Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৯

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৯

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৯
সারা চৌধুরী

শুভ্র নিরাশ মুখ নিয়ে বলে উঠে
-” আগে একটু মিষ্টি খাওয়া তার পরে বলবো..!
অর্ক এমনিতেই বিরক্ত তার উপর শুভ্রর এই কথাই রাগ উঠে ওর মাথাই তবে কিছু বলতেও পারছে না দাদে দাত চেপে সহ্য করে নেই।হাটতে হাটতে পার্কিং এরিয়া তে এসে গাড়িতে বসে।শুভ্র গাড়ি ড্রাইভ শুরু করে। চোখ মুখ শান্ত।অর্ক বেশ কিছুক্ষন গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে দেখলো তারপর শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আবার বললো..

-“এখন তো বল ইয়ার কি করতে হসপিটাল গিয়েছিলাম আর ওই রিপোর্ট টাই বা কিসের…?
শুভ্র ড্রাইভ করতে করতে আড়চোখে অর্কের বিরক্ত হওয়া মুখটা দেখলো পুরো সারার কপি এতো দিন খেয়াল না করলেও এখন খেয়াল করছে।শুভ্র ঠোঁট টিপে হেসে বলে…
-“কি এক পোড়া কপাল নিয়ে জন্মেছিলাম কে জানে জার জন্য তোর মতো একটা আধপাগল শালা কপালে জোটে।
অর্ক কপাল কুচকে নিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ফেলে শুভ্রর দিকে তারপর বলে..
-“মানেহ..?
শুভ্র কিছু বলে না রিপোর্ট টা বাম হাত দিয়ে অর্কের দিকে এগিয়ে দেই।অর্ক রিপোর্ট খুলে পড়তে শুরু করে দুটো ডি এন এ ম্যাচ রিপোর্ট পজিটিভ। কিন্তু অর্কের মাথাই এসব ঢুকে না। অর্ক শুভ্রকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শুভ্র বলে উঠে..

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“ওটা তোর আর সারার ডি এন এ টেস্ট এর রেজাল্ট,, আমার কৌতুহল মেটাতে গিয়ে তোর মতো আধপাগল শালা পেয়েছি।
অর্ক হতভম্ব সে কি শুনেছে।ঠিক শুনেছে তো কথাটা বার বার কানে বাজছে ওটা তোর আর সারার ডিন এন এ রিপোর্ট। তাহলে সারা তার বোন তার পুচকি।অর্ক স্তব্ধ শুভ্র বাম হাত দিয়ে জোরে অর্কের বাহুতে চিমটি কাটে অর্ক লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বাহু ডলতে থাকে।রাগী চোখ নিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে..
-“যে খুশির খবর দিলি তাতে জীবনের সব থেকে আজ খুশি হলাম তবে তোর মতো বেদ্দপ কে দুলাভাই হিসেবে পেয়ে আমি দুঃখিত।
-“কি আমি বেয়াদব…?
-“না তুই বেদ্দপ..?
-“সেই একই তো তুই আমারে ইন্ডিরেক্টলি বেয়াদব বললি..?
-“এই জন্যই তুই বেদ্দপ বেশি বুজিস।

এর মাঝে গাড়ি ঢুকে গেলো তালুকদার বাড়িতে।অর্কের মনে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।সে তার পুচকু তার বোনকে ফিরে পেয়েছে।এর চেয়ে আনন্দের আর কি হয়,, এবার নিশ্চয় তার মা সুস্থ হয়ে উঠবে,,আসলে অর্কের মা মেয়ে হারানোর জন্যই অসুস্থ আর ডাক্তার বলেছে মেয়েকে পেলেই আবার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে।এ জেনো অর্কের কাছে চাঁদ পাওয়ার সমান।সহুভ্র গাড়ি থেকে নেমে অর্ক কে নামতে বলে তবে অর্ক কল্পনায় ডুবে।শুভ্র গাড়ির দরজা খুলে অর্কের টি-শার্ট এর কলার এর পিছনে ধরে বলে উঠে…
-“কি শালাবাবু গাড়ি থেকে নামার ইচ্ছা নেই,, এখানে থাকুন তাহলে আমি যাই।

