত টেনে ধরলো, কেপে উঠলো মেয়েটা। কেনো যেনো মনে হলো দ্বীপ তার হাত টেনে ধরেছে তাকে খুন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ভয়ে ভয়ে হাত ধরা মানুষটার দিকে তাকাতেই ঠোঁটে হাসি ফুটলো, এটা তো মেধা বাট তার সাজ সজ্জা দেখে মনে হচ্ছে সে বোধহয় বিয়ে বাড়িতে যাবে বলে রেডি হয়ে এসেছে। পরনে গোল্ডেন রং মিশ্রিত লাল গাউন, মুখ ঝুড়ে কৃত্রিম সাজসজ্জা। পারমিতা ঠোটে হাসি বজায় রেখো বললো — কি ব্যাপার মেধা? এতো সাজগোজ কেনো?
,,,মেধা হেসে বললো — আজকে একটা স্পেশাল ডে, বুঝলে? তাই এতো সাজুগুজু করে এসেছি।
,,,ওহ!! তাতো ভালোই। তবে, আজকে কি এমন আছে যে তোমাকে এতো খুশি খুশি লাগছে? একটু একটু ব্লাস ও করছো দেখছি, কি ব্যাপার বলোতো?
,,,মেধা কিছুটা লজ্জা পেলো পরপর সেটাকে নিজ উদ্দমে অল্প বিস্তর বাড়িয়ে বললো — আজকে আমার সবচেয়ে প্রিয় দুজন মানুষের জন্মদিন। আর এর মধ্যে একজন একটু বেশি স্পেশাল।
,,, কথাটা শুনে ঠোট টিপে হাসলো পারমিতা। পরপর ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলো _ আর সেই স্পেশাল মানুষ টা বুঝি আমাদের দুলাভাই?

,,,মেধা মাথা ঝাকিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো,, পারমিতা তার মুখ থেকে হাত সরিয়ে উকি দিয়ে বললো — লজ্জাবতী লতা!! এতো লজ্জা পাচ্ছো কেনো শুনি? যাই হোক, এতো সুন্দর করে যার জন্য সাজলে তাকে এই রুপ দেখিয়েছো তো? দেখা করেছো? উইস করেছো?
,,, হুম, উইস তো রাত ১২ টায় করেছি। কিন্তু আমার এই সাজ সে এখনো দেখেনি তবে এখন দেখবে, মানে আমরা এখন তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।
,,, আমরা কথাটা শুনে ভ্রু কুচকালো পারমিতা — আমরা মানে? এখানে আমরা কত থেকে এলো মেধা? এটা হবে আমি , মানে তুমি তোমার উডবির সাথে দেখা করতে যাচ্ছো।
,,, মেধা পারমিতার কাধ ধরে নাটকিয় স্বরে বললো — নাগো আমার তেলোবতী!! তোমাকেও যেতে হবে। আর আমরা কোনো আলাদা টাইম স্পেন্ড করতে যাচ্ছিনা বোকা। সে তার বন্ধু বান্ধবদের ট্রিট দিবে সেখানে আমরাও ইনভাইটেড। চলোনা পারু প্লিজ!!
,,, না না!! কি বলো? আরও মানুষ থাকবে? আমি ওসবে নেই গো।বেশি মানুষ দেখলে আমি নার্ভাস হয়ে যাই, প্লিজ আমাকে জোর করোনা।

