Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৯

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৯

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৯
Maha Aarat

সন্ধ্যেয় নামাজ আর তিলাওয়াত শেষেই পড়তে বসে আইরা।এটা তাঁর রুটিন নয় বরং তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া রুটিন।পড়তে বসে ম্যাথ করতে গিয়ে মেমোরি টা উল্টাপাল্টা কাজ করছিলো।পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেই এমন।বাসায় আসার পর থেকে সন্ধ্যা অবধি বেলকনির সোফায় বসেছিলো।অথচ অন্যদিন এমন সময় ঘুমাতো সে।ভাবিপুর সাথেও তেমন কথা সাক্ষাৎ হচ্ছে না তাঁর।আইরার মনে হলো,তিনি হয়তো কিছুদিন একা থাকতে স্বাচ্ছন্যবোধ করছেন।
কলমটা হাতের আঙ্গুলে ঘুরাতে ঘুরাতে রকিং চেয়ারে মাথা এলিয়ে দেয় আইরা।এরইমধ্যে আম্মুর কল আসলো।রিসিভ করলো না সে।তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আজকের ইন্সিডেন্ট।হুম, সেখানে যাওয়া ইন্সিডেন্টই ছিলো তাঁর জন্য।

ফ্ল্যাশব্যাক_____
‘বাকিটা পরে শুনবো।আমার প্রচন্ড খিদে লেগেছে।’
পেটে হাত বুলাতে বুলাতে মুখ শুকনো করে বলল আইরা।মাহের তাঁর দিকে একপলক কড়া নজরে তাকাতেও গিয়েও নিজেকে সামলে নিয়ে রিসিপশনে ফোন করে খাবারের অর্ডার দিলেন।
দূজনে চুপচাপ বসে আছে।আইরা অপেক্ষা করছে খাবার কখন আসবে।আর মাহের অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকে দেখছেন।উনি আশ্চর্য হচ্ছেন নিজের আচরণে।তার দিকে তাকাতে গিয়ে গা গুলিয়ে আসা প্রচন্ড রাগ যেনো নিমিষে মিশে যাচ্ছে উনার।অথচ তাঁর দূ:সাহস অনেক বড় ধরনের।
অবশেষে খাবার আসলো।কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো অবস্থায়ই হাত ধুয়ে খাবার খেতে শুরু করলো সে।মাহের নিজের আসন ছেড়ে তাঁর কাছে এসে ব্যাগ খুলে রাখলেন।অতপর অমির সাথে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলাপও সেরে নিলেন।
কিছুক্ষণ পর ফোন শেষে ফিরে এসে মুখোমুখি বসলেন মাহের।তাঁর খাওয়ার গতি কমেছে।বোতলের ছিপিটা খুলে দিতে গিয়ে শক্তকন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘একা কোন সাহসে এসেছো?এতোটা স্বাধীনতা তোমাকে দেইনি আমি।আমাকে একটাবার ফোন করারও প্রয়োজন মনে করলে না?’
আইরার হাত থেমে যায়।দিনশেষে এই মানুষটা তাঁর কঠিন রুপ দেখাবেই।কিন্তু ভুলটা কি বেশ বড় করে ফেলেছে সে?

‘আশা করছি তুমি কিছুদিন আগের অতীত ভুলে যাওনি কীভাবে বিয়েটা হয়েছে।আমি কতটুকু অমতে গিয়েও মত দিয়েছি।এখন তোমার ভালো থাকা,নিরাপত্তা সব দায়িত্ব আমার।আমি সারাদিন কাজ শেষে নিশ্চয়ই এক্সট্রা এনার্জি পাই না তোমাকে কেয়ার করার।কিন্তু তোমার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার সুযোগে কার্পন্য করিনি।অপারেশন থিয়েটারে ডুকার আগ পর্যন্ত আমি ফোন চেক করছিলাম তুমি বাসায় পৌঁছে জানাচ্ছো কি না।আর তুমি!’
আইরা নিশ্চুপে বসে থাকে।সে তাঁর ভুলটা বুঝতে পেরেছে, মেনেও নিচ্ছে কিন্তু উনার শেষের কথাগুলো যেনো কথা ছিলো না,হৃদয়ে ছোঁড়া বারুদ ছিলো!আইরা সিদ্ধান্ত নিলো,সে ততটুকু বদলে যাবে, যতটুকু বদলালে আর কখনো ইমম্যাচিয়্যুর ট্যাগ তাঁর নামের পাশে জুটবে না।
‘সরি।আর কোনোদিন এমন ভুল হবে না।’
মাথা নিচু করে উত্তর দেয় সে।অর্ধেক প্লেট রেখে উঠে গিয়ে হাত ধুয়ে আস্তে আস্তে ব্যাগ কাঁধে জড়ায়।মাহেরের দিকে সে তাকাচ্ছে না।কিন্তু তাঁর মনে পড়ছে গতদিন সকালে বলা উনার কথাগুলো!
‘গাড়িতে তুলে দিন,বাসায় চলে যাবো।’
মাহেরের দিকে সে তাকাচ্ছেই না এজন্য কথাগুলো আদতে উনি আমলে নিচ্ছেন কি না বুঝতে পারছে না সে।পেটে এখনো খিদে।কথার স্বাদেই মন তৃপ্ত।পেটের খিদে দিয়ে কি হবে?

‘ব্যাগ রেখে বসো!’
মাহের বেশ আদেশের সুরে কথাটি বললেন।আইরা আদেশ পালন করলো।
‘খাবার সম্পূর্ণ করো।’
‘খাবো না।’
তাঁর একরোখা উত্তরে অসন্তুষ্ট মাহের।তিনি উঠে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আসলেন।টেবিলে থাকা অর্ধেক খাওয়া প্লেটটা হাতে নিয়ে ভাত মেখে তাঁর মুখের সামনে ধরলেন।কিন্তু সে যেনো সর্বোশক্তি দিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে রেখেছে।
‘হা করো।’ বলতেই মুখ খুলে।উনার ধমক খেয়ে চোখ অশ্রুতে টলমল করতে থাকে।একফোঁটা পড়েও যায়।তিনি কনিষ্টা আঙ্গুলের সাহায্যে মুছে দিলেন অশ্রুফোঁটা।অতপর পুনরায় মনোযোগী হলেন খাইয়ে দিতে।মাহেরের আদেশে তড়িঘড়ি খাবার গিলে চলছে সে।কখনো না চিবিয়ে পানি দিয়েও।
এরপরও মাঝে মাঝে চোখের জলও দূ এক ফোঁটা খসে পড়ছে।তাঁর বেসামাল কান্না দেখে কিছুটা টেনে টেনে বললেন, ‘আবারও!’

খাবার শেষ করে এক কোণায় গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে।আদেশমতো খাবার তো গিলেছে।এখন বাসায় যাবে।গেলেই কান্নার ধকল কিছুটা আয়ত্তে আসবে তাঁর।
‘এসেছো যখন এখানে থাকবে আজ।সন্ধ্যার নামাজের কর একসাথে যাবো।’
আইরা মাথা নাড়ায়।মানে, না সে বাসায় যাবে।মাহের এক্সট্রা কোনো শব্দ ব্যয় না করে অমিকে ফোন করে তাকে পৌঁছে দিতে বললেন।
ফেরার আগে এগিয়ে এসে কেবল বললেন, ‘বাসায় গিয়ে কেঁদো না।আমি তোমার ভালোর জন্য বলেছি।সাবধানে যাবে,কোনো সমস্যা হলে জানাবে।বাসায় গিয়ে টেক্সট দিবে।’
আইরা এরই অপেক্ষায় ছিলো।মাথা নত রেখেই সম্মতি দিয়ে সালাম জানিয়ে ফিরে যেতে গিয়ে শুনলো, ‘এতো জেদী মেয়ে তুমি?তাকালে না একবারও! ‘
আইরা তাকালোই না।বিদ্রুপাত্নক হেসে অমির পিছুপিছু বেরিয়ে পড়লো।যে অনুভূতিই অনুমান করতে পারে না,অভিমান যার চোখে জেদ,সে চোখে ভালোবাসার অস্তিত্ব কি আদৌ আছে?

আজকে আরহামের বেশ দেরী হলো বাসায় ফিরতে।শৈত্যপ্রবাহ বেড়েছে অনেক।গাড়ি চালাতে হয়েছে খুব সতর্কতার সাথে।পথঘাট অন্ধকার সাথে ধোঁয়া কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশ।ট্রাভেলস থেকে ফিরতে হলো উনাকে।খুব শীঘ্রই অপ্রস্তুত একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।বিমর্ষ মনে বাসায় ফিরতেই দেখলেন আব্বু আম্মু হাজির।আরহাম সালাম বিনিময় শেষে রুমের দিকে এগোতে গেলে আহনাফ তাজওয়ার আটকান।
কোনোরুপ এক্সট্রা কথাবার্তা ছাড়াই সরাসরি বললেন , ‘হাফসাকে নিয়ে আসো।এখনি যাও।’
আরহাম অবাক হলেন।উনার মনে উঁকি মারলো ভয়,তীব্র ভয়।কোনো দূর্ঘটনা হয়ে যায়নি তো?ফিরতি প্রশ্ন করলেন আরহাম, ‘আব্বু উনি ঠিক আছেন?’
আম্মু উত্তর দিলেন , ‘কি করে বুঝবো।আমাদের সাথে তো যোগাযোগ নেই।’
আরহামের বুকে চেপে বসা পাথর যেনো নিমেষে সরে পড়লো।গোপনে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে বললেন, ‘উনি ঠিক আছেন।টেনশন করবেন না।’
‘হাফসা যাওয়ার পর একবারও দেখা করেছো গিয়ে?’
‘জ্বি না।’

আম্মু বেশ ক্রোধ নিয়ে বললেন, ‘এতোটা দায়িত্বহীন তুমি কীভাবে হয়ে গেলে আরহাম?সিদ্ধান্ত তো তোমার নিজের নেওয়া।তাহলে অবহেলা করছো কেন?’
‘কোথায় অবহেলা করছি আম্মু?’
‘তাহলে তো একটা দিন অন্তত যেতে।সেও চলে গিয়েছে আর তুমিও কোনো খোঁজ নিচ্ছো না।এ বাড়ির বউ সে।আসার প্রয়োজন নেই বাসায়?’
আরহাম যেনো পাল্টা উত্তর দিতে পারছেন না।বুঝাতে পারছেন না যোগাযোগ উমায়ের নিজেই বন্ধ করে রেখেছেন।একপ্রকার অসহিষ্ণু হয়ে বললেন , ‘উনার যেদিন আসতে মন চাইবে আসবেন।আপনারা বেশী মিস করলে দেখে আসুন গিয়ে।আমি কি করবো?’
‘আরহাম!’
বেশ জোরে বললেন আব্বু।আব্বুর চোখে রাগ দেখে আরহাম নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।মাথা নত করে বিনয়ের সুরে বললেন , ‘ক্ষমা করবেন।আফওয়ান।’
আম্মু নিরুত্তর প্রস্থান করলেন।আহনাফ তাজওয়ার বললেন , ‘নিয়ে এসো তাকে।’
‘এখনি যাবো?’
আহনাফ তাজওয়ার হাতঘড়িতে তাকালেন।কিছুক্ষন পর জবাব দিলেন, ‘রাত বেড়েছে।কালকে সকাল গিয়ে নিয়ে আসবে।নাস্তার টেবিলে যেনো উপস্থিত থাকে সে।’

ঘুম থেকে উঠেই আজ সবকিছু গোছগাছ করে নিলো হাফসা।খুশিতে তাঁর অদ্ভুত রকমের অনুভূতি হচ্ছে।কতোদিন পর উনার সাথে দেখা!কতোদিন পর পরিচিত মুখগুলোর সাথে আলাপ হবে ভেবেই খুশিতে লাফাচ্ছে সে।
ঘড়িতে সকাল সাড়ে আটটা।এরই মধ্যে মাহের রুমে নক করে বললেন, ‘আরহাম এসেছে।’
হাফসার কক্ষে এসেই দরজায় নক দিলেন তবে অপেক্ষা না করেই দ্রুত ভেতরে আসলেন।হাফসা উল্টো ঘুরে দাড়িয়েছিলো।আরহামের দিকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে বুকটা ধ্বক করে উঠলো তাঁর।কতদিন পর কাঙ্ক্ষিত মানুষটা!
আরহামের দৃষ্টি যেনো বাঁধা মানছে না।আরহাম পলকহীন তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।কতোদিন পর সাক্ষাৎ আজ।জমে থাকা সব রাগ অভিমান অভিযোগের সমাপ্তি ঘটেছে নিশ্চয়ই!
হাফসার মাথা নিচু।জড়তা ভেঙে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেমন আছেন?’
আরহামের কোমল দৃষ্টি মিইয়ে গেলো।দৃষ্টি সরিয়ে চোখমুখ গম্ভীর করে উত্তর দিলেন, ‘,আলহামদুলিল্লাহ ভালো।বেশ সুন্দর সময় কেটেছে।’
সত্যিই কি সুন্দর সময় কাটিয়েছেন তিনি?অথচ প্রতি দিবস যে তাঁর বীভৎস কেটেছে!
জড়তা কাটাতে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, ‘আ্ আপু ভালো আছেন?’

‘আলহামদুলিল্লাহ।’
‘আম্মু আব্বু সবাই?’
‘সবাই ভালো আলহামদুলিল্লাহ।’
অতপর কিছুসময় নীরবতা।উনি কি কোনো কথাই বলবেন না?এতোদিন পর দেখা অথচ উনার মধ্যে কোনো উৎসাহ নেই।কথা বলার আগ্রহ নেই।
‘সুন্দর লাগছে!’
হঠাৎ উনার কন্ঠে চমৎকৃত হলো হাফসা।খানিকটা লজ্জ্বায় মাথা আরও নত করতেই শুনলো, ‘ দারুন সুন্দর লাগছে তো।কোথা থেকে নিয়েছেন ফ্রেমগুলো?’
হাফসার বুকটস ধুরুধুরু কেঁপে উঠলো।উনি তাকে নয়,ফ্রেমগুলো সুন্দর বলছিলেন।
‘আমার সময় নেই।আপনি কি বাসায় যেতে চান না আরও কিছুদিন থাকবেন?থাকতে চাইলে থাকুন…
‘য্ যাবো।’

‘ওহ।আচ্ছা গুছিয়ে নিন।আমি অপেক্ষা করছি।’
বলেই আর দাঁড়ালেন না আরহাম।আরহাম চলে যেতেই কয়েক ফোঁটা শীতল অশ্রু মেঝে ছুঁলো।কোথায় সে ভেবেছিলো দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম সাক্ষাৎ টা ভালোবাসার হবে।অথচ উনার ব্যবহারে উনি আঙ্গুল তুলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন উনি বেশ ভালো ছিলেন।তাকে ছাড়াও চলে উনার।
যাবার সময় আরহাম তাকে পেছনের সিটে বসিয়ে ড্রাইভিং সিটে এসে বসলেন।খুব আড়ালে ফ্রন্ট মিররে চেয়ে দেখলেন ,মাথা নিচু করে বসে আছেন উমায়ের।আরহাম চোখ সরিয়ে তীক্ষ্ণ হাসলেন।অ্যারাবিক নাত ব্লুটুথে কানেক্ট করে মনোযোগ দিলেন পথচালনায়।

ভাবি’পু চলে যাওয়ায় বেশ মন খারাপ লাগছিলো তাঁর।এতোদিন না হয় কথা বলার একটা মানুষ ছিলো।একাকীত্ব কিছুসময় ছুটি নিয়েছিলো তবে আবারও নির্বাসন কাটল তাঁর।
রাতে খাবার টেবিলে আইরাকে মনমরা নোটিশ করছিলেন মাহের।এটাও নোটিশ করেছেন মেয়েটা আজ একটা কথা অব্দিও বলেনি আসার পর থেকে।দিনের ঘটনার জন্য কেমন জানি অপরাধবোধ অনুভূত হচ্ছিলো মাহেরের।ভেবে নিলেন একবার সরি বলে নিবেন।

সারাদিন বাহিরে ছিলেন আরহাম।এমনকি বেশ রাত করেও ফিরেছেন।শীতের মাত্রাটুকু এ কয়দিন একটু বেশীই।বাসায় যখন ফিরলেন হাফসা তখন ড্রয়িং এ।আম্মুর সাথে আলাপ করতে করতে ভেলপুরী গুলো রেডি করে নিচ্ছিলো সে।দেখলো তিনি ফ্রেশ হয়ে এসে মাইমুনার রুমে যাচ্ছেন।সূক্ষ্ম এক ব্যথা হাফসাকে গ্রাস করে নিলো।তাকে চোখে দেখেও আরহাম এড়িয়ে গিয়েছেন এটাও তাঁর নোটিশনামার বাইরে নয়।
আম্মু ভেলপুরির ট্রে সহ তাকেও ভেতরে যেতে বললেন।হাফসার খুব গিলটিফিল হচ্ছিলো কি করে যাবে সে।রুমের দরজা ভিড়িয়ে রাখা,ভেতরে পর্দা।চোখমুখ খিঁচে নক করলো সে।ভেতর থেকে আওয়াজ আসলো ‘আসতে পারেন।’
মুখোমুখি বসা দূজনে।হাফসা নিচুমুখে ট্রে টা সেন্টার টেবিলে রেখে চলে আসতে নিলে মাইমুনা তাকে জোর করে বসালেন।অথচ উনি একেবারেই নিশ্চিুপ।
মাইমুনা ভেলপুরি মুখে নিয়ে চমৎকার কন্ঠে বললেন, ‘দারুন হয়েছে।তুমি বানিয়েছো?’
হাফসা সম্মতি দিতেই আরহামের দিকে ট্রে এগিয়ে মাইমুনা বললেন , ‘টেস্ট করুন শাহ।চমৎকার হয়েছে।’
‘সরি, আমি ডিনার করবো।আমার এ্যাসিডিটি সমস্যা।’
হাফসা মন:ক্ষুন্ন হলো।আরহাম ফোনে ব্যস্ত অবস্থায় উঠতে উঠতে বললেন, ‘আপনারা গল্প করুন।আসছি।’
হাফসা মাথা তুললো না।ফিরে আসার সময় আরহাম আড়চোখে একপলক তাকালেন।উমায়ের এর ব্যথাভরা মুখশ্রী উনাকে হার্ট করছে কিন্তু মনের কথায় কান দিলেন না।চুপচাপ উঠে গিয়ে কিচেনে ভেলপুরির খোঁজ করলেন।স্বাদ তো পরে,চমৎকার সুঘ্রাণে খিদে উপচে পড়ছে উনার।

‘আমি স্টাডিরুমে ঘুমাবো।’
হাতে চার্জার নিয়ে ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে কথাটা বলতেই মাহেরের কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ে।কেন’ জিজ্ঞেস করার আগেই সে রিজন দেখিয়ে বলল, ‘কিছুদিন পর তো পরিক্ষা।আজ থেকে শেষরাতে উঠে পড়তে বসবো।’
‘এখানে ঘুমালে কি সমস্যা?’
‘এলার্ম থাকবে আমার।আপনি ডিস্টার্ব হবেন।আপনি সারাদিন পরিশ্রম করেন,রাতের ঘুমটুকু আরামের হোক।’
সে এতো ম্যাচিয়ুর হলো কবে থেকে?তাঁর এ সিদ্ধান্ত মাহেরের একটুও পছন্দ হলো না।অথচ জোর দিয়ে বলারও কিছু পাচ্ছেন না।জিজ্ঞেস করলেন, ‘একা ভয় পাবে না?’
‘খালা ঘুমাবেন তো।সমস্যা নেই।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৮

মাহের তবুও বললেন, ‘এখানে ঘুমাও।এলার্ম বাজলে তো উঠে অফ করে দিবে।সমস্যা হবে না।’
‘তাও আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটুক আমি চাচ্ছি না।আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন।’
কথাগুলো একদমে বলে নিজের আসন থেকে নরম তুলতুলে বালিশ নিয়ে সে প্রস্থান করলো।মাহের চুপচাপ বসে রইলেন।আশ্চর্য্য!সে আলাদা ঘুমাতেই পারে।এখানে হা হুতাশ করার তো কিছু নেই।তবুও রাগ লাগছে মাহেরের।প্রচন্ড রাগ আর বিরক্তি ঠান্ডা মাথায় যেনো দাবানল ধরিয়ে দিলো!

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here