Home অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৭

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৭

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৭
Sathi

“জেহেফিল ওয়াশরুমে ঢুকে কিছু সেকেন্ডের মাঝেই আবার বের হয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে।
__ তোমার কাজটা আমি করে ফেলেছি। শাস্তি হিসাবে তোমার মিষ্টি ঠোঁ*টের কিছু চু*মু প্রাপ্য।
” নিজের কথা শেষ করে জেহেফিল আবারো ধাম করে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা সেতুর মনে হলো কানের কাছে জোরে প্রতিধ্বনিত হয়। জেহেফিলের কথায় মুখ ভেংচি দেয় সেতু। ঠোঁ*ট বাঁকিয়ে বিরক্তি চোখে সেইদিকে তাকায়। পর মুহূর্তেই সেতু উঠে দাঁড়িয়ে নিজের স্কার্ফটা হাতে নেয়। চারপাশে তাকিয়ে খুঁজতে থাকে, ইনার ক্যাপটা কোথায়। সেটা না দেখে ভ্রু কুঁচকে যায়, বুঝতে পারে না কোথায় গেলো। এটা ছাড়া আবার স্কার্ফও করতে পারবে না, কারণ চুলগুলো বারবার বেরিয়ে যায়, সাথে স্কার্ফ ঝুঁকে মুখের উপর চলে আসবে।জেহেফিলকে ডাকতে গিয়েও আবার থেমে যায়। মনে মনে ভাবে, “না থাক, ওকে ডাকার দরকার নেই।” নিজেই বিছানা থেকে নেমে এইদিক-ওইদিক খুঁজতে থাকে। হঠাৎ আলমারির দিকে চোখ যায়। মনে করে, এইখানেই হয়তো থাকবে, হয়তো জেহেফিল তুলে রেখেছে।ভেবেই সেইদিকে এগিয়ে যায়।

” আলমারি খুলতেই দেখে বেশ সুন্দর করে সাজানো গুছানো কাপড় দেখে। মনে হচ্ছে আগে থেকেই খুব যত্ন করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। কাপড়গুলো সুন্দর করে ভাঁজ করা, একটার উপর আরেকটা রাখা।
সব দেখে সেতু আলমারিটা ভালো করে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে,কোথাও আছে কিনা ইনার ক্যাপটা।
” বেশ অনেকক্ষণ ধরে খোঁজার পরও যখন পায় না, তখন হাল ছেড়ে দিয়ে আলমারি বন্ধ করতে যায়। ঠিক তখনই কিছু একটা মাথায় আসে।আবারো আলমারির ভেতরে ভালো করে তাকায়। আর এবারই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে যায়।

” সেতুর হাতে আছে একটা আন্ডারওয়্যার, একদম নতুন, প্যাকেট পর্যন্ত খোলা হয়নি। মনে হয় জেহেফিল নতুন করে কিনে এনেছে।সেতু তাড়াতাড়ি করে সেটা নিয়ে একবার ওয়াশরুমের দিকে তাকায়। ভিতর থেকে এখনো পানির শব্দ আসছে।ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আয়নায় নিজের দিকে তাকায় একবার।তারপর আন্ডারওয়্যারটা প্যাকেট থেকে বের করে কো*মরের দিকটা মাথার ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। মাথায় বেশ বড় হয়ে যায় এটা।বিরক্তিতে বিড়বিড় করে বলে ওঠে।