,,, পারমিতার নাকোচে মিথ্যা মিথ্যা অভিমান করে মেধা বললো — ঠিক আছে, তবে আমিও যাবোনা। জানোতো পারু!! আমি ছোট থেকে ফিনল্যান্ডে মামুর বাসায় বড়ো হয়েছি। এখানে তুমি বাধে আমার কোনো বন্ধু নেই, এতো গুলো মানুষের সামনে একা একা যেতেও ভয় করছে। তুমি সাথে গেলে নাহয় একটু সাহস পেতাম। থাক!! তুমি যখন যাবেইনা তাহলে জোর করে লাভ নেই। চলো ক্লাসে যাই।
,,, তপ্ত শ্বাস ফেললো পারমিতা। এখানে আসার পর থেকে মেধা আর সিমি ই হচ্ছে তার ভরসার জায়গা। মেয়ে দুটো বড্ড ভালো, তাই মেধাকে কষ্ট দিবেনা ভেবে রাজি হয়ে বললো — আচ্ছা!! আচ্ছা যাবো। তুমি বড্ড জেদি মেধা। তবে,,,যাদের বার্থডে তে যাচ্ছি তাদেরকে কিছু দিতে হবেনা? কি দেয়া যায় বলোতো?
,,, মেধা নাকোচ করে বললো — আরেহ, চিন্তা করোনা। আমি দুজনের জন্যই গিফ্ট কিনেছি। তোমাকে আবার এক্সট্রা করে কিছু কিনতে হবেনা।

,,,না না!! তা কি করে হয়,? চলো যাবার পথে কিছু কিনে নিবো।
,,,মেধা মাথা দুলালো, তাদের গন্তব্যে পৌছাতে গেলে রিকশায় চড়তে হবে তাই কিছু পথ হেটেই একটা রিকশা ডাকলো মেধা। মাঝ পথে রিকশা থামিয়ে পারু দুজনার জন্য ৭০ টাকা করে দুটো কলম কিনলো,, এটুকু টাকা সে হাত খরচ থেকে ভেঙেচে। কি করার? এমনি এমনি তো আর কারোর জন্মদিনে চলে যাওয়া যায়না? আবার যেখানে সে ইনভাইটেড নয়, শুধু বান্ধবীর খাতিরে যাচ্ছে। কিছুটা ফরমালিটিস তো বজায় রাখতেই হবে।
,,, রেস্টুরেন্টের ভিতর ঢুকতেই ওয়েটার ব্যাতিত কাউকে দেখতে না পেয়ে পারমিতার ভ্রু কুচকে এলো। বেলা বাজে সারে দশটা, এই সময় তো রেস্টুরেন্টে টুকটাক মানুষ থাকার কথা। তাহলে এখানে নেই কোনো? সে মেধার দিকে তাকিয়ে বললো — রেস্টুরেন্টে মানুষ নেই কেনো মেধা?
,,, মেধা মৃধু হেসে বললো — আছে, ভিতরে চলো, সবাই মনে হয় বেক সাইডে আড্ডা দিচ্ছে।
,,, পারমিতা বিনিময়ে শায় জানালো, হাটতে হাটতে কৌতুহল বসত প্রশ্ন করলো — ওরা বাদে আর কেউ নেই? মানে এটা তো রেস্টুরেন্ট তাইনা?

,,, মেধা বোধয় এবার পারমিতার অভিব্যাক্তি বুঝতে পেরেছে। তাই সে দ্রুততার সাথে বললো — আসলে, ওরা কয়েক ঘন্টার জন্য রেস্টুরেন্ট বুক করে নিয়েছে। যার ফলে এই মুহুর্তে কেউ রেস্টুরেন্টে ঢুকতে পারবেনা।
,,,পারমিতা চুপ রইলো, বড়োলোকদের বড়ো সরো ব্যাপার। ওসব সে বুঝবেনা,, তাই আর কথা বাড়ালো না। রেস্টুরেন্ট টা তুলনামুলক বেশ বড়ো,, বেক সাইডে পৌছাতেও ৩০ – ৪০ সেকেন্ডের বেপার। কিছু পথ এগুতেই ছেলেমেয়েদের হইচই শুনা গেলো। এ পর্যায়ে ভয় বাড়লো মেয়েটার, ইন্টোভার্ট টাইপ মেয়ে হওয়ার এই এক ঝামেলা!! অপরিচিত লোকজন দেখলেই ভয় ভয় লাগে। বেক সাইডে পৌছাতেই প্রথম দিন রেগ দেওয়া ছেলে মেয়েদের দেখে একদম অবাক বনে দাড়িয়ে রইলো পারমিতা। মেধা ওদের সামনে দাড়িয়ে পারমিতার হাত টেনে সবার উদ্দেশ্যে বললো —
,,,আমরা চলে এসেছি, এই পারু!! গেইজ করোতো এখানে থাকা ছয়জনের মধ্যে কোনটা আমার উডবি? গেইজ করো,, গেইজ করো।

