Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫০

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫০

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫০
Maha Aarat

ডিনার শেষে আম্মুর সাথে কিছুক্ষণ আলাপ শেষে রুমে ফিরলো হাফসা।উনি হয়তো নিজের রুমে ঘুমাবেন বা আপুর সাথে।টেবিল ল্যাম্প নিভিয়ে কমফোর্টার জড়িয়ে শুয়ে পড়লো হাফসা।তার মাথায় ঘুরছে সারাদিনের স্মৃতি।উনার ব্যতিক্রম আচরন গুলো স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে অবহেলা গুলো বড্ড কঠোর।অদ্ভুত এক কষ্ট লুটোপুটি খাচ্ছে বুকের ভেতর।কান্নাগুলো গলা পর্যন্তই তালা দেওয়া।অশ্রু গুলো চেয়েও চোখের কোণে জায়গা করে নিতে পারছে না কারন সে প্রানপনে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।এতোটা দূর্বল হয়ে যাবে না সে।কিছুক্ষণের মধ্যে দরজায় ফ্যাচফ্যাচ আওয়াজ।হাফসার অভিমানী মন পুলকিত হয় আরহাম তার সাথে থাকবেন ভেবে।অথচ ঠিক পাশেই তিনি চুপচাপ শুয়ে পড়লেন।অন্যদিনের মতো কপালে একটা চুমুও আঁকলেন না ভেবে কান্নার উথাল ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো সে।

ঘন্টাখানেক পর,
আরহাম হাত বাড়িয়ে তাঁর গালে হাত রাখতেই ভেজা অনুভূত হলো।সঙ্গে সঙ্গেই উমায়ের এর মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘উমায়ের!কি হয়েছে?’
হাফসা উঠে বসলো।নীরব কান্না ছাড়িয়ে এবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।আরহাম বারকয়েক জিজ্ঞেস করলেন।
‘কেন কাঁদছেন?কি হয়েছে?কিছু বলেছে কেউ?শরীর অসুস্থ লাগছে?’
হাফসা মাথা নাড়ায়।এসব কিছুই তাঁর নয়।বরং একসময় হেঁচকি তুলতে তুলতে বললো, ‘আমার কিছু ভালো লাগছে না।’
আরহাম বুঝে গেলেন।এই যে সে এ মুহুর্ত যে কষ্ট টা পাচ্ছে গোটা চৌদ্দদিন আরহাম তাঁর থেকেও বেশী কষ্ট পেয়েছেন।তবে পুরুষ বলেই তো কাঁদা বারণ।
আরহাম আলতো হাতে তাঁর চোখমুখ মুছে দিয়ে ঘুমোতে দিয়ে বললেন, ‘ঘুমান।ঠিক হয়ে যাবে।আমি তো আছি পাশে।’

বেশ কিছুক্ষণ পর হাফসার কান্না থামলো।আরহাম কমফোর্টার জড়িয়ে দিলেন তাকে।অথচ বুকে জড়ালেন না।বেশ খানিক দূরত্ব রেখে নিজেও অন্যপাশ হয়ে শুয়ে পড়লেন। ঘুমের অস্তিত্বের ছিঁটেফোঁটাও নেই উনার চোখে।ভেতরে গুমরে উঠা এক চাপা যন্ত্রণা বলছে, উমায়ের একটু বদলান।যে যন্ত্রণার কারণে বিগত রাতগুলো নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে আপনি উপশম হয়ে মুছে দিন সেগুলো।ভালোবাসি, ভালোবাসি বলে মরিয়া হওয়া আমি, এবার একটু থামি।আমাকে খুশী করার জন্য ভালো না বাসলেও একটা বার বলুন ভালোবাসি।নিজ থেকে একবার অনুভূতি প্রকাশ করুন।আমি ক্লান্ত আপনার মৌণতা দেখতে দেখতে!