…. আল্লাহ জানে পাছার সাইজ কতো।
কথাটা বলতেই নিজেরই মুখটা কুঁচকে যায় সেতুর।চোখ-মুখ কুঁচকে মাথার পিছনে প্যান্টটা কুঁচকে নিয়ে একটা পিন সেটআপ করে টাইট করে।মাথার উপর স্কার্ফটা দিতে দিতে আবারো ওয়াশরুমের দিকে তাকায়।মনে মনে ভয় কাজ করছে,না জানি কখন আবার জেহেফিল বের হয়ে আসে। এই অবস্থায় যদি দেখে ফেলে তাহলে মানসম্মান একেবারে শেষ।ভাবতেই তাড়াতাড়ি করে স্কার্ফটা ঠিকঠাক করে নেয়।
” প্রায় ৩০ মিনিট পর।
” জেহেফিল ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখে সেতু একদম রেডি হয়ে বেডে বসে পা দোলাচ্ছে। মুখে হালকা বিরক্তি, সাথে চিন্তার ছাপ।সেদিকে একবার তাকিয়ে জেহেফিল ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে চুল মুছতে শুরু করে। সেতু সেইদিকে বাকা চোখে তাকায়। কিছু না বলে চোখ ফিরিয়ে নেয়।
“জেহেফিলের শ*রীরে* তখন মাত্র একটা প্যান্ট, গলায় একটা টাওয়েল। ভেজা চুল থেকে পানি পড়ছে। এই অবস্থা সেতুকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। হালকা লজ্জাও লাগে। মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকায়।
“সেতুকে অন্যদিকে ফিরে তাকাতে দেখে জেহেফিল আলমারি থেকে পোশাক নিয়ে তাড়াতাড়ি করে শ*রীরে জড়িয়ে নেই।। সে চায় না সেতু তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগুক।

অনেকক্ষণ পর জেহেফিল নিজের মতো পরিপাটি হয়ে সেতুকে হালকা দুষ্টুমি মেশানো গলায় ডাক দেয়।
__ চু*মুখোর বউ?
__ হুম।
” সেতু অন্যমনস্কভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে জবাব দেয়।জেহেফিল অবাক হয় এই ডাকে সাড়া দিতে দেখে। ভালো করে তাকিয়ে বুঝতে পারে সেতু নিজের মাঝে নেই। কিছু একটা ভাবছে গভীর ভাবে। ধীরে ধীরে হেঁটে সেতুর সামনে এসে দাঁড়ায়।
” শ*রীরে হঠাৎ কারো ছায়া পড়ায় সেতুর ঘোর ভেঙে যায়। সামনে তাকাতেই জেহেফিলকে দেখে দাঁড়িয়ে যায়। একবার আগাগোড়া তাকিয়ে দেখে জাহেফিল কে ।হঠাৎ নিজের হাতটা আপনাআপনি মাথার উপর চলে যায়। ভাগ্য ভালো আন্ডারওয়্যারটা দেখা যাচ্ছে না, স্কার্ফের নিচে ভালোই লুকানো আছে।মনে মনে একটু স্বস্তি পায়।তারপর জেহেফিলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে।
__ কয়টা বাজে?
__ ৪টা।
” ঘড়ি দেখতে দেখতে জেহেফিল কথাটা বলে। ৪টা শুনেই সেতুর ভয়ে গলা শুকিয়ে যায়। চোখে এক মুহূর্তে দুশ্চিন্তার ছাপ পড়ে। ভয়ে ভয়ে জেহেফিলের দিকে তাকাতেই জেহেফিল ব্যাপারটা বুঝতে পারে।
নিজ থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়েবলে।

__ প্রবলেম নেই। আমি আছি তো। ঠিক সময়ে পৌঁছে দিবো। ভরসা করতে পারো আমার উপর। চলো এখন।
” বলেই সেতুর অনুমতির অপেক্ষা না করে জেহেফিল তার হাত ধরে বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়। সেতু তীক্ষ্ণ চোখে নিজের হাতের দিকে তাকায়। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই।
তাই আর কথা না বাড়িয়ে জেহে ফিলের সাথেই হাঁটা দেয়।
__ এত ভয়ের কিছু নেই। বিয়ের আগে হোক কিংবা পরে, আমি সবসময় তোমাকে রক্ষা করবো। তোমার ক্ষতি করার কথা মাথায় কখনো আসবে না। তাই নিশ্চিন্তে আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।
” সামনে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জেহেফিল কথাটা বলে আর মুচকি হাসে। জেহেফিলের কথায় কেন যেন সেতুর বু*কের ভিতরটা একটু হালকা লাগে। অদ্ভুত এক ভরসা জন্মায়।
” হাঁটতে হাঁটতে বাইরে আসতেই দেখে গাড়িটা একদম চকচকে। বুঝতে পারে জেহেফিলের ভিজে থাকার কারণটা।জেহেফিল আগে গিয়ে সেতুর জন্য গাড়ির দরজাটা খুলে দেয়।সেতু নিজেও বাধ্য মেয়ের মতো গাড়িতে উঠে বসে। জেহেফিল পকেটে হাত দিয়ে দেখে মোবাইল নিয়েছে কিনা। তার অস্তিত্ব পেতেই বাকা হেসে গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়।

