Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৩

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৩

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৩
সারা চৌধুরী

সবার দৃষ্টি এখন শুভ্রর উপরে। শুভ্রর কথা শুনে চমকে উঠে সবাই।সাথে অন্তরাত্মা কেপে উঠে অহনার চোখ বড় বড় করে তাকায় শুভ্রর দিকে।হাত পা রীতিমতো কাপছে তার।ফারুক তালুকদার গম্ভীর কন্ঠে শুভ্র উদ্দেশ্যে বলে উঠে…
-“কি বলছো এসব মাথা ঠিক আছে তোমার…?
-“জ্বি আব্ব।
ফারুক তালুকদার একবার অহনার দিকে তাকালো মেয়েটার মাথা নিচু মুখটা শুকনো লাগলো তারপর সারার দিকে তাকিয়ে দেখলো সারাও অবাক হয়ে চেয়ে আছে শুভ্রের দিকে তখন শুভ্রর বলা কথাটাই চমকে গেছিলো বাড়ির সকলে।আনিস বলে উঠলো..

-“তো শুভ্র বুজলাম না কিছু বুজিয়ে বলো।
ফারুক তালুকদার কিছুক্ষন চুপ থেকে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো…
-“যা বলবা ক্লিয়ার বলবা এখন পুরো ঘটনা বলো..?
শুভ্র শুকনো ঢোক গিললো তার পর এক পলক সারার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিয়ে বলা শুরু করলো…
-“আব্বু আপনি যানেন আমি যাই করি আগে আপনাকে বলি।এটা বাড়ির সকলে জানে।আর সত্যি বলতে অরু আমার নিজের সন্তান না।তবে ওরে আমি নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসি।
-“আসল ঘটনা বলো বিশ্লেষণ শুনতে চাই নি..! (ফারুক তালুকদার তেজি গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে)-
শুভ্র শান্ত ভাবে অহনার দিকে তাকায় মেয়েটার হাত পা কাপা তার চোখেও ধরা পড়ে তবে করার কিছু নেই।শুভ্র তার পিচ্চি পাখি কে অসম্ভব ভালোবাসে।আর তাকে কষ্ট দিয়ে হারাতে পারবে না শুভ্র।তাই শুভ্র অহনার প্রতি নিজের মায়া ভুলে গিয়ে বলে উঠে…

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“আমার আর অহনার বন্ধুত্ব অনেক আগের।হটাৎ অহনা কার সাথে রিলেশন করে বিয়ে করে। বিয়ে করেছে যদিও আমি পরে যানতে পারি আগে যানতাম রিলেশন করেছে।ওদের সংসারে যখন ছোট্ট অরু এলো। অহনার গর্ভে তখন ওর সেই স্বামি ওকে ছেড়ে চলে যায়।অহনা খুব ভেঙে পড়ে প্রায় দুইমাস ওর হাল দিনকে দিন খারাপ হতে থাকে।আমি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম যদিও সব সময় পাশে ছিলাম তবুও তখন থেকে বলছিলাম ওই বাচ্চার দায়িত্ব আমি নিবো ও যাতে টেনশন না করে।আর অহনার চার মাস প্রেগ্ন্যাসির সময় এখান থেকে ঘুরে গিয়েছিলাম।তখন আমি একটাই মিথ্যা বলেছি অহনা আমার স্ত্রী তবে এটা ভুল ওকে আমি অন্য বাসাই রেখেছি। ও আর আমি দূরে থেকেছি।ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব বাদে কোনো সম্পর্ক নেই।

এটুকু বলে শুভ্র থামে।সবাই যেনো নিজের বাকশক্তি হারিয়েছে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।এতদিন শুভ্র আর অহনাকে স্বামি স্ত্রী ভেবেছে।শুভ্রর সন্তান অরুকে ভেবেছে।তবে ঘটনা পুরো উলটো।ফারুক তালুকদার ও বেশ অবাক হয়েছেন।আড়চোখে অহনার দিকে তাকিয়ে রশহীন কন্ঠে বলে উঠলো…
-“অহনা এগুলা কি সত্যি শুভ্রর বলা কথা কি বাস্তব..?
অহনার আর বলার কিছু নেই। মাথা নিচু করেই ছোট করে উত্তর দেই…