দূটো দিন পেরিয়েছে।বই হাতে বেলকনিতে বিমর্ষ মুখে বসে আছে আইরা।তাঁর এবারের প্ল্যান টাও ভেস্তে গেলো।কয়দিন ধরে সে আলাদা থাকছে।কিন্তু এতে উনার মধ্যে কোনো হেলদোল নেই।ইচ্ছেমতো ঘুমাচ্ছেন,উঠছেন,নিজ রুটিনে অনড়।এমনকি তাকে তৃতীয়বারের মতোও অনুনয় করেননি।কিন্তু প্রথমে বলার সময় উনার চেহারা পাংসুটে দেখাচ্ছিল কেন।
ঘড়িতে সকাল সাড়ে ন’টা।আজকে অফ ডে।কেমিস্ট্রি বইটা শব্দ করে বন্ধ করে সেন্টার টেবিলে রেখে সোফায় হেলান দিতে যাবে এমন সময় বেলকনির স্লাইড ডোরে ঠকঠক শব্দ হয়।
আইরা ঝটপট উঠে বসলে তিনি দূরে দাঁড়িয়েই বললেন, ‘আজকে শিওর শনিবার?’
‘কাল জুমু’আ পড়েছেন ভুলে গেছেন?’
মাহেরের চোখমুখ থেকে ঘুমের রেশ এখনো যায়নি।ঘুম ঘুম চোখ,মসৃণ ত্বক,স্নিগ্ধ চেহারা,কিনার সেভ করা গোঁফ খোঁচা দাঁড়ি চমৎকার লাগছিলো দেখতে।
মাহের হাই তুলতে তুলতে বললেন, ‘আজকে বাসায় খাবো না।’
আইরার সোজাসাপটা উত্তর, ‘আচ্ছা।’

‘আজকে এক জায়গায় যাবো।’
‘আচ্ছা।’
‘তুমি কি করবে?’
‘বাসায় থাকবো।’
‘নাহ,আমার সাথে যাবে।’
‘আচ্ছা।’
উনি চলে যেতেই আইরা চটপট উঠে বসে।কেবিনেট খুলে চোখ বুলাতে থাকে কোন পোষাক টা সেরা সুন্দর।কিন্তু আহত সে।সব আবায়াই একই রকম।আজকের জন্য হলেও স্পেশাল কিছু চাই তাঁর।

নাস্তার টেবিলে আসতে একটু দেরী হলো হাফসার।সে যতক্ষণে এসেছে সবার হাত চলছে আরহাম ব্যতীত।উনি ফোনে ব্যস্ত থাকা একটা অজুহাত মাত্র কিন্তু আলাপ চলছেই।হাফসাকে দেখে একটু নড়েচড়ে খাবারে মনোযোগী হতেই আব্বু জিজ্ঞেস করলেন,
‘তাহলে কবে যাচ্ছো তুমি?’
‘খুব সুন আব্বু।’
‘টিকেট কবে করছো?’
‘এ সপ্তাহেই।’
হাফসা চুপেচাপে খেয়ে যাচ্ছে।তাদের আলোচনার কোনোকিছুই তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না।আম্মু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখন না গেলে হচ্ছে না?একবার ড্রপ করো।’
আরহাম হালকা হেসে বললেন, ‘আম্মু আমার এইজ বাড়ছে।সামনের বার সুযোগ আসবে না।’
আম্মুর মন ভার হলো।মাইমুনার হাত ধীরে চলছে।আব্বু কিছুক্ষণ পরপর কফিতে চুমুক দিচ্ছেন।সব মিলিয়ে একটা বিরূপ পরিবেশ।তাকে একবার কেউ বলছে না কেন?হাফসার বুক টিপটিপ করছে।খাবারগুলো যেনো আটকে যাচ্ছে গলায়।

আরহাম রুমে আসলেন কিছুক্ষণ পর।হাফসা জিজ্ঞাসাদৃষ্টিতে তাকায়।মুখে প্রশ্ন করার সাহসটুকু যেনো লোপ পেয়েছে তাঁর।আরহাম তাঁর অস্বস্তিকর ফেইস বুঝে নিলেন হয়তো।রেডি হতে হতে বললেন, ‘মিশর যাচ্ছি।এ বছরের শেষের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও হুট করে সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।আমার লাস্ট ডিগ্রীটার জন্য যেতেই হবে।হুট করে জানা হয়েছে,আপনাকে বলার সুযোগ হয়নি।’
কতো সহজ আচরণ উনার।অথচ হাফসার বুকের ভেতর ভূকম্পন বয়ে যাচ্ছে।মাত্রই তো দীর্ঘ দূরত্বের অবসান হলো এখন আবারও ফেরার তাড়া?
আরহাম রেডি।টেবিল থেকে উনার ঘড়ি ফোন আর ওয়ালেট হাতে নিয়ে হাফসার কাছে আসলেন।চাপা যন্ত্রণা লুকিয়ে নিলেন হালকা হাসি দিয়ে।মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি ফিরবো ইন শা আল্লাহ।মাইমুনা বলেছেন উনি বাসায় চলে যাবেন।আপনি চাইলে যেতে পারেন।এখানে একা লাগবে।পুরোটাই আপনার ইচ্ছা।ওকে?টেক কেয়ার।’
আরহাম চলে গেলেন।হাফসার নিশ্চল দৃষ্টি ঠায় তাকিয়ে রইলো।মাথা আর কপালের দূরত্ব কি খুব বেশীই উনার কাছে?নিজেকে তাচ্ছিল্য করে সে।এই পীড়াদায়ক যন্ত্রণা সৃষ্টির জন্য সে নিজেই দায়ী।

