এক দেখায় পর্ব ৪১
সুরভী আক্তার
মিহি নিঃশব্দে মাথা দোলালো । আম্মুর বুকে মাথা গুঁজেই শ্বাস টানলো । ঠান্ডা বাতাস নাসারন্ধ্রের ভিতরে প্রবেশ করে শীতলতা ছেয়ে দিলো ভেতর ভেতর । মিহি বললো নামানো স্বরে…
” আব্বুর মতো কেউ কেনো হয় না আম্মু ? আব্বুরা এমন মায়া জাগায় কেনো বলতো ? আমার আব্বুর মতো সবার আব্বুই হয় বুঝি ? তুমি জানো , আব্বু বদলে গেছে অনেক । আমার কথা রাখেনি আব্বু । আমি বলেছিলাম আমার স্বপ্নে আসতে , কিন্তু আব্বু আসে নি । এক দিন ও দেখা দেয় নি আমায়…
মিহি ধীর কন্ঠে বলল কথা গুলো । বলতে বলতে আরো ধীর হয়ে আসলো কন্ঠস্বর । সাবিনা বেগম ঢোক গিললেন । ঘন পলক ফেললেন তিনি । মিহির দুই বাহুতে হাত রেখে বললেন….
” ঘরে চল…
মিহি হাসলো । নিঃশব্দে তা । আজ পর্যন্ত একটা দিনও আজমাল হোসেনের কথা উঠলে সাবিনা বেগম এই বিষয়ে টু শব্দ টুকুও করেন নি । নিজেকে চড়া করে এড়িয়ে গেছেন তিনি । কথার মোড় পাল্টেছেন বারংবার । হয়তো কষ্ট নয়তো অভিমানে । সাবিনা বেগম হাসেন না আজকাল । কথাও বলেন না বেশি । মিহি বাড়িতে থাকলে যতটুকু কথা হয় ততটুকুই । তাও মিহির উদ্যোগে ।
আম্মুর উহ্য কষ্ট অভিমান কোনোটাই অদৃশ্য মান নয় মিহির নিকট । তাইতো মিহিও আব্বুর কথা বলে না । কাঁদে না আম্মুর সামনে । কিন্তু আজ পারলো না নিজেকে লুকিয়ে রাখতে । কান্না চাপা পড়লো না আজ । ঠিক বেরিয়ে আসলো আম্মুর সামনে ।
মিহি তবুও বুক ভারি কান্না গিলে সামলালো নিজেকে ।
সকাল দশটা । আজ রাফি আসে নি এখনো । মিহি না চাইতেও বারবার তাকাচ্ছে রাস্তার পানে । কেনো জানা নেই , আনচান লাগছে নিজেকে । অথচ রাফির সামনে পড়তে চায় না ও , আবির্ভাবে দেখতে চায় না রাফি কে । অগোচরে সই ।
ও নিজেও আসলো নয়টার দিকে । আজ বাইরের জোনে বেরিয়েছে ও । ভেতরটা ফাঁকা । ফাঁকাই থাকে আজকাল । দশটা থেকে সময় গড়িয়ে বারোটার কোঠায় । রাফির দেখা নেই । মিহি হাত কচলে কচলে কিচেনে পায়চারি করছে ধীরে ধীরে । রাফির কথা গুলো অকস্মাৎ কানে বাজছে ওর । কি কি বললো কাল উনি ? মিহি পায়চারি করতে করতে থামলো । এপ্রিলের সদ্য গরমে কপালে ঘাম । মিহি মুছলো তা । রেহা কিচেনে ঢুকতেই মিহি অতর্কিত স্বরে ডাকলো ওকে…
” রেহা ?
চকিতে ফিরলো রেহা । উত্তর করলো…
” হ্যাঁ , কিছু বলবি ? শরীর ঠিক আছে তোর ? সমস্যা হচ্ছে কোনো ?
” আমি ঠিক আছি ।
” তাহলে ? কি বলবি বল , ডাকলি যে ?
মিহি অধর ভেজালো জিভে । মাথা নেড়ে বললো…
” না ,, কিছু না ।
শ্বাস ফেললো রেহা । বার্গারের অর্ডার আছে । রেহা গ্রিল করতে করতে নিজে থেকেই বললো…
” কিছু শুনেছিস ?
মিহির সাথে সাথে চকিতে জবাব…
” কি ?
” স্যার আজ কেনো আসে নি জানিস না ?
” ক.. কেনো ?
” এক্সিডেন্ট হয়েছে ?
আঁতকে উঠলো মিহি । দুহাত ছেড়ে উঁচু গলায় বলে উঠলো….
” কিহ ? কার এক্সিডেন্ট হয়েছে ? কি বলছিস ?
রেহা সাথে সাথে উত্তর করলো না । পিছু ফিরে কয়েক সেকেন্ড সুচালো নেত্রে দেখলো মিহি কে । অতঃপর কাজে মনযোগ দিলো । মিহি ছুটে গেলো ওর কাছে । ওকে নিজের দিকে ফিরিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরে বলল…
” কি রে , বল কি হয়েছে ? এক্সিডেন্ট ? কার এক্সিডেন্ট হয়েছে ? বল না ?
রেহা উত্তর করলো…
” আরে এতো হাইপার হচ্ছিস কেনো ? আগে শোন সবটা । কাল রাতে স্যার ঢাকায় ফিরে গেছেন । ওনার ফ্রেন্ড আছে না , শান্ত ? ওনার এক্সিডেন্ট হয়েছে শুনলাম ? কাল রাতেই এক্সিডেন্ট হয়েছে । ঢাকায় ফেরার পথে । হসপিটালাইজড করতে হয়েছে । তবে যা শুনলাম, তেমন ক্ষতি হয় নি । স্যার ঢাকায় ফিরেছেন তাই ।
মিহি এক মুহুর্তের জন্য থমকালো । স্বস্তি পেয়েও পেলো না । বিড়বিড় করলো মুখে…
” শান্ত ভাইয়া ?