,,,বলতে বলতে পারমিতার হাত ধরে ঝাকাতে লাগলো মেধা। এদিকে পারমিতা ভয়ে কাঠ, মেধা কি বলছে না বলছে তা যেনো ওর কর্নকূহর ই হচ্ছেনা। সে ভয়ার্ত চোখে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে, আহা কি পরিপাটি লুক। পড়নে ব্লাক শার্ট, ব্লাক পেন্ট, বরাবরের মতো ফোল্ড করা হাতা আর বুকের তিনটে বোতাম খোলা। ভয় ভয় নিয়েও মুগ্ধ হলো পারমিতা। আজ প্রথম এতোটা কাছ থেকে দেখার দরুন পুরো মুখটা অবলোকন করলো সে। দ্বীপের নাকের একপাশে একটা কুচকুচে কালো তিল রয়েছে যা তাকে বেশ আকর্ষনীয় করে তোলে, কপালের ঠিক ডানপাশে ভ্রুর উপরে একটু কাটা দাগ। দাগটা একদম ছোট যার ফলে দূর থেকে বুঝা যায়না, ঠোট জোড়া জাম রঙা আর কিছুটা ফোলা ফোলা। ছেলেদের ফোলা ঠোট বোধয় খুব কম দেখা যায়। তবে দ্বীপের টা বড্ড ইউনিক, সর্বশেষ চোখ!! ঐ চোখের বর্ননা দিতে গিয়ে আগেও বহুবার ব্যার্থ হয়েছে মেয়েটা। আজো সে ব্যার্থ, ঐ চোখে তাকালে তো সে এই জগতেই থাকেনা আবার বর্ননা করবে কি করে? পারমিতা তাকিয়ে থাকতে গিয়ে খেয়াল ই করলোনা বরাবরের মতো দ্বীপ ও শান্ত দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।পারমিতাকে দেখে সবাই একসাথে বলে উঠলো —

,,,আরে তেলোবতী যে, কাম কাম!! আমাদের পাশে এসে বসো।
,,, বলতে বলতে সিমরান , বিভা সরে বসলো অথৈ ওর হাত ধরে টেনে পাশে বসিয়ে দিলো। ওরা যেই টেবিলটাতে বসে ছিলো সেটা একটা কিং সাইজের টেবিল। সম্ভাবত ফ্যামিলি বা বন্ধু বান্ধবদের জন্যই এই টেবিল গুলো রাখা হয়। যার ফলে পারমিতা আর দ্বীপ সম্পূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান করছে। পারমিতা ঘাড় বাকিয়ে মেধার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকাতেই মেধাও তার পাশে বসে পরলো, পরপর মুচকি হেসে বিহান আর দ্বীপকে দেখিয়ে বললো–
,,,আজ ওদের দুজনের জন্মদিন। ওরা দুজন ই কিন্তু আমার ভাইয়া হয়, মানে দ্বীপ ভাইয়া আমার বড়ো আব্বুর ছেলে সেটা তুমি আগেই জানতে। আর বিহান ভাই আমার মেঝো আব্বুর ছেলে। এবার বলো এই দুজনের মাঝে আমার উডবি কে? কাকে আমার সাথে বেশি মানায়? বলোতো।
,,, এ পর্যায়ে সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে পারমিতার দিকে তাকালো যেনো এই প্রশ্নের উতর দিতে না পারলে পৃথিবী উল্টে যাবে। অগত্যা পারমিতা মন দিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে, চোখ ঘুড়িয়ে দুজনকেই পরখ করে নিয়ে বললো — বিহান ভাইয়া??

,,,বিহান ঠোটে হাসি ফুটিয়ে টেবিলে মৃধু শব্দ করে বললো — ট্যালেন্টেড!! বাট কিভাবে বুঝলে?
,,,পারমিতা সেদিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে মিনমিনে স্বরে বললো — আব,আসলে কয়েকদিন আগেই দ্বীপ ভাইয়া মেধাকে বোন বলেছিলেন। ভালোবাসলে তো আর বোন বলতো না , তাই আরকি।
,,, আহাদ হাত তালি দিয়ে বললো — বাহ বাহ!! তেলোবতীর মাথায় দেখি দারুন বুদ্ধি। এতো বুদ্ধি কই রাখো মেয়ে? তেল চুপচুপা মাথার ভিতর?
,,, আর কই রাখবে ভাই? ব্রেইন তো মাথায় ই থাকে, তবে সেটা তেলোবতীর মাথা হলে আলাদা বিষয়। ( রিফাত)
,,,না না!! তুই ভুল জানিস। কিছু কিছু মেয়েদের ব্রেন আবার হাটুতেও থাকে, যেমন আমাদের সাথে থাকা তিন শাঁকচুন্নির। ( মিনহাজ)
,,, মিনহাজের কথায় তেতে উঠলো তিনজন, ধুপ ধাপ মারলো কিছুক্ষণ। ওদেরকে মারামারি করতে দেখে বিহান চোখ পাকাতেই সবকয়টা ঠিক ঠাক হয়ে বসে পরলো। এদিকে বার বার তাকে নিয়ে কথা বলায় পারমিতার বেশ অসস্থি হচ্ছে। আগে জানলে কিছুতেই এদিকে পা বাড়াতো না। মেধা বোদয় তার অস্বস্থির ব্যাপারটা বুঝলো। তাই সবার উদ্দেশ্যে বললো — ভাই!! তোমরা ওকে নিয়ে মজা করোনাতো। ও কিন্তু নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে।
,,,অথৈ পারুর হাত ধরে বললো — আরে বোকা মেয়ে নার্ভাস হচ্ছো কেনো? আমরা তো তোমার বড়ো ভাই বোনের মতোই। শুনো মেয়ে!! প্রথম দিনের ওসব ভুলে যাও। ভার্সিটিতে আসলে টুকটাক রেগ খেতেই হয়, আমরাও খেয়েছি বুঝলে?
,,,পারমিতা মাথা দুলালো। ওকে নার্ভাস দেখে আর কেউ ওর সাথে কোনো কথা বাড়ালো না। ওরা যে যার মতো আড্ডা দিচ্ছে মারামারি করছে। কিছুক্ষণের মাঝেই ওয়েটার কেক নিয়ে এলো। মির্জা বাড়িতে বার্থডে সেলিব্রেটের নিয়ম না থাকায় বন্ধু বান্ধবদের এখানেই ট্রিট দিতে হচ্ছে। সবাই তাড়া দিতেই বিহান হাত বাড়িয়ে প্লাস্টিকের ছুড়িটা নিয়ে দ্বীপের দিকে ইশারা করে বললো —

