অবাধ্য প্রেম পর্ব ৬

386

অবাধ্য প্রেম পর্ব ৬
নন্দিনী নীলা

নিবিড়ের হাত হালকা আলগা হয়ে আসে কথাটা বলতে বলতে। সেই সুযোগটা কাজে লাগালাম আমি। সাথে সাথে হাত ঝামটা মেরে ছাড়িয়ে দৌড় লাগায় আর চিৎকার করে বলে উঠি, ‘ লিলি দৌড় লাগা।’

পেছন থেকে নিয়ে নিবিড় উচু গলায় বলে ওঠে, ‘তুমি কি ভেবেছো? তোমাকে আমি ধরতে পারবো না। হাত ছাড়িয়ে দৌড়ালেই তুমি আমার থেকে নিস্তার পেয়ে যাবে না। আমার থেকে পালাতে পারবে কক্ষনো না।’

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আমি দৌড়ে অনেকটা দূর চলে আসছি। তবুও নিবিড়ের উচ্চ স্বরে বলা প্রতিটা কথায় আমি শুনতে পাই। আর থেমে পেছনে ঘোরে বলি, ‘ এইযে শুনুন আমি আপনার থেকে পালাচ্ছি না। আর আপনার থেকে আমি পালাবো কেন আমি কি আপনার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নাকি? আমি অন্য কারণে দৌড়াচ্ছি। এখন আপনার সাথে ঝগড়া করলে আমার বিপদ হয়ে যাবে তার থেকে আমি পালাই পরে না হয় আপনার সাথে ঝগড়া করবো। ‘

দৌড়াচ্ছি তখন লিলির ফোন বেজে ও ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে শ্রাবণের নাম্বার থেকে কল এসেছে। আমি ওর হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে রিসিভ করলাম। ফোনের ওপাশে আমার শয়তান বান্ধবী আছে সেটা আমি জানি।
‘এই শাকচুন্নি তুই তোর বয়ফ্রেন্ডের লগে পালিয়ে যাবি আগে আমাদের জানাবি না। তোদের জন্য আমরা দুজন একটু জন্য কেস খেতাম।’

‘কেন কি হয়েছে?’
‘আমরা দুজন তো তোদের বাড়ি আসছি লাম।’
দীপা অবাক সুরে বলে, ‘বলিস কি? পাগল হয়েছিস নাকি আমাদের বাসায় তোদের যেতে বলেছে কে?’

‘ তোর জন্য তো গেলাম। তোর ভালোর জন্য গেলাম। আর তুই আমাদের এভাবে ফাসিয়ে চলে গেলি। আগে থেকে একবারও কিছু জানানোর প্রয়োজন বোধ করলি না। সবসময় তো বলিস আমি নাকি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। এদিকে এত কিছু ঘটে গেছে আমি তার কিছুই জানিনা।’

দীপা বলল,, ‘জানবি কি করে? কাল থেকে ফোন করছি ফোনটা কি একবারও খুলেছিস! সেই যে বন্ধ কাল রাত থেকে আজ অব্দি কতবার কল করেছি। কিন্তু আপনাকে তো পাওয়া যায় না। জীবনে ফোনের দিকে তাকিয়েছিস?’
এবার আমার নিজের ফোনে কথা মনে পড়ল। কাল মামির সাথে কথা বলার সময় ফোনটা অফ হয়ে গেছিল। আর চার্জে বসানোর কথা মনে নাই সেই ফোনটা টেবিলের উপরে আছে।

‘ আচ্ছা বাদ দে। তোরা এখন কোথায় আছিস?’
দীপা ফুঁসে ওঠে বলল, ‘কেন এখন বাদ দেবো কেন? নিজের দোষ এখন তো বাদ দিতেই বলবি।’
‘বলবি কোথায় আছিস? নাকি ফোনের ভিতরে দিয়ে কিল খাবি!’
‘ দে পারলে। আমরা ***** আছি।’

‘ ওকে আমি আসতেছি।’
বলেই ফোন কেটে দিলাম। দীপা কি যেন বলছিল আমি না শুনে কল কেটে দিয়েছি।
এবার সাথে সাথে একটা মেসেজ এলো।

‘ তোরা আসিস না। এখানে আমরা থাকব না। এখানে থাকলে ধরা পরে যাবো আমরা চলে যাচ্ছি গাড়িতে আছি। কথা না শুনেই তো কেটে দিস। বাসায় ফিরে যা। আমি সুযোগ পেলে কল করবোনি। এখন ফোন অফ করে দিব অফ পেলে চিন্তা করিস না।’

আমি ফোনের দিকে তাকিয়ে আছি লিলি আমার হাত ধরে বলল, ‘দোস্ত চল বাসায় চলে যায়। ও দের কাছে গিয়ে কি করব। ওরা ওদের মতো থাক। কলেজ ছুটি দিয়ে দিছে। এখন বাড়ি না গেলে আমাকে বকা খেতে হবে মা’র কাছে।’
‘আচ্ছা চল।’

‘হ্যাঁ কিন্তু নিবিড় ভাইয়া তোকে কি বলল রে। তুই আবার আফিয়া মেয়েটাকে কি করেছিস?’
আমার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল কারণ আমি দীপাকে নিয়ে খুব চিন্তা করছিলাম। ওর কাছে যেতে চাইছিলাম কিন্তু দীপা কোথায় যাচ্ছে সেটা আমাকে বলল না‌। আর ফোনটা অফ করা। এজন্য খুব কষ্ট পেয়েছি। তাই মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিলাম। লিলির কথা শুনে আমার আফিয়ার কথা মনে পড়ে গেল। আফিয়ার কি অবস্থা করছিলাম মনে পড়ে হাসি চলে এলো।

ওকে শুরু থেকে শেষ অব্দি সব খুলে বললাম। লিলি গালে হাত দিয়ে বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
‘নিবিড় ভাইয়া তো সব বুঝে ফেলছে এবার কি করবি?’
‘কি আবার করব?আমি কিছু করেছি নাকি?’
লিলি কপাল কুঁচকে বললো, ‘মানে?’