রেহার কানে পৌঁছেছে কথাটা । রেহা বললো…
” হুম , উনি ।
ফের কাজে মনযোগ দিয়েছে রেহা । মিহি স্থির দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ । খচখচ করছে ও ।
এদিকে হসপিটালের বেডে জোর পূর্বক শুয়ে আছে শান্ত । ডান হাতে স্লিং পাউচ বাঁধা । ফাঁকা কেবিনে শুয়ে শুয়ে পা নাচাচ্ছে ও । কিছুই হয় নি তেমন । রুহি কে অন্য কারোর সাথে দেখে কোনো প্রকার খোঁজ না নিয়ে সেই মুহূর্তেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল সে । ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত ঠিক ছিল সব । পৌঁছেছে রাত্রি বারোটার পর , একটার কাছাকাছি সময়ে । বাড়িতে যায় নি ও । আর না চৌধুরী বাড়িতে । একটার পর হঠাৎ চৌধুরী বাড়ির সমস্ত লাইট জ্বলে উঠলো । শান্ত বাড়ি অশান্ত হলো । আফসানা বেগম ছিলেন চৌধুরী বাড়িতে । মেহজাবিন আর মাহিম এসেছে দুদিন হলো, তাই তিনি ও এসেছিলেন । জাকির হোসেন ও বাদ যায় নি । বাদ পড়েছিল শান্ত আর রাফি । ওরা থাকলে পুরোপুরি পূর্ণ হতো পরিবার ।
রাত্রি একটায় হঠাৎ রাশেদ রায়হান চৌধুরীর ফোনে ফোন এসেছে হসপিটাল থেকে । শান্তর এক্সিডেন্ট হয়েছে এই নিয়ে । অমনি বাড়ির সবাই ছুটলো হসপিটালে । আফসানা বেগম ছেলের চিন্তায় বেহুঁশ । অথচ তার ছেলের কিছুই হয় নি । সব নাটক সাজানো । তবে সম্পুর্ন টা সাজানো হলেও ঘটেছে কিছু কিছু । গাড়ি থেকে নেমেই পূর্বের কোনো এক দিনের ন্যায় কলার খোসায় পা পিছলে আলুর দম । হাতে কনুইয়ের কাছটায় ছিলে গেছে শান্তর । নিজেকে নিজের অসাবধানতার জন্য গাল দিলেও পরমুহূর্তে দুষ্টু বুদ্ধি চেপেছে মাথায় । রুহির সাথে সাথে চিন্তায় ফেলেছে বাড়ির সকলকে । রাফি কেও বাদ দেয় নি । সেই সুদূর সিলেট থেকে ছুটে এসে রাফি ও ।
এতক্ষণ হসপিটালেই ছিলো সবাই । হেনা বেগম, হালিমা বেগম, আফসানা বেগম কে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে সবে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী আর জুবায়ের চৌধুরী জাকির হোসেন কে সাথে নিয়ে গেছেন কোথাও । রাফি আর রুহি আছে হসপিটালে । বাইরে থেকে রিসিপশনের সমস্ত ফর্মালিটি পূরন করে রাফি ঢুকলো কেবিনে । অমনি পা নাচানো থামিয়ে স্থির হলো শান্ত । ব্যাথা তুর ভঙ্গিমায় বদল টানলো চোখ মুখের । চোখ বুজে কুকিয়ে উঠলো মৃদু স্বরে । রাফি সূক্ষ্ম নেত্রে তাকালো । তাকিয়েই থাকলো কয়েক মুহূর্ত । পর মূহূর্তে এগিয়ে গিয়ে নিঃশব্দে দাঁড়ালো বেডের পাশে । অনেকক্ষণ কারোর সাঁড়া শব্দ না পেয়ে এক চোখ টিপে অন্য চোখ খুললো শান্ত । পরমুহূর্তে দুই চোখ । রাফি কে দেখে দাঁত কেলালো । বললো হেই তুলে…
” কি দেখো শালা বাবু ?
” তোকে ?
রাফির নিরেট কন্ঠ । শান্ত উঠে বসলো এক ঝটকায় । রাফির বুঝতে বাকি নেই কিছু । শান্ত ডোন্ট কেয়ার ভাব নিলো । বললো….
” তুই আমাকে যেভাবে দেখছিস , সেভাবে তোর বোন দেখলে তো হয়েই যেতো ! বেডি যাচ্ছে তাই অবস্থা করলো আমার । কিভাবে ছুটিয়ে নিয়ে আসলো আমায় । আরে আমি তো একটু মজাই করেছিলাম , পাতানো বোনের সাথে ছবি তুলে পাঠিয়েছিলাম তোর বোনকে । আর তোর বোন কি করলো ?
রাফি ধমকে উঠলো..
” মার খাবি একদম । তুই জানিস এক্সিডেন্টের কথা শুনে কি অবস্থায় ছুটে এসেছি আমি ? বাড়ির সবার কি অবস্থা হয়েছিল তোর এই নাটকের জন্য । সবকিছুতে বাড়াবাড়ি তোর..?
শান্ত মুখখানা চুপসালো । আম্মুর কথা মনে পড়লো একবার । কতটা কেঁদেছেন তিনি ! রুহির কান্না জড়ানো মুখটাও ভাসলো চোখ সম্মুখে । কেঁদেছে মেয়েটাও । আফসোস হলো শান্তর । রাফিও এই অবস্থায় ছুটে এসেছে । শান্ত মুখ খুলে কিছু বলার আগেই রুহি ঢুকলো কেবিনে । মুখখানা মলিন ওর । চোখের নিচ ফোলা ফোলা । একেই সারারাত নির্ঘুম কেটেছে । তার উপর কেঁদেছে । শান্ত আর রাফি দু’জনেই চকিতে তাকালো দরজার দিকে । রাফির সাথে চোখাচোখি হতেই দৃষ্টি নত করলো রুহি । এগিয়ে আসলো গুটি গুটি পায়ে । শান্তর দিকে তাকালো না একবারও । শান্ত আগের ন্যায় শুয়ে পড়েছে । রাফি এক পলক করে দেখলো দুজন কে । বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে । বাড়িতে যেতে হবে এখন । রাফির পড়নের পোশাক এলোমেলো । কাল থেকে একই অবস্থা । ও রুহির দিকে এগিয়ে এসে শীতল কন্ঠে বলল….
” Sissy…
বাড়িতে যেতে হবে তো । গাড়িতে গিয়ে বস । আমি আসছি ।
রুহি ঘাড় কাত করলো । শান্ত চেঁচিয়ে উঠলো…
” ও গাড়িতে গিয়ে বসবে , আর তুই যাবি , আর আমি ?
রাফি ঘাড় ঘুরিয়ে বললো মেকি স্বরে….
” অসুস্থ তুই । আগামী এক সপ্তাহের আগে তোকে রিলিজ দেওয়া হবে না হসপিটাল থেকে । হাত ভেঙ্গেছে গুরুতর ভাবে , জোড়া লাগবে কি না সন্দেহ । আপাতত থাক হসপিটালে । ডাক্তার মামারা সেবা করুক তোর । নার্সরাও আছে , আমাদের প্রয়োজন হবে না । আমরা বাড়ি যাই , চল sissy….
ফের চেঁচিয়ে উঠলো শান্ত….
” এই শালা বাবু…
ভয় দেখাস না । আমি ঠিক আছি । কোথায় যাবি আমাকে সাথে নিয়ে মা ভাই । না নিয়ে গেলে রেখে যা । কিন্তু আমার সাথে আমার হবু বউ কেও রেখে যা । আমি থাকবো না এই নার্স দের সাথে ।
হেসে ফেললো রাফি । হাসি আটকালো ঠোঁট চেপে । রুহি মাথা নোয়ানো এখনো । রাফি বললো শান্ত কে …
” তুই যেতে চাইলে চল… তবে আমার বোন কে রেখে যাবো না আমি । আমার বোন আমার সাথেই যাবে..