,,,কিরে ভাই ধর, এবার অন্তত কেকটা কাট। সবসময় এতো জেদ করলে হয়?
,,, দ্বীপ ভ্রু কুচকে বললো — আজ কি এমন স্পেশাল আছে যে আমাকে কেক কাটতেই হবে?
,,,রিফাত বললো — আজকে আমাদের সাথে মোস্ট পপুলার তেলোবতী আছে। তেলোবতীর উপস্থিতি উপলক্ষে অন্তত কেকটা কাট।
,,, দ্বীপ এবার সোজা পারমিতার দিকে নজর তাগ করলো,,, পরপর ঠোট বাকিয়ে সুক্ষ হেসে বললো — সি*গারেট ফ্লেভারের কেক হলে কাটতাম। কজ, আই লাভ সি*গারেট, এন্ড অলসু অবসেস্ট দিস ফ্লেভার। যেহেতু কেকটা চকলেট ফ্লেভারের, সেহেতু তুই একাই কাট।
,,, সি*গারেটের কথা উঠতেই সাথে সাথে পারমিতা মুখ তুলে চাইলো,, দুজনের চোখের মিলন ঘটতেই আবারও থমকে গেলো মেয়েটা। তার ধারনা দ্বীপ ব্লাক ম্যাজিক জানে নয়তো সে যখনি তাকায় তখনি কেনো আটকে যায়? ওদের তাকানোর মাঝেই বিহান কেক কেটে দ্বীপের দিকে এগিয়ে দিলো। একপ্রকার সৌজন্যতা রক্ষা করার মতো করে একটুখানি খেলো সে। পরপর মেধাকে খাইয়ে পারুর দিকে কেক বাড়াতেই দ্বীপ তার হাত আটকে বললো–
,,, এদিক থেকে আমি দিচ্ছি, তুই ওদিক থেকে দে।

,,,সবাই বিষ্ময়ে আকাশে উঠে যাবার উপক্রম, যে কিনা তার এই ২৪ বছরের জীবনে কোনোদিন একটাবার কেক কেটে দেখেনি। এমনকি তাকে এখানে আনতেও একপ্রকার হাতে পায়ে ধরতে হয়েছে সে কিনা এখন সবাইকে কেক খাওয়াবে? এটাতো তাজ্জব হওয়ার মতো বিষয়,, তবে কেউ মনে চলা অভিব্যাক্তি প্রকাশ করার সাহস করলোনা। যতই বন্ধু হোক, ভার্সিটির ভিপি বলে কথা। যা খুশি তাই তো বলে দেওয়া যায়না?
,,,সবাই যখন কেক খাওয়ায় ব্যাস্ত তখন দ্বীপ একটু খানি কেক পারমিতার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চাপা স্বরে বললো– সি*গারেট আনহেলদি তাই না? খেলে ক্যান্সার হয়? সেই মরন ব্যাদি ক্যান্সার তোমার ভিতর ছড়িয়ে দেই? সি*গারেটের ফ্লেভারটা অসাম,, একবার আমার স্টাইলে টেস্ট করলেই এট্টাক্ট হয়ে পরবে। প্রমিজ!!
,,,দ্বীপের কন্ঠে কি ছিলো জানা নেই তবে সেই কন্ঠ পারমিতার ভিতরটা কাপিয়ে তুলেছে। এই কন্ঠে যেনো কোনো রাগ নেই, আছে মাদকতা। এই লোক কি নেশা করে এখানে এসেছে নাকি? হতেই পারে। যে এমন লাগাম হীন সি*গারেট টানতে পারে সে নির্ঘাৎ নে*শা পানিও খায়। ভেবেই নাক ছিটকালো পারমিতা। এদিকে মেধা ঠোঁট কামরে মুচকি মুচকি হাসছে। কি বুঝেছে কে জানে? পারমিতা মেধার দিকে তাকিয়ে চোখের মাধ্যমে হালকা শাঁসালো। ইশশ!! কোন কুক্ষণে এই মেয়ের কথা শুনে এই জমের দুয়ারে পা রাখতে গেলো সে? কেক কাটা শেষ হলে সবাই যে যার আনা গিফ্ট গুলো দ্বীপ আর বিহানের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে, যদিও দ্বীপের গুলো বিহান ই গ্রহন করছে। সবার গিফ্ট দেখে পারমিতা কেমন কাচুমাচু করছে, বাকিদের তুলনায় তার আনা গিফ্ট টা অত্তন্ত তুচ্ছ। ওকে এমন কাচুমাচু করতে দেখে মেধা বললো —

