Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২০

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২০

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২০
শ্রাবণী ইয়াসমিন

ডেভিড এক হাতে সিগারেট নিজের ঠোঁটে চেপে ধরে রেখে নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করছে। তার হাতে একটি নীল রঙের ডেথস্টকার বিচ্ছুর ট্যাটু। যা দেখে আনায়ার পিলে চমকে গিয়েছে। কারণ এই ট্যাটু ওয়ালা হাত তার কাছে ভিষণ পরিচিত। ভিষণ। তবে এই নামটা তার কাছে মোটেও পরিচিত নয়।
আনায়ার তখন বয়স মাত্র সাত।
সেই দিনের কথা এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে তার। বর্ষার বিকেল, আকাশজোড়া ঘন মেঘ, একটানা ঝরে চলা বৃষ্টি। চারপাশে ভিজে মাটির গন্ধ ছড়িয়ে আছে।
সেদিন মামাবাড়িতে এসেছিল মা-বাবার সাথে। দুপুরের পর বাবাকে অফিসের জন্য বেরোতে হয়েছিল, মা আর মামি গিয়েছিলেন বাহিরে হাটতে। মামা তো তখন অন্য শহরে। বড় বাড়িটা নির্জন পড়ে ছিল শুধু সে আর তার নানু আপা।
বৃষ্টি পড়ছিলো ঝমঝম করে। জানালার কাঁচ বেয়ে পানি গড়িয়ে আসছিলো। নানু আপার পাশে শুয়ে চোখ দুটো আধো ঘুমে ঢুলছিল আনায়ার। নিরাপত্তার আলতো আবেশে অচেতন হয়ে যাচ্ছিল সে।

হঠাৎই ঠান্ডা কিছুর স্পর্শে তার শরীর কেঁপে উঠল।
চোখ খুলতেই বুক ধক করে উঠল।
নিজের উরুর ওপর রাখা আছে এক বড় হাত।
শক্ত, শিরা-উঠা সেই হাতের কবজির উপরের দিক আর হাতের গোড়ালির নিচে ফুটে আছে নীল রঙের এক বিচ্ছুর ট্যাটু। আধো অন্ধকারেও ট্যাটুর বাঁকানো রেখাগুলো যেন জ্বলজ্বল করছে।
আনায়ার নিশ্বাস আটকে এল। তার ছোট্ট বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। ভয় পাচ্ছিলো, তবু চোখ সরাতে পারছিল না। অদ্ভুত এক আকর্ষণ যেন বেঁধে ফেলেছিলো তাকে।
ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাতেই ঘরের আধো অন্ধকারে সেই যুবকের মুখ স্পষ্ট হলো। তীক্ষ্ণ চোখ, হালকা দাড়িতে ঢাকা চোয়াল, ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি।
সেই দৃষ্টি মিলতেই তার সমস্ত ভয় কেমন করে যেন মিলিয়ে গেল। কারণ সেই মানুষটা আর কেউ নয় তার মামার বড় ছেলে, ‘রাফায়েল’।

আনায়া কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু শব্দ বের হবার আগেই রাফায়েলের শক্ত হাত এসে তার ছোট্ট মুখটা চেপে ধরল। অপ্রত্যাশিত চাপায় আনায়ার গাল ব্যথায় জ্বালা করে উঠল, চোখ ছলছল করে উঠল ভয়ে।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে অনুভব করল তার ছোট্ট শরীরটা বিছানা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। রাফায়েলের বাহুর শক্ত গ্রাসে বন্দি হয়ে সে অসহায় পুতুলের মতো ঝুলে রইল।
করিডরের অন্ধকার পেরিয়ে রাফায়েল এগিয়ে গেল নিজের ঘরের দিকে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এক ঝটকায় সেটি বন্ধ করে দিল। ঘরটা মুহূর্তেই আরও গুমোট, নিঃশব্দ হয়ে উঠল।
রাফায়েল তাকে নিজের উরুর ওপর বসিয়ে দিল। তারপর পকেট থেকে একটা চকোলেট বের করে আনায়ার ছোট্ট হাতের মুঠোয় গুঁজে দিল। চকোলেটের মোড়ক খুলতেই তার চোখ এক নিমেষে ঝলমল করে উঠল। ভয় ভুলে গিয়ে শিশুসুলভ আনন্দে চকোলেটটা মুখে ভরে নিল সে।

কিন্তু সেই মুহূর্তে রাফায়েলের দৃষ্টি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার চোখে ফুটে উঠেছিল অদ্ভুত এক তীব্রতা।
আনায়া নির্ভাবনায় মিষ্টির স্বাদে মগ্ন, কিন্তু রাফায়েলের শক্ত হাত ধীরে ধীরে তার শরীরের ওপর চেপে বসতে লাগল। আনায়ার ছোট্ট কোমল দেহের বিভিন্ন জায়গাগুলো তে জোরে চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।
আনায়া প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না, কিন্তু হঠাৎ অস্বস্তি টের পেয়ে থমকে গেল। সে কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে লাগলো তবে রাফায়েল তাকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। যা থেকে তার মত বাচ্চা কখনোই বের হতে পারবেনা।
এক পর্যায়ে রাফায়েলের মনে নিকৃষ্ট তম বাসনা জাগলো। সে আনায়ার দু হাত মুখ শক্ত করে বেধে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে নেয়। তার বাসনা সেই জ্বলন্ত সিগারেট সে আনায়ার কাছে এসে তার দু পা ফাক করে প্যান্ট খুলে যৌ/না/ঙ্গে স্পর্ষ করানো। সে দেখতে চায় একটা নরম স্পর্ষকাতর জায়গায় জ্বলন্ত সিগারেট টা চেপে ধরলে একটা মেয়ে কতটা ছটফট করতে পারে।

তবে তার কার্যসাধন করার আগেই আনায়া ভয়ে প্রাণপনে চিৎকার করে কেদে ফেলে। তার চিৎকার টা কেউ শুনতে পেতোনা যদি না তাকে খোজার জন্য তার নানু আপা এই রুমের দিকে আসতো।
তিনি ঘুম থেকে উঠেই পাশে আনায়া কে না দেখতে পেয়ে খুজতে বেরিয়েছেন। আর এমন সময় রাফায়েলের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ তার কানে যায়। সে গিয়ে দরজায় শব্দ করে ধাক্কা দিয়ে রাফায়েল কে দরজা খুলতে বলেন।
দরজার বাহিরে কারও কন্ঠ পেয়ে রাফায়েলের চোখে উদ্বিগ্নতার ছায়া নেমে আসে। সে কি করবে বুঝতে না পেরে আনায়া পা ও শক্ত করে বেধে তার ওয়াশরুমের ভেতর অর্ধেক পানি ভর্তি বালতির ভেতর আনায়াকে চাপ প্রয়োগ করে ঢুকিয়ে বালতির মুখ ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে রাখে।
সেদিন আনায়া ভয়ে নিজের জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো। সে জানে না এরপর কি হয়েছিলো। তবে যখন তার চোখ খুলে সে নিজেকে তার মামার রুমের বিছানায় আবিষ্কার করে। তার পাশেই তা মা বসে কান্না কাটি করছিলো।
তবে রাফায়েল কে সে সেদিন আর দেখেনি। এরপর থেকে সে কখনো রাফায়েল এর সামনে যেত না তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতো। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই ঘৃণিত ব্যক্তিটার সামনে আবারও পড়তে হলো তবে।

জেভিয়ার চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস ফেলছে । রাগ তার শরীর জুড়ে ছড়িয়ে আছে, তার হৃদস্পন্দন বাড়ছে, মৃদু কম্পন হাতের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে। অ্যালেক্স ধীরে ধীরে তার হাতের ব্যান্ডেজ ঠিক করছে, কিন্তু স্পর্শেই তার শক্ত হাতে আঘাতের আভাস।
কয়েক মিনিট আগে যে ঝড় বয়ে গিয়েছিল, তার উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি নিভে যায়নি। চারপাশ নীরব, বাতাস ঠান্ডা, কিন্তু জেভিয়ারের ভেতরে আগুন জ্বলে যাচ্ছে।
পরদিনও কোথাও আনায়ার খোজ না পেয়ে জেভিয়ার অ্যালেক্সকে বলে , ‘রাস্তার সব সিসিটিভি চেক কর। যেসব ক্যামেরা আছে, সব হ্যাক করে দেখ।” অ্যালেক্স জানে তার কি করতে হবে।
কম্পিউটারের সামনে অ্যালেক্স স্ক্রিনে একে একে ক্যামেরার ফিড চালাচ্ছে। প্রতিটি ফ্রেম জেভিয়ারের চোখে খেয়াল করা হচ্ছে। হঠাৎ অ্যালেক্স থমকে যায়। স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে আনায়া এক অচেনা গাড়িতে উঠছে।
“ভাবি কে কে কারও গাড়িতে উঠতে দেখা গিয়েছে বিকেলের দিকে।”

জেভিয়ারের চোখ খুলে ফ্রেমের দিকে তাকালো। রাগ, উদ্বেগ, আর ভেতরের শীতল পরিকল্পনার মিলন সবই এক সঙ্গে তার ভেতরে জেগে উঠছে। জেভিয়ার লম্বা এক নিশ্বাস নিলো।
ঠিক তখনই জেভিয়ারের ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে ভেসে এলো কারও উদ্বেগ কণ্ঠ,
“স্যার, মেয়েটা ডেভিড মার্সারের কাছে স্বইচ্ছায় চলে গিয়েছে। কেন গিয়েছে, তা জানি না।”
জেভিয়ার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হলো। এক মুহূর্তে মনে হলো, রাগ তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। কপালের রগ ফুলে উঠেছে, হাতের মুষ্ঠি আরও শক্ত করল। কিন্তু সে নিজেকে থামাতে চাচ্ছে। তার সাথে এই কথায় কথায় হুটহাট রেগে যাওয়া টা যায় না। সে তো ঠান্ডা মাথার প্লেয়ার তবে আজকাল কেন এত মাথা গরম হয় সে বুঝে না।
কথা বলতে বলতে রাগ তার ভেতরে ধীরে ধীরে জেগে উঠল। সে বুঝতে পারল, নিজের ভেতরের রাগ আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। শীতল, হিসেবী জেভিয়ারের ভেতরে হঠাৎ অদ্ভুত এক আগুন জ্বলে উঠল।
জেভিয়ার ফোন রেখেছে। নিজের রাগ ধরে রাখতে পারছে না। কণ্ঠ আর কথায় নিয়ন্ত্রণ নেই। চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

হঠাৎ সে উঠে দাঁড়িয়ে অফিসের কাচের ডেস্কের দিকে হাত ছুড়ে মারে। মোটা কাচ, ভাঙেনি। তবে কিছুটা ফাটল ধরেছে। পাঞ্চের আঘাতে জেভিয়ারের হাতের চামড়া ফেটে যায়। লাল র*ক্ত বেরিয়ে আসে।
ব্যথা? তার কিছু মনে হয় না। রাগ এতটাই তীব্র যে কিছুই তার মনকে থামাতে পারছে না।
কিছুক্ষণ রাগে দম বন্ধ করে দাঁড়ায়। কাচ ভাঙার শব্দে নিঃশ্বাস থেমে যায়। চোখে র*ক্ত জমে উঠছে। অ্যালেক্স চেয়েও কিছু বলতে পারছে না। জেভিয়ার এর রাগ সম্পর্কে অ্যালেক্স অবগত রয়েছে।
জেভিয়ার সাধারণত ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড়। রেগে গিয়ে সে কোনো কাজ করে না। তবে সামান্য একটা মেয়ের জন্য এত উতলা হচ্ছে জেভিয়ার এইটা তার হজম হচ্ছে না।
তবুও হাতে র*ক্ত ঝড়তে দেখে অ্যালেক্স ছুটে গিয়ে জেভিয়ার এর হাত আকড়ে ধরে এবং ব্যান্ডেজ করে দিতে থাকে জোর করে জেভিয়ারও আর কোনো কথা বলে না। পরিবেশ চুপচাপ হয়ে যাওয়া আগাম কোনো ঝড়ের লক্ষণ।
“আমার লাভ বার্ড এর এত সাহস হয়ে গেলো যে আমাকে না জানিয়েই ডেভিড এর কাছে চলে গেল? ডানা ঝাপটাতে শিখে গিয়েছে। ডানা ছেটে দিতে হবে।”
জেভিয়ার অত্যন্ত শীতল কণ্ঠে বলল।
অ্যালেক্স কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু একটা ভেবে নিচু কন্ঠে বলে,
” ভাই, ভাবির কোনো দোষ নেই। ভাবি কে ভুল বোঝানো হয়েছে। আপনি ভুল বুঝছেন।
জেভিয়ার বাকা হেসে চাপা কন্ঠে দাতে দাত চেপে বলে,
” আমার লাভবার্ড আমাকে নিয়ে ভুল বুঝবে কেন? এর জন্য অবশ্যই ওকে এইবার স্পেশাল পানিশমেন্ট নিতে হবে। আর যারা যারা এর পেছনে আছে ওদের বুক চিরে হৃদপিণ্ড টা আমার লাভবার্ডের পায়ের তলায় না রাখতে পারলে আমার শান্তি হবে না।”

“কেমন আছো, ডার্লিং?” ডেভিড রহস্যময় হেসে আনায়ার উদ্দেশ্যে বলল। আনায়া চমকে ডেভিড এর দিকে তাকায়, ডেভিড এর চেহারা আগের চেহারার সাথে খুব কমই মিল আছে। হাতের ট্যাটু টা না দেখলে আনায়া হয়ত চিনতেও পারতো না যে এইটাই তার সেই ভাই।
আনায়াকে কোনো কথাই বলতে না দেখে ডেভিড ফিচেল হেসে বলে, “জানেমান এখন অন্তত এইটা বলো না যে তুমি আমাকে চিনতে পারছোনা।”
আনায়া কিছুক্ষণ থম মেরে তাকিয়ে থেকে কাপাকাপা কণ্ঠে বলে, “র…রাফায়েল ভাই!”
ডেভিড শব্দ করে হেসে বলে, “ইউ আর রিয়েলি ফা*কিং সো কিউট স্টিল নাও। যতটা দেখেছিলাম তার চেয়েও অধিকতর বেশি সুন্দর তুমি। এই সৌন্দর্য এখন আমার অধীনে বন্দি হলো।”
গাড়ি হঠাৎ গর্জন তুলে সামনে এগিয়ে গেল। কাঁচঘেরা ভেতরটা নিস্তব্ধ, শুধু ইঞ্জিনের ঘড়ঘড় আওয়াজ আর টায়ারের ঘর্ষণে কানে ঝাঁ ঝাঁ শব্দ উঠছে।
আনায়া জানলার পাশে ঠেস দিয়ে বসে আছে। তার শরীর নিস্তেজ, চোখ ভেজা। নীরবে গড়িয়ে পড়া অশ্রু গাল বেয়ে নেমে যাচ্ছে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে, বুক ভারী হয়ে আসছে।
ভাঙা কণ্ঠে সে ফিসফিস করে বলল,

“কেন এলেন আমার জীবনে আবার? আর কি নষ্ট করতে বাকি রেখেছেন?”
ডেভিড ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল তার দিকে। ঠোঁটের কোণে সেই ভয়ঙ্কর, খোলামেলা হাসি। তারপর হঠাৎ হো হো করে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। গাড়ির ভেতরটা যেন তার হাসিতে কেঁপে উঠল।
সে কণ্ঠ টেনে বলল, “ওহ ডার্লিং…!এখনো তো কিছুই শুরু করিনি আমি।”
আনায়ার বুকের ভেতর ঢিপ ঢিপ করতে লাগলো। সে জানে, এই মানুষটার প্রতিটি শব্দ বিষ।
ডেভিড সিগারেটটা ঠোঁটে চেপে ধরল, ধোঁয়া ছাড়ল ধীর গতিতে। তারপর আসনে হেলান দিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“তুমি জানোই না, তোমার জন্য আমি কতটা পাগল হয়েছি। কত দেশ ঘুরেছি, কত র*ক্ত ঝরিয়েছি তোমায় খুঁজতে। আমি এখন রাশিয়ার অন্যতম বড় গ্যাংস্টার, আর এই সাম্রাজ্যের রানি হবে শুধু তুমি।”
গাড়ি গতি বাড়িয়ে শোঁ শোঁ করে অন্ধকার রাস্তা কেটে এগোতে লাগল। আনায়ার চোখ বেয়ে আবারও টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। ভেতরে এক অদৃশ্য দমবন্ধ করা শীতলতা জমে উঠল যেন অন্ধকার ভবিষ্যৎ তাকে গিলে খেতে চাইছে।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৯

গাড়ির ভেতর ধোঁয়া আর অশ্রুর মিশ্র গন্ধ। ডেভিড ঠোঁটে সিগারেট চেপে ধরেছে, ঠাণ্ডা চোখে আনায়াকে দেখছে। গাড়ির ইঞ্জিন শোঁ শোঁ শব্দ তুলে অন্ধকার রাস্তা চিরে এগোচ্ছে।
হঠাৎ সামনের সিটে বসা ডেভিডের অ্যাসিস্ট্যান্ট পেছনে ঘুরে একটা ফোন এগিয়ে দিল।
“স্যার, আপনার সাথে কথা বলতে চাইছে।”
ডেভিড ভ্রু কুঁচকে ফোনটা কানে তুলল।
ওপাশ থেকে গভীর, হিমশীতল এক কণ্ঠ ভেসে এলো।
“আ’ম কামিং ভেরি সুন, ডেভিড মার্সার। আই কা’ন্ট ওয়েট টু প্লে উইথ ইওর হার্ট।”

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২১