-“জ্বী…!
ফারুক তালুকদার আবার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“এতদিন স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছো তবে আজ হটাৎ সব স্বীকার কেন করলে…?
-“মাফ করবেন আব্বু।আমি সারাকে ভালোবাসি সে আমার অর্ধাঙ্গিনী আমি তার বৈধ স্বামি।আমি কখোনোই চাইবো না একটা মিথ্যা কারনে আমার স্ত্রী কষ্ট পাক আমাকে ভুল বুজুক।ও ছোট হলেও ওর অভিমান ওর কষ্ট কোনো অংশে কম না তাই আমি সব স্বীকার করেছি।

শুভ্রর কথা শুনে সারার চোখ দিয়ে এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তবে এটা সুখের অশ্রু।যে পুরুষ সবার সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে সে পুরুষ আসলেই ভালোবাসে।অর্কের অশান্ত মন শান্ত হয়েছে তার ভুল ধারনা ভেঙেছে।যাক তার বোন এখন নিরাপদ ও সুখি।শ্রাবন এর কেমন জানি হচ্ছে মনের ভিতরে শান্তি পাচ্ছে না।তার মানে অহনার সাথে সে আলাদা হওয়ার পর অহনা আবার বিয়ে করেছিলো এটা তার বাচ্চা। কি হচ্ছে বুজতে পারছে না।
ফারুক তালুকদার অহনার দিকে তাকিয়ে জোরে একটা ধমক দিয়ে বলে উঠলেন…
-“এই জন্য তুমি বার বার মেয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলে তবে শুভ্রর বা বাচ্চার বাবার নাম বলছিলে না।চরিত্রহীন মেয়ে তুমি ছিহ।

বাবার বয়সী মানুষের কাছ থেকে চরিত্রহীন কথাটা শুনে বুক কেপে উঠে অহনার।তবে ঠিক ই বলেছে একটা অবিবাহিত ছেলেকে নিজের স্বামি আর সন্তানের পিতা পরিচয় দিয়েছে এটা তো তার চরিত্রে দাগ লাগাবেই।তবে অহনার ইচ্ছা করছে সব খোলাশা করতে।কিন্তু উপাই নেই।অহনার ভাবনার মাঝেই ফারুক আবারো ধমক দিয়ে বললেন..
-“এই মেয়ে এবার অন্তত বলো এই বাচ্চার বাবা কে।নাকি অবৈ…
ফারুক তালুকদার কথা শেষ করার আগেই অহনা হাউমাউ করে কেদে উঠে মাটিতে বসে পড়লো।সবাই অহনার দিকে তাকিয়ে আছে।সবার মুখের ভাব বেশ বিরক্তের শুধু সারা আর ফাতিহার বাদে।অহনা কাদতে কাদতে ভাঙা কন্ঠে বলে উঠে..

-“ও অবৈধ না ও আমার সন্তান আমাদের ভালোবাসার প্রতীক।ওরে পেয়ে এক সুখের জীবন পেয়েছিলাম তবে হুট করে সব শেষ হয়ে গেছে।
-“কি সব বলছো খুলে বলো মাথায় যাচ্ছে না আমাদের..!(আনিস তালুকদার বলে উঠে)-
অহনা একবার শ্রাবন এর তাকায়। শ্রাবন ও তার দিকে তাকিয়ে আছে চোখা চোখি হয়ে যায়।তবে শ্রাবনের রাগ ঘৃনা হচ্ছে এটা ভেবে যে অহনার বাচ্চা তার বা শুভ্রর না অন্য কারোর।অহনা শ্রাবন এর চাহনী দেখে নিজের মনেও রাগ হলো। যেহেতু সব প্রকাশ হয়ে গেছে তাই নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ ভাবলো। অবৈধ যখন বলেছে তখন সব কিছু প্রকাশ করাই উত্তম। অহনার হৃদয়ে পুরোনো ক্ষত আবারো তাজা হয়ে উঠলো।
অহনা হাতের তালু দিকে চোখের পানি মুছে। ফারুক তালুকদার এর দিকে তাকিয়ে বললো…

-“আমার মেয়ে কোনো অবৈধ সন্তান না।আপনার এক মাত্র ভাগ্না শ্রাবন তালুকদার আর আমার প্রেমের ফসল অরু।অরুর বাবা শ্রাবন আমাদের বৈবাহিক জিবনের সৃতি ও।
অহনার কথা শুনে সকলে আরেক দফায় চমকে যায়।আজ যেনো চমকের উপর চমক পাচ্ছে সকলে। এক ঘাটের পানি কোথা থেকে কোথায় বয়ে যাচ্ছে ভেবে কুল পাচভহে না কেও।অহনার কথা শেষ হতেই শ্রাবন দাঁড়িয়ে যায়।সাথে উচ্চস্বরে বলে উঠে….