,,, পরু!! ভাইয়াদের জন্য আনা গিফ্ট গুলো দাও।
,,,পারু কিছুটা সংকোচের সহিত দুটো প্যান এগিয়ে দিতেই সেগুলো খপ করে নিয়ে নিলো দ্বীপ। হঠাৎ এমন হওয়ায় সকল ভনিতা ভুলে পারমিতা তারাহুরো করে বললো — এই না না!! দুটো আপনার একার নয়, একটা বিহান ভাইকে দিন।
,,,দ্বীপ ঠোঁট কামরে বিহানের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচাতেই সে বললো– নাহ, থাক পারু। ওর যখন পছন্দ হয়েছে তখন রেখে দিক। আমায় নাহয় তুমি পরে আরেকটা কিনে দিও।
,,,পারমিতা মাথা ঝাকালো। পছন্দ হয়েছে যখন নিক, সে পরে আবার বিহানকে একটা কিনে দিবে। পারুর গিফ্ট নিয়ে এতো হুটোপুটি দেখে সিমরান কিছুটা রাগ মিশ্রিত কন্ঠে সুধালো — ওর টা নিলি তাহলে আমাদেরটা কি দোষ করলো? আগে বলতি, তর এই সস্তার জিনিস পছন্দ তাহলে তাই কিনে দিতাম।
,,,সস্তার জিনিস শুনে পারমিতার মন খারাপ হয়ে গেলো। দ্বীপ পারমিতার দিকে তাকিয়েই বললো — কলম যদি সস্তা হয়, তাহলে শিক্ষার মুল্য কোথায়? শিক্ষার প্রথম সূচনা বোধয় কলম দিয়েই হয়। এম আই রাইট?
,,,সবাই একসাথে বললো — ইয়াপ!! বাট খাওয়া দাওয়া শুরু হবে কখন? ওয়েটার!! ওয়েটার!!
,,,ওদের ডাক শুনেই ওয়েটার খাবার নিয়ে হাজির হলো। পরপরি সবাই কেক সরিয়ে খাওয়া মনোযোগ দিলো। সবার সামনে খেতে আন ইজি ফিল করছিলো পারমিতা, তাই মেধার কানে কানে ফিসফিস করে বললো — চলোনা আমরা অন্য টেবিলে যাই, আমার আন- ইজি লাগছে। তোমাকে ভরসা করে এসেছি, তুমি এটুকু ফেভার না করলে আমার বড্ড মন খারাপ হবে।

,,,মেধা বোধয় বুঝলো ব্যাপারটা, সত্যি ই তো মেয়েটা আসতে চায়নি। সে নিজে কতো শতো ভরসা দিয়ে তাকে নিয়ে এলো, এখন নাহয় ভরসাটা রাখা যাক। তাই একজন ওয়েটারকে ডেকে পিছনে খাবার দিতে বলে পারমিতাকে নিয়ে কিছুটা পিছনে চলে গেলো।
,,,সময় পেরোয় কিছুটা,, সবাই তখন খাওয়া দাওয়ায় বেশ মনোযোগী। তখনি বেশ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে রেস্টুরেন্টে একদল লোক ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে দেয়। সব পেরিয়ে ম্যানেজার দৌড়ে দ্বীপের সামনে এসে দাড়ালো,, পরপর হাপাতে হাপাতেই বললো — ভাই!! আপনার ছোট চাচার বিপক্ষ দল রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর করছে। ভাই!! আপনাদের ঝামেলা আপনারা বাহিরে গিয়ে মিটান, আমাদের পেটে লাত্থি মেরে তো লাভ নেই বলেন।
,,,খাবাার প্লেট এক প্রকার ছুড়ে ফেলে উঠে দাড়ালো দ্বীপ তার চোখে অগ্নি শিখা। বিহানের অবস্থাও অনুরুপ। ওরা দুভাই যেনো দুই চাচার ডান হাত আর বা হাত। ওরা বড়ো হওয়ার পর রাজনীতি নিয়ে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি শাহিন মির্জা আর মাহিন মির্জাকে। উনারা দুভাই শুধু নেত্রীত্ব দেয়,, আসল রাজনীতির চাল তো দ্বীপ আর বিহান চালায়। তাই শত্রুপক্ষ বরাবর তাদের দুভাইকেই টার্গেট করে। আজ হয়তো কোনো ভাবে জানতে পেরেছে ওরা রেস্টুরেন্টের ভিতর আছে আর সাথে তেমন কোনো গার্ড নেই। তাই সুযোগ বুঝে জন্মদিনকে মৃত্যু দিনে রুপান্তরিত করতে লোক পাঠিয়েছে। অথচ গাধার বাচ্চারা এটা জানেনা বাঘ কিংবা সিংহ কখনোই দলবদ্ধ ভাবে চলাফেরা করেনা। তারা থাকে একা, আর একা একাই পুরো বনে নিজেদের রাজত্ব জাহির করে। শিকারকে ধংশ করার জন্য তাদের একটা থাবাই যথেষ্ট। দ্বীপ আহাদের দিকে অগ্নি দৃষ্টি তাক করে বললো —