রুহি মাথা তুললো এবার । মুচকি হাসলো । শান্ত রুহির এটেনশন পেতে মুখ চুপসে নাটকীয় ভঙ্গিতে মিনমিন করলো…
” একটা হুইল চেয়ার এনে দে না ভাই । হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে আমার । পায়ে খুব ব্যাথা… আহ্…
রাফি চোখ মুখ শক্ত করলো । সংকুচিত করলো দৃষ্টি ।
” হাত ভেঙ্গেছে তোর । পা নয়…
শান্ত পিটপিট চোখে চাইলো । ইশারায় দেখালো রুহি কে । বোঝালো কিছু । রাফিও বুঝলো । অসুবিধা হলো না ওর । তপ্ত শ্বাস ফেললো ও । এই ছেলে এতো নাটক বাজ হয়েছে ক্যামনে কে জানে ? রুহির দিকে ফিরলো রাফি । বললো মোলায়েম স্বরে….
” এখানে একটু বস , আমি আসছি…
রুহি ঘাড় কাত করলো শুধু । বেরিয়ে গেল রাফি । এখনো শান্তর দিকে এক পলক ও তাকায় নি রুহি । শান্ত শ্বাস ফেলে দীর্ঘ পল্লবে চেয়ে থাকলো নতজানু রুহির পানে । ক্ষিয় কাল পেরোলো । শান্ত আবেশিত কন্ঠে ডাকলো অতঃপর…
” জান..?
কেঁপে উঠলো রুহি । ধক্ করে উঠলো বক্ষ স্থল । তবুও প্রকাশ করলো না ও । দৃষ্টি চুরিয়ে মুখ আড়াল করলো পিছু ফিরে । এই লোকটার সাথে কথা বলবে না ও । পন করেছে মনে মনে । ঠোঁট উল্টালো রুহি । ফের ডাকলো শান্ত…
” জান ?
রুহি নিরুত্তর, নিরুদ্বেগ । তবে ভেতরে ভেতরে ঝড় বইছে ওর । শান্ত আবারো ডাকলো একই ভাবে…
” জান , প্লিজ একবার এসো এদিকে । দেখবো তোমায় ? কতদিন হলো দেখিনি কাছ থেকে । প্লিজ এসো ।
রুহি অনড় । শান্ত আরো খাদে নামালো কন্ঠ স্বর ।
” রুহি ? প্লিজ এসো এদিকে…
রুহি পিছু ফিরলো এবার । থামাতে পারলো না নিজেকে । ছলছল চাহনি ওর । ও ধীর পায়ে এগিয়ে গেল । দাঁড়ালো বেড ঘেঁষে । শান্ত মুহূর্ত অপেক্ষা না করে ওর হাতটা টেনে নিজের পাশে বসালো ওকে । চোখ তুলে আধো দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুহি । শান্ত বাম হাত তুলে রুহির গালে রাখলো । কাপলো রুহি । মুখ ফেরালো । শান্ত ফের ওর মুখখানা নিজের দিকে ঘোরালো । বললো নরম গলায়…
” সরি জান , আমি শুধু মজা করেছিলাম বিশ্বাস করো । লিনা তো এসেছিল রাফির সাথে দেখা করতে । আমি কিন্তু ওকে বোন হিসেবে মানি ।
কিন্তু তুমি কি করলে , আগেই বলতে পারতে ওটা মাহিম ছিলো । মাহিম আর মেহজাবিনের সাথে বাইরে বেরিয়েছো ভালো কথা । আমায় বললে কি হতো ? আমার কি অবস্থা হয়েছিল তুমি জানো ?
রুহি ফুঁপিয়ে উঠলো । নিজেকে অপরাধী লাগছে । ওর জন্যই এক্সিডেন্ট হয়েছে শান্তর । ও বললো থেমে থেমে….
” আমার জন্য এমন হয়েছে আপনার,তাই না ?
খুব কষ্ট হচ্ছে হাতে ?
শান্ত ও রায় পেলো । নাটকীয়তা বাড়ালো । বললো গলা নামিয়ে…
” ভীষণ কষ্ট হচ্ছে । হাতটা ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে বোধহয় ? পায়েও ব্যাথা করছে । আর বুকেও….
শান্ত আর কিছু বলার আগেই ওর ফোনটা বেজে উঠলো । হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে তুললো ও । আননোন নাম্বার । কপাল কুঁচকালো শান্ত । কোন সময়ে,কে ডিস্টার্ব করতে এসেছে কে জানে ? বিরক্তি নিয়ে ফোন রিসিভ করলো শান্ত । ফোন কানে তুলতেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ….
” আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া…
মেয়েলি কণ্ঠ রুহির কানেও পৌঁছেছে । ঝট করে চাইলো ও । সাথে সাথে স্পিকার অফ করেছে শান্ত । মিহির কন্ঠস্বর চিনতে অসুবিধা হয় নি ওর । তবে রুহি ঠিট ঠাহর করতে পারে নি । আন্দাজে ও ঠেকে নি । শান্ত রুহির দিকে তাকিয়ে সালামের উত্তর করলো । ওপাশ থেকে আরো কিছু বলতেই শান্ত বললো ধীর কন্ঠে….
” হাত ভেঙ্গেছে শুধু । তবে তেমন ইনজুরি হয় নি । ঠিক হয়ে যাবে তাড়াতাড়ি । তা , হঠাৎ আমার খোঁজ নিচ্ছো যে ? মনে পড়েছে আমায় ? স্মৃতি ফিরেছে ?
ফোনের ওপাশে মিহি নিরুত্তর । শান্ত বললো শক্ত কন্ঠে….
” আর কিছু বলবে ?
এবারো উত্তর আসলো না ।
” রাখলাম ?
বলেই ফোন কাটলো শান্ত । রুহির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো । একটু ঝুঁকে জিজ্ঞেস করলো…
” কে ফোন করেছে জানতে চাইবে না ?
রুহি না বোধক মাথা নাড়ালো । চোখে চোখ রেখে বলল….
” আপনি আমায় ভালোবাসেন ?
” সন্দেহ আছে ?
ফের আলতো মাথা নাড়ালো রুহি । বললো…
” আপনাকে কোনো দিন সন্দেহ করি নি আমি । আপনার ভালোবাসায় তো আরো না । কিন্তু আপনাকে অন্য কারোর সাথে দেখতে পারি না আমি । আপনি শুধু আমার , লিনা আপু হোক বা অন্য কেউ । কাউকেই আমার সহ্য হয় না আপনার পাশে । কেনো বোঝেন না আপনি । আমি জানি আপনি আমায় জ্বালানোর জন্য এসব করেন …
রুহিকে থামিয়ে শান্ত ওকে কাছে টানলো । দূরত্ব রাখলো মাঝে । বললো মোলায়েম কন্ঠে…
” এইযে বললে – আমি শুধু তোমার । এটাই মাথায় রেখো সবসময় । আমি তোমার নামে, তোমার কাছে বন্দী…
একটু থামলো । ঠোঁট চেপে ফাটা গলায় সুর তুললো…
” আখ খেতে ছাগল বন্দি,জ্বলে বন্দি মাছ , আরে তোমার কাছে আমি বন্দি ঘুরাও বারো মাস..মামার বেটি গোওওও , আমার মন বোঝো না…
ফিক করে হেসে উঠলো রুহি । চিকচিক করে উঠলো রাঙ্গা গাল দুটো । শান্ত আরো একটু ঝুঁকে ঢোক গিলে গলা চেপে বললো…
” এভাবে হেসো না জান । বিশ্বাস করো , খুব কষ্টে সংযত করি নিজেকে । গাল দুটো একদম টমেটোর মতো দেখাচ্ছে , একটা চুমু খাই প্লিজ ..? সত্যি বলছি শুধু একটা…
রুহির বড় বড় নেত্রে তাকালো । কান গরম হয়ে আসছে ওর । শান্ত এতোটা কাছাকাছি আসায় থমকে গেছে হৃৎপিণ্ড ।
রুহি চোখ ফিরিয়ে দুহাতে ঠেলে দূরে সরালো শান্ত কে ।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে দুপুর একটা বেজেছে । হুইল চেয়ারে বসিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে শান্ত কে । ও বেশ আরামে আছে । বাকিরা আছে চিন্তায় । রাফি এসেই ঘরে গেছে । কাল থেকে একই অবস্থা , ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন আগে । শান্ত কে সোফায় বসিয়ে একে একে ফল কেটে খাইয়ে দিচ্ছেন আফসানা বেগম । ছোট বাচ্চার ন্যায় ট্রিট করছেন তিনি শান্ত কে । শান্ত ও বেশ উপভোগ করছে আম্মুর আদরে মাখা যত্ন । বাকিরা সবাই বসে পাশে । মেহজাবিন, মাহিম সবাই উপস্থিত । খানিক বাদ রুহি আর রাফি একসাথে নামলো ফ্রেশ হয়ে । দুপুরের খাওয়া হয় নি কারোর । ছেলে মেয়েদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সবাই । এখন সবাই একসাথে উপস্থিত । খাবারের টেবিলে সব রেডি । একে একে বসে পড়লো সবাই । চৌধুরী বাড়ির বড় ডাইনিং টেবিল ভর্তি । হেনা বেগম আর হালিমা বেগম খাবার পরিবেশন করে দিচ্ছেন । রাশেদ রায়হান চৌধুরী একে একে দেখলেন সবাইকে । আজ সবাই এক হয়েছে । বাড়ির তিনটে মেয়েই বাড়িতে । ছেলে দুটোও আছে । রাবেয়া চৌধুরী রাফির পাশে । আজ আর ফাঁকা নেই কোনো স্থান । সবটা পূর্ণ । কারোর কমতি নেই আজ । তিনি উজ্জল নেত্রে চেয়ে হাসলেন নিঃশব্দে । ছেলের দিকে ফিরলেন এবার । মাথা নিচু করে খাবারে হাত চালাচ্ছে রাফি । ছেলের সাথে কথা হয় নি তার । সময় পান নি আলাদা করে কথা বলার । তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে মুখ খোলার আগেই আফসানা বেগম উচ্ছাস নিয়ে বললেন…
” আজ আমাদের বাড়িটা পরিপূর্ণ লাগছে । অনেক দিন পর সবাই একসাথে আমরা । দেখো তো , কি সুন্দর লাগছে আমাদের পরিবার টা ।
শান্তকে খাইয়ে দিচ্ছেন তিনি । ডান হাত অচল ওর । শান্ত মুখের খাবার গিলে বললো…
” কোথায় পরিপূর্ণ ? দুজনের কমতি আছে এখনো ?
আফসানা বেগম কপাল কুঁচকে সন্দিহান হয়ে প্রশ্ন করলেন…
” কার কমতি আছে ? সবাই তো আছি আমরা..
” ঘরে আলোর কমতি আছে । এখনো আরো দুটো আলো জ্বালানো বাকি ?
হেনা বেগম এদিক ওদিক তাকালেন । এই দুপুরেও সব আলো জ্বলছে ঘরে । তিনি বললেন…
” সব আলোয় তো জ্বলছে ! কমতি কিসে ?
শান্ত শ্বাস ফেললো ফোঁস করে । রাফির দিকে তাকালো । ওর এসবে মনযোগ নেই । মেহজাবিন হাসছে মিটিমিটি ।
শান্ত ওকে একপলক দেখে বিড়বিড় করে বললো…
” অবুঝ পোলাপাইনের বুঝদার সন্তান…
এবার বললো গলা খাঁকারি দিয়ে…
” বউ হলো ঘরের আলো । দুটো আলো জ্বালানো হয় নি এখনো । দেখো না তোমরা ?
শান্তর কথা বুঝতে সময় লাগলো হেনা বেগমের । হালিমা বেগম ঠোঁট টিপে হাসছেন । জাকির হোসেন গলা খাঁকারি দিলেন । মেহজাবিন হাসি চেপে মুখ ফসকে বলে ফেললো…
” দুটো নতুন আলো কিন্তু জ্বলবে না ভাইয়া । আমাদের ঘরের আলো ঘরেই থাকবে । আপাতত বলতে পারো একজনের কমতি আছে…
রুহি খাওয়া রেখে ঝট করে চাইলো । কেশে উঠলো ও । বাকিরা মেহজাবিনের কথা বুঝে ওঠার আগেই মনযোগ দিলো রুহির দিকে । হেনা বেগম তড়িতে এসে পানি এগিয়ে দিলেন মেয়েটাকে । পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন….
” উফফফ , ধীরে খাবি তো ! তোদের নিয়ে না আর পারি না….
রাশেদ রায়হান চৌধুরী সবার মধ্য থেকে গলা খাঁকারি দিয়ে গুরুত্বর ভঙ্গিতে হেনা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বললেন….
” রাফি কে মাছ দাও…
রাফির তাকালো আব্বুর দিকে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী যে ওর মনযোগ আকর্ষণের জন্য কথাটা বলেছেন তা বুঝতে বাকি নেই । রাফি বললো স্বাভাবিক কন্ঠে….
” মাছ খাবো না আমি..
রাশেদ রায়হান চৌধুরী সায় পেলেন । শুধালেন…
” আবার ফিরবে ?
” হুম !
ছেলের কথাটা যেন পছন্দ হলো না হেনা বেগমের । মুখখানা মলিন করলেন তিনি । ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় কন্ঠে বললেন…
” আবার ফিরবি মানে ? কেনো যাবি ওখানে ? কি কাজ তোর ওখানে ? এভাবে বাড়ি ছেড়ে অযৌক্তিক কারনে ওখানে অতো দূরে যাওয়ার তো কোনো মানে দেখছি না আমি । যে কারনে গিয়েছিলি সেটা তো শেষ । কি সব ক্যাফে ট্যাফে কিনেছিস ওখানে ? কি প্রয়োজন এসবের ? কিসের অভাব তোর ?