-“কিহহহহহ..!
অহনা সবার দিকে একবার তাকিয়ে শ্রাবন এর দিকে তাকালো শ্রাবন অবাকে চরম সীমায় সাথে বাড়ির সকলে শুভ্র যেনো আকাশ থেকে পড়েছে।সবাইকে আবারো অবাক করে দিয়ে অহনা শ্রাবন এর দিকে তাকিয়ে বেশ শক্ত ভাবেই বলে উঠে..
-“জ্বী অরু আপনার সন্তান। আপনি যখন আমাকে ডিভোর্স দেন তখন অরু এক মাস গর্ভে।
শুভ্র অবাক হয়ে অহনাকে বলে..

-“কি বলছিস তুই..?
-“আমি যা বলছি ঠিক বলছি সত্যি বলছি..!
এবার ফারুক তালুকদার জোরে একটা নিশ্বাস নিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বললো…
-“অহনা যা বলছো পুরো খুলে বলো সব বুজতে সুবিধা হবে যেভাবে ঘটনা ঘুরছে।
বাড়ির সকলে অবাক আনিতা বেগম আর সুমনা বেগমের চক্ষু চড়ক গাছ। যে ছেলের জন্য মেয়ে খুজছিলো বিয়ে দিবে তাই তার নাকি বাচ্চাও আছে।শ্রাবন নির্বাক ভাবে তাকিয়ে আছে অহনার দিকে। ফাতিহার মধ্যে কোনো ইন্টারেস্ট নেই এসবে।সে আপাতত অরুকে কোলে নিয়ে বসে আছে।সারা আর অর্ক ও বেশ অবাক।শুভ্র তো পুরো হা।ফারুক তালুকদার আবার অহনাকে বলতে বললে অহনা বলে….

-“আমার আর শ্রাবন এর সম্পর্ক হয় শুভ্রর মাধ্যমে। হুট করেই বন্ধুত্ব তার পর প্রেম। এক সময় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই।পরে আমাদের একটা সংসার হয়। তবে হুট করে এলোমেলো করে দেই।অরু তখন আমার গর্ভে হটাৎ একবার শ্রাবন সিলেট ফিরে আর ঢাকা যায় নি। সাথে আমার সাথে যোগাযোগ অফ করে দেই।কিছুদিন পর ডিভোর্স ও পাঠিয়ে দেই।তবে আমি তখন ও জানতাম না যে শ্রাবন এই বাড়িতে থাকে।আর যেবার এখানে এসেছিলাম সেবার শ্রাবন এখানে ছিলো না। নয়তো আগেই সব সমাধান হতো।

অহনার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে আর কিছু বলতে পারে না।ফুফাচ্ছে মেয়েটা।এবার সবার দৃষ্টি যায় শ্রাবন এর দিকে।অহনার কথা শুনে শ্রাবন নিজের ভুল বুজতে পারে।অহনা বকেছিলো সে তাকে একটা সারপ্রাইজ দিবে আর এটা স্রাবন অন্য কিছু ভেবেছিলো বলেই ডিভোর্স এর মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তাড়াহুড়ো করে।স্রাবনের মাথা নিচু হয়ে যায়।কি উত্তর দিবে সে।তার কি ক্ষনা হবে। ফারুক তালুকদার শ্রাবন এর দিকে না তাকিয়ে কাচের টি টেবিল এর দিকে তাকিয়ে রাশভারী কন্ঠে বলে উঠে…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪২

-“কি থেকে কি হচ্ছে তবে সব ঝামেলার সমাধান আজ করেই আমি উঠবো শুভ্রর মা কফি দাও কড়া করে এক কাপ।
আনিতা বেগম ফারুক তালুকদার এর কথা শোনা মাত্রই রান্না ঘরের দিকে ছুটলেন এদিকে ফারুক তাকুকদার পায়ের উপর পা তুলে দিয়ে শ্রাবন এর দিকে তাকালো।শ্রাবন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।পরবে ট্রাওজার আর ব্লাক টি-শার্ট। চুল গুকো কপালে এসে পড়েছে।শ্যামলা মুখশ্রী আধারে ছেয়েছে।ফারুক তালুকদার এর অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক কিছু বুজলো তাই কন্ঠ খাদে নামিয়ে শান্ত কন্ঠে শ্রাবনকে জিজ্ঞাসা করলো….

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৪