,,, বিভাদের সেইফ রাখার দায়িত্ব তর। যদি কোনোরুপ আঘাত কারোর গায়ে লেগেছে, তাহলে তর গলা আর ( কাচের গ্লাস ভেঙে সেটা তাক করে ভ্রু নাচালো)
,,,তখনি অতর্কিত ভাবে পিছন থেকে দ্বীপের উপর হামলা করা হলে দ্বীপ হাত ঘুড়িয়ে সেই লোকের বুকের ঠিক তিন ইন্চি উপরে ভাঙা গ্লাসটা দাবিয়ে দিলো। সাথে সাথে লোকটার হাতে থাকা হকি স্টিক ঝন ঝন করে নিচে পরে গেলো, লোকটার মরনব্যাদি চিৎকারের সাথে সাথে এক দলা র*ক্ত এসে দ্বীপের গলা আর মুখে ছিটকে পরলো। লোকটা বুকের ডান পাশে হাত চেপে ধরে হাটু গেড়ে বসে মাটিতে লুটিয়ে পরতেই দ্বীপ তার মুখে যাওয়া র*ক্ত টুকুন থুতু দিয়ে নিচে ফেলে দিলো। আপাততঃ এই আঘাতে লোকটা মারা না গেলেও কম করে হলেও ২ মাস তাকে বেড রেস্টে থাকতেই হবে। আর মরে গেলেতো কোনো কথাই নেই, মানুষ মারতে দ্বীপের আবার হাত কাপেনা। তার নাম যেমন দ্বীপ,,যার বৈশিষ্ট আগুনকে লালন পালন করা। ঠিক অনুরুপ ভাবে দ্বীপের সর্বত্র জুড়ে লেলিহান অগ্নির বসবাস। দ্বীপ মাথা নত করে সেই লোকের হকিস্টিক তুলতে নিতেই আবার ওর উপর ছুড়ি দিয়ে হামলা করতে এলে বিহান লোকটার হাত ধরে নেয়। দুজনের মাঝে তুমুল ধস্তা ধস্তি চলছে। লোকটা চাচ্ছে দ্বীপের গলায় ছুড়ি দাবিয়ে দিতে আর বিহান চাচ্ছে আটকাতে। আক্রমণাত্মক ছুড়িটি যখন একদম দ্বীপের ঘাড় ছুই ছুই, বিহান বাঝখাই গলায় দ্বীপকে সতর্ক করে বললো —