আমি শয়তানি হাসি দিয়ে বললাম, ‘আমি কিছু করেছি নাকি? আমি তো এটাই বলব।’
লিলি বলল, ‘তুই এত কষ্টের মাঝেও এত হাসিখুশি আর দুষ্টুমি বুদ্ধি কোথায় থেকে বের করিস বলতো।
আমি বললাম, ‘ গাঁধী আমার আবার কষ্ট কিসের রে। চল আমার খিদে পেয়েছে বাসায় গিয়ে খাব। ‘

‘ আমার সাথে চলো খেয়ে বাসায় যাস নি।’
‘ তোর সাথে যাব কেন?’
‘ বাসায় গিয়ে খিদে পেটে রান্না করবি কি করে?’
‘এটাই তো মজা। চাইলে তুই আমার সাথে চল‌।’

‘জানিস তো আমার ভাই জানলে আমারে বাসায় ঢুকতে দিব না। 2 মিনিট দেরি হলে আমার সাথে কি বাজে ব্যবহারটাই না করে‌।’
বাসায় এসে কোন রকম রান্না করে খেয়ে ঘুম দিয়েছি। কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানিনা যখন জাগানা
পাই তখন ফোনের শব্দে জাগানা পাই।

বাসায় এসেই ফোনটা চার্জে লাগিয়ে ছিলাম ওপেন করে। ফোন হাতে নিয়ে দেখি আননোন নম্বর থেকে কল এসেছে আর এদিকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি অন্ধকার হয়ে গেছে ঘড়িতে বাজে সাড়ে সাতটা। আমি শুয়েছিলাম চার টার দিকে। তিনঘন্টা ঘুমিয়েছি বাবা গো এত সময় কিভাবে ঘুমালাম।

ফোন কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই আমার বুক ধক করে ওঠে। ওপাশ থেকে কথা বলছে আমার মামি,
‘হ্যালো আসসালামু আলাইকুম!’
‘হ্যালো ছোঁয়া কোথায় তুই তাড়াতাড়ি বাসায় আয় সর্বনাশ হয়ে গেছে‌।’

আমি চমকে উঠে বললাম, ‘ কি হয়েছে মামী? এসব কি বলছ তুমি? কি সর্বনাশ হয়েছে?’
‘তুই বাসায় আয় ফোনে আমি কিছু বলতে পারছিনা।’
‘বাইরে তাকিয়ে দেখো রাত হয়ে গেছে আমি এখন কিভাবে আসবো কি হয়েছে বল প্লিজ।’
‘ তোর যদি আমাদের প্রতি মায়া থাকে তাহলে আয় না হলে আসতে হবে না।’

বলে ফোনটা কেটে দিলো। আমি এখন কি করবো এখন যাব। যদি কারো কোন বিপদ হয়ে থাকে।
বাস ধরতে হবে তাড়াতাড়ি বের হয়।
কোন মতে হিজাব আটকে পার্স হাতে বেরিয়ে পরলাম। এবার বাসটা ঠিকমত পেলে হয়। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক ৮:৪৫ বাস আসলো কিন্তু এত এত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল যে ভীরের মধ্যে আমি ধাক্কাধাক্কিতে বাসে উঠতে পারলাম না।

বাসটা আমার চোখের সামনে একদম ফুল হয়ে চলে গেল‌। আমি বোকা চোখে বাসটার দিকে তাকিয়ে আছি। দ্বিতীয় বাস আসতে আর আধা ঘন্টা। সাড়ে নয়টার আগে পরের বাস আসবে না।
এতো সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকবো। এমনিতে যাইতে দু’ঘণ্টার কম লাগবে না তার ওপর যদি এখানে আমি আধাঘন্টা বসে থাকি। তাহলে তুমি বারোটার আগে পৌঁছাতে পারবো না।

কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশে বিরক্তিকর চাহনি দিয়ে তাকাচ্ছি। হঠাৎ কানের কাছে মনে হল কেউ ফিসফিস করে আমাকে ডাকলো। আমি লাফ মেরে দূরে সরে পেছনের একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তার মুখের লাইট পরে নি এজন্য অন্ধকার চেনা যাচ্ছে না‌‌। আমি বুকে ফুঁ দিয়ে কাঁপা গলায় বললাম, ‘ ক কে আপনি? আমার নাম জানলেন কিভাবে? আর এমন অভদ্রের মতো আমার কাছে আসলেন কেন?’

এবার লোকটা আলোর দিকে মুখ করে তাকাতেই আমি চমকে উঠলাম।
অস্পষ্ট স্বরে বললাম, ‘আপনি এখানে কি করছেন?’
নিবিড় এখানে কোথা থেকে এলো।

অবাধ্য প্রেম পর্ব ৫

নিবিড় আমার দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, ‘শুনলাম তোমার বান্ধবী দীপা নাকি তার বয় ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। এই রাতের বেলা তুমিও কি বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালানোর মতলব করেছো নাকি?’

অবাধ্য প্রেম পর্ব ৭