অবাধ্য হৃদয় পর্ব ২১
নুরিয়া ইসলাম
নিশ্ছিদ্র রাত।
সান ফ্রান্সিসকোর আকাশে তীব্র ঝড় আর টানা বৃষ্টির প্রতাপে গোটা শহর কেঁপে উঠেছে।
ইনায়া জানালার কাঁচে হাত রেখে মুগ্ধ চোখে ঝড়ের আঁচড় উপভোগ করছিল;
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন নানা অজানা বার্তা নিয়ে কাঁচের গায়ে পড়ছে। একসময় হঠাৎ তার দৃষ্টি থমকে যায় নিচের পথের এক কোণে— কে যেন দাঁড়িয়ে, ঝাপসা আলোয় মুখটা ভালো দেখা যায় না। ভালো করে তাকাতেই ইনায়ার বুক ধড়ফড় করে উঠল;এ তো অন্য কেউ নয়, বরং এরিক!
বৃষ্টির জলে পুরো ভিজে গেছে, চুলগুলো কপালে লেগে আছে আর সাদা শার্ট শরীরে লেপ্টে আছে যার ফলে তার প্রতিটি পেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে ।
ইনায়া দ্রুত সে দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে;পিচঢালা রাস্তায় ঝড়ে বাতিগুলো ক্ষনে ক্ষনে কেঁপে উঠছে, আর তাতে বারে বারে এরিকের ছায়া দুলে ওঠছে।
এরিক এলোমেলো ও গম্ভীর চোখে নিরবধি শুধু ইনায়ার দিকেই তাকিয়ে আছে। ইনায়া আবার ও চোখ খোলে, এবার তার চোখ এরিকের চোখে পড়তেই এরিকের ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠে।ইনায়া কিছুতেই বোঝে না, এমন দুর্যোগময় রাতে এরিক কেন এসেছে এখানে!
ইনায়ার শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে;
যখন এরিক তার চোখে চোখ রেখে, পকেট থেকে ফোন বের করে, স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েই কাউকে কল করে; তাদের দৃষ্টি এখনও একে অপরের দিকে স্থির। ঠিক সেই মুহূর্তে ইনায়ার ঘোর কেটে যায় পাশের টেবিলের ফোনের শব্দে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
সে হাতে তুলে দেখে স্ক্রিনে ভেসে আছে অজানা নাম্বার।
শঙ্কিত, দ্বিধাভরা হাতে ফোনটা নিয়ে কানে ধরে সে,
ওপাশে ভেসে আসে এক কর্কশ পুরুষালি গলা,
আর জানালার কাঁচের আড়াল থেকে ইনায়া আবারও দেখে এরিকের স্থির চাহনি ঠিক তার উপর। চোখাচোখি হয় দুজনের, ফোনের ওরপাশ থেকে এরিক বলে ওঠে,
— “You’re looking deadly, baby. I missed you so much. একবার নিচে এসো, তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে!”
এরিকের কথায় ইনায়ার মুখে কোনো আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না বরং সে বিরক্ত, সংযত গলায় কেবল বলে,
— “পারব না। এসব কী করছেন আমার বাড়ির সামনে এসে? বলছি, চলে যান, এক্ষুনি!”
এরিক ফোনের অন্য পাশে ফিসফিসিয়ে হাসে, তারপর আরও কঠিন গলায় বলে,
— “নেমে এসো, না হলে আমি নিজেই উঠে আসছি। আর আমি উঠে এলে ব্যাপারটা কিন্তু অন্যরকম হবে। You know what I exactly mean!”
এই বলে সে এক চোখ টিপে জানালা-জুড়ে নজর রাখে।
রাগে, বড় বড় চোখে জানালা দিয়ে এরিকের দিকে তাকিয়ে, ইনায়া ফোনটা কেটে দেয়।
সে জানে, এরিক যা বলে তা করেই ছাড়ে।
সে কোনো অশান্তি-কলঙ্ক চায় না, বিশেষ করে এত রাতে; তাই দ্বিধাভরা পায়ে, চুপচাপ, মাথায় ওড়না জড়িয়ে নিচে নেমে যায়।
নিচে এসে বাড়ির দরজাটা খুলে বেরিয়ে আসে ইনায়া। পিচ ঢালা রাস্তায় পা রাখার সাথে সাথে এক পশলা বৃষ্টি এসে তাকেও ভিজিয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভিজেই অবশেষে এরিকের সামনে এসে দাঁড়ায় সে। ঠাণ্ডা বাতাস যেন আঁচড় কাটছিল তার শরীরে, চুলগুলো মুখে এসে পড়ছে বারংবার। একহাত দিয়ে চুল গুলো মুখ থেকে সরিয়ে ইনায়া ঝাঁঝালো স্বরে এরিককে বলে,
“কী চাই আপনার এত রাতে? এমন পাগলামি কেন করেন বারবার?”
এরিক নেশাচ্ছন্ন, ক্ষুধার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ইনায়ার দিকে এবং জবাব দেয়,
“তোমাকে চাই… কেবল তোমাকেই। এই ঝড়ো হাওয়ার মতো বারবার ফিরে আসব, যতবার দরকার তোমাকে পেতে। কতদিন নিজেকে লুকিয়ে রাখবে, বালিকা? আমি তো পাগল। তোমার ভালোবাসা না পেলে এই ঝড়ের মতোই সবকিছু তছনছ করে দেবো, আই প্রমিস!”
ইনায়া বুঝতে পায়, এরিক হয়তো ড্রিংক করেছে। তাই একটু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“আপনি ড্রিংক করেছেন, এরিক?”
এরিক এগিয়ে আসে, ঠান্ডা অথচ দাবিদার স্বরে বলে,
“My question wasn’t that. Will you just answer me for once?”
ইনায়া সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমার উত্তর তো আপনার অজানা নয়। You are forbidden for me.”
এরিক ইনায়ার জবাবে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“If love is forbidden, let the rain wash away my sins tonight. Let your God see me drenched, begging in this downpour. I want nothing but you.!”
এই মুহূর্তে সে হাত বাড়িয়ে ইনায়ার বাহু ছোঁয়, ইনায়া এরিকের পুরুষালি ছোঁয়া পেয়ে কেঁপে ওঠে; ঝড় যেন আরও বেড়ে যায়।
ভিজে একাকার তারা দু’জনে পোশাক গায়ের সাথে লেপ্টে আছে , চুলে জল, জুতোয় কাঁদা, ঠাণ্ডায় পুরো কাঁপছে।
এরিক ইনায়ার দুইবাহু চেপে ধরে বলে,
“I will leave everything for you. My family, my religion, just say the word.”
ইনায়া ঠোঁট চেপে রেখে কঠিন স্বরে জবাব দেয়,
And what? Will you hate me like everyone else’s? Cause one day you will….
এরিক ইনায়ার কথায় ইনায়ার বাহু আরো শক্ত করে ধরে বলে,
“No, I won’t. I love you.”
ইনায়া ধীরে ধীরে নিজের বাহু থেকে এরিকের হাত সরিয়ে দিতে দিতে বলে,
“ছেলেমানুষি বন্ধ করুন, এরিক। আপনি যথেষ্ট পরিমাণে এডাল্ট? আমি চাই না, আপনার পরিবারের, সমাজের কারো ঘৃণার পাত্রী হতে। আপনি ইসলাম গ্রহণ করলে মুসলিম হবেন ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত ইমানদার ব্যক্তি কী হতে পারবেন? আমি চাই না শুধুমাত্র আমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আপনি মুসলিম হন।”
তোমার ধর্ম বারবার বাধা দিচ্ছে তোমাকে আমার হতে, তবুও আমি চেয়েছি সেই ধর্মটাকেও আপন করে নিতে, শুধু তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য।
কিন্তু এখানেও বাঁধা;তোমার ধর্মে সবকিছুই বাধা।
“না, বাধা নয়। আপনাকে ধর্মের গুরুত্ব বুজে তা গ্রহণ করতে হবে, আমাকে ভালোবেসে নয়!”
চারিদিকে ঝড়ো হাওয়া আরও জোরে বয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দাঁতে দাঁত চেপে এরিক গর্জে ওঠে,
“রিজেকশন, বেবিগার্ল, আমার খুব একটা পছন্দ না।তুমি বারবার আমায় ফিরিয়ে দিচ্ছো। আমার ভালোবাসা কি তোমার কাছে এতই সস্তা? তুমি কি খুব আনন্দ পাও আমাকে এইভাবে ছুঁড়ে ফেলে রাখতে? নিজের পিছনে ঘুরাতে?”
ইনায়া কঠিন অথচ শান্ত গলায় জবাব দেয়,
“আপনি উন্মাদের মতো আচরণ করছেন, এরিক।”
ইনায়ার এমন কথা শুনে এরিক প্রচন্ড রেগে যায়। সে তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে চাইছে আর ইনায়া তাকে উন্মাদ বলছে? এরিক রাগে গর্জে উঠে বলে,
“আমার উন্মাদনা তো এখনো শুরু হয়নি, যখন শুরু হবে সামলাতে পারবে তো?”
এরিকের রুষ্ট কণ্ঠ শুনে হঠাৎই ইনায়া শিউরে ওঠে। অজানা এক ভয় তার ভেতর কাঁপন ধরায়, যদিও সে কখনোই ভয় পায় না।
কিন্তু আজকের এরিককে দেখে সে সত্যিই আতঙ্কিত। এরিকের চোখ দুটো রাগে টকটকে লাল হয়ে আছে, এই রূপ দেখে ইনায়া দুই পা পিছিয়ে আসে। তবুও লাভ হয় না,এক ঝটকায় এরিক তার কোমর জড়িয়ে ধরে, আর এক টানে নিজের বুকের ওপর নিয়ে আছড়ে ফেলে। ইনায়া ছটফট করতে থাকে, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু এরিকের পুরুষালী দেহের কাছে তার শক্তি অতি সামান্য।এখন এরিক যেন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, পুরোপুরি ড্রাঙ্ক;রাগের মাথায় কিছু করে ফেলবে কিনা সেই আতঙ্কে ইনায়ার শিরা-উপশিরা টন টন করে ওঠে। ভয় আর ক্ষোভে গলা ধরে আসে, আর তাই গজগজ করতে করতে ইনায়া অবশেষে চিৎকার দিয়ে ওঠে।
” আপনি নিজের লিমিট ভুলে যাচ্ছেন এরিক! ছাড়ুন আমাকে……
কিন্তু ইনায়া তার পরের কথাগুলো আর শেষ করতে পারল না,
এরিক এক ঝটকায় ইনায়ার গলার পেছনে ওড়নার ভেতর হাত ডুবিয়ে তাকে জোরে নিজের দিকে টেনে নেয়।
এরিকের গরম নিঃশ্বাসে ইনায়ার ঠোঁট পাতার মতো কেঁপে ওঠে,
আর কোনো দ্বিধা না রেখে সে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় ইনায়ার ঠোঁটে।
বৃষ্টির দাপটের সঙ্গে সঙ্গে এরিকের উন্মাদনাও বাড়তে থাকে।
ইনায়ার শ্বাস যেন আটকে যায়, সারা দেহ অবশ হয়ে আসে—
আঙুলগুলো দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, মাথার ভেতর তুমুল ঝড় বইতে থাকে।
সে যখন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এরিক তার হাত দুটো চেপে ধরে,
নিজের রাজত্ব কায়েম করে রাখে ইনায়ার ঠোঁটে।
এরিক শক্ত হাতে ইনায়ার দুটি হাত পেছনে চেপে ধরে রাখে—
এতে ইনায়া আর কোনোভাবেই বাধা দিতে পারে না।
ব্যথায় জর্জরিত আর শক্ত বাঁধনের চাপে তার ঠোঁট আর হাত দুটো অবশ হয়ে আসে।
এই মুহূর্তে নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় লাগে ইনায়ার। একজন বিধর্মী পুরুষ তাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে, তার অস্তিত্বকে গ্রাস করছে। ইনায়ার চোখ দিয়ে অনবরত জল ঝরতে থাকে যা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে এরিকের বাঁধন কিছুটা শিথিল হতেই ইনায়া এক ঝটকা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়, ধোঁয়াটে দৃষ্টিতে এরিকের চোখে একবার চেয়ে—
তারপর সমস্ত অভিমান আর রাগ এক ধাক্কায় হাতের তালুতে তুলে নেয়,
চুপচাপ, শব্দ না করে ঠাস করে চড় মারতে থাকে এরিকের গালে।
তার নিঃশ্বাস কাঁপছে;কাঁপা গলায় বলে ওঠে,
“আমাকে ছোঁয়ার সাহস আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি এক্ষুনি আমার সামনে থেকে চলে যান। আর কোনো দিনও নিজের কুৎসিত মুখটা আমাকে দেখাবেন না!”
ইনায়া পাগলের মতো দুই হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছতে থাকে।
এরিক নির্বিকার দাঁড়িয়ে, শুধু তাকিয়ে থাকে ইনায়ার দিকে।
নিজের ঠোঁট দুটো আস্তে শুষে, সেখানে এখনো ইনায়ার স্পর্শ অনুভব করে।
তবে তার সেই উন্মাদনা বেশিক্ষণ থাকে না;হঠাৎই বাস্তবে ফিরতে বাধ্য হয় সে।ইনায়ার ফোলা-ফোলা লাল চোখে চোখ পড়তেই তার ভেতরটা ওলট–পালট হয়ে যায়।
সে হঠাৎ বুঝতে পারে, ইনায়া কাঁদছে।
এই অনুভবেই এরিক নিজের চোখ শক্ত করে একবার বন্ধ করে, আবার ধীরে খোলে।
কখন যে মাথার ওড়নাটা খুলে পড়েছে, ইনায়ার মনে নেই।
লম্বা বৃষ্টিভেজা চুলগুলো পিঠে লেপ্টে আছে, তাকে ঠিক যেনো কোনো অপার্থিব পরীর মতো লাগছে।
তবুও এরিকের নজর পড়ে শুধু তার দুঃখভরা চোখের দিকে—এই মহুর্তে সৌন্দর্যে নয়, কেবল কষ্টে ডুবে আছে সে। কেবল অপরাধবোধ জমাট বাঁধে তার মনে।
এরিকের এক পা এগোতেই ইনায়া আরও দু’পা পিছিয়ে যায়।
সে এই মুহূর্তে পালিয়ে যেতে চাইলেও, ইনায়ার শরীর অবশ হয়ে গেছে, কোনোভাবেই নড়তে পারছে না। সে সরে যেতে চাইলেও, এরিক ঝুঁকে পড়ে ওড়নাটা তুলে নিয়ে, ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
ইনায়া দৌড়ে ঘরের ভেতরে যেতে চাইলে;এরিক তার আগেই পেছন থেকে ওড়নাসহ জড়িয়ে ধরে।
ইনায়ার মুক্তির সব চেষ্টা ব্যর্থ করে, ওড়নাটা আলতো করে ভিজে শরীরে পেঁচিয়ে দেয়।
কাঁপা গলায় বলে ওঠে,
“আমি সরি, ইনায়া… সত্যিই দুঃখিত। আমি এটা চাইনি। প্লিজ, কেঁদো না জান, আর কখনও হবে না। আমার তখন মাথা ঠিক ছিল না।”
এরিকের কোনো কথাই আর পৌঁছায় না ইনায়ার কানে, সে কেবল তার বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে থাকে।
এরিক সব উপেক্ষা করে আরও শক্ত করে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে,
কিন্তু এবার ইনায়া হঠাৎই জোরে কেঁদে ওঠে,এরিকের ছোঁয়া নয়, নিজেকেই যেন ঘৃণা করতে থাকে সে। কীভাবে এক পরপুরুষের স্পর্শ মেনে নিল, এই কথা তাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
ইনায়ার কান্নার শব্দ কানে আসতেই, এরিক সাথে সাথে তাকে ছেড়ে দেয়।
মুক্তি পেতেই ইনায়া দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে, সজোরে দরজা বন্ধ করে দেয় এরিকের সামনে।
এরিক শুধু নিঃশব্দে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে ইনায়ার দিকেই।
রুমে এসে ভালো করে নিজের শরীরে ওই ভিজে ওড়নাটা জড়িয়ে নিয়ে থরথরিয়ে কাঁপতে থাকে ইনায়া। জানালার দিকে তাকাতেই দেখে, বাইরে এরিক এখনও অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে কাঁপা হাতে একটানে জানালাটা বন্ধ করে দেয় ইনায়া।
এদিকে ইনায়া জানলা লাগিয়ে দিতেই এরিক তার ভিজে চুলগুলো হাত দিয়ে ব্যাকব্রাশ করে ঐ বন্ধ জানলার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে বলে,
“You can run, but you can’t hide from me!
I’m not like those weak guys who give up.
I want you, Inaya, and I’ll have you—no matter what your God or your rules say!”
অফিস রুম থেকে মিস্টার রিচার্ডের চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে।অফিসের গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রজেক্ট-এ ভুল হওয়ায়, তিনি রেগে সকলের উদ্দেশ্য বলে ওঠেন,তোমাদের কাজের মান কতটা নিচে যেতে পারে সেটা আজ ভালোভাবেই দেখলাম!”
ক্রোধে মিস্টার রিচার্ড দু’জনকে চোখের পলকে চাকরি থেকে বের করে দেন, অফিস রুমে সবার দম বন্ধ করার মতো অবস্থা ।
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ২০
ঠিক তখন ম্যানেজার চুপিচুপি একটা খাম এগিয়ে দেয় মিস্টার রিচার্ডের দিকে । মিস্টার রিচার্ড বিরক্ত মুখে খামটা টানেন ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কিছু ছবি।
ছবিগুলো দেখেই মিস্টার রিচার্ডের সমস্ত রক্ত যেন মাথা পর্যন্ত গরম হয়ে যায়—
এরিক, রাস্তার মোড়ে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে, কোনো অজানা মেয়েকে বুকে টেনে, চুমু দিচ্ছে।
মিস্টার রিচার্ড রেগে গিয়ে এক পলকে হাতের কাছে থাকা ফুলদানিটা তুলে সজোরে ছুঁড়ে মারেন মেঝেতে।
তিনি রেগে বলে ওঠেন,নির্লজ্জ ছেলেকে জন্ম দিয়েছি আমি।
কথাটি বলেই, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।