,,, ভাই!! ভাই থাম, উঠিস না, উঠলেই ছুড়ি তর গলা এফোর ওফোর করে দিবে।
,,,দ্বীপ ঠোট কামরে একপেশে হাসলো, রক্তাবো মুখে সেই হাসি বড্ড জঘন্য দেখালো।সে এক হাতে হকিস্টিক নিয়ে অন্য হাতে মাটিতে ঢলে পরা লোকটার বুকের উপর থেকে ভাঙা গ্লাসটা তুলে আক্রমন কারির হাটুতে গেথে দিলো। এতোক্ষন বিহানের সাথে শক্তি খাটিয়ে জিতার লড়ই করতে থাকা হাতটা থরথর করে কেপে উঠলো, সেই সুযোগটাই লুফে নিলো বিহান। ছুড়িটা কেরে নিয়ে তার পিছনের অংশ দিয়ে লোকটার কপাল বরাবর বারি মারলো। চেতনা হাড়িয়ে ধাম করে ফ্লোরে পরে গেলো লোকটা। দুভাইয়ের চোখে তখন দাবানল, একজনের হাতে হকি স্টিক আর অন্যজনের হাতে ধাড়ালো ছুড়ি। এক প্রকার পাসন্ডের ন্যায় রক্তাক্ত দুই মানবকে পায়ের তলায় পিষে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। তেড়ে আসা আরেকটা লোকের কোমরের বাম পাশে বারি বসাতেই সেই লোকটাও ধাম করে নিচে পরে গেলো। ততক্ষণাৎ আরও একটা শব্দ তৈরি করে মাটিতে লুটিয়ে পরলো পারমিতা। ব্যাচারি জীবনে প্রথমবার র*ক্তপাত আর মা*রামারি দেখে নিজের সন্জোম ধরে রাখতে পারেনি। পারমিতা পরে যেতেই সবাই হইচই করে উঠলো, মেধা ছুটে গিয়ে পারমিতার মাথাটা নিজের কোলের উপর নিয়ে গালে হাত দিয়ে চাপর মেরে ডাকতে লাগলো। তখনি রিফাত এগিয়ে এলো, পারমিতাকে ধরতে নিলে দ্বীপ পিছন ফিরে না তাকিয়েই কর্কষ ধনিতে চেচিয়ে বললো–

,,,ডন্ট!! ডন্ট টাচ হার। আমি যতক্ষণ না ফিরবো ততোক্ষণ পারু এখানে, এভাবেই থাকবে। এর থেকে এক ইঞ্চি নড়চর হলে সবকটার লাস ফেলে দিবো। মেধা তর বান্ধবীকে সামলা। কপাল আমার!! সামর্থবানদের কপালে সর্বদাই ভিতুরামের জায়গা হয়। ( শেষের কথাটা কিছুটা বিরবির করেই বললো )
,,,পরপর দুভাই মিলে শত্রু পক্ষের উপর হামলে পরলো। শিকারকে গায়েল করতে দ্বীপ,বিহানের আয়োজনের প্রয়োজন পরেনা। শত্রুর আয়োজনে শত্রুকে ঘায়েল করার মতো এভিলিটি বোধয় তাদের রক্ত থেকেই পাওয়া। নয়তো একই বাড়িতে এমপি, মন্ত্রী হয়ে একাধিক দলের সাথে লড়াই করে বেচে থাকতে পারতোনা।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪

আজকেও বরাবরের ন্যায় যেই অধম, দুই ভাইয়ের হাতের কবলে পরেছে সে ভবিষ্যতে সুস্থ সবল ভাবে বাচার ক্ষমতা হাড়িয়েছে। প্রত্যক্ষ ভাবে মরনাক্রমন না করলেও হাত পা স্বাভাবিক থাকার মতো অবস্থা রাখেনি। “”যেই হাত বাঘ -সিংহ শিকার করার সাহস দেখায় সেই হাত অক্ষত থাকা মানে বাঘ -সিংহের থাবার ব্যার্থতা”” কিন্তু বিহান আর দ্বীপ তো ব্যার্থ নয়, তারা শত্রুকে ভালো মতোই তোষামোদ করতে জানে। “””যেচে পরে শিকার আসবে আর শিকারি তা দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে,, এমনটা ভাবা শিকারের বোকামি,, শিকারীর নয়। “””

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৬