” বাড়ির কাছে গাড়ি আসতেই সেতু তাড়াতাড়ি নেমে চলে যেতে গেলে জেহেফিল তাকে আটকে দেয়।
__ কোথায় যাচ্ছো আমাকে ফেলে?
__ মানে?
__ মানে তোমার আব্বুর সাথে কথা আছে।
” সোজাসাপ্টা জেহেফিলের এমন কথায় সেতু ভ্রু গুটিয়ে তাকায়।
__ আব্বুর সাথে আপনার কী কথা? প্লিজ আমাকে আর ফাঁসাবেন না। এমনিতেই আব্বু নেই।
__ আছে। কিছুক্ষণ আগে এসেছে।
” নির্দ্বিধায় কথাটা বলে জেহেফিল।গাড়ি থেকে নেমে সেতুর হাত ধরে বাড়ির দিকে হাঁটা দেয়।সেতু অবাক হয়ে জেহেফিলের দিকে তাকায়। হাত ঝাঁকিয়ে ছাড়াতে চাইলেও ছাড়ে না বেশ শক্ত করেই ধরেছে।দাঁত চেপে রাগী স্বরে বলে।
__ আব্বু নেই। যদি এসেও থাকে তাহলে অন্য সময় কথা বলবেন। এখন প্লিজ আমাকে ছাড়ুন আর নিজে একা যান।
__ যার জন্য কথা বলবো, তাকে ছাড়া একলা কিভাবে যাবো?
” বলতে বলতে দ্রুত কদমে হাঁটতে হাঁটতে জেহেফিল বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে। তার আমঝে অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাস, যেন সে আগেই জানে সামনে কি হতে যাচ্ছে।

” মারুফ চৌধুরী বেশ কয়েকদিন দেশের বাইরে ছিলেন বিজনেসের কাজে। আজ কিছুক্ষণ আগে মাত্র বাসায় ফিরেছে। ড্রয়িং রুমের সোফায় হেলান দিয়ে বসে একটু আরাম করছিলেন। পাশে বসে আছেন মিনা বেগম। দু’জনের মাঝে হালকা গল্প চলছিল।হঠাৎ সামনে চোখ পড়তেই মারুফ চৌধুরীর চোখ বড় বড় হয়ে যায়। বিস্ময়ে তিনি প্রায় লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ান।
” সেতু মাত্রই বাসায় ঢুকেছে। জেহেফিল এখনো তার হাত শক্ত করে ধরে আছে।কিন্তু ঘরে ঢুকেই আব্বুকে দেখে সেতু ভয়ে কেঁপে ওঠে। মারুফ চৌধুরী র*ক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে।
জেহেফিল হাতটা শক্ত করে ধরে, সেতুর হাতের দিকে।সেতু তাড়াতাড়ি হাত ছাড়াতে চায়, কিন্তু পারে না জেহেফিলের শক্তির কাছে। লজ্জা আর ভয়ে মাথা নিচু করে ফেলে।মনের ভিতর ঘুরপাক খেতে থাকে একটা প্রশ্ন।জেহেফিল কিভাবে জানলো আব্বু এসেছে, যেখানে সে নিজেই জানতো না?ব্যাপারটা তার কাছে কেমন যেন অদ্ভুত লাগে।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৬

___ আসসালামু আলাইকুম, শ্বশুর আব্বা।
” দুষ্টু মিশ্রিত নির্ভীক সুরে কথাটা বলেই জেহেফিল একদম সামনে এগিয়ে আসে। সেতুর আব্বু কড়া চোখে জেহেফিলের দিকে তাকিয়ে থাকে।মুহূর্তেই জেহেফিল চোখ টিপে দেয়।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হচ্ছে চোখের ভাষায় কোনো এক ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছে। জেহেফিল বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে কাউকে পরোয়া না করে সেতুকে নিয়ে সোফায় একসাথে বসে পড়ে। মারুফ চৌধুরী ফাটা চোখে তাকায় মেয়ে আর জেহেফিলের দিকে।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৮