আইরা বেশ পরিপাটি হয়ে প্রস্তুত হলো।এই প্রথম নিরামিষ লোকটা তাকে নিয়ে বাইরে বেরোবে এটা তাঁর জন্য অবশ্যই সুখকর কিছু।কিন্তু এতো ফর্মাল লুকে মাহেরকে দেখে একটু দ্বিধায় পড়লো সে।তবুও চুপচাপ গাড়িতে বসলে মাহের ফ্রন্ট মিররে কেবল একবার তাকালেন।আইরা বুঝতে পারলো না উনার সূঁচালো দৃষ্টির মমার্থ।সারাক্ষণ চোখে চশমা থাকে,চকচক করতে থাকে গ্লাস।এর মধ্যে দৃষ্টি বোঝা দায়।
ঘন্টা খানেকের রাস্তা।জ্যামের কারনে গাড়ির গতি ধীর।কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এসে মাহের গাড়ি পার্ক করলেন।সিটের দরজা খুলে চুটকি বাজিয়ে ডাকতেই সে ঘুম ছেড়ে উঠলো।
বড়সড় একটা প্রতিষ্ঠান।চারিপাশের সব দেয়ালে শুধু ওষুধের ছবি আঁকানো।ঘুম ঘুম চোখে চারিপাশে চোখ বুলিয়ে এতটুক বুঝতে পারলো এটা কোনো বিশেষ জায়গা নয়,না কোনো ক্যাফে,না কোনো টুরিস্ট স্পট।
মাহের খুব দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছেন।উনাকে দেখে মনে হচ্ছে না উনার পিছনে একজন আছে যার খেয়াল রাখার দায়িত্ব উনারই।

‘স্যার স্যার একটু দাঁড়ান!’
চারিপাশে চোখ বুলাতে গিয়ে মাহেরের থেকে বেশ পিছু পড়ে গিয়েছিলো সে।ডাক শুনে মাহের পিছু ফিরলেন।তাকে এমন হাঁপাতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি হয়েছে?’
‘এটা কি?এটা কোন জায়গা?এমন কেন?’
‘মেডিসিন হল।’
আইরা চমকায়।ভীষণভাবে চমকায়।
‘আবার বলুন!’
‘মেডিসিনের ফ্যাক্টরি এটা।’
‘আপনি এখানে কেন এসেছেন?’
‘প্রয়োজনে আসছি।’
‘আমি কেন এসছি?’
‘তুমি বাসায় একা তাই,আজকে সার্ভেন্টও নেই।’
আইরা অবাক হয় না।এ মানুষ টা যে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা এটা সে আজকাল খুব অনুভব করছে।আল্লাহ যদি অদৃশ্য কোনো পাওয়ারে তাকে সিঙ্গেল বানিয়ে দিতেন।আর কখনো বিয়ের জন্য এমন উতলা হতো না।
‘আসো।’
আইরা পিছুপিছু এগোয়।লরিতে করে সার্ভেন্টরা ওষুধের প্যাকেট বহন করছে।কেউবা কার্টুন করছে।আশেপাশে কেমন উদ্ভট একটা স্মেল।প্রথমবার বউকে নিয়ে কেউ ওষুধের ফ্যাক্টরিতে আসে শোনা হয় নি তাঁর।

মাহের ওদিকে লোকদের সাথে মিট করতে ব্যস্ত।আইরা এক কোণায় বসে আশেপাশে তাকাচ্ছে।একদিকে এসে ভালোই হলো তাঁর,এখানে এতে এতো মেয়ে।কখন কার জানি নজর চলে যায় তাঁর বরের দিকে এমনিতেও বদনজর তো ভয়ঙ্কর খারাপ।
তাঁর ভাবনা বেশীদূর আগানোর আগেই আতঙ্ক টা জোরালো হলো।একজন সুদর্শী মেয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ‘উনি আপনার কি হোন?স্যার?’
আইরার মেজাজ চটে গেলো মুহুর্তেই।দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞাসা করলো, ‘কেন?স্যার ছাড়া কিছু হতে পারেন না?’
‘ আপনি তো স্যার ডাকলেন তখন।আর কিছু হবেন না।আর এটাও জানি আপনি উনার ওয়াইফ ও হবেন না।’
‘ওহ আলাপ করেছেন আপনাদের সাথে?’