রাফি চোখ তুলে তাকালো হেনা বেগমের দিকে । এক পলকে চোখ নামিয়ে ধীর কন্ঠে দ্বিধা হীন বলল..
” প্রয়োজন আছে আম্মু । যেটার অভাব সেটাই ওখানে ।
ওখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে এসেছি । এবার গিয়ে সেটাই নিয়ে আসবো । সেটা ব্যতীত আর ফিরবো না…
রাশেদ রায়হান চৌধুরী ছেলেকে পরখ করছেন সূক্ষ্ম নেত্রে । তপ্ত শ্বাস ফেললেন তিনি । বললেন…
” কবে যাবে ?
” আজ রাতেই ?
” রুহি কে নিয়ে গেলে হয় না ? মেহজাবিন আর মাহিম ও আছে এই সময় । ওদের কে নিয়ে যাও । নতুন জায়গায় একসাথে ঘুরে এসো সবাই । ভালো লাগবে , অনেক দিন তো তেমন ঘোরাঘুরি হয় না । আর যে জিনিস টা নিয়ে আসার কথা , সেটাও নিয়ে এসো না হয়…
রাফি তাকালো রুহির দিকে । খেতে খেতে রাফির দিকেই উত্তরের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে ও । রাফি বললো…
” দুদিন পর শান্ত নিয়ে যাবে ওদের । ও সুস্থ হোক আগে..
রাশেদ রায়হান চৌধুরী আর কথা বাড়ালো না । খাওয়া শেষে সোফায় বসলেন তিনি । রাফি খাওয়া শেষ করেই ঘরে উঠে গেছে । পিছু পিছু শান্ত ও । সন্ধ্যার দিকে বেরোবে রাফি ।
রুহি বিকেলের দিকে রাফির ঘরের দরজায় গিয়ে টোকা মারলো । অনুমতি নিয়ে ঢুকলো ঘরের ভেতর । শান্ত ঘুমিয়েছে । রাফি ব্ল্যাকবোর্ডে হেলান দিয়ে বসে বসে কিছু করছে কোলে রাখা ল্যাপটপে ।
রুহি ডাকলো…
” ভাইয়া ?
চকিতে তাকালো রাফি । ল্যাপটপ বন্ধ করলো তৎক্ষণাৎ । সোজা হয়ে বসলো । উত্তর করলো…
” কিছু বলবি…?
রুহি এগোলো ধীর পায়ে । জড়তা ঠেলে প্রশ্ন করলো নত স্বরে…
” তুমি আজকেই ফিরবে ?
” হুম , একটু পর বেরোবো । কেনো ?
” এমনি , খুব মিস করি তোমায় । ওখানে না গেলে হয় না ভাইয়া ?
রাফি বোনকে টেনে নিজের পাশে বসালো । বললো নরম স্বরে…
” ওখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে এসেছি বললাম , শুনলি না ? তোকে বলেছিলাম না, তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে । ওটাই ফেলে এসেছি ওখানে । আমার বোনের জন্য সবচেয়ে সুন্দর সুখকর একটা সারপ্রাইজ আছে ওখানে । সেটা তো আমার বোনকে দিতে হবে না কি ? এবার গিয়ে ওটাই পার্মানেন্ট করে নিয়ে আসবো তোর জন্য ।
রুহি উৎসুক হয়ে জানতে চাইলো…
” কি সারপ্রাইজ ভাইয়া ?
রাফি হাসলো অল্প । বললো মোলায়েম স্বরে…
” সেটা গেলেই দেখতে পাবি । তোর জন্য বেস্ট সারপ্রাইজ ফর এভার…
একটু অপেক্ষা কর ওটার জন্য ।
রুহি হাসলো । বললো…
” আচ্ছা ! কিন্তু এবার তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে বলো ? আমার একা একা বাড়িতে থাকতে একদম ভালো লাগে না । কলেজেও যেতে ইচ্ছে করে না । তুমিও তো যেতে দাও না । মেহজাবিন আপিও তো চলে যাবে দুদিন পর । আমি জেনির সাথে সারাদিন কি গল্প করবো বলো ? ও তো পিচ্চি ।
” চিন্তা করিস না । তোর সারপ্রাইজ টা তোকে আর একলা রাখবে না । সেটাই সঙ্গি হবে তোর…
পরদিন দুপুর তিনটে । রাফি সিলেটে ফিরেছে রাত বারোটার দিকে । সকালে আর ক্যাফে তে আসে নি । একেবারে এসেছে বিকেলে । ওর আসার আভাস পেয়ে তড়িঘড়ি করে কিচেন থেকে বাইরে বেরিয়েছে মিহি । দরজা মারাতেই রাফি কে পিছন থেকে দেখতে পেল কেবিনে ঢুকতে । বাইরে থেকে ছুটে আসলো জেরিন । আসার সাথে সাথে কফি প্রয়োজন রাফির । ওটাই দিতে হবে এখন । এই সুযোগে রাফি কে সামনা সামনি দেখে আসবে একবার । জেরিন কফি বানিয়েছে স্বভাব সুলভ গুনগুন করতে করতে । মিহি ইতস্তত হয়ে পায়চারি করছে । উত্তেজিত লাগছে নিজেকে ।
জেরিন কফি নিয়ে বেরোতে গেলে মিহি ডাকলো….
চকিতে তাকালো জেরিন । বললো..
” কিছু বলবি ?
হাত কচলে আনচান করে উত্তর করলো মিহি…
” হুম ? না , কিছু না । য..যা তুই !
মুচকি হেসে বেরিয়ে আসলো জেরিন । বিনা পার্মিশনে রাবির কেবিনে ঢুকে উৎসুক হয়ে কফিটা বাড়িয়ে দিলো ।
” আপনার কফি , সিংগার স্যার…
চোখ তুলে তাকালো রাফি । চোয়াল শক্ত । বললো নিরেট ভরাট কন্ঠে….
” প্রয়োজন নেই , নিয়ে যাও…
” কেনো স্যার ?
” প্রয়োজন নেই মানে প্রয়োজন নেই । কেনো প্রয়োজন নেই সেটা বলতে হবে তোমায় ? কৈফিয়ত দেবো আমি তোমায় ?
কড়া গলায় ঝেড়ে উঠলো রাফি । চমকালো জেরিন । উৎসুক মুখখানা কাচুমাচু হলো সামান্য অপমান বোধে । চোখ নামালো ও । কফির মগটা শক্ত করে ধরে নিচু স্বরে বলল…
” সরি স্যার…
বলেই পিছু ফিরলো ও । চোখ ছলছল করে উঠলো রাফির চড়া ধমকে । জেরিন পা বাড়াতেই রাফি ডাকলো…
” শোনো..?
” জ্বি…
কন্ঠ নরম করলো রাফি ।
” রেখে যাও !
চকিতে তাকালো জেরিন । চোখ চিকচিক করে উঠলো ওর । উৎসুক মেয়েটার মনে খানিক আগের আহত অপমান বোধ টুকু মুছে যেতে সময় লাগলো না । হাসলো জেরিন । কফিটা রাফির সম্মুখে রাখলো । কন্ঠ নরম রেখেই রাফি বললো…
” যাও এখন….
তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে আসলো জেরিন ।
খানিক বাদ ক্যাফেতে আগমন বেশ কয়েকজনের । সুট বুট পড়নে । বাইরে তিন খানা দামী কালো গাড়ি । মোটে ছয়জন । সোজা ক্যাফের ভেতরে ঢুকলো তারা । নিহার তাদের বাইরে থেকে ভিতরে ঢুকতে দেখে সেও ভেতরে আসলো । খাতির দেখিয়ে অভিবাদন জানালো । রাফিও বেরিয়ে আসলো একই মুহুর্তে । ওনারা রাফি কে দেখে উৎসুক হাসলেন সবাই । রাফিও তাই । একজন এগিয়ে এসে রাফির সাথে হ্যান্ডশেক করলেন , বুকে বুক মিলিয়ে উচ্ছাসিত কন্ঠে বললেন…
” হেয় রাফি..
হোয়াটসঅ্যাপ ? অনেক দিন পর দেখা ব্রো , কেমন আছিস বল ?
একে একে সবার সাথেই আলিঙ্গনে জড়ালো রাফি । হেসে উত্তর করলো…
” আলহামদুলিল্লাহ ,
তোরা কেমন আছিস ?
” এইতো চলছে ?
সবাই বসলো গোল টেবিলে । নিহারের বুঝতে বাকি রইলো না এরা রাফির ফ্রেন্ড । মতিগতি দেখে তো তাই মনে হচ্ছে । রাফি একবার তাকালো ওর দিকে , ইশারা করে বোঝালো কিছু । স্পেশাল গেস্ট হিসেবে হোস্ট করতে হবে তাদের । নিহার মাথা নেড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলো ।
রাফির কলেজ লাইফের ফ্রেন্ড এরা । প্রায় বছর তিনেক পর দেখা অনেকের সাথে । কেউ কেউ বিদেশে থাকে , আবার কেউ কেউ দেশে সেটেল । যে যার পার্সোনাল লাইফ স্টাইল নিয়ে বিজি । রাফিও তাই । সেও ব্যস্ত তার জীবন নিয়ে । আজকাল আর ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হয় না । যোগাযোগ ও হয় খুব কম ।
রাফির ফ্রেন্ড রানা , আর সিফাত দেশে ফিরেছে গত সপ্তাহে । ওরা ছয় ফ্রেন্ড একসাথে হয়ে রাফির সাথে দেখা করতে এসেছে । রাফি ঢাকায় নেই জানতে পেরে সিলেটে এসেছে । বাকি চারজন , মিরাজ, লিজান, রিফাত আর বারেক,ওরা দেশেই সেটেল । তবে একেক জন একেক শহরে । কলেজ লাইফ থেকে ভার্সিটি লাইফ পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড়া চলতো না এদের । এখন কেউ কারোর সাথে দেখা করার সময় টুকুও পায় না । এখন সময় বের করে বহু বছর পর একসাথে হয়েছে সব বন্ধুরা ।
সিফাত এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে আশপাশ টা দেখলো । বললো….
” তা বল কি খবর , হঠাৎ এখানে সিলেটে ? তাও আবার কিনা ক্যাফে কিনে ? তুই কিনা সব ছেড়ে ক্যাফের হাল ধরলি ? হাউ ইজ ইট ট্রু, ব্রো ?
” সেসব বাদ দে…
তুই বল , তোর কি খবর ? কেমন চলছে নব বিবাহিত জীবন ?
রাফির প্রশ্নে খানিক লজ্জা লজ্জা ভাব ফুটলো সিফাতের মুখে । গলা খাঁকারি দিলো ও । পাশ থেকে বন্ধুরা টিটকিরি মারলো সমস্বরে…
” ওওও হোওওও…
লজ্জা পেয়েছে সিফাত বাবু !
” থামবি তোরা ? লজ্জা পাবো কেন ? তোরা কি আমার শ্বশুর না ভাসুর ? ও সরি , ছেলেদের তো আবার ভাসুর হয় না !
” এতো বছর বিদেশে থেকেও কথার ধরন বদলালো না তোর ?
রাফির কথায় সিফাত একটু নড়ে চড়ে উঠলো । বাবু হয়ে বসা থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে বসলো একটু । বললো…
” তোদের সামনে নিজের বদল দেখাতে যাবো কেনো ? তোদের কাছে আমি আগের সিফাতই আছি । শুধু বিয়ে হয়েছে এই যা । ম্যারেইড এর দলে পড়েছি শুধু । তোরা তো শালা সারাজীবন সিঙ্গেলই থেকে যাবি । বরং তোদের থেকে আমি এক ধাপ এগিয়ে আছি ।
যদি বিবাহিত জীবনের অনুভূতি শুনতে চাস , তাহলে বলি – একবার বিয়ে করেই দেখ ভাই , কি জ্বালা টের পাবি ! আমি তো ভাই বিদেশি মাইয়ারে বিয়ে করছি , কি যে প্যারা দেয়, কি বলবো ! একবার ভাবি এর থেকে বরং সিঙ্গেল লাইফই বেস্ট ছিল । আর একবার ভাবি , না ঠিকি আছে । মেয়েটা ভালোবাসে আমায়, তাই যত প্যারা সব সহ্য করে নেই ।কি করবো বল ? বিয়ের পর মেয়েটাকে কেমন অতিরিক্ত আপন আপন লাগে ! আর কাউকে ভালোই লাগে না ওকে ছাড়া !
রিফাত চোখ বড় বড় করে চাইলো ..
” ভাই , তুই বলছিস এসব ? বিয়ের পর কি লয়াল হয়ে গেলি নাকি ? এদিক ওদিক চোখ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিস ?
হাসলো সিফাত । শ্বাস টানলো তৃপ্তি নিয়ে । বললো মোলায়েম স্বরে…
” বিয়ের আগে কি ছিলাম জানি না, তবে বিয়ের পর আমি পাল্টে গেছি বোধহয় । নিজের কাছেই মনে হয় এটা । আর কারোর দিকে তাকাতেই ইচ্ছে করে না । ভুলক্রমে চোখ গেলেও মন যায় না । সাইকোলজি এটাকে ভালোবাসা বলে , জানিস ? আমার বউই এটা বুঝিয়েছে আমায় । আগের ঐ সিফাত অন্তত বউয়ের পাল্লায় পড়ে ভালোবাসা শিখেছে ।
ভালোবাসার জন্য আর ভালোবাসা বোঝার জন্য হলেও অন্তত বিয়ে করা উচিত ভাই…
রাফি কথা গুলো শুনে নরম হাসলো নিঃশব্দে ।
বারেক হতাশ দীর্ঘ শ্বাস ফেললো । বললো আফসোসের সুরে…
” আমি কিন্তু সিঙ্গেল নোই । হাঁফ ম্যারেইড । এঙ্গেজমেন্ট করেই বিপদে আছি , বিয়ে করলে যে কি হবে ? বিশ্বাস কর , আমি ওকে এখনই খুব ভালোবাসি । কিন্তু ওকে এটা যতোই বোঝাতে যাই, যে আমি ওকে ভালোবাসি ততই কমতি পড়ে যায় ওর কাছে ! আর কি করে বোঝাবো বল…? বিয়ের পর কি ও বুঝবে না – কি কে জানে ?
পিছনে কিচেনের দরজা ঠেলে মাথা হেলিয়ে উঁকি দিচ্ছে জেরিন । জারিফ আর নিহার সবার জন্য কফি নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে । টেবিলে সার্ভ করে দিলো ওরা । জেরিন কে বাইরে বেরোতে কড়া ভাবে নিষেধ করেছে জারিফ । যত যাই হোক , বড় ভাই হিসেবে বোনকে চোখ পাকিয়ে শাসন করেছে যেন এভাবে ছেলে দের সামনে বাইরে না বের হয় । জারিফ নিষেধ করে বেরোতেই ভেংচি কেটেছে জেরিন । ও জারিফের কথায় কচু পাত্তা দিবে । তবে বাইরে বেরোলো না ও । কিচেনের দরজা থেকে উঁকি দিলো প্রথমে । এতো গুলো হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে চোখ কপালে ওর । হাঁ বনে তাকিয়ে আছে ও । মিহি ও বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত । কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে আর রাফি কে একপলক দেখার উদ্দেশ্যে জেরিনের পিছন থেকে হালকা মাথা হেলিয়ে উঁকি দিলো ও নিজেও । বাইরে রাফি আর ওর বন্ধুরা কি কথা বলছে তা পরিষ্কার ভাবে শোনা যাচ্ছে না । রাফি পিছন ফিরে বসা । মিহি রাফির মুখটা দেখতে পেলো না । এসেছে থেকে দেখে নি । ও উঁকি দিতেই রাফি দেখলো ওকে । টেবিলের উপরে রাখা সানগ্লাসের উত্তল পৃষ্ঠে পিছনে জেরিনের আড়ালে থাকা মিহি কে স্পষ্ট চোখে লাগলো ওর । এক পলক চেয়ে থেকে চোখ বুজলো রাফি । চোখ মেলে কন্ঠ উঁচু করে বারেকের কথার পরিপ্রেক্ষিতে বললো….
” আরে মেয়েরা তো এমনই । সব এক , এদের যত বোঝাবি ভালোবাসার কথা , এরা ততই মাথায় চড়ে বসবে । লায় পেয়ে যাবে । ছেলেদের ভালোবাসা এদের কাছে মিনিংলেস..
তুচ্ছ একদম । এরা ভালোবাসা বুঝবেও না , বোঝার চেষ্টাও করবে না আর ভালোও বাসবে না । শুধু মস্তিষ্কে জেঁকে বসে আঘাত হেনে যাবে প্রতিনিয়ত । রক্ত ক্ষরণ করাবে মস্তিষ্কে । পাগল বানিয়ে ছাড়বে , আর পাগলামো করলে বলবে পাগল । ইনোসেন্ট সেজে যত্তসব ফা*কিং ইমোশন তৈরি করাবে নিজের প্রতি । আর সেই ইমোশন প্রকাশ করলে ছোটলোক ভাববে আমাদের । এদের না মন আছে আর না ছেলেদের মন বোঝার ক্ষমতা আছে । আছে শুধু নিজের প্রতি এডিক্টেড করার এবিলিটি…
বলতে বলতে দাঁত চেপে আসলো রাফির । টেবিলের উপরে মিহির প্রতিবিম্ব ভেসে ওঠা সানগ্লাস টা শক্ত করে চেপে ধরলো হাতে । হাত নামালো টেবিলের নিচে । পুরুষালি শক্তিতে মুচড়ে ভেঙে গেলো চশমা টা । রাফি শক্ত চোয়াল নরম করলো চোখ বুজে । সবাই সন্দিহান অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওর দিকে । রাফির কথা গুলো বোধহয় হজম হলো না কারোর । আচমকা বেশি বেশি বলে ফেললো রাফি । রানা চোখ কুঁচকে সন্দিহান হয়ে শুধালো…
” কি সব বলছিস ব্রো ?
তুই এসব বলছিস ? তোর মুখেও এসব কথা শুনে বিশ্বাস করতে হবে আমাদের ? তোর মুখে এটলিস্ট এসব কথা মানায় না…
রাফি ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো শুধু । মিহি কথা গুলো শুনে দরজা থেকে সরে গেছে তৎক্ষণাৎ ।
মিরাজ কথা ঘোরালো..
শান্তর কথা টানলো এবার…
” বাই দা ওয়ে…
শান্ত কোথায় ? ওকে তো দেখছি না ?
” ও ঢাকায় ?
” বলিস কি ? তোরা আলাদা আছিস ? ইশশ্ , আমরা ভাবলাম একসাথে বোধহয় । কাল থেকে ফোনে পাচ্ছি না ওকে । তাই কন্ট্যাক্ট হয় নি । আমাদের গ্রুপ টা আজ ও অসম্পূর্ণ রয়ে গেল । ভাবলাম কতোদিন পর নতুন জায়গায় একটা রাইড দেবো সবাই । ঠিক আগের মতো । কিন্তু শান্ত ও নেই আর সার…
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না মিরাজ । টেবিলের নিচে ওর হাতটা খপ করে চেপে ধরলো লিজান । অমনি মুখের কথা মুখেই থামালো সে । গিলে ফেলল তা । রাফির অবস্থা অপরিবর্তনীয় । কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না ওর মাঝে । বাকিরা সবাই সঙ্কিত নয়নে তাকিয়ে ওর দিকে । লিজান ঢোক গিলে কথা টানলো গলা ঝেড়ে…
” রাফি , চল…
শান্ত নেই তো কি হয়েছে । আমরা তো আছি । কাম্পানি দিতে অসুবিধা হবে না তোকে । চল এক পাক ঘুরে আসি ।
রাফির স্বাভাবিক কন্ঠ…
” আজ ইচ্ছে করছে না । মাথা ধরেছে । কাল থেকে ঘুম হয় নি । তোরা দেশে থাকবি কতোদিন ?
রানা আর সিফাতের উদ্দেশ্যে শেষের প্রশ্ন । ওরা থাকবে আরো কদিন । জানালো তাই…
রাফি বললো…
” তাহলে অন্য একদিন আবার দেখা হবে । রাইড ও না হয় সেইদিনের জন্য তোলা থাক ।
রাফি কে জোর করলো না কেউ । আরো কিছুক্ষণ আগের ন্যায় আড্ডা দিয়ে চলে গেছে ওরা । সন্ধ্যা নেমেছে যেতে যেতে । ওদের বিদায় দিয়ে ক্যাফের ভেতরে ঢুকছিলো রাফি । বেরোচ্ছিল মিহি । মুখোমুখি হলো একে অপরের । রাফি মাথা নামিয়ে চোখ নিচু করে থাকায় চোখে পড়ে নি । রাফির নজর নিজের হাতের দিকে । তালুতে রক্ত জমে শুকিয়ে গেছে । চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সেখানে । তখন চশমা ভেঙ্গে গ্লাসের এক অংশ ঢুকে গেছিলো হাতের তালুতে । রাফি পাত্তা দেয় নি । দরজার সম্মুখে রাফি কে দেখে থেমেছে মিহি । আচমকা সামনে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাত থেকে চোখ তুললো রাফি । চোখ মুখ অল্প ব্যথায় কুঁচকানো । মিহি কে দেখেও পরিবর্তন আসলো না চোখ মুখে । বরং ও অবিলম্বে চোখ সরিয়েছে । পাশ কাটিয়ে চলেও গেছে উপেক্ষা করে । মিহি চোখ নামিয়ে সজল চোখ দুটো আড়াল করলো । পিছু ফিরে ভরাট চোখে তাকালো একবার । রাফি দরজা ঠেলে ঢুকেছে কেবিনে । চোখ সরালো মিহি । হাসার চেষ্টা করলো । কিন্তু মন ভরলো না । ও শ্বাস টানলো লম্বা । হাসলো জোর পূর্বক ।
বাড়িতে যেতে হবে এখন । সাবিনা বেগম একা আছেন । মিহি ক্যাফে ছেড়ে বেরোতেই ছুটে আসলো রেহা । হাঁপাতে হাঁপাতে হন্তদন্ত হয়ে বললো…
” চল , আমি ও যাবো…
” এখনি যাবি ?
“ হুম ! মা তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে আজ !
দুজনে পা মেলালো । এগোতে এগোতে প্রশ্ন করলো মিহি ..
” কেনো ?
রেহা মলিন হাসলো । তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো…
” দেখতে আসবে আমায় …
হাসি ফুটলো মিহির ঠোঁটে । চকিতে প্রশ্ন করলো…
” সত্যি ? বিয়ে হবে তোর ?
” মা তো সেটাই চায় । বিয়েই দিতে চায় । কি আর করবো বল ? কত দিন আর তাদের ঘাড়ের উপর বসে খাবো ? আমার উপর বিরক্ত তারা । শুনলাম আজ নাকি দেখতে আসবে আমায় , পছন্দ হলে আজই বিয়ে ঠিক করে যাবে !
মিহির মুখখানা খানিক আহত হলো । বাবা থেকেও নেই রেহার । রেহার মায়ের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন তিনি । তখন রেহার বয়স সাত বছর । সেই সাত বছর বয়স থেকে আজ অবধি রেহার বাবা ওর দিকে ঠিক মতো চোখ তুলেও তাকায় নি । সৎ মাও শান্তি দেয় নি কোনো দিন । মেয়েটা বড় হয়েছে একা একা । সঙ্গ পায় নি কারোর । না বাবার আর না মায়ের । তবুও একটুও দুঃখ প্রকাশ নেই ওর মাঝে । ও সুখি নিজের জীবন নিয়ে । আফসোস নেই কোনো । কারোর প্রতি অভিযোগ ও নেই । রেহার সৎ মা বিয়ে দিতে চায় ওর । রেহা দ্বিমত করে নি । সে বেরোতে চায় ঐ পরিবার থেকে ।
রাস্তায় দুই বান্ধবী হাঁটছে চুপচাপ । নীরব দু’জনেই । আচমকা একটা পুরুষালি খসখসে কন্ঠ…
” এই মেয়েরা ,শোনো ….
থামলো দুই বান্ধবী । রাস্তার অপর পাশে একটা মটরসাইকেল দাঁড়িয়ে । দুজন তার পাশে । দুজনেই যুবক । দু’জনের পড়নেই সাদা চেক শার্ট আর সাদা ধবধবে লুঙ্গি । চোখে কালো সানগ্লাস । অথচ সন্ধ্যার অন্ধকার চারদিকে । কালো সানগ্লাসের আড়াল থেকে অন্ধকারে কি দেখছে কে জানে ? মিহি আর রেহা একে অপরের দিকে তাকালো । ছেলে দুটোর মুখ স্পষ্ট নয় । রাস্তাও ফাঁকা । ভড়কালো দুই নারী সত্ত্বা । ডাক উপেক্ষা করে ফের তড়িঘড়ি করে পা চালালো ওরা । ছেলে টা ডাকলো আবার..
” আজব তো , এই মেয়েরা , ডাকছি শুনতে পাও না ?
বলতে বলতে রাস্তার মাঝ বরাবর আসলো ছেলেটা । মিহি ছলকে উঠলো…
” কেনো ডাকছেন আমাদের ? কে আপনি ?
” আমি এঁকেন ,, দরকার আছে দেইখা ডাকছি !
রেহার কম্পিত স্বরে প্রশ্ন …
” কি দরকার আমাদের সাথে ? দেখুন, বিরক্ত করবেন না !
ছেলেটা এগিয়ে এসেছে । চোখের সানগ্লাস খুলে বিরক্তি নিয়ে রেহার দিকে তাকালো ও । দু’জনেই একই জনগোষ্ঠীর । তীক্ষ্ণ চোখা ফর্সা ছেলেটা বিরক্তি নিয়েই বললো…
” আমারে দেখে কি বখাটে মনে হচ্ছে ?
কেউ কোনো উত্তর করলো না । মিহি আর রেহা একে অপরের দিকে ভীত নয়নে চাওয়া চাওয়ি করলো । ছেলেটা ঝেড়ে উঠলো…
” কি হলো ? কথা কও না ক্যান ?
চমকে উঠলো দু’জনেই । রেহা পিছিয়ে কাঁপা স্বরে বলল…
এক দেখায় পর্ব ৪০
” দেখুন আমাদের বাড়ি কিন্তু এখানেই …..
আর কিছু বলার আগেই ছেলেটা ব্যাঙ্গ করে বললো…
” তো কি , সম্বন্ধ নিয়ে যাবো ? যে বাড়ি এখানে না ওখানে ঠিকানা দিচ্ছো ? ঠিকানা চাইছি তোমার কাছে ?
ভ্যাবাচ্যাকা খেলো রেহা । না চাইতেও হাসি আটকাতে পারল না মিহি । মুখ চেপে হাসলো ফিক করে । ছেলেটা রেহার দিক থেকে চোখ সরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে একটু ভাব নিয়ে বলল….