শুভ্রর কথায় অর্ক একটু লজ্জা পাই তবে মনে মনে বেশ এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে।গাড়ি থেকে নেমে দাড়াতেই হুট করে মন খারাপ হয়ে যায় অর্কের। শুভ্র বাড়ির সদর দরজার দিকে হাটা দিয়েছে অর্কের হিসাব অনুযায়ী সারার বয়স পনেরো বছর পড়বে। তার মাঝেই বোনটার বিয়ে হয়ে গেলো।হ্যা সুখি হয়েছে এতো সুন্দর পরিবার কিন্তু এই অহনা।শুভ্রর ওয়াইফ ওদের বাচ্চা আছে এগুলা ভাবতেই অর্কের মাথা খারাপ হয়ে যায়।তার পিচ্চি বোনটার জিবনে নতুন করে কষ্ট। অর্ক খেয়াল করেছে শুভ্র বেশ কেয়ারিং সারার প্রতি। কিছু বুজে উঠতে পারছে না সে।
পা বাড়ায় বাড়ির দিকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই মনে মনে আজ শুভ্রর সাথে কথা বলবে।আগে সারার জন্য এসব চিন্তা হয়নি তবে এখন হচ্ছে যখন বুজলো তার রক্তের আপন বোন সে।আর প্রতিটা ভাই তার বোনের সুখ চাই,,সেখানে এতোদিন পর বোনকে ফিরে পেয়ে চোখের সামনে বোনের সংসার ভেঙে যেতে দেখবে সে কি করে হয়।যদি সে শুভ্রর অন্য সুর দেখে তবে সে তার বোনকে জোর করে হলেও নিয়ে যাবে যেহেতু তার সারাকে সারাজীবন বসিয়ে খাওয়ানোর সামর্থ সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতাও আছে।

আনিতা বেগম বেশ গল্প জমিয়েছেন অহনার সাথে মেয়েটা বেশ অমায়িক।তবে আনিতা বেগমের মুল উদ্দেশ্য ফারুক তালুকদার এর হুকুম যে করে হোক কথায় কথায় পুরো সত্যি টা জানা যদিও আনিতা বেগম রা মানেন অহনার বউ আর অরু শুভ্রর সন্তান তাই বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে বলেছেন যেহেতু এতে ছোট্ট সারার লাইফ জড়িয়ে আছে। আনিতা বেগম মুলত জানতে চাই কিভাবে তার এক্সিডেন্ট হয়েছিলো কিভাবে অরুর খোজ পেলো। অহনাও সরল মনে উত্তর দিচ্ছে।
এ বাড়িতে আসার পর থেকে অহনা তার নাড়ি ছেড়া ধন অরুকে এক বারের জন্য ও কোলে পাই নি তাই আনিতা বেগমের কাছে আবদার করে বসলো অরুকে কোলে নেওয়ার।যেহেতু তখন অরু আনিতার কোলেই ছিলো তখন। তাই আর ফেরাতে পারিনি।আনিতা বেগম ছয় মাস বয়সি অরুকে এগিয়ে দিলে অহনা কাপা কাপা হাত দিয়ে ঘুমন্ত অরুকে কোলে তুলে নেয়।

বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেদে উঠে।আনিতা বেগম চুপ করে চেয়ে রইলো অহনার দিকে। সে জানে মায়েদের মন কেমন কোমল হয়।তবে এটাও বুজতে পারছে আজ সন্ধাই এই বাড়িতে বড় কোনো ঝামেলার সৃষ্টি হবে।আনিতা মনে মনে এই দোয়াই করছেন যেনো সব ভালোই ভালোই মিটে যায়।তবে বিপদ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