‘নাহ,অন্যভাবে জেনেছি।’
‘কেমনভাবে বলুন না?আমিও শুনি।যদি উপকৃত হই।’
‘আমাদের চেয়ারম্যান স্যার মানে হেড অফিসারের মেয়ে উনাকে পছন্দ করেছিলো।বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল কিন্তু উনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।’
‘কেন কেন?উনি সুন্দরী ছিলেন না?’
‘না এমনটা না।যথেষ্ট সুন্দরী।মাহের স্যারই না করে দিয়েছেন।অনেক জোর করা হয়েছে শেষে বাধ্য হয়ে বলেছেন বিয়ে করতে ইচ্ছুক নয় তিনি।’
‘ওহ।’
স্বস্তির শ্বাস ফেলে আইরা।পরক্ষনেই অকপটে জিজ্ঞেস করে, ‘উনার নাম কি এল দিয়ে?’
‘লিয়ানা উনার নাম।’
‘আচ্ছা।’

প্রায় মিনিট বিশেক হলো সে একা বসে।মাহের ভেতরে গিয়েছেন এখনো খবর নেই।ওদিকে পুরুষদের গোলমাল,না এগোনোটাই বেটার।বিরক্ত হয়ে যখন বসেছিলো শুনলো, ‘আপনি আমাদের রেস্টরুমে চলে আসুন।’
আইরা পাল্টা প্রশ্ন করে।’কেন?’
‘স্যার বলেছেন?’
‘কার স্যার?’
‘মাহের স্যার।আপনি মিস আইরা না?’
‘জ্বি।’
আইরাকে নিয়ে যাওয়া হলো বামদিকের রুমটায়।এতো ক্যাঁচক্যাঁচ চিল্লাপাল্লার শেষে এখানটা একটু শান্তির।শৌখিনতার বেশ ধরাছোঁয়া।গোছালো, পরিপাটি রুম।
খানিক পর মাহের ফিরলেন।উনার পরনে গ্লাভস আর মাস্ক।আইরা ভ্রু কুঁচকালো।এখানে এসেও অপারেশন শুরু করে দিয়েছেন?কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা সিংকে হাতমুখ ধুয়ে এসে বললেন, ‘সরি,চলো।’
‘কোথায়?’
‘এখানের কাজ শেষ।’
‘এতোক্ষণে?’
‘কিছু পরিক্ষা ছিলো।ভাবিনি এত সময় লাগবে।’
আইরা পাশে এসে জিজ্ঞেস করে, ‘এখন কি আমরা হসপিটালের যাবো?’
‘কেন?’
‘ওখানে কাজ নেই আপনার?’

মাহের মাথা নিচু করে আড়ালে মুচকি হাসলেন।পরক্ষনেই আবারও গম্ভীর মুখাবয়বে স্থির হয়ে বললেন, ‘নেই।’
গাড়িতে উঠার পর থেকেই কোনো কথা বলেনি আইরা।মাহের মিররে দেখছেন,গাল ফুলিয়ে চুপচাপ বসে সে।পথচালনায় মনোযোগ দিতে দিতে ভাবলেন,কিছু একটা বলবেন তাকে।পরক্ষনেই চিন্তা ছেড়ে কাঙ্খিত গন্তব্যে ছুটলেন।
আইরা চমকালো যখন মাহের গাড়ি থামালেন কোনো নান্দনিক কুফির সামনে।খুশি হতে গিয়েও মিইয়ে গেলো সে।নিশ্চয়ই এখানে মেডিসিন বা হসপিটালের কোনো ডিল আছে।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৯

এবার আর কোনো শব্দ করলো না।মাহেরের পিছুপিছু ছুটলো।সে চমৎকৃত হলো যখন তাঁর ভাবনা ভুল হলো।কুশনের চেয়ার তাঁর উদ্দেশ্যে বের করে বসতে ইশারা করলেন মাহের।কিছুক্ষণের মধ্যে মেন্যু নিয়ে হাজির হতেই তিনি ইশারা করলেন অর্ডার দিতে।
আইরা অর্ডার দিচ্ছে।মাহের হাফসাকে লিখলেন,’ তোমার কথা রেখেছি আর কখনো এমন অনুরোধ করো না।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here