Home অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬
রিদিতা চৌধুরী

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সৌহার্দ্য। এক হাতে ফোন, সে কারো সাথে নিবিষ্ট মনে কথা বলছে। কিন্তু তার অন্য হাতটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী—যার মুখে অনাবিল হাসি। মেয়েটির বয়স রিদির চেয়ে খুব বেশি হবে না বরং কম হবে, অসম্ভব মায়াবী আর সুন্দরী। দেখে বোঝার উপায় নেই তারা কী কথা বলছে, তবে সৌহার্দ্যের চোখেমুখে যে প্রশ্রয় আর নজর, তা দেখে রিদির মনে হলো মুহূর্তেই যেন তার চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে এল।
​ এত দিন আর যাই হোক অপরিচিত হলেও সে ছিল। আজ অন্য কাউকে তার স্বামীর পাশে এভাবে দেখে রিদির পৃথিবীটা যেন বিষিয়ে উঠল। বুকের ভেতরটা তীব্র অভিমানে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, সে নিজেকে শান্ত করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, দম বন্ধ হয়ে আসবে। রিদি আর এক মুহূর্ত ও সেখানে দাঁড়িয়ে রইল না; কোনোমতে নিজেকে সামলে দ্রুত পায়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
​এদিকে সৌহার্দ্যের ফোনের কথা শেষ হতেই মেয়েটি অভিমানী কণ্ঠে বলে উঠল, “কেমন আছো, ব্রো? লন্ডন থেকে ফিরে একবারও কি আমার খোঁজ নেওয়ার সময় হলো না?

” কথাগুলো বলেই সে গাল ফুলিয়ে জেদ ধরল। রিভা—সৌহার্দ্যের খালাতো বোন, যাকে সে নিজের রক্তের সম্পর্কের বোনের মতোই চোখে হারায় আগলে রাখে। তার দাদা নানা দুই বংশ মিলে একমাত্র মেয়ে বলে কথা!
সৌহার্দ্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিভার গাল টেনে দিয়ে আদুরে গলায় বলল, “লক্ষ্মী বোন আমার, আসলে খুব ব্যস্ত ছিলাম। প্রমিস করছি, এমনটা আর হবে না।”
​কথাটা বলেই সে রিভার এলোমেলো চুলগুলো আলতো হাতে ঠিক করে দিয়ে উপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে। তার নজর আটকে গেল ডাইনিং টেবিলের দিকে। সেখানে রিদি দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটা ধারালো ছুরি, সামনে ফলের ঝুড়ি। রিদির ভঙ্গিটা বেশ অদ্ভুত।
​সৌহার্দ্য ভ্রু কুঁচকে, কিছুটা ধমকের সুরে বলল, “ইউ দেড় ব্যাটারি! ওটা ওভাবে ধরছো কেন? হাত কেটে যাবে তো! রাখ ওটা।”
​কিন্তু রিদি যেন তার কথা শুনতেই পেল না। রাগে আর অভিমানে তার হাত কাঁপছিল, সেই কম্পমান হাতেই সে এলোপাতাড়ি ফল কাটতে শুরু করল। তার মনের ভেতর তখন আগ্নেয়গিরি বইছে। দাঁতে দাঁত চেপে সে বিড়বিড় করে উঠল, “হারামজাদা অসভ্য ডাক্তার! তোর বউ ছাড়া দুনিয়ার সবার খেয়াল রাখা লাগে, তাই না? জাহান্নামে তো তুই-ই যাবি, লুচ্চা বেডা মানুষ!”

​সৌহার্দ্য রিদির এই অবাধ্যতা দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত হলো। রাগটা কোনোমতে চেপে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াবে। ঠিক তখনই তার কানে এল একটা আর্তনাদ— “উফ!”
​সেই শব্দে সৌহার্দ্যের পায়ে গতি থমকে গেল। তড়িঘড়ি করে পেছনে ফিরতেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠল এক বিভীষিকাময় দৃশ্য: রিদির হাত ফসকে ছুরিটা পড়ে গেছে, আর তার আঙুল চিরে তাজা রক্ত তরতর করে গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে। দেখে বুঝা যাচ্ছে বেশ খানেকটা কেটে গেছে, সৌহার্দ্য রাগে বিরক্তিতে চোখ মুখ খিঁচে নিলো!
সৌহার্দ্য আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। এক পা এগিয়ে রিদির কাঁপা হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে নিয়ে। কাটা জায়গাটা চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে করে বলল,
“স্টুপিড! না ধরতে বলেছিলাম না ওটা? আমার কথা কানে যায় না তোমার?”
রাগে ওর চোখ-মুখ লাল। একরাশ বিরক্তি নিয়ে পেছনে ঘুরে রিভার দিকে তাকিয়ে বলল,

“হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ?ব্রিং দ্য ফার্স্ট এইড বক্স। নাউ।”
রিভা কিছুই বুঝছে না ঘোমটার আড়ালে রিদিকে চিনতেছে ও না। আসার পর থেকে রিদির সাথে দেখাই হয়নি। তবু ভাইয়ের গলার ঝাঁঝ শুনে আর দাঁড়াল না। ছুট লাগাল ফার্স্ট এইড বক্সের খোঁজে।
যাওয়ার মুখে সৌহার্দ্য ডেকে বলল, “আমার রুমে আছে।”
বলেই রিদির দিকে তাকাতেই রাগটা কেমন নিভে গেল। গলাটা অজান্তেই নরম হয়ে এল শান্ত কন্ঠে বলল,“খুব ব্যাথা লাগছে?”
রিদি উপরে নিচে মাথা নাড়ালো যার মানে “হ্যাঁ”
সৌহার্দ্য রিদিকে চেয়ারে বসিয়ে নিজে হাঁটু গেড়ে বসল সামনে। এক পলক তাকিয়েই আবার সেই পুরনো বিরক্তি ঝাঁজ নিয়ে বলল,
“দেড় হাতের একটা মেয়ে! তিন হাত ঘোমটা টেনে হাঁটলে তো কাটবেই। স্টুপিড একটা।”
কথাটা কানে লাগল রিদির। রাগে গা জ্বলে গেল। মুখে বলতে পারছে না, তাই মনে বিষ ঝাড়ল, “হয়েছে তো তোর জন্যই। অসভ্য ডাক্তার কোথাকার!”

ঠিক তখনই রিভা বক্স নিয়ে হাজির। সৌহার্দ্যের দিকে বাড়িয়ে দিল চুপচাপ।
সৌহার্দ্য একটাও কথা না বলে যত্ন করে কাটা জায়গাটা মুছে ব্যান্ডেজ করে দিল। কাজ শেষ করেই উঠে দাঁড়াল। কোন দিকে না তাকিয়ে চলে যেতে নিলে, পিছন থেকে ভেসে আসলো রিভার কৌতুহল পূর্ণ কন্ঠস্বর
রিভা পেছন থেকে ডেকে বলল, “ভাইয়া, মেয়েটা কে?”
সৌহার্দ্য থামল। ঘাড় ঘুরিয়ে রিদির দিকে তাকাল এক ফলক। রাগ আর বিরক্তি মিশিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “মিউট দেড় ব্যাটারি।” বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
এদিকে রিভা বোকার মতো তাকিয়ে আছে। কিছুই মাথায় ঢুকল না।
আর রিদি? ঘোমটাটা টেনে সরিয়ে দিল এক টানে। রাগে গাল-কান লাল করে কিড়মিড় করে বলল,
“অসভ্য, লুচ্চা ডাক্তার! আর একবার যদি সবার সামনে আমাকে দেড় ব্যাটারি বলিস, মুখ ভেঙে দেব একদম।”
রিদি ঘোমটা সরাতেই রিভা অবাক হয়ে দোঁড়ে এসে জাপটে ধরল। রিদি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি চুমু দিতে দিতে আবেগে গলে গিয়ে বলল,
“ওহ ভাবী তুমি কি কিউট!” তারপর একটু কৌতূহল নিয়ে চোখ বড় করে বলল, “এভাবে ঘোমটা পরে ছিলে কেন? আমি চিনতেই পারিনি!”

হঠাৎ কেউ ওভাবে জাপটে ধরাতেই রিদির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। হকচকিয়ে গিয়ে এক মুহূর্ত থমকে রইল, কোন রকম নিজেকে স্বাবাবিক করে, রিদি একটু অবাক হয়ে বলল, আমাকে চিনো তুমি?
রিভা ওভাবে জাপটে ধরে রেখে বলল, ইস চিনবো না কেন? আমার ব্রো একমাত্র বউ , আর মাম তো কত পিক পাঠিয়েছে, তোমার আমার মুখস্ত হয়ে গেছে!
রিদি রিভাকে না চিনলেও রিভা রিদিকে ঠিকই চিনে। কারণ শাহেদা চৌধুরী বোনের কাছে অসংখ্য ছবি পাঠিয়েছে, রিদি ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে আলতো হাতে রিভাকেও জড়িয়ে ধরল।
রিদি তখন রাগ আর অভিমান বুকের ভেতর পুষে রান্নাঘরে চলে গেলেও সেখানে মন টিকল না। ফল কাটার বাহানাটা ছিল নিছকই ছলনা। আসল উদ্দেশ্য ছিল একবার আড়াল থেকে দেখা — ওরা কী করছে!
রিদি প্রথমে না বুঝলেও পরে বুঝতে পারল, সে যেমন ভাবছে তেমন কিছু না। তখন মনটা একটু হালকা হলো ঠিকই। কিন্তু সৌহার্দ্যের উপর দিনের পর দিন জমে থাকা চাপা ক্ষোভটা কিছুতেই যাচ্ছিল না।
তার মধ্যে সৌহার্দ্য যখন ছুরিটা যত্ন করে রাখতে বলল, রিদির রাগটা দপ করে জ্বলে উঠল। এতদিন ছাত্রী প্রতি কেয়ার ছিল। এখন যাকে সে কাজের মেয়ে ভাবছে, তার প্রতিও এত কেয়ার দেখে ভেতরটা জ্বলে গেল। আর সেই জ্বলুনিটাই রাগ হয়ে ওর আচরণে বহিঃপ্রকাশ ঘটাল।
সে দিনের পর একটা মাস কেটে গেছে। আজ ঠিক এক মাস হলো সৌহার্দ্য দেশে নেই। সেদিন রাগ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, আর ফেরেনি।

রিদি সকালে উঠে জানতে পারে, সৌহার্দ্য নাকি কোনো জরুরি কাজে দেশের বাইরে চলে গেছে। কবে ফিরবে, কেউ জানে না।
রিভার মা রায়েদা শেখও গ্রামে চলে গেছেন। কিন্তু রিভাকে রিদি যেতে দেয়নি। মেয়েটাকে দেখলেই নিজের ছোট বোনটার কথা মনে পড়ে যায়। বুকের ভেতর ভীষণ মায়া লাগে। তাই রায়েদা শেখের কাছে কাকুতি-মিনতি করে রেখে দিল।
উনিও রিদির কথা ফেলতে পারেননি। রিদির আচার-ব্যবহারে উনি নিজেই ভালোবেসে ফেলেছেন মেয়েটাকে। সেদিন তো তিনি স্পষ্ট বলেই দিলেন, “আমার এখন থেকে দুই মেয়ে। যদি সৌহার্দ্য রিদিকে কষ্ট দেয়, তাহলে ওই অসভ্য ছেলের কাছে রিদিকে রাখব না। নিজের কাছে লন্ডনে নিয়ে যাব।”
সেদিন রিদি খুশিতে কেঁদে ফেলেছিল। বাবা-মার পর কেউ তাকে এত ভালোবাসা দিল। দুনিয়ায় এত ভালো মানুষ আছে — শাশুড়ি আর তার বোনকে না দেখলে বোঝাই যেত না।

আজ ভোর থেকেই চৌধুরী বাড়িটা কেমন যেন থমথমে আর সরগরম একসাথে। বিশাল আয়োজন চলছে উঠোনজুড়ে। আজ সারহান চৌধুরীর বাবা শাজাহান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছর এই দিনটায় সারহান চৌধুরী আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী—কাউকে বাদ রাখেন না। বিশাল আয়োজন করে খাওয়া দাওয়া ব্যবস্থা করে!
বাড়িতে সকাল থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচার ফুরসত নেই রিদি আর সাথীর। দুপুরের খাওয়ার আয়োজন বাহিরে হলেও, মেহমানের নাস্তা-পানির দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিয়েছে ওরাই দু’জন। চায়ের কাপ, প্লেট, পিরিচ—সব গোছাতে গোছাতে ঘেমে একাকার। আর কাজ না জানা রিভা, ভাবিদের পিছু পিছু ঘুরে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে।
নাস্তার ট্রে সাজাতে সাজাতে সাথী একবার রিদির ক্লান্ত মুখের দিকে তাকাল। চোখের নিচে কালি, মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে, ওর দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“তুই যা এবার। তৈরি হয়ে নে। দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, আর কেউ নাস্তা খাবে না। বাকিটা আমেনা খালা সামলে নেবে।”
রিদি মাথা নাড়িয়ে সায় দিল। ওড়না ঠিক করতে করতেই পা বাড়াবে, এমন সময় পেছন থেকে ভেসে এল তীক্ষ্ণ গলা।
রিমা চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়, ঠোঁটে বিদ্রূপের হাসি দিয়ে বলল,
“ও আর কী তৈরি হবে? যেমন আছে তেমনই ঠিক আছে। তৈরি হয়ে রং দেখাবে কাকে শুনি?”
কথাটা শেষ না হতেই আরেকটা গলা এসে ছুরির মতো বিঁধল।
রায়েদা শেখ। গ্রাম থেকে আজ সকালেই দাওয়াতে এসেছেন। রিমা চৌধুরীর দিকে না তাকিয়েই বললেন,
“ওর যেমন রং দেখানোর কেউ নেই, । তোমার তো কেউ নেই আপা। ভাইজান মাসে দুই দিনও থাকে না, তবুও তুমি পটের বিবি সেজে বসে থাকো!”

কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে। রিদির হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে গেলেন নিজের সাথে।
পেছনে দাঁড়িয়ে রিমা চৌধুরীর গা জ্বলে উঠল। মুখের ওপর কথা বলা এই মহিলাটাকে একদম সহ্য হয় না ওনার। রাগে নাকের পাটা ফুলে উঠল, কিন্তু পাল্টা কিছু বলার আগেই রায়েদা শেখ রিদিকে নিয়ে চলে গেছে !
রায়েদা শেখ রিদির হাত ধরে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন। আলমারির শাড়িগুলো একটু একটু করে দেখে শেষে তুলে নিলেন হালকা কলাপাতা রঙের একটা শাড়ি। নিজের হাতে যত্ন করে পরিয়ে দিলেন, আঁচলটা কাঁধে ঠিক করে কপালে একটা আদরের চুমু দিলেন।
“মাশাল্লাহ, আমার মেয়েটাকে কী সুন্দর লাগছে। আল্লাহ কারো নজর থেকে বাঁচাক।”
রিভা পাশ থেকে ফিক করে হেসে বলল, “মা, কারো নজর না লাগলেও তোমার ছেলের নজর ঠিকই লাগবে। ভাবিকে তো একদম পরীর মতো লাগছে।”

কথাটা শুনে রিদি লজ্জায় চোখ নামাল। বুকের ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠল। মনে মনে বলল,
আমার সেই কপাল নেই, বেয়াদব লোকের নজর সব সময় বাহিরে থাকে! মনের কথা গুলো মনে চেপে আবার ছুটলো ডাইনিং এর উদ্দেশ্যে নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজন যারা তারা বাড়ির ভিতরে খাবে কার কি লাগে দেখতে হবে!
সবার খাওয়া শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে গেল। আত্মীয়-স্বজন যে যার মতো চলে গেল। বাড়িটা আবার নিস্তব্ধ। শুধু রিমা বেগমের বাড়ির লোক আর রায়েদা শেখ রয়ে গেলেন। আজ রাতটা বোধহয় এখানেই কাটবে ওনাদের।
সন্ধ্যা নামতেই ড্রয়িংরুমটা জমে উঠেছে। ছোট-বড় সবার হাসি-গল্পে ঘর সরগরম। সাথী রিদি ট্রেতে চা-নাস্তা নিয়ে একে একে সবার সামনে রাখছে, মুখে হাসি কিন্তু চোখে ক্লান্তি লুকানো।
রিমা চৌধুরীর বোন সোহানা বেগমের সামনে এসে কাপটা বাড়িয়ে দিতেই উনি মুখ বাঁকিয়ে ঝাঁঝের সাথে বলে উঠলেন,

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৫

“আমি চা খাই না। আমার জন্য কফি নিয়ে এসো।”
রিদির বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। রাগে গাল-কান গরম হয়ে যাচ্ছে, তবু দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রইল। কিছু না বলে পেছন ঘুরে চলে যেতে পা বাড়াল।
পেছন থেকে তখন সোহানা বেগমের বিদ্রূপের টিপ্পনী কেটে বলল,
“এমন বউ সেজে ঘুরে বেড়িয়ে লাভ কী বাপু? সৌহার্দ্য তো ফিরে…”
কথাটা শেষ আগে ভেসে এলো এক গম্ভীর, দৃঢ় পুরুষালি কণ্ঠস্বর। প্রতিটা শব্দ যেন বরফের মতো ধারালো—
“নো ওয়ান হ্যাজ দ্য রাইট টু টক অ্যাবাউট সৌহার্দ্য চৌধুরীর ওয়াইফ আনলেস হি অ্যালাউস ইট।”

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here