ফারুক তালুকদার ও আনিস তালুকদার ইতিমধ্যেই ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।বেলা তিনটেই সিলেট বিমানবন্দরে পৌছাবে তারা।ফারুক তালুকদার ভেবে পাচ্ছেন না কি করবেন তার মাথা ঘুলিয়ে যাচ্ছে।পাধে আনিস শান্তিতে ঘুমাচ্ছে সিটে মাথা এলিয়ে।ফারক তালুকদার চোখ বুজলেন।নিজের চোখের সামনে বাড়ির প্রতিটি মানুষের চেহারা ভেসে উঠলো বিশেষ করে সারার মায়াবী চাহনীটা।ফারুক তালুকদার এর বেশ পছন্দ সারাকে কত অল্প বয়সেই সমস্ত কিছু সামলে নিতে পারে সে,,কিন্তু এখন কি অবস্থা মেয়েটার মনের এটাই ভেবে পাইনা ফারুক তালুকদার। বাড়ি ফিরে কোন সিদ্ধান্তে যাবে সেটাও বুজে উঠতে পারছে না সে।

ফাতিহা হেটে চলেছে ফুটপত দিয়ে আর পাশে ধিরে ধিরে বাইক চালিয়ে এগুচ্ছে রিহান।বর্তমানে ফাতিহা প্রচন্ড আকারে রেগে আছে রিহানের উপর। যদিও রাগের জারন অনেক তবুও ফাতিহার মুল রাগের কারন হলো রিহান কফি শপের ভিতরে একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছিলো।আর মেয়েটা ফাতিহার ক্লাসমেট।এই নিয়ে ফাতিহা তখন থেকেই রেগে আছে,,রিহানের সাথে আর কথা নেই তার।ফাতিহা যা বুজার বুজে গেছে মেয়েদের মন তো সব কিছু অল্পতেই বুজে যায়।

ফাতিহা প্রচন্ড জোরে হাটতে থাকে দুপুর আর কড়া রোদ হওয়াই চারিপাশ ফাকা।লোকজন কম স্টুডেন্ট বাদে লোকাল মানুষ তেমন চোখে পড়ছে না।হটাৎ ফাতিহার সামনে রিহান বাইক দাড় করাই।ফাতিহার পা আপনা আপনি থেমে যায়।বিরক্ত হয় ফারিহা।রিহান বাইক থেকে নেমে ফাতিহার সামনে এসে দাঁড়ায়।ফাতিহা উলটো ঘুরে চলে যেতে চাই তবে রিহান ফাতিহার হাত ধরে ফেলে।ফাতিহা রাগে হাত ঝাড়া মারে।রিহান ঠোঁট টিপে হাসে তবে কিছু বলে না ফাতিহার হাত আরো জোরে টান দেই ফাতিহা রিহানের বুকে এসে ধাক্কা খাই।
ফাতিহার প্রচন্ড রাগ লাগে।তার বদ অভ্যাস রেগে গেলে কোনো কিছু মানে না,,এমনিতেই রিহানের উপর রেগে আছে আর রাস্তার মধ্যে এসব অসভ্যতামি করছে অন্য সময় হলে নিশ্চয় ফাতিহা লজ্জায় লাল নিল হয়ে যেতো তবে এখন ফাতিহা রেগে যায়।এতোটাই রেগে যায় যায় রিহান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় রিহানের উজ্জ্বল মুখে।

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৮

ফাতিহার হাতের চড় খেয়ে হতভম্ব রিহান।এদিকে চড় দেওয়ার পর ফাতিহা বুজতে পারে সে কি ভুল করেছে। ফাতিহা সরি বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তার আগেই রিহানের রুপ পালটে যায় হটাৎ রেগে গিয়ে ফাতিহা কে ধাক্কা মেরে ফুটপাতের রাস্তায় ফেলে দেয়।ফাতিহা ছিটকে পড়ে শক্ত মাটিতে। আশে মানুষ নেই।রিহান চোখ বড় বড় করে রাগী দৃষ্টি নিয়ে হাটু গেড়ে বসে গার জোরে ফাতিহার গাল টিপে ধরে। ফাতিহার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।প্রচন্ড ব্যাথা লাগছে তার।রিহান ফাতিহার লাল বর্ন ধারন করা মুখের দিকে তাকিয়ে হাসে সয়তানি হাসি তারপর শান্ত কন্ঠে ফিসফিস করে বলে